কুট্টিমামার দন্ত-কাহিনী

কুট্টিমামার দন্ত-কাহিনী

কুট্টিমামার দাদু বাড়ি ফিরে এসে বারো দিন নাকের ব্যথায় বিছানায় শুয়ে রইলেন। তেরো দিনের দিন উকিল ডাকিয়ে উইল করলেন : “আমার পুত্র বা উত্তরাধিকারীদের মধ্যে যে-কেহ দাঁত বাঁধাইতে যাইবে, তাহাকে আমার সমস্ত সম্পত্তি হইতে চিরতরে বঞ্চিত করিব। ”

আমি সগর্বে ঘোষণা করলাম, জনিস, আমার ছোট কাকা দাঁত বাঁধিয়েছে।

ক্যাবলা একটা গুলতি নিয়ে অনেকক্ষণ ধরে একটা নেড়ী কুকুরের ল্যাজকে তাক করছিল। কুকুরটা বেশ বসে ছিল, হঠাৎ কী মনে করে ঘোঁক শব্দে পিঠের একটা এঁটুলিকে কামড়ে দিলে—তারপর পাঁই-পাঁই করে ছুট লাগল। ক্যাবলা ব্যাজার হয়ে বললে, দ্যুৎ! কতক্ষণ ধরে টার্গেট করছি—ব্যাটা পালিয়ে গেল!—আমার দিকে ফিরে বললে, তোর ছোট কাকা দাঁত বাঁধিয়েছে—এ আর বেশি কথা কী! আমার বড় কাকা, মেজ কাকা, রাঙা কাকা সবাই দাঁত বাঁধিয়েছে। আচ্ছা, কাকারা সকলে দাঁত বাঁধায় কেন বল তো? এর মানে কী?

হাবুল সেন বললে, হঃ! এইটা বোঝোস নাই। কাকাগো কামই হইল দাঁত খিঁচানি। অত দাঁত খিঁচালে দাঁত খারাপ হইব না তো কী?

টেনিদা বসে বসে এক মনে একটা দেশলাইয়ের কাঠি চিবুচ্ছিল। টেনিদার ওই একটা অভ্যেস—কিছুতেই মুখ বন্ধ রাখতে পারে না। একটা কিছু না-কিছু তার চিবোনো চাই-ই চাই। রসগোল্লা, কাটলেট, ডালমুট, পকৌড়ি, কাজু বাদাম—কোনওটায় অরুচি নেই। যখন কিছু জোটে না, তখন চুয়িংগাম থেকে শুকনো কাঠি—যা পায় তাই চিবোয়। একবার ট্রেনে যেতে যেতে মনের ভুলে পাশের ভদ্রলোকের লম্বা দাড়ির ডগাটা খানিক চিবিয়ে দিয়েছিল—সে একটা যাচ্ছেতাই কাণ্ড! ভদ্রলোক রেগে গিয়ে টেনিদাকে ছাগল-টাগল কী সব যেন বলেছিলেন।

হঠাৎ কাঠি চিবুনো বন্ধ করে টেনিদা বললে, দাঁতের কথা কী হচ্ছিল র‌্যা? কী বলছিলি দাঁত নিয়ে?

আমি বললাম, আমার ছোট কাকা দাঁত বাঁধিয়েছে।

ক্যাবলা বললে, ইস-ভারি একটা খবর শোনাচ্ছেন ঢাকঢোল বাজিয়ে! আমার বড় কাকা, মেজ কাকা, ফুলু মাসি—

টেনিদা বাধা দিয়ে বললে, থাম থাম বেশি ফ্যাচ-ফ্যাচ করিসনি। দাঁত বাঁধানোর কী জানিস তোরা? হুঁঃ! জানে বটে আমার কুট্টিমামা গজগোবিন্দ হালদার। সায়েবরা তাকে আদর করে ডাকে মিস্টার গাঁজা-গাবিন্ডে। সে-ও দাঁত বাঁধিয়েছিল। কিন্তু সে-দাঁত এখন আর তার মুখে নেই—আছে ডুয়ার্সের জঙ্গলে!

—পড়ে গেছে বুঝি?

—পড়েই গেছে বটে!—টেনিদা তার খাঁড়ার মতো নাকটাকে খাড়া করে একটা উঁচুদরের হাসি হাসল—যাকে বাংলায় বলে হাই ক্লাস। তারপর বললে, সে-দাঁত কেড়ে নিয়ে গেছে।

—দাঁত কেড়ে নিয়েছে? সে আবার কী? আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম, এত জিনিস থাকতে দাঁত কাড়তে যাবে কেন?

কেন? টেনিদা আবার হাসল: দরকার থাকলেই কাড়ে। কে নিয়েছে বল দেখি?

ক্যাবলা অনেক ভেবে-চিন্তে বললে, যার দাঁত নেই।

—ইঃ, কী পণ্ডিত! টেনিদা ভেংচি কেটে বললে, দিলে বলে! অত সোজা নয়, বুঝলি? আমার কুট্টিমামার দাঁত যে-সে নয়-সে এক একটা মুলোর মতো। সে-বাঘা দাঁতকে বাগানো যার-তার কাজ নয়।

—তবে বাগাইল কেডা? বাঘে? হাবুলের জিজ্ঞাসা।

—এঃ, বাঘে! বলছি দাঁড়া। ক্যাবলা, তার আগে দু আনার ডালমুট নিয়ে আয়—

হাঁড়ির মতো মুখ করে ক্যাবলা ডালমুট আনতে গেল। মানে, যেতেই হল তাকে।

আমাদের জুলজুলে চোখের সামনে একাই ডালমুটের ঠোঙা সাবাড় করে টেনিদা বললে, আমার কুট্টিমামার কথা মনে আছে তো? সেই যে চা-বাগানে চাকরি করে আর একই দশজনের মতো খেয়ে সাবাড় করে? আরে, সেই লোকটা-যে ভালুকের নাক পুড়িয়ে দিয়েছিল?

আমরা সমস্বরে বললাম, বিলক্ষণ! ‘কুট্টিমামার হাতের কাজ’ কি এত সহজেই ভোলবার?

টেনিদা বললে, সেই কুট্টিমামারই গল্প। জানিস তো—সায়েবরা ডেকে নিয়ে মামাকে চা-বাগানে চাকরি দিয়েছিল? মামা খাসা আছে সেখানে। খায়-দায় কাঁসি বাজায়। কিন্তু বেশি সুখ কি আর কপালে সয় রে? একদিন জুত করে একটা বন-মুরগির রোস্টে যেই কামড় বসিয়েছে—অমনি ঝন-ঝনাৎ! কুট্টিমামার একটা দাঁত পড়ল প্লেটের ওপর খসে আর তিনটে গেল নড়ে।

হয়েছিল কী, জনিস? শিকার করে আনা হয়েছিল তো বন-মুরগি? মাংসের মধ্যে ছিল গোটাচারেক ছররা। বেকায়দায় কামড় পড়তেই অ্যাকসিডেন্ট, দাঁতের বারোটা বেজে গেল।

মাংস রইল মাথায়—ঝাড়া তিন ঘন্টা নাচানাচি করলে কুট্টিমামা। কখনও কেঁদে বললে, পিসিমা গো তুমি কোথায় গেলে? কখনও কঁকিয়ে ককিয়ে বললে, ইঁ-হি-হি-আমি গেলুম! আবার কখনও দাপিয়ে দাপিয়ে বললে, ওরে বনমুরগি রে—তোর মনে এই ছিল রে! শেষকালে তুই আমায় এমন করে পথে বসিয়ে গেলি রে।

পাকা তিন দিন কুট্টিমামা কিচ্ছুটি চিবুতে পারল না। শুধু রোজ সের-পাঁচেক করে খাঁটি দুধ আর ডজন-চারেক কমলালেবুর রস খেয়ে কোনওমতে পিত্তি রক্ষা করতে লাগল।

দাঁতের ব্যথা-ট্যথা একটু কমলে সায়েবরা কুট্টিমামাকে বললে, তোমাকে ডেনটিস্টের ওখানে যেতে হবে।

—অ্যাঁ।

সায়েবরা বললে, দাঁত বাঁধিয়ে আসতে হবে।

ডেনটিস্টের নাম শুনেই তো কুট্টিমামার চোখ তালগাছে চড়ে গেল। কুট্টিমামার দাদু নাকি একবার দাঁত তুলতে গিয়েছিলেন। যে-ডাক্তার দাঁত তুলেছিলেন, তিনি চোখে কম দেখতেন। ডাক্তার করলেন কী—দাঁত ভেবে কুট্টিমামার দাদুর নাকে সাঁড়াশি আটকে দিয়ে সেটাকেই টানতে লাগলেন। আর বলতে লাগলেন : ইস—কী প্ৰকাণ্ড গজদন্ত আর কী ভীষণ শক্ত! কিছুতেই নাড়াতে পারছি না!

কুট্টিমামার দাদু, তো হাঁই-মাই করে বলতে লাগলেন, ওঁটা—ওঁটা আমার আঁক। আঁক!—টানের চোটে নাক বেরুচ্ছিল না—“আঁক ”।

ডাক্তার রেগে বললেন, আর হাঁক-ডাক করতে হবে না—খুব হয়েছে। আরও গোটাকয়েক টান-ফান দিয়ে নাকটাকে যখন কিছুতেই কায়দা করতে পারলেন না—তখন বিরক্ত হয়ে বললেন : নাঃ, হল না। এমন বিচ্ছিরি শক্ত দাঁত আমি কখনও দেখিনি! এ-রকম দাঁত কোনও ভদ্রলোক তুলতে পারে না।

কুট্টিমামার দাদু বাড়ি ফিরে এসে বারো দিন নাকের ব্যথায় বিছানায় শুয়ে রইলেন। তেরো দিনের দিন উকিল ডাকিয়ে উইল করলেন : “আমার পুত্র বা উত্তরাধিকারীদের মধ্যে যে-কেহ দাঁত বাঁধাইতে যাইবে, তাহাকে আমার সমস্ত সম্পত্তি হইতে চিরতরে বঞ্চিত করিব। ”

অবশ্যি কুট্টিমামার দাদুর সম্পত্তিতে কুট্টিমামার কোনও রাইট নেই—তবু দাদুর আদেশ তো! কুট্টিমামা গাঁই-গুঁই করতে লাগলেন। ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে ‘মাই নোজ’-টোজও বলবার চেষ্টা করলেন। কিন্তু সায়েবের গোঁ-জনিস তো? ঝড়াং করে বলে দিলে, নো ফোকলা দাঁত উইল ডু! দাঁত বাঁধাতেই হবে।

কুট্টিমামা তো মনে মনে “তনয়ে তারো তারিণী”বলে রামপ্রসাদী গান গাইতে গাইতে, বলির পাঁঠার মতো কাঁপতে কাঁপতে গিয়ে ডেনটিস্টের কাছে হাজির। ডেনটিস্ট প্রথমেই তাঁকে একটা চেয়ারে বসালে। তারপর দাঁতের ওপরে খুর খুর করে একটা ইলেকট্ৰিক বুরুশ বসিয়ে সেগুলোকে অর্ধেক ক্ষয় করে দিলে। একটা ছোট হাতুড়ি দিয়ে ঠুকে ঠুকে বাকি সবকটা দাঁতকে নড়িয়ে ফেললে। শেষে বেজায় খুশি হয়ে বললে, এর দু-পাটি দাঁতই খারাপ। সব তুলে ফেলতে হবে।

শুনেই কুট্টিমামা প্রায় অজ্ঞান। গোটা-তিনেক খাবি খেয়ে বললেন, নাকটাও?

ডাক্তার ধমক দিয়ে বললেন, চোপরাও!

তারপর আর কী? একটা পোল্লায় সাঁড়াশি নিয়ে ডাক্তার কুরুৎ-কুরুৎ করে কুট্টিমামার সবকটা দাঁত তুলে দিলে। কুট্টিমামা আয়নায় নিজের মূর্তি দেখে কেঁদে ফেললেন। কিছুটি নেই মুখের ভেতর—একদম গাঁয়ের পেছল রাস্তার মতো-মাঝে মাঝে গর্ত। ওঁকে ঠিক বাড়ির বুড়ি ধাই রামধনিয়ার মত দেখাচ্ছিল।

কুট্টিমামা কেঁদে ফ্যাক ফ্যাক করে বললেন, ওগো আমার কী হল গো—

ডাক্তার আবার ধমক দিয়ে বললে, চোপরাও! সাত দিন পরে এসো-বাঁধানো দাঁত পাবে।

বাঁধানো দাঁত নিয়ে কুট্টিমামা ফিরলেন। দেখতে শুনতে দাঁতগুলো নেহাত খারাপ নয়। খাওয়াও যায় একরকম। খালি একটা অসুবিধে হত। খাওয়ার অর্ধেক জিনিস জমে থাকত দাঁতের গোড়ায়। পরে আবার সেগুলোকে জাবর কাটতে হত।

তবু ওই দাঁত নিয়েই দুঃখে সুখে কুট্টিমামার দিন কাটছিল। কিন্তু সায়েবদের কাণ্ড জনিস তো? ওদের সুখে থাকতে ভূতে কিলোয়—কিছুতেই তিনটে দিন বসে থাকতে পারে না। একদিন বললে, মিস্টার গাঁজা-গাবিণ্ডে, আমরা বাঘ শিকার করতে যাব। তোমাকেও যেতে হবে। আমাদের সঙ্গে।

বাঘ-টাঘের ব্যাপার কুট্টিমামার তেমন পছন্দ হয় না। কারণ বাঘ হরিণ নয়—তাকে খাওয়া যায় না, বরং সে উলটে খেতে আসে। কুট্টিমামা খেতে ভালোবাসে, কিন্তু কুট্টিমামাকেই কেউ খেতে ভালোবাসে—এ-কথা ভাবলে তাঁর মন ব্যাজার হয়ে যায়। বাঘগুলো যেন কী! গায়ে যেমন বিটকেল গন্ধ, স্বভাব-চরিত্তিরও তেমনি যাচ্ছেতাই।

কুট্টিমামা কান চুলকে বললে, বাঘ স্যার—ভেরি ব্যাড স্যার—আই নট লাইক স্যার—

কিন্তু সায়েবরা সে-কথা শুনলে তো! গোঁ যখন ধরেছে তখন গেলই। আর কুট্টিমামাকে চ্যাংদোলা করে নিয়ে চলে গেল।

গিয়ে ডুয়ার্সের জঙ্গলে এক ফরেস্ট বাংলোয় উঠল।

চারদিকে ধুন্ধুমার বন। দেখলেই পিত্তি ঠাণ্ডা হয়ে আসে। রাত্তিরে হাতির ডাক শোনা যায়—বাঘ হুম হাম করতে থাকে। গাছের ওপর থেকে টুপটুপ করে জোঁক পড়ে গায়ে। বানর এসে খামোকা ভেংচি কাটে। সকালে কুট্টিমামা দাড়ি কামাচ্ছিলেন। —একটা বানর এসে ‘ইলিক চিলিক’ এইসব বলে তাঁর বুরুশটা নিয়ে গেল! আর সে কী মশা! দিন নেই—রাত্তির নেই-সমানে কামড়াচ্ছে। কামড়ানোও যাকে বলে! দু-তিন ঘন্টার মধ্যেই হাতে পায়ে মুখে যেন চাষ করে ফেললে।

তার মধ্যে আবার সায়েবগুলো মোটর গাড়ি নিয়ে জঙ্গলের ভেতর ঢুকল বাঘ মারতে |

—মিস্টার গাঁজা-গাবিন্ডে, তুমিও চলো।

কুট্টিমামা তক্ষুনি বিছানায় শুয়ে হাত পা ছুড়তে আরম্ভ করে দিলে। চোখ দুটোকে আলুর মতো বড় বড় করে, মুখে গ্যাঁজলা তুলে বলতে লাগল : বেলি পেইন স্যার-পেটে ব্যথা স্যার—অবস্থা সিরিয়াস স্যার—

দেখে সায়েবরা ঘোঁয়া-ঘোঁয়া—ঘ্যাঁয়োৎ-ঘ্যাঁয়োৎ করে বেশ খানিকটা হাসল। —ইউ গাঁজা-গাবিন্ডে, ভেরি নটি—বলে একজন কুট্টিমামার পেটে একটা চিমটি কাটলে—তারপর বন্দুক কাঁধে ফেলে শিকারে চলে গেল।

আর যেই সায়েবরা চলে যাওয়া—অমনি তাড়াক করে উঠে বসলেন কুট্টিমামা। তক্ষুনি এক ডজন কলা, দুটো পাউরুটি আর এক শিশি পেয়ারার জেলি খেয়ে, শরীর-টরির ভালো করে ফেললেন।

বাংলোর পাশেই একটা ছোট পাহাড়ি ঝরনা। সেখানে একটা শিমুল গাছ। কুট্টিমামা একখানা পেল্লায় কালীসিঙ্গির মহাভারত নিয়ে সেখানে এসে বসলেন।

চারদিকে পাখি-টাখি ডাকছিল। পেটটা ভরা ছিল, মিঠে মিঠে হাওয়া দিচ্ছিল—কুট্টিমামা খুশি হয়ে মহাভারতের সেই জায়গাটা পড়তে আরম্ভ করলেন—যেখানে ভীম বকরাক্ষসের খাবার-দাবারগুলো সব খেয়ে নিচ্ছে।

পড়তে পড়তে ভাবের আবেগে কুট্টিমামার চোখে জল এসেছে, এমন সময় গর্‌র—গর্‌র—

কুট্টিমামা চোখ তুলে তাকাতেই ;

কী সর্বনাশ! ঝরনার ওপারে বাঘ! কী

রূপ বাহার! দেখলেই পিলে-টিলে উলটে যায়। হাঁড়ির মতো প্ৰকাণ্ড মাথা, আগুনের ভাঁটার মতো চোখ, হলদের ওপরে কালো কালো ডোরা, অজগরের মতো বিশাল ল্যাজ। মন্ত হাঁ করে, মুলোর মতো দাঁত বের করে আবার বললে, গর—র—র।

একেই বলে বরাত! যে-বাঘের ভয়ে কুট্টিমামা শিকারে গেল না, সে-বাঘ নিজে থেকেই দোরগোড়ায় হাজির। আর কেউ হলে তক্ষুনি অজ্ঞান হয়ে যেত, আর বাঘ তাকে সারিডন ট্যাবলেটের মতো টপং করে গিলে ফেলত। কিন্তু আমারই মামা তো—ভাঙে তবু মাচকায় না। তক্ষুনি মহাভারত বগলদাবা করে এক লাফে একেবারে শিমুল গাছের মগডালে।

বাঘ এসে গাছের নীচে থাবা পেতে বসল। দু-চারবার থাবা দিয়ে গাছের গুড়ি আঁচড়ায়, আর ওপর তাকিয়ে ডাকে : ঘর-র ঘুঁ-ঘুঁ। বোধহয় বলতে চায়—তুমি তো দেখছি পয়লা নম্বরের ঘুঘু!

কিন্তু বাঘটা তখনও ঘুঘুই দেখেছে—ফাঁদ দেখেনি। দেখল একটু পরেই। কিছুক্ষণ পরে বাঘটা রেগে যেই ঝাঁক করে একটা হাঁক দিয়েছে—অমনি দারুণ চমকে উঠেছে কুটিমামা, আর বগল থেকে কালীসিঙ্গির সেই জগঝস্প মহাভারত ধপাস করে নিচে পড়েছে। আর পড়বি তো পড় সোজা বাঘের মুখে। সেই মহাভারতের ওজন কমসে কম পাক্কা বারো সের—তার ঘায়ে মানুষ খুন হয়—বাঘও তার ঘা খেয়ে উলটে পড়ে গেল। তারপর গোঁ-গোঁ-ঘেয়াং ঘেয়াং বলে বার-কয়েক ডেকেই—এক লাফে ঝরনা পার হয়ে জঙ্গলের মধ্যে হাওয়া!

কুট্টিমামা আরও আধা ঘন্টা গাছের ডালের বসে ঠিক-ঠক করে কাঁপল। তারপর নীচে নেমে দেখল মহাভারত ঠিক তেমনি পড়ে আছে— তার গায়ে আঁচড়টিও লাগেনি। আর তার চারপাশে ছড়ানো আছে। কেবল দাঁত—“বাঘের দাঁত। একেবারে গোনা-গুনতি বত্ৰিশটা দাঁত—মহাভারতের ঘায়ে একটি দাঁতও আর বাঘের থাকেনি। দাঁতগুলো কুড়িয়ে নিয়ে, মহাভারতকে মাথায় ঠেকিয়ে, কুট্টিমামা এক দৌড়ে বাংলোতে। তারপর সায়েবরা ফিরে আসতেই কুটিমামা সেগুলো তাদের দেখিয়ে বললে, টাইগার টুথ।

ব্যাপার দেখে সায়েবরা তো থ!

তাই তো—বাঘের দাঁতই বটে? পেলে কোথায়?

কুট্টিমামা ডাঁট দেখিয়ে বুক চিতিয়ে বললে, আই গো টু ঝরনা। টাইগার কাম। আই ডু বকসিং—মানে ঘুষি মারলাম। অল টুথ ব্রেক। টাইগার কাট ডাউন—মানে বাঘ কেটে পড়ল।

সায়েবরা বিশ্বাস করল কি না কে জানে, কিন্তু কুট্টিমামার ভীষণ খাতির বেড়ে গেল। রিয়্যালি গাঁজা-গাবিন্ডে ইজ এ হিরো! দেখতে কাঁকলাসের মতো হলে কী হয়—হি ইজ এ গ্রেট হিরো! সেদিন খাওয়ার টেবিলে একখানা আস্ত হরিণের ঠ্যাং মেরে দিলেন কুট্টিমামা।

পরদিন আবার সায়েবরা শিকারে যাওয়ার সময় ওকে ধরে টানাটানি ; আজ তোমাকে যেতেই হবে আমাদের সঙ্গে! ইউ আর এ বিগ পালোয়ান!

মহা ফ্যাসাদ! শেষকালে কুট্টিমামা অনেক করে বোঝালেন, বাঘের সঙ্গে বাকসিং করে ওঁর গায়ে খুব ব্যথা হয়েছে। আজকের দিনটাও থাক।

সায়েবরা শুনে ভেবেচিন্তে বললে, অল রাইট—অল রাইট।

আজকে কুট্টিমামা হুঁশিয়ার হয়ে গেছেন— বাংলোর বাইরে আর বেরুলেনই না। বাংলোর বারান্দায় একটা ইজি চেয়ারে আবার সেই কালীসিঙ্গির মহাভারত নিয়ে বসলেন।

—ঘেঁয়াও-—ঘুঁঙ—

কুট্টিমামা আঁতকে উঠলেন। বাংলোর সামনে তারের বেড়া—তার ওপারে সেই বাঘ। কেমন যেন জোড়হাত করে বসেছে। কুট্টিমামার মুখের দিকে তাকিয়ে করুণ স্বরে বললে, ঘেয়াং—কই! আর হাঁ করে মুখটা দেখল! ঠিক সেই রকম। দাঁতগুলো তোলবার পরে কুট্টিমামার মুখের যে-চেহারা হয়েছিল, অবিকল তা-ই! একেবারে পরিষ্কার—একটা দাঁত নাই! নির্ঘাত রামধনিয়ার মুখ।

বাঘাটা হুবহু কান্নার সুরে বললে—ঘ্যাং-ঘ্যাং—ভ্যাঁও! ভাবটা এই দাঁতগুলো তো সব গেল দাদা! আমার খাওয়া-দাওয়া সব বন্ধ! এখন কী করি?

কিন্তু তার আগেই এক লাফে কুট্টিমামা ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করেছেন। বাঘাটা আরও কিছুক্ষণ ঘ্যাং-ঘ্যাং-ভ্যাঁ-ভ্যাঁ করে কেঁদে বনের মধ্যে চলে গেল।

পরদিন সকালে কুট্টিমামা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে, বাঁধানো দাঁতের পাটি দুটো খুলে নিয়ে, বেশ করে মাজছিলেন। দিব্যি সকালের রোদ উঠেছে—সায়েবগুলো ভোঁস ভোঁস করে ঘুমুচ্ছে তখনও, আর কুট্টিমামা দাঁড়িয়ে দাঁত মাজতে মাজতে ফ্যাক-ফ্যাক গলায় গান গাইছিলেন : “এমন চাঁদের আলো, মারি যদি সে-ও ভালো—

সকাল বেলায় চাঁদের আলোয় গান গাইতে গাইতে কুট্টিমামার বোধহয় আর কোনও দিকে খেয়ালই ছিল না। ওদিকে সেই ফোকলা বাঘ এসে জানলার বাইরে বসে রয়েছে ঝোপের ভেতরে। কুট্টিমামার দাঁত খোলা-বুরুশ দিয়ে মাজা—সব দেখছে এক মনে। মাজা-টাজা শেষ করে যেই কুট্টিমামা দাঁত দুপাটি মুখে পুরতে যাবেন—অমনি ; ঘোঁয়াৎ ঘালুম!

অর্থাৎ তোফা—এই তো পেলুম!

জানলা দিয়ে এক লাফে বাঘ ঘরের মধ্যে।

—টা-টাইগার—পর্যন্ত বলেই কুট্টিমামা ফ্ল্যাট!

বাঘ কিন্তু কিছুই করল না। টপাৎ করে কুট্টিমামার দাঁত দু-পাটি নিজের মুখে পুরে নিল—কুট্টিমামা তখনও অজ্ঞান হননি—জ্বলজ্বল করে দেখতে লাগলেন, সেই দাঁত বাঘের মুখে বেশ ফিট করেছে। দাঁত পরে বাঘা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বেশ খানিকক্ষণ নিঃশব্দে বাঘা হাসি হাসল, তারপর টপ করে টেবিল থেকে টুথব্রাশ আর টুথ-পেস্টের টিউব মুখে তুলে নিয়ে জানলা গলিয়ে আবার—

কুট্টিমামার ভাষায়—একেবারে উইন্ড! মানে হাওয়া হয়ে গেল।

টেনিদা থামল। আমাদের দিকে তাকিয়ে গর্বিতভাবে বললে, তাই বলছিলুম, দাঁত বাঁধানোর গল্প আমার কাছে করিাসনি! হুঃ!

আরও পড়ুন:
মেরু ভালুক কুনিকজুয়াক
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে শিল্পমন্ত্রীর আহ্বান
সবুরে মেওয়া ফলে
আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির কাহিনি
ভূত চালানো সহজ নয়

শেয়ার করুন

মন্তব্য

প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য

প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য

মিশরের আলেকজান্দ্রিয়াতে দ্বিতীয় টলেমির রাজত্বকালে খ্রিষ্টপূর্ব ২৮০ অব্দের দিকে লাইটহাউস বানানো হয়েছিল। উচ্চতা ছিল ৪৪০ ফুট।

সপ্তাশ্চর্য মানে হাচ্ছে সাতটি আশ্চর্য জিনিস। প্রাচীনকালে হেলেনীয় সভ্যতার পর্যটকরা পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য নামে তালিকা প্রকাশ করেন। তালিকায় সমসাময়িক পৃথিবীর মানুষের বানানো আশ্চর্যজনক স্থাপনাগুলোর নাম ছিল। চলো দেখে নেই স্থাপনাগুলো কী কী।

মিশরের পিরামিড

প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য

ফারাও (সম্রাট) খুফু মিশরের গিজায় নীলনদের পশ্চিম পারে, খ্রিষ্টপূর্ব ২৫৭৫ এবং ২৪৬৭ অব্দের মাঝামাঝি সময়ে গ্রেট পিরামিড বা মহাপিরামিড তৈরি করেন। তিনটি পিরামিডের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড়।

ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান

প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য

আনুমানিক ৬০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রাজা দ্বিতীয় নেবুচাদনেজার তৈরি করেন বিভিন্ন তলাযুক্ত অতিকায় এক বাগান। এখন যেখানে ইরাক-ব্যাবিলন ছিল, সেখানে।

আর্তেমিসের মন্দির

প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য

খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫৬ অব্দে শিকার আর ফসলের দেবী আর্তেমিসকে উৎসর্গ করে ৩৪২ ফুট বাই ১৬৪ ফুট আকারের এই মন্দিরটি বানানো হয়। ১২৭টি ৬০ ফুট লম্বা পিলারের ওপর দাঁড়ানো ছিল এটি। যেখানে এটি বানানো হয়, সেই ইফেসাস নগরী বর্তমানে তুরস্কের অন্তর্গত।

অলিম্পিয়ার জিউসের মূর্তি

প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য

জিউস হলেন গ্রিক দেবতাদের প্রধান। খ্রিষ্ট পূর্ব ৫০০ অব্দের কোনো একসময়ে ফিডিয়াস নামের একজন গ্রিক ভাস্কর তার স্মরণে এটি তৈরি করেন। এই মূর্তি বানাতে ব্যবহার করা হয়েছিল হাতির দাঁত আর স্বর্ণ। এটি ৪০ ফুট উঁচু ছিল।

হ্যালিকারনেসাসের সমাধি

প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য

৩৫৩ থেকে ৩৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে প্রাচীন হ্যালিকারনেসাসে রাজা মোসোলাসের মৃত্যুর পর তার স্মরণে অতিকায় এই সমাধি মন্দিরটি তৈরি করে রানী আর্তেমেসিয়া।

রোডসের মূর্তি

প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য

গ্রিক সূর্যদেবতা হিলিয়সের মূর্তি বানানো হয়েছিল ব্রোঞ্জ দিয়ে। ২৮০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে গ্রিসের দ্বীপ রোড্‌স-কে পাহারা দেয়ার জন্য বানানো হয়েছিল হিলিয়সের মূর্তি। রোড্‌স দ্বীপের প্রবেশমুখে দাঁড়িয়ে ছিল সে। লম্বায় ছিল ১০৫ ফুট।

আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর

প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য

মিশরের আলেকজান্দ্রিয়াতে দ্বিতীয় টলেমির রাজত্বকালে খ্রিষ্টপূর্ব ২৮০ অব্দের দিকে এই লাইটহাউস বানানো হয়েছিল। উচ্চতা ছিল ৪৪০ ফুট, যা ৪০ তলা ভবনের সমান। গভীর সমুদ্রে চলাচলকারী জাহাজগুলোর পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করত এটি।

আরও পড়ুন:
মেরু ভালুক কুনিকজুয়াক
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে শিল্পমন্ত্রীর আহ্বান
সবুরে মেওয়া ফলে
আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির কাহিনি
ভূত চালানো সহজ নয়

শেয়ার করুন

প্যালারামের ছড়া

প্যালারামের ছড়া

খুশি হয়ে দিয়ে পায় শেষে করি হায় হায়

শখ করে এনে দাদা পুঁতেছিনু ওল
গিন্নি দিয়েছে রেঁধে তাই দিয়ে ঝোল।
এক গ্রাস খাওয়া যেই
আমি আর আমি নেই
চক্ষের নিমেষেই গাল গলা ঢোল।

আগ্রায় গিয়ে আমি হয়ে যাই তাগড়া
তাড়াতাড়ি কিনে ফেলি ইয়া এক নাগরা
খুশি হয়ে দিয়ে পায়
শেষে করি হায় হায়
ভিতরে কাঁকড়া বিছে

কী দারুণ বাগড়া।

আরও পড়ুন:
মেরু ভালুক কুনিকজুয়াক
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে শিল্পমন্ত্রীর আহ্বান
সবুরে মেওয়া ফলে
আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির কাহিনি
ভূত চালানো সহজ নয়

শেয়ার করুন

জার্সি পরা প্রজাপতি

জার্সি পরা প্রজাপতি

আজ এমন একটা প্রজাপতির কথা বলব, যে এমনিতে খেলাধুলা না করলেও সব সময় জার্সি পরেই থাকে। ওর জার্সি নম্বর ৮৮

সাকিব আল হাসানের খেলা দেখেছ?

যখন সে খেলতে নামে, তখন সে জার্সি পরে।

তার জার্সি নম্বর ৭৫।

মেসি-নেইমার ওরা ফুটবল খেলে জার্সি পরে।

দুজনের জাতীয় দলের জার্সি নম্বর ১০।

আজ এমন একটি প্রজাপতির কথা বলব, যে এমনিতে খেলাধুলা না করলেও সব সময় জার্সি পরেই থাকে।

ওদের বেশির ভাগের জার্সি নম্বর ৮৮। তবে কেউ কেউ ৮৯ এবং ৯৮ নম্বরের জার্সিও পরে।

জার্সি পরা প্রজাপতি

‘আন্নার ৮৮’ নামের এই প্রজাপতি পাওয়া যায় মধ্য আমেরিকায়।

এর ডানার সামনের অংশে দেয়া লাল রং দেখলে মনে হয়, কেউ তুলির আচড়ে রংটা মাখিয়ে দিয়েছে।

ডানার পেছনের অংশে আছে সাদার উপরে কালো রেখা।

জার্সি পরা প্রজাপতি

মাঝখানে সাদার ওপর কালো রঙে ইংরেজিতে নম্বরগুলো লেখা থাকে।

মনে মনে হয়তো ভাবছ, ইংরেজিতে নম্বরটা না লিখে বাংলায় লিখলেও তো পারত।

আসলে হয়েছে কী, জার্সি নম্বর সাধারণত ইংরেজিতেই লেখা থাকে।

তাই হয়তো ওদের নম্বরটাও ইংরেজিতে দেয়া আছে।

এরা পচা জিনিস ছাড়া খেতেই পারে না।

জার্সি পরা প্রজাপতি

এমনিতে এরা পচা ফলের রস খায়।

অনেক সময় গোবরের রস খেতেও দেখা যায়।

আরও পড়ুন:
মেরু ভালুক কুনিকজুয়াক
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে শিল্পমন্ত্রীর আহ্বান
সবুরে মেওয়া ফলে
আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির কাহিনি
ভূত চালানো সহজ নয়

শেয়ার করুন

১০টি পার্থক্য বের করো

১০টি পার্থক্য বের করো

মিটিংয়ে উপস্থিত আছে মাকড়সা, প্রজাপতি, ভ্রমর, ঘাসফড়িং, পিঁপড়াসহ আরও অনেকে। সবার একটাই দাবি- তোমাদের মতো ওরাও স্কুলে যেতে চায়।

বনের পোকামাকড়দের মিটিং চলছে।

মিটিংয়ে উপস্থিত আছে মাকড়সা, প্রজাপতি, ভ্রমর, ঘাসফড়িং, পিঁপড়াসহ আরও অনেকে।

সবার একটাই দাবি!

তোমাদের মতো ওরাও স্কুলে যেতে চায়।

বই পড়া শিখতে চায়, বই লিখতে চায়।

নিচে সেই মিটিংয়ের দুটি ছবি দেখতে পাচ্ছ।

ছবি দুটি আপাতত একই রকম মনে হলেও এদের মধ্যে ১০টি পার্থক্য আছে।

১০টি পার্থক্য বের করো

১০টি পার্থক্য বের করো

তোমার কাজ হচ্ছে পার্থক্যগুলো খুঁজে বের করা।

তাহলে দেরি না করে খোঁজ শুরু করে দাও।

সময় মাত্র ৩ মিনিট।

সময় শেষ হলে নিচের ছবি দেয়া উত্তরের সঙ্গে তোমার উত্তরগুলো মিলিয়ে নাও।

১০টি পার্থক্য বের করো

বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও কুইজ বানিয়ে আমাদের কাছে পাঠাতে পার। কুইজের সঙ্গে অবশ্যই তোমার নাম, স্কুলের নাম, কোন ক্লাসে পড় এবং আব্বু বা আম্মুর ফোন নম্বর দেবে।

পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

আরও পড়ুন:
মেরু ভালুক কুনিকজুয়াক
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে শিল্পমন্ত্রীর আহ্বান
সবুরে মেওয়া ফলে
আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির কাহিনি
ভূত চালানো সহজ নয়

শেয়ার করুন

বড়োদের অধিকারে

বড়োদের অধিকারে

দূষণের উল্লাস, ধুলোদের সুখ বিরক্তি, হাঁচিমাখা কাশি খুকখুক।

এ শহর বড়োদের; ছোটোদের নয়

যানজট, কোলাহল, সংঘাত, ভয়।

শব্দের আহাজারি, রড, বালু, ইট

মাথাঘোরা, মনপোড়া, রাগ খিটমিট।

দূষণের উল্লাস, ধুলোদের সুখ

বিরক্তি, হাঁচিমাখা কাশি খুকখুক।

শোকাতুর মাঠগুলো নেই কোনো ঘাস

রোবটিক চলাফেরা, রোবটিক শ্বাস।

পড়াশোনা কড়া শোনা, টেনশন, জব

বড়োদের অধিকারে শহরটা সব।

আরও পড়ুন:
মেরু ভালুক কুনিকজুয়াক
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে শিল্পমন্ত্রীর আহ্বান
সবুরে মেওয়া ফলে
আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির কাহিনি
ভূত চালানো সহজ নয়

শেয়ার করুন

হরেক রকম মাকড়সার জাল

হরেক রকম মাকড়সার জাল

বিজ্ঞানীরা এই পর্যন্ত ৩৭,২৯৬ ধরনের মাকড়সার খোঁজ পেয়েছেন। একেক ধরনের মাকড়সার জাল একেক রকম।

আজ তোমাদের পরিচয় করিয়ে দেব মাকড়সার জালের সঙ্গে।

মানুষ যেমন জাল দিয়ে মাছ ধরে, মাকড়সা তেমনি জাল দিয়ে পোকা ধরে।

পোকার আনাগোনা যেখানে বেশি, মাকড়সা সেখানে জাল বুনে অপেক্ষা করতে থাকে।

সেই জালে কোনো পোকা পড়লেই জড়িয়ে যায়।

এই সুযোগে মাকড়সা এসে শিকারকে ধরে ফেলে।

বিজ্ঞানীরা এ পর্যন্ত ৩৭ হাজার ২৯৬ ধরনের মাকড়সার খোঁজ পেয়েছেন।

একেক ধরনের মাকড়সার জাল একেক রকম।

চলো, আজ সুন্দর কিছু মাকড়সার জাল দেখে নিই।

হরেক রকম মাকড়সার জাল
আরজিওপ মাকড়সার জাল দেখে নাও।

হরেক রকম মাকড়সার জাল
এই জালটি বুনেছে অর্ব ওয়েবস মাকড়সা।

হরেক রকম মাকড়সার জাল
এটা গোল্ডেন অর্ব ওয়েভার মাকড়সার জাল।

হরেক রকম মাকড়সার জাল
সেন্ট এন্ড্র্যু ক্রস মাকড়সার জাল।

হরেক রকম মাকড়সার জাল
অগ্রে-ফেইসড মাকড়শা তার পায়ে জাল বানায়।

আরও পড়ুন:
মেরু ভালুক কুনিকজুয়াক
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে শিল্পমন্ত্রীর আহ্বান
সবুরে মেওয়া ফলে
আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির কাহিনি
ভূত চালানো সহজ নয়

শেয়ার করুন

বুদ্ধির জোর

ভারতীয় লোককাহিনী

বুদ্ধির জোর

ওখানে যারা ছিল, তাদের মধ্য থেকে একজন দু-তিনটি আলু আনল। ওই আলু হাঁড়িতে দিয়ে কিছুক্ষণ পর সেই জল চেখে জ্ঞানপ্রকাশ বলল, ‘বাহ! চমৎকার হয়েছে! এতে যদি দুই মুঠো চাল পড়ত, তাহলে আরও জমত!’

উত্তর দেশের একটি গ্রামে বীরসিংহ ও জ্ঞানপ্রকাশ নামে দুজন যুবক বাস করত। ওদের মধ্যে ছিল গভীর বন্ধুত্ব। কিন্তু স্বভাবে ওরা ছিল পরস্পরের বিপরীত।

জ্ঞানপ্রকাশ ছিল রোগা, দুর্বল, কিন্তু তার বুদ্ধি ছিল তীক্ষ্ণ।

ওদিকে বীরসিংহ ছিল শক্তিশালী, সাহসী আর তড়িঘড়ি করে কাজ করার লোক। ওর বুদ্ধি ছিল কম।

দুই বন্ধু মিলে একবার বেড়াতে বের হলো। সকাল গড়িয়ে দুপুর হতেই বীরসিংহের খিদে পেল। তাদের কাছে খাবার ছিল না।

এ সময় তারা দূরে একটি গ্রাম দেখতে পেল।

‘ওখানে গিয়ে কাউকে খেতে দিতে বলব?’ জিজ্ঞেস করলা বীরসিংহ।

‘আমার অত খিদে নেই। বলা-কওয়া ছাড়া হঠাৎ কারও বাড়ি যেতে ভালা লাগে না। তা ছাড়া আমরা দুজনে একসঙ্গে গেলে খেতে পাব কিনা সন্দেহ। এক কাজ করো, তুমি আগে গিয়ে খেয়ে এসো। তারপর দেখা যাবে’- বলল জ্ঞানপ্রকাশ।

আসল ব্যাপার হলো, জ্ঞানপ্রকাশ ইচ্ছা করে বীরসিংহের সঙ্গে যায়নি। কারণ বীরসিংহ সবার সঙ্গে ঝগড়া করে। আর খিদে পেলে ওর কোনো জ্ঞান থাকে না। মারামারিও করতে পারে।

জ্ঞানপ্রকাশ ভালোভাবেই জানত, ওর সঙ্গে গেলে ভাত তো দূরের কথা, জলও খেতে পাবে না। সেই জন্যই বীরসিংহকে একাই যেতে বলল গ্রামে।

গ্রামে ঢুকেই বীরসিংহ এক চাষিকে দেখতে পেল। ওরা দুপুরের খাবার খাচ্ছিল। বীরসিংহ তাদের সামনে গিয়ে বলল, ‘খিদে পেয়েছে, আমাকেও খেতে দাও।’ জোর করে যেন দাবি করছে সে।

চাষি আর চাষির বউ লোকটার চোটপাট দেখে তো অবাক!

‘হাঁ করে দেখছ কী? তোমাদেরই বলছি। তাড়াতাড়ি খেতে দাও।’ বীরসিংহ চেঁচিয়ে উঠল। এমনভাবে বলল যেন ওদের খাবারগুলো আসলে বীরসিংহের।

‘এত মেজাজ দেখাচ্ছ কেন? তুমি কি আমাদের আত্মীয়? যাও, ভাগো এখান থেকে’- বলল চাষি।

‘এত সাহস তোমার? খেতে দেবে না। আমার হাতের লাঠিটা দেখছ? খাবার না দিলে পিটিয়ে বারোটা বাজিয়ে দিব।’ বীরসিংহ হুংকার দিল।

ওরা দুজনে কথা-কাটাকাটি করছে, এমন সময় চাষির বউ জানালা দিয়ে বেরিয়ে ১০-১২ জনকে ডেকে আনল।

ওদের দেখে বীরসিংহ আরও ক্ষেপে গেল। লাঠি দিয়ে যেই সবাইকে মারতে গেল, অমনি সবাই বীরসিংহকে ধরে আচ্ছামতো পেটাল।

ঘণ্টাখানেক পর জ্ঞানপ্রকাশের কাছে ফিরে এলো সে।

সব কথা শুনে জ্ঞানপ্রকাশ বলল, ‘তুই এই গাছের নিচে বস। আমি এক ঘণ্টার মধ্যে খাবার আনব। তারপর দুজনে মিলে খাব।’

জ্ঞানপ্রকাশও সেই কৃষকের বাড়ি গেল। বীরসিংহকে তাড়ানোর পর তখনও সে ব্যাপারে আলোচনা করছিল গ্রামের লোকজন। এমন সময় জ্ঞানপ্রকাশ গিয়ে খাবার দিতে বলে।

কৃষক রেগে বলল, ‘খাবার-দাবার কিছু হবে না। যাও, না হলে লাঠি খেতে হবে।’

‘আমি ভাত খেতে চাই ঠিকই, কিন্তু তাই বলে লাঠি খেতে চাই না।’ বলল জ্ঞানপ্রকাশ।

তার কথা শুনে সবাই হাসল।

জ্ঞানপ্রকাশ বলল, ‘শুনেছি, এই গ্রামের লোকজন খুব বনেদী। অতিথির আপ্যায়ন করতে ভালোবাসে। যাক সে কথা, আপনার হাঁড়ি আর জল দিলে আমি আপনাদের জন্য চমৎকার একটা খাবার রান্না করে খাওয়াতে পারব।’

গ্রামের লোকের মনে কৌতূহল জাগল। জ্ঞানপ্রকাশ কিষানের কাছ থেকে হাঁড়ি আর জল পেল। একটা গাছের নিচে তিনটি ইট বসিয়ে উনুন বানাল।

এদিক-ওদিক থেকে কয়েকটা কাঠ কুড়িয়ে উনুন ধরাল। উনুনের ওপর জলভর্তি হাঁড়ি বসিয়ে পকেট থেকে একটি পাথরের টুকরা বের করে সেই হাঁড়িতে ফেলল।

ওর এই কাণ্ডকারখানা সবাই দেখল। কিছুক্ষণ পরো ওই হাঁড়ির গরম জল কয়েক ফোঁটা মুখে দিয়ে সুস্বাদু কোনো কিছু খাবার মতো ভঙ্গি করল। বলল, ‘চমৎকার হয়েছে, এতে দু-একটা আলু পড়লে আরও স্বাদ হতো।’

ওখানে যারা ছিল, তাদের মধ্য থেকে একজন দু-তিনটি আলু আনল। ওই আলু হাঁড়িতে দিয়ে কিছুক্ষণ পর সেই জল চেখে জ্ঞানপ্রকাশ বলল, ‘বাহ! চমৎকার হয়েছে! এতে যদি দু-মুঠো চাল পড়ত, তাহলে আরও জমত!’

এভাবে এক এক করে চাল, তরকারি সবই এলো।

গ্রামের ছেলে-বুড়ো সবাই জ্ঞানপ্রকাশকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে। সব শেষে আবার ওই রান্না করা জিনিস মুখে দিয়ে জ্ঞানপ্রকাশ বলল, ‘এ-হে-হে, মস্ত বড় ভুল হয়ে গেছে। নুন পড়ল না।’

তৎক্ষণাৎ একজন ছুটে গিয়ে নুন আনল।

রান্না শেষে কলাগাছের পাতায় খাবার নিয়ে জ্ঞানপ্রকাশ চলে গেল।

দুই বন্ধু পাতায় মোড়ানো খাবার পেট পুরে খেল।

গল্পের শিক্ষা: শক্তি দিয়ে যে কাজ করা সম্ভব নয়, বুদ্ধি দিয়ে সেটা করা সম্ভব।

আরও পড়ুন:
মেরু ভালুক কুনিকজুয়াক
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে শিল্পমন্ত্রীর আহ্বান
সবুরে মেওয়া ফলে
আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির কাহিনি
ভূত চালানো সহজ নয়

শেয়ার করুন