৮০ বছর পর দেশে ফিরছে নীলগাই, দুই শাবকের জন্ম

৮০ বছর পর দেশে ফিরছে নীলগাই, দুই শাবকের জন্ম

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রথমবারের মতো দুটি নীলগাইয়ের শাবক জন্ম নিয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

সাফারি পার্ক সূত্রে জানা যায়, দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এক সময় অবাধ বিচরণ ছিল নীলগাইয়ের। ১৯৪০ সালের আগ বাংলাদেশে নীলগাই দেখা যেত। বনাঞ্চল উজাড় হওয়া, বসবাসের পরিবেশ হারানো, খাদ্য সংকট ও অবাধে শিকারের কারণে পরিবেশে প্রাণীটির সংখ্যা কমতে থেকে এক সময় নীলগাইয়ের নাম ওঠে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর তালিকায়।

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রথমবারের মতো দুটি নীলগাইয়ের শাবক জন্ম নিয়েছে।

গত ১ আগস্ট শাবক দুটির জন্ম হয় বলে শুক্রবার সংবাদমাধ্যমকে জানায় সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ।

এই দুই শাবকের জন্মের পর প্রায় ৮০ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে বিলুপ্তপ্রায় নীলগাইয়ের আবার প্রকৃতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখছে সাফারি পার্ক কর্তৃপক্ষ।

সাফারি পার্ক সূত্রে জানা যায়, দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এক সময় অবাধ বিচরণ ছিল নীলগাইয়ের। ১৯৪০ সালের আগ বাংলাদেশে নীলগাই দেখা যেত। বনাঞ্চল উজাড় হওয়া, বসবাসের পরিবেশ হারানো, খাদ্য সংকট ও অবাধে শিকারের কারণে পরিবেশে প্রাণীটির সংখ্যা কমতে থেকে এক সময় নীলগাইয়ের নাম ওঠে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণীর তালিকায়।

পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, এই দুটি নীলগাই শাবক মিলিয়ে বাংলাদেশে নীলগাইয়ের সংখ্যা চারটি। সাফারি পার্কের বাইরে দেশে আর কোথাও এ প্রাণী এখন নেই।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান জানান, ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি নওগাঁর মান্দা উপজেলার জোতবাজার এলাকায় একটি নীলগাইকে ধরে এলাকাবাসী। এটিকে জবাই করার প্রস্তুতি নিলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় রাজশাহীর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ পুরুষ নীলগাইটি উদ্ধার করে। চিকিৎসা শেষে ওই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যানে নীলগাইটিকে স্থানান্তর করা হয়।

অন্যদিকে, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা গ্রামের মামুদপুর-ঠুঠাপাড়া বর্ডার এলাকার বাসিন্দারা একটি নীলগাই দেখতে পায়। তারা এটিকে ধরে জবাই করার প্রস্তুতি নিলে বিজিবি-৫৩-এর (মামুদপুর বিওপির) সদস্যরা ওই মাদী নীলগাইকে উদ্ধার করে রাজশাহীর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। পরে এটিকে সাফারি পার্কে আনা হয়।

এরপর দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যান থেকে পুরুষ নীলগাইটিকে প্রজননের জন্য সাফারী পার্কে আনা হয় বলেও জানান পার্কের এই কর্মকর্তা।

পার্কের ওয়াইল্ডলাইফ সুপারভাইজার সারোয়ার হোসেন খান জানান, হেমন্ত থেকে শীতকালের শুরু পর্যন্ত নীলগাইয়ের প্রজনন সময়। এর গর্ভধারণ কাল গড়ে ২৪৩ দিন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে নীলগাই যমজ বাচ্চা প্রসব করে। ক্ষেত্র বিশেষে একটি থেকে তিনটি শাবকও প্রসব করে থাকে।

জন্মের ৪০ মিনিটের ভেতর দাঁড়াতে পারে এরা। পুরুষ নীলগাই তিন বছর এবং মাদী নীলগাই দুই বছরের মধ্যে প্রজননক্ষম হয়ে ওঠে। এই প্রাণীর গড় আয়ু ২১ বছর।

পুরুষ নীলগাইয়ের বর্ণ গাঢ় ধূসর, অনেকটা কালচে রঙের। অনেক সময় নীলচে আভা দেখা যায় বলে এদের নীলগাই নামকরণ হয়েছে। শুধুমাত্র পুরুষ নীলগাইয়ের দুটি কৌণিক, মসৃণ ও সামনের দিকে কিঞ্চিত বাকানো শিং থাকে। এদের দৈর্ঘ্য ৫২-৫৮ইঞ্চি, শিংয়ের দৈর্ঘ্য ৮-১২ইঞ্চি।

মাদী নীলগাই এবং শাবকের রং লালচে বাদামী, তবে খুরের ওপরের লোম সাদা। ঠোঁট, থুতনি, কানের ভেতরের দিক ও লেজের নীচের অংশ সাদা।

নীলগাই ছোট ছোট পাহাড় আর ঝোপ-জঙ্গলপূর্ণ মাঠে চরে বেড়াতে পছন্দ করে। ঘন বন এরা এড়িয়ে চলে। ৪-১০ সদস্যের দল নিয়ে এরা ঘুরে বেড়ায়। তবে দলে কখনও কখনও ২০ বা তার বেশি সদস্যও থাকতে পারে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের প্রকল্প পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী বলেন, ‘উদ্ধার করা নীলগাই দুটি ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বলে আমাদের ধারণা। এরা জুটি বাঁধার ১১ মাস ১১ দিন পর ১ আগস্ট দুটি ফুটফুটে বাচ্চা জন্ম দেয়। বর্তমানে শাবক দুটি সুস্থ আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ নীলগাই শূন্য হলেও ভারতে লাখের ওপর নীলগাই রয়েছে। আমরা আশা করছি দেশের বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীর তালিকায় থাকা নীলগাই গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের মাধ্যমে আবারও প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরে আসবে।’

আরও পড়ুন:
‘তাড়া খেয়ে’ প্রাণ গেল নীলগাইয়ের
এবার টাঙ্গাইলে দেখা মিলল নীলগাইয়ের
নীলগাইটি থাকবে জাদুঘরে
পঞ্চগড়ে মৃত নীলগাই উদ্ধার
নীলগাইটি এখন দিনাজপুর উদ্যানে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য গ্রেপ্তার

আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য গ্রেপ্তার

নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা দলের সদস্য শামীম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

শিবালয় থানার ওসি ফিরোজ কবির জানান, গোপন তথ্যের মাধ্যমে এন্টি টেররিজম ইউনিট শিমুলিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেন। এ সময় তার কাছ থেকে বেশ কিছু জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।

মানিকগঞ্জের শিবালয় থেকে নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য শামীম হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

উপজেলার শিমুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রোববার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করেন অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা। সোমবার দুপুরে তাকে আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার শামীম শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ কবির নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শামীম নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের একজন সক্রিয় সদস্য। ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, মেসেঞ্জার, টেলিগ্রামে উগ্রবাদী কন্টেন্ট প্রচার ও উগ্রবাদী বই দেয়া-নেয়া করতেন।

গোপন তথ্যের মাধ্যমে এন্টি টেররিজম ইউনিট শিমুলিয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে বেশ কিছু জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।

তার বিরুদ্ধে শিবালয় থানায় এন্টি টেররিজম ইউনিটের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘তাড়া খেয়ে’ প্রাণ গেল নীলগাইয়ের
এবার টাঙ্গাইলে দেখা মিলল নীলগাইয়ের
নীলগাইটি থাকবে জাদুঘরে
পঞ্চগড়ে মৃত নীলগাই উদ্ধার
নীলগাইটি এখন দিনাজপুর উদ্যানে

শেয়ার করুন

শার্শার সীমান্ত থেকে অস্ত্র-গুলি জব্দ

শার্শার সীমান্ত থেকে অস্ত্র-গুলি জব্দ

যশোরের শার্শা গোগা থেকে পিস্তল, গুলি ও ম্যাগজিন উদ্ধার করেছে বিজিবি। ছবি: নিউজবাংলা

শার্শার গোগো ক্যাম্পের ১৭/৭এস ৪৪ আর পিলার থেকে প্রায় ১৫০০ গজ ভেতরে কালিয়ানী মাঠ থেকে ১টি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, ২টি ম্যাগজিন ও ২০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয় বলে জানায় বিজিবি।

যশোরের শার্শার সীমান্ত এলাকা থেকে অস্ত্র-গুলি ও মাদকের চালান জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শার্শার গোগা সীমান্ত এলাকার একটি মাঠ থেকে সোমবার ভোরে এসব জব্দ করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন গোগা ক্যাম্পের সুবেদার সালেহ আহম্মেদ।

তিনি জানান, ওই এলাকায় ২১ বিজিবির অধীনস্থ গোগা বিওপির টহল দল অভিযান চালায়।

হাবিলদার দবির উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৭/৭এস ৪৪ আর পিলার থেকে প্রায় ১৫০০ গজ ভেতরে কালিয়ানী মাঠ থেকে ১টি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, ২টি ম্যাগজিন ও ২০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করা হয়েছে।

এসব মালামাল গোগা ক্যাম্পে জমা আছে।

তবে এসময় কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানায় বিজিবি।

আরও পড়ুন:
‘তাড়া খেয়ে’ প্রাণ গেল নীলগাইয়ের
এবার টাঙ্গাইলে দেখা মিলল নীলগাইয়ের
নীলগাইটি থাকবে জাদুঘরে
পঞ্চগড়ে মৃত নীলগাই উদ্ধার
নীলগাইটি এখন দিনাজপুর উদ্যানে

শেয়ার করুন

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

রংপুরের পীরগঞ্জে উত্তেজিত জনতার হামলায় ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা এই প্রবীণ নারীর মতো হিন্দু সম্প্রদায়ের অর্ধশতাধিক পরিবার। ছবি: নিউজবাংলা

পীরগঞ্জের বড় করিমপুর কসবা গ্রামের উত্তরপাড়ায় রোববার রাতে অন্তত ২৩ বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে। অনেক বাড়ির সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা আসবাব, লোকজনের চোখে-মুখে আতঙ্ক আর ক্ষোভ। চারদিকে পোড়া গন্ধ আর বিলাপ।

‘হামরা খাবার বচচি, ওটি দেখি হৈ-হাঙ্গাম। পরে দেখি, কোবাকুবি, ফির দেখি আগুন জ্বলছে। পরে ক্যানে দেখি ঘুরি আসি, দোকানে, মন্দির, বাড়িত আগুন লাগি দিল। বউ বেটিত নিয়া, মানসের কানচেত কলার কাচের থোপে আচিনোং। ছাওয়া কান্দিছিল মুখ চিপি ধরি আচিনোং। আসি দেখি, নেপ তুলি কিস্তির সোগ টাতা নিয়ে গেছে।’

(আমরা খাবার খেতে বসছি, পরে দেখি কোপাকুপি, তারপর দেখি আগুন। পরে এসে দেখি দোকানে, মন্দিরে, বাড়িতে আগুন দিয়েছে। ঘরের মেয়ে-বউ-নাতি নিয়ে মানুষের বাড়ির পেছনে কলার গাছের নিচে লুকিয়ে ছিলাম। নাতি কান্না করছিল, তার মুখ চেপে রাখি। এরপর ফিরে এসে দেখি লেপ তুলে কিস্তির সব টাকা নিয়ে গেছে।)

রংপুরের পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় করিমপুর কসবা গ্রামে রোববার রাতে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির কথা জানাচ্ছিলেন সুবালা রানী। তিনি থাকেন গ্রামের হিন্দু অধ্যুষিত উত্তরপাড়ায়। রোববার রাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এলাকাটি। এই গ্রামের দক্ষিণপাড়াটি অবশ্য রক্ষা পেয়েছে পুলিশি প্রতিরোধের কারণে।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বিপ্লব কুমার সরকার নিউজবাংলাকে জানান, হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে অভিযান শুরু করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা পর্যন্ত আটক হয়েছে ৪০ জন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রামের উত্তরপাড়ার অন্তত ২৩ বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয়েছে। অনেক বাড়ির সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে ভাঙা আসবাব, লোকজনের চোখে-মুখে আতঙ্ক আর ক্ষোভ। চারদিকে পোড়া গন্ধ আর বিলাপ।

গ্রামজুড়ে টহল দিচ্ছে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি। নিরাপত্তা তদারকিতে আছেন জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বিপ্লব কুমার সরকার।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সামনে শূন্য দৃষ্টিতে বসে থাকা নন্দ রানী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘গাড়ি পুড়ি ফেলাইছে, গরু নিয়ে গেছে, চাউল-ডাউল, ট্যাকা-পয়সা সব নিয়ে গেছে, সোনা আছলো এক ভরি- তাকো নিয়ে গেছে। হামরা এখন কী করি খামো বাবা, কী করি খামো।’

ক্ষতিগ্রস্ত আরেক বাড়ির কিরোন বালা বলেন, ‘এই দ্যাশোত থাকার চাইয়ে মরি যাওয়াই ভালো। ভয়ে রাইতোত পালাইয়ে ছিলাম। পরে পুলিশ আসি কয় তোমরা পলাইচেন ক্যান। আইজ আইচচি, আসি দেখি কিচ্চু নাই। সোনা বানা সোহ নিচে।’

(এই দেশে থাকার চেয়ে মরাই ভালো। ভয়ে রাতে পালায় ছিলাম। পরে পুলিশ এসে বলে তোমরা পালাও কেন। এখন এসেছি, দেখি কিছু নাই। সোনা-দানা নিয়ে গেছে।)

বিকাল বাবু নামের একজন জানান, হামলাকারীরা বাড়িঘরে আগুন দিতে শুরু করলে তিনি শিশুসন্তানকে নিয়ে পাশের ক্ষেতে লুকিয়ে ছিলেন।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

তিনি বলেন, ‘যেলা আগুন নাগি দিচে, তখন আমি বাচ্চাক নিয়ে ঘাস বাড়ি যায়া নুকাইচিনুং। বাড়ির সোগ টাকা-পইসে নিচে, এখন ছৈলক বিস্কুট কাওয়ামো তার টাকা-পয়সা নাই।’

(যখন আগুন দেয়, তখন আমি বাচ্চা নিয়ে ঘাসের জমিতে লুকিয়ে ছিলাম। বাড়ির সব টাকা-পয়সা নিয়ে গেছে। বাচ্চাকে বিস্কুট কিনে খাওয়ানোর মতো টাকাও নেই।)

এসপি ও গ্রামবাসী জানায়, গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী ১৫ বছরের এক কিশোর রোববার বিকেলে ফেসবুকে কোনো একটি পোস্টে আপত্তিকর একটি কমেন্ট করে।

মুহূর্তে এর স্ক্রিনশট আশপাশের গ্রামের মুসল্লিদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে একদল লোক ওই কিশোরের গ্রামে উপস্থিত হয়।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

পুলিশ জানায়, তারা খবর পাওয়ামাত্র সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুব্ধ লোকজনকে বুঝিয়ে ফেরত পাঠায়। তবে এর দুই ঘণ্টা পর শুরু হয় আকস্মিক হামলা।

গ্রামবাসী জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে কয়েক শ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে দক্ষিণপাড়া থেকে কিছুটা দূরে ক্ষেতের ওপারে স্থানীয় মসজিদে জড়ো হয়। পরে রাশেদ নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে তারা গ্রামের উত্তরপাড়ায় প্রবেশ করে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু করে।

হামলাকারীরা বাড়িঘরে ভাঙচুর ও আগুন দিতে থাকে। দুটি মন্দিরও ভাঙচুর করা হয়। লুট করা হয় স্বর্ণালংকার, টাকাসহ দরিদ্র পরিবারের নানা জিনিসপত্র। রাত ১১টা পর্যন্ত চলে এ অবস্থা। ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভায়।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, গায়ের কাপড় ছাড়া তাদের আর কিছু অক্ষত নেই। ওই পাড়ার অর্ধশত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের অনেকে আছে খোলা আকাশের নিচে।

নারায়ণ চন্দ্র নামের একজন বলেন, ‘আমি বইনের (বোন) বাড়িতে আসছি। রাইতে খেয়ে বসে আছি। হুনতেছি (শুনছি) ওই গ্রামে একজন ফেসবুকে কী লিখছে, পুলিশ আসছে। আমরা শুনতেছি। এর কিছুক্ষণ পর হৈ দিয়ে মানুষ আসলো। ভাঙচুর আর আগুন দেয়া শুরু করল। ভয়ে ভাগনেকে নিয়ে পালায়ে গেছি। পরে ওমরা (হামলাকারীরা) যাবার পর বাড়ি আসি।’

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

পুলিশ মোতায়েনের পরও কীভাবে এত বড় হামলা হলো জানতে চাইলে এসপি বিপ্লব কুমার সরকার নিউজবাংলাকে জানান, যে কিশোরকে ঘিরে ঘটনার শুরু, তার বাড়ি গ্রামের দক্ষিণপাড়ায়। সন্ধ্যার পর থেকে মূলত ওই পাড়ায়ই থানা পুলিশ মোতায়েন ছিল।

এসপি বলেন, ‘সন্ধ্যা থেকেই ওই কিশোরের বাড়ির আশপাশে থানা পুলিশের সদস্যরা মোতায়েন ছিলেন। সেখানে পুলিশ ক্ষুব্ধ মানুষজনকে বোঝাতে চেষ্টা করে। ওই কিশোরকে আইনের আওতায় আনা হবে বলা হলে তারা শান্ত হয়ে চলে যায়। সে সময় পুলিশ দক্ষিণপাড়ায় অবস্থান করছিল।

‘তবে রাতে উত্তরপাড়ায় হাজার হাজার মানুষ উগ্রবাদী স্টাইলে হামলা চালায়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় হামলাকারীদের রাবার বুলেট ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চলে।’

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

এসপি বিপ্লব আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে অনেক তথ্য এসেছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করছি। যাদের আটক করেছি, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খুঁজে খুঁজে অন্য হামলাকারীদের বের করা হচ্ছে। যারাই এই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।’

ফেসবুকে আপত্তিকর কমেন্ট করা কিশোরকেও পুলিশ খুঁজছে জানিয়ে তিনি বলেন, ওই কিশোরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।

সোমবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বিভাগীয় কমিশনার আবাদুল ওয়াহাব ভুঞা, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য, জেলা প্রশাসক আসিব আহসানসহ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তারা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে খাবার ও পোশাক বিতরণ করা হয়েছে।

লুটপাট, আগুনে নিঃস্ব পীরগঞ্জের হিন্দুপাড়া

এই হামলার প্রতিবাদে রোববার রাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ। এর নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি তুষার কিবরিয়া। মিছিলে বক্তারা ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

আরও পড়ুন:
‘তাড়া খেয়ে’ প্রাণ গেল নীলগাইয়ের
এবার টাঙ্গাইলে দেখা মিলল নীলগাইয়ের
নীলগাইটি থাকবে জাদুঘরে
পঞ্চগড়ে মৃত নীলগাই উদ্ধার
নীলগাইটি এখন দিনাজপুর উদ্যানে

শেয়ার করুন

টাকা চুরি দেখে ফেলায় শিশুকে ‘হত্যা’

টাকা চুরি দেখে ফেলায় শিশুকে ‘হত্যা’

সাভারের আশুলিয়া থানার সামনে নিহতের বড় বোন রুবিনা বেগম ভাইয়ের শোকে স্তব্ধ। ছবি: নিউজবাংলা

নিহত ফেরদৌসের বড় বোন রুবিনা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবা আশুলিয়া ক্ল্যাসিক পরিবহনের চালক। ছোট ভাই ফেরদৌসকে তিন দিন আগে ওই পরিবহনে কাজে পাঠায়। বাসের হেলপার আর কন্ডাক্টর আমার ভাইকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে ভোর রাতে তারাই পুলিশকে খবর দিয়ে আনে।’

ঘুমিয়ে থাকা বাস কন্ট্রাকটরের পকেট থেকে হেল্পারের টাকা চুরি দেখে ফেলায় বাসটির চালকের শিশু ছেলেকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকা থেকে সোমবার ভোরের দিকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে শিশুটিকে হত্যা করা হয়, রোববার ১২টার দিকে।

বিষয়টি সোমবার সকাল ১০টার দিকে নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সামিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় বাসের ওই কন্ট্রাকটরকে আটক করা হয়েছে। আর পলাতক হেল্পারকে আটকে অভিযান চলছে।

নিহত ১১ বছর বয়সী মো. ফেরদৌস ‘আশুলিয়া ক্ল্যাসিক’ পরিবহনে কাজ করত। সে শেরপুর জেলার সদর থানার মুন্সিপাড়া গ্রামের বাসচালক রইচ উদ্দিনের ছেলে। পরিবারের সঙ্গে থাকত আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ বালুর মাঠ এলাকায়।

এ ঘটনায় আটক ২০ বছর বয়সী মো. হৃদয় ‘আশুলিয়া ক্ল্যাসিক’ পরিবহনের কন্ডাক্টর ছিলেন।

নিহত ফেরদৌসের বড় বোন রুবিনা বেগম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমার বাবা আশুলিয়া ক্ল্যাসিক পরিবহনের চালক। ছোট ভাই ফেরদৌসকে তিন দিন আগে ওই পরিবহনে কাজে পাঠায়। বাসের হেলপার আর কন্ডাক্টর আমার ভাইকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে ভোর রাতে তারাই পুলিশকে খবর দিয়ে আনে।’

আটক হৃদয়ের বরাতে পুলিশ জানায়, রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে রাত ১২টার দিকে ‘আশুলিয়া ক্ল্যাসিক’ বাসটি বাইপাইল পৌঁছায়। বাসের মধ্যে কন্ডাক্টর হৃদয় ও হেলপার পারভেজ ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় পারভেজকে হৃদয়ের পকেট থেকে টাকা চুরির ঘটনা দেখে ফেলে ফেরদৌস।

এসআই সামিউল ইসলাম বলেন, পরে ঘুম ভাঙলে পকেট থেকে ৫০০ টাকা খোয়া যাওয়ার বিষয়টি টের পান হৃদয়। এ নিয়ে তিন জনের মধ্যে কথাকাটাকাটির জেরে পারভেজকে টাকা চুরি করতে দেখে ফেলের কথা জানায় ফেরদৌস। একপর্যায়ে পারভেজকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন হৃদয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পারভেজ ফেরদৌসকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

পারভেজ ও হৃদয় মিলে নিহত ফেরদৌসের মরদেহ সড়কে ফেলে রেখে সাভার হাইওয়ে পুলিশকে দুর্ঘটনার খবর দেন বলে জানায় পুলিশ।

পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

দুর্ঘটনায় নিহতের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন না পাওয়ায় বিষয়টি আশুলিয়া থানা পুলিশকে অবহিত করে সাভার হাইওয়ে পুলিশ। এ সময় হৃদয়কে আটক করা গেলেও পারভেজ পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন:
‘তাড়া খেয়ে’ প্রাণ গেল নীলগাইয়ের
এবার টাঙ্গাইলে দেখা মিলল নীলগাইয়ের
নীলগাইটি থাকবে জাদুঘরে
পঞ্চগড়ে মৃত নীলগাই উদ্ধার
নীলগাইটি এখন দিনাজপুর উদ্যানে

শেয়ার করুন

দৌলতদিয়া ঘাটে ৩ কিলোমিটার যানজট

দৌলতদিয়া ঘাটে ৩ কিলোমিটার যানজট

দৌলতদিয়া ঘাটে তিন কিলোমিটার যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন জানান, ছোট বড় মিলে এই রুটে ১৯টি ফেরি চলাচল করছে। দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটে ড্রেজিং কাজ এবং শিমুলিয়া বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় এই যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে কাজ করছে ঘাট কর্তৃৃপক্ষ।

বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌরুটে আবারও ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এতে ঘাটে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পারের অপেক্ষায় রয়েছে কয়েকশ যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক।

সোমবার ভোরে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত পণ্যবাহী ট্রাক ও বাসের দীর্ঘ সারি। ফেরি পার হতে তিন থেকে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘাট এলাকায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন চালক ও যাত্রীরা।

দৌলতদিয়া ঘাটে ৩ কিলোমিটার যানজট

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ এবং ঘাটে ড্রেজিং কাজ চলায় এই যানজট সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তপক্ষ। তবে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস ও কাঁচামালবাহী ট্রাকগুলোে আগে পারাপার করা হচ্ছে।

দীর্ঘ জট থাকায় ঘাট পার হতে কয়েকগুণ বেশি সময় লাগছে। এতে ভ্যাপসা গরমে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন পারাপারের অপেক্ষায় থাকা চালক ও যাত্রীরা।

খুলনা থেকে ঢাকাগামী যাত্রী রাশেদ কবির বলেন, ‘সকাল থেকে ঘাটে আটকে আছি। প্রায় দুই ঘণ্টা হয়ে গেল এখনও ঘাটের দেখা পাইনি। তার ওপর সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। সব কিছু মিলে এই ভোগান্তি আর ভালো লাগছে না।’

দৌলতদিয়া ঘাটে ৩ কিলোমিটার যানজট

কমফোর্ট পরিবহণের যাত্রী শরীফ বলেন, ‘সকালে এসে পারের জন্য দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বসে আছি। এতো সময় জ্যামে আটকে থেকে আর ভালো লাগছে না। আমাদের ভোগান্তি শেষ হবে কবে তাও জানিনা।’

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন জানান, ছোট বড় মিলে এই রুটে ১৯টি ফেরি চলাচল করছে। দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটে ড্রেজিং কাজ এবং শিমুলিয়া বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় এই যানজট সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে কাজ করছে ঘাট কর্তৃৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:
‘তাড়া খেয়ে’ প্রাণ গেল নীলগাইয়ের
এবার টাঙ্গাইলে দেখা মিলল নীলগাইয়ের
নীলগাইটি থাকবে জাদুঘরে
পঞ্চগড়ে মৃত নীলগাই উদ্ধার
নীলগাইটি এখন দিনাজপুর উদ্যানে

শেয়ার করুন

গ্রেপ্তার এড়াতে ‘বিষপানে আত্মহত্যা’

গ্রেপ্তার এড়াতে ‘বিষপানে আত্মহত্যা’

পুলিশ বলছে, রবিউল ও তার ছেলে নয়ন ভেজাল সার ও কীটনাশকের ব্যবসা করেন। ৯৯৯ এ খবর পেয়ে তাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভেজাল সারের বস্তা জব্দ করার পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানাসহ নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর পালিয়ে যান রবিউল।

বিষপানে চুয়াডাঙ্গার সদরের এক কীটনাশক ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, বাড়িতে ভেজাল সার মজুদ এবং বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি এই পথ বেছে নেন।

কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে রোববার রাত ১১টার দিকে রবিউল ইসলাম নামে ওই কীটনাশক বিক্রেতার মৃত্যু হয়। ওই দিন সকালেই নিজ বাড়িতে বিষপান করেন তিনি।

রবিউল ও তার ছেলে নয়ন আলী ভেজাল সার ও কীটনাশক বিক্রি করছেন, রোববার সকালে ৯৯৯ ফোন দিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান এক কৃষক।

এরপর রবিউল ও নয়নদের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় নয়নকে গ্রেপ্তার করা হলেও পালিয়ে যান রবিউল।

বাবা-ছেলের ভেজাল সার-কীটনাশকের ব্যবসার খবরে এলাকার অনেক কৃষক বিক্ষোব্ধ হয়ে ওঠেন। এর মধ্যেই আসে পলাতক রবিউলের আত্মহত্যার খবর।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন।

তিনি জানান, রোববার ভোরে নয়ন ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে সরকারি বস্তায় করে ৭৩ বস্তা ভেজাল টিএসপি সার বিক্রির জন্য বাড়িতে নিয়ে আসেন। বিএডিসির লোগো থাকা বস্তাগুলোও নকল। নয়ন গোয়াল ঘরে সারের বস্তাগুলো রাখার সময় দেখতে পেয়ে জরুরি পরিষেবা ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান এক কৃষক।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভেজাল সারের বস্তাগুলো জব্দ করে। বিকেলে ভেজাল সার মজুদ ও বিক্রির অপরাধে নয়নকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর এ সময় পালিয়ে যান রবিউল।

স্থানীয়রা জানান, বাবা-ছেলে দুজন মিলে স্যার ও কীটনাশক ব্যবসা করতেন। ভেজাল সারের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে রবিউলের উপর ক্ষুব্ধ হন এলাকাবাসী। পরে সম্মান বাঁচাতে ও গ্রেপ্তার এড়াতে রবিউল বিষপান করেন।

বিষপানের পর রবিউলকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান।

ওসি আরও জানান, ওই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

আরও পড়ুন:
‘তাড়া খেয়ে’ প্রাণ গেল নীলগাইয়ের
এবার টাঙ্গাইলে দেখা মিলল নীলগাইয়ের
নীলগাইটি থাকবে জাদুঘরে
পঞ্চগড়ে মৃত নীলগাই উদ্ধার
নীলগাইটি এখন দিনাজপুর উদ্যানে

শেয়ার করুন

সংঘর্ষে জড়ানোয় ১২ ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কার চবির

সংঘর্ষে জড়ানোয় ১২ ছাত্রলীগ কর্মীকে বহিষ্কার চবির

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয় পুলিশ। ছবি: নিউজবাংলা

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, গত কয়েকদিনের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য যাছাই বাছাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অফ হেলথ, রেসিডেন্স, অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় ১২ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদের মধ্যে অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করার অভিযোগে দুই জনকে এক বছর ও বাকিদের ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় গ্রুপের ১২ নেতাকর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ, রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় রোববার রাতে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে নিউজবাংলাকে জানান প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া।

সভায় উভয় গ্রুপ থেকে দুই জনকে ১ বছর করে এবং ১০ জনকে ছয় মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

এদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপুর নেতৃত্বাধীন ‘সিক্সটি নাইন’ গ্রুপের ৬ জনকে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের নেতৃত্বাধীন ‘সিএফসি’ গ্রুপের ৬ জন কর্মী রয়েছেন।

’সিক্সটি নাইন’ গ্রুপের বহিষ্কৃতরা হলেন, ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের মো. নাঈম, একই শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের সাইফুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের আশরাফুল আলম নায়েম, একই শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের আকিব জাভেদ, ইতিহাস বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের জুনায়েদ হোসেন জয় ও অর্থনীতি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের ফরহাদ।

এদের মধ্যে আশরাফুল আলম নায়েমকে এক বছর ও বাকিদের ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

‘সিএফসি’ গ্রুপের বহিষ্কৃতরা হলেন, আইন বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের মির্জা খবির সাদাফ, একই বিভাগের ১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের খালেদ মাসুদ, লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের অহিদুজামান সরকার, সমাজতত্ত্ব বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের আরিফুল ইসলাম, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের তানজিল হোসেন ও আরবি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের তৌহিদ ইসলাম।

তাদের মধ্যে সাদাফকে এক বছর ও বাকিদের ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, গত কয়েকদিনের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য যাছাই বাছাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অফ হেলথ, রেসিডেন্স, অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় ১২ জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এদের মধ্যে অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করার অভিযোগে দুই জনকে এক বছর ও বাকিদের ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বহিষ্কারের মেয়াদ রোববার থেকেই কার্যকর হবে৷ এ সময় বৃহষ্কৃতরা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলে অবস্থান করতে পারবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের শিহাব আরমান মানিক নামে ‘সিক্সটি নাইন’ গ্রুপের এক কর্মীকে মারধর করেন ‘সিএফসি’ গ্রুপের কর্মীরা। এ নিয়ে সেদিন রাতেই দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। পরে প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

তারা জানান, মারধরের ওই ঘটনার জেরে শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে সিএফসির কনিষ্ঠ কর্মীরা শাহ আমানত হলে ঢুকতে গেলে সিক্সটি নাইন গ্রুপের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা করেন। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সিক্সটি নাইন গ্রুপের তিনজন এবং সিএফসি গ্রুপের একজন আহত হন।

ওই ঘটনার জেরেই রোববার বিকেলে ফের সংঘর্ষে জড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এই দুই গ্রুপ। এতে দুইজন আহত হন।

আরও পড়ুন:
‘তাড়া খেয়ে’ প্রাণ গেল নীলগাইয়ের
এবার টাঙ্গাইলে দেখা মিলল নীলগাইয়ের
নীলগাইটি থাকবে জাদুঘরে
পঞ্চগড়ে মৃত নীলগাই উদ্ধার
নীলগাইটি এখন দিনাজপুর উদ্যানে

শেয়ার করুন