কফির উপকার অপকার

কফির উপকার অপকার

কফি অবসাদ দূর করে মস্তিষ্ককে চাঙ্গা রাখে। এটি লাং ক্যানসার, ব্রেস্ট ক্যানসার, গ্যাস্ট্রইনটেসটিনাল ক্যানসারসহ পার্কিনসন অসুখের বিরুদ্ধেও কাজ করে।

পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর একটি হলো কফি। তরুণ থেকে বৃদ্ধ সবার কাছেই কফির কদর রয়েছে। আপনিও কি একজন কফিপ্রেমী? তাহলে জেনে নিন কফির উপকার ও অপকারগুলো।

উপকার

কফি অবসাদ দূর করে মস্তিষ্ককে চাঙ্গা রাখে। এটি লাং ক্যানসার, ব্রেস্ট ক্যানসার, গ্যাস্ট্রইনটেসটিনাল ক্যানসারসহ পার্কিনসন অসুখের বিরুদ্ধেও কাজ করে।

মাথাব্যথা, নিম্ন রক্তচাপ, স্থূলতা কমানোর পাশাপাশি মানুষের মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে কফি। বাতব্যথার উপশম হিসেবেও কফির ব্যবহার রয়েছে। মেদ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও রয়েছে কফির ভূমিকা।

অপকার

অতিরিক্ত কফি পান গর্ভবতী নারীদের গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়। এর ক্যাফেইন মস্তিষ্ক উত্তেজিত রাখে বলে উদ্বেগজনিত সমস্যা দেখা দেয়। কফির কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়রিয়া, হারক্ষয়ের মতো আরও অসংখ্য রোগ তৈরিতে কফির ভূমিকা রয়েছে।

সূত্র: ওয়ারিয়র কফি

আরও পড়ুন:
মাথাব্যথা কমাতে ঘরোয়া পদ্ধতি
ডেঙ্গু রোগীর খাবার
প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়ার উপকারিতা
ইলেকট্রিক শক খেলে যা করবেন
রাস্তা পারাপারের নিয়ম জেনে নিন

শেয়ার করুন

মন্তব্য

নতুন দুটি ট্রেন পাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

নতুন দুটি ট্রেন পাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, ‘আমি শুক্রবারও রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, তিনি আমাদের একটি নয়, দুইটি শাটল ট্রেন দেবেন। অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে চালু হবে ট্রেন দুটি।’

পহেলা অক্টোবর থেকে দুটি নতুন ট্রেন পেতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

৩৩তম সিনেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে শনিবার এ কথা বলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। সিনেট সদস্য ড. ওমর ফারুক রাসেলের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

উপাচার্য বলেন, ‘আমি শুক্রবারও রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন, তিনি আমাদের একটি নয়, দুইটি শাটল ট্রেন দেবেন। অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে চালু হবে ট্রেন দুটি।’

২০১৯ সালের জুলাই মাসে শাটল ট্রেনে চড়ে ক্যাম্পাসে আসেন রেলমন্ত্রী। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, রেলওয়ের ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন রেলমন্ত্রী।

তখন তিনি ঘোষণা দেন, এসি ও ওয়াই-ফাইসহ ১৫-১৬ বগিবিশিষ্ট একটি নতুন ট্রেন দেবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের।

আরও পড়ুন:
মাথাব্যথা কমাতে ঘরোয়া পদ্ধতি
ডেঙ্গু রোগীর খাবার
প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়ার উপকারিতা
ইলেকট্রিক শক খেলে যা করবেন
রাস্তা পারাপারের নিয়ম জেনে নিন

শেয়ার করুন

আট ঘণ্টা ঘুমানোর উপকারিতা

আট ঘণ্টা ঘুমানোর উপকারিতা

চিকিৎসকদের মতে, ফ্লু এড়ানোর অন্যতম উপায় হচ্ছে হাত ধোয়া এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো।

দিনে আট ঘণ্টা ঘুম শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজন। এ সময়টা পেলে শরীর পূর্ণভাবে বিশ্রাম নিতে পারে। যারা এই সময়ের চেয়ে কম ঘুমান, তারা ভোগেন বিভিন্ন সমস্যায়। চলুন আট ঘণ্টা ঘুমানোর উপকারিতা জেনে নেই।

ভালো ব্যবহার

কম ঘুম হওয়ার কারণে মেজাজ বিগড়ে থাকে। বিভিন্ন রকম মানসিক সমস্যা দেখা যায়। ওদিকে আট ঘণ্টা ঘুমাতে পারলে শরীর অনেক বেশি ইতিবাচক, ধৈর্যশীল এবং আরাম অনুভব করে। ফলে সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করাটা সহজ হয়।

কাজে মনোযোগ থাকে

আট ঘণ্টা ঘুমাতে পারলে শরীর কাজে মনোযোগ দিতে পারে। আমেরিকার ট্রিপল এ ফাউন্ডেশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, যারা ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুমান তাদের গাড়ি দুর্ঘটনার হার যারা ৮ ঘণ্টা ঘুমান তাদের তুলনায় দ্বিগুণ।

ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে

গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, কম ঘুম হলে ওজন বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত কম ঘুম হলে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে মন চায় না

সিজন চেঞ্জের ফ্লু এড়ানো যায়

চিকিৎসকদের মতে, ফ্লু এড়ানোর অন্যতম উপায় হচ্ছে হাত ধোয়া এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো।

চেহারার উজ্জলতা বাড়ে

সুইডেনের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব একজন মানুষের চেহারায় প্রভাব ফেলে। ঘুমের অভাবে চোখ লাল হয়ে যায়, চোখের নিচে কালি পড়ে এবং চোখ ফুলে যায়। আট ঘণ্টা ঘুম হলে এসব সমস্যা থেকে আপনার চেহারাটা মুক্তি পাবে। ফলে চেহারার উজ্জলতা বাড়বে।

রোগ হওয়ার ঝুঁকি কমে

হৃদরোগ, কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং স্ট্রোকের মতো মারাত্মক অসুখ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে চান? তা হলে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও ব্যায়াম করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমান।

ক্লান্তি বোধ হয় না

রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমিয়ে নিলে, দিনের বেলা শারীরিকভাবে ক্লান্তি অনুভব হয় না। ফলে কাজের মাঝে ঝিমুনি, মনোসংযোগ কেটে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয় না।

আরও পড়ুন:
মাথাব্যথা কমাতে ঘরোয়া পদ্ধতি
ডেঙ্গু রোগীর খাবার
প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়ার উপকারিতা
ইলেকট্রিক শক খেলে যা করবেন
রাস্তা পারাপারের নিয়ম জেনে নিন

শেয়ার করুন

পিঁপড়ার উপদ্রব থেকে মুক্তি পেতে চাইলে

পিঁপড়ার উপদ্রব থেকে মুক্তি পেতে চাইলে

এক কাপ গরম পানিতে এক টেবিল চামচ গোলমরিচ গুঁড়া মেশান। দ্রবণটি স্প্রে করে দিন পিঁপড়ার লাইন দেখলেই।

যেকোনো সময় বেড়ে যেতে পারে পিঁপড়ার উপদ্রব। এদের দূর করার জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ পাওয়া যায়। তবে বাড়িতে শিশু থাকলে সেগুলো ব্যবহার না করাই ভালো।

চলুন জেনে নেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে পিঁপড়া তাড়ানোর কিছু উপায়।

লেবুর রস

কয়েকটি লেবু চিপে রস সংগ্রহ করুন। তাতে এক টেবিল চামচ লবণ মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটা স্প্রে বোতলে ভরে যেখানে পিঁপড়ার উপদ্রব বেশি, সেখানে স্প্রে করুন। খুব দ্রুতই পিঁপড়ার উপদ্রব থেকে মুক্তি পাবেন।

দারুচিনি গুঁড়া

দারুচিনি গুঁড়া করে নিন। রাতে ঘুমাতে যাবার আগে পিঁপড়ার বাসা ও এর আশপাশে গুঁড়াগুলো ছিটিয়ে দিন। সকালে উঠে দেখবেন পিঁপড়ার দল পালিয়েছে।

গরম পানি

এক কাপ গরম পানিতে ১ টেবিল চামচ লবণ ও মরিচের গুঁড়া মেশান। পানি গরম থাকতে থাকতে পিঁপড়ার আনাগোনা যেখানে, সেখানে ছিটিয়ে দিন। পিঁপড়া দূর হবে সঙ্গে সঙ্গেই।

ভিনেগার

পিঁপড়া তাড়ানোর জন্য কালো ভিনেগার ব্যবহার করুন। কালো ভিনেগার স্প্রে বোতলে নিয়ে ছিটিয়ে দিন রান্নাঘরের আনাচকানাচে। পিঁপড়া দূর হবে।

গোলমরিচ গুঁড়া

এক কাপ গরম পানিতে এক টেবিল চামচ গোলমরিচ গুঁড়া মেশান। দ্রবণটি স্প্রে করে দিন পিঁপড়ার লাইন দেখলেই। মুক্তি পাবেন পিঁপড়ার উপদ্রব থেকে।

আরও পড়ুন:
মাথাব্যথা কমাতে ঘরোয়া পদ্ধতি
ডেঙ্গু রোগীর খাবার
প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়ার উপকারিতা
ইলেকট্রিক শক খেলে যা করবেন
রাস্তা পারাপারের নিয়ম জেনে নিন

শেয়ার করুন

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

অচিনপুরী পরিচয়ে সিলেটি ভাষায় গান গেয়ে ভাইরাল চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

সমসাময়িক নানা ইস্যু ও সামাজিক অসংগতি নিয়ে আঞ্চলিক ভাষায় চেনা সুরে গাওয়া তার গান ফেসবুকের মাধ্যমে এখন সিলেটে বেশ জনপ্রিয়। অচিনপুরী নিজেই গান লেখেন; সুরও করেন। গানে তেমন কোনো তালিম না নিলেও মরমী চেতনা তার মজ্জাগত।

কক্ষের আশপাশে ছড়িয়ে আছে চিকিৎসার যন্ত্রপাতি। দেয়ালে ঝোলানো ওষুধ কোম্পানির ওয়ালম্যাট। সাদামাটা একটি চক্ষু চিকিৎসার চেম্বার। ভেতরে বসা ঝাকড়া চুলের মধ্যবয়স্ক এক লোক। পাশে কয়েকজন বসে বাদ্য বাজাচ্ছেন। গান গাইছেন মধ্যবয়সী ব্যক্তিটি।

এ রকম কয়েকটি গান ফেসবুকে এখন ভাইরাল। বিশেষত সিলেট অঞ্চলের শ্রোতা-দর্শকদের কাছে গানগুলো বেশ আলোচিত।

ওই চেম্বারে বসে যিনি গান গেয়েছেন তিনি চিকিৎসক, চক্ষু বিশেষজ্ঞ। নিজের সম্পর্কে তার মন্তব্য, ‘আমি আসলে গানের লোক, গান ছাড়া তৃপ্তি পাই না।’

এ ‘গানের লোক’ হলেন চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম। গানের ভনিতায় নিজেকে পরিচয় দেন ‘জহির অচিনপুরী’ হিসেবে। শ্রোতারা তাকে ‘অচিনপুরী’ নামেই সম্বোধন করেন।

ফেসবুক পেজে নিজের পরিচয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আমি, করি চোখের ডাক্তারি/গান আমার প্রাণের খোরাক, রচি সংগীত অচিনপুরী।’

সমসাময়িক নানা ইস্যু ও সামাজিক অসংগতি নিয়ে আঞ্চলিক ভাষায় চেনা সুরে গাওয়া তার গান ফেসবুকের মাধ্যমে এখন সিলেটে বেশ জনপ্রিয়।

অচিনপুরী নিজেই গান লেখেন; সুরও করেন। গানের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা না নিলেও মরমী চেতনা তার মজ্জাগত।

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

মরমী সাধনার এক উজ্জ্বল চারণভূমি সুনামগঞ্জ। হাসন রাজা, রাধারমণ, দুর্বিন শাহ, শাহ আবদুল করিমের মতো মরমী সাধকরা ঋদ্ধ করে গেছেন বাংলা সংগীতকে।

জহির অচিনপুরীর জন্ম এ জেলারই ছাতকে। তার বাবা ময়না মিয়াও মরমী ধারার লোক; গানও লিখেন। সেই সূত্রে তার মধ্যেও বহমান মরমী ধারা।

রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত জহির। এ ছাড়া ঢাকার রায়েরবাজারে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের জন্য চেম্বার আছে তার।

কাজের কারণে মূলত ঢাকাতেই থাকেন। প্রতি বৃহস্পতিবার চলে আসেন সিলেট। শনিবার পর্যন্ত তিন দিন নগরের লামাবাজারে ‘সালেহা আই কেয়ার সেন্টার’ নামে নিজের চেম্বারে বসেন।

শরতের এক তপ্ত দুপুরে লামাবাজারে চেম্বারে দেখা মেলে জহির অচিনপুরীর। বাদ্যযন্ত্র নিয়ে তার দলবলও উপস্থিত ছিলেন সেখানে। তারা আবার ওই চেম্বারেই কাজ করেন।

চেম্বারটির ব্যবস্থাপক আব্দুল মনাফ বাজান পারকাশন, কর্মী সিজান বাজান হারমোনিয়াম। আর জুয়েল তাল তোলেন তবলায়।

চেম্বারের কাছে অচিনপুরীর স্টুডিও। যখন রোগী থাকে না তখন স্টুডিওতেই সময় কাটান তিনি। নিউজবাংলার এই প্রতিবেদককে দেখে চেম্বারেই গান শুরু করেন তিনি। এর ফাঁকে চলে গল্প।

অচিনপুরী বলেন, ‘ছোটবেলায় মজা করে গান করতাম। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে গাইতাম। গানের লোকদের সঙ্গে আড্ডা দিতাম। তবে কখনো সেইভাবে গান শিখিনি।’

ছাতকে স্কুলে পড়াকালীন শিশু-কিশোর সংগঠন খেলাঘরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন জহির। এরপর সংগীতশিল্পী কেতকী আচার্যের কাছে কিছুদিন স্বরলিপি শিখেছেন।

অচিনপুরী বলেন, ‘সে সময় বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী গৌরি চৌধুরীসহ কয়েকজন কেতকী আচার্যের কাছে গান শিখতেন। আমিও তাদের সঙ্গে যেতাম; তাদের সঙ্গে গলা মিলাতাম। তবে তখন আমার আগ্রহ ছিল অভিনয়ে। যদিও গান শুনতাম প্রচুর।’

ছোটবেলার এক অভিজ্ঞতার কথা জানান অচিনপুরী। তিনি বলেন, ‘দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলে প্রথমবারের মতো একটি গানের প্রতিযোগিতায় নাম দেই। সেখানে তৃতীয় হই। তবে পড়াশোনার কারণে গানে মনোযোগ দিতে পারিনি। আর মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে পড়ার সময় কবিতার প্রতি আগ্রহী হয়ে পড়ি।’

এইচএসসি শেষে জহির ভর্তি হন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে। সেখানে পড়ার সময় আবার গানের ঝোঁক পেয়ে বসে তাকে। সংগীত শিক্ষক বিপ্রদাস ভট্টাচার্য বাপ্পুর কাছে কিছুদিন গানও শেখেন। সেই সঙ্গে চলে কবিতা লেখালেখি।

বন্ধুদের আড্ডায় জনপ্রিয় গানের প্যারোডি করতেন তিনি। আর সবসময় শুনতেন মরমী সাধকদের গান।

জহির বলেন, ‘হাসন রাজার গান আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে। তার জীবনদর্শনও আমাকে টানে। হাসন রাজা জমিদার হয়েও জমির মায়ায় জড়াননি। তিনি দুনিয়ার ভেতরে থেকেও অন্য দুনিয়ায় ছিলেন। এসব কারণে তাকে ভালো লাগে।’

২০০৫ সালের দিকে যখন গান গাওয়া শুরু করলেন, তখন হাসন রাজাকে ভালোবেসে নিজের নাম বদলে রাখেন ‘জহির কানাই’। তখন সবে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। সেখানকারই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করতেন।

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

জহির গান লেখা শুরু করেন ২০১০ সালে। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘তখন আমার মাথায় দেশের বাইরে চলে যাওয়ার চিন্তা পেয়ে বসেছে। এর মধ্যে উচ্চতর প্রশিক্ষণে ভারতে যাই। সেখানে গিয়েই ভাবনা পাল্টে যায় আমার। ভারতে গিয়ে দেখি, অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিদেশের বিলাসী জীবনের হাতছানি উপেক্ষা করে নিজ দেশে থেকে মানুষের সেবা করছেন। আমিও তখন সিদ্ধান্ত নিই, দেশে থেকেই মানুষের চিকিৎসায় কাজ করব।’

তিনি বলেন, “এ রকম সময়ই আমার মাথায় হঠাৎ একটি গান আসে। মাকে নিয়ে গান, ‘আমি হব না দেশান্তরি, থাকিব থাকিব মায়ের চরণ ধরি।’ এরপর গানটি রেকর্ড করি। তখন আমার এক সহকর্মী আমার নাম দেন, ‘অচিনপুরী’। তার নামটি আমার পছন্দ হয়। নামের সঙ্গে অচিনপুরী জুড়ে দেই।”

২০১৩ সালে ইউটিউবে প্রথম অ্যাকাউন্ট খুলেন তিনি। নাম দেন ‘অচিনপুরী মিউজিক ভ্যালি’। এরপর ফেসবুকেও একই নামে পেজ খুলেন।

অচিনপুরী বলেন, “প্রথমে আমার ছাত্র, বন্ধু, সহকর্মীরাই কেবল আমার গান শুনত; বাইরের লোকজন তেমন শুনত না। তবে ২০১৬ সালে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় গাওয়া ‘মুই বালা নায়’ শিরোনামে একটি গান অনেক জনপ্রিয় হয়। এরপর ‘খাউজ্জানি’ নামে সিলেটের ভাষার আরেকটি গান করি। এটা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে; আমাকে পরিচিতি এনে দেয়।”

কথা বলতে বলতেই অচিনপুরী গেয়ে ওঠেন, ‘পরোর বালা দেখলে আমার গতরো উঠে খাউজ্জানি/ও বাবু বুঝছোনি, হায়রে মজার খাউজ্জানি।’

এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ গান লেখার কথা জানিয়ে অচিনপুরী বলেন, ‘সবগুলো রেকর্ড করা হয়নি। সংরক্ষণের অভাবে কিছু হারিয়েও গেছে। আমি অগোছালো মানুষ। সব সামলে রাখতে পারি না।’

‘চিকিৎসক হওয়ায় ব্যস্ত জীবন। তবু গানের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া কেন?’

‘করি চোখের ডাক্তারি, রচি সংগীত অচিনপুরী’

জবাবে অচিনপুরী বলেন, ‘আমি নিজের আত্মিক উন্নয়ন ও আত্মতুষ্টির জন্যই গান করি। নিজেকে পরিশুদ্ধ আত্মার অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। গানে গানে মানুষের আত্মিক ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে চাই। এ ছাড়া একটা মায়ার জগৎ গড়ার লক্ষ্যে গান করি, যেখানে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ থাকবে না; সম্প্রীতি থাকবে, বন্ধন থাকবে।’

মরমী গানকে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করতে চান জহির। নতুন প্রজন্মের কাছে সেগুলো নতুনভাবে সামনে আনতে চান।

গান গাইতে গিয়ে কিছু মানুষের কটূ কথার শিকার হতে হয়েছে বলে জানান অচিনপুরী। তিনি বলেন, ‘মানুষ আমার গান শুনলে ভালো লাগে, আনন্দ হয়। আমি চাই আমার সৃষ্টিগুলো মানুষ দেখুক, শুনুক। মানুষ যখন আমার গান শুনে প্রশংসা করে, তখন খুশি হই। আবার গান করায় ধর্মীয় বিদ্বেষের শিকারও হতে হয়। অনেকে কটূ মন্তব্য করে।

‘এখন ফেসবুক বা ইউটিউবে আপ দেয়া গানের নিচের মন্তব্যগুলো আর পড়ি না। এগুলো পড়লে হতাশ হয়ে যাই। সব সৃজনশীল মানুষকে এই সমস্যায় পড়তেই হয়। ফলে এগুলো গায়ে মাখি না। আমি দেখি নিজের অবস্থানে-বিশ্বাসে ঠিক আছি কি না।’

জহির আরও বলেন, ‘আমার মধ্যে কৃত্রিমতা নাই। যা বিশ্বাস করি, যা ধারণ করি তাই কথা ও সুরে প্রকাশ করি।’

আরও পড়ুন:
মাথাব্যথা কমাতে ঘরোয়া পদ্ধতি
ডেঙ্গু রোগীর খাবার
প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়ার উপকারিতা
ইলেকট্রিক শক খেলে যা করবেন
রাস্তা পারাপারের নিয়ম জেনে নিন

শেয়ার করুন

নতুন জুতা থেকে ফোসকা পড়লে যা করবেন

নতুন জুতা থেকে ফোসকা পড়লে যা করবেন

ফোসকা কমাতে মধু খুব ভালো কাজ করে। ফোসকার জায়গায় দিনে তিনবার অল্প করে মধু লাগিয়ে দেখুন। এতে ফোসকা দ্রুত শুকিয়ে যাবে।

অনেক সময় নতুন জুতা পায়ের সঙ্গে মানানসই হয় না। ফলে সেটা পরে হাঁটাচলা করলে কিছুক্ষণের মধ্যে গোড়ালির পেছন দিকে, বুড়ো আঙুলের পাশে অথবা পায়ের যেকোনো দিকে ফোসকা পড়ে। একবার ফোসকা পড়লে পরবর্তী কয়েক দিন কোনো জুতাই পরা যায় না।

ফোসকা যদি পড়েই যায়, তাহলে ঘরোয়া উপায়ে সমাধান মিলতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

নতুন জুতা কেনার পর

জুতার চামড়ার যে জায়গাগুলো খুব শক্ত, পায়ে ঘষা লেগে ফোসকা পড়তে পারে, সেখানে ভ্যাসলিন লাগিয়ে রাখুন। এতে জুতার ওই জায়গাগুলো কিছুটা নরম হয়ে যাবে। কমবে ফোসকা পড়ার ঝুঁকিও।

ভ্যাসলিনের পরিবর্তে ব্যবহার করতে পারেন সরিষা অথবা নারিকেল তেল। এগুলোও জুতার চামড়া নরম করবে।

চাইলে জুতার শক্ত জায়গাগুলোতে পাতলা করে কাটা ফোম টেপ দিয়ে লাগিয়ে দিতে পারেন। এতেও পা আরাম পাবে।

তারপরও ফোসকা পড়লে

ফোসকা কমাতে মধু খুব ভালো কাজ করে। ফোসকার জায়গায় দিনে তিনবার অল্প করে মধু লাগিয়ে দেখুন। এতে ফোসকা দ্রুত শুকিয়ে যাবে।

ব্যবহার করতে পারেন অ্যালোভেরা জেলও। ফোসকার ওপরে আলতো করে অ্যালোভেরা জেল লাগান। দিনে দুইবার লাগালেই চলবে। উপকার পাবেন।

ফোসকা যেন না ফাটে, সেদিকে লক্ষ রাখুন। ফেটে গেলে ক্ষতস্থানে অ্যান্টিসেপ্টিক ক্রিম ব্যবহার করুন।

আরও পড়ুন:
মাথাব্যথা কমাতে ঘরোয়া পদ্ধতি
ডেঙ্গু রোগীর খাবার
প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়ার উপকারিতা
ইলেকট্রিক শক খেলে যা করবেন
রাস্তা পারাপারের নিয়ম জেনে নিন

শেয়ার করুন

হাসপাতালে শয্যা বাড়ছে, সেবা না

হাসপাতালে শয্যা বাড়ছে, সেবা না

সিলেট বিভাগে ২২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হয়েছে। তবে এগুলোর কোনোটিরই জনবল বা সরঞ্জাম বাড়েনি। ফলে চিকিৎসাসেবায় চাপ আগের চেয়ে বেড়েছে।

৩১ শয্যার শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০১২ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে দীর্ঘ ৯ বছরেও এখানে নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়নি। এ নিয়ে ছয়বার আবেদন করা হয়। সবশেষ গত বছরের মার্চে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে লোকবল বাড়ানোর চিঠি পাঠানো হয়। তাতেও কাজ হয়নি।

এমনকি এখানে ৩১ শয্যার সেবা চালানোর লোকবলও নেই। এ ছাড়া ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাফ যন্ত্র থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে এগুলো অব্যবহৃত পড়ে আছে। এক্স-রে মেশিন বিকল অনেক দিন ধরে।

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকেও ২০১৬ সালে ৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হয়। পাঁচ বছরেও বাড়ানো হয়নি এর লোকবল। নেই ৫০ শয্যার অনুপাতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ওষুধপাতি। এখানেও একমাত্র এক্স-রে মেশিন বিকল। বিকল অ্যাম্বুলেন্সও।

সিলেটের প্রায় সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সেবার নাজুক অবস্থা। তড়িঘড়ি করে শয্যার বাড়ানোর নামে অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু বাড়ছে না সেবার পরিধি। শয্যা বাড়ালেও বাড়ছে না লোকবল, যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক সুবিধা। ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে রোগী ও চিকিৎসকদের।

হাসপাতালগুলোতে রোগ নির্ণয়ের অনেক যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। কোনোটিতে যন্ত্র থাকলেও নেই টেকনিশিয়ান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর দুরবস্থা সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘সিলেটের স্বাস্থ্য খাত অন্যান্য বিভাগের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। জনবল সংকট রয়েছে সিলেট জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে। ২০১১ সালের পর আর কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি এই বিভাগে।’

তিনি বলেন, ‘সিলেট বিভাগে শুধু হাসপাতাল ভবনের নামে বক্স বানানো হচ্ছে। কিন্তু এই বক্সে কে থাকবে, কারা সেবা নিবে, কারা সেবা দিবে, কী দিয়ে সেবা দিবে– এগুলো নিয়ে কেউ ভাবে না। শুধু একের পর এক ভবন বানানো হচ্ছে। আর হাসপাতালের শয্যা বাড়ানো হচ্ছে।’

৩০ শতাংশ চিকিৎসক

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে ৩৮ উপজেলায় ৩৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। এর মধ্যে গত ১০ বছরে পর্যায়ক্রমে ২২টিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। ১২টি এখনও আছে ৩১ শয্যায়।

হাসপাতালে শয্যা বাড়ছে, সেবা না

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্মকর্তারা জানান, রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য একটি ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন চিকিৎসক, ১৫ জন দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা, ৬৭ জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ও ২৩ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী প্রয়োজন। প্রতিটি হাসপাতালে দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা রয়েছে।

তবে ২৪ জনের জায়গায় সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ ৫০ শয্যার হাসপাতালে কর্মরত আছেন ৪ থেকে ৭ জন চিকিৎসক। দিরাই ও কুলাউড়ায় আছেন ৪ জন, শ্রীমঙ্গলে ৫ জন।

৩১ শয্যার হাসপাতালগুলোর অবস্থা আরও খারাপ। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের শাল্লায় আছেন মাত্র একজন চিকিৎসক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সিলেটের ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলো প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ৩০ শতাংশ চিকিৎসক, ৩৫ শতাংশ ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পদে (দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) মাত্র ৩০ শতাংশ জনবল রয়েছে।

বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১১টিতে আছে উপজেলা হাসপাতাল। এগুলোর মধ্যে ২০০৯ সালে গোয়াইনঘাট ও বিয়ানীবাজার উপজেলা হাসপাতাল ৩১ থেকে ৫০ শয্যা করা হয়েছে। ২০১৩ সালে গোলাপগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০১৬ সালে জৈন্তাপুর, ২০১৭ সালে ফেঞ্চুগঞ্জ ও ২০১৮ সালে দক্ষিণ সুরমা, বিশ্বনাথ, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।

কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে হাসপাতাল ভবন নির্মাণেই এখন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হাসপাতালের কার্যক্রম। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ৩১ শয্যার হাসপাতালের জনবলই নেই। ফলে ৫০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

পুরো বিভাগে চিকিৎসক প্রয়োজন ৯১০ জন; কিন্তু কমর্রত আছেন ৪০০ জন। সিনিয়র স্টাফ নার্স প্রয়োজন ১ হাজার ৩২৩ জন, কর্মরত আছেন ১ হাজার ১৪৭ জন। নার্সিং সুপারভাইজার প্রয়োজন ৪৬ জন, আছেন ২৩ জন। স্টাফ নার্স প্রয়োজন ৫৬ জন, আছেন ২৭ জন। মিডওয়াইফ প্রয়োজন ১৭৪ জন, আছেন ৯৫ জন। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) প্রয়োজন ৯০ জন, আছেন ২২ জন। রেডিওগ্রাফি (এক্স-রে) টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন ৩৪ জন, কমর্রত আছেন ১০ জন। ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন ১৭০ জন, আছেন ২৯ জন।

সরঞ্জাম সংকট

বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৪০টি এক্স-রে মেশিন থাকলেও সচল আছে মাত্র ১৪টি। সচল এক্স-রে মেশিনের মধ্যে সিলেট জেলায় আছে চারটি, সুনামগঞ্জ জেলায় তিনটি, হবিগঞ্জ জেলায় দুটি ও মৌলভীবাজার জেলায় আছে পাঁচটি।

সিলেট বিভাগের ৩৪ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স আছে ৪৭টি। এর মধ্যে সচল আছে ৩৪টি। এর মধ্যে সিলেট জেলায় আছে ১১টি, সুনামগঞ্জ জেলায় ৯টি, হবিগঞ্জ জেলায় আছে ছয়টি ও মৌলভীবাজার জেলায় আছে আটটি।

সুনামগঞ্জ

জেলার সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

২৫০ শয্যার সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল সম্প্রতি আটতলা ভবন ও নতুন নতুন চিকিৎসা সরঞ্জাম পেলেও লোকবলের অভাবে তা নষ্ট হচ্ছে।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৯৯৩ পদের বিপরীতে আছেন ৯৮০ জন। পদ শূন্য ১০১০টি।

প্রথম শ্রেণির ২৯৮ পদের মধ্যে খালি রয়েছে ১৬৬টি। সিনিয়র কনসালট্যান্ট ১০টির মধ্যে কর্মরত আছেন পাঁচজন, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ৬৬টির মধ্যে আছেন ৯ জন, আবাসিক চিকিৎসক ১৩টি পদের মধ্যে খালি আছে ৮টি, আবাসিক ফিজিশিয়ান ও আবাসিক সার্জনের একটি করে পদ থাকলেও সেগুলো খালি রয়েছে।

চিকিৎসা কর্মকর্তার ৬১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩৪ জন। জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তার ২৯টির মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। সহকারী রেজিস্ট্রার/সার্জন পদে ৭৩ জনের মধ্যে ৪৯ জন, চিকিৎসা কর্মকর্তা (আয়ুর্বেদিক/ হোমিওপ্যাথিক) পদে দুই জনের মধ্যে একজন কর্মরত আছেন। রেডিওলজিস্ট দুটি পদের মধ্যে সব খালি। প্যাথোলজিস্ট দুটি পদের মধ্যে আছেন একজন। আর অ্যানেসথেসিস্ট আটটি পদের বিপরীতে আছেন একজন।

হাসপাতালে শয্যা বাড়ছে, সেবা না

জেলার স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় শ্রেণির ৪৪৭ পদের বিপরীতে আছেন ২৬৫ জন। এর মধ্যে বেশির ভাগ সংকট রয়েছে সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ পদে। এগুলোতে ৪২৭ জনের বিপরীতে আছেন ২৫৩ জন। নার্সিং সুপারভাইজার ১৩টি পদের মধ্যে খালি রয়েছে পাঁচটি।

তৃতীয় শ্রেণির ৮৯৮ পদের মধ্যে খালি রয়েছে ৪৩৭টি। চতুর্থ শ্রেণির ২৮৪ পদের মধ্যে খালি রয়েছে ১৯৪টি।

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন জানান, ‘জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে জনবল সংকট খুব বেশি। শূন্য পদে নিয়োগের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ ভালো জানেন। আমরা প্রতিনিয়ত চিঠিপত্র পাঠাচ্ছি। আশা করি, দ্রুতই এর সমাধান হবে।’

হবিগঞ্জ

যন্ত্রপাাতি, জনবল, পানি আর উন্নত সেবাসহ নানামুখী সংকটে হবিগঞ্জের চিকিৎসাব্যবস্থা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো তো বটেই, হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালেও মিলছে না সঠিক চিকিৎসা। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয় থেকে জানা যায়, বর্তমানে হাসপাতালটিতে আছেন তত্ত্বাবধায়ক ও একজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা। ৫৭ জন চিকিৎসকের জায়গায় আছেন মাত্র ২২ জন; ১২৩ জন নার্সের স্থলে আছেন ৩৭ জন এবং টেকনিশিয়ানসহ অন্য পদে ১১২ জনের স্থলে আছেন মাত্র ৫৫ জন।

হাসপাতালটি কাগজে-কলমে ২৫০ শয্যার হলেও প্রকৃত অর্থে চলছে ১০০ শয্যাতে। এখানে নেই পর্যাপ্তসংখ্যক শয্যা, স্যালাইন লাগানোর স্ট্যান্ড, ট্রলি বা হুইলচেয়ার। দীর্ঘদিন ধরে বিকল এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, ইসিজি, অ্যানেসথেসিয়া, মাইক্রোস্কোপ, অ্যানালাইজার, রেফ্রিজারেটর ও জিন এক্সপার্ট মেশিন।

এর মধ্যে নতুন কয়েকটি মেশিন এলেও দক্ষ জনবলের অভাবে সেগুলো ঢেকে রাখা হয়েছে সাদা কাপড়ে। রক্ত পরীক্ষা ছাড়া কোনো ধরনের পরীক্ষাই হয় না হাসপাতালটিতে। আবার অনেক মূল্যবান যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে।

হাসপাতালে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। একমাত্র পানির ট্যাংকটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর সেটি প্রতিস্থাপন করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে হাসপাতালের পানির একমাত্র উৎস করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে হাত ধোয়ার জন্য বসানো বেসিন ও হাসপাতাল কোয়ার্টারের একটি টিউবওয়েল।

এদিকে উদ্বোধনের চার বছর পরও হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের আটতলা নতুন ভবনের কার্যক্রম শুরু হয়নি। ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা ভবনটি ২০১৭ সালের জুলাই মাসে উদ্বোধন করেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিম।

সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের ক্যাম্পাস, পঞ্চম তলায় শিশু ওয়ার্ড এবং ষষ্ঠ তলায় করোনা আইসোলেশন সেন্টার। বাকি তলাগুলো এখনো ফাঁকা।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আমিনুল হক সরকার বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণ চিকিৎসাসেবা অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে। এই সংকটের মধ্যেও আমরা শতভাগ চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছি। তবে জনবল সংকট নিরসনে নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। আশা করি, শিগগির জনবল সংকট কিছুটা হলেও দূর হবে।’

তিনি বলেন, ‘পানি সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করছি। করোনাভাইরাসের প্রভাবের কারণে অনেক কাজই সম্ভব হয়নি। শয্যাসহ বিভিন্ন সরঞ্জামেরও চাহিদা জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন ভবনের কার্যক্রম আংশিক চালু করা হয়েছে। সেখানে অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বসানোর কাজ চলমান।’

নতুন ভবনের মধ্যে শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের ক্যাম্পাস থাকায় পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা এখান থেকে স্থানান্তর হলেই হাসপাতালের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হবে বলে জানান তিনি।

আধুনিক সদর হাসপাতালের মতোই নাজুক অবস্থা জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। সেখানেও চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ প্রচুর পরিমাণে জনবল সংকট। কোথাও নেই অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ড্রাইভার। আর যন্ত্রাংশ সংকট আরও চরমে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে জানা যায়, জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ আটটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১ হাজার ১৮৬টি পদের বিপরীতে আছেন ৭৫৪ জন। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ১৭৪ জনের স্থলে আছেন মাত্র ১০৩ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ১৬৮ জনের স্থলে আছেন ১২৭ জন, তৃতীয় শ্রেণির ৬৯১ জনের স্থলে আছেন ৪৪০ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির ১৪৮ জনের স্থলে আছেন মাত্র ৮৪ জন।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য পদের সংখ্যা ১৮টি, মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬৩টি, চুনারুঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫২টি, বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৪টি, লাখাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৯টি, নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭৭টি, বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬১টি এবং আজমিরীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৬টি।

হাসপাতালে শয্যা বাড়ছে, সেবা না

জেলার কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া কিছু পাওয়া যায় না। অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেটির সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।

মৌলভীবাজার

যন্ত্রপাতির অভাব, চিকিৎসক নার্সসহ বিভিন্ন পদে লোকবল সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে মৌলভীবাজারের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর চিকিৎসাসেবাও।

জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ভর্তি হয় ৩০ থেকে ৫০ জন রোগী। তবে চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতির সংকটে সেবা বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে রোগীদের।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা উত্তর ভাড়াউড়া গ্রামের রতন বৈদ্য বলেন, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কোনো সেবা পাওয়া যায় না। রোগীকে ভালো করে দেখার আগেই সদর হাসপাতালে রেফার করে দেয়া হয়।

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সংকটের মধ্যেও আমরা রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। জনবল চেয়ে সিভিল সার্জন অফিসে চিঠি পাঠিয়েছি। ৫০ শয্যার জনবল নিয়োগ হলে রোগীরা আরও ভালো সেবা পাবেন।’

কমলগঞ্জ উপজেলায় ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি তিন বছর আগে ৫০ শয্যায় উত্তীর্ণ হয়। তবে এখানকার ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, সনোলজি মেশিন থাকলেও তা বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। সনোলজিস্ট, চিকিৎসক, ফার্মাসিস্টসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো খালি।

এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৯ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১২ জন। মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ১২ জনের জায়গায় আছেন ৯ জন। ফার্মাসিস্ট পদে ৩ জনের স্থলে কেউই নেই। প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ২ জনের জায়গায় কাজ করছেন ১ জন।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘চিকিৎসকের চারটি পদ শূন্য আছে। গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া কনসালট্যান্ট নেই। লোকবলের অভাবে ডিজিটাল এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন চালানো যাচ্ছে না। কোনো ফার্মাসিস্ট নেই।

রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের পদ আছে ১০টি। এর মধ্যে বিশেষজ্ঞ চারটি পদ শল্যচিকিৎসক (সার্জারি), দন্ত চিকিৎসক, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং গাইনি চিকিৎসকের পদ অনেক দিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। এখানে ৬ জন মেডিক্যাল চিকিৎসক পদের মধ্যে বর্তমানে ৪ জন কর্মরত আছেন।

১৫ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিপরীতে আছেন ৮ জন। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কোনো ল্যাব নেই। এক্স-রে মেশিন থাকলেও অপরারেটর না থাকায় ২০১১ সাল থেকে এটি অব্যহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটারও। হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি অচল।

রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বর্ণালী দাস বলেন, ‘লোকবল যা আছে, তা দিয়েই আমরা চালাচ্ছি। নতুন ভবনের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’

কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯৯৫ সালে এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা হয়। তবে ১৯৯৮ সালে এক্স-রে মেশিন পরিচালনার জন্য রেডিওলজিস্ট পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর থেকে এক্স-রে মেশিন বন্ধ থাকে। ১০ বছর আগে আসা ইসিজি যন্ত্রটিও টেকনোলজিস্টের অভাবে এখনও প্যাকেটবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মী জানান, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এক্স-রে মেশিনটি মেরামত করে অস্থায়ী একজন রেডিওলজিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে। পরে টেকনিশিয়ানরা মেশিনটি পর্যবেক্ষণ করে জানান, এটি আর সচল করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, ‘২০২০ সালের নভেম্বর মাসে স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সভায় নতুন এক্স-রে মেশিন সংযোজনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। পুরাতন অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামতের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাখালী টেমো (গাড়ি মেরামত) কার্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। সেখানকার বিশেষজ্ঞ একটি টিম কয়েক মাস আগে অ্যাম্বুলেন্সটি দেখে গিয়েছেন। এখনও সেটি মেরামতের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’

হাসপাতালে শয্যা বাড়ছে, সেবা না

কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌস আকতার বলেন, ‘আমি মাস তিনেক হলো এখানে এসেছি। লোকবলসহ এক্স-রে মেশিন নতুন সংযোজনের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো আছে। এ ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সচল করতে প্রতি মাসেই লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।’

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০১৮ সালে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছিল; কিন্তু সে অনুপাতে বাড়েনি সেবার মান। বাড়েনি লোকবলও।

এমনকি ৩১ শয্যার জনবলের মধ্যে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) পদটি ১৫ বছর ধরে শূন্য। এতে রোগীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সুবিধা পাচ্ছেন না। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের (ল্যাব) দুটি পদের একটি শূন্য। এতে সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের ছুটতে হয় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

অন্যদিকে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ও আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) পদটি শূন্য আছে। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারের (স্যাকমো) ১৩টি পদের মধ্যে ৮টি পদ শূন্য, নার্সের ১৪টি পদের মধ্যে ৪টি শূন্য, নার্সিং সুপারভাইজারের ২টি পদের মধ্যে একটি শূন্য, মিডওয়াইফের ৫টি পদের মধ্যে ২টি পদ শূন্য, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের সাতটি পদের মধ্যে ৬টি পদ শূন্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ২টি পদের ২টিই শূন্য, অফিস সহকারীর ৩টি পদের মধ্যে ২টি পদ শূন্য, ক্লিনারের ৫টি পদের মধ্যে ৪টি পদ শূন্য, নিরাপত্তা প্রহরীর ২টি পদের মধ্যে ১টি পদ শূন্য রয়েছে।

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস বলেন, ‘৩১ শয্যার জনবল দিয়েই ৫০ শয্যার কার্যক্রম চলছে। ৩১ শয্যার জনবলেও বেশ কিছু পদ শূন্য ছিল। এই সীমিত জনবল নিয়েও আমরা সাধ্যমতো জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছি। জনবল নিয়োগের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জনবল বাড়লে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।’

একই অবস্থা জেলার অন্যান্য উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোরও।

মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ মোবাইলে বলেন, ‘সব কটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অত্যাধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন সংযোজন করছে সরকার। মৌলভীবাজারের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তা চালু হবে। এ ছাড়া বন্ধ থাকা যন্ত্রগুলো সচল করা ও লোকবল নিয়োগের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করব।’

আরও পড়ুন:
মাথাব্যথা কমাতে ঘরোয়া পদ্ধতি
ডেঙ্গু রোগীর খাবার
প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়ার উপকারিতা
ইলেকট্রিক শক খেলে যা করবেন
রাস্তা পারাপারের নিয়ম জেনে নিন

শেয়ার করুন

‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘প্রতারণা আইন’

‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবার ‘প্রতারণা আইন’

আইনি সুবিধাবঞ্চিত আর্থিকভাবে অসহায় ভুক্তভোগীরা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাদের পাশে দাঁড়াবে নিউজবাংলার ‘আমার আইন, আমার অধিকার’।

সব ধরনের আইনি পরামর্শ ও সহায়তা দিতে নিউজবাংলার নিয়মিত আয়োজন ‘আমার আইন, আমার অধিকার’-এ এবারের বিষয়: প্রতারণা আইন’। প্রচারিত হবে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

শবনম ফারিয়ার সঞ্চালনায় শনিবার এ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার হবে নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

আলোচনায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ব্যারিস্টার মিতি সানজানা ও কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশের আইন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেহেরবা সাবরীন। অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার হবে শাহ্‌ সিমেন্টের সৌজন্যে।

‘আমার আইন, আমার অধিকার’ সম্পর্কে নিউজবাংলার এক মুখপাত্র বলেন, আইন জানা নাগরিকের জন্য একান্ত প্রয়োজন। আইন ও আইনজীবী- এই শব্দগুলো নিয়ে একধরনের ভীতি কাজ করে। তবে আইনের আশ্রয় লাভ করা একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার।

নিজের আইনগত অধিকার সম্পর্কে না জানলে যে কেউ কোনো বিষয়ে ভুল পরামর্শ দিয়ে আপনাকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারে। কোনো নাগরিক রাষ্ট্রের কাছে কী কী সুযোগ-সুবিধার অধিকারী, সেটি যদি তিনি না জানেন, তাহলে তিনি ন্যায্য দাবি আদায় করতে পারবেন না।

তিনি বলেন, নাগরিকের আইনি অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি সহজভাবে জানাতে কাজ করবে ‘আমার আইন, আমার অধিকার’। দেয়া হবে পরামর্শ। প্রয়োজনে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরাসরি আইনি সহায়তাও দেয়া হবে।

আইনি সুবিধাবঞ্চিত আর্থিকভাবে অসহায় ভুক্তভোগীরা এই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে আইনি সহায়তা চাইলে তাদের পাশে দাঁড়াবে নিউজবাংলার ‘আমার আইন, আমার অধিকার’।

বিনা মূল্যে আইনি পরামর্শ এবং সহায়তা পেতে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় চোখ রাখুন নিউজবাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমের ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলে।

অনুষ্ঠান চলাকালে ফোন করুন ০২৫৫০৫৫২৮৯ নম্বরে। এ ছাড়া সমস্যা জানাতে ০১৯৫৮০৫৬৬৬৮ নম্বরে ফোন করুন যেকোনো সময়। হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন ভিডিও করেও পাঠাতে পারেন একই নম্বরে।

নিউজবাংলার ফেসবুক পেজ https://www.facebook.com/nwsbn24 এবং ই-মেইল [email protected] -এ মেসেজ পাঠানোরও সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন:
মাথাব্যথা কমাতে ঘরোয়া পদ্ধতি
ডেঙ্গু রোগীর খাবার
প্রতিদিন একটি আপেল খাওয়ার উপকারিতা
ইলেকট্রিক শক খেলে যা করবেন
রাস্তা পারাপারের নিয়ম জেনে নিন

শেয়ার করুন