দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে

দাঁত দিয়ে নখ কাটা থামাবেন যেভাবে

নখ ঢেকে রাখতে গ্লাভস ব্যবহার করুন। মনের অজান্তে হাত মুখে চলে গেলেও গ্লাভসের কারণে নখ কাটতে পারবেন না।

অন্যমনস্ক হয়ে গেলে, টেনশন হলে কিংবা ইচ্ছা করেই অনেকে দাঁত দিয়ে নখ কাটেন। এটা একটা বাজে অভ্যাস। কারণ এর মাধ্যমে নখে থাকা রোগ-জীবাণু সহজেই মুখে চলে যেতে পারে।
সাধারণ কিছু নিয়ম মানলে বদ-অভ্যাসটি সহজেই ত্যাগ করতে পারবেন। চলুন জেনে নেয়া যাক নিয়মগুলো।

নখ ছোট রাখুন

নখ বড় হতে দেয়া যাবে না। সব সময় কেটে ছোট করে রাখতে হবে। নখ না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই কাটার সুযোগ পাবেন না।

নখের সৌন্দর্য বাড়িয়ে নিন

ম্যানিকিউর করুন। তাতে হাত ও নখগুলোর সৌন্দর্য বাড়বে। নখগুলো সুন্দর ও চকচক করবে। নখ সুন্দর থাকলে তো দাঁত দিয়ে নখ কাটার কোনো প্রশ্নই আসে না!

গ্লাভস ব্যবহার করুন

নখ ঢেকে রাখতে গ্লাভস ব্যবহার করুন। মনের অজান্তে হাত মুখে চলে গেলেও গ্লাভসের কারণে নখ কাটতে পারবেন না। চাইলে নখে ব্যবহারযোগ্য স্টিকারও লাগাতে পারেন।

চুইংগাম চিবান

মুখকে ব্যস্ত রাখলে সে নখ কাটার ব্যাপারে আগ্রহ পাবে না। সে জন্য চুইংগাম চিবুতে পারেন। খেয়াল করুন, কোন সময় আপনি নখ বেশি কাটছেন। সেই সময় মুখে চুইংগাম ফেলে দিন। এভাবে মুখকে ব্যস্ত রেখে অভ্যাসটি দূর করতে পারেন।

তেতো নেইল পলিশ ব্যবহার করুন

নখ কাটার অভ্যাস দূর করার জন্য বাজারে তেতো স্বাদের নেইল পলিশ পাওয়া যায়, সেটা ব্যবহার করুন। এটি নখ কামড়ানো থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করবে।

আরও পড়ুন:
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে
বইয়ের যত্ন নেবেন যেভাবে
কফির উপকার অপকার

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লোকালয় থেকে উদ্ধার অজগর সুন্দরবনে অবমুক্ত

লোকালয় থেকে উদ্ধার অজগর সুন্দরবনে অবমুক্ত

খুড়িয়াখালী গ্রামের একটি বসতবাড়ির পাশ থেকে উদ্ধার হয় ২০ ফুটের অজগরটি। ছবি: নিউজবাংলা

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের স্টেশন অফিসার আব্দুল মান্নান বলেন, ‘খুড়িয়াখালী গ্রামের জামাল গাজী নামে এক ব্যক্তির বাড়ির পাশ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে অজগরটি উদ্ধার করা হয়। এটি সুন্দরবন থেকে ভোলা নদী পার হয়ে লোকালয়ে চলে এসেছিল।’

বাগেরহাটের শরণখোলায় বসতবাড়ির পাশ থেকে উদ্ধার ২০ ফুটের একটি অজগরকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

শরণখোলার সুন্দরবন অংশে শুক্রবার দুপুরে সাপটিকে অবমুক্ত করেন বন বিভাগের সদস্যরা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের স্টেশন অফিসার আব্দুল মান্নান।

তিনি বলেন, খুড়িয়াখালী গ্রামের জামাল গাজী নামে এক ব্যক্তির বাড়ির পাশ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে অজগরটি উদ্ধার করা হয়। এটি সুন্দরবন থেকে ভোলা নদী পার হয়ে লোকালয়ে চলে এসেছিল।

সাপের অবস্থান টের পেয়ে স্থানীয়রা বন সুরক্ষা কমিটির (ওয়াইল্ড টিম ও টাইগার টিম) সদস্যদের খবর দেন। রাতেই তারা বন বিভাগের সহায়তায় সাপটিকে উদ্ধার করেন। শুক্রবার দুপুরে এটিকে অবমুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুন:
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে
বইয়ের যত্ন নেবেন যেভাবে
কফির উপকার অপকার

শেয়ার করুন

সাইবার নিরাপত্তায় সতর্কতা ও করণীয়

সাইবার নিরাপত্তায় সতর্কতা ও করণীয়

আইনি সুবিধাবঞ্চিত আর্থিকভাবে অসহায় ভুক্তভোগীরা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাদের পাশে দাঁড়াবে নিউজবাংলার ‘আমার আইন, আমার অধিকার’।

সব ধরনের আইনি পরামর্শ ও সহায়তা দিতে নিউজবাংলার নিয়মিত আয়োজন ‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবারের বিষয়: সাইবার নিরাপত্তায় সতর্কতা ও করণীয়’। প্রচারিত হবে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

শবনম ফারিয়ার সঞ্চালনায় শনিবার এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার হবে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

আলোচনায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ব্যারিস্টার মিতি সানজানা ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের আইন বিভাগের প্রভাষক মেহেরবা সাবরীন। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার হবে শাহ্‌ সিমেন্টের সৌজন্যে।

‘আমার আইন, আমার অধিকার’ সম্পর্কে নিউজবাংলার এক মুখপাত্র বলেন, আইন জানা নাগরিকের জন্য একান্ত প্রয়োজন। আইন ও আইনজীবী- এই শব্দগুলো নিয়ে এক ধরনের ভীতি কাজ করে। তবে আইনের আশ্রয় লাভ করা একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

নিজের আইনগত অধিকার সম্পর্কে না জানলে যে কেউ কোনো বিষয়ে ভুল পরামর্শ দিয়ে আপনাকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। কোনো নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে কী কী সুযোগ-সুবিধার অধিকারী, সেটি যদি তিনি না জানেন, তাহলে তিনি ন্যায্য দাবি আদায় করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, নাগরিকের আইনি অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি সহজভাবে জানাতে কাজ করবে ‘আমার আইন, আমার অধিকার’। দেয়া হবে পরামর্শ। প্রয়োজনে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরাসরি আইনি সহায়তাও দেয়া হবে।

আইনি সুবিধাবঞ্চিত আর্থিকভাবে অসহায় ভুক্তভোগীরা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাদের পাশে দাঁড়াবে নিউজবাংলার ‘আমার আইন, আমার অধিকার’।

বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ এবং সহায়তা পেতে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চোখ রাখুন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

অনুষ্ঠান চলাকালে ফোন করুন ০২৫৫০৫৫২৮৯ নম্বরে। এ ছাড়া সমস্যা জানাতে ০১৯৫৮০৫৬৬৬৮ নম্বরে ফোন করুন যেকোনো সময়। হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন ভিডিও করেও পাঠাতে পারেন একই নম্বরে।

নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ NewsBangla24 এবং ই-মেইল [email protected]এ মেসেজ পাঠানোরও সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে
বইয়ের যত্ন নেবেন যেভাবে
কফির উপকার অপকার

শেয়ার করুন

সঙ্গীতার ঝালগোল্লা

সঙ্গীতার ঝালগোল্লা

চিনির শিরায় কাঁচা মরিচ কুচি দিয়ে সারা রাত ভিজিয়ে রাখতে হয় ঝাল রসগোল্লা। ছবি: নিউজবাংলা

রসগোল্লায় মিষ্টির সঙ্গে ঝালের মিশ্রণ নিয়ে রন্ধনশিল্পী সঙ্গীতা ঘোষ সাহা বলেন, ‘আমি শুনেছিলাম ঝাল রসগোল্লা আছে, কিন্তু রেসিপি জানা নেই। তাই নিজের রেসিপিতে বানানোর পদক্ষেপ নিই। বানানোর আগে একটি পোস্ট করেছিলাম ঝাল রসগোল্লা বানাব। ১২ কেজি মিষ্টি বানিয়েছি।’

বান্ধবী নীতু কয়েক দিন ধরে খাবারের ছবি পোস্ট দিচ্ছিল। বুধবার সকালে ফেসবুকে তার এমন এক পোস্টে চোখ আটকে গেল।

শেয়ার করা সে পোস্টে ছিল রসগোল্লার পাঁচটি ছবি, কিন্তু এ রসগোল্লা সে রসগোল্লা নয়।

রসে নিমগ্ন হলেও এর চারপাশে কাঁচা মরিচের কুচি আর বিচি। রং সবুজ। আকার আর দশটা মিষ্টির মতোই।

জীবনে এত রসগোল্লা খেলাম, কিন্তু এমন সবুজাভ রসে ভাসা বস্তুর দেখা পেলাম না। মরিচের এমন সমারোহও চোখে পড়েনি কখনো।

নীতুর ওয়াল ঘেঁটে দেখলাম, রসগোল্লার ছবিগুলোর আদি পোস্টদাতা সঙ্গীতা ঘোষ সাহা। উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ফোরাম নামের পাবলিক গ্রুপে ছবিগুলো শেয়ার করেছিলেন তিনি।

সে গ্রুপ থেকে ঢুকলাম সঙ্গীতার প্রোফাইলে। পেশার জায়গায় তিনি লিখেছেন, ‘‌‌ঘরে তৈরি করা কেক ও খাবার সেল দিয়ে থাকি।’

বুঝতে দেরি হলো না সবুজ রসগোল্লাও তৈরি হয় সে ঘরেই। কীভাবে সেটি হয়, তা জানতে শুরু করি যোগাযোগ।

ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে সঙ্গীতা ঘোষ সাহার ইনবক্সে লিখলাম, ‘শুভ সন্ধ্যা। আমি আজহার। নিউজবাংলায় কাজ করি। আপনার সঙ্গে ঝাল মিষ্টি নিয়ে কথা বলতে চাই।’

উত্তর এলো বরাবর পৌনে ৯টায়। সঙ্গীতা বললেন, ‘কী বলবেন, বলেন।’ আমি তখন মোবাইলে ইন্টারনেট বন্ধ করে বাসে বাসায় যাচ্ছিলাম। তিনি সাড়াশব্দ না পেয়ে লিখলেন, ‘??’

সঙ্গীতার ঝালগোল্লা

রাত ১০টার পর তার সে মেসেজ দেখে শুরু হলো আলাপ। সোজাসাপ্টা কিছু প্রশ্ন করে তার কাছ থেকে জানা গেল ঝাল রসগোল্লা বা ঝালগোল্লার ইতিকথা।

কীভাবে এলো ঝালগোল্লা

ঘরে বসে মিষ্টান্ন তৈরির উদ্যোক্তা সঙ্গীতার কাছে আমার প্রথম প্রশ্ন ছিল, ‘জগতে এত কিছু থাকতে আপনার মাথায় ঝাল মিষ্টির আইডিয়াটা কেন এলো?

উত্তরে তিনি বললেন, ‘সত্যি বলতে আমার রান্না বিষয়টা খুবই পছন্দ, কিন্তু একঘেয়েমি খাবার আমার একদমই পছন্দ না, সেটা যেমনই হোক। তাই খাবার নিয়ে খুব এক্সপেরিমেন্ট করি। ওই খাবারগুলো খেয়ে সবাই ভালো বলে। তাতে করে আমার কনফিডেন্স বেড়ে যায়।

‘গত বছর শীতে একটা গ্রুপ প্রতিযোগিতায় ইউনিক রেসিপিতে তন্দুরি চিকেন ভাপা পিঠা বানিয়ে বিজয়ী হয়েছি। আমার মিষ্টি খুব পছন্দ, কিন্তু ওজন বেড়ে যাওয়ায় মিষ্টি খেতে না করেছে ডাক্তার। তাই মাথায় এলো পছন্দের খাবার যদি অন্যভাবে খাই তবে কেমন হয়!’

সঙ্গীতার ঝালগোল্লা

রসগোল্লায় মিষ্টির সঙ্গে ঝালের মিশ্রণ নিয়ে এ রন্ধনশিল্পী বলেন, ‘আমি শুনেছিলাম ঝাল রসগোল্লা আছে, কিন্তু রেসিপি জানা নেই। তাই নিজের রেসিপিতে বানানোর পদক্ষেপ নিই। বানানোর আগে একটা পোস্ট করেছিলাম ঝাল রসগোল্লা বানাব। ১২ কেজি মিষ্টি বানিয়েছি।’

উপকরণ

ফেসবুক কথোপকথনেই সঙ্গীতা জানালেন ঝালগোল্লা বানানোর উপকরণগুলোর নাম। তার ভাষ্য, এ ধরনের রসগোল্লা বানাতে লাগবে ১ কেজি বিশুদ্ধ ছানা, বিচিসহ ৪ চা চামচ কাঁচা মরিচের পেস্ট, আধা কাপ ময়দা, শিরার জন্য ৫ কেজি চিনি।

তিনি জানান, কাঁচা মরিচের পেস্টের কারণেই রসগোল্লার রং হয় সবুজ।

বানানোর প্রক্রিয়া

ঝাল রসগোল্লা বানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকার সাভারের বাসিন্দা সঙ্গীতা বলেন, ‘গরুর দুধ সংগ্রহ করে জাল দিয়ে তাতে ভালো ছানার পানি মিশিয়ে ছানা কাটা হয়। এই ছানা বাসি করা যাবে না। বাসি ছানায় পারফেক্ট টেস্ট আসবে না। তাই ছানা কাটার সঙ্গে সঙ্গে মিষ্টি বানালে পারফেক্ট টেস্ট আসবে।

‘ছানা বানিয়ে ভালো করে জল ঝরিয়ে নিতে হবে। ছানা একটি পাত্রে নিয়ে তার সঙ্গে স্বাদ অনুযায়ী কাঁচা মরিচের পেস্ট মেশাতে হবে। ছানা ভালো করে মিশিয়ে মথে নিয়ে তার সঙ্গে ময়দা মিশিয়ে ডো বানিয়ে নিতে হবে। মিষ্টিটা হাফ স্পঞ্জ হবে আর শিরাটা হবে পাতলা। মণ্ড থেকে মিষ্টি বানিয়ে নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কড়াইতে পাতলা চিনির শিরা বানিয়ে তাতে মিষ্টিটা ফুটিয়ে নিতে হবে। শিরা থেকে মিষ্টি উঠিয়ে অন্য পাত্রে নিয়ে শিরা দিয়ে নিতে হবে। মিষ্টি মোটামুটি ঠান্ডা হয়ে গেলে কাঁচা মরিচ কুচি দিয়ে সারা রাত ভিজিয়ে নিতে হবে। পরের দিন মরিচের রসে টইটম্বুর হয়ে যাবে ঝাল রসগোল্লা।’

কোন ধরনের মরিচ ব্যবহার করতে হবে, তা নিয়ে এ রন্ধনশিল্পী বলেন, ‘ছানার সঙ্গে যখন কাঁচা মরিচ পেস্ট মেশানো হয়, তখন মিষ্টির ভেতরে হালকা সবুজ সুন্দর কালার আসে।

‘মরিচটা অবশ্যই সবুজ মরিচ হতে হবে। কেউ চাইলে হালকা সবুজ ফুড কালার মেশাতে পারেন।’

দাম কেমন

ঝালগোল্লার স্রষ্টা সঙ্গীতা জানান, এ ধরনের এক কেজি মিষ্টান্নের দাম ৪০০ টাকা। এ দামটা ন্যায্য কি না, তা জানতে চাওয়া হয় তার কাছে।

সঙ্গীতার ঝালগোল্লা

জবাবে তিনি বলেন, ‘নরমাল এক কেজি রসগোল্লা কিনতেও ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা লাগে। আর এটা নতুন একটি মিষ্টি। এর স্পেশালিটি বোঝাতে হবে। তাই এর দাম নির্ধারণ করেছি ৪০০ টাকা।

‘যেহেতু এটা হোমমেড খাবার, তাই এটাতে খরচটা বেশি পড়ে। আর আমার মিষ্টির কোয়ালিটি বিশুদ্ধ হওয়ায় এর খরচও বেশি হয়। আর বাজারের সবকিছুর দাম বেশি।’

মিষ্টির দামের একটা ব্যাখ্যা দিয়ে সঙ্গীতা বলেন, ‘একটা খরচের হিসাব করা যাক। এক কেজি ফ্রেশ ছানা বানাতে ৭ থেকে ৮ কেজি দুধ প্রয়োজন হয়। অল্প পরিমাণে বানানোর জন্য আমার খুচরা দামে কিনতে হয়। রেডি ছানা ব্যবহার করলে খরচ আরও কম পড়ত। যেহেতু রেসিপিটা সম্পূর্ণ আমার নিজের, তাই রেসিপি কোয়ালিটি বিশুদ্ধ হওয়ার গ্যারান্টি আমাকেই দিতে হবে।

‘আমাদের এখানে দুধের প্রতি কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা। ৮ কেজি দুধ ৭২০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা। ৫ কেজি চিনি ৮০ থেকে ৯০ টাকা ধরলে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। কাঁচা মরিচ ১০০ গ্রাম ৪০ টাকা; প্যাকেজিং ৬০ টাকা। এবার দেখুন ৭২০+৪৫০+৪০+৬০= ১২৭০ টাকা। আমার পরিশ্রম আমি ধরিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এক কেজি ছানা থেকে ৫ কেজি মিষ্টি হয়, যার মূল্য আসে ২ হাজার টাকা। একটা খাবার বানিয়ে তার থেকে ১০০ টাকা আমি কি লাভ করব না?

‘আবার নির্ধারিত দাম থেকে কিছু গ্রাহক কমাতেও বলে। তখন কমাতেও হয়। জিনিস যেটা ভালো, দাম তার একটু বেশি, তবে যখন বড় পরিসরে করব, তখন দামটা কমানোর চেষ্টা করব।’

ঝালগোল্লায় সাড়া কেমন পাচ্ছেন জানতে চাইলে সঙ্গীতা বলেন, ‘আমি ১২ কেজি মিষ্টি বানিয়ে ৪০০ টাকা করে কেজি বিক্রি করেছি যাদের কাছে, তারা সবাই আমাকে ৫০০ টাকা কেজি দিয়েছে আর বলেছে এটা ৬০০ করে বিক্রি করতে। সবার কাছে এতই ভালো লেগেছে।’

আরও পড়ুন:
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে
বইয়ের যত্ন নেবেন যেভাবে
কফির উপকার অপকার

শেয়ার করুন

ওজন কমার ছয়টি কারণ

ওজন কমার ছয়টি কারণ

প্রতীকী ছবি

হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো টাইপ-ওয়ান ডায়াবেটিস। শিশু, যুবক ও ৩০ বছরের কম বয়সী মানুষের এ ধরনের ডায়াবেটিস হয়ে থাকে।

বিভিন্ন কারণে ওজন কমতে পারে, তবে ওজন কমার পেছনে ঘুরেফিরে ছয়টি কারণ সামনে আসে। চলুন সেগুলো জেনে নেই।

পর্যাপ্ত খাবার না খাওয়া

সুষম খাবার গ্রহণ করলে ওজন ঠিক থাকে, কিন্তু না করলে স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমে যায়। অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা, বুলেমিয়া নার্ভোসার মতো মানসিক রোগে যারা ভোগেন, তাদের ক্ষেত্রে ওজন কমে যেতে পারে। বিশেষত ২০ বছরের কাছাকাছি বয়সের মেয়েদের মধ্যে এ সমস্যা প্রকট। অ্যানোরেক্সিয়া নার্ভোসা হচ্ছে এমন ইটিং ডিসঅর্ডার, যাতে ব্যক্তি ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে খাদ্য গ্রহণ একদম কমিয়ে দেয়। বুলেমিয়া নার্ভোসা হচ্ছে অতিরিক্ত খেয়ে বমি করে ফেলা। এ দুটি সমস্যার কারণে শরীরের ওজন হঠাৎ করে অনেক কমে যায়। দুটি অবস্থাতেই মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে।

মানসিক চাপ ওজন কমায়

হঠাৎ ওজন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো মানসিক চাপ ও উদ্বেগ। কাজের চাপ বা ব্যক্তিগত জীবনের চাপ থেকে বের হতে না পারলে ওজন কমাসহ নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে মাথাঘোরা, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা ইত্যাদি। বিষণ্নতায়ও হঠাৎ ওজন কমে যেতে দেখা যায়। এ ধরনের রোগীরা সবসময় বিষণ্ন ও উদ্বিগ্ন থাকেন। এদের ক্ষুধা কমে যায়; হজমে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে ওজন কমতে থাকে।

হরমোনজনিত রোগ

থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ ‘হাইপারথাইরয়েডিজম’ হলে ওজন কমে একদম শুকিয়ে যায় মানুষ। এসব রোগীর খাবারে রুচি ভালো থাকে এবং তারা বেশি খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমতে থাকে। থাইরয়েড হরমোন বেশি থাকার কারণে রোগীর শরীরের বিপাক ক্রিয়ার হার বেড়ে যায়। খাদ্য বেশি বিপাক হয়ে অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন করে। ওজন কমার পাশাপাশি ক্ষুধা বেশি লাগা, গরম অনুভূত হওয়া, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয় হাইপারথাইরয়েডিজমে।

ডায়াবেটিস

হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো টাইপ-ওয়ান ডায়াবেটিস। শিশু, যুবক ও ৩০ বছরের কম বয়সী মানুষের এ ধরনের ডায়াবেটিস হয়ে থাকে। এ ডায়াবেটিসে ইনসুলিনের অভাবে শরীর শক্তি হিসেবে পর্যাপ্ত গ্লুকোজ নিতে পারে না। শরীর তখন শক্তির জন্য জমা থাকা চর্বি ও মাংশপেশি ভাঙতে থাকে। সে জন্য ওজন কমে যায়।

দীর্ঘস্থায়ী অসুখ

হজমে গোলমাল বা অন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার কারণে ওজন কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া বা আমাশয়, আইবিএস, সিলিয়াক ডিজিজ, অন্ত্রের প্রদাহ, যকৃতের রোগ, অগ্ন্যাশয়ের রোগ ওজন কমার কারণ। আমাদের দেশে যক্ষ্মা রোগের প্রকোপ অনেক বেশি। যক্ষ্মা ওজন কমার অন্যতম প্রধান কারণ। এ ছাড়াও কালাজ্বর, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, এইডস, ফুসফুসের নানাবিধ সমস্যা, পারকিনসন্স ডিজিজেও ওজন কমে যায়।

ক্যানসার

যেকোনো ক্যানসারের প্রধানতম লক্ষণ হতে পারে হঠাৎ ওজন কমা। ফুসফুস, পাকস্থলি, অন্ন নালি, যকৃতের ক্যানসার, রক্তের ক্যানসারে দ্রুত ওজন কমে যেতে পারে। ক্যানসার কোষের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য শরীর সাইটোকিন নামের এক ধরনের রাসায়নিক নিঃসরণ করে। এ কারণে খাদ্যে রুচি কমে যায়; মাংসপেশি ক্ষয় হয়। সর্বোপরি ওজন কমে যায় অনেক দ্রুত।

আরও পড়ুন:
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে
বইয়ের যত্ন নেবেন যেভাবে
কফির উপকার অপকার

শেয়ার করুন

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা পরিবারে নতুন শাবক

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে জেব্রা পরিবারে নতুন শাবক

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান বলেন, ‘জেব্রা পরিবারে এর আগে চলতি বছরেই আরও সাতটি জেব্রার জন্ম হয়েছে। নতুন শাবকটি বছরের অষ্টম শাবক।’

গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে এক জেব্রা দম্পতির ঘরে নতুন শাবকের জন্ম হয়েছে।

সোমবার দুপুরে নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান।

দুপুরে পার্কে গিয়ে শাবকটিকে তার মায়ের সঙ্গে ঘুরতে দেখা যায়। ভোরে জন্ম নেয়া শাবকটি পুরুষ।

এর আগে পার্কে ১৪টি পুরুষ ও ১৬টি মাদি জেব্রা ছিল। নতুন শাবক নিয়ে পার্কে জেব্রার সংখ্যা দাঁড়াল ৩১টিতে।

তবিবুর রহমান বলেন, ‘জেব্রা পরিবারে এর আগে চলতি বছর আরও সাতটি জেব্রার জন্ম হয়। নতুন শাবকটি বছরের অষ্টম শাবক। মা ও শাবক উভয়ই সুস্থ আছে।

‘শাবকটি তার মায়ের সঙ্গে পার্কের বেষ্টনীতে ঘোরাফেরা করছে। আফ্রিকান প্রজাতির পুরুষ জেব্রাগুলো চার ও মাদিগুলো তিন বছরে প্রজননের উপযোগী হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশে এরা প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে।’

সাফারি পার্কের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মা জেব্রার স্বাস্থ্য বিবেচনায় রেখে খাদ্যে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ঘাসের পাশাপাশি একে দেয়া হচ্ছে ছোলা, গাজর ও ভুষি।’

পার্কের পরিবেশে জেব্রাসহ দেশি-বিদেশি অন্যান্য প্রজাতির পশু-পাখির বংশবৃদ্ধি হচ্ছে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন:
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে
বইয়ের যত্ন নেবেন যেভাবে
কফির উপকার অপকার

শেয়ার করুন

অনলাইন মিটিংয়ে যে বিষয়গুলো মেনে চলবেন

অনলাইন মিটিংয়ে যে বিষয়গুলো মেনে চলবেন

বাসায় বসে মিটিং করলেও দেখা যায় অনেকেই ঠিক সময় মিটিংয়ে জয়েন করতে পারেন না। এটি উচিত নয়। এতে আপনি মিটিংয়ে বিঘ্ন ঘটানোর কারণ হয়ে উঠতে পারেন।

কোভিড পরিস্থিতির কারণে অনেক কাজই সারতে হচ্ছে অনলাইনে। অফিসের মিটিং, ট্রেনিংসহ অনেক কিছুই হচ্ছে জুম কিংবা গুগল মিট প্ল্যাটফর্মে। এসব অনলাইন মিটিংয়ে যোগ দেবার সময় কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি। চলুন সেগুলো জেনে নিই।

পোশাক

অনলাইন মিটিং মানে যানজট পেরিয়ে অফিসে যাওয়ার ঝামেলা নেই। কিন্তু বাসায় বসে অফিস করলেও তো সেটা অফিস। তাই আপনাকে অবশ্যই পোশাকের শিষ্টাচারের কথাটি মাথায় রাখতে হবে। খেয়াল রাখবেন শরীরের যতটুকু অংশ স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছে অন্তত সেটুকু যেন পরিপাটি হয়। অফিসে যে ধরণের পোশাক পরতে বলা হয়, অনলাইন মিটিংয়েও তাই পরবেন।

টুলসগুলোর ব্যবহার জানা

আমাদের মিটিংগুলো বেশির ভাগ জুম, সিসকো, ওয়েবএক্স আর গুগল মিটে হয়। মিটিং শুরু করার আগেই এগুলোর ব্যবহার ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। তা না হলে মিটিং শুরুর পরে বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এমনকি যে কাজের জন্য মিটিং, তাতেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

পরিবেশ

বাসায় বসে মিটিং করলেও খেয়াল রাখবেন সেখানেও যেন অফিসের পরিবেশ ফুটে ওঠে। অফিসে থাকলে যে পরিবেশে কাজ করেন এখানেও সেটি নিশ্চিত করতে চেষ্টা করুন। মিটিং করার জন্য এমন জায়গা বেছে নিন, যেখানে শব্দ কম হয়। ব্যাকগ্রাউন্ড যেন পরিচ্ছন্ন থাকে। অতিরিক্ত শব্দদূষণের সমস্যা থাকলে নিজেকে মিউট করে রাখুন।

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার

অনলাইন মিটিং চলাকালে পুরো মনোযোগ সেখানেই রাখার চেষ্টা করুন। এ সময় অন্য কাজ করবেন না। অনেকেই মোবাইল ফোন চেক করা, এদিক-ওদিক তাকানো, উঠে যাওয়া, কল রিসিভ করার মতো কাজ করেন। এগুলো পরিহার করুন।

সময়ানুবর্তিতা

বাসায় বসে মিটিং করলেও দেখা যায় অনেকেই ঠিক সময় মিটিংয়ে জয়েন করতে পারেন না। এটি উচিত নয়। এতে আপনি মিটিংয়ে বিঘ্ন ঘটানোর কারণ হয়ে উঠতে পারেন। নির্ধারিত সময়ে মিটিংয়ে জয়েন করতে চেষ্টা করুন। যেসব কাজ সাবমিট করতে বলা হয়, ঠিক সময়ে করে ফেলুন।

অঙ্গভঙ্গি

অনলাইন বলে শুয়ে, হেলান দিয়ে বা যেখানে খুশি বসে মিটিং করবেন না। একটা অফিশিয়াল মিটিংয়ে নিজেকে যেভাবে উপস্থাপন করেন, সেটি অনলাইনেও বজায় রাখার চেষ্টা করুন। তা না হলে যার সঙ্গে মিটিং করছেন তিনি অসম্মানিত বোধ করতে পারেন।

আরও পড়ুন:
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে
বইয়ের যত্ন নেবেন যেভাবে
কফির উপকার অপকার

শেয়ার করুন

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

পদ্ম ফুল কমে যাচ্ছে বিলগুলোতে। ছবি: নিউজবাংলা

ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী উপজেলা হরিপুরের ভাতুরিয়া গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী বলেন, ‘এই ধূলিয়া বিল আগে পদ্মফুলে ভরে যেত। বহুদূর থেকে মানুষ ছুটে আসত এই ফুল দেখতে। এখন ফুল থাকলেও আগের মতো নাই। আশপাশের জমি ভরাট হয়ে বিল ছোট হয়ে গেছে। আবার মাছ চাষ করে জাল দিয়ে মাছ ধরে লোকজন। এসব কারণে পদ্মফুল নষ্ট হয়ে যায়।’

ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী উপজেলা হরিপুরের তিন গ্রামের জলাশয়ে বর্ষা থেকে ফুটতে শুরু করে পদ্মফুল। তবে এবার আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে পদ্ম। হাতে গোনা পদ্মে হতাশ দর্শনার্থী ও স্থানীয় লোকজন।

বেশির ভাগ মানুষের অভিযোগ, জলাশয়ে মাছ চাষের কারণে কমছে পদ্ম। স্থানীয় লোকজন এসব পদ্মকে চেনেন বোরল ফুল নামে। উপজেলার মাগুড়া, ভাতুরিয়া ও জাদুরাণী গ্রামের বিলে দেখা মেলে এই ফুলের।

উপজেলার মাগুড়া গ্রামের বিলটি ছেয়ে যেত পদ্মফুলে। একই দৃশ্য দেখা যেত ভাতুরিয়া গ্রামের ধূলিয়া বিলেও। এবার বিল দুটিতে চিরচেনা রূপ নেই। পদ্মের সংখ্যা হাতে গোনা।

কেবল জাদুরাণী গ্রামের তালুকদার বস্তি এলাকায় ‘সবার পুকুর’ নামে পুকুরে আশানুরূপ ফুটে আছে সাদা পদ্ম।

‘সবার পুকুরে’ গিয়ে দেখা গেল, শিশু-কিশোররা পানিতে নেমে তুলছে পদ্মফুল।

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

সবার পুকুরের একাংশের মালিক মোমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে পুকুরটির প্রায় তিন একর জমি পদ্মফুলে ভরপুর ছিল, কিন্তু বর্তমানে অংশীদার বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন পুকুরটি বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। সে কারণে পদ্মফুলের তেমন বিস্তার হতে পারছে না।’

উপজেলার তালুকদার বস্তির কৃষক জয়নুল ইসলাম বলেন, ‘সবার পুকুরে দীর্ঘদিন থেকে এই ফুল ফুটে আসছে। তবে এটা যে পদ্মফুল আমরা তা জানতাম না। স্থানীয়ভাবে বোরল নামে জানি পদ্মফুলকে। অনেক মানুষ দেখতে আসে। অনেকে ফুল তুলে নিয়ে যায়।’

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

মাগুরা ও ভাতুরিয়া গ্রামের বিল ঘুরে দেখা যায়, কিছু পদ্ম সেখানেও ফুটেছে।

সেখানকার লোকজন জানান, কয়েক বছর আগেও এসব বিলে বর্ষায় পদ্মের আড়ালে পানিই দেখা যেত না। এখন সেখানে আর তেমন ফুল ফোটে না।

ভাতুরিয়া গ্রামের কৃষক লিয়াকত আলী বলেন, ‘এই ধূলিয়া বিল আগে পদ্মফুলে ভরে যেত। বহুদূর থেকে মানুষ ছুটে আসত এই ফুল দেখতে। এখন ফুল থাকলেও আগের মতো নাই। আশপাশের জমি ভরাট হয়ে বিল ছোট হয়ে গেছে। আবার মাছ চাষ করে জাল দিয়ে মাছ ধরে লোকজন। এসব কারণে পদ্মফুল নষ্ট হয়ে যায়।’

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী লাবণী পারভীন বলেন, ‘গত বছর হরিপুর উপজেলার মাগুরা গ্রামে একটি পুকুরে পদ্মফুল দেখেছি। এ বছরও গেছিলাম। তবে ওই পুকুরটিতে এবার মাছ চাষ হয়েছে। সে জন্য পদ্মফুল হয়নি। এবার পাশের গ্রাম তালুকদার বস্তি এলাকায় সবার পুকুরে পদ্মফুল দেখেছি। বইয়ে পড়েছি; বাস্তবে দেখে অনেক ভালো লাগছে।’

ঠাকুরগাঁওয়ের বিলগুলোতে এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত দেখা দেয় পদ্ম। এর পাতা বেশ বড়, গোলাকার ও পুরু হয়ে থাকে। পদ্মফুল সাধারণত সাদা, গোলাপি, লাল ও নীল রঙের হয়।

একসময় গ্রামের হাট-বাজারে ঝোলাগুড়, মাংস বা ছোট মাছ ক্রেতাদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য পদ্মের পাতা ব্যবহার করা হতো। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে থালা হিসেবে কলাপাতার বদলে পদ্মের পাতাও ব্যবহার হতো।

হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পদ্ম পবিত্রতার প্রতীক। তাদের নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে এই ফুল ব্যবহার হয়।

‘হাতে গোনা’ পদ্মে হতাশা

ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের প্রধান নাসরিন জাহান বলেন, ‘পদ্ম সাধারণত উষ্ণমণ্ডলীয় উদ্ভিদ। বাংলাদেশে সাদা, লাল ও নীল রঙের পদ্মফুল পাওয়া যায়। সম্প্রতি হলুদ রঙের পদ্মফুল দেখা গেছে কুমিল্লা জেলায়। এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ গবেষণা চালাচ্ছে।’

নাসরিন জানান, শিল্পায়নের কারণে নদী-নালা ভরাট হয়ে যাচ্ছে। সরকারি জলাশয়গুলো বেদখল হয়ে সেখানে মাছ চাষ হচ্ছে। জলাশয়সংলগ্ন জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কারণে পদ্ম জন্মানোর পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দিনে দিনে কমে আসছে এই জলজ ফুল।

এই অধ্যাপক বলেন, ‘সাদা পদ্মের অনেক ঔষধি গুণ রয়েছে। এর ফলের বীজ হৃদরোগ, চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ডায়রিয়া সারাতে এর বোটা কাঁচা খায় অনেকে। পদ্মের চাক, বীজ বা বোটা বেশ সুস্বাদু। পদ্মের পাতাতেও ওষধি গুণ আছে। এই পাতা দিয়ে চা-ও বানানো হয়।’

পদ্মফুলকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে সরকারের সচেষ্ট হওয়ার দরকার বলে মনে করেন তিনি।

নাসরিন বলেন, ‘সরকারি জলাশয় যেন বেদখলে না যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। পানির উচ্চতা ঠিক রাখতে হবে। পদ্মফুলের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিষয়ে সরকারিভাবে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।’

আরও পড়ুন:
দাগ দূর করার উপায়
ঝালে আছে অনেক গুণ
ওজন বেড়ে যাওয়া থামাবেন যেভাবে
বইয়ের যত্ন নেবেন যেভাবে
কফির উপকার অপকার

শেয়ার করুন