রাজশাহী মেডিক্যাল

বিদ্যুতের অভাবে ২ বছরেও চালু হয়নি শিশুদের ৪০ শয্যা

বিদ্যুতের অভাবে ২ বছরেও চালু হয়নি শিশুদের ৪০ শয্যা

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক স্পেশাল কেয়ার নিওনেটাল ইউনিট (স্ক্যানো)। ছবি: নিউজবাংলা

রাজশাহী মেডিক্যালের পরিচালক শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘এই মেশিনগুলো চালাতে অনেক ভোল্টেজ দরকার। আমাদের হাসপাতালে বর্তমানে যে লাইন আছে, তা দিয়ে যদি সাপ্লাই দেয়া যায়, তখন এটি প্রপার ভোল্টেজ পায় না। আমার আগের ডাইরেক্টরও এটি চালুর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু পারেননি। আমি এসে যখন দেখলাম, তখন এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

মৃত্যুহার কমানোর পাশাপাশি শিশুদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) আধুনিক স্পেশাল কেয়ার নিওনেটাল ইউনিটে (স্ক্যানো) ৪০টি বেড দেয় ইউনিসেফ। গত দুই বছরে শুধু বিদ্যুতের অভাবে তা চালু করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে আধুনিক চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা।

রামেক হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, শিশুমৃত্যুর হার কমাতে ২০১৯ সালে হাসপাতালে ৪০টি আধুনিক শয্যা দেয় ইউনিসেফ। স্ক্যানো ইউনিট মূলত প্রি-ম্যাচিউরড শিশুসহ ২৮ দিন বয়সী শিশুদের জীবন রক্ষায় বিশেষ উপযোগী সেবা।

ইউনিটটিতে আছে র‍্যাডিয়েন্ট ওয়ার্মার, পালস অক্সিমিটার, ফটোথেরাপি, অক্সিজেন কনসেনট্রেটরসহ আধুনিক সব যন্ত্রপাতি। অপরিপক্ব, স্বল্প ওজনসহ নানাবিধ জটিল সমস্যা নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুদের উন্নত চিকিৎসা দেয়া সম্ভব এখানে।

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ নওশাদ আলী বলেন, ‘আমাদের এখানে এই ইউনিট আছে। তবে এটি চালু করতে পারিনি। বাচ্চাদের স্পেশাল কেয়ার দেয়ার জন্য এটি করা হয়েছে।

‘সবকিছু সাজিয়ে-গুছিয়ে নেয়ার পরও এটি দুই বছর ধরে পড়ে আছে। ইউনিসেফ এটি আমাদের করে দেয়। এগুলোর দামও অনেক। এক একটি বেডের দামও প্রায় আইসিইউর সমান।’

রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. বেলাল উদ্দিন জানান, স্ক্যানো এখনও চালু হয়নি। এটি তৈরির কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। শুধু বিদ্যুতের কারণে এটি চালু হতে দেরি হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মূলত লোড নিতে না পারায় আলাদা ট্রান্সমিটার লাগিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে। মেশিন চালানোর লোড পেতে সময় লাগছে।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বলেন, ‘বিদেশি কোম্পানির সহায়তায় এ যন্ত্রগুলো দেয়া হয়েছিল। রামেকের স্ক্যানো ইউনিট মূলত শিশুদের প্রপার ট্রিটমেন্ট দেয়ার জন্য বানানো হয়েছে। বিদ্যুতের অভাবেই এটি পড়ে আছে।

‘এ মেশিনগুলো চালাতে অনেক ভোল্টেজ দরকার। আমাদের হাসপাতালে বর্তমানে যে লাইন আছে, তা দিয়ে যদি সাপ্লাই দেয়া যায়, তখন এটি প্রপার ভোল্টেজ পায় না। আমার আগের ডাইরেক্টরও এটি চালুর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু পারেননি। আমি এসে যখন দেখলাম, তখন এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এখানে দুটি সাবস্টেশন আছে। একটি আউটডোর এলাকায় ৬৫০ কিলোভোল্ট (কেভি)। আর নতুনটি মেডিক্যাল কলেজের পাশে ১ হাজার কেভি। সেটা থেকে হাসপাতালে কোনো লাইন নেই।

‘মূলত সবাই চাচ্ছিল সেখান থেকে লাইন নিতে। এখান থেকে লাইন নিতে ১০ লাখ টাকার দরকার পড়ে। পরে এটি পাস করে তার টানা হয়েছে। যখন তার টানা শেষ হয়েছে ,তখনই করোনা শুরু হয়। তখন এটিকে আমরা করোনা ইউনিট করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন এটি সাধারণ ইউনিট ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্যুতের লাইনও পেয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই এ ইউনিটটি চালু হবে বলে আশা করছি।’

আরও পড়ুন:
করোনায় রাজশাহী মেডিক্যালে সক্ষমতা বেড়েছে কয়েকগুণ
রাজশাহী মেডিক্যালে শুরু প্যাথলজি টেস্ট

শেয়ার করুন

শনাক্তের হার আরও কমে ৪.৫, মৃত্যু ৩১

শনাক্তের হার আরও কমে ৪.৫, মৃত্যু ৩১

দেশের ৮১৫টি ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় ২৭ হাজার ১৪১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এর চেয়ে কম শনাক্ত ছিল গত ৭ মার্চ। সেদিন শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এ নিয়ে টানা চার দিন শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে সংক্রমণ ধরা পড়েছে আরও ১ হাজার ২৩৩ জনের দেহে। কমেছে শনাক্তের হারও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে শুক্রবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে জানানো হয়, দেশে এ পর্যন্ত করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে ১৫ লাখ ৪৯ হাজার ৫৫৩ জনের দেহে। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২৭ হাজার ৩৬৮ জনের।

দেশের ৮১৫টি ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় ২৭ হাজার ১৪১টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনাক্তের হার ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এর চেয়ে কম শনাক্ত ছিল গত ৭ মার্চ। সেদিন শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

এ নিয়ে টানা চার দিন শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো দেশে টানা দুই সপ্তাহ শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে সে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা হয়।

গত মঙ্গলবার থেকে দেশে করোনা শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নামতে থাকে। মঙ্গলবার শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ, বুধবার ছিল ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ ও বৃহস্পতিবার ছিল ৪ দশমিক ৬১।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবার বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পুরুষ ১৮ জন, নারী ১৩ জন। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। বাকিদের মধ্যে বিশোর্ধ্ব ২, ত্রিশোর্ধ্ব ১, চল্লিশোর্ধ্ব ৪, পঞ্চাশোর্ধ্ব ৬, ষাটোর্ধ্ব ৯ ও সত্তরোর্ধ্ব ৮ জন।

বিভাগ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রামে ৮, রাজশাহীতে ২, রংপুরে ২, খুলনায় ১, সিলেটে ১ ও ময়মনসিংহে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৪১৩ জন। এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১৫ লাখ ৯ হাজার ৫০৯ জন। সুস্থতার হার ৯৭ দশমিক ২৩।

দেশে করোনাভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। সে বছরের ডিসেম্বরে প্রথম ঢেউ নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর মার্চে দেখা দেয় দ্বিতীয় ঢেউ। পরে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করে।

মাস পাঁচেক পর পরিস্থিতি আবার নিয়ন্ত্রণের পথে। গত কয়েক দিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে কমছে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা।

চলতি বছরের এপ্রিল, মে, জুন ও জুলাই মাসে পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। একপর্যায়ে তা ৩০ শতাংশও হয়ে যায়।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এপ্রিলে লকডাউন ও পরে জুলাইয়ে দেয়া হয় শাটডাউন নামে কঠোর বিধিনিষেধ। ১১ আগস্ট বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের পর থেকে করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃত্যু ধীরে ধীরে কমে আসছে।

আরও পড়ুন:
করোনায় রাজশাহী মেডিক্যালে সক্ষমতা বেড়েছে কয়েকগুণ
রাজশাহী মেডিক্যালে শুরু প্যাথলজি টেস্ট

শেয়ার করুন

হাসপাতালে শয্যা বাড়ছে, সেবা না

হাসপাতালে শয্যা বাড়ছে, সেবা না

সিলেট বিভাগে ২২টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হয়েছে। তবে এগুলোর কোনোটিরই জনবল বা সরঞ্জাম বাড়েনি। ফলে চিকিৎসাসেবায় চাপ আগের চেয়ে বেড়েছে।

৩১ শয্যার শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০১২ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। তবে দীর্ঘ ৯ বছরেও এখানে নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়নি। এ নিয়ে ছয়বার আবেদন করা হয়। সবশেষ গত বছরের মার্চে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে লোকবল বাড়ানোর চিঠি পাঠানো হয়। তাতেও কাজ হয়নি।

এমনকি এখানে ৩১ শয্যার সেবা চালানোর লোকবলও নেই। এ ছাড়া ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাফ যন্ত্র থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে এগুলো অব্যবহৃত পড়ে আছে। এক্স-রে মেশিন বিকল অনেক দিন ধরে।

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকেও ২০১৬ সালে ৫০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করা হয়। পাঁচ বছরেও বাড়ানো হয়নি এর লোকবল। নেই ৫০ শয্যার অনুপাতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও ওষুধপাতি। এখানেও একমাত্র এক্স-রে মেশিন বিকল। বিকল অ্যাম্বুলেন্সও।

সিলেটের প্রায় সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সেবার নাজুক অবস্থা। তড়িঘড়ি করে শয্যার বাড়ানোর নামে অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু বাড়ছে না সেবার পরিধি। শয্যা বাড়ালেও বাড়ছে না লোকবল, যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক সুবিধা। ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে রোগী ও চিকিৎসকদের।

হাসপাতালগুলোতে রোগ নির্ণয়ের অনেক যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট। কোনোটিতে যন্ত্র থাকলেও নেই টেকনিশিয়ান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর দুরবস্থা সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় বলেন, ‘সিলেটের স্বাস্থ্য খাত অন্যান্য বিভাগের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। জনবল সংকট রয়েছে সিলেট জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে। ২০১১ সালের পর আর কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি এই বিভাগে।’

তিনি বলেন, ‘সিলেট বিভাগে শুধু হাসপাতাল ভবনের নামে বক্স বানানো হচ্ছে। কিন্তু এই বক্সে কে থাকবে, কারা সেবা নিবে, কারা সেবা দিবে, কী দিয়ে সেবা দিবে– এগুলো নিয়ে কেউ ভাবে না। শুধু একের পর এক ভবন বানানো হচ্ছে। আর হাসপাতালের শয্যা বাড়ানো হচ্ছে।’

৩০ শতাংশ চিকিৎসক

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট বিভাগে ৩৮ উপজেলায় ৩৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। এর মধ্যে গত ১০ বছরে পর্যায়ক্রমে ২২টিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। ১২টি এখনও আছে ৩১ শয্যায়।

হাসপাতালে শয্যা বাড়ছে, সেবা না

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্মকর্তারা জানান, রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য একটি ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ জন চিকিৎসক, ১৫ জন দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা, ৬৭ জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী ও ২৩ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী প্রয়োজন। প্রতিটি হাসপাতালে দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা রয়েছে।

তবে ২৪ জনের জায়গায় সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ ৫০ শয্যার হাসপাতালে কর্মরত আছেন ৪ থেকে ৭ জন চিকিৎসক। দিরাই ও কুলাউড়ায় আছেন ৪ জন, শ্রীমঙ্গলে ৫ জন।

৩১ শয্যার হাসপাতালগুলোর অবস্থা আরও খারাপ। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের শাল্লায় আছেন মাত্র একজন চিকিৎসক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সিলেটের ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলো প্রয়োজনের তুলনায় মাত্র ৩০ শতাংশ চিকিৎসক, ৩৫ শতাংশ ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পদে (দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) মাত্র ৩০ শতাংশ জনবল রয়েছে।

বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১১টিতে আছে উপজেলা হাসপাতাল। এগুলোর মধ্যে ২০০৯ সালে গোয়াইনঘাট ও বিয়ানীবাজার উপজেলা হাসপাতাল ৩১ থেকে ৫০ শয্যা করা হয়েছে। ২০১৩ সালে গোলাপগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। ২০১৬ সালে জৈন্তাপুর, ২০১৭ সালে ফেঞ্চুগঞ্জ ও ২০১৮ সালে দক্ষিণ সুরমা, বিশ্বনাথ, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।

কয়েক কোটি টাকা ব্যয় করে হাসপাতাল ভবন নির্মাণেই এখন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হাসপাতালের কার্যক্রম। উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ৩১ শয্যার হাসপাতালের জনবলই নেই। ফলে ৫০ শয্যার হাসপাতাল চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

পুরো বিভাগে চিকিৎসক প্রয়োজন ৯১০ জন; কিন্তু কমর্রত আছেন ৪০০ জন। সিনিয়র স্টাফ নার্স প্রয়োজন ১ হাজার ৩২৩ জন, কর্মরত আছেন ১ হাজার ১৪৭ জন। নার্সিং সুপারভাইজার প্রয়োজন ৪৬ জন, আছেন ২৩ জন। স্টাফ নার্স প্রয়োজন ৫৬ জন, আছেন ২৭ জন। মিডওয়াইফ প্রয়োজন ১৭৪ জন, আছেন ৯৫ জন। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) প্রয়োজন ৯০ জন, আছেন ২২ জন। রেডিওগ্রাফি (এক্স-রে) টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন ৩৪ জন, কমর্রত আছেন ১০ জন। ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন ১৭০ জন, আছেন ২৯ জন।

সরঞ্জাম সংকট

বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৪০টি এক্স-রে মেশিন থাকলেও সচল আছে মাত্র ১৪টি। সচল এক্স-রে মেশিনের মধ্যে সিলেট জেলায় আছে চারটি, সুনামগঞ্জ জেলায় তিনটি, হবিগঞ্জ জেলায় দুটি ও মৌলভীবাজার জেলায় আছে পাঁচটি।

সিলেট বিভাগের ৩৪ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স আছে ৪৭টি। এর মধ্যে সচল আছে ৩৪টি। এর মধ্যে সিলেট জেলায় আছে ১১টি, সুনামগঞ্জ জেলায় ৯টি, হবিগঞ্জ জেলায় আছে ছয়টি ও মৌলভীবাজার জেলায় আছে আটটি।

সুনামগঞ্জ

জেলার সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসকের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

২৫০ শয্যার সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতাল সম্প্রতি আটতলা ভবন ও নতুন নতুন চিকিৎসা সরঞ্জাম পেলেও লোকবলের অভাবে তা নষ্ট হচ্ছে।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৯৯৩ পদের বিপরীতে আছেন ৯৮০ জন। পদ শূন্য ১০১০টি।

প্রথম শ্রেণির ২৯৮ পদের মধ্যে খালি রয়েছে ১৬৬টি। সিনিয়র কনসালট্যান্ট ১০টির মধ্যে কর্মরত আছেন পাঁচজন, জুনিয়র কনসালট্যান্ট ৬৬টির মধ্যে আছেন ৯ জন, আবাসিক চিকিৎসক ১৩টি পদের মধ্যে খালি আছে ৮টি, আবাসিক ফিজিশিয়ান ও আবাসিক সার্জনের একটি করে পদ থাকলেও সেগুলো খালি রয়েছে।

চিকিৎসা কর্মকর্তার ৬১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩৪ জন। জরুরি চিকিৎসা কর্মকর্তার ২৯টির মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। সহকারী রেজিস্ট্রার/সার্জন পদে ৭৩ জনের মধ্যে ৪৯ জন, চিকিৎসা কর্মকর্তা (আয়ুর্বেদিক/ হোমিওপ্যাথিক) পদে দুই জনের মধ্যে একজন কর্মরত আছেন। রেডিওলজিস্ট দুটি পদের মধ্যে সব খালি। প্যাথোলজিস্ট দুটি পদের মধ্যে আছেন একজন। আর অ্যানেসথেসিস্ট আটটি পদের বিপরীতে আছেন একজন।

হাসপাতালে শয্যা বাড়ছে, সেবা না

জেলার স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় শ্রেণির ৪৪৭ পদের বিপরীতে আছেন ২৬৫ জন। এর মধ্যে বেশির ভাগ সংকট রয়েছে সিনিয়র স্টাফ নার্স ও মিডওয়াইফ পদে। এগুলোতে ৪২৭ জনের বিপরীতে আছেন ২৫৩ জন। নার্সিং সুপারভাইজার ১৩টি পদের মধ্যে খালি রয়েছে পাঁচটি।

তৃতীয় শ্রেণির ৮৯৮ পদের মধ্যে খালি রয়েছে ৪৩৭টি। চতুর্থ শ্রেণির ২৮৪ পদের মধ্যে খালি রয়েছে ১৯৪টি।

সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন জানান, ‘জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে জনবল সংকট খুব বেশি। শূন্য পদে নিয়োগের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ ভালো জানেন। আমরা প্রতিনিয়ত চিঠিপত্র পাঠাচ্ছি। আশা করি, দ্রুতই এর সমাধান হবে।’

হবিগঞ্জ

যন্ত্রপাাতি, জনবল, পানি আর উন্নত সেবাসহ নানামুখী সংকটে হবিগঞ্জের চিকিৎসাব্যবস্থা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো তো বটেই, হবিগঞ্জ জেলা আধুনিক সদর হাসপাতালেও মিলছে না সঠিক চিকিৎসা। বাধ্য হয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয় থেকে জানা যায়, বর্তমানে হাসপাতালটিতে আছেন তত্ত্বাবধায়ক ও একজন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা। ৫৭ জন চিকিৎসকের জায়গায় আছেন মাত্র ২২ জন; ১২৩ জন নার্সের স্থলে আছেন ৩৭ জন এবং টেকনিশিয়ানসহ অন্য পদে ১১২ জনের স্থলে আছেন মাত্র ৫৫ জন।

হাসপাতালটি কাগজে-কলমে ২৫০ শয্যার হলেও প্রকৃত অর্থে চলছে ১০০ শয্যাতে। এখানে নেই পর্যাপ্তসংখ্যক শয্যা, স্যালাইন লাগানোর স্ট্যান্ড, ট্রলি বা হুইলচেয়ার। দীর্ঘদিন ধরে বিকল এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, ইসিজি, অ্যানেসথেসিয়া, মাইক্রোস্কোপ, অ্যানালাইজার, রেফ্রিজারেটর ও জিন এক্সপার্ট মেশিন।

এর মধ্যে নতুন কয়েকটি মেশিন এলেও দক্ষ জনবলের অভাবে সেগুলো ঢেকে রাখা হয়েছে সাদা কাপড়ে। রক্ত পরীক্ষা ছাড়া কোনো ধরনের পরীক্ষাই হয় না হাসপাতালটিতে। আবার অনেক মূল্যবান যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে।

হাসপাতালে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। একমাত্র পানির ট্যাংকটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর সেটি প্রতিস্থাপন করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে হাসপাতালের পানির একমাত্র উৎস করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে হাত ধোয়ার জন্য বসানো বেসিন ও হাসপাতাল কোয়ার্টারের একটি টিউবওয়েল।

এদিকে উদ্বোধনের চার বছর পরও হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের আটতলা নতুন ভবনের কার্যক্রম শুরু হয়নি। ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা ভবনটি ২০১৭ সালের জুলাই মাসে উদ্বোধন করেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিম।

সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের ক্যাম্পাস, পঞ্চম তলায় শিশু ওয়ার্ড এবং ষষ্ঠ তলায় করোনা আইসোলেশন সেন্টার। বাকি তলাগুলো এখনো ফাঁকা।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আমিনুল হক সরকার বলেন, ‘জনবল সংকটের কারণ চিকিৎসাসেবা অনেকটা ব্যাহত হচ্ছে। এই সংকটের মধ্যেও আমরা শতভাগ চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছি। তবে জনবল সংকট নিরসনে নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। আশা করি, শিগগির জনবল সংকট কিছুটা হলেও দূর হবে।’

তিনি বলেন, ‘পানি সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করছি। করোনাভাইরাসের প্রভাবের কারণে অনেক কাজই সম্ভব হয়নি। শয্যাসহ বিভিন্ন সরঞ্জামেরও চাহিদা জানিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন ভবনের কার্যক্রম আংশিক চালু করা হয়েছে। সেখানে অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বসানোর কাজ চলমান।’

নতুন ভবনের মধ্যে শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের ক্যাম্পাস থাকায় পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা এখান থেকে স্থানান্তর হলেই হাসপাতালের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু হবে বলে জানান তিনি।

আধুনিক সদর হাসপাতালের মতোই নাজুক অবস্থা জেলার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের। সেখানেও চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ানসহ প্রচুর পরিমাণে জনবল সংকট। কোথাও নেই অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ড্রাইভার। আর যন্ত্রাংশ সংকট আরও চরমে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে জানা যায়, জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ আটটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ১ হাজার ১৮৬টি পদের বিপরীতে আছেন ৭৫৪ জন। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণির ১৭৪ জনের স্থলে আছেন মাত্র ১০৩ জন, দ্বিতীয় শ্রেণির ১৬৮ জনের স্থলে আছেন ১২৭ জন, তৃতীয় শ্রেণির ৬৯১ জনের স্থলে আছেন ৪৪০ জন এবং চতুর্থ শ্রেণির ১৪৮ জনের স্থলে আছেন মাত্র ৮৪ জন।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শূন্য পদের সংখ্যা ১৮টি, মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬৩টি, চুনারুঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫২টি, বাহুবল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫৪টি, লাখাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৯টি, নবীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭৭টি, বানিয়াচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬১টি এবং আজমিরীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪৬টি।

হাসপাতালে শয্যা বাড়ছে, সেবা না

জেলার কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা ছাড়া কিছু পাওয়া যায় না। অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেটির সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।

মৌলভীবাজার

যন্ত্রপাতির অভাব, চিকিৎসক নার্সসহ বিভিন্ন পদে লোকবল সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে মৌলভীবাজারের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর চিকিৎসাসেবাও।

জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন ভর্তি হয় ৩০ থেকে ৫০ জন রোগী। তবে চিকিৎসক ও যন্ত্রপাতির সংকটে সেবা বঞ্চিত থাকতে হচ্ছে রোগীদের।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা উত্তর ভাড়াউড়া গ্রামের রতন বৈদ্য বলেন, এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কোনো সেবা পাওয়া যায় না। রোগীকে ভালো করে দেখার আগেই সদর হাসপাতালে রেফার করে দেয়া হয়।

তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সংকটের মধ্যেও আমরা রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। জনবল চেয়ে সিভিল সার্জন অফিসে চিঠি পাঠিয়েছি। ৫০ শয্যার জনবল নিয়োগ হলে রোগীরা আরও ভালো সেবা পাবেন।’

কমলগঞ্জ উপজেলায় ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি তিন বছর আগে ৫০ শয্যায় উত্তীর্ণ হয়। তবে এখানকার ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন, সনোলজি মেশিন থাকলেও তা বাক্সবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। সনোলজিস্ট, চিকিৎসক, ফার্মাসিস্টসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো খালি।

এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১৯ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১২ জন। মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ১২ জনের জায়গায় আছেন ৯ জন। ফার্মাসিস্ট পদে ৩ জনের স্থলে কেউই নেই। প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরিতে ২ জনের জায়গায় কাজ করছেন ১ জন।

কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম ভূঁইয়া বলেন, ‘চিকিৎসকের চারটি পদ শূন্য আছে। গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি ও অ্যানেসথেসিয়া কনসালট্যান্ট নেই। লোকবলের অভাবে ডিজিটাল এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন চালানো যাচ্ছে না। কোনো ফার্মাসিস্ট নেই।

রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের পদ আছে ১০টি। এর মধ্যে বিশেষজ্ঞ চারটি পদ শল্যচিকিৎসক (সার্জারি), দন্ত চিকিৎসক, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং গাইনি চিকিৎসকের পদ অনেক দিন ধরে শূন্য পড়ে আছে। এখানে ৬ জন মেডিক্যাল চিকিৎসক পদের মধ্যে বর্তমানে ৪ জন কর্মরত আছেন।

১৫ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের বিপরীতে আছেন ৮ জন। এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কোনো ল্যাব নেই। এক্স-রে মেশিন থাকলেও অপরারেটর না থাকায় ২০১১ সাল থেকে এটি অব্যহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। বন্ধ রয়েছে অপারেশন থিয়েটারও। হাসপাতালের দুটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে একটি অচল।

রাজনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বর্ণালী দাস বলেন, ‘লোকবল যা আছে, তা দিয়েই আমরা চালাচ্ছি। নতুন ভবনের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।’

কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৯৯৫ সালে এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা হয়। তবে ১৯৯৮ সালে এক্স-রে মেশিন পরিচালনার জন্য রেডিওলজিস্ট পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর থেকে এক্স-রে মেশিন বন্ধ থাকে। ১০ বছর আগে আসা ইসিজি যন্ত্রটিও টেকনোলজিস্টের অভাবে এখনও প্যাকেটবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মী জানান, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এক্স-রে মেশিনটি মেরামত করে অস্থায়ী একজন রেডিওলজিস্ট নিয়োগের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম চালু করা হবে। পরে টেকনিশিয়ানরা মেশিনটি পর্যবেক্ষণ করে জানান, এটি আর সচল করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, ‘২০২০ সালের নভেম্বর মাসে স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সভায় নতুন এক্স-রে মেশিন সংযোজনের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদা চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। পুরাতন অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামতের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাখালী টেমো (গাড়ি মেরামত) কার্যালয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। সেখানকার বিশেষজ্ঞ একটি টিম কয়েক মাস আগে অ্যাম্বুলেন্সটি দেখে গিয়েছেন। এখনও সেটি মেরামতের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’

হাসপাতালে শয্যা বাড়ছে, সেবা না

কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌস আকতার বলেন, ‘আমি মাস তিনেক হলো এখানে এসেছি। লোকবলসহ এক্স-রে মেশিন নতুন সংযোজনের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানানো আছে। এ ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সচল করতে প্রতি মাসেই লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।’

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০১৮ সালে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছিল; কিন্তু সে অনুপাতে বাড়েনি সেবার মান। বাড়েনি লোকবলও।

এমনকি ৩১ শয্যার জনবলের মধ্যে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (রেডিওগ্রাফি) পদটি ১৫ বছর ধরে শূন্য। এতে রোগীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে সুবিধা পাচ্ছেন না। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের (ল্যাব) দুটি পদের একটি শূন্য। এতে সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রোগীদের ছুটতে হয় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

অন্যদিকে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ও আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) পদটি শূন্য আছে। উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারের (স্যাকমো) ১৩টি পদের মধ্যে ৮টি পদ শূন্য, নার্সের ১৪টি পদের মধ্যে ৪টি শূন্য, নার্সিং সুপারভাইজারের ২টি পদের মধ্যে একটি শূন্য, মিডওয়াইফের ৫টি পদের মধ্যে ২টি পদ শূন্য, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের সাতটি পদের মধ্যে ৬টি পদ শূন্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শকের ২টি পদের ২টিই শূন্য, অফিস সহকারীর ৩টি পদের মধ্যে ২টি পদ শূন্য, ক্লিনারের ৫টি পদের মধ্যে ৪টি পদ শূন্য, নিরাপত্তা প্রহরীর ২টি পদের মধ্যে ১টি পদ শূন্য রয়েছে।

বড়লেখা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রত্নদ্বীপ বিশ্বাস বলেন, ‘৩১ শয্যার জনবল দিয়েই ৫০ শয্যার কার্যক্রম চলছে। ৩১ শয্যার জনবলেও বেশ কিছু পদ শূন্য ছিল। এই সীমিত জনবল নিয়েও আমরা সাধ্যমতো জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছি। জনবল নিয়োগের ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জনবল বাড়লে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।’

একই অবস্থা জেলার অন্যান্য উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোরও।

মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ মোবাইলে বলেন, ‘সব কটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অত্যাধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন সংযোজন করছে সরকার। মৌলভীবাজারের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তা চালু হবে। এ ছাড়া বন্ধ থাকা যন্ত্রগুলো সচল করা ও লোকবল নিয়োগের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করব।’

আরও পড়ুন:
করোনায় রাজশাহী মেডিক্যালে সক্ষমতা বেড়েছে কয়েকগুণ
রাজশাহী মেডিক্যালে শুরু প্যাথলজি টেস্ট

শেয়ার করুন

এক শয্যায় ৪ শিশু, গাছতলাও খালি নেই

এক শয্যায় ৪ শিশু, গাছতলাও খালি নেই

মর্জিনা খাতুন বলেন, ‘রোববার থেকে মেয়ের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসক মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলায় এখানে আসি। এসে দেখি কোথাও জায়গা নেই। উপায় না দেখে প্রথম রাত হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে থাকি। এরপর থেকে রাতে এই বেডে বাচ্চাকে রাখি, দিনে গাছতলায় বসে থাকি।’

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের বাইরে গাছের নিচে বিছানা পেতে সেখানেই চিকিৎসা নিচ্ছে কিছু শিশু। হাসপাতালের ভেতরে গেলে বারান্দা, মেঝেতেও দেখা যায় শিশুদের।

শিশু ওয়ার্ডের প্রতিটি শয্যাতেই আছে একাধিক শিশু। কোনো কোনো শয্যায় দেখা যায় চারজন শিশুকেও।

শিশুদের শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশি, ডায়রিয়া বাড়ায় জায়গা দিতে পারছে না হাসপাতালটি। কয়দিন ধরেই চলছে এই অবস্থা।

৪৫ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার ভর্তি আছে ১৮৭ শিশু। এর আগের দিন ভর্তি ছিল ২০৩ জন শিশু।

তিন বছরের আয়েশাকে কোলে নিয়ে শিশু ওয়ার্ডের বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলেন মা মরিয়ম বেগম। এসেছেন সদর উপজেলার জামালপুর থেকে।

তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘দুদিন ধরে মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। মেয়ের ডায়রিয়া। যে বেড দিয়েছে সেখানে আরও দুইটা বাচ্চাকে রাখা হয়েছে। খুব অসুবিধা হচ্ছে।’

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার মর্জিনা খাতুন জানান, তারা এক বেড চারজন ভাগাভাগি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দিনের বেলা নানাভাবে সময় কেটে যায়। রাতে পড়তে হয় সমস্যায়। পালা করে অসুস্থ শিশুদের নিয়ে ঘুমাতে হয়।

তিনি বলেন, ‘রোববার থেকে মেয়ের হঠাৎ শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসক মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করতে বলায় এখানে আসি। এসে দেখি কোথাও জায়গা নেই। উপায় না দেখে প্রথম রাত হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারের সামনে থাকি। এরপর থেকে রাতে এই বেডে বাচ্চাকে রাখি, দিনে গাছতলায় বসে থাকি।’

এক শয্যায় ৪ শিশু, গাছতলাও খালি নেই

সালন্দরের সবেদা বেগম বলেন, ‘গাছতলাতেই ভালো আছি। ভেতরে এত মানুষ! গরমে টেকা যায় না।’

হাসপাতালের নবজাতক ও শিশু বিভাগের চিকিৎসক শাহজাহান নেওয়াজ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ৬০ থেকে ৭০ জন শিশু ভর্তি থাকে। এখন ১৭০ থেকে ১৮০ জন থাকছে। নবজাতকও আছে। বেশিরভাগই শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, সর্দি, জ্বর ও পেটের ব্যথায় আক্রান্ত। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এমনটা হচ্ছে।’

এ সময় শিশুদের সুস্থ রাখতে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এই চিকিৎসক। শিশুরা ঘেমে গেলে দ্রুত তাদের ঘাম মুছে জামাকাপড় পরিবর্তন করে দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রচুর তরল ও ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে।

ঠাকুরগাঁও জেলা সিভিল সার্জন মাহফুজার রহমান সরকার বলেন, ‘এই হাসপাতালে শিশু সেবার মান উন্নত হওয়ায় আশপাশের জেলার মানুষও এখানে আসেন। এখন রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। আশা করছি দ্রুত পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।’

আরও পড়ুন:
করোনায় রাজশাহী মেডিক্যালে সক্ষমতা বেড়েছে কয়েকগুণ
রাজশাহী মেডিক্যালে শুরু প্যাথলজি টেস্ট

শেয়ার করুন

এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের আশা মন্ত্রীর

এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের আশা মন্ত্রীর

ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য দায়ী এডিস মশা।

মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘নগরবাসীর সচেতনতা, জলবায়ুর পরিবর্তন, সিটি করপোরেশন ও মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক কার্যক্রমের ফলে আগামী এক মাসের মধ্যেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা জনগণকে সাথে নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।'

এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

রাজধানীর হোটেল সোনাগাঁওয়ে বৃহস্পতিবার এক কর্মশালায় তিনি এ কথা জানান।

‘ইইউ সাপোর্ট টু হেলথ অ্যন্ড নিউট্রিশন টু দি পুওর ইন আরবান বাংলাদেশ’ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় অংশ নেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

সেখানে তিনি বলেন, ‘নগরবাসীর সচেতনতা, জলবায়ু পরিবর্তন, সিটি করপোরেশন ও মন্ত্রণালয়ের সর্বাত্মক কার্যক্রমের ফলে আগামী এক মাসের মধ্যেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা জনগণকে সাথে নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন।

'বিভিন্ন এলাকায় সকাল-বিকেল নিয়মিত স্প্রে করা হচ্ছে। কীভাবে এডিস মশার প্রজনন ধ্বংস করা যাবে, সেসব বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হয়েছে। আমি আশা করি, মাসখানেকের মধ্যেই পরিস্থিতি একটা সহনশীল জায়গায় চলে আসবে।’

এক মাসের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের আশা মন্ত্রীর
'ইইউ সাপোর্ট টু হেলথ অ্যন্ড নিউট্রিশন টু দি পুওর ইন আরবান বাংলাদেশ’ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় অংশ নেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। ছবি: নিউজবাংলা

মন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গু একটি গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ। শুধু বাংলাদেশই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে না, এশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশ এই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় যে সকল দেশ সফলতা পেয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা ও আমাদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এই চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব হবে বলে আশা করি।

‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী সারা বিশ্বে প্রতিবছর ১০ কোটি থেকে ৪০ কোটি পর্যন্ত মানুষ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়, সাত লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। ২০১৯ সালে আমাদের দেশে মারাত্মক আকার ধারণ করলেও ২০২০ সালে এটিকে আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছিলাম।’

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির কারণ হিসেবে দীর্ঘ লকডাউন ও ঈদের ছুটিকে দায়ী করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘জলবায়ুর প্রভাব থাকলেও সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে লকডাউন ও ঈদের ছুটি। এ সময় অনেকেই বাসাবাড়ি ছেড়ে নিজ এলাকায় যাওয়ায় এবং নির্মাণশ্রমিকরা ছুটিতে থাকায় এডিস মশার প্রভাব কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

‘মে-জুন থেকে আরম্ভ করে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত এডিস মশার প্রকোপ বেশি থাকে। কারণ এ সময় থেমে থেমে বৃষ্টি হয়।’

পৌরসভাগুলোর সংকট নিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভাগুলোকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে সরকার। ইতিমধ্যে কিছু পৌরসভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কিছু জনবল সংকট রয়েছে। আগামী ২ বছরের মধ্যে পৌরসভাগুলো তাদের সংকট কাটিয়ে সক্ষমতা অর্জন করবে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ এলাকার তুলনায় নগর এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কিছুটা ভালো, তবে এটি সন্তোষজনক অবস্থায় নেই। পৌরসভাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবায় পর্যাপ্ত জনবল নেই। এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে করে তারা নিজেরাই নাগরিক সেবা দিতে পারে।

‘সমাপ্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে এমন কিছু কাজ শুরু হয়েছে, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। ইতিমধ্যে নগর এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের জ্ঞান পরবর্তীতে কাজে লাগাতে হবে।’

আরও পড়ুন:
করোনায় রাজশাহী মেডিক্যালে সক্ষমতা বেড়েছে কয়েকগুণ
রাজশাহী মেডিক্যালে শুরু প্যাথলজি টেস্ট

শেয়ার করুন

‘সাধারণ সর্দিজ্বরে পরিণত হবে করোনা’

‘সাধারণ সর্দিজ্বরে পরিণত হবে করোনা’

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা উদ্ভাবনের অন্যতম প্রধান গবেষক ড. সারাহ গিলবার্ট। ছবি: স্কাই নিউজ

করোনার অন্যতম টিকা উদ্ভাবক সারাহ গিলবার্ট বলেন, ‘সাধারণত ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন ধীর গতির হতে থাকে। একই সঙ্গে মানুষের দেহে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে থাকে। অন্য সব মৌসুমি করোনাভাইরাসের মতোই হয়ে আসবে সার্স-কভ-টুর বর্তমান রূপটিও।’ তবে ভবিষ্যৎ মহামারির জন্যও এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে বলেও সতর্ক করেন গিলবার্ট। তার মতে, এ খাতে এখন অল্প বিনিয়োগও দীর্ঘমেয়াদে কয়েক শ কোটি পাউন্ড অর্থ সাশ্রয় করতে পারে।

পৃথিবী থেকে নির্মূল না হলেও ছোঁয়াচে করোনাভাইরাস আগামী বছরের মধ্যেই সাধারণ সর্দিজ্বরে রূপ নেবে বলে মনে করেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ভাইরাসবিশেষজ্ঞ ডেইম সারাহ গিলবার্ট। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা উদ্ভাবনের অন্যতম প্রধান গবেষক তিনি।

স্কাই নিউজের বৃহস্পতিবারের প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনাভাইরাসের বিবর্তন ক্ষমতা খুব শিগগিরই সীমিত হয়ে আসবে বলে মনে করেন ড. সারাহ গিলবার্ট।

তিনি বলেন, ‘নতুন করে ভাইরাসটি ছড়ানোর জন্য তো আর কোনো জায়গা নেই। ভাইরাসটির যাওয়ার মতো জায়গা আর বেশি বাকি নেই বলে আরও বিবর্তনের মাধ্যমে টিকার কার্যক্ষমতাকে ফাঁকি দেয়ারও উপায় নেই তার। কারণ একটা পর্যায়ে যাওয়ার পর সময়ের সঙ্গে ভাইরাস দুর্বল হতে শুরু করে।’

রয়্যাল সোসাইটি অফ মেডিসিনের একটি ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে বুধবার এসব কথা বলেন গিলবার্ট।

যুক্তরাজ্য মহামারির সবচেয়ে কঠিন ধাক্কা পেরিয়ে গেছে বলেও উল্লেখ করে তিনি জানান, করোনাভাইরাস আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠবে বলে যে শঙ্কা ছিল, তা ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসছে।

গিলবার্ট বলেন, ‘সাধারণত ভাইরাস সহজে ছড়িয়ে পড়ে বলেই এর প্রকোপ এক সময় কমতে শুরু করে। সার্স-কভ-টুর এই সংস্করণের চেয়ে একই প্রজাতির আরও সংক্রামক বা শক্তিশালী ভাইরাস আসবে বলে মনে করার সময় পার করে এসেছি আমরা।’

এর আগে টিকা না নেয়া সব শিশু করোনায় আক্রান্ত হবে বলে ইংল্যান্ডের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা অধ্যাপক ক্রিস হুইটির মন্তব্য করেন। তার মতে, মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমছে বলে ভাইরাসটির ছড়ানো অব্যাহত থাকবে।

বিপরীতে সারাহ গিলবার্টের মতে, করোনাভাইরাসের উপসর্গ আস্তে আস্তে সাধারণ সর্দিজ্বরের মতোই মৃদু অসুস্থতা তৈরি করবে।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তন ধীর গতির হতে থাকে। একই সঙ্গে মানুষের দেহে বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়তে থাকে। অন্য সব মৌসুমি করোনাভাইরাসের মতোই হয়ে আসবে সার্স-কভ-টুর বর্তমান রূপটিও।’

ড. গিলবার্ট আরও বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বহুল প্রত্যাশিত সে সময়টা কবে আসবে। আর তার আগ পর্যন্ত ভাইরাসের কবল থেকে বেঁচে থাকতে আমাদের করণীয় কী।’

তবে ভবিষ্যৎ মহামারির জন্যও এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে বলেও ওয়েবিনারে সতর্ক করেন গিলবার্ট। তার মতে, এ খাতে এখন অল্প বিনিয়োগও দীর্ঘমেয়াদে কয়েক শ কোটি পাউন্ড অর্থ সাশ্রয় করতে পারে।

একই কথা বলেছেন অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির আরেক অধ্যাপক স্যার জন বেল। তিনি বলেন, ‘আগামী বছর বসন্তেই করোনা সাধারণ সর্দিজ্বরে রূপ নিতে পারে। কারণ বেশিরভাগ মানুষ টিকা নেয়ায় কিংবা ভাইরাসের সংস্পর্শে চলে আসায় করোনার বিরুদ্ধে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ছে।

শীত পেরিয়ে গেলে যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে বলেও উল্লেখ করেন স্যার জন বেল। তিনি বলেন, ‘মহামারির গতিপ্রকৃতি লক্ষ্য করলে দেখবেন, ছয় মাস আগের চেয়ে এখন অনেক ভালো অবস্থায় আছে দেশ।’

এর আগে করোনার টিকা উদ্ভাবনকারী আরেক প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার প্রধান নির্বাহী স্তেফানে বানসেল বলেন, এক বছরের মধ্যে করোনা মহামারির ইতি ঘটবে। কারণ হিসেবে টিকা উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রয়োজন অনুপাতে সরবরাহে সক্ষমতার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:
করোনায় রাজশাহী মেডিক্যালে সক্ষমতা বেড়েছে কয়েকগুণ
রাজশাহী মেডিক্যালে শুরু প্যাথলজি টেস্ট

শেয়ার করুন

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ২৫৪ রোগী

ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে আরও ২৫৪ রোগী

রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগী। ছবি: সাইফুল ইসলাম

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকা বিভাগের হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছে ১৯৭ জন। এ ছাড়া অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৫৭ জন।

ডেঙ্গু নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৫৪ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে সাড়ে ১৬ হাজার রোগী। এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫৯ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে এসব তথ্য জানানো হয়।

কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকা বিভাগের হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছে ১৯৭ জন। এ ছাড়া অন্য বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ৫৭ জন।

এ বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৬ হাজার ৭০৫ জনের মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছে ১৫ হাজার ৫৯৭ জন। বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১ হাজার ৪৯ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ৪১টি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে ৮৩৬ রোগী।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে চলতি বছর ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত সাত মাসে ১২ জনের মৃত্যু হয়। আগস্টে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়।

চলতি মাসে ১৩ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬ হাজার ৩৪৯ জন।

২১ বছর ধরে দেশে ডেঙ্গুর সার্বিক বিষয় নিয়ে তথ্য জানাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে।

ওই বছর ১ লাখের বেশি মানুষ ডেঙ্গু শনাক্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে মারা যায় ১৪৮ জন। ডেঙ্গুতে এত মৃত্যু আর কখনো দেখেনি দেশ।

চলতি বছরের ৯ মাসেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছে ৫৯ জন।

২০১৯ সালে ডেঙ্গু ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করলেও করোনা মহামারির মধ্যে ২০২০ সালে রোগটি তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। এবার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী।

আরও পড়ুন:
করোনায় রাজশাহী মেডিক্যালে সক্ষমতা বেড়েছে কয়েকগুণ
রাজশাহী মেডিক্যালে শুরু প্যাথলজি টেস্ট

শেয়ার করুন

প্রাথমিকের ছাত্রীর করোনার পর আরেক স্কুলে ক্লাস বন্ধ

প্রাথমিকের ছাত্রীর করোনার পর আরেক স্কুলে ক্লাস বন্ধ

প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে মোনালিসা যে কক্ষে ক্লাস করেছিল, ২১ সেপ্টেম্বরই ওই কক্ষে তালা দিয়ে দেয়া হয়েছে। ১৪ দিনের জন্য ক্লাস বন্ধ আছে। বাকি সব শ্রেণির ক্লাস স্বাভাবিকভাবেই চলছে। আর কোনো শিক্ষার্থীর মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা যায়নি।’

গোপালগঞ্জে আরও এক স্কুলে শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত হওয়ায় ওই শ্রেণির পাঠদান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে চলছে বাকি শ্রেণির পাঠদান।

করোনা শনাক্ত হওয়া মোনালিসা ইসলাম গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১০২ নম্বর বীণাপাণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাড়ি পৌরসভার শিশুবন এলাকায়।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার নিউজবাংলাকে পাঠদান বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মোনালিসার মা মিতু খানম নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এতদিন আমার মেয়ে সুস্থ ছিল। ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সে স্কুলে যাওয়া শুরু করে। এরপর ১৪ তারিখ থেকে তার হালকা জ্বর, মাথাব্যথা। সে জন্য পরদিন তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিই।

‘এক সপ্তাহেও মেয়ের জ্বর না কমায় ২১ সেপ্টেম্বর তার করোনা পরীক্ষা করাই। ওই দিনই পজিটিভ রেজাল্ট আসে। এরপর গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করেছি।’

জেলা সিভিল সার্জন সুজাত আহমেদ জানান, দুই দিন তাকে অক্সিজেন দিতে হয়েছে। এখন সুস্থ আছে। তাকে করোনার চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের আর কারো করোনা ধরা পড়েনি।

প্রধান শিক্ষক পারভীন আক্তার বলেন, ‘মোনালিসা সবশেষ ১৪ সেপ্টেম্বর ক্লাস করেছে। তার করোনার উপসর্গ দেখা দেয়ায় পরিবার থেকে স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছিল। আমরা তার পরিবারের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রাখছি।

‘স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে সে যে কক্ষে ক্লাস করেছিল, ২১ সেপ্টেম্বরই ওই কক্ষে তালা দিয়ে দেয়া হয়েছে। ১৪ দিনের জন্য ক্লাস বন্ধ আছে। বাকি সব শ্রেণির ক্লাস স্বাভাবিকভাবেই চলছে। আর কোনো শিক্ষার্থীর মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা যায়নি।’

প্রত্যেক শিক্ষার্থীর তাপমাত্রা মেপে শ্রেণিকক্ষে ঢোকানো হচ্ছে বলে জানান এই শিক্ষক।

এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ৪ নম্বর ফেরধারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর করোনা শনাক্ত হওয়ায় ওই শ্রেণির পাঠদান ১৪ দিনের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়।

ওই শিক্ষার্থী ও তার মা দুজনেরই করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে তাদের বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সোহেলী পারভীন পান্না নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা খবর নিয়ে জেনেছি ওই ছাত্রীর মামা-মামি করোনা আক্রান্ত ছিলেন। ধারণা করছি, তাদের থেকেই তারা সংক্রমিত হয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে।’

আরও পড়ুন:
করোনায় রাজশাহী মেডিক্যালে সক্ষমতা বেড়েছে কয়েকগুণ
রাজশাহী মেডিক্যালে শুরু প্যাথলজি টেস্ট

শেয়ার করুন