× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

কিড জোন
Theft in Gopals house
hear-news
player
print-icon

গোপালের ঘরে চুরি

গোপালের-ঘরে-চুরি
গোপালের স্ত্রী বেজায় বুদ্ধিমতী। সে ডাকাতদের বলল, বাড়ির কর্ত্তা তোমাদের ভয়ে টালির চালের ওপর বসে রয়েছে। তার কাছেই সিন্দুকের চাবি আছে।

গোপাল ভাঁড় তখনও পাকাবাড়ি করতে পারেনি। মাটির দেয়াল, টালির ছাউনি। আগে গ্রাম দেশে চোরেরা সচরাচর হয় সিঁধ কাটত, নতুবা ঘরের চালের দু-একখানা টালি সরিয়ে ঘরে নেমে মালপত্র নিয়ে অন্য দরজা দিয়ে পালিয়ে যেত। তখন মাঝরাত, একটা চোর চুরি করবে বলে গোপালের ঘরের টালির ওপর সবে উঠছে। গোপাল ও গোপালের স্ত্রী তখনও জেগে ছিল। চোর সবে একখানা টালি সরিয়েছে, আর একখানা সরিয়ে নিচে নামবে আর কি।

গোপাল টের পেয়ে তখন স্ত্রীকে সাবধান হতে বলল।
অন্যদিকে গোপালের বাড়িতে ঠিক এই সময়েই হা রে রে রে করে বিরাট ডাকাতদল চড়াও হলো। ডাকাতরা দরজা ভেঙে ঢোকার আগেই গোপাল টাকা-পয়সা ও গয়নাগাটি নিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে বৌকে সাবধান করে বাগানে পালিয়ে গেল। চোর ব্যাটা কিন্তু আর পালাতে পারল না- সে টালির চালে বসেই ঠক-ঠকিয়ে কাঁপতে লাগল।

বউ সব বুঝতে পেরেছে যে চালের ওপর একজন কেউ আছে, ওর উপস্থিতি ডাকাতদল আসার আগেই হয়েছে- গোপাল বউকে সে জন্য সাবধান করে দিয়েছে কী করতে হবে। কাঠের দরজা ভেঙে ডাকাতরা ঘরে ডুকেই গোপালের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করল, বাড়ির কর্ত্তা কোথায় আগে বল, নইলে তোকেই রাম ধোলাই দেব। মিথ্যে কথা বললেই খুন করব, তাড়াতাড়ি বল।

গোপালের স্ত্রী বেজায় বুদ্ধিমতী। সে ডাকাতদের বললে, বাড়ির কর্ত্তা তোমাদের ভয়ে টালির চালের ওপর বসে রয়েছে। তার কাছেই সিন্দুকের চাবি আছে। এর বেশি কিছু আমি জানি না গো, তোমাদের পায়ে পড়ি গো। আমাকে মেরো না গো বাছারা সব!

ডাকাতরা চোরকে চাল থেকে নামিয়ে জিজ্ঞাসা করল, সিন্দুকের চাবি কোথায় শিগগির বল, কোথায় আছে? না হয় তোকে মেরে ফেলব। হারামজাদা কোথাকার। চোর ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলল, সত্যি বলছি, মাইরি বলছি- আমি কিছুই জানি না। আমি এ বাড়ির কেউ নই, আমি নতুন লোক।

ডাকাতরা চোরের কথা মোটেই বিশ্বাস করলে না, তাকে বাড়ির কর্ত্তা ভেবে চাবি আদায় করার জন্য নির্দয়ভাবে পেটাতে লাগল। তবুও চাবি পেল না কোনোমতেই। এতে খানিকক্ষণ দেরিও হয়ে গেল ডাকাতদলের।

ইতোমধ্যে গোপাল বাইরে থেকে গ্রামের লোকজন নিয়ে হৈহৈ করে আসতে থাকলে ডাকাতরা ভয় পেয়ে পালিয়ে গেল বটে, কিন্তু চোরটাকে প্রায় মেরেই রেখে গেল। গোপাল আর একটু দেরি করলেই বেচারা প্রাণে মারা যেত সেদিন। পাড়াপড়শী ডাকাত তাড়াতে এসে মৃতপ্রায় চোরটাকে বাগে পেয়ে যেই মারতে যাবে, গোপালের স্ত্রী বাধা দিয়ে বললে, ওকে আর মেরো না গো, ওকে বাড়ির কর্তা বানিয়ে আমরা এ যাত্রায় বেঁচে গেলুম।

আধমরা চোরটার ওপর খাঁড়ার ঘা আর দিও না। ও আমাদের অনেক উপকার করেছে।
তারপর গোপালের স্ত্রী যখন সব কথা খুলে বললে পাড়ার লোকেদের, তখন পাড়ার লোকেরা গোপাল ও গোপালের স্ত্রীর বুদ্ধির খুব প্রশংসা করতে লাগল। চোরটাকে গরম দুধ খাইয়ে চাঙা করে তুলে বিদায় করে দেওয়া হলো- বলা বাহুল্য যাতে চোরটা আর কোনো দিন চুরি না করে, তার জন্য সতর্ক করে দিয়ে এবং ব্যবসাপত্র করে সৎপথে চলার জন্য গোপাল কিছু টাকা ব্যবস্থা করে দিয়ে তাকে ছেড়ে দিল।

আরও পড়ুন:
তিন মুসাফির
পুতা নিয়ে যাও
ফিরে এলো সাদা পরি
একটি বর
দৈত্য ও নাপিত

মন্তব্য

কিড জোন
Learn every day

শিখি প্রতিদিনই

শিখি প্রতিদিনই
বন্ধুরা, তোমরাও ছবি-ছড়া লিখতে পারো, তবে পাঠিয়ে দাও আমাদের কাছে। ঠিকানা: [email protected]
রাত্রি জেগে মোমবাতিটা জ্বলছে ধিকিধিকি
ত্যাগী হওয়ার শিক্ষা আমি সেখান থেকেই শিখি!
লম্বা লাইন সরলরেখায় পিঁপড়া চলে ঠিকই
সরল পথের শিক্ষা আমি সেখান থেকেই শিখি!
নীল জোনাকি আলোক জ্বেলে করছে ঝিকিমিকি
অন্ধজনে পথ দেখানো সেখান থেকেই শিখি!
শিশুর জন্য মানবতার গল্প যা যা লিখি
মানুষ হওয়ার শিক্ষা আমি সেখান থেকেই শিখি!
সূর্য হেসে আলোক ছড়ায় যখন চতুর্দিকই
আলোর পথের শিক্ষা আমি সেখান থেকেই শিখি!
-
কে যে কোথায় আপনমনে কাজ করে যায় কী কী
সেখান থেকেও শিখি আমি সেখান থেকেও শিখি!
-
এবারের ছড়াটি পাঠিয়েছে মালিবাগ থেকে আমাদের বন্ধু রকিবুল ইসলাম ।
বন্ধুরা, তোমরাও ছবি-ছড়া লিখতে পারো। ছড়া লিখে পাঠিয়ে দাও আমাদের কাছে। ঠিকানা: [email protected]

আরও পড়ুন:
বসন্তকাল
হুমকির মুখে লাউয়াছড়ার ক্ষুদ্র প্রাণিকুল
বইমেলার ছড়া
তোমাদের ছড়া
পাতা পোকা

মন্তব্য

রচনা

রচনা
বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও আমাদের কাছে জোকস লিখে পাঠাতে পারো। পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

শিক্ষক: আমাদের গ্রাম- বিষয়ে রচনা লিখতে দিলাম। তোমরা সবাই হুবহু একই রচনা জমা দিয়েছ কেন?

ছাত্র: স্যার, আমরা সবাই একই গ্রামে বাস করি তো, তাই রচনাটাও একই রকম হয়েছে।

-

বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও আমাদের কাছে জোকস লিখে পাঠাতে পারো। পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

আরও পড়ুন:
পরিদর্শক
ক্লাসে এক দিন
পড়াশোনা
বুদ্ধিমান বাবা
উপদেশ

মন্তব্য

উপায়

উপায়
বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও আমাদের কাছে জোকস লিখে পাঠাতে পারো। পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

শিক্ষক: কেউ যদি পানিতে ডুবে যায়, তাহলে আমরা তার চুল ধরে টেনে তুলতে পারব। তাই না?

ছাত্র: কিন্তু স্যার, আপনি পানিতে ডুবে গেলে আমরা কিছুই করতে পারব না ।

শিক্ষক: কেন?

ছাত্র: আপনার মাথায় তো চুল নেই স্যার।

-

বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও আমাদের কাছে জোকস লিখে পাঠাতে পারো। পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

আরও পড়ুন:
ক্লাসে এক দিন
পড়াশোনা
বুদ্ধিমান বাবা
উপদেশ
ভালো কাজ

মন্তব্য

কিড জোন
A brown bear can eat 40 kg of food a day

ভালুক দিনে ৪০ কেজি খাবার খেতে পারে!

ভালুক দিনে ৪০ কেজি খাবার খেতে পারে!
ভালুক বাচ্চাকে খুব যত্নে লালন-পালন করে। তবে ভালুকের বাচ্চা কিন্তু খুব অলস হয়। ওরা এতটাই অলস যে মায়ের পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়ায়।

ভালুক নিয়ে কিছু বলতে বললে তোমরা নিশ্চয়ই বলবে, ভালুক বড়, পশমযুক্ত স্তন্যপায়ী প্রাণী। তাদের বড় মাথার খুলি এবং শক্ত চোয়াল রয়েছে। আরও বলবে, বিশ্বের অনেক জায়গায় বিভিন্ন ধরনের ভালুক পাওয়া যায়। কিন্তু তোমরা কি জানো একটি ভালুক কীভাবে দিন কাটায় বা কীভাবে ভালুকের জীবন কাটে? চলো দেখে নিই।

-

ভালুক সর্বভুক

সর্বভুক প্রাণীরা মাংস এবং উদ্ভিদ উভয়ই খায়। ভালুকও তাই। কিন্তু তোমরা কি জানতে, একটি বাদামি ভালুক দিনে ৪০ কেজি পর্যন্ত খাবার খেতে পারে! একবার ভেবে দেখো তো এই পরিমাণ খাবার খেতে তাকে কত সময় চিবাতে হয়?

-

বাচ্চার যত্ন নেয়

ভালুক বাচ্চাকে খুব যত্নে লালন-পালন করে। তবে ভালুকের বাচ্চা কিন্তু খুব অলস হয়। ওরা এতটাই অলস যে মায়ের পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়ায়।

-

সাঁতার কাটতে পারে

তোমাদের নিশ্চয়ই মনে হচ্ছে, এত বড় প্রাণী আবার কীভাবে সাঁতার কাটবে? হ্যাঁ, অবাক করার মতো বিষয় হলেও এটা সত্যি যে ভালুক সাঁতার কাটতে পারে। তবে সব ভালুক নয়, মেরু ভালুক ভালো সাঁতারু। মাছ শিকার করতে মেরু ভালুক পানিতে ডুব দেয়। একটি মেরু ভালুকের সামনের পাঞ্জায় বা থাবায় জালের মতো থাকে, যা তাকে সাঁতার কাটতে সাহায্য করে।

ভালুক দিনে ৪০ কেজি খাবার খেতে পারে!
মেরু ভালুক

হাইবারনেট বা শীতযাপন

এর মানে কিছু ভালুক শীতের বেশির ভাগ সময় ঘুমিয়ে কাটায়। কিন্তু তার আগে বাড়িটিকে খাবারে পূর্ণ করে রাখে। আর ভালুকের শীতকালীন বাড়িকে ‘ডেন’ বলা হয়।

-

এগুলো কি জানতে?

ভালুকের চারটি পাঞ্জা বা থাবা থাকে। প্রতিটি থাবায় পাঁচটি ধারালো নখ রয়েছে। ভালুক গর্ত খুঁড়তে, মাছ ধরতে, শিকার করতে বা উঁচু কোথাও উঠতে তাদের পাঞ্জা ব্যবহার করে।

আরও পড়ুন:
ভালুক নিয়ে ভোটের প্রচারে
আক্রমণ করলেও ভালুকের ওপর রাগ নেই পাহাড়িদের
পাহাড়ে আবারও ভালুকের আক্রমণ
পাহাড়ে ভালুকের আক্রমণ, আহত ২
‘জরিনার’ ঘরে দুই বাচ্চা

মন্তব্য

কিড জোন
Reverse seizure

উল্টো জব্দ

উল্টো জব্দ
বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও আমাদের কাছে জোকস লিখে পাঠাতে পারো। পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

এক দুষ্টু ছেলে গেল আয়ুর্বেদ ডাক্তারকে জব্দ করতে…

রোগী: আমার সমস্যা হলো ঘুমালে চোখে দেখি না। কী করা যায়?

ডাক্তার: আপনি পাকা লাল মরিচের গুঁড়া পানি দিয়ে পেস্ট বানিয়ে চোখে লাগান। তাহলে ঘুমালেও চোখে দেখতে পারবেন।

-

বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও আমাদের কাছে জোকস লিখে পাঠাতে পারো। পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

আরও পড়ুন:
পড়াশোনা
বুদ্ধিমান বাবা
উপদেশ
ভালো কাজ
গুন্ডাগিরি

মন্তব্য

মাছের কথা বলা

মাছের কথা বলা
বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও আমাদের কাছে জোকস লিখে পাঠাতে পারো। পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

শিক্ষক: বলতো মাছ কেন কথা বলতে পারে না?

ছাত্র: আপনাকে যদি পানিতে চুবিয়ে রাখা হয় তাহলে আপনি কি কথা বলতে পারবেন স্যার?

বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও আমাদের কাছে জোকস লিখে পাঠাতে পারো। পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

আরও পড়ুন:
বুদ্ধিমান বাবা
উপদেশ
ভালো কাজ
গুন্ডাগিরি
সাইনবোর্ড

মন্তব্য

সিন্ড্রেলা

সিন্ড্রেলা
সিন্ড্রেলা বাইরে বেরিয়ে এলো। এসে গান গাওয়া শুরু করল। তার গান শুনে ঘাসগুলো সতেজ হয়ে গেল। গাছগুলো পাতায় পাতায় ভরে উঠল। নদী জলে ভরে গেল। সঙ্গে কত মাছ। জল খেয়ে বাঁচল রাজপুত্র সমরের প্রাণ।

অনেক অনেক আগের কথা। বহুদূরে ছিল একটা স্বপ্নপুরী। যেখানে পরিরা এসে মানুষের সঙ্গে গল্প করত। পাখিরা, মাছেরা কথা বলত। যেখানে ছিল বৃষ্টি গাছ। যে গাছের নিচে দাঁড়ালেই বৃষ্টি ঝরত আর সঙ্গে মিষ্টি সুবাস ছড়াত। সেখানে ছিল একটা সুখ নদী। যে নদীর পাশে বসে দুঃখের কথা কইলে, নদী তার দুঃখ দূর করে দিত।

সেই নদীর পাশেই ছিল একটা ছোট্ট গ্রাম। সেই গ্রামে থাকত সিন্ড্রেলা নামের এক ছোট্ট মেয়ে। সবাই ওকে খুব আদর করত। নিজের ঘরে ডেকে খাওয়াত। সে যে ভারি লক্ষ্মী মেয়ে।

সারা দিন ঘুরত। প্রজাপতিদের সঙ্গে নাচত। বনের পাখির সঙ্গে গাইত। কি মধুর তার কণ্ঠ। তার গান শুনে বনের সব গাছের পাতা নাচত। জলের মাছ ডাঙায় উঠে সে গান শুনত।

সন্ধ্যাবেলায় আকাশের পরিরা এসে গল্প করত তার সঙ্গে। আর নিয়ে আসত কত্ত আজব আজব উপহার। সেসব পেয়ে খিলখিলিয়ে হাসত সিন্ড্রেলা।

একদিন সুখ নদীর পাশে বসে একমনে কাঁদতে লাগল সিন্ড্রেলা। গাল বেয়ে টুপ করে এক ফোঁটা জল পড়ল সুখ নদীতে। সুখ নদী বলে উঠল, 'ওমা এ কি গো সিন্ড্রেলা, তোমার চোখে জল! কী দুঃখ তোমার? বলো আমায়। সব দূর করে দিব আমি।'

কাঁদতে কাঁদতে সিন্ড্রেলা বলল, 'আমার মা বড্ড অসুস্থ গো সুখ নদী। কেউ কইতে পারে না কী হয়েছে তার। ও পাড়ার দিদিমা বলেছে, মা নাকি বেশি দিন আর বাঁচবে না। মা না থাকলে আমার কী কোনো সুখ থাকবে বলো?'

সিন্ড্রেলার কান্না দেখে পুরো নদীর জল কেঁপে উঠল। মাছেরা সুখ নদীকে মিনতি করে বলল, 'ও গো সুখ নদী, তুমি তো সবাইকে সুখী কর। সিন্ড্রেলার মাকে তুমি ভালো করে দাও। নাইলে আমরা আর কোনো মানুষের জালে ধরা দেব না।'

বনের গাছেরা মাটিকে বলল, 'মাটি তুমি আমাদের সবাইকে বাঁচিয়ে রেখেছ। সিন্ড্রেলার মাকে তুমি বাঁচিয়ে দাও। নাইলে আমরা আর কোনো ফুল ফল দিব না।'

রাতে আলোচনা সভায় বসল সুখ নদী, বনের মাটি, বাতাস আর আকাশের পরিরা। সবাই এটা-সেটা অনেক ভেবে খুঁজে পেল সিন্ড্রেলার মাকে বাঁচানোর উপায়।

সিন্ড্রেলাকে ডেকে বলল, 'তোমার মাকে বাঁচানোর একটা উপায় আমরা পেয়েছি। কিন্তু কাজটা কঠিন।'

সিন্ড্রেলা কেঁদে কেঁদে বলল, 'বল কী সেই উপায়। মাকে বাঁচাতে আমি সব করতে পারব।'

'বেশ, তবে কাল ভোরে সূর্য মামা যখন পুব আকাশে উঁকি দিবে তখন একটা ফানুসে করে তোমায় উড়িয়ে দিবে। সে ফানুস যেখানে গিয়ে পড়বে, সেখানেই মিলবে তোমার মাকে বাঁচানোর উপায়'- বলল নদী।

ভোরবেলায় একটা বড় ফানুসে বসিয়ে সিন্ড্রেলাকে আকাশে উড়িয়ে দিলো সবাই। কাঁদল আকাশের পরি, গ্রামের মানুষ, নদী, গাছ, মাছ সবাই।

উড়তে উড়তে বহুদূর চলে গেল ফানুস। গিয়ে পড়ল অচেনা এক রাজ্যে। সেখানে ঘাসগুলো ফ্যাকাসে। গাছে নেই কোনো পাতা। নদীতে নেই জল।

হাঁটতে হাঁটতে এক বিরাট রাজ প্রাসাদের সামনে এসে দাঁড়াল সিন্ড্রেলা। অন্দরমহলে ঢুকে দেখল রাজা বসে কাঁদছে। তার কাছে গিয়ে বলল, 'আপনি কাঁদছেন কেন?'

রাজা মাথা তুলে দেখল লাল পেড়ে ঘিয়ে রঙের শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে আছে এক মেয়ে। বলল, 'কে তুমি মা? কোথায় থেকে এসেছ? আমার এই রাজ্যে যে সন্যাসীর অভিশাপ পড়েছে। তাই কোনো গাছে ফল নেই, নদীতে জল নেই। না খেতে পেরে আমার সব প্রজারা মরে যাচ্ছে। আমার একমাত্র নয়নের মণি রাজপুত্র সমরও পানির অভাবে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।'

'আমি পারব আপনার রাজ্যকে বাঁচাতে' – বলল সিন্ড্রেলা।

'কী বললে মা তুমি! তুমি পারবে? কী করে? কথা দিচ্ছি যদি তুমি সত্যি আমার রাজ্য, আমার ছেলেকে বাঁচাতে পারো, যা চাও তাই পাবে'- বলল রাজা।

সিন্ড্রেলা বাইরে বেরিয়ে এলো। এসে গান গাওয়া শুরু করল। তার গান শুনে ঘাসগুলো সতেজ হয়ে গেল। গাছগুলো পাতায় পাতায় ভরে উঠল। নদী জলে ভরে গেল। সঙ্গে কত মাছ। জল খেয়ে বাঁচল রাজপুত্র সমরের প্রাণ।

সমরের সঙ্গে গল্প করতে করতে দুঃখের কথা বলল সিন্ড্রেলা। সমর বলল, 'আমি জানি কী করে তোমার মাকে বাঁচাবে।'

সিন্ড্রেলা বলল, 'কী করে? বলো আমায় সে উপায়।'

সমর বলল, 'এ রাজ্যের পূর্ব কোণে আছে এক বৃষ্টিগাছ। সে গাছের নিচে দাঁড়ালেই বৃষ্টি হয়। সেই বৃষ্টির জল যদি খাওয়াতে পারো তোমার মাকে, বাঁচবে তিনি।'

তারপর দুজন মিলে চলে গেল সে বৃষ্টিগাছের কাছে। শিশি ভরে নিলো সেই বৃষ্টির জল। তারপর রাজকুমার তার ঘোড়ায় চাপিয়ে সিন্ড্রেলাকে নিয়ে গেল তার মায়ের কাছে। বৃষ্টির জল খেয়ে সুস্থ হয়ে গেল সিন্ড্রেলার মা।

কয়েক বছর পর খবর পাঠিয়ে সিন্ড্রেলাকে রাজ পুত্রবধূ করে নিল রাজকুমার সমর।

আরও পড়ুন:
গাধার বুদ্ধি
জোলা আর সাত ভূত
শেয়ালের বুদ্ধি
কাযিম আর তার শিক্ষক
তিন মুসাফির

মন্তব্য

p
উপরে