অনেক অনেক আগের কথা। বহুদূরে ছিল একটা স্বপ্নপুরী। যেখানে পরিরা এসে মানুষের সঙ্গে গল্প করত। পাখিরা, মাছেরা কথা বলত। যেখানে ছিল বৃষ্টি গাছ। যে গাছের নিচে দাঁড়ালেই বৃষ্টি ঝরত আর সঙ্গে মিষ্টি সুবাস ছড়াত। সেখানে ছিল একটা সুখ নদী। যে নদীর পাশে বসে দুঃখের কথা কইলে, নদী তার দুঃখ দূর করে দিত।
সেই নদীর পাশেই ছিল একটা ছোট্ট গ্রাম। সেই গ্রামে থাকত সিন্ড্রেলা নামের এক ছোট্ট মেয়ে। সবাই ওকে খুব আদর করত। নিজের ঘরে ডেকে খাওয়াত। সে যে ভারি লক্ষ্মী মেয়ে।
সারা দিন ঘুরত। প্রজাপতিদের সঙ্গে নাচত। বনের পাখির সঙ্গে গাইত। কি মধুর তার কণ্ঠ। তার গান শুনে বনের সব গাছের পাতা নাচত। জলের মাছ ডাঙায় উঠে সে গান শুনত।
সন্ধ্যাবেলায় আকাশের পরিরা এসে গল্প করত তার সঙ্গে। আর নিয়ে আসত কত্ত আজব আজব উপহার। সেসব পেয়ে খিলখিলিয়ে হাসত সিন্ড্রেলা।
একদিন সুখ নদীর পাশে বসে একমনে কাঁদতে লাগল সিন্ড্রেলা। গাল বেয়ে টুপ করে এক ফোঁটা জল পড়ল সুখ নদীতে। সুখ নদী বলে উঠল, 'ওমা এ কি গো সিন্ড্রেলা, তোমার চোখে জল! কী দুঃখ তোমার? বলো আমায়। সব দূর করে দিব আমি।'
কাঁদতে কাঁদতে সিন্ড্রেলা বলল, 'আমার মা বড্ড অসুস্থ গো সুখ নদী। কেউ কইতে পারে না কী হয়েছে তার। ও পাড়ার দিদিমা বলেছে, মা নাকি বেশি দিন আর বাঁচবে না। মা না থাকলে আমার কী কোনো সুখ থাকবে বলো?'
সিন্ড্রেলার কান্না দেখে পুরো নদীর জল কেঁপে উঠল। মাছেরা সুখ নদীকে মিনতি করে বলল, 'ও গো সুখ নদী, তুমি তো সবাইকে সুখী কর। সিন্ড্রেলার মাকে তুমি ভালো করে দাও। নাইলে আমরা আর কোনো মানুষের জালে ধরা দেব না।'
বনের গাছেরা মাটিকে বলল, 'মাটি তুমি আমাদের সবাইকে বাঁচিয়ে রেখেছ। সিন্ড্রেলার মাকে তুমি বাঁচিয়ে দাও। নাইলে আমরা আর কোনো ফুল ফল দিব না।'
রাতে আলোচনা সভায় বসল সুখ নদী, বনের মাটি, বাতাস আর আকাশের পরিরা। সবাই এটা-সেটা অনেক ভেবে খুঁজে পেল সিন্ড্রেলার মাকে বাঁচানোর উপায়।
সিন্ড্রেলাকে ডেকে বলল, 'তোমার মাকে বাঁচানোর একটা উপায় আমরা পেয়েছি। কিন্তু কাজটা কঠিন।'
সিন্ড্রেলা কেঁদে কেঁদে বলল, 'বল কী সেই উপায়। মাকে বাঁচাতে আমি সব করতে পারব।'
'বেশ, তবে কাল ভোরে সূর্য মামা যখন পুব আকাশে উঁকি দিবে তখন একটা ফানুসে করে তোমায় উড়িয়ে দিবে। সে ফানুস যেখানে গিয়ে পড়বে, সেখানেই মিলবে তোমার মাকে বাঁচানোর উপায়'- বলল নদী।
ভোরবেলায় একটা বড় ফানুসে বসিয়ে সিন্ড্রেলাকে আকাশে উড়িয়ে দিলো সবাই। কাঁদল আকাশের পরি, গ্রামের মানুষ, নদী, গাছ, মাছ সবাই।
উড়তে উড়তে বহুদূর চলে গেল ফানুস। গিয়ে পড়ল অচেনা এক রাজ্যে। সেখানে ঘাসগুলো ফ্যাকাসে। গাছে নেই কোনো পাতা। নদীতে নেই জল।
হাঁটতে হাঁটতে এক বিরাট রাজ প্রাসাদের সামনে এসে দাঁড়াল সিন্ড্রেলা। অন্দরমহলে ঢুকে দেখল রাজা বসে কাঁদছে। তার কাছে গিয়ে বলল, 'আপনি কাঁদছেন কেন?'
রাজা মাথা তুলে দেখল লাল পেড়ে ঘিয়ে রঙের শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে আছে এক মেয়ে। বলল, 'কে তুমি মা? কোথায় থেকে এসেছ? আমার এই রাজ্যে যে সন্যাসীর অভিশাপ পড়েছে। তাই কোনো গাছে ফল নেই, নদীতে জল নেই। না খেতে পেরে আমার সব প্রজারা মরে যাচ্ছে। আমার একমাত্র নয়নের মণি রাজপুত্র সমরও পানির অভাবে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।'
'আমি পারব আপনার রাজ্যকে বাঁচাতে' – বলল সিন্ড্রেলা।
'কী বললে মা তুমি! তুমি পারবে? কী করে? কথা দিচ্ছি যদি তুমি সত্যি আমার রাজ্য, আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারো, যা চাও তাই পাবে'- বলল রাজা।
সিন্ড্রেলা বাইরে বেরিয়ে এলো। এসে গান গাওয়া শুরু করল। তার গান শুনে ঘাসগুলো সতেজ হয়ে গেল। গাছগুলো পাতায় পাতায় ভরে উঠল। নদী জলে ভরে গেল। সঙ্গে কত মাছ। জল খেয়ে বাঁচল রাজপুত্র সমরের প্রাণ।
সমরের সঙ্গে গল্প করতে করতে দুঃখের কথা বলল সিন্ড্রেলা। সমর বলল, 'আমি জানি কী করে তোমার মাকে বাঁচাবে।'
সিন্ড্রেলা বলল, 'কী করে? বলো আমায় সে উপায়।'
সমর বলল, 'এ রাজ্যের পূর্ব কোণে আছে এক বৃষ্টিগাছ। সে গাছের নিচে দাঁড়ালেই বৃষ্টি হয়। সেই বৃষ্টির জল যদি খাওয়াতে পারো তোমার মাকে, বাঁচবে তিনি।'
তারপর দুজন মিলে চলে গেল সে বৃষ্টিগাছের কাছে। শিশি ভরে নিলো সেই বৃষ্টির জল। তারপর রাজকুমার তার ঘোড়ায় চাপিয়ে সিন্ড্রেলাকে নিয়ে গেল তার মায়ের কাছে। বৃষ্টির জল খেয়ে সুস্থ হয়ে গেল সিন্ড্রেলার মা।
কয়েক বছর পর খবর পাঠিয়ে সিন্ড্রেলাকে রাজ পুত্রবধূ করে নিল রাজকুমার সমর।
ছবি: সংগৃহীত
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের সীমানা প্রাচীর টপকে রিম্পা (২১) নামে এক সাজাপ্রাপ্ত নারী বন্দি পালানোর ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। এই চরম নিরাপত্তা বিচ্যুতির দায়ে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুইজন মেট্রন এবং পাঁচজন মহিলা কারারক্ষীসহ মোট সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. জান্নাতুল ফরহাদ বরখাস্তের এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বরখাস্তকৃতরা হলেন— মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেট্রন মেরিনা, মেট্রন রেহেনা এবং মহিলা কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা। কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কারাগারের অভ্যন্তরে প্রায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে ইট বহনের কাজ করানো হচ্ছিল। সেই সময় তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের চোখের আড়াল হয়ে বন্দি রিম্পা অফিস ভবনের পাশের দেয়ালের কার্নিশ বেয়ে সুকৌশলে দেওয়াল টপকে পালিয়ে যান।
পলাতক রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার বাসিন্দা। তিনি রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। ঘটনার পরপরই কারা অভ্যন্তরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হলেও তাঁর কোনো খোঁজ মেলেনি। পরবর্তীতে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁর পালানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয় কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় শুক্রবার রাতে স্থানীয় কোনাবাড়ী মডেল থানায় কারা প্রশাসনের পক্ষ হতে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের আধিক্যের ফলে উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্র বন্দরগুলোতে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে দেশের সকল সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার (১৮ জুলাই) এক বিশেষ সতর্কবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ হতে জানানো হয়েছে যে, বায়ুচাপের তারতম্যের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের ওপর দিয়ে শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত (পুনঃ ৩ নম্বর) বহাল রাখতে বলা হয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ এই আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করতে এবং অত্যন্ত সাবধানতার সাথে চলাচল করতে কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বায়ুচাপের এই অস্থিতিশীলতা উপকূলীয় জনপদে কোনো ধরণের ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে কি না, সে বিষয়েও নজরদারি রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাঁর অবৈধ অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক সুলাইমান তানিম রেজা ওরফে বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে কমলাপুর এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মতিঝিল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, বাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে সুব্রত বাইনের ছত্রছায়ায় থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা অপরাধমূলক কাজ পরিচালনা করে আসছিল। মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ডিবি ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তানিম রেজা বাপ্পির বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানায় একাধিক গুরুতর মামলা রয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
জেলার কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ শনিবার বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট আংশিক খুলে পানি নিষ্কাশনের প্রস্তুতি নিয়েছে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।
উজান ও ভাটির পানি ব্যবস্থাপনা এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) রাতে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয় ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা ছিল ১০৩ দশমিক ৯১ ফুট এমএসএল। লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টিপাতে ক্যাচমেন্ট এলাকায় পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় লেকের পানি দ্রুত বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে আগামী শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার পর যেকোনো সময় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে এতে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হবে।
এ বিষয়ে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘লেকের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ (ইনফ্লো) এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে স্পিলওয়ে খোলার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে ইনফ্লো আরও বৃদ্ধি পেলে পর্যায়ক্রমে গেট আরও বেশি খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।’
তিনি আরও জানান, বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।
এদিকে স্পিলওয়ে খোলার সম্ভাব্য ঘোষণায় কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিউবো।
ছবি: সংগৃহীত
বান্দরবানের থানচি উপজেলার সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মিয়ানমারের দুই নারী নাগরিক ও তাদের এক বাংলাদেশি সহযোগীকে আটক করে থানচি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক তিনজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জুলাই) এ ঘটনায় থানচি থানায় একটি মামলা দায়ের করে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন- মিয়ানমারের মংডু এলাকার বাসিন্দা মা তুন যং ম্রো (২০), মা তুন ইয়াং ম্রো (২১) এবং তাদের সহযোগী বান্দরবানের থানচি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ওয়াক চাক্কুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মুয়ই ম্রো (৪৬)।
থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার জানান, সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও এ সংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী বংকুপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মিয়ানমারের দুই নারী নাগরিক ও তাদের বাংলাদেশি এক সহযোগীকে আটক করেন। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
ছবি: সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে মিঠামইন সদরের হেলিপ্যাড মাঠে জাহাঙ্গীরের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে জুমার নামাজের পর হেলিপ্যাড মাঠে জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শরীফুল আলম বলেন, “জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত কর্মী ছিলেন। প্রায় ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। বাড়িঘর ছেড়ে কঠিন সময় পার করেও সুসময়ে এসে এভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হবেন, তা কল্পনাও করা যায় না। তার এই অকাল মৃত্যু আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে।”
শরীফুল আলম আরও বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কারা ইন্দনদাতা সেটিও দেখছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি বলেন, ভাড়াটে খুনি এনে হত্যাকাণ্ড হাওরে বিরল ঘটনা। এর পিছনে যারাই জড়িত, তারা যতই শক্তিশালী হোক কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেন, জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাকে গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। তবে শুধু হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, হত্যার নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও মদদদাতাদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীর শুধু রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন না, দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক ছিলেন। তার মৃত্যু বিএনপির জন্য বড় ক্ষতি। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
জানাজায় কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর ডেমরা পুলিশ লাইনস ভবন থেকে মো. সাইদুল ইসলাম (২১) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে সহপাঠীরা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পারিবারিক কলহ থেকে হতাশা এবং তারপর গলায় ফাঁস দিয়ে মৃত্যু হয়েছে তার।
নিহত সাইদুল ইসলাম ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া উত্তর চাঁদপুর গ্রামের মো. সাদেকের ছেলে। তার পুলিশ বিপি নম্বর: ০৭২৬২৬৬৪৬৫। তিনি ডেমরা পুলিশ লাইনের ২০ তলা ভবনের নবম তলার একটি কক্ষে থাকতেন। মাত্র ৯ মাস আগে তিনি পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরিতে যোগদান করেছিলেন।
তার চাচা মো. সোহাগ জানান, পারিবারিক কলহের জেরে সাইদুল কিছুদিন ধরে চরম বিষণ্ণতায় ভুগছিলেন। গত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ডেমরা পুলিশ লাইনের ওই ভবনের সপ্তম তলায় নিজের রুমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে বিছানার চাদর পেঁচিয়ে ফাঁস দেন। পরে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয় বলে চিকিৎসকরা জানান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে এবং পুলিশ এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। এদিকে মৃত্যুর পূর্বে নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে সাইদুল লেখে গেছেন হতাশার কথা।
মন্তব্য