সাঁতারে দক্ষ যে উট বিলুপ্তির পথে

সাঁতারে দক্ষ যে উট বিলুপ্তির পথে

মরুভূমিতে চলার পাশাপাশি সমুদ্রে সাঁতার কাটতে পারে খারাই প্রজাতির উট। ছবি: সংগৃহীত

খারাই প্রজাতির উট সমুদ্র ও মরুভূমি দুই ধরনের পরিবেশে দারুণভাবে বসবাস করতে পারে। অন্য উট সাধারণত পুকুর বা ছোট জলাশয়েই টিকতে পারে না, সাগর তো পরের ব্যাপার।

বিরল প্রজাতির ভারতীয় সাঁতারু উট ‘খারাই’ হুমকির মুখে পড়েছে। এই উঠের দেখা পাওয়া যায় ভারতের গুজরাট প্রদেশে। প্রদেশটির কোচ জেলায় মূলত লবণাক্ত জলাভূমিতে এই উট দেখা যায়।

অধিক পরিমাণে লবণ উৎপাদন শুরু করায় বিপন্ন হতে চলেছে খারাই উঠগুলো। কোচ জেলার অধিকাংশই সমুদ্রবেষ্টিত।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ অঞ্চলের লবণ কোম্পানিগুলো জোয়ারের পানি আটকে দিচ্ছে। ফলে ধীরে ধীরে ম্যানগ্রোভ অঞ্চল শুকিয়ে যাচ্ছে। এটি উটের জীবন এবং তাদের ভবিষ্যৎকেও বিপন্ন করে তুলছে।

খারাই প্রজাতির উট সমুদ্র ও মরুভূমি দুই ধরনের পরিবেশে দারুণভাবে বসবাস করতে পারে। অন্য উট সাধারণত পুকুর বা ছোট জলাশয়েই টিকতে পারে না, সাগর তো পরের ব্যাপার।

বিশেষ এ কাজটির জন্য খারাই উটের শারীরিক গঠন বিন্যাসও কিছুটা ভিন্ন। সাধারণ উটের তুলনায় খারাইদের শরীর ছোট হয়। কিন্তু এদের মুখের আকৃতি সাধারণ উটের চেয়ে বড় হয়। কান বড় ও ভেতরের দিকে ঢুকানো হয়। তাছাড়া পা হয় খুব লম্বা।

ফলে খারাই যে পানিতে শুধু সাঁতার কাটতে পারে তা নয়, পানির গভীরতা অনুযায়ী এরা পানির নিচে কখনও সাঁতার কাটে, কখনও হাঁটে। মোট কথা, পানির নিচেও তারা ততটাই সাবলীল, যতটা তারা মরুভূমির ওপরে।

সাঁতারে দক্ষ যে উট বিলুপ্তির পথে
সমুদ্রের ৩-৪ কিলোমিটার দূরের দ্বীপে খাবারের জন্য যায় খারাই উটগুলো। ছবি: সংগৃহীত

খারাই প্রজাতির উটেরা সাগর পাড়ি দিয়ে কাছের কোনো দ্বীপে চলে যায়, যেখানে প্রাকৃতিকভাবেই একটা ম্যানগ্রোভ বন থাকে। ম্যানগ্রোভ বনের গাছ তাদের মূল খাবার। লবণ জল বা ক্ষারের মধ্যে বসবাস করার কারণে এই উটকে ‘খারাই উট’ নাম দেয়া হয়েছে।

ম্যানগ্রোভ অঞ্চলে চারণভূমি হওয়ায় তিন কিলোমিটার পথ সাঁতার কেটে যায় উটগুলো। এতে অবশ্য অনেক সময় ব্যয় হয়।

লবণ কোম্পানিগুলো অধিক উৎপাদনের জন্য প্যান তৈরি করতে জোয়ারের পানি আটকে দিচ্ছে। যার কারণে ম্যানগ্রোভ অঞ্চল শুকিয়ে যাচ্ছে।

বিবিসি জানায়, এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেও লবণ উত্তোলনকারীরা কিছুই বলেননি।

হামির বাচু নামে এক উট পালনকারী বলেন, ‘আগে উটগুলো ম্যানগ্রোভে নিতে দুই থেকে তিন কিলোমিটার পথ হাঁটতে হতো। আর এখন উটের পালকে খাওয়ানোর জন্য প্রায় ১৫-২০ কিলোমিটার হাঁটতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘লবণ প্রস্তুতকারীদের জায়গার একটা সীমানা থাকা উচিত। সেই সীমানার বাইরে উটের চারণক্ষেত্র দখল করা উচিত নয়।’

লবণের জন্য যে প্যান তৈরি করা হয়, সেখানে পড়ে গিয়ে উট মারা যায়। এ ছাড়া শিল্পায়ন এলাকায় বৈদ্যুতিক কাজের জায়গাগুলোতে শর্ট সার্কিটেও অনেক উঠের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন মালিকরা।

ভারত সরকার জানিয়েছে, খারাই উটের বাসস্থান ও উটের মালিকদের জীবিকা রক্ষার জন্য কাজ করছে তারা।

স্থানীয়রা চান, ম্যানগ্রোভকে সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিরল প্রজাতির খারাই উট দেখতে পারে।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

নীলফামারীর ‘বাঘমারা’ বটগাছটি ২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে। ছবি: নিউজবাংলা

নীলফামারী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম জানান, এসব বটগাছ ৫০০ বছরের বেশি সময় বেঁচে থাকার রেকর্ড আছে। এগুলোকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

নীলফামারীর ২০০ বছরের পুরোনো ‘বাঘমারা’ বটগাছ যেন ইতিহাস হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। বটগাছটি কে লাগিয়েছিলেন তার সম্পর্কে কোনো সঠিক তথ্য নেই।

তবে স্থানীয় লোকজন জানান, ৫০ বছর আগে এই এলাকার একটি বাড়িতে বাঘ ঢুকেছিল। এ সময় বাঘটি পিটিয়ে হত্যা করে ওই বটগাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। এরপর থেকেই বটগাছটি ‘বাঘমারা’ নামে পরিচিতি পায়।

গাছটি লাগানোর বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সুমতিবালা বলেন, ‘আমার শ্বশুরের দাদা গাছটি লাগিয়েছিল বলে পারিবারিক সূত্রে জেনেছি। এখন এটির বয়স আনুমানিক ২০০ বছর। প্রজন্মের পর প্রজন্ম দেখে আসছে এই গাছটি।’

২০০ বছর ধরে ছায়া দিচ্ছে ‘বাঘমারা’ বটগাছ

জেলার তিন উপজেলার সংযোগস্থলে বটগাছটির অবস্থান। গাছটির একদিক দিয়ে সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন, অন্যদিকে জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়ন এবং আরেকদিকে ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নে চলাচল করা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিশাল আকৃতির গাছটির ডালপালা দিন দিন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রচণ্ড গরমে যারা এই পথে চলাচল করেন তারা একটু হলেও বটগাছের নিচে জিরিয়ে নেন।

হরিণচড়া ইউনিয়নের শেওটগাড়ি গ্রামের শিক্ষক আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এটি অনেক পুরোনো বটগাছ। গাছটি ঘিরেই চলাচলের এই পথ তৈরি হয়েছে। এটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে।

সোনারায় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমনী কান্ত বলেন, ‘বটপাকুরের বিয়েও হয়েছে অনেক আগে। এই বটগাছটির সঠিক বয়স কেউ বলতে না পারলেও সবার ধারণা ২০০ বছরের কম নয়। এখানে মানুষ আড্ডা দেন, বসে থাকেন, সময় কাটিয়ে আনন্দ পান।’

নীলফামারী সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অহিদুল ইসলাম জানান, এসব বটগাছ ৫০০ বছরেরও বেশি সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকার রেকর্ড আছে। এগুলোকে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।

সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান বলেন, ‘এত বড় বটগাছ এখন আর চোখে পড়ে না। স্থানীয় লোকজন ভালোভাবে গাছটির রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে।’

শেয়ার করুন

জলবায়ু পরিবর্তন: সহায়তা অব্যাহত রাখবে জার্মানি

জলবায়ু পরিবর্তন: সহায়তা অব্যাহত রাখবে জার্মানি

সচিবালয়ে পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন জার্মানির রাষ্ট্রদূত অচিম ট্রস্টার। ছবি: নিউজবাংলা

জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ জার্মানির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ও গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের মাধ্যমে জার্মান তার সহযোগিতা চালিয়ে যাবে। চলমান উন্নয়নে জার্মানির সহযোগিতা ক্রমবর্ধমান গতিতে অব্যাহত থাকবে।'

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন জার্মানির রাষ্ট্রদূত অচিম ট্রস্টার।

সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে সোমবার তিনি এ কথা বলেন।

জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রমে এবং বাংলাদেশে চলমান উন্নয়নে জার্মানির সহযোগিতা ক্রমবর্ধমান গতিতে অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ জার্মানির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র। পারস্পরিক আলাপ আলোচনা ও চাহিদার ভিত্তিতে এ সহযোগিতা বহাল থাকবে।

‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি প্রশংসনীয়। প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ও গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের মাধ্যমে জার্মান তার সহযোগিতা চালিয়ে যাবে।’

পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ভালনারিবিলিটি ফোরাম (সিভিএফ) এবং ভালনারেবল-২০ এর সভাপতি হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। সিভিএফ এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামগ্রিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে মুজিব ক্লাইমেট প্রসপারিটি প্ল্যান ঘোষণা করেছেন।’

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ধনী দেশগুলোর প্রতিশ্রুত বার্ষিক ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান, আর্টিকেল-৬ (মার্কেট মেকানিজম) সহ প্যারিস জলবায়ু চুক্তির অন্যান্য বিষয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ঐক্যমতে পৌঁছবেন বলে আশাবাদ জানান মন্ত্রী।

‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যান’ হালনাগাদকরণ এবং বন ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার জন্য বিএমজেড এবং জার্মান উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং শহর এলাকায় অভিযোজন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সহ জলবায়ু পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে তিনি জার্মানির সহযোগিতা কামনা করেন।

শেয়ার করুন

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

২০২০ সালে ১০ একর জমির ওপর যাত্রা শুরু হয় বরগুনা বিসিকের। ফটক থেকে সোজা দক্ষিণ দিকের সড়ক ও তিনটি শাখা সড়কের দুই পাশে আছে মাঠ। সেখানেই ফুটেছে কাশফুল। প্রতিদিনই বিকেল হলে সেখানে ভিড় জমে দর্শনার্থীদের। 

বরগুনার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাসানুর রহমান ঝন্টু বেশির ভাগ সময়ই থাকেন ব্যস্ত। সাংবাদিকতার পাশাপাশি কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত তিনি। এ কারণে পরিবারকে সময় দেয়া হয় কম।

স্ত্রী ও মেয়ের আবদারে তাদের নিয়ে গত রোববার ঝন্টু বেড়াতে যান বরগুনা-বরইতলা সড়কের ক্রোক এলাকায়, সদ্যঃসমাপ্ত বিসিক শিল্পনগরীতে। সেখানে এখন মাঠ ছেয়ে আছে শরতের কাশফুলে।

এলাকার লোকজন এই জায়গাটির নাম দিয়েছে ‘বরগুনার দিয়াবাড়ি’। রাজধানীর উত্তরায় কাশফুলের জন্য জনপ্রিয় স্পট দিয়াবাড়ির অনুকরণেই এই নামকরণ।

কাশফুল দেখে শৈশবে পড়া রবীন্দ্রনাথের ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতার কিছু লাইন আওড়ে নিলেন ঝন্টু।

“‘চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা/ একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা..’ এসব কাশফুল দেখেই তো বড় হয়েছি। নদীতীরে কাশবনের দোল খাওয়া দেখেছি। এখন আর তেমনটা নেই। এখন এ রকম কোথাও কাশফুলের দেখা পেলেই মানুষ ছুটে আসে। এখানে নিরানন্দ সময়টা কাশবনে এসে একটু উপভোগ করছি।”

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

শরতের বিকেলের স্নিগ্ধতা যেন বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ছোটোখাটো এই কাশবন। বরগুনা শহর থেকে পশ্চিমে মাত্র পাঁচ মিনিট দূরে এই এলাকা।

২০২০ সালে ১০ একর জমির ওপর যাত্রা শুরু হয় বিসিকের। ফটক থেকে সোজা দক্ষিণ দিকের সড়ক ও তিনটি শাখা সড়কের দুই পাশে আছে মাঠ। সেখানেই ফুটেছে কাশফুল। প্রতিদিনই বিকেল হলে সেখানে ভিড় জমে দর্শনার্থীদের।

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

সদরের ঢলুয়া এলাকার তানিয়া জামান পরিবারসমেত সেখানে বেড়াতে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ব্যস্ত জীবনে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে আসা। বাড়ির কাছেই এত সুন্দর প্রকৃতির রূপ না দেখে থাকা যায়!’

স্থানীয় সমাজকর্মী জাফর হোসেনও স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কাশবনে। তিনি বলেন, ‘প্রকৃতিতেই প্রকৃত শান্তি। শরতের আবহাওয়া এমনিতেই চমৎকার। এর মধ্যে শুভ্র কাশের বন, অন্যরকম এক ভালোলাগা।

‘আমি ঢাকার দিয়াবাড়িতেও ভ্রমণ করেছি। এই স্থানটি দেখে আমার মনে হয় এটা বরগুনার দিয়াবাড়ি। যারা এখানে আসি আমরাই এর নাম দিয়েছি- বরগুনার দিয়াবাড়ি।’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

নীল শাড়িতে সেজে বন্ধুদের সঙ্গে কাশবনে এসেছেন নিয়ে বেড়াতে এসেছেন অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নূর-ই জান্নাত।

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ লকডাউনে ঘরে বন্দি প্রায়। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয় না। একঘেয়ে জীবন। তাই সবাই পরিকল্পনা করে কাশফুলের দোল খাওয়া দেখতে এখানে চলে এসেছি।’

শরতের কাশফুলে ছেয়েছে আরেক ‘দিয়াবাড়ি’

বিসিকের প্রকল্প পরিচালক আমিনুল ইসলাম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রকল্পে এখন প্লট বরাদ্দের কাজ চলছে। যে স্থানে প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে ওই স্থানে বালি ভরাট করে রাখা হয়েছে। সেখানেই এখন কাশফুলের সমারোহ।

‘প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন এখানে। একটা জমজমাট পরিবেশ। বেশ ভালো লাগে। এখনও এখানে বিসিকের কলকারখানা স্থাপন শুরু হয়নি। তাই নিরাপত্তাজনিত কোনো সমস্যা হয় না।’

শেয়ার করুন

সংরক্ষিত বনে প্রশিক্ষণ একাডেমি চায় না সংসদীয় কমিটি

সংরক্ষিত বনে প্রশিক্ষণ একাডেমি চায় না সংসদীয় কমিটি

কক্সবাজারের কলাতলীর শুকনাছড়ি এলাকায় এই বনভূমিতেই সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি করার জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের চূড়ান্ত ছাড়পত্র না দিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে সুপারিশ করা হয়েছে। সংসদীয় কমিটি বলেছে, তারা প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের বিপক্ষে নয়, কিন্তু সেটি সংরক্ষিত বনভূমির জায়গায় করা যাবে না।

কক্সবাজারে সংরক্ষিত বনভূমির ৭০০ একর জায়গায় জুড়ে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের বিরোধিতা করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে ওই প্রকল্পের চূড়ান্ত ছাড়পত্র না দিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করার সুপারিশ করেছে তারা। সংসদীয় কমিটি বলেছে, তারা প্রশিক্ষণ একাডেমি নির্মাণের বিপক্ষে নয়, কিন্তু সেটি সংরক্ষিত বনভূমির জায়গায় করা যাবে না।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে একাদশ জাতীয় সংসদের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ২২তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে অংশ নেন পরিবেশন, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, তানভীর শাকিল জয়, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এবং মো. শাহীন চাকলাদার।

বৈঠকে ফিজিবিলিটি স্টাডি অফ ট্রান্সবাউন্ডারি ওয়াইল্ড লাইফ করিডোর ইন চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্ট অ্যান্ড কক্সবাজার উইথ মিয়ানমার অ্যান্ড ইন্ডিয়া শীর্ষক প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি; আসন্ন কপ-২৬ সম্মেলনের প্রস্তুতি এবং বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকিভাতা দেয়ার প্রস্তাবনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

কমিটি পরিবেশ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে পরিবহনসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সুবিধা দিতেও সুপারিশ করে স্থায়ী কমিটি।

২০২১-২০২২ অর্থ-বছরে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতেও তাগিদ দেয়া হয়।

বনবিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ঝুঁকি ভাতা জাতীয় বেতন স্কেল, ২০০৯ অনুযায়ী না দিয়ে বেতন স্কেল, ২০১৫ অনুযায়ী দিতে সরকারের প্রতি সুপারিশ রাখে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষকসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

চরে ছাড়া হলো রাসেলস ভাইপার, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

চরে ছাড়া হলো রাসেলস ভাইপার, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে ভেসে আসা বিষধর রাসেলস ভাইপারকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। ছবি: নিউজবাংলা

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের সহসভাপতি শাহাবউদ্দীন মিলন জানান, সাপটি বেশ অসুস্থ ছিল। ছেড়ে দেয়ার পর এটি ধীরগতিতে যেতে থাকে। এর প্রজননজনিত অসুস্থতা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কুষ্টিয়া শহরের মঙ্গলবাড়ীয়ায় গড়াই নদীর তীরে আসা রাসেলস ভাইপারকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে প্রকৃতিপ্রেমী ও স্থানীয়দের মধ্যে।

প্রকৃতিপ্রেমীরা বলছেন, পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। সব প্রাণীকেই বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

অন্যদিকে বিষধর রাসেলস ভাইপারকে ছেড়ে দেয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ অনেকেই। তাদের দাবি, মানুষের জীবন আগে। বিষধর সাপ মেরে ফেলাই মঙ্গল বলছেন তারা।

পদ্মার প্রধান শাখা নদী গড়াইয়ের তীরে কুষ্টিয়ার মঙ্গলবাড়ীয়া থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে ধরা হয় রাসেলস ভাইপারটিকে। এটি কাশবনে জড়িয়ে ছিল।

মো. মৃদুল নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা ছোট ঠেলা জাল দিয়ে সাপটিকে ধরে তার বাড়ি নিয়ে যান। তিনি সাপটিকে অজগরের বাচ্চা মনে করে বিক্রির চিন্তা করছিলেন।

পরে কুষ্টিয়া বন বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেন, এটি রাসেলস ভাইপার; বিশ্বের অন্যতম বিষধর সাপ।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের সহসভাপতি শাহাবউদ্দীন মিলন সাপটিকে প্রকৃতিতে ছেড়ে দিয়েছেন।

শাহাবউদ্দীন বলেন, ‘শনিবার বিকেলে মঙ্গলবাড়িয়া থেকে রাসেলস ভাইপারটি নিয়ে ভেড়ামারা গোলাপনগরে পদ্মা নদীর ওপারে দুর্গম চরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছে রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাপটিকে ছেড়ে দেয়া হয়।’

তিনি জানান, সাপটি বেশ অসুস্থ ছিল। ছেড়ে দেয়ার পর এটি ধীরগতিতে যেতে থাকে। এর প্রজননজনিত অসুস্থতা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চরে ছাড়া হলো রাসেলস ভাইপার, ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
গড়াই নদীতীরের কাশবন থেকে উদ্ধার করা বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপার। ছবি: নিউজবাংলা

শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘সৃষ্টিকর্তা প্রতিটি প্রাণীকে শৃঙ্খলে সাজিয়ে রেখেছেন। ইকোসিস্টেম টিকিয়ে রাখতে প্রকৃতিতে প্রতিটি প্রাণীকেই বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

‘রাসেলস ভাইপারটি তার আবাস ছেড়ে ভুল করে চলে এসেছিল। এ জন্য আমরা আবার তার উপযোগী পরিবেশে ছেড়ে এসেছি।’

কুষ্টিয়া সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ছালেহ শোয়াইব খান জানান, বিলুপ্তপ্রায় সাপটি বন্যার পানিতে ভারত থেকে ভেসে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এটা প্রকৃতি থেকে যেমন ধরা হয়েছে, তেমনি প্রকৃতিতেই ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বাস উপযোগী দুর্গম চরাঞ্চলেই সাপটিকে অবমুক্ত করা হয়েছে।’

এদিকে বিষধর সাপটিকে নিয়ে মঙ্গলবাড়ীয়া এলাকার বাসিন্দা এবং কুষ্টিয়ার হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিলন মণ্ডল বলেন, ‘সবার আগে দরকার মানুষের জীবন রক্ষা করা। ধর্মেও জীবন রক্ষায় গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সেখানে এত বিষধর সাপ ধরে ছেড়ে দেয়া বোকামি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সাপ আবারও পানিতে ভেসে চলে আসতে পারে; মানুষের জীবনহানি করতে পারে।’

স্থানীয় এক সাংবাদিক বলেন, ‘এত বিষধর সাপটিকে হত্যা না করে ছেড়ে দিয়ে ভণ্ডামি করা হয়েছে। লোক দেখানো প্রকৃতিপ্রেম।’

আশিক হোসেন সেতু নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘সাপটাকে ছেড়ে না দিয়ে মেরে ফেলাই ভালো ছিল।’

এ সাপ সম্পর্কে সচেতন করতে মাইকিং করার দাবি জানান খাদেমুল ইসলাম নামের স্থানীয় একজন।

পদ্মা অববাহিকা দিয়ে বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসতে শুরু করেছে বিষধর সাপ রাসেলস ভাইপার। শরীয়তপুরে পদ্মার চরে গত বছর ভারত থেকে আসা সাপের প্রজাতিটির দেখা মেলার পর এ বছর এর আনাগোনা বেড়েছে।

সাপটি দেশে চন্দ্রবোড়া নামে পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম Daboia russelii

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভেনোম রিসোর্স সেন্টারের প্রশিক্ষক ও গবেষক বোরহান বিশ্বাস জানান, ভারত থেকে ২০১০-১১ সালের দিকে পদ্মার অববাহিকা ধরে রাসেলস ভাইপার বাংলাদেশে এসেছে। রাজশাহীতে প্রথম রাসেলস ভাইপারের দেখা মেলে। এরপর পাবনা, কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও শরীয়তপুরে দেখা মিলেছে। চাঁদপুরেও বিষধর সাপটি পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, রাসেলস ভাইপার বছরে ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরের এলাকায়ও যেতে পারে। তারা নদীর পানিতে চলার সময় কচুরিপানায় ভেসে থাকে। নদীর তীরবর্তী ২০০ মিটারের মধ্যে সাধারণত আবাস গড়ে এরা। তীরের ধানক্ষেত তাদের থাকার জন্য সবচেয়ে পছন্দের জায়গা। সাধারণত লোকালয়ে যায় না এ সাপ।

সঠিক তথ্য না থাকলেও নদীপাড়ের বাসিন্দাদের মৌখিক হিসাবে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক রাসেলস ভাইপার পাওয়া গেছে।

দেখামাত্রই এসব সাপ পিটিয়ে মেরে ফেলছেন স্থানীয়রা।

কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর পাড়ে গত সপ্তাহে একটি রাসেলস ভাইপার পিটিয়ে মারা হয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে হরিপুরে পাওয়া গেছে একটি মরা রাসেলস ভাইপার।

শেয়ার করুন

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

টাঙ্গুয়ার হাওরের পারে-পানিতে ভাসতে দেখা যায় পর্যটকদের ফেলা বর্জ্য। ছবি: নিউজবাংলা

হাওরের নৌকাচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘মানুষকে নৌকায় ওঠার আগে আমরা বলে দেই যে ময়লাগুলো নির্ধারিত জায়গায় ফেলতে। তারা আমার কথা শোনেন না। প্যাকেট-বোতল আর ভাত-তরকারি সবই হাওরে ফেলেন।’

করোনায় দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি থাকা প্রকৃতিপ্রেমীরা এখন ছুটে বেড়াচ্ছেন সাগর থেকে পাহাড়ে। তবে পাহাড় ও জলাশয়ের মিতালি দেখতে দেশের পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য সুনামগঞ্জের তাহিরপুর। সেখানেই আছে বাংলার কাশ্মীর খ্যাত নিলাদ্রি লেক ও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির স্পট টাঙ্গুয়ার হাওর।

সরকারি বিধিনিষেধ শেষে সেখানে ছুটির দিনে উপচে পড়া ভিড় তো থাকেই, কর্মদিবসেও পর্যটকদের আনাগোনায় চাঙা থাকে এলাকা। তবে যে প্রকৃতি দেখে মানুষ মন জুড়িয়ে নিচ্ছেন, যেখান থেকে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন প্রাণ ভরে, সে প্রকৃতিকে তারাই আবার দূষিত করছেন বর্জ্যে।

টাঙ্গুয়ার হাওর ও নিলাদ্রি লেকে গত দুই দিন ঘুরে দেখা গেছে, যেখানে-সেখানে পড়ে আছে প্লাস্টিকের বোতল, নানা খাদ্যপণ্যের প্যাকেট এমনকি মাস্কও। এসব বর্জ্য গিয়ে মিশছে জলাশয়ে। তাতে যেমন পর্যটন স্পটের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, তেমন দূষিত হচ্ছে পরিবেশও।

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

বন্ধুদের নিয়ে কুমিল্লা থেকে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে যান ফাইয়াজ ফাহিম। তিনি বলেন, ‘এখানে প্রথমবার এসেছি ঘুরতে। সত্যিই সুন্দর জায়গা। এই সৌন্দর্যটা আমাদেরই ধরে রাখতে হবে।

‘তবে সবচেয়ে খারাপ বিষয়, হাওরে অনেক পর্যটক আসেন, আমিও একজন পর্যটক, কিন্তু চিপস খাচ্ছেন সেই প্যাকেটটা পানিতে ফেলছেন, পানি খাচ্ছেন সেই বোতলটা পানিতে ফেলছেন। এটা পরিবেশের জন্য খারাপ। আমরা চাইব এগুলো বন্ধ করা হোক। এসব যারা করবে তাদের শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা উচিত।’

স্থানীয় নৌকাচালক আবুল হোসেন বলেন, ‘মানুষকে নৌকায় ওঠার আগে আমরা বলে দেই যে ময়লাগুলো নির্ধারিত জায়গায় ফেলতে। তারা আমার কথা শোনেন না। যার যেখানে ইচ্ছা ফেলতে থাকেন। আমাদের কিছু বলার থাকে না। তারা প্যাকেট-বোতল আর ভাত-তরকারি সবই হাওরে ফেলেন। আমরা দেখলে না করি, কিন্তু কে শোনে কার কথা।’

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

নিলাদ্রি লেক এলাকার বাসিন্দা অরিন্দ দাশ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘মানুষ ঘুরতে আসেন, খুব ভালো লাগে। সুনামগঞ্জকে মানুষ চেনেন। তবে আরেক দিকে খারাপ লাগে যে তারা এসে যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে ময়লা-আবর্জনা ফেলেন। টেকেরঘাটের পাড় আর পানির অবস্থাটা দেখেন, কীভাবে ময়লা ফেলে রেখেছে। প্রশাসনের উচিত এখানে নজরদারি বাড়ানো।’

এ বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেট শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম কিমের সঙ্গে।

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও কিছুদিন আগে টাঙ্গুয়ার হাওরে গিয়েছি। এখানে রাতে উচ্চ শব্দে গান বাজানো, খাবার খেয়ে বর্জ্যগুলো পানিতে ফেলা হয়। এতে করে টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকার পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

‘আমি মনে করি এখানে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একজন সহকারী কমিশনারের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত টহল বাড়াতে হবে, যাতে করে এসব বন্ধ করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ময়লা-আবর্জনা-প্লাস্টিক ফেলার জন্য মাঝি ও তার সহযোগীদের প্রশিক্ষণ দেয়া জরুরি, যেন তাদের মাধ্যমে পর্যটকরা সচেতন হন। সেই সঙ্গে দেশের বৃহত্তম রামসার সাইট হওয়ায় টাঙ্গুয়ার হাওর সংরক্ষণে পর্যটকদের আনাগোনাও নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।

পর্যটকদের বর্জ্যে সয়লাব হাওর

তাহিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হান কবির বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত এখানে অভিযান চালাচ্ছি। গত বৃহস্পতিবারও আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি।

‘তবে টাঙ্গুয়ার হাওরটি বিশাল হওয়ায় এবং হাওরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে পর্যটকরা আসায় নিয়ন্ত্রণ করা কষ্টসাধ্য। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা নিয়মিত এখানে মাইকিং-মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছি এবং সেটি অব্যাহত থাকবে।’

শেয়ার করুন

মায়া হরিণ ফিরল সুন্দরবনে

মায়া হরিণ ফিরল সুন্দরবনে

সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে আসা একটি মায়া হরিণ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। ছবি: নিউজবাংলা

চাঁদপাই রে‌ঞ্জের এ‌সিএফ এনামুল হক ব‌লেন, ‘নেটে আটকা পড়ে হরিণটির বেঁধে যাওয়ার স্থানে সামান্য ক্ষতের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রায় দুই ঘণ্টা পর হরিণটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। পরে হরিণটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়।’

সুন্দরবন থেকে লোকালয়ে আসা একটি মায়া হরিণ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের জয়মনি এলাকার গাজী বাড়ির পেছন থেকে রোববার সকাল ৬টার দিকে হরিণটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে হরিণটিকে চাঁদপাই রেঞ্জ অফিসে নিয়ে আসা হয়।

বন বিভাগের প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বলেন, ‘মায়া হরিণটি পুরুষ। এর ওজন আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ কেজি হবে।'

চাঁদপাই রে‌ঞ্জের এ‌সিএফ এনামুল হক ব‌লেন, ‘নেটে আটকা পড়ে হরিণটির বেঁধে যাওয়ার স্থানে সামান্য ক্ষতের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রায় দুই ঘণ্টা পর হরিণটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায়। পরে চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মায়া হরিণটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়।’

উদ্ধারকাজে বন বিভাগ থেকে চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান, বন বিভাগ প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, ওহিবুল ইসলাম, সিপিজি সদস্য এনামুল সরদার, সপন মোল্যা ছিলেন।

শেয়ার করুন