সেমিনারে মত

যোগ্য জনবলের অভাবে অকার্যকর ডেঙ্গু প্রতিরোধ

যোগ্য জনবলের অভাবে অকার্যকর ডেঙ্গু প্রতিরোধ

প্রতীকী ছবি

কীটতত্ত্ববিদ তৌহিদ উদ্দিনের মতে, বাংলাদেশের নগর ও শহরগুলোতে মশা একটি প্রধান সমস্যা। দুই দশক আগে পর্যন্ত তা কেবল শুষ্ক সময়ে কিউলেক্স মশার উপদ্রবে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তা সারা বছরের সমস্যা। আর মশাবাহিত রোগ হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া। এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নেয়া জরুরি।

যথাযোগ্য জনবলের অভাবে ডেঙ্গু সমস্যার সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করছেন কীটতত্ত্ববিদরা।

দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ ভুলভাবে হচ্ছে বলেও মনে করছেন তারা।

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘নগরীর মশা নিবারণে সমস্যা, টেকসই সমাধানের একটি রূপরেখা’ শীর্ষক এক সেমিনারে অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা এসব মত দেন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও চিকিৎসা কীটতত্ত্ববিদ তৌহিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘২০০০ সাল থেকে প্রায় বছরই বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গু মহামারিতে রূপ নিয়েছে। এ বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২১ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।’

যোগ্য জনবলের অভাবে অকার্যকর ডেঙ্গু প্রতিরোধ
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শনিবার দুপুরে নগরীর মশা নিবারণে টেকসই সমাধানের রূপরেখাবিষয়ক সেমিনার হয়। ছবি: নিউজবাংলা

তিনি বলেন, ‘আমাদের শহর ও নগরে মশা এখন সারা বছরের সমস্যা। দেশের জন্য এটা বিব্রতকর যে, দীর্ঘদিনেও ডেঙ্গু সমস্যার সন্তোষজনক সমাধান হয়নি। এর প্রধান কারণ হচ্ছে যথাযোগ্য জনবল সমস্যা।

‘মশা নিবারণ, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধের জন্য এখন পর্যন্ত সরকার কোনো নীতিমালা তৈরি করতে পারেনি। তাই সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোর মশক নিবারণ কর্মকাণ্ড সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনার অভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ে। সেখানে প্রশিক্ষিত জনবল নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া মহামারি প্রতিরোধের জন্য বিজ্ঞানসম্মত কর্মপরিকল্পনার অভাব রয়েছে। কীটনাশক ও যন্ত্রপাতি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় না।

‘ফুলের টবের জমা পানি ফেলে দেয়ার কথা বলে নগরব্যাপী দৌড়ঝাঁপ চলে। কিছু পার্ভিসাইড ছিটানো ও ভুলভাবে ফগিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে তাদের ডেঙ্গু প্রতিরোধের কাজ। এতে মশাও মরে না, ডেঙ্গু রোগেরও নিয়ন্ত্রণ হয় না।’

সিটি করপোরেশনের কাজের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তারা পূর্ণাঙ্গ মশা না মেরে লার্ভা মারার জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঢোল পিটিয়ে বেড়িয়েছে; লোকজনকে বিশাল অঙ্কের জরিমানা করেছে। এসব জনগণের সঙ্গে নিষ্ঠুর পরিহাস।’

কীটতত্ত্ববিদ তৌহিদ উদ্দিনের মতে, বাংলাদেশের নগর ও শহরগুলোতে মশা একটি প্রধান সমস্যা। দুই দশক আগে পর্যন্ত তা কেবল শুষ্ক সময়ে কিউলেক্স মশার উপদ্রবে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তা সারা বছরের সমস্যা। আর মশাবাহিত রোগ হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া। এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা নেয়া জরুরি।

সেমিনারে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (সিজিএস) চেয়ারম্যান ও কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘মশা ও সংক্রামক কীটপতঙ্গ নিবারণ একটি সমাধানযোগ্য সমস্যা। আমাদের দেশেও এটা সম্ভব। তবে এর জন্য প্রথমে প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার।’

তিনি বলেন, ‘মশা ও সংক্রামক কীটপতঙ্গ নিবারণের জন্য জাতীয়ভিত্তিক একটা গাইডলাইন প্রয়োজন। নির্দেশিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বালাইনাশক (পেস্টিসাইড) আইন-২০১৮, স্থানীয় সরকার আইন-২০০৯ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন বিবেচনায় নিতে হবে।’

সেমিনারে গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কীটতত্ত্ববিদ ড. জি এম সাইফুর রহমানসহ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন:
এক দিনে আরও ৩০১ ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে
ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ২৪৮ জন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ডেঙ্গু: হাসপাতালে ভর্তি আরও ১৮৯

ডেঙ্গু: হাসপাতালে ভর্তি আরও ১৮৯

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১২২ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৮৯ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৩১৯ জন। এর মধ্যে মারা গেছে ৮৬ জন।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু শনাক্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৫৫ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৪ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ২২ হাজার ৩১৯ জন। এর মধ্যে শুরুর ছয় মাস ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৭০ জন।

এ বছরের জুলাইয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। ওই মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২ হাজার ২৮৬ জন। মারা যায় ১২ জন।

আগস্টে ডেঙ্গু রোগী ছিল ৭ হাজার ৬৯৮ জন। মারা যায় ৩৪ জন।

সেপ্টেম্বরে রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৪১ জন। ওই মাসে মশাবাহিত রোগটিতে প্রাণ হারায় ২৩ জন।

চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ৪ হাজার ১২২ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছে ১৭ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২২ হাজার ৩১৯ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ২১ হাজার ৩৯৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৮৩৮ জন।

তাদের মধ্যে ঢাকার ৪৬টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৬৬৯ ডেঙ্গু রোগী। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এক দিনে আরও ৩০১ ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে
ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ২৪৮ জন

শেয়ার করুন

করোনায় ৯ মৃত্যু, শনাক্ত ২৭৮

করোনায় ৯ মৃত্যু, শনাক্ত ২৭৮

দেশে এ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৭ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৮১৪ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ২৭৮ জনের দেহে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শনিবার পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৭ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৮১৪ জনের।

২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৩২টি ল্যাবে করোনার ১৫ হাজার ৪২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনাক্তের হার ১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ নিয়ে টানা ৩২ দেশে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী কোনো দেশের করোনা সংক্রমণ হার টানা দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সেই দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলে বিবেচনা করা হয়।

সেই অনুযায়ী বাংলাদেশ করোনা দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে এসেছে অনেক আগে। তবে সরকারের লক্ষ্য সংক্রমণ হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা।

গত বছরের মার্চে ছড়ানো করোনা বছরের শেষে নিয়ন্ত্রণে আসার পর চলতি বছর এপ্রিলের আগে থেকে আবার বাড়তে থাকে। এর মধ্যে প্রাণঘাতি ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ার পর এপ্রিলের শুরুতে লকডাউন এবং ১ জুলাই থেকে শাটডাউন দেয় সরকার।

তবে সংক্রমণ কমে আসার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়া শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত একদিনে মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৬ জন, নারী ৩ জন। এর মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। বাকিদের মধ্যে চল্লিশোর্ধ্ব ১, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১ ও ষাটোর্ধ্ব ৬ জন।

বিভাগ অনুযায়ী ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনাতে ২ জন করে মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন করে মারা গেছে। এদের মধ্যে একজন বাড়িতে বাকিরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত একদিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২৯৪ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হলেন ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৪১ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
এক দিনে আরও ৩০১ ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে
ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ২৪৮ জন

শেয়ার করুন

টাকা ব্যয় করতে পারে না স্বাস্থ্য খাত

টাকা ব্যয় করতে পারে না স্বাস্থ্য খাত

স্বাস্থ্য খাতে এবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৩ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে খরচ হয়েছে মাত্র ৩০৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ শতকরা হারে মোট বরাদ্দের ২.৩৩ শতাংশ খরচ হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার। সে অনুযায়ী অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের চেয়ে বরাদ্দও বাড়িয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য খাত সে অনুযায়ী ব্যয় করতে পারছে না।

করোনার মধ্যে পর পর দুই বছর স্বাস্থ্য খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নের এ চিত্র দেখা গেছে। ব্যয়ের দিক থেকে স্বাস্থ্য খাত দৈন্যদশা থেকে কিছুতেই বের হতে পারছে না।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন (আইএমইডি) বিভাগের সবশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার স্বাস্থ্যসেবা খাতে মাত্র ২.৩৩ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে ৬.১৮ শতাংশ।

সব মিলিয়ে আলোচ্য অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে গড়ে বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৪ শতাংশের সামান্য বেশি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেছেন, বর্ষা, দরপত্রে বিলম্বসহ নানা কারণে অর্থবছরের শুরুতে কাজের ধীরগতি থাকে। শীত মৌসুমে বাস্তবায়নে গতি আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যের বেশির ভাগ প্রকল্প বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট। বিদেশি প্রকল্পে অর্থ ছাড়ে বিলম্ব হয়। ফলে অর্থ যথাসময়ে খরচ করা যায় না।’

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতে এডিপিতে মোট ৬০টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৪৬টি। বাকি ১৪টি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের।

আইএমইডির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এডিপিতে স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ ১৩ হাজার কোটি টাকা। প্রথম তিন মাসে খরচ হয়েছে মাত্র ৩০৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ শতকরা হারে মোট বরাদ্দের ২.৩৩ শতাংশ খরচ হয়েছে।

অন্যদিকে বর্তমান অর্থবছরে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে বরাদ্দ দেয়া হয় ২ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা। তিন মাসে তারা ব্যয় করেছে ৬.১৮ শতাংশ বা ১৫৮ কোটি টাকা।

ফলে সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৬১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা শতকরা হারে ৪.২৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে স্বাস্থ্য খাতে বাস্তবায়নের হার ছিল গড়ে সাড়ে ৪ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে অনুন্নয়ন ও উন্নয়ন মিলিয়ে স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ ৩২ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে করোনার টিকা কেনায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১৪ হাজার কোটি টাকা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শুধু বরাদ্দ বাড়িয়ে স্বাস্থ্য খাতের নাজুক অবস্থার পরিবর্তন হবে না। ব্যয়ের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থহীন ব্যয়ের অভিযোগগুলোরও সমাধান করতে হবে। এ খাতকে ঢেলে সাজাতে দীর্ঘ মেয়াদে একটি রোডম্যাপ বা পথ নকশা করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বাজেটে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয়, সেটাও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয় না। আবার বরাদ্দের বেশির ভাগ টাকা চলে যায় ভৌত অবকাঠামো, বেতন-ভাতা ও প্রশাসনিক ব্যয়ে।

‘প্রকৃতপক্ষে রোগীর সেবার জন্য বরাদ্দ খুবই কম। তবে এটাও ঠিক শুধু বরাদ্দ বাড়ালে হবে না। সেই সঙ্গে এ খাতে দুর্নীতি-অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল সংস্কার করতে হবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, এডিপিতে মোট বরাদ্দের ৮৪ শতাংশ অর্থ খরচ হয় সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১৫টি মন্ত্রণালয়ে। যার মধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অন্যতম।

বাস্তবায়নের চিত্র

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট এডিপির আকার ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম তিন মাসে খরচ হয়েছে ১৯ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা, যা শতকরা হারে ৮.২৬ শতাংশ।

গত অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ৮.০৬ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের শুধু সেপ্টেম্বরে টাকা খরচ হয়েছে ১০ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা, যা শতকরা হারে ৪.৪ শতাংশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইডিএসের সাবেক ঊর্ধ্বতন গবেষণা পরিচালক, বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, ‘বাংলাদেশে এডিপি বাস্তবায়নের দুর্বল দিক হচ্ছে অর্থবছরে প্রথম দিকে খুব কমই টাকা ব্যয় হয়। শেষ দিকে ব্যয়ের চাপ বেশি থাকায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকে। এই সংস্কৃতি থেকে বের হতে হবে।’

আরও পড়ুন:
এক দিনে আরও ৩০১ ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে
ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ২৪৮ জন

শেয়ার করুন

হাসপাতালে ফুসফুস পৌঁছে দিচ্ছে ড্রোন

হাসপাতালে ফুসফুস পৌঁছে দিচ্ছে ড্রোন

ফুসফুস নিয়ে টরন্টো জেনারেল হাসপাতালের ছাদে অবতরণের পর ইউনিদার বায়োইলেকট্রনিকের ড্রোন। ছবি: ইউরো নিউজ

ড্রোন দিয়ে ফুসফুস পরিবহনের সফল এই ফ্লাইটটি পরিচালনায় স্বাস্থ্য ও বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়েছিল। অনুমতি পেতে প্রায় অর্ধশতবার পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক সংশোধন আনতে হয়েছে। যেমন ঘনবসতিপূর্ণ একটি শহরে ড্রোনটি যেন বেতার তরঙ্গ প্রতিরোধক হয়, তা নিশ্চিত করতে হয়েছে।

রাতের অন্ধকারে টরন্টো শহরে এক হাসপাতালের ছাদ থেকে উড়ে গেল একটি ড্রোন। কানাডার ব্যস্ত ও বৃহত্তম মহানগরীর সড়কে গাড়িঘোড়ার শব্দে ছোট্ট উড়োযানটির আরও ছোট যান্ত্রিক পাখার শব্দ আলাদা করে ধরতে পারেনি পথচলতি মানুষ।

ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোট্ট ড্রোনটি বহন করছিল অমূল্য এক সম্পদ মানুষের ফুসফুস, যা প্রতিস্থাপনের অপেক্ষায় কোনো মৃত্যুপথযাত্রী।

প্রথম ফ্লাইটেই আকাশছোঁয়া ভবন, যানজট আর দোকানপাটে মানুষের ভিড় পেছনে ফেলে দ্রুততম সময়ে ফুসফুস গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে ড্রোনটি।

মানুষের জীবন বাঁচাতে প্রতিস্থাপনযোগ্য ফুসফুস আনা-নেয়া বা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পৌঁছে দিতে ড্রোনের ব্যবহার নজিরবিহীন, যা করে দেখিয়েছে কানাডা।

এ কাজে ব্যবহৃত ড্রোনটির ওজন মাত্র সাড়ে ১৫ কেজি বা ৩৪ পাউন্ড। কার্বন ফাইবারে তৈরি বিদ্যুৎ-চালিত ড্রোনটি তৈরি করেছে কিউবেকভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইউনিদার বায়োইলেকট্রনিকস।

শহরের পশ্চিমে অবস্থিত টরন্টো ওয়েস্টার্ন হাসপাতাল থেকে টরন্টো জেনারেল হাসপাতালের ছাদে ফুসফুস পৌঁছে দিয়েছে ড্রোনটি। ১০ মিনিটের কম সময়ে অতিক্রম করেছে পৌনে এক মাইল দূরত্ব।

ঘটনাটি ঘটেছে গত মাসের শেষ সপ্তাহে। ড্রোনটি স্বয়ংক্রিয় হলেও পুরো পথে সতর্ক দৃষ্টি রেখে চলেছিলেন একদল প্রকৌশলী ও চিকিৎসক।

ড্রোনকেন্দ্রিক এ প্রকল্পে কারিগরি একটি দলের সঙ্গে দুই বছর ধরে কাজ করছেন চিকিৎসক শাফ কেশবজি। তিনি বলেন, ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় প্রমাণ করছি আমরা। টরন্টোর মতো ব্যস্ত শহরের মাঝ দিয়ে নিরাপত্তা বজায় রেখেই ড্রোন চালিয়ে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন সম্ভব।’

ইউনিদার বায়োইলেকট্রনিকের ড্রোনবিষয়ক প্রকৌশলী মিখাইল কার্ডিনাল জানান, ড্রোনটি একটি হিমায়িত কালো বাক্স বহন করেছে। ওই বাক্সটি ‘অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নির্ধারিত তাপমাত্রা ধরে রাখতে সক্ষম’, যেন প্রত্যঙ্গটি মানবদেহের বাইরেও ‘কার্যকর থাকে এবং অন্য দেহে প্রতিস্থাপন করা যায়’।

ফুসফুসবাহী ড্রোনটির অবতরণের সময় টরন্টো জেনারেল হাসপাতালের ছাদে অপেক্ষা করছিলেন অস্ত্রোপচারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের সদস্যরা। তারা ড্রোনের ভেতর থেকে প্যাকেটে সংরক্ষিত ফুসফুসটি বের করেন এবং অপেক্ষারত রোগীর দেহে সেটি প্রতিস্থাপন করেন।

প্রাণঘাতী রোগ পালমোনারি ফিব্রোসিসে আক্রান্ত ৬৩ বছর বয়সী এক রোগীর দেহে ফুসফুসটি প্রতিস্থাপন করেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে সুস্থ আছেন ওই রোগী।

ড্রোন দিয়ে ফুসফুস পরিবহনের সফল এই ফ্লাইটটি পরিচালনায় স্বাস্থ্য ও বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়েছিল।

অনুমতি পেতে প্রায় অর্ধশতবার পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক সংশোধন আনতে হয়েছে। যেমন ঘনবসতিপূর্ণ একটি শহরে ড্রোনটি যেন বেতার তরঙ্গ প্রতিরোধক হয়, তা নিশ্চিত করতে হয়েছে।

যদি তাও কোনোভাবে চূড়ান্ত ফ্লাইটটি ব্যর্থ হতো, তাও যেন ফুসফুসটি নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হয়, সেটি নিশ্চিতেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। সে জন্য ড্রোনে একটি ব্যালিস্টিক প্যারাশুট যুক্ত করা ছিল। ড্রোনটি মাঝপথে বিকল হলে সেটিকে ও ফুসফুসটিকে ধীরগতিতে এবং নিরাপদে গন্তব্যে অবতরণে সাহায্য করতো প্যারাশুটটি।

ড্রোন দিয়ে মানবদেহে প্রতিস্থাপনযোগ্য ফুসফুস পরিবহনের ঘটনা বিশ্বে এটাই প্রথম বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি।

তবে ২০১৯ সালের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যেও এ ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় ড্রোন দিয়ে প্রতিস্থাপনযোগ্য কিডনি হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল।

সাধারণত বিমানবন্দর হয়ে প্রতিস্থাপনযোগ্য অঙ্গ স্থানান্তর করা হয়, বিশেষ করে যখন এক শহর থেকে অন্য শহরে নেয়া হয় সেটি। বিমানবন্দর থেকে বিশেষ যানবাহনের মাধ্যমে সেটিকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া হয়।

এ ক্ষেত্রে দুটি হাসপাতাল অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্থানান্তরে সরাসরি ড্রোন ব্যবহার করলে সময় বাঁচে এবং যানজট এড়ানো সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন:
এক দিনে আরও ৩০১ ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে
ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ২৪৮ জন

শেয়ার করুন

কাঁচা পেঁয়াজ থেকে প্রাণঘাতী স্যালমোনেলা

কাঁচা পেঁয়াজ থেকে প্রাণঘাতী স্যালমোনেলা

প্রতীকী ছবি।

চিহুয়াহুয়া থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিডিসি। যেসব পেঁয়াজ বা পেঁয়াজের প্যাকেটে তথ্যসংবলিত স্টিকার নেই, সেগুলো ফেলে দিতে বলেছে। একই সঙ্গে পেঁয়াজের ছোঁয়া লেগেছে এমন জায়গা ও বাসনকোসন সাবান-পানি দিয়ে ধুতে বলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার প্রকোপে অসুস্থ হয়ে পড়েছে ৩৭টি অঙ্গরাজ্যের হাজারো বাসিন্দা। কাঁচা পেঁয়াজ থেকে প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়াটি ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতির ব্যাপকতায় সারা দেশের মানুষকে পেঁয়াজ খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে প্রশাসন। উৎস অজানা ও তথ্যসংবলিত চিহ্ন ছাড়া লাল, সাদা ও হলুদ পেঁয়াজ ফেলে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, স্যালমোনেলা সংক্রমণের একটি সম্ভাব্য উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়া থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ থেকে ছড়িয়েছে ব্যাকটেরিয়াটি।

ইদাহো অঙ্গরাজ্যের হেইলেভিত্তিক প্রতিষ্ঠান প্রোসোর্স আমদানি করেছে ওই পেঁয়াজ।

সিডিসি জানিয়েছে, ৩১ মে থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্যালমোনেলায় ৬৫২ জনের অসুস্থতার খবর পেয়েছে সংস্থাটি। এদের মধ্যে ১২৯ জন গুরুতর অসুস্থ এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অসুস্থ রোগীর প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি কারণ বেশির ভাগ মানুষই মৃদু অসুস্থতা হলে সে খবর প্রশাসনের কাছে পৌঁছায় না।

এক বিবৃতিতে সিডিসি জানিয়েছে, অসুস্থ ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার পর রোগাক্রান্ত হন বলে জানা গেছে। অসুস্থ ব্যক্তিদের অনেকেই একই রেস্তোরাঁর খাবার খেয়েছেন।

এ অবস্থায় চিহুয়াহুয়া থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিডিসি। যেসব পেঁয়াজ বা পেঁয়াজের প্যাকেটে তথ্যসংবলিত স্টিকার নেই, সেগুলো ফেলে দিতে বলেছে। একই সঙ্গে পেঁয়াজের ছোঁয়া লেগেছে এমন জায়গা ও বাসনকোসন সাবান-পানি দিয়ে ধুতে বলেছে।

স্যালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম উপসর্গ হলো ডায়রিয়া, জ্বর ও পেট ব্যথা। দূষিত খাবার খাওয়ার পরবর্তী ছয় ঘণ্টা থেকে ছয় দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

প্রোসোর্স জানিয়েছে, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চিহুয়াহুয়া থেকে আমদানি ও বিক্রয়কৃত সব পেঁয়াজ স্বেচ্ছায় ফিরিয়ে নেবে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (এফডিএ) অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

স্যালমোনেলা সংক্রমণের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে স্থানীয় প্রশাসন ও সিডিসির সঙ্গে এফডিএ সমন্বিত অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানিয়েছে প্রোসোর্স।

আরও পড়ুন:
এক দিনে আরও ৩০১ ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে
ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ২৪৮ জন

শেয়ার করুন

শনাক্ত ও মৃত্যু দেড় বছরে সর্বনিম্ন

শনাক্ত ও মৃত্যু দেড় বছরে সর্বনিম্ন

দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় আগের মতোই জমে উঠেছে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত। ছবি: নিউজবাংলা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ১২৯ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৮০৫ জনের।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গত দেড় বছরের মধ্যে যা সর্বনিম্ন। এর চেয়ে কম মৃত্যু হয়েছিল গত বছরের ৬ মে। সেদিন ৩ জনের মৃত্যুর সংবাদ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

গত ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমণ ধরা পড়েছে ২৩২ জনের শরীরে। এই হিসাবটিও গত দেড় বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।

এর আগে গত বছরের ১৪ এপ্রিল এর চেয়ে কম শনাক্ত ছিল। সেদিন ২০৯ জনের দেহে করোনা ধরা পড়ার তথ্য দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শুক্রবার বিকেলে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ১২৯ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৮০৫ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৮৩২টি ল্যাবে করোনার ১৭ হাজার ১০০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনাক্তের হার ১ দশমিক ৫১ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো দেশে পরীক্ষা বিবেচনায় করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সেই দেশে মহামারি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে ধরা হয়। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এখন নিয়ন্ত্রণে। সরকারের লক্ষ্য এই হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা। এ জন্য সাবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী মার্চে আরও একটি ঢেউ আসতে পারে। এটি প্রতিরোধে এখন থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

গত বছরের মার্চে ছড়ানো করোনা বছরের শেষে নিয়ন্ত্রণে আসার পর চলতি বছর এপ্রিলের আগে থেকে আবার বাড়তে থাকে। এর মধ্যে প্রাণঘাতী ভারতীয় ধরন ছড়িয়ে পড়লে এপ্রিলের শুরুতে লকডাউন এবং ১ জুলাই থেকে শাটডাউন দেয় সরকার।

তবে সংক্রমণ কমে আসার পর আগস্টের মাঝামাঝি থেকে ধীরে ধীরে সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়া শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে ১২ সেপ্টেম্বর খুলে দেয়া হয় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত এক দিনে মৃতদের মধ্যে পুরুষ ২ জন, নারী ২ জন। এর মধ্যে পঞ্চাশোর্ধ্ব ৩ ও ষাটোর্ধ্ব ১ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। এর পরই চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ১ জন করে মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত এক দিনে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ৫৬৪ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হলো ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৬৪৭ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন:
এক দিনে আরও ৩০১ ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে
ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ২৪৮ জন

শেয়ার করুন

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ১২৩ জন

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ১২৩ জন

ফাইল ছবি

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২২ হাজার ১৩০ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২১ হাজার ২৬৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭৮০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২৩ জন। এই নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ১৩০ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৮৪ জন।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টা ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১৬ জন। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্তের শুরুর ছয় মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২৭০ জন। এ বছরের জুলাইয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। ওই মাসে রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন ২ হাজার ২৮৬ জন। এই মাসে মারা যান ১২ জন।

আগস্টে ডেঙ্গু রোগী ছিলেন ৭ হাজার ৬৯৮ জন। এই মাসে মারা যান ৩৪ জন। সেপ্টেম্বরে রোগীর সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৮৪১ জন। এই মাসে মৃত্যু হয় ২৩ জনের। চলতি মাসের ৩ হাজার ৯৩৩ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আর মারা গেছেন ১৫ জন।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২২ হাজার ১৩০ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২১ হাজার ২৬৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭৮০ জন। এদের মধ্যে ঢাকার ৪৬টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৬২৫ রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আরও পড়ুন:
এক দিনে আরও ৩০১ ডেঙ্গু আক্রান্ত হাসপাতালে
ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ২৪৮ জন

শেয়ার করুন