শরতে অপরূপ কাঞ্চনজঙ্ঘা

শরতে অপরূপ কাঞ্চনজঙ্ঘা

তেঁতুলিয়ায় মহানন্দা নদীর তীর থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। ছবি: নিউজবাংলা

প্রতিবছর সাধারণত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে পঞ্চগড় থেকে দেখা যায় ১৬৫ কিলোমিটার দূরের এই পবর্তশৃঙ্গ। এবার সেপ্টেম্বরেই চোখ জুড়াচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা।

শরতের আকাশ মেঘহীন, নীলাভ। এর এক প্রান্তে তাকালে মনে হবে দলছুট কিছু মেঘ যেন দাঁড়িয়ে একটু বিশ্রাম নিচ্ছে। কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকলেই ভুল ভাঙে। মেঘ নয়, সেগুলো কাঞ্চনজঙ্ঘার শৃঙ্গ, যা এখন দৃশ্যমান পঞ্চগড়ে।

প্রতিবছর সাধারণত অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে পঞ্চগড় থেকে দেখা যায় ১৬৫ কিলোমিটার দূরের এই পবর্তশৃঙ্গ। এবার সেপ্টেম্বরেই চোখ জুড়াচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা।

সে খবর পেয়ে দেশের নানা প্রান্তের দর্শনার্থী ছুটছেন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার দিকে।

সবচেয়ে উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়ার পাশ দিয়ে প্রবাহিত মহানন্দা নদী বিভক্ত করেছে ভারত ও বাংলাদেশকে। এখানে দাঁড়িয়ে সোজা উত্তরে তাকালে চোখে পড়ে সুনীল আকাশ আর হিমালয়ের ছড়ানো পর্বতশ্রেণি। তেঁতুলিয়া থেকেই সবচেয়ে ভালো দেখা যায় শ্বেতশুভ্র কাঞ্চনজঙ্ঘাকে।

জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সেখানকার আকাশ এখন মেঘমুক্ত। তাই কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

জয়পুরহাট থেকে তেঁতুলিয়া ঘুরতে গিয়েছেন আসফাক হিমেল। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে শুভ্র পর্বতমালা দেখার ইচ্ছা ছিল প্রবল। ফেসবুকে দেখতে পাই পঞ্চগড় থেকে খালি চোখেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে। তাই সকাল সকাল তেঁতুলিয়া এসে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পেলাম। অনেক ভালো লাগল।’

ঠাকুরগাঁওয়ের সৌরভ হাসানও ফেসবুকে খবর পেয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গত বছর তেঁতুলিয়ায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসেছিলাম, কিন্তু শীত আর কুয়াশার কারণে দেখা হয়নি। এ বছর এবারই প্রথম কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গেল। আজ দেখতে পেয়ে অনেক আনন্দিত। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে যে এত ভালো লাগে তা আজ দেখেই বুঝতে পারলাম।’

শরতে অপরূপ কাঞ্চনজঙ্ঘা


তেঁতুলিয়ার বুড়াবুড়ি এলাকার আতাউর রহমান বলেন, ‘তেঁতুলিয়া উপজেলার প্রায় সব জায়গা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গেলেও সবচেয়ে ভালো করে উপভোগ করা যায় মহানন্দা নদীর তীরের জেলা পরিষদের ঐতিহাসিক ডাকবাংলো ও পিকনিক কর্ণার থেকে। মানুষ সেখানেই বেশি যায়। একসঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা আর মহানন্দা দেখা হয়ে যায়।’

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ্ জানান, আকাশে মেঘ না থাকায় হিমালয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা অনেক পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। চলতি মাসের শুরু থেকেই এটি দেখা যাচ্ছে। তবে রোববার সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা গেছে।

পৃথিবীতে উচ্চতার দিক থেকে প্রথম তিনটি পর্বতই হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত। প্রথম অবস্থানে রয়েছে মাউন্ট এভারেস্ট। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এভারেস্ট শৃঙ্গের উচ্চতা ৮ হাজার ৮৪৮ মিটার বা ২৯ হাজার ২৯ ফুট। আর দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পর্বত কে-টুর উচ্চতা ৮ হাজার ৬১১ মিটার বা ২৮ হাজার ২৫১ ফুট। এর পরই অবস্থান ৮ হাজার ৫৮৬ মিটার উঁচু কাঞ্চনজঙ্ঘার।

এই পর্বতশৃঙ্গের পাঁচটি চূড়ার মধ্যে তিনটি পড়েছে উত্তর সিকিমে আর দুটি নেপালের মেচি জোনের তাপলেজাং জেলায়।

কাঞ্চনজঙ্ঘার সুউচ্চ চূড়া কাছ থেকে দেখা যায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং জেলার টাইগার হিল থেকে। যেখানকার উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৫৭৩ মিটার বা ৮ হাজার ৪৪১ দশমিক ৬০১ ফুট।

আরও পড়ুন:
চোখের সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’

নৌকাঘাটের ইজারাদার রমজান আলী বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যদি সেতুটির কাজ করত, তাহলে প্রতিবছর এভাবে পানিতে ডুবত না। করোনায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দ্বিতীয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হলাম সেতু ডুবে যাওয়ায়। পর্যটক না আসায় বোটগুলোও ঘাটে বসে আছে।’

খাগড়াছড়ি থেকে বন্ধুদের সঙ্গে রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু দেখতে এসেছিলেন সুমন চাকমা। তবে সে আশা পূরণ হয়নি তার।

সুমন চাকমা বলেন, ‘রাঙামাটির কাছে খাগড়াছড়ি হলেও কম আসা হয়। সেতুতে ঘুরতে এসে দেখলাম পানির নিচে ডুবে গেছে। এত কষ্ট করে এসেও কোনো লাভ হলো না।’

প্রতি বর্ষায় কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়লে ডুবে যায় রাঙামাটির পর্যটনশিল্পের অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু। এ সময় সেতুর পাটাতনের প্রায় ছয় ইঞ্চি ওপরে উঠে আসে হ্রদের পানি। নিষেধাজ্ঞা দিতে হয় চলাচলে।

স্থানীয় লোকজন জানান, সেতু ডুবলে পারাপারের জন্য নৌকা ছাড়া উপায় থাকে না তাদের। কমে যায় পর্যটকের আনাগোনাও।

এসব কারণে প্রতিবছর স্থানীয় লোকজন ও পর্যটকও বিপাকে পড়ছেন। তারা অপেক্ষায় থাকেন কখন সেতু থেকে পানি নেমে যাবে।

অভিযোগ উঠেছে, ১৯৮৬ সালে অপরিকল্পিতভাবে সেতুটি নির্মাণ করায় এমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নির্মাণের সময় যদি সেতুর উচ্চতা বাড়ানো হতো, তাহলে হয়তো এমন বেহাল হতো না ।

সোমবার গিয়ে দেখা যায়, রাঙামাটি তবলছড়ি এলাকার দুই দ্বীপের দুই পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে ঝুলন্ত সেতুটি। তবে কয়েক দিন টানা হালকা বৃষ্টির কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানি বেড়েছে। ডুবে গেছে সেতুটিও।

ঝুলন্ত এখন ‘ডুবন্ত সেতু’


এ কারণে হতাশ পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন । নৌকা দিয়ে এপার থেকে ওপারে পার হচ্ছেন তারা। একদিকে বেড়েছে ভোগান্তি, অন্যদিকে পারাপারে দিতে হচ্ছে টাকা।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশন ও হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ুয়া জানালেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেতু দিয়ে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

তিনি বললেন, ‘পানি নেমে গেলে আবারও আগের মতো স্বাভাবিক করে দেয়া হবে।’

সেতু দেখতে ঢাকা থেকে এসেছেন তানজিদা ও রাসেল।

তানজিদা বলেন, ‘লকডাউন খুলে দেয়ায় অনেক আশা নিয়ে রাঙামাটিতে এসেছি। ঝুলন্ত সেতু দেখার ইচ্ছা ছিল খুব। এত সুন্দর রাঙামাটি। তবে সেতুটি এভাবে দেখব কখনও ভাবতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘সংস্কার করে যদি সেতুটির উচ্চতা বাড়ানো যায়, তাহলে কোনো পর্যটক পরে বেড়াতে এসে হতাশ হবেন না।’

সেতু এলাকায় নৌকাঘাটের ইজারাদার রমজান আলী বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ যদি সেতুটির কাজ করত, তাহলে প্রতিবছর এভাবে পানিতে ডুবত না। করোনায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দ্বিতীয়বার ক্ষতিগ্রস্ত হলাম সেতু ডুবে যাওয়ায়। পর্যটক না আসায় বোটগুলোও ঘাটে বসে আছে।’

পার্বত্য রাঙামাটি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী বলেন, ‘সেতুটির ডুবে যাওয়ার সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি সেতুটিতে বড় ধরনের কাজ করতে হয়, তাহলে আগামী বছর জেলা পরিষদের মাধ্যমে উদ্যোগ নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন:
চোখের সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা

শেয়ার করুন

সাটুরিয়ার আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ চত্বর’

সাটুরিয়ার আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ চত্বর’

বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়াবুর রহমান জানান, বাংলাদেশ চত্বরকে আরও সাজিয়ে তুলতে দেয়ালে কিছু কারুকাজ করার পরিকল্পনা আছে। আগামী প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতেই এই চত্বর করা।

একপাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‍্যাল, আরেক পাশে শহীদ মিনার। মাঝখানে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভ।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে এখন শোভা বাড়াচ্ছে এই স্থাপনাগুলো। এর নামে দেয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ চত্বর’।

সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদের ফটক পার হলেই ডান দিকে এই চত্বর। উপজেলা নির্বাহী কার্যালয় (ইউএনও) সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক একর জমিতে এটি নির্মাণ করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদের অর্থায়নেই এটি গড়ে তোলা হয়েছে। প্রথমে খরচ ধরা হয়েছিল প্রায় ২৭ লাখ টাকা। পরে তা বেড়ে হয় প্রায় ৪১ লাখ টাকা।

এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি বাংলাদেশ চত্বর। স্থাপনাগুলোর পেছনের দেয়ালে কাজ বাকি আছে। দেয়াল ঘেঁষে লাগানো হয়েছে কৃষ্ণচূড়া ও সোনালু গাছ। সেগুলো এমনভাবে লাগানো যেন বেড়ে উঠলে আর ফুল ফুটলে বাংলাদেশের পতাকার মতো সবুজের মাঝে লাল দেখায়।

দৃষ্টিনন্দন এই চত্বর পেয়ে খুশি উপজেলাবাসী।

সাটুরিয়ার আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ চত্বর’

স্থানীয় বালিয়াটি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান মিশু বলে, ‘আমাদের এখানে বাংলাদেশ চত্বর হইছে। আমরাও কিছু শিখতে পারব আর আমাদের ছোট ভাইবোন আছে, তারাও দেশের ইতিহাসের কিছু শিখতে পারবে।’

সাটুরিয়ার সৈয়দ কালু শাহ কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আখি আক্তার লিজা জানান, আগে এখানে কেবল শহীদ মিনারটি ছিল। এখন নতুন স্থাপনা বসিয়ে জায়গাটি সাজানোয় তা আকর্ষণীয় হয়েছে।

বালিয়াটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর সোহেল চৌধুরী বলেন, ‘এখানে এক চত্বরেই শহীদ মিনার, স্বাধীনতার স্মৃতিস্তম্ভ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি আছে। মোট কথা এখানে আসলে বাংলাদেশকে আমরা হাতের মুঠোয় পাই এবং বাংলাদেশের চিত্র আমাদের চোখে ফুটে ওঠে।’

সাটুরিয়ার আকর্ষণ ‘বাংলাদেশ চত্বর’

বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈয়াবুর রহমান জানান, বাংলাদেশ চত্বরকে আরও সাজিয়ে তুলতে দেয়ালে কিছু কারুকাজ করার পরিকল্পনা আছে। আগামী প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরতেই এই চত্বর করা।

ইউএনও আশরাফুল আলম বলেন, ‘এতো বড় একটা উপজেলা আর এর ওয়ালে ছিল ছোট্ট একটা শহীদ মিনার। এটা দেখে আত্মসম্মানে লাগত। এরপর ভাবছিলাম কিছু করার।

‘এরপর যখন বঙ্গবন্ধুর মুর‍্যাল করার নির্দেশনা আসল, তখন চিন্তা করলাম। পুরো এরিয়াজুড়ে যদি আমরা এটা ডিজাইন করে রাখি, তাহলে পার্ট বাই পার্ট আমরা ধীরে ধীরে করতে পারব। কারণ এটা আমাদের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ন একটা অংশ।’

আরও পড়ুন:
চোখের সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা

শেয়ার করুন

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

নীলফামারীর ‘বাঘমারা’ বটগাছটি ২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

নীলফামারী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম জানান, এসব বটগাছ ৫০০ বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকার রেকর্ড আছে। এগুলোকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

নীলফামারীর ২০০ বছরের পুরোনো ‘বাঘমারা’ বটগাছ যেন ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বটগাছটি কে লাগিয়েছিলেন তার সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য নেই।

তবে স্থানীয় লোকজন জানান, ৫০ বছর আগে এই এলাকার একটি বাড়িতে বাঘ ঢুকেছিল। এ সময় বাঘটি পিটিয়ে হত্যা করে ওই বটগাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর থেকেই বটগাছটি ‘বাঘমারা’ নামে পরিচিতি পায়।

গাছটি লাগানোর বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সুমতিবালা বলেন, ‘আমার শ্বশুরের দাদা গাছটি লাগিয়েছিল বলে পারিবারিক সূত্রে জেনেছি। এখন এটির বয়স আনুমানিক ২০০ বছর। প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেখে আসছে এই গাছটি।’

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

জেলার তিন উপজেলার সংযোগস্থলে বটগাছটির অবস্থান। গাছটির একদিক দিয়ে সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন, অন্যদিকে জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়ন এবং আরেকদিকে ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নে চলাচল করা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশাল আকৃতির গাছটির ডালপালা দিন দিন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রচণ্ড গরমে যারা এই পথে চলাচল করেন তারা একটু হলেও বটগাছের নিচে জিরিয়ে নেন।

হরিণচড়া ইউনিয়নের শেওটগাড়ি গ্রামের শিক্ষক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এটি অনেক পুরোনো বটগাছ। গাছটি ঘিরেই চলাচলের এই পথ তৈরি হয়েছে। এটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে।

সোনারায় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমনী কান্ত বলেন, ‘বটপাকুরের বিয়েও হয়েছে অনেক আগে। এই বটগাছটির সঠিক বয়স কেউ বলতে না পারলেও সবার ধারণা ২০০ বছরের কম নয়। এখানে মানুষ আড্ডা দেন, বসে থাকেন, সময় কাটিয়ে আনন্দ পান।’

নীলফামারী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম জানান, এসব বটগাছ ৫০০ বছরেরও বেশি সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকার রেকর্ড আছে। এগুলোকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ‘এত বড় বটগাছ এখন আর চোখে পড়ে না। স্থানীয় লোকজন ভালোভাবে গাছটির রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে।’

আরও পড়ুন:
চোখের সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা

শেয়ার করুন

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

২০২০ সালে ১০ একর জমির ওপর যাত্রা শুরু হয় বরগুনা বিসিকের। ফটক থেকে সোজা দক্ষিণ দিকের সড়ক ও তিনটি শাখা সড়কের দুই পাশে আছে মাঠ। সেখানেই ফুটেছে কাশফুল। প্রতিদিনই বিকেল হলে সেখানে ভিড় জমে দর্শনার্থীদের। 

বরগুনার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাসানুর রহমান ঝন্টু বেশির ভাগ সময়ই থাকেন ব্যস্ত। সাংবাদিকতার পাশাপাশি কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। এ কারণে পরিবারকে সময় দেয়া হয় কম।

স্ত্রী ও মেয়ের আবদারে তাদের নিয়ে গত রোববার ঝন্টু বেড়াতে যান বরগুনা-বরইতলা সড়কের ক্রোক এলাকায়, সদ্যঃসমাপ্ত বিসিক শিল্পনগরীতে। সেখানে এখন মাঠ ছেয়ে আছে শরতের কাশফুলে।

এলাকার লোকজন এই জায়গাটির নাম দিয়েছে ‘বরগুনার দিয়াবাড়ি’। রাজধানীর উত্তরায় কাশফুলের জন্য জনপ্রিয় স্পট দিয়াবাড়ির অনুকরণেই এই নামকরণ।

কাশফুল দেখে শৈশবে পড়া রবীন্দ্রনাথের ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতার কিছু লাইন আওড়ে নিলেন ঝন্টু।

“‘চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা/ একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা..’ এসব কাশফুল দেখেই তো বড় হয়েছি। নদীতীরে কাশবনের দোল খাওয়া দেখেছি। এখন আর তেমনটা নেই। এখন এ রকম কোথাও কাশফুলের দেখা পেলেই মানুষ ছুটে আসে। এখানে নিরানন্দ সময়টা কাশবনে এসে একটু উপভোগ করছি।”

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

শরতের বিকেলের স্নিগ্ধতা যেন বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ছোটোখাটো এই কাশবন। বরগুনা শহর থেকে পশ্চিমে মাত্র পাঁচ মিনিট দূরে এই এলাকা।

২০২০ সালে ১০ একর জমির ওপর যাত্রা শুরু হয় বিসিকের। ফটক থেকে সোজা দক্ষিণ দিকের সড়ক ও তিনটি শাখা সড়কের দুই পাশে আছে মাঠ। সেখানেই ফুটেছে কাশফুল। প্রতিদিনই বিকেল হলে সেখানে ভিড় জমে দর্শনার্থীদের।

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

সদরের ঢলুয়া এলাকার তানিয়া জামান পরিবারসমেত সেখানে বেড়াতে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ব্যস্ত জীবনে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে আসা। বাড়ির কাছেই এত সুন্দর প্রকৃতির রূপ না দেখে থাকা যায়!’

স্থানীয় সমাজকর্মী জাফর হোসেনও স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কাশবনে। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতিতেই প্রকৃত শান্তি। শরতের আবহাওয়া এমনিতেই চমৎকার। এর মধ্যে শুভ্র কাশের বন, অন্যরকম এক ভালোলাগা।

‘আমি ঢাকার দিয়াবাড়িতেও ভ্রমণ করেছি। এই স্থানটি দেখে আমার মনে হয় এটা বরগুনার দিয়াবাড়ি। যারা এখানে আসি আমরাই এর নাম দিয়েছি- বরগুনার দিয়াবাড়ি।’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

নীল শাড়িতে সেজে বন্ধুদের সঙ্গে কাশবনে এসেছেন নিয়ে বেড়াতে এসেছেন অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নূর-ই জান্নাত।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ লকডাউনে ঘরে বন্দি প্রায়। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয় না। একঘেয়ে জীবন। তাই সবাই পরিকল্পনা করে কাশফুলের দোল খাওয়া দেখতে এখানে চলে এসেছি।’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

বিসিকের প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রকল্পে এখন প্লট বরাদ্দের কাজ চলছে। যে স্থানে প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে ওই স্থানে বালি ভরাট করে রাখা হয়েছে। সেখানেই এখন কাশফুলের সমারোহ।

‘প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন এখানে। একটা জমজমাট পরিবেশ। বেশ ভালো লাগে। এখনও এখানে বিসিকের কলকারখানা স্থাপন শুরু হয়নি। তাই নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা হয় না।’

আরও পড়ুন:
চোখের সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা

শেয়ার করুন

থাই দূতাবাস ভিসা আবেদন নেবে সোমবার

থাই দূতাবাস ভিসা আবেদন নেবে সোমবার

থাই দূতাবাস জানায়, ভ্রমণকারীদের অবশ্যই প্রতিটি ভিসার প্রয়োজনীয়তা এবং যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে থাই সরকারের যেসব নিয়মকানুন রয়েছে তা অনুসরণ করতে হবে, যার মধ্যে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনসহ করোনার টিকা নেওয়া থাকতে হবে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বাংলাদেশ থেকে ভিসা আবেদনে দেয়া স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে পূর্ব এশিয়ার অন্যতম পর্যটনের দেশ থাইল্যান্ড।

সোমবার থেকে নন-থাই নাগরিকদের জন্য ভিসা এবং সার্টিফিকেশন অব এন্ট্রি (সিওই) আবেদন নেয়া শুরু করছে বাংলাদেশে দেশটির দূতাবাস। রোববার ঢাকার থাই দূতাবাস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

করোনা পরিস্থিতির অবনতিতে গত ১০ মে থেকে ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল থাইল্যান্ড।

রোববার বিজ্ঞপ্তিতে থাই দূতাবাস জানায়, বাংলাদেশে নন-থাই নাগরিকদের জন্য ভিসা এবং সার্টিফিকেশন অব এন্ট্রি (সিওই) আবেদন চালু করার ঘোষণা করছে রয়েল থাই দূতাবাস। সোমবার থেকে দূতাবাস সব ভিসা এবং সিওই আবেদন নেয়া শুরু করবে।

এতে আরও বলা হয়, ভ্রমণকারীদের অবশ্যই প্রতিটি ভিসার প্রয়োজনীয়তা এবং যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। একইসঙ্গে থাই সরকারের যেসব নিয়মকানুন রয়েছে তা অনুসরণ করতে হবে, যার মধ্যে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনসহ করোনার টিকা নেওয়া থাকতে হবে।

বাংলাদেশিরা সবচেয়ে বেশি থাইল্যান্ডে যায় পর্যটনের উদ্দেশ্যে। এ ছাড়া শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্যও অনেকে দেশটিতে যান।

আরও পড়ুন:
চোখের সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা

শেয়ার করুন

সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং

সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং

টেকনাফের সাবরাং এক্সক্লুসিভ টুরিস্ট পার্ক। ছবি: সংগৃহীত

টেকনাফের সারবাংয়ে গড়ে তোলা হবে অত্যাধুনিক পর্যটন নগরী। এতে থাকবে স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, প্যারাসেইলিং, জেট স্কিইং, পেডাল বোটিং, বিচ ভলিবল, বিচ বোলিংসহ পর্যটনের নানা অনুষঙ্গ যা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ পর্যটনে উন্নত বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। এ ছাড়াও পর্যটকদের সেবা দিতে গড়ে তোলা হবে একাধিক পাঁচ ও তিন তারকা মানের হোটেল ও নাইট ক্লাব।

কক্সবাজার সৈকতের ঘোলা পানি নিয়ে আক্ষেপের দিন শেষ হতে চলেছে। সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে টেকনাফের সাবরাং এক্সক্লুসিভ টুরিস্ট পার্ক।

পর্যটন পার্কটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বলছে, এটি চালু হলে কক্সবাজারের পর্যটন খাত আমূল বদলে যাবে।

বেজা জানিয়েছে, পর্যটনের জন্য বিশেষ এ অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের প্লট বরাদ্দ শেষ, এখন চলছে ভূমি উন্নয়নের কাজ। সেটি শেষ হলেই স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

এই পর্যটন পার্কের পরিকল্পনা করা হয় ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর। শুরুতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনকে এলাকাটি উন্নয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। পরে দায়িত্ব পায় বেজা।

২০১৪ সালে কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে ৯৬৭ একর জমিতে এ পর্যটন পার্ক তৈরির কাজ শুরু হয়। এটি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করা। তবে এতে দেশি পর্যটকরাও যেতে পারবেন। সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্বে নির্মাণ হচ্ছে এই পার্ক।

দেশে বিদেশি পর্যটকের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান না থাকলেও সরকারি হিসেবে প্রতি বছর দেশে প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ বিদেশি নাগরিকের আনাগোনা থাকে। এর মধ্যে পর্যটক যেমন রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন বিনিয়োগকারী বা ব্যবসায়ীরাও। সরকার আশা করছে, সাবরাং পর্যটন পার্ক যাত্রা শুরু করলে এ সংখ্যা আরও বাড়বে।

বলা হচ্ছে, এই পার্কে প্রতিদিন পায় ৩৯ হাজার পর্যটক পর্যটন সেবা নিতে পারবেন।

নির্মিতব্য এই বিশেষ পর্যটন এলাকাটির অবস্থান কক্সবাজার শহর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার আর টেকনাফ থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে। কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভের সাথে এলাকাটির সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর দক্ষিণ ও পশ্চিম দিকে অবস্থান বঙ্গোপসাগরের। কক্সবাজার বিমানবন্দরে নেমে সড়কপথে সাবরাং যেতে সময় লাগবে প্রায় দেড় ঘণ্টা।

এখন পর্যন্ত এই সাবরাং পর্যটন পার্কে বিনিয়োগ এসেছে ২৪ কোটি ডলারেরও বেশি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে এ অঞ্চলে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখানে গড়ে তোলা হবে অত্যাধুনিক এক পর্যটন নগরী।

এতে থাকবে স্নরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, প্যারাসেইলিং, জেট স্কিইং, পেডাল বোটিং, বিচ ভলিবল, বিচ বোলিংসহ পর্যটনের নানা অনুষঙ্গ যা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ পর্যটনে উন্নত বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। এ ছাড়াও পর্যটকদের সেবা দিতে গড়ে তোলা হবে একাধিক পাঁচ ও তিন তারকা মানের হোটেল ও নাইট ক্লাব।

সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং

বেজার পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এখন মাঝ পর্যায়ের কাজগুলো চলছে। প্লট তো দেয়া হয়ে গেছে। ক্যানেলের কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে একটি প্রশাসনিক ভবন করছিলাম সেটার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

‘মাটি ভরাটের টেন্ডার ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার, সেটার পর্যবেক্ষণ চলছে। মাটি ভরাট হলেই আসলে ডেভেলপার যারা প্লট নিয়েছে তারা কাজ শুরু করে দেবে।’

সাবরাং পর্যটন পার্কটি তৈরি হয়ে গেলে পুরো কক্সবাজারের পর্যটন খাত বদলে যাবে বলে মনে করছে বেজা। মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এর কারণ হলো এটা সমুদ্রের কাছে। তারপর এটা আমরা পুরোটাই পরিকল্পিতভাবে করছি। এতে খোলা জায়গা থাকবে, ক্যানেল থাকবে, ভেতরে এমিউজমেন্টের ব্যবস্থা থাকবে। মানে একটা অত্যাধুনিক পরিকল্পনা করে আমরা সামনে এগুচ্ছি।

‘কক্সবাজারে যেটা হয়েছে, সেটা কিন্তু বিচ্ছিন্নভাবে হয়েছে। যে যেভাবে পেরেছে, করেছে। এখানে কিন্তু সেটা না। প্লট দেয়া হলেও একটি স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখেই ভবন করতে হবে। ভেতরে সবুজ বাতাবরণ থাকবে। পরিবেশটাই হবে অন্যরকম। যখন এটা চালু হবে, আমার মনে হয় পর্যটকরা অবশ্যই এখানে আসবে।’

সাবরাং থেকে মাত্র আধাঘণ্টায় যাওয়া যায় দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনস। এর ফলে পর্যটকরা দিনে গিয়ে দিনেই সেখান থেকে ফিরে আসতে পারবেন। আর এতে ঝুঁকির মধ্যে থাকা সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ বৈচিত্রও রক্ষা পাবে।

মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এখান থেকে আবার সেন্ট মার্টিন দেখা যায়, খুব কাছেই। এ কারণে এটিই হবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান। এখানে আবার আমরা একটি ফটো কর্নার করেছি, ক্লক টাওয়ারের মতো।

‘এটা চালু হলে এই এলাকার অর্থনীতিই বদলে যাবে পাশাপাশি মানুষের রুচিতেও আমূল পরিবর্তন আসবে।’

সুনীল জলের হাতছানি দিচ্ছে সাবরাং

বিদেশি পর্যটকদের লক্ষ্য করে তৈরি করা হলেও এটিতে যেতে পারবেন দেশি পর্যটকরাও। মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এটা এক্সক্লুসিভলি বিদেশি পর্যটকদের জন্য হবে না। যদিও এখন আমরা যে পলিসি তৈরি করছি তাতে বিদেশি পর্যটকই আমাদের মূল টার্গেট। বৈদেশিক মুদ্রা মূল টার্গেট। কিন্তু এর মধ্যে দেশিরা যে আসতে পারবে না তা না।

‘এখানে যে হোটেল রিসোর্টগুলো হবে, সেগুলোতে একটা স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করা হবে। যেমন, যদি ধরা যায় রয়্যাল টিউলিপ হোটেল, এটাতে তো বিদেশি ও দেশি উভয় পর্যটকই থাকতে পারে। ঠিক এ ধরনের স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করা হবে। ভেতরে যে কেউ যেতে পারবে, ঘুরতে পারবে। সুন্দর একটা গেট করছি, টেন্ডার হয়ে গেছে। যখন মূল কাজগুলো হয়ে যাবে, তখন বিনিয়োগকারীরা আসবে, কাজ করতে।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই পর্যটনের বিকাশ হবে না, বরং মনোযোগ দিতে হবে ব্র্যান্ডিংয়ে।

পর্যটন বিষয়ক পত্রিকা বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহেদুল আলম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এ রকম একটি পার্ক বা পর্যটন অঞ্চল যদি করা যায়, এটি নিঃসন্দেহে খুব ভালো একটি উদ্যোগ। তবে যে কোনো ভাল উদ্যোগকে সমর্থনের জন্য ভাল নীতিও থাকতে হয়। আমাদের দেশের ট্যুরিজম পলিসিটাই তো এখনও ঠিক হয়নি। পর্যটনের জন্য কোনো মাস্টারপ্ল্যানও নেই।

‘এই যে একটা ভাল জিনিস আমরা করছি, এটাকে মার্কেটিং কীভাবে করব? কীভাবে বিদেশি পর্যটকদের এখানে আসতে উদ্বুদ্ধ করব? আমরা কতটুকু সুযোগ সুবিধা দিতে পারব – এই বিষয়গুলোও একই সাথে ভাবতে হবে। দেশের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য আমাদের অনেক কাজ করতে হবে। আমাদের তো অনেক প্রডাক্ট রয়েছে, যেমন সুন্দরবন বা কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত অথবা বুদ্ধিস্ট হ্যারিটেজ। কিন্তু এগুলো কি আমরা বিদেশিদের কাছে তুলে ধরতে পারছি?’

তিনি বলেন, ‘শুধু কিছু অবকাঠামো তৈরি করেই যদি আত্মতুষ্টিতে ভুগি, তাহলে কিন্তু সুফল পাওয়া যাবে না। পর্যটকবান্ধব একটি মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে, ব্র্যান্ডিং করতে হবে। সর্বোপরি পর্যটন খাতকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।’

আরও পড়ুন:
চোখের সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা

শেয়ার করুন

ধসে পড়লে সংস্কার?

ধসে পড়লে সংস্কার?

ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী আলেকজান্ডার ক্যাসেল জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ছবি: নিউজবাংলা

শহরের আদালত এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বিতল ভবন আলেকজান্ডার ক্যাসেল ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে জরাজীর্ণ অবস্থায় এখনও টিকে আছে। অযত্ন আর অবহেলায় ভেঙে গেছে মার্বেল পাথরের দুটি ভাস্কর্যের হাত।

বছরের পর বছর আশ্বস্ত করা হচ্ছে ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী আলেকজান্ডার ক্যাসেল বা লোহার কুঠি সংস্কার করা হবে। কার্যত ফলাফল শূন্য। ক্ষুব্ধ সংস্কৃতিকর্মীদের প্রশ্ন, ধসে পড়লেই কী এটি সংস্কার করবে কর্তৃপক্ষ?

শহরের আদালত এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বিতল এ ভবনটি ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে জরাজীর্ণ অবস্থায় এখনও টিকে আছে। অযত্ন আর অবহেলায় ভেঙে গেছে মার্বেল পাথরের দুটি ভাস্কর্যের হাত। বাকি অংশে ময়লা জমেছে।

দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য ফটকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ লিখে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। তবু ভবনটির ছাদের নিচে বসে কিংবা চারদিকে ঘুরে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন অনেকে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৮৭৯ সালে ময়মনসিংহ জেলার শতবর্ষ উপলক্ষে আমন্ত্রণ জানানো হয় তৎকালীন রাজা সপ্তম এডওয়ার্ডের স্ত্রী আলেকজান্দ্রাকে। তার নামেই এর নামকরণ হয় ‘আলেকজান্ডার ক্যাসেল’।

এর নির্মাতা মুক্তাগাছার জমিদার মহারাজা সুকান্ত সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী। তিনি ব্রহ্মপুত্র নদের পারে প্রায় ২৭ একর জমির বাগানবাড়িতে সুরম্য অট্টালিকাটি নির্মাণ করেন।

ধসে পড়লে সংস্কার?

এটি তৈরিতে লোহার ব্যবহার বেশি হওয়ায় স্থানীয় লোকজনের কাছে এটি ‘লোহার কুঠি’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। তবে বর্তমানে এটি টিচার্স ট্রেনিং কলেজের গ্রন্থাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, দ্বিতল ভবনের ছাদে অভ্র ও চুমকি ব্যবহার করে প্রাসাদের ভেতর ঠাণ্ডা রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। বহু গুণীজন ময়মনসিংহ সফরকালে এখানে এসে থেকেছেন।

ধসে পড়লে সংস্কার?

১৯২৬ সালে সফরে এসে ভবনটিতে থেকেছেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। একই বছর আসেন মহাত্মা গান্ধী। আরও এসেছেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ, কামাল পাশা, লর্ড কার্জন, নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, ওয়াজেদ আলী খান পন্নীসহ অনেক গুণী ব্যক্তিত্ব।

স্থানীয় শাহরিয়ার মেহেদী মোল্লা নামের একজন ব্যবসায়ী জানান, বাংলাদেশের যেকোনো জেলা থেকে কেউ ময়মনসিংহে এলে এই ভবনটি এক নজর হলেও দেখতে আসেন। তবে বর্তমানে এটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় দূরের দর্শনার্থী নেই বললেই চলে।

ধসে পড়লে সংস্কার?

নাদিম পারভেজ নামে এক ভবন ডিজাইনার বলেন, ‘ভবনটি দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। তা না হলে একবার ধসে পড়লে ময়মনসিংহের ইতিহাসের একটি সাক্ষী বিলুপ্ত হয়ে যাবে।’

স্থাপনাটির ছাদের পাশ দিয়ে হাঁটছিলেন ফিরোজ নামে এক যুবক। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি শহরের আকুয়া এলাকায় বসবাস করি। সপ্তাহে এক দিন হলেও বিকেলে এই ভবনটির সামনে কিছুক্ষণ বসে থাকি।

‘একদিকে নিরিবিলি পরিবেশ আর অন্যদিকে আকর্ষণীয় ঐতিহ্যবাহী ভবন। তবে ছাদের নিচে বসে মাঝেমধ্যেই অনেককে আড্ডা দিতে দেখা যায়। ঝুঁকিপূর্ণ লেখাটা কেউ মানতেই চান না। যদি কারও মাথায় ধসে পড়ে তাহলে মৃত্যুর ঘটনা ঘটবে।’

ধসে পড়লে সংস্কার?

ছায়ানট ময়মনসিংহের সভাপতি আপেল চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে ভবনটির বিভিন্ন অংশ খসে পড়ছে। কী কারণে এটি সংস্কার করা হচ্ছে না, আমাদের জানা নেই। তবে সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে আমাদের খুব বেশি কিছু সরকারের কাছে চাওয়ার নেই। আমরা চাই আগামী প্রজন্মের কাছে ইতিহাস ঐতিহ্য বেঁচে থাকুক।’

এদিকে স্থাপনাটি সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নাগরিক আন্দোলনের নেতারা। তারা এটিকে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা হিসেবে অভিহিত করেন।

ধসে পড়লে সংস্কার?

সামাজিক সংগঠন ময়মনসিংহ জন-উদ্যোগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম চুন্নু নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটির ফটকে ঝুঁকিপূর্ণ লিখে শুধু একটি সাইনবোর্ড লাগিয়েই ক্ষান্ত কর্তৃপক্ষ। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ, অথচ এটির নিচে বসে মানুষ গল্প করে। অনেকে ভবনটির নিচে বসে থাকে। তখন ধসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটলে, এর দায় নেবে কে?’

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের এই চিহ্ন ধরে রাখা প্রয়োজন। আর ভাস্কর্য যতটুকু এখনও টিকে আছে, ততটুকু রক্ষার জন্য প্রহরী দিয়ে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা দরকার।

ধসে পড়লে সংস্কার?

জেলা নাগরিক আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন কালাম বলেন, ‘আর কিছু দিন এই অবস্থায় থাকলে ভবনটির সম্পূর্ণ অংশই খসে পড়বে। ইতিমধ্যে মার্বেল পাথরে নির্মিত আকর্ষণীয় ভাস্কর্যগুলোর হাত ভেঙে গেছে।

‘ভবনটির চারপাশে ঝোপঝাড়। ইতিহাস টিকিয়ে রাখতে স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।’

ধসে পড়লে সংস্কার?

এই বিষয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ময়মনসিংহের কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আলেকজান্ডার ক্যাসেলটি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। করোনার কারণে স্থাপনাটিকে দর্শনীয় হিসেবে গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়নি। তবে আশা করছি, দ্রুত এর সংস্কার কাজ শুরু হবে।’

আরও পড়ুন:
চোখের সামনে কাঞ্চনজঙ্ঘা

শেয়ার করুন