× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

জীবনযাপন
10 thousand steps is not necessary for good health
google_news print-icon

সুস্বাস্থ্যের জন্য ‘১০ হাজার স্টেপস’ জরুরি নয়

সুস্বাস্থ্যের-জন্য-১০-হাজার-স্টেপস-জরুরি-নয়
জাপানের টোকিওতে সকালে হেঁটে অফিসে যাচ্ছেন কর্মজীবীরা। ছবি: এএফপি
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে অন্তত সাত হাজার পদক্ষেপ হেঁটেছেন তাদের অল্প বয়সে মৃত্যু ঝুঁকি, যারা সাত হাজার পদক্ষেপ হাঁটেননি তাদের চেয়ে ৫০ থেকে ৭০ ভাগ কম। আরও দেখা গেছে, মৃত্যুর হার বাড়া-কমার সঙ্গে কত জোরে হাঁটা হয়েছে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

শরীরচর্চার অংশ হিসেবে প্রচলিত মত হলো, দিনে ১০ হাজার স্টেপ বা পদক্ষেপ স্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ। এমন ভাবনার পেছনে কিছু তথ্য-প্রমাণও আছে।

তবে এক গবেষণায় দেখা গেছে, মৃত্যুঝুঁকি কমাতে হাঁটার গুরুত্ব থাকলেও, দিনে সেটি ১০ হাজার স্টেপ হতে হবে, এমন কোনো বাঁধাধরা নিয়ম নেই। প্রতিদিন সাত হাজার পদক্ষেপই দেহের সুস্থতা নিশ্চিত করতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাসাচুসেটসের শারীরিক কর্মক্ষমতা সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ অ্যামান্ডা পালুচ ও তার দল দেশটির বিভিন্ন শহরে দুই হাজার মধ্যবয়সী নারী-পুরুষের ওপর গবেষণাটি চালান।

গ্রুপের সদস্যদের গড় বয়স ৪৫ বছরের কিছুটা বেশি। প্রতিদিনের হাঁটাচলার নিঁখুত পরিমাপ নিতে তাদের পরানো হয় অ্যাক্সেলেরোমিটার।

২০০৫ সালে গবেষণাটি শুরু হওয়ার পর নিয়মিত বিরতিতে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে মারা গেছেন ৭২ জন।

হাঁটা (বা না হাঁটা) কীভাবে মানুষের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে সেটি বের করার চেষ্টা করেছেন গবেষকেরা। এতে দেখা গেছে, যারা দিনে অন্তত সাত হাজার পদক্ষেপ হেঁটেছেন তাদের অল্প বয়সে মৃত্যু ঝুঁকি, যারা সাত হাজার পদক্ষেপ হাঁটেননি তাদের চেয়ে ৫০ থেকে ৭০ ভাগ কম।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মৃত্যুর হার বাড়া-কমার সঙ্গে কত জোরে হাঁটা হয়েছে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

গবেষকদের মতে, দৈনিক হাঁটাচলার পরিমাণ বৃদ্ধি মৃত্যুহারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা দিতে পারে। তবে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার পর বাড়তি পদক্ষেপ বিশেষ কোনো সুবিধা দেয় না।

গবেষক দলটি বলছে, প্রতিদিন ১০ হাজার পদক্ষেপের বেশি হাঁটার সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি কমিয়ে দেয়ার কোনো যোগাযোগ নেই।

হেলথডে নিউজকে পালুচ বলেন, ‘প্রতিদিনের পদক্ষেপ একটি সাধারণ ও সহজ পদ্ধতি। আর প্রতিদিন বেশি হাঁটা সুস্বাস্থ্যের জন্যও ভালো। যারা প্রতিদিন ১০ হাজার পদক্ষেপ হাঁটতে পারেন না তারা সাত হাজার পদক্ষেপ নিতে পারেন।’

তবে গবেষকেরা একই সঙ্গে মনে করছেন সাত হাজার পদক্ষেপ কোনো জাদুকরী সংখ্যা নয়; অবস্থা ভেদে সংখ্যাটি বদলাতে পারে।

বস্টন ইউনিভার্সিটির শারীরিক কর্মক্ষমতা সংক্রান্ত গবেষক নিকোল স্পার্টানোর বলেন, ‘প্রতিদিন হাঁটা কীভাবে স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে সে সম্পর্কে অদূর ভবিষ্যতে আমরা আরও জানতে পারব। এটা সম্ভব হয়েছে আধুনিক অ্যাক্সেলেরোমিটার প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে। এই প্রযুক্তি ২০০৫ সালে ছিল না।’

আরও পড়ুন:
রাজশাহীর সব ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকের নিবন্ধন মেয়াদোত্তীর্ণ
করোনায় সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী
মানসিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

মন্তব্য

আরও পড়ুন

জীবনযাপন
Anemia in women causes symptoms and treatment

নারীদের রক্তশূন্যতা: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার

নারীদের রক্তশূন্যতা: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার নারীদের দেহে রক্তশূন্যতার বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে নারীদের গর্ভাবস্থায় আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতার হার সবচেয়ে বেশি। এই রক্তশূন্যতার কারণে গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু হতে পারে।

রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে গেলে রক্তশূন্যতা ধরা হয়। চিকিৎসা শাস্ত্রে একে বলা হয় অ্যানিমিয়া। হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সরবরাহ করা। হিমোগ্লোবিন রক্তের লোহিত কণিকায় থাকে।

পুরুষদের ক্ষেত্রে রক্তে স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিনের মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ১৪ থেকে ১৭ গ্রাম। নারীদের ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৫ গ্রাম। এ মাত্রা কমে নারী ও পুরুষ উভয়ের রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে।

রক্তশূন্যতা কেন হয়, বিশেষত নারীরা কেন এ ধরনের সমস্যায় ভোগেন, সে বিষয়ে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও হেমাটোলজিস্ট মনিরুল ইসলাম।

রক্তশূন্যতা কেন হয়

বিভিন্ন কারণেই রক্তশূন্যতা হতে পারে। রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরির অন্যতম প্রধান উপাদান হলো আয়রন। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া হতে পারে। একে বলে ‘আয়রন ডেফিসিয়েন্সি এনিমিয়া’। এ ছাড়া ভিটামিন-বি ও ফলিক অ্যাসিডের অভাব, দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ কিছু রোগ, যেমন: কিডনি বিকল হয়ে যাওয়া, যক্ষা, ব্লাড ক্যানসার, থ্যালাসেমিয়া, রক্তক্ষরণ ইত্যাদি কারণে রক্তশূন্যতা হতে পারে।

আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতার হারই সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে। নারীদের মধ্যে এর হার বেশি।

বাংলাদেশে নারীদের গর্ভাবস্থায় আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তশূন্যতার হার সবচেয়ে বেশি। এই রক্তশূন্যতার কারণে গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু হতে পারে।

আয়রনের ঘাটতির কারণ

সাধারণত অপুষ্টির কারণে আয়রনের ঘাটতি হয়। খাদ্যে পর্যাপ্ত আয়রন না থাকলে এ অভাব দেখা দেয়। গর্ভাবস্থায় নারীদের বাড়তি আয়রনের প্রয়োজন, কিন্তু দেখা যায় আমাদের দেশে গর্ভবতী মায়েরা অনেক ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগ পান না।

আরও একটি কারণে নারীরা আয়রনের ঘাটতিতে ভোগেন। সেটি হলো ঋতুস্রাবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ। আবার দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষরণ হলেও আয়রনের ঘাটতি দেখা দেয়। পেপটিক আলসার, পাইলসের মতো জটিলতার কারণেও আয়রনের ঘাটতি হয়ে রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে।

লক্ষণ

  • চোখ-মুখ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
  • দুর্বল লাগা
  • মাথা ঘোরা
  • বুক ধড়ফড় করা
  • মাথাব্যথা
  • বমি বমি ভাব
  • চোখে ঝাপসা দেখা, মুখে ঘা
  • রক্তশূন্যতার মাত্রা তীব্র হলে শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ লাগা। এমনকি হার্ট ফেইলিউরও হতে পারে।

সিবিসি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) পরীক্ষা করলেই রক্তশূন্যতা আছে কি না বোঝা যায়।

প্রতিকার

অ্যানিমিয়া প্রতিকারের মুলমন্ত্র খাবারে নিহিত। আপনি যদি রক্তশূন্যতায় ভোগেন, তাহলে সবার আগে নজর দেবেন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়। আর চেষ্টা করতে হবে অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর প্রতিকার না খুঁজে আগেই প্রতিরোধ করার। কারণ একবার কোনো রোগ হয়ে গেলে তা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া কষ্টকর। আর গর্ভবতী মায়েদের সঠিক নিয়মে খাওয়া-দাওয়া আরও বেশি জরুরি। তা না হলে তিনি ও তার অনাগত সন্তান উভয়ের ওপরই প্রভাব পড়বে।

রক্তশূন্যতায় কী কারণে আয়রনের ঘাটতি হলো তা আগে জানতে হবে।

সাপ্লিমেন্ট হিসেবে আয়রন ট্যাবলেট খেতে হবে। এ ছাড়া আয়রনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন: কচুশাক, ডাঁটাশাক, পালং শাক, শিম ও শিমের বিচি, কাঁচা কলা, সামুদ্রিক মাছ, কলিজা, গরু-খাসির মাংসে প্রচুর আয়রন থাকে।

বাংলাদেশের নারীদের বিশেষ করে গর্ভকালীন একটা বড় সমস্যা রক্তশূন্যতা। একটু সচেতন হলেই এর সমাধান সম্ভব।

আরও পড়ুন:
উচ্চ রক্তচাপের মূল বটিকা সচেতনতা
সংকটে ব্যাহত নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন
সাড়ে ৯ লাখ ব্যাগ রক্ত সরবরাহ করেছে ‘বাঁধন’
দেশে ৫ জনের ১ জন উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত
স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন ‘কণিকার’ নতুন কমিটি

মন্তব্য

জীবনযাপন
Things to keep in mind for pregnant mothers while fasting

গর্ভবতী মায়েরা রোজার ক্ষেত্রে যেগুলো বিবেচনায় রাখবেন

গর্ভবতী মায়েরা রোজার ক্ষেত্রে যেগুলো বিবেচনায় রাখবেন রোজা রাখার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় খেয়াল করতে হয় গর্ভবতী মায়ের। ছবি: সংগৃহীত
‘প্রথম তিন মাসের পর দ্বিতীয় তিন মাস, অর্থাৎ চার থেকে সাত মাস। এই সময়টায় একটা গর্ভের সন্তান আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। কাজেই এই সময়ে মায়ের পুষ্টি বাচ্চার গ্রোথের জন্য খুবই জরুরি। যদি কোনো মায়ের আল্ট্রাসাউন্ডে দেখা যায়, বাচ্চার গ্রোথ তুলনামূলক কম হচ্ছে কিংবা মায়ের ওজন পরপর দুই মাসের চেকআপে এতটুকু বাড়েনি কিংবা তার খাবারের রুচি একেবারেই নেই, এ ধরনের মায়ের ক্ষেত্রে রোজা রাখাটা জরুরি নয়।’

সিয়াম সাধনার মাস রমজানে অন্য অনেকের মতো রোজা রাখতে চান গর্ভবতী নারীরা। এ ক্ষেত্রে তাদের করণীয়গুলো এক ভিডিওতে তুলে ধরেছেন গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ডা. কাজী ফয়েজা আক্তার, যেটি তার ভাষায় পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা হলো।

১. এটা অত্যন্ত কমন একটি প্রশ্ন যে, একজন মা যিনি গর্ভবতী বা প্রেগন্যান্ট, সে রমজানে রোজা রাখবে কি না। সবার প্রথমে আমি যে কথাটি বলতে চাই, তা হলো প্রেগন্যান্সি কোনো রোগ না। প্রেগন্যান্সি কোনো অসুস্থতা না। আমি এ কথাটা সবসময় বলি, সবাইকে বলি। একটা মেয়ে যেমন স্বাভাবিকভাবে বড় হবে, তেমনই কিন্তু সে তার লাইফের একটা স্টেজে এসে প্রেগন্যান্ট হবে, এটাই স্বাভাবিক। একজন অসুস্থ ব্যক্তির জন্যই শুধু রোজার মাফ আছে। তাহলে প্রেগন্যান্সিতে রোজা রাখা যাবে। তার মানে যদি অসুস্থতা হতো প্রেগন্যান্সি, তাহলে সে রোজার মাফ পেত। আদারওয়াইজ রোজার মাফ কিন্তু সে পাবে না।

২. এখন এ কথাটা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যাদের প্রেগন্যান্সি পিরিয়ডটা একদমই স্বাভাবিক কাটছে, কিন্তু কিছু কিছু কন্ডিশনে রোজা রাখাটা বিবেচনা সাপেক্ষ। যেমন: কোনো মায়ের হয়তো বা প্রথম তিন মাসের মধ্যে রমজান মাস এলো। তার প্রচণ্ড বমি পাচ্ছে এবং দিনে সে কয়েকবার বমি করছে। বমি করার কারণে সে পেটে কিছুই রাখতে পারছে না। এমনকি তার ওজন তুলনামূলক কমেও গেছে। তার শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে। এ ধরনের কন্ডিশনে তার রোজা রাখা জরুরি নয়।

৩. প্রথম তিন মাসের পর দ্বিতীয় তিন মাস, অর্থাৎ চার থেকে সাত মাস। এই সময়টায় একটা গর্ভের সন্তান আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। কাজেই এই সময়ে মায়ের পুষ্টি বাচ্চার গ্রোথের জন্য খুবই জরুরি। যদি কোনো মায়ের আল্ট্রাসাউন্ডে দেখা যায়, বাচ্চার গ্রোথ তুলনামূলক কম হচ্ছে কিংবা মায়ের ওজন পরপর দুই মাসের চেকআপে এতটুকু বাড়েনি কিংবা তার খাবারের রুচি একেবারেই নেই, এ ধরনের মায়ের ক্ষেত্রে রোজা রাখাটা জরুরি নয়।

৪. কিছু কিছু কন্ডিশন আছে, যা প্রেগন্যান্সিতে কোনো কোনো মা ডেভেলপ করেন, যেমন: আনকন্ট্রোলড ডায়াবেটিস, আনকন্ট্রোলড হাইপারটেনশন, রক্তশূন্যতা। যদি এমন হয় তার ডায়াবেটিস ইনসুলিন নিয়েও কোনোভাবে কন্ট্রোল করা যাবে না, তার হাই ব্লাড প্রেশার, তিন-চার বেলা করে ওষুধ খেয়েও কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না, তার রক্তশূন্যতা এত বেশি যে, তাকে তিন বেলা আয়রনজাতীয় খাবার বেশি খেতে হচ্ছে, সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই রোজা রাখাটা বিবেচনাসাপেক্ষ। এ ধরনের কন্ডিশন যদি কারও থাকে, অবশ্যই তার রেগুলার ডক্টরের সাথে কথা বলে নেবে যে, তার জন্য রোজাটা কতটা জরুরি।

৫. রোজা রাখার পর যদি কোনো মা এমন বোধ করেন, হঠাৎ তার প্রচণ্ড বমি হচ্ছে, হঠাৎ সে চারদিকে অন্ধকার দেখে বসে পড়ল কিংবা তার ব্লাড সুগার ফল করেছে, এ ধরনের বিভিন্ন কন্ডিশনে তিনি চাইলে রোজা ভেঙেও ফেলতে পারেন।

সারকথা

রোজা একজন মুসলিম নারী রাখবেন কি রাখবেন না, সেটা বলার আমি কেউই না। আমার কাছে অনেকেই জানতে চায় যে, আপনি বলেন রাখব কি রাখব না। সত্যি কথা বলতে তোমাদের রোজা তোমার রাখবে কি রাখবে না, এই ডিসিশনটা দেয়ার আমি কেউই না, তবে এতটুকু আমি বুঝি যে, আল্লাহতায়ালা যারা অসুস্থ, তাদের রোজার ব্যাপারে শিথিলতা দিয়েছেন এবং আল্লাহ আমাদেরকে কখনোই যতটুকু আমরা পারব, তার চেয়ে বেশি লোড দেন না। কাজেই আমরা যতটুকু কাজ করতে পারব বা যতটুকু রোজা রাখলে আমার বা আমার গর্ভের সন্তানের কোনো ক্ষতি হবে না, ততটুকুই আমার জন্য জরুরি।

আরও পড়ুন:
১৭ ঘণ্টা রোজা রাখতে হবে যেসব দেশে
রমজানে ১০ টাকা লিটারে দুধ বিক্রি করছেন এরশাদ
রোজা ভঙ্গের কারণ
ফেসবুকে পণ্যের দাম কমিয়ে বিজ্ঞাপন, রোজায় স্বস্তি ক্রেতাদের
বিভিন্ন ভাষায় রমজানের শুভেচ্ছা

মন্তব্য

জীবনযাপন
7 ways to avoid dehydration during fasting

রোজায় পানিশূন্যতা এড়ানোর ৭টি উপায়

রোজায় পানিশূন্যতা এড়ানোর ৭টি উপায় রোজায় পানিশূন্যতা এড়াতে ইফতার ও সেহরির মধ্যবর্তী সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল পান করতে হবে। ছবি: সংগৃহীত
‘ইফতারে উচ্চ মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এ ধরনের খাবার শরীরে পানির চাহিদা বাড়ায়। এ ছাড়া সালাদ ও তরকারিতে লবণ কম দেয়া উচিত। বেশি পরিমাণে লবণ খেলে বাড়তে পারে তৃষ্ণা।’

সিয়াম সাধনার মাস রমজানে ভোররাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাবারের পাশাপাশি পানি পান থেকে বিরত থাকেন মুসলিমরা। রোজা শীতকালে হলে তৃষ্ণার অনভূতি কম হয়, তবে গ্রীষ্মকালে রোজায় দেহে পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা থেকে হতে পারে অবসাদ ও বমি বমি ভাব।

কাতারের প্রধান অলাভজনক স্বাস্থ্যসেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হামাদ মেডিক্যাল করপোরেশন জানিয়েছে, সাধারণত শিশু, প্রাপ্তবয়স্ক, ডায়াবেটিস, কিডনি বা অন্যান্য দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত কিংবা সূর্যের নিচে শারীরিক ব্যায়াম করা লোকজন পানিশূন্যতার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন।

রোজায় পানিশূন্যতা এড়াতে করণীয়

হামাদ মেডিক্যাল করপোরেশন পানিশূন্যতা এড়াতে সাতটি পরামর্শ দিয়েছে।

১. ইফতার ও সেহরির মধ্যবর্তী সময়ে আট থেকে ১২ কাপ পানি পান করুন। ঠান্ডা পানির তুলনায় দ্রুত শোষণ হয় বলে কুসুম গরম পানি পান করা যেতে পারে।

২. রোজায় পানিশূন্যতা এড়াতে প্রতিদিন স্যুপ খেতে পারেন। শরীরে তরলের চাহিদা পূরণের ভালো উৎস হতে পারে খাবারটি।

৩. তরমুজ, টমেটো, শসা, আঙুরের মতো ফল ও সবজিতে অনেক পানি থাকে, যা তৃষ্ণা কমাতে সাহায্য করে।

৪. ইফতারে উচ্চ মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এ ধরনের খাবার শরীরে পানির চাহিদা বাড়ায়। এ ছাড়া সালাদ ও তরকারিতে লবণ কম দেয়া উচিত। বেশি পরিমাণে লবণ খেলে বাড়তে পারে তৃষ্ণা।

৫. গবেষণায় দেখা যায়, প্রচুর চিনি থাকায় মিষ্টিজাতীয় খাবার খেলে তৃষ্ণা বাড়ে। এর পরিবর্তে ফল খেতে পারেন, যা দেহে তরলের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তৃষ্ণাও মেটায়।

৬. ক্যাফেইন শরীরের তরল শুষে নিয়ে তৃষ্ণা বাড়ায়। এ কারণে রমজানে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। এ ধরনের পানীয়র মধ্যে এনার্জি ও কার্বনযুক্ত পানীয়, চা ও কফি রয়েছে। ধূমপান মুখকে শুষ্ক করে তৃষ্ণা বাড়ায়। এ কারণে ধূমপানও এড়িয়ে চলুন।

৭. গরমের দিনে সূর্যতাপে ব্যায়াম করলে প্রচুর পরিমাণে পানি পানের চাহিদা তৈরি হয়। এ কারণে রোজায় ব্যায়ামের সবচেয়ে ভালো সময় হলো ইফতারের পর। কারণ ইফতারের মধ্য দিয়ে শরীর পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানীয়র মাধ্যমে শক্তি পায়। রোজা ভেঙে ব্যায়াম করলে শরীর থেকে ঝরে যাওয়া তরলের চাহিদা পূরণের জন্যও পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:
রমজানে ১০ টাকা লিটারে দুধ বিক্রি করছেন এরশাদ
রোজা ভঙ্গের কারণ
ফেসবুকে পণ্যের দাম কমিয়ে বিজ্ঞাপন, রোজায় স্বস্তি ক্রেতাদের
বিভিন্ন ভাষায় রমজানের শুভেচ্ছা
রোজার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা, যা ঘটে শরীরে

মন্তব্য

জীবনযাপন
Quick Recipe of Lachir for Diabetics on Fasting

রোজায় ডায়াবেটিস রোগীদের লাচ্ছির কুইক রেসিপি

রোজায় ডায়াবেটিস রোগীদের লাচ্ছির কুইক রেসিপি রোজায় টক দই দিয়ে সহজেই লাচ্ছি তৈরি করা যায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য। ছবি: সংগৃহীত
রোজায় লাচ্ছি খেতে ইচ্ছুক ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব সহজেই পানীয়টি তৈরি করা যায়।

সিয়াম সাধনার মাস রমজানে অন্য অনেকের মতো রোজা রাখেন ডায়াবেটিস রোগীরা। এ ক্ষেত্রে মাসজুড়ে খাবারের পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়ে তাদের সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। সতর্কতার সঙ্গে খাদ্যগ্রহণ কিংবা চলাচল করলে তারা অনেক বিপদের ঝুঁকি কমাতে পারেন।

রোজায় লাচ্ছি খেতে ইচ্ছুক ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কীভাবে পানীয়টি তৈরি করতে হয়, তা তুলে ধরা হয়েছে বিটিভির এক অনুষ্ঠানে। এ প্রক্রিয়ায় খুব সহজেই লাচ্ছি বানানো যাবে।

উপকরণ

তিনটি খেজুর ও দুই টেবিল চামচ টক দই।

প্রস্তুত প্রণালি

খেজুর কুচি ও টক দই একসাথে মিশিয়ে ব্লেন্ডারে নিয়ে তাতে কিছু বরফকুচি ও অল্প পরিমাণ পানি দিন। এবার ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে পরিবেশন করুন।

আরও পড়ুন:
রোজা ভঙ্গের কারণ
ফেসবুকে পণ্যের দাম কমিয়ে বিজ্ঞাপন, রোজায় স্বস্তি ক্রেতাদের
বিভিন্ন ভাষায় রমজানের শুভেচ্ছা
রোজার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা, যা ঘটে শরীরে
রমজানে বেশি দাম নিলে দোকান বন্ধের হুঁশিয়ারি মেয়র আতিকের

মন্তব্য

জীবনযাপন
Institutional practice of government doctors started on March 30

সরকারি চিকিৎসকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্র্যাকটিস শুরু ৩০ মার্চ

সরকারি চিকিৎসকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্র্যাকটিস শুরু ৩০ মার্চ  সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর জন্য অপেক্ষমান ব্যক্তিরা। ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি চিকিৎসকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্র্যাকটিস আগামী ৩০ মার্চ থেকে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে শুরু করা হবে।’

সরকারি চিকিৎসকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্র্যাকটিস আগামী ৩০ মার্চ থেকে শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

সরকারি চিকিৎসকদের বৈকালিক স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি চিকিৎসকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্র্যাকটিস আগামী ৩০ মার্চ থেকে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে শুরু করা হবে।

‘প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলা হাসপাতাল এবং ২০টি উপজেলা হাসপাতালে এ কার্যক্রম শুরু হবে। কার্যক্রমের আওতায় বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা দিবেন চিকিৎসকরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসকরা সপ্তাহে দুইদিন করে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের আওতায় রোগী দেখবেন। প্রাইভেট প্র্যাকটিসের আওতায় রোগী দেখাতে অধ্যাপককে ৫০০ টাকা, সহযোগী অধ্যাপককে ৪০০ টাকা, সহকারী অধ্যাপককে ৩০০ টাকা এবং অন্য চিকিৎসককে ২০০ টাকা করে ফি দিতে হবে।

‘এসব ফি থেকে অধ্যাপকরা ৪০০ টাকা, সহযোগী অধ্যাপক ৩০০ টাকা সহকারী অধ্যাপক ২০০ টাকা এবং অন্যান্য চিকিৎসকরা ১৫০ টাকা করে পাবেন। বাকি টাকা সার্ভিস চার্জ বাবদ কাটা হবে এবং চিকিৎসকদের সহায়তাকারীরা পাবেন।’

আরও পড়ুন:
বিশৃঙ্খলাকারীদের ছাড় নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসার সঙ্গে যাতায়াতের খরচও পাবে ৬০ লাখ মানুষ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিপাহ ভাইরাসের চিকিৎসা নেই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
শেখ হাসিনা ক্ষমতায় যতদিন, উন্নয়নও ততদিন: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক কিনলে শাস্তি

মন্তব্য

জীবনযাপন
Types of headache causes and remedies

মাথাব্যথার ধরন, কারণ ও দূর করার উপায়

মাথাব্যথার ধরন, কারণ ও দূর করার উপায় মাথাব্যথার রয়েছে অনেক ধরন। ছবি: সংগৃহীত
“মাইগ্রেনে হেডেকটা হয় মাথার এক দিকে। রোগীরা সাধারণত বলে ‘ধব ধব’ করে এবং ব্যথা ‍শুরুর আগে পেশেন্ট বুঝতে পারেন। কারণ অনেক সময় তিনি আলোকচ্ছ্বটা দেখতে পান চোখে এবং যখন ব্যথাটা ওঠে, তখন সাধারণত পেশেন্ট প্রেফার করে কোনো অন্ধকার, কাম অ্যান্ড নয়েজ ফ্রি একটা এনভায়রনমেন্টে থাকার জন্য।”

জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে আমরা মাথাব্যথার শিকার হই। কেউ কেউ প্রায়ই এ সমস্যায় ভোগেন। এক ভিডিওতে এ সমস্যার ধরন, কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার নিয়ে কথা বলেছেন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. নওসাবাহ্ নূর। পরামর্শগুলো তার ভাষায় তুলে ধরা হলো পাঠকদের সামনে।

ধরন

আমাদের মধ্যে এমন কেউ হয়তো নেই, যার জীবনে কখনও মাথাব্যথা হয়নি। আবার এমন অনেকে আছেন, যাদের মাথাব্যথা থেকে জীবন আজ হুমকির পথে। এ জন্য আমাদের সবার মাথাব্যথা সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু ধারণা থাকা প্রয়োজন।

মাথাব্যথা অনেক রকমের হয়ে থাকে। আজকে আমি ভিডিওতে অনেক ধরনের মাথাব্যথা সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু ধারণা দেব এবং সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ যেটা সেটা হলো মাথাব্যথার সাথে কী কী উপসর্গ বা ওয়ার্নিং সাইন থাকলে দেরি না করে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে চলে যাবেন। প্রথমেই আসি আমরা ডাক্তাররা মাথাব্যথাকে কীভাবে ক্লাসিফাই বা শ্রেণিবিভাগ করি।

যখনই কোনো রোগী আমাদের কাছে আসেন, তখন আমরা মাথাব্যথার সব হিস্ট্রি নিয়ে আসেন, আমরা দুই ভাগে সাধারণত ভাগ করার চেষ্টা করি। এক হলো প্রাইমারি হেডেক, আরেক হলো সেকেন্ডারি হেডেক। এই ক্লাসিফিকেশন (শ্রেণিকরণ) কেন জরুরি? কারণ প্রাইমারি হেডেকে কোনো ইনভেস্টিগেশন, যেমন: সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করার কোনো প্রয়োজন নেই এবং সেকেন্ডোরি হেডেকে এই ইনভেস্টিগেশন করাটা খুবই আর্জেন্ট।

প্রাইমারি হেডেক বা মাথাব্যথার প্রাথমিক ধরন

প্রাইমারি হেডেক অনেক রকমের হয়ে থাকে। আমি মূলত তিন রকমের হেডেক নিয়ে কথা বলব, যেগুলো সবচেয়ে কমন।

১. টেনশন হেডেক

২. মাইগ্রেন

৩. ক্লাস্টার হেডেক

টেনশন হেডেক

প্রথমে আসি টেনশন হেডেক নিয়ে। আমরা যে বলেছিলাম, আমাদের সবার কখনও না কখনও মাথাব্যথা হয়েছে, টেনশন হেডেক মোস্ট লাইকলি (খুব সম্ভবত) আপনি সাফার করেছেন কখনও না কখনও। কারণ এটা হচ্ছে সবচেয়ে কমন টাইপ অব হেডেক।

এ মাথাব্যথাটা কেমন হয়? এ মাথাব্যথাটা ব্যান্ডের মতো সারা মাথাজুড়ে হয় এবং চাপ ধরা একটা ব্যথা থাকে। সাধারণত কাজের শেষে, দিনের শেষে আমাদের এ ব্যথাটা হয়ে থাকে। কিছু রিস্ক ফ্যাক্টরস (কারণ) আছে এ মাথাব্যথার। যেমন: আপনার ঘুম যখন কম হয়, আপনি যখন স্ট্রেসড থাকেন অথবা খাবার কোনো কারণে মিস হয়ে গেছে অথবা ডিহাইড্রেশনে ভুগছেন, তখনই হেডেকটা হয়ে থাকে। আমরা সাধারণত এটা কমানোর জন্য পেইন কিলার এবং মাসল রিলাক্সেন্ট দিয়ে থাকি।

মাইগ্রেন হেডেক

এরপর আসি মাইগ্রেন হেডেক নিয়ে। মাইগ্রেনে হেডেকটা হয় মাথার এক দিকে। রোগীরা সাধারণত বলে ‘ধব ধব’ করে এবং ব্যথা ‍শুরুর আগে পেশেন্ট বুঝতে পারেন। কারণ অনেক সময় তিনি আলোকচ্ছ্বটা দেখতে পান চোখে এবং যখন ব্যথাটা ওঠে, তখন সাধারণত পেশেন্ট প্রেফার করে কোনো অন্ধকার, কাম অ্যান্ড নয়েজ ফ্রি একটা এনভায়রনমেন্টে থাকার জন্য। এই মাথাব্যথার সাথে বমি বমি ভাব, এমনকি বমিও হতে পারে।

কিছু খাবার আছে, যেগুলো থেকে মাইগ্রেন অ্যাটাক ফ্রিকোয়েন্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যেমন: চকলেট, কফি অথবা যারা জন্মবিরতিকরণ পিল খাচ্ছেন, তাদের মাইগ্রেন হেডেক হয়ে থাকে এবং এটা কন্ট্রোল করার জন্য আমরা কী ট্রিটমেন্ট দিই?

মেইনলি দিই পেইন কিলার অথবা বমির জন্য আমরা কোনো অ্যান্টি ভমিটিং দিয়ে থাকি এবং যাদের মাসে দুইবারের বেশি অ্যাটাক হয়ে থাকে, তাদের আমরা ফারদার কিছু ট্রিটমেন্ট দিই টু প্রিভেন্ট মাইগ্রেন ফারদার অ্যাটাকস (পরবর্তী সময়ে মাইগ্রেনের ব্যথা যাতে না হয়, সে জন্য ওষুধ)।

মাইগ্রেনের ব্যথাটা যাতে ফেরত না আসে, আমরা ছয় মাসের মতো একটা চিকিৎসা দিয়ে থাকি।

ক্লাস্টার হেডেক

এরপর আসি থার্ড হেডেক, যেটা হচ্ছে ক্লাস্টার হেডেক নিয়ে। ক্লাস্টার হেডেক খুবই রেয়ার (অতি বিরল)। এটা খুব পেইনফুল একটা সিচুয়েশন। কোনো একটা চোখের চারপাশে অথবা মাথার এক পাশে হয়। খুব স্ট্যাবিং টাইপের শার্প (ছুরিকাঘাতের মতো তীক্ষ্ণ) একটা পেইন হয় এবং যখন পেইনটা হয়, তখন দিনে বেশ কয়েকটা অ্যাটাক হয়ে থাকে।

এই অ্যাটাকটা কয়েক দিন থাকার পর আবার রোগী একদম ভালো হয়ে যায়। হেডেকটা হলেও আমরা সাধারণত কিছু ট্রিটমেন্ট দিয়ে থাকি টু প্রিভেন্ট, যাতে আর কোনো অ্যাটাক ফেরত না আসে।

সেকেন্ডোরি হেডেক

এবার আসি সেকেন্ডারি হেডেক নিয়ে। আপনার মাথায় যদি কোনো টিউমার অথবা রক্তক্ষরণ অথবা ব্লাড ভেসেলসে প্রদাহজনিত কারণ অথবা মাথায় কোনো কারণে প্রেশার বেড়ে যায়, সে ক্ষেত্রে এই হেডেকটি হয়ে থাকে। এই হেডেকটি সাধারণত দেখা যায় দিনের প্রথমাংশে বেশি হয় এবং পারসিস্টেন্ট একটা হেডেক (দীর্ঘসময় ধরে মাথাব্যথা) থাকে। পেশেন্ট বমি অথবা চোখে দেখতে সমস্যা অথবা চোখে ঘোলাও দেখতে পারেন।

অন্যান্য ধরন

১. এ ছাড়া আরও কিছু হেডেক সম্পর্কে আমি বলতে চাই। যেমন: কিছু ড্রাগস আছে, বিশেষ করে ব্লাড প্রেশারের ওষুধ অথবা হার্টের ওষুধ, যেটা থেকে আমাদের এই হেডেক হতে পারে। আমাদের মধ্যে যারা গর্ভবতী মা আছেন, তাদের ক্ষেত্রে হেডেকটা খুবই ইম্পরট্যান্ট; একটা গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্নিং সাইন। যখন একজন প্রেগন্যান্ট মার হেডেক থাকে, তখন এটাকে প্রোপারলি ইভালুয়েট করি যে, তারা কোনো এক্লাম্পশিয়া বা প্রিএক্লাম্পশিয়ার (গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বাড়া ও খিঁচুনি হওয়া) দিকে যাচ্ছি কি না।

২. রাতে যারা ঘুমানোর সময় নাক ডাকেন, আমরা মেডিক্যালের ভাষায় বলে থাকি যে, তার অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে, তাদেরও দিনের প্রথম অংশে, সকালের দিকে একটা চাপা হেডেক থাকতে পারে।

৩. কোভিড টাইমে অনেকেই আছে, যারা অনেকটা সময় বাইরে থাকার জন্য মাস্ক পরে থাকতে হয়। এই জন্য দিনের শেষে কিছুটা মাথাব্যথা হয়ে থাকে।

৪. এ ছাড়া আরেক ধরনের হেডেক আছে, যেটা হচ্ছে অ্যানালজেসিক ওভারইউজিং হেডেক, যেটা হচ্ছে আপনি যদি মাসে ১৫ দিনের বেশি মাথাব্যথার জন্য ওষুধ খেয়ে থাকেন, তখন এই অতিরিক্ত ওষুধ, পেইন কিলার থেকেও মাথাব্যথা হয়ে থাকে। এটাকে আমরা বলি অ্যানালজেসিক ওভারইউজ হেডেক।

এটার চিকিৎসা হলো সব ধরনের ব্যথার ওষুধ বন্ধ করে দিতে হবে।

কোন কোন উপসর্গে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে

এবার আসি আপনার কোন কোন ওয়ার্নিং সাইন বা উপসর্গ থাকলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে যাবেন।

১. প্রথমত, আপনার যদি ব্যথাটা হঠাৎ করে শুরু হয় এবং খুব তীব্র ব্যথা হয়, রোগীরা বলে থাকে আমার এ রকম হেডেক জীবনে আগে কখনও হয়নি।

২. আপনার যদি হেডেকটা থাকে এবং পারসিস্ট্যান্ট, কোনোভাবেই কমছে না এবং দিনে দিনে ব্যথাটা বাড়ছে,

৩. চেঞ্জিং প্যাটার্ন অব হেডেক। আপনার আগে এক রকম ব্যথা ছিল। এখন অন্য রকমের ব্যথাটা হচ্ছে এবং ব্যথার প্যাটার্নটা চেঞ্জ হয়ে গেছে।

৪. আপনার বয়স যদি ৬০ বছরের ওপরে হয় এবং তখন নতুন করে ব্যথাটা শুরু হয়।

৫. আপনার যদি মাথাব্যথার সাথে অতিরিক্ত ওজন কমে যায় কোনো কারণ ছাড়া, সেটাও একটা ইম্পরট্যান্ট সাইন।

৬. মাথাব্যথার সাথে যদি আপনার জ্বর অথবা বমি এ ধরনের যদি সমস্যা থেকে থাকে।

৭. আপনার যদি প্যারালাইসিস, অর্থাৎ কোনো এক দিক অবশ অথবা অনুভূতি কম বুঝতে পারছেন অথবা কথা জড়িয়ে আসছে, চোখে দেখতে সমস্যা হচ্ছে, এগুলা আমাদের ইম্পরট্যান্ট একটা ওয়ার্নিং সাইন।

৮. লাস্টল আরেকটি হলো বয়স্ক যারা আছেন, তাদের যদি মাথাব্যতার সাথে চোয়ালে ব্যথা, বিশেষ করে খাবার সময় যদি ব্যথা হয়ে থাকে চোয়ালে, সেটাও একটা ইম্পরট্যান্ট সাইন।

এই উপসর্গগুলো দেখলে আপনি অবশ্যই দেরি না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন। হয়তো আপনার সিভিয়ার কিছু নেই। তারপরও চেক করে নেওয়া অবশ্যই জরুরি।

আরও পড়ুন:
পায়ের পেশির ব্যায়াম
সকালে খালি পায়ে হাঁটার উপকারিতা
অ্যালার্জি দূর করার ঘরোয়া উপায় যা জানা জরুরী
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ ও প্রতিকার
ইন্টারনেট ব্রাউজারের গতি বাড়ানোর উপায়

মন্তব্য

জীবনযাপন
Rules for taking medicines for diabetic patients during fasting

রোজায় ডায়াবেটিস রোগীর ওষুধ খাওয়ার নিয়ম

রোজায় ডায়াবেটিস রোগীর ওষুধ খাওয়ার নিয়ম রোজায় ডায়াবেটিস রোগীর ওষুধ খাওয়ার অভ্যাসে আনতে হয় পরিবর্তন। ছবি: সংগৃহীত
ডিপিআরএল ডায়াবেটিস রোগীদের ১০টি নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে ডায়াবেটিসের ওষুধ ও রোজা ভেঙে ফেলার প্রস্তুতিতে বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে।

সিয়াম সাধনার মাস রমজানে অন্য অনেকের মতো রোজা রাখেন ডায়াবেটিস রোগীরা। এ ক্ষেত্রে মাসজুড়ে তাদের বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।

রোজার মাসে ডায়াবেটিস রোগীরা কী করবেন, সে বিষয়ে একটি নির্দেশনা দিয়েছে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ ডায়াবেটিস প্রিভেনশন থ্রো রিলিজিয়াস লিডারস তথা ডিপিআরএল।

এটি বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের যৌথ প্রয়াস। এতে আর্থিক সহযোগিতা করেছে ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশন।

ডিপিআরএলের নির্দেশনা

ডিপিআরএল বলেছে, শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় ডায়াবেটিস রোগী রোজা রাখতে পারবেন কি না, সুস্বাস্থ্যকর খাবার কীভাবে খেতে হবে, দৈনন্দিন কায়িক পরিশ্রম কীভাবে করতে হবে, কীভাবে ঘরে বসে নিজের রক্ত পরীক্ষা করতে হবে, খাবার বড়ি বা ইনসুলিনের মাত্রা কী হবে, শর্করা কমে গেলে ও অন্যান্য অসুস্থতা হলে কী করণীয়, এই বিষয়গুলো চিকিৎসকের কাছ থেকে বিশদভাবে জেনে নিতে হবে। এর বাইরেও ১০টি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ডিপিআরএলের পক্ষ থেকে। এর মধ্যে ডায়াবেটিসের ওষুধ ও রোজা ভেঙে ফেলার প্রস্তুতিতে বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে।

১. সারা দিন রোজা রাখার পর এমন খাবার খেতে হবে, যাতে শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

২. ইফতারের সময় চিনিজাতীয় খাবার খাবেন না। চিনিুমক্ত পানীয় বেছে নিন। পানীয়র সঙ্গে চিনি মেশাবেন না। যদি মিষ্টি পানীয় পছন্দ করে থাকেন, তবে আর্টিফিশিয়াল (ডায়াবেটিসের চিনি) সু্ইটনার, যেমন: ক্যানডেরেল বা সুইটেক্স ব্যবহার করতে পারেন।

৩. ভাজা খাবার পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে। যেমন: পরোটা, সমুচা, কাবাব ইত্যাদি।

৪. খাদ্যতালিকায় অবশ্যই ফলমূল, শাকসবজি, আঁশযুক্ত খাবার রাখুন।

৫. সেহরির খাবার শেষ সময়ের অল্প কিছু আগে খাওয়া বাঞ্ছনীয়। সেহরির সময় নামমাত্র পরিমাণে খাবার খেয়ে রোজা রাখা উচিত নয়। এমনটি করলে আপনার গ্লুকোজের সঠিক ভারসাম্য বজায় থাকবে না।

৬. রোজার দিনে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অতিরিক্ত ব্যায়াম করার প্রয়োজন নেই, তবে দৈনন্দিন কাজকর্ম করা উচিত। রোজার সময় তারাবিহর নামাজে যে শারীরিক শ্রম হয়, নিয়মিত হাঁটার সমান হওয়ায় রোজার মধ্যে আলাদা করে হাঁটার প্রয়োজন নেই।

৭. রোজার দিনে বিকেলে দৈহিক পরিশ্রমের কাজ না করে বিশ্রাম নেয়া ভালো।

৮. রোজা রেখে ইনসুলিন নেয়া যাবে।

৯. ডায়াবেটিস রোগীর সকালের ওষুধ ইফতারের সময় খেতে হবে। রাতের ওষুধ খেতে হবে সেহরির সময় (রাতের ওষুধের ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক কমিয়ে সেহরির সময় খেতে হবে)। মুখে খাবার ওষুধ ও ইনসুলিনের মাত্রা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করে নিতে হবে এবং তা অবশ্যই রোজার আগেই করতে হবে।

১০. নিম্নের বিশেষ অবস্থায় রোজা ভেঙে ফেলতে হতে পারে।

(ক) রক্তের গ্লুকোজ ৭০ মিগ্রা/ডিএল (৩.৯ মিমো/লি)-এর কম হলে

(খ) রক্তের গ্লুকোজ ৩০০ মিগ্রা/ডিএল (১৬.৭ মিমো/লি.)-এর বেশি হলে

(গ) যেকোনো অসুস্থতায়

আরও পড়ুন:
রোজার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা, যা ঘটে শরীরে
রমজানে বেশি দাম নিলে দোকান বন্ধের হুঁশিয়ারি মেয়র আতিকের
রমজানে রাজধানীতে যানজট কমাতে ১৫ নির্দেশনা
প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫ রমজান পর্যন্ত খোলা, নতুন সময়সূচি
প্ল্যাটিনাম হোটেলস্ বাই শেলটেকে ইফতার ও সেহরির বিশেষ আয়োজন

মন্তব্য

p
উপরে