পপকর্ন সম্পর্কে জেনে নাও

player
পপকর্ন সম্পর্কে জেনে নাও

আমেরিকার আদিবাসীরা পপকর্ন নানা ধরনের শুকনা মসলা দিয়ে মাখিয়ে খায়। এমনকি তারা পপকর্নের স্যুপও বানিয়ে খায়।

কে কে পপকর্ন পছন্দ করো, হাত তোলো।

ওমা, সবাই দেখি হাত তুলেছে!

তার মানে সবাই পপকর্ন পছন্দ করো।

চলো তাহলে, এই মজার খাবারটি সম্পর্কে কিছু তথ্য জেনে নেই।

পপকর্ন সম্পর্কে জেনে নাও
বিভিন্ন ফ্লেভারের পপকর্ন।

ভুট্টার দানা থেকে পপকর্ন বানানো হয়।

প্রত্নতাত্ত্বিকরা জানতে পেরেছেন, ৪৭০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে পেরুর অধিবাসীরা পপকর্ণ খেতেন।

তোমরা তো জানো, পপকর্ন ভাজার সময় এটি লাফিয়ে ওঠে। তবে এটি কি জানো যে, এরা লাফিয়ে তিন ফুট পর্যন্ত উঠতে পারে?

পপকর্নের মধ্যে মাত্র ৪ শতাংশ পানি থাকে।

ভুট্টার দানায় তাপ দিলে ভেতরে যে পানি থাকে তা বাষ্পে পরিণত হয়। এই বাষ্প খোসায় চাপ সৃষ্টি করে। সেই চাপে একসময় খোসাটি ফুটে যায়। তৈরি হয় পপকর্ন।

আঠারো শতকের শুরুর দিকে অনেকে দুধ এবং চিনির মধ্যে পপকর্ন মিশিয়ে খেতে পছন্দ করতেন।

একটি ভুট্টার দানা যখন পপকর্ন হয়, তখন এটি আগের আকারের চেয়ে সর্বোচ্চ ৩০ গুণ বড় হতে পারে।

পপকর্ন দিয়ে বানানো সবচেয়ে বড় বলটির উচ্চতা ছিল ১২ ফুট।

পপকর্ন সম্পর্কে জেনে নাও
পপকর্ন দিয়ে বানানো সবচেয়ে বড় বল।

১৮৯৩ সালে চার্লস ক্রেটরস প্রথম পপকর্ন তৈরির মেশিন আবিষ্কার করে।

আমেরিকার আদিবাসীরা পপকর্ন নানা ধরনের শুকনা মসলা দিয়ে মাখিয়ে খায়। এমনকি তারা পপকর্নের স্যুপও বানিয়ে খায়।

ভুট্টার শস্যে অন্য যেকোনো শস্য দানার চেয়ে বেশি প্রোটিন রয়েছে। একটি ডিমের চেয়ে বেশি আয়রন ও আলুর চিপসের চেয়ে বেশি ফাইবার রয়েছে।

যে ভুট্টা ফ্রিজে রাখা হয়, সেই ভুট্টা দিয়ে পপকর্ন বানানো যায় না। ফ্রিজে রাখার কারণে ভুট্টার আর্দ্রতা কমে যায় বলে এমনটা হয়।

পপকর্ন সম্পর্কে জেনে নাও
বালি দিয়ে ভাজা হচ্ছে পপকর্ন।

প্রথম দিকে মানুষ বালু গরম করে সেখানে ভুট্টার দানা ফুটিয়ে পপকর্ন তৈরি করত।

আরও পড়ুন:
কুমির সম্পর্কে জেনে নাও

শেয়ার করুন

মন্তব্য

লুকানো চাচ্চুকে খুঁজে বের করো

লুকানো চাচ্চুকে খুঁজে বের করো

এই বীজের মাঝখানে লুকিয়ে আছে একটি মানুষ। সেই মানুষটির শুধু মুখমণ্ডল দেখা যাচ্ছে।

ওপরের ছবিতে কী দেখতে পাচ্ছ?

অনেক বীজ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে, তাই না?

এগুলো কি বীজ জানো?

কফি বীজ। এগুলো গুঁড়া করেই কফি বানানো হয়।

এবার আসল কথায় আসি। এই বীজের মাঝখানে লুকিয়ে আছে একটি মানুষ।

সেই মানুষটির শুধু মুখমণ্ডলটা দেখা যাচ্ছে।

লুকিয়ে লুকিয়ে হাসছে সে।

তোমরা কি তাকে খুঁজে বের করতে পারবে?

এখনই ওকে খোঁজা শুরু করে দাও।

দেখা যাক পারো কি না।

সময় মাত্র এক মিনিট।

বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও কুইজ বানিয়ে আমাদের কাছে পাঠাতে পার। কুইজের সঙ্গে অবশ্যই তোমার নাম, স্কুলের নাম, কোন ক্লাসে পড় এবং আব্বু বা আম্মুর ফোন নম্বর দেবে।

পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

উত্তর দেখতে নিচের ছবিতে চোখ বুলিয়ে নাও।

লুকানো চাচ্চুকে খুঁজে বের করো

আরও পড়ুন:
কুমির সম্পর্কে জেনে নাও

শেয়ার করুন

টুনটুনি আর টুনটুনা

টুনটুনি আর টুনটুনা

এক আনার পয়সাটা বাসার মাঝখানে রাখিয়া টুনটুনি আর টুনটুনা তার চারদিকে ঘুরিয়া ঘুরিয়া নাচে আর গান করে— “রাজার আছে যত টাকা, মোদের আছে তত টাকা।”

টুনটুনি আর টুনটুনা, টুনটুনা আর টুনটুনি। এ ডাল হইতে ও ডালে যায়। ও ডাল হইতে সে ডালে যায়। সে ডাল হইতে আগডালে যায়। আগডাল হইতে লাগডালে যায়। বেগুনগাছে যায়, লঙ্কাগাছে যায়, আমগাছে যায়, জামগাছে যায়। সারা দিন কেবল ফুড়ুত ফুড়ুত। এ গাছ ও গাছ করিয়া টুনটুনিদের জীবন কাটে।

একদিন টুনটুনা টুনটুন করিয়া টুনটুনিকে বলে, “দেখ টুনটুনি! আমাদের যদি টাকা-পয়সা থাকিত তবে কি মজাই না হইত। তোকে ভালোমতো একখানা শাড়ি কিনিয়া দিতে পারি না। আমি একখানা ভালো জামা-কাপড়ও পরিতে পারি না। দেশের বড় লোকেরা কত রং-বেরঙের জামা-কাপড় পরে। কেমন বুক ফুলাইয়া চলে।”

টুনটুনি বেশ গুমর করিয়া বলে, “দেখ টুনটুনা! শুনিয়াছি বনের মধ্যে নাকি সোনার মোহরভরা কলস থাকে। আমি যদি তার একটা কুড়াইয়া পাই, তবে বেশ মজা হয়।"

টুনটুনা বলে, “সত্য কথাই বলিয়াছিস। দেখ টুনটুনি! বনের মধ্যে খুঁজিয়া খুঁজিয়া যেমন করিয়া হোক, একটা মোহরভরা কলস আমি বাহির করিবই।”

টুনটুনি বলে, “তা তুমি বনের মধ্যে খুঁজিয়া খুঁজিয়া দেখ, কোথায় মোহরভরা কলস আছে; আমি এদিকে বাসা সামলাই।”

টুনটুনা এ বনে খোঁজে, সে বনে খোঁজে। বেতের ঝোপের আড়াল দিয়া, শিমুল গাছের গোড়া দিয়া, হিজলগাছের তলা দিয়া। কোথাও মোহরভরা কলস পায় না।

খুঁজিতে খুঁজিতে খুঁজিতে গহিন বনের ভিতর টুনটুনা এক আনার একটা পয়সা পাইল। তাই ঠোঁটে করিয়া টুনটুনা ঘরে ফিরিয়া আসিল।

‘টুনটুনি শিগগির আয়, শিগগির আয়! দেখিয়া যা কী আনিয়াছি।'

টুনটুনি বলিল, ‘কী আনিয়াছ?’

টুনটুনা আরও খানিক দম লইয়া বলে, ‘আমরা বড়লোক হইয়া গিয়াছি।'

‘বড়লোক কেমন রে টুনটুনা? বড়লোক হইলে কী হয়?' টুনটুনি ঠোঁট উঁচাইয়া টুনটুনাকে জিজ্ঞাসা করে।

টুনটুনা এক আনার পয়সাটা দেখাইয়া বলিল, ‘এটা অনেক মূল্যবান জিনিস। এইটি দিয়া যা যা দরকার হয়, সব কিনিব।'

টুনটুনি বলে, ‘সন্দেশ, রসগোল্লা, পানতোয়া, মিহিদানা সব কিনিতে পারিব? যা ইচ্ছা কিনিতে পারিব? চকলেট, লজেন্স, বিস্কুট?' টুনটুনি লেজ নাচাইয়া জিজ্ঞাসা করে।

টুনটুনা উত্তর করে, ‘হা-হা সবকিছু।'

এক আনার পয়সাটা বাসার মাঝখানে রাখিয়া টুনটুনি আর টুনটুনা তার চারদিকে ঘুরিয়া ঘুরিয়া নাচে আর গান করে—

‘রাজার আছে যত টাকা,

মোদের আছে তত টাকা।'

তারা নায় না, খায় না, বেড়ায় না, শোয় না। মনের আনন্দে সেই এক আনার পয়সার চারিদিকে ঘুরিয়া ঘুরিয়া নাচে আর সেই গান গায়—

‘রাজার আছে যত টাকা,

মোদের আছে তত টাকা।'

একদিন হইয়াছে কি? সেই দেশের রাজা শিকারে চলিয়াছেন। আগে-পিছে মন্ত্রী-কোতোয়াল, লোক-লশকর, পেয়াদা-পাইক কেবল গমগম করিতেছে। যাইতে যাইতে যাইতে তাহারা সেই টুনটুনি আর টুনটুনার বাসার কাছে আসিয়া উপস্থিত। তখন রাজা শুনিতে পাইলেন, টুনটুনি আর টুনটুনা গান গাহিতেছে—

‘রাজার আছে যত টাকা,

মোদের আছে তত টাকা।'

রাজা রাগিয়া বলিলেন, ‘কী, এত বড় বুকের পাটা! ছোট্ট এতটুকুন টুনটুনি, এক রত্তি টুনটুনা গান গায়—

রাজার আছে যত টাকা, মোদের আছে তত টাকা।

এতবড় রাজদ্রোহীদের সাজা হওয়া উচিত। কোন দিন তারা রাজ্য আক্রমণ করিয়া বসে তার ঠিক কী!'

তখন রাজা সেপাইকে হুকুম করিলেন, ‘দেখ তো কী আছে উহাদের বাসার মধ্যে।'

রাজার হুকুম পাইতে না পাইতেই সেপাই টুনটুনির বাসায় যাইয়া দেখিয়া রাজার কাছে আসিয়া নিবেদন করিল, ‘মহারাজ! টুনটুনি পাখির বাসায় এক আনার একটা পয়সা আছে।'

‘কী, এক আনার একটা পয়সার জন্য টুনটুনির এত আস্পর্ধা! ওর সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত কর। ঘরদোর যা কিছু আছে ভাঙিয়া ফেল।' গোস্বায় রাজা কলাপাতার মতন কাঁপিতে লাগিলেন।

রাজার মুখ হইতে কথা বাহির হইতে না হইতে কোতোয়াল সৈন্যসামন্ত, দারোগা-পুলিশ লইয়া টুনটুনির বাসা ঘিরিয়া ফেলিল। তারপর এক আনার পয়সা আনিয়া রাজকোষে জমা দিল। রাজার হাতি গিয়া টুনটুনি পাখির বাসা ভাঙিয়া পায়ের তলে পিষিয়া ফেলিল।

টুনটুনি পাখির গান তবু থামে না। তারা এ ডাল হইতে ও ডালে, ও ডাল হইতে এ ডালে আসে, রাজার মাথার উপর দিয়া ফুড়ুত ফুড়ুত করিয়া উড়িয়া বেড়ায়, আর গান গায়—

‘রাজার আছে যত টাকা,

মোদের আছে তত টাকা।'

কী, এত বড় রাজদ্রোহী এই টুনটুনি পাখি! স্পর্ধা ত কম না! রাজাকে অপমান! রাজা এবার রাগে জ্বলিয়া উঠিলেন।

‘কে আছ, এখনই এই টুনটুনি পাখিকে বন্দি কর।'

রাজার হুকুম পাইয়া কোতোয়াল হুঙ্কার দিয়া উঠিলেন – সোয়া লক্ষ দারোগা, জমাদার, সিপাই, মার মার করিয়া উঠিলেন। সোয়া লক্ষ সিপাই সোয়া লক্ষ বন্দুক গুড়ুম করিয়া আওয়াজ করিলেন। সোয়া লক্ষ কামান কাঁধে করিয়া সোয়া লক্ষ গদাইলশকর হনহন করিয়া ছুটিল।

কিন্তু কামানের গুড়ুম আর টুনটুনি পাখির ফুড়ুত ফুড়িত বন্দুকের ফুটুৎ ফুটুৎ আর টুনটুনি পাখির সুরুৎ সুরুৎ কিছুতেই থামে না। এদিক হইতে যদি কামান গর্জায়, টুনটুনি পাখি ওদিকে চলিয়া যায়। ওদিক হইতে যদি বন্দুক ফটকায় টুনটুনি পাখি এদিকে চলিয়া আসে।

এতটুকুন দুটি পাখি! গায়ে বন্দুকের গুলিও লাগে না, কামানের গোলা বারুদও আঘাত করে না | সোয়া লক্ষ দারোগা, জমিদার রোদে ঘামিয়া উঠিলেন।

সোয়া লক্ষ গদাইলশকর দৌড়াইতে দৌড়াইতে হাপুসহুপুস হইয়া গেলেন; কিন্তু টুনটুনি আর টুনটুনাকে ধরিতে পারিলেন না।

রাজা তখন রাগিয়া অস্থির। প্রধান সেনাপতিকে ডাকিয়া কহিলেন, ‘যদি টুনটুনি আর টুনটুনাকে ধরিয়া আনিতে না পার, তবে তোমার গর্দান কাটিয়া ফেলিব!'

গর্দান কাটার ভয়ে প্রধান সেনাপতি বনের মধ্যে আসিয়া মাথায় হাত দিয়া বসিয়া পড়িলেন!

বনের মধ্যে ছিল এক কাঠুরিয়া। সে-ই প্রধান সেনাপতিকে পরামর্শ দিল, ‘বলি, সেনাপতি মহাশয়, কামান বন্দুক দিয়া টুনটুনি আর টুনটুনাকে ধরিতে পারিবেন না। জেলেকে ডাকিয়া বনের মধ্যে জাল ফেলিতে বলুন। সেই জালে টুনটুনি পাখি ধরা পড়িবে।'

কাঠুরিয়ার কথা শুনিয়া প্রধান সেনাপতি জেলেকে ডাকিয়া পাঠাইলেন। সোয়া লক্ষ নাতিপুতি লইয়া জেলে আসিয়া সমস্ত বন জুড়িয়া জাল পাতিল। সেই জালে টুনটুনি আর টুনটুনা ধরা পড়িল। টুনটুনি আর টুনটুনাকে হাতে পাইয়া রাজা ঘরে চলিলেন।

রাজার একশ এক রানী। পিলে রানী, জুরো রানী, কেশো রানী, বেতো রানী, মোটা রানী, পাতলা রানী, খোঁড়া রানী, তোতলা রানী, কানা রানী, বোবা রানী, আলসে রানী, চটপটে রানী, দুষ্টু রানী, মিষ্টি রানী, কত রানীর নাম আর করিব। সব রানী আসিয়া রাজাকে ঘিরিয়া দাঁড়াইল। কেহ খোঁড়াইতে খোঁড়াইতে আসিল, কেহ জ্বরে কাঁপিতে কাঁপিতে আসিল, কেহ আলসি ভাঙিতে ভাঙিতে ভাসিল, কেহ চটপট করিয়া আসিল, কেহ ঘুমে ঢুলিতে ঢুলিতে আসিল।

সবাই আসিয়া রাজাকে ধরিল, ‘মহারাজ, আজ শিকারে যাইয়া কী আনিলেন?'

রাজা বলিলেন, ‘আজ শিকারে যাইয়া টুনটুনি আর টুনটুনা পাখি ধরিয়া আনিয়াছি।'

তখন পিলে রানী পিলের ভরে কোঁকাইতে কোঁকাইতে বলিলেন, ‘দেখি তো কেমন টুনটুনি পাখি?'

রাজা পিলে রানীর হাতে পাখি দুটি দিয়া রাজসভায় যাইয়া এই রাজদ্রোহী পাখি দুটির বিচারের বন্দোবস্ত করিতে মনোযোগ দিলেন।

এদিকে পিলে রানীর হাত হইতে টুনটুনি পাখি গেল জুরো রানীর হাতে। তার হাত হইতে গেল কেশো রানীর হাতে। তারপর এর হাতে ওর হাতে নানা হাতে ঘুরিতে ঘুরিতে টুনটুনি পাখি যখন আলসে রানীর হাতে আসিল, অমনি টুনটুনি করিল ফুড়ুত ফুড়ুত, টুনটুনা করিল সুরুৎ সুরুৎ! দুইজন দুই দিকে পালাইল। রাজার একশ এক রানী ভয়ে কাঁপিতে লাগিল।

পরদিন রাজা রাজসভায় বসিয়া আছেন। কাশী, কাঞ্চি, কনোজ নানান দেশ হইতে পণ্ডিতেরা আসিয়াছেন রাজদ্রোহী টুনটুনি আর টুনটুনা পাখির বিচার করিতে।

রাজসভায় পাখিদের কেতাব উল্টাইয়া পাল্টাইয়া পণ্ডিতেরা রাজদ্রোহী পাখির কী শাস্তি হইতে পারে তাই বাহির করিতে ব্যস্ত। ওদিকে টুনটুনা আর টুনটুনি পাখি আসে না।

রাজা রাগিয়া মাগিয়া রাজসভা ছাড়িয়া রানীদের মধ্যে যাইয়া উপস্থিত, ‘কোথায় সেই রাজদ্রোহী পাখি দুটি?‘

তখন এ রানী চায় ও রানীর মুখের দিকে, ও রানী চায় সে রানীর মুখের দিকে। রাজার মাথার উপর তখন টুনটুনি পাখি উড়িয়া চলিয়াছে ফুড়ুত ফুড়ুত। রাজা সবই বুঝিতে পারিলেন। রাগিয়ামাগিয়া রাজা তখন একশ এক রানীর নাক কাটিয়া ফেলিলেন।

টুনটুনি আর টুনটুনা তখন রজার মাথার ওপর দিয়া ফুড়ুত ফুড়ুত ওড়ে, আর গান গায়—

‘টুনাটুন-টুনাইলাম,

একশ রানীর নাক কাটাইলাম।‘

কী, এত বড় বুকের পাটা! টুনটুনি পাখির রাজার কুলের কথা লইয়া ছড়া কাটে! ধর টুনটুনি পাখিকে।

জেলে আবার তার সোয়া লক্ষ নাতিপুতি লইয়া রাজবাড়িতে হাজির। পাখি দুটি জালে ধরা পড়িল। রাজা তাহাদের হাতে পাইয়া কলাপাতার মতো কাঁপিতে লাগিলেন। এবার আর বিচার-আচারের প্রয়োজন নাই। এক গ্লাস পানি লইয়া রাজা পাখি দুটিকে গিলিয়া খাইয়া ফেলিলেন।

তখন রাজসভায় বড় বড় পণ্ডিত বড় বড় কেতাব দেখিয়া মাথা নাড়িলেন। তাহাদের মাথানাড়া দেখিয়া মন্ত্রী মহাশয় ভাবিত হইলেন। পণ্ডিতেরা মন্ত্রী মহাশয়কে সাবধান করিয়া দিলেন, “মহারাজ যদি কোন মুহুর্তে হাসিয়া উঠেন, তবে পাখি দু’টি রাজার হাসিমুখের ফাঁক দিয়া বাহির হইয়া আসিবে।”

মন্ত্রী মহাশয় সেয়ান লোক। তিনি খাড়া তলোয়ার হাতে দুই সেপাইকে রাজার দুই পাশে দাড় করাইয়া দিলেন। যদিবা রাজা মহাশয় হাসিয়া ফেলেন, আর সেই ফাঁকে টুনটুনি পাখিরা বাহির হইয়া আসিতে চায়; তখনি তারা তলোয়ার দিয়া মারিবে কোপ।

খোকাখুকুরা, তোমরা কেহ হাসিও না যেন! কেউ হাসিও না। একি হাসিয়া দিলে যে? তোমাদের সঙ্গে সঙ্গে রাজা মহাশয়ও যে হাসিয়া উঠিলেন। সেই হাসির ফাঁকে টুনটুনি আর টুনটুনা ফুরুৎ করিয়া উড়িয়া পালাইল।

রাজার দুইধার হইতে দুই সেপাই তলোয়ার উঠাইয়া মারিল কোপ। টুনটুনির গায় ত লাগিল না, লাগিল রাজা মহাশয়ের নাকে। নাক কাটিয়া দুইখান।

টুনটুনি আর টুনটুনা তখন রাজা মহাশয়ের মাথার উপর দিয়া উড়িয়া বেড়ায়, আর গান গায়--

‘টুনটুনা টুন-টুনটুনাইলাম

রাজা মশাইর না কাটাইলাম, নাক কাটাইলাম।'

আরও পড়ুন:
কুমির সম্পর্কে জেনে নাও

শেয়ার করুন

দু-পেয়ে প্রাণী

দু-পেয়ে প্রাণী

আমাদের চারপাশের প্রাণীর যদি দুটি পা কম থাকত, মানে এরা যদি পাখির মতো দু-পেয়ে হতো, তাহলে কেমন দেখাত?

আমাদের চারপাশের বেশির ভাগ প্রাণীর চারটা করে পা। যেমন- বাঘ, সিংহ, শিয়াল, গরু ইত্যাদি।

আচ্ছা এদের যদি দুটি পা কম থাকত, মানে এরা যদি পাখির মতো দু-পেয়ে হতো তাহলে কেমন দেখাত?

চলো দেখে নেই।

তার আগে একটি কথা বলে নেয়া ভালো, ছবিগুলো কিন্তু আসল নয়। কম্পিউটার ফটোশপ সফটওয়্যারের মাধ্যমে করা।

দু-পেয়ে প্রাণী
গাধা
দু-পেয়ে প্রাণী
ঘোড়া
দু-পেয়ে প্রাণী
হাতি
দু-পেয়ে প্রাণী
জিরাফ
দু-পেয়ে প্রাণী

উট

দু-পেয়ে প্রাণী

কুকুর

দু-পেয়ে প্রাণী
গন্ডার
দু-পেয়ে প্রাণী
রয়েল বেঙ্গল টাইগার
আরও পড়ুন:
কুমির সম্পর্কে জেনে নাও

শেয়ার করুন

মস্ত বড় শিং

মস্ত বড় শিং

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষ মেপে দেখেছে, পঞ্চর শিং ১০ ফুট ৭ ইঞ্চি লম্বা। এর আগে যে গরুটার সবচেয়ে বড় শিং ছিল, পঞ্চর শিং তার চেয়ে এক ইঞ্চি লম্বা।

গরুর শিং থাকবে। সেটাই স্বাভাবিক।

তাই বলে এত্ত বড় শিং!

বাবারে বাবা!

চলো বন্ধুরা, আজ আমরা সবচেয়ে বড় শিংওয়ালা গরুর সঙ্গে পরিচিত হই।

৯বছর বয়সী এই গরুটার নাম পঞ্চ।

মস্ত বড় শিং

থাকে আমেরিকার আলাবামা প্রদেশের গুডওয়াটার শহরে।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কর্তৃপক্ষ মেপে দেখেছে, পঞ্চর শিং ১০ ফুট ৭ ইঞ্চি লম্বা।

এর আগে যে গরুটার সবচেয়ে বড় শিং ছিল, পঞ্চর শিং তার চেয়ে এক ইঞ্চি লম্বা।

এটা একটা বিশ্ব রেকর্ড।

এত বড় শিং বিশ্বের আর কোনো গরুর নেই।

পঞ্চ আপেল আর গাজর খেতে ভালোবাসে।

মস্ত বড় শিং

প্রতিদিন অনেকেই ওর শিং দেখতে আসে।

তারা সঙ্গে করে আপেল নিয়ে আসে বলে পঞ্চর কখনও আপেলের অভাব হয় না।

আরও পড়ুন:
কুমির সম্পর্কে জেনে নাও

শেয়ার করুন

ছোট্ট শামুকটা কোথায়?

ছোট্ট শামুকটা কোথায়?

এই পাহাড়ের মাঝ দিয়ে স্কুলে যাচ্ছে একটি ছোট্ট শামুক। সে এতই আস্তে যাচ্ছে যে, যেতে যেতে ক্লাসই শেষ হয়ে যাবে।

ছবিতে কী দেখতে পাচ্ছ?

এগুলো কি পাহাড়?

হতে পারে, আবার নাও হতে পারে।

সে যাই হোক, এই পাহাড়ের মধ্য দিয়ে স্কুলে যাচ্ছে একটি ছোট্ট শামুক।

সে এতই আস্তে যাচ্ছে যে, যেতে যেতে ক্লাসই শেষ হয়ে যাবে।

তোমরা কী ওকে খুঁজে বের করে বলবে একটু দ্রুত যেতে?

তাহলে এখনই ওকে খোঁজা শুরু করে দাও।

সময় মাত্র এক মিনিট।

বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও কুইজ বানিয়ে আমাদের কাছে পাঠাতে পার। কুইজের সঙ্গে অবশ্যই তোমার নাম, স্কুলের নাম, কোন ক্লাসে পড় এবং আব্বু বা আম্মুর ফোন নম্বর দেবে।

পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

উত্তর দেখতে নিচের ছবিতে চোখ বুলিয়ে নাও।

ছোট্ট শামুকটা কোথায়?

আরও পড়ুন:
কুমির সম্পর্কে জেনে নাও

শেয়ার করুন

শিয়াল পণ্ডিত এবং আখের ফল

শিয়াল পণ্ডিত এবং আখের ফল

শিয়াল ভাবল, ‘ক্ষেতে তো রোজই যাই, তাতে কিছু হয় না। ফল খেতে গিয়েই আমার বিপদ হলো। আখ খেতে যাব না কেন, যাব। তবে ফল না খেলেই হলো।’

শিয়াল পণ্ডিত আখ খেতে খুব ভালোবাসে। তাই সে রোজ আখ ক্ষেতে যায়।

একদিন সে আখের ক্ষেতে ঢুকে একটি ভিমরুলের চাক দেখতে পেল। ভিমরুলের চাক সে আগে কখনো দেখেনি, সে মনে করল ওটা বুঝি আখের ফল।

ভিমরুলের চাক দেখে সে বলল, ‘আহা আখের কি চমৎকার ফল! আখ খেতে মিষ্টি, আখের ফল না জানি কত মিষ্টি হবে?’

এই মনে করে যেই সে ভিমরুলের চাক খেতে গেছে, অমনি সব ভিমরুল বেরিয়ে কি-মজাটাই তাকে দেখাতে লাগল!

শিয়াল প্রাণের ভয়ে দিল দৌড়। দৌড়াতে দৌড়াতে পালিয়ে বাঁচল।

ভিমরুলগুলো তাকে খুঁজে না পেয়ে চাকে ফিরে গেল।

শিয়াল ভাবল, ‘ক্ষেতে তো রোজই যাই, তাতে কিছু হয় না। ফল খেতে গিয়েই আমার বিপদ হলো। আখ খেতে যাব না কেন, যাব। তবে ফল না খেলেই হলো।’

দুই দিন পর যখন ব্যথা একটু কমে এলো, তখন সে ভাবল, 'ওই ফলটার ভেতর পোকা ছিল, তারাই আমাকে কামড়েছে। আগে যদি ফলটাতে নাড়া দিতাম তবে পোকাগুলো বেরিয়ে যেত। তারপর ফল খেতে কোনো কষ্ট হতো না! আহা, সে ফল খেতে না জানি কতই মিষ্টি। তবে আর ফল খাব না কেন? খাবার আগে পোকা তাড়িয়ে দিলেই হবে।’

পরদিন আবার সে আখ ক্ষেতে গেল। প্ল্যান মতো লাঠি দিয়ে যেই নাড়া দিয়েছে, অমনি আর যাবে কোথায়! ভিমরুলের দল এসে তাকে কামড়িয়ে আধমরা করে তবে ছাড়ল।

সেই থেকে শিয়াল পণ করেছে, আর কখনো আখ খাবার লোভ করবে না।

আরও পড়ুন:
কুমির সম্পর্কে জেনে নাও

শেয়ার করুন

ঈগল সম্পর্কে জেনে নাও

ঈগল সম্পর্কে জেনে নাও

জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখ ‘সেভ দ্য ঈগল ডে’ বা ঈগল রক্ষা দিবস।

ঈগল এক ধরনের বড় আকারের পাখি। এরা যথেষ্ট শক্তিধর, দক্ষ শিকারি। আজ আমরা এই পাখিটি সম্পর্কে কিছু তথ্য জানব।

ঈগল সাধারণত বনে, ঘন জঙ্গলে বসবাস করে থাকে।

পৃথিবীতে ৬০ প্রজাতির ঈগল দেখতে পাওয়া যায়।

বানর, ছোট জাতের পাখি, টিকটিকি, মাছ, হাঁস-মুরগির ছানা খেয়ে জীবন ধারণ করে থাকে।

ঈগল সম্পর্কে জেনে নাও
মাছ শিকার করেছে ঈগলটি।

একটি পূর্ণবয়স্ক ঈগলের ওজন প্রায় ৩০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। লম্বা হয় প্রায় ৩০-৩৫ ইঞ্চি। পূর্ণবয়স্ক সুস্থ ঈগল সাড়ে চার কিলোমিটারের বেশি ওপরে উঠতে পারে। ঈগল ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে।

শীতকালে এরা তুলনামূলক কম শীত এলাকার দেশে চলে যায়। এরা জনমানব এলাকার বাইরে এবং কমপক্ষে ১০০ ফুট ওপরে গাছের ডালে বাসা তৈরি করে। প্রজাতি ভেদে ঈগল এক থেকে পাঁচটি পর্যন্ত ডিম পাড়ে।

ঈগল সম্পর্কে জেনে নাও
ডিম পাহারা দিচ্ছে মা ও বাবা ঈগল।

ঈগলের দৃষ্টিশক্তি মানুষের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি। তিন মাইল দূরের বস্তুকেও তারা স্পষ্ট দেখতে পারে।

ঈগল গড়ে ২০ বছর বাঁচে। খাঁচায় বন্দি এবং চিড়িয়াখানার ঈগলরা আরও বেশি দিন বাঁচে।

ঈগল সম্পর্কে জেনে নাও
পোষা ঈগল।

ঈগল কখনও ছোট পাখিদের সঙ্গে মেশে না বা ওড়ে না। ঈগল সর্বদা জীবিত প্রাণী খায়। আগে থেকে মৃত বা পচে যাওয়া খাবার এরা খায় না।

ঈগল কান্না করতে পারে না। ওরা সাঁতারও জানে না।

ঈগল সম্পর্কে জেনে নাও
শিকারের দিকে নজর রাখছে।

জানুয়ারি মাসের ১০ তারিখ ‘সেভ দ্য ঈগল ডে’ বা ঈগল রক্ষা দিবস।

আরও পড়ুন:
কুমির সম্পর্কে জেনে নাও

শেয়ার করুন