দুই বন্ধুর গল্প

দুই বন্ধুর গল্প

কুকুরের কাজ ছিল রাজহাঁস দেখলেই ঘেউ ঘেউ করে তাদের তাড়ানো।

পোল্যান্ডের ন্যাশনাল পার্কে রাজহাঁসের আনাগোনা বেড়ে গিয়েছিল।

ওরা এখানে-সেখানে মল ত্যাগ করে পার্ক নোংরা করছিল।

কর্তৃপক্ষ তাই রাজহাঁস তাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল।

সে জন্য তারা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর নিয়োগ করল।

কুকুরের কাজ ছিল রাজহাঁস দেখলেই ঘেউ ঘেউ করে তাদের তাড়ানো।

এই কাজ করতে গিয়ে বাকস্ নামের একটা কুকুরের সাথে বাটনস নামের একটা রাজহাঁসের বন্ধুত্ব হয়ে গেল।

তারা একসঙ্গে পার্কে ঘুরে বেড়াত, খেলত।

এভাবে দিন ভালোই কাটছিল।

হঠাৎ একদিন দুর্ঘটনায় বাকস্ অন্ধ হয়ে গেল।

দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে সে হয়ে পড়ল অসহায়।

দুই বন্ধুর গল্প
বাটনস তার অন্ধ বন্ধুকে নিয়ে পার্কে যাচ্ছে।

কোথাও যেতে পারে না, খেলতে পারে না।

মনমরা হয়ে সারাক্ষণ বসে থাকে।

অসহায় বন্ধুকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলো রাজহাঁস বাটনস।

বাটনস তার কুকুর বন্ধুকে পথ দেখিয়ে পার্কে নিয়ে আসা শুরু করল।

আগের মতো ঘুরতে আর একসঙ্গে খেলতে শুরু করল।

এখন বাকস্ অনেক খুশি।

দুই বন্ধুর গল্প
রাজহাঁসের সঙ্গে খেলছে কুকুর বাকস্।

দেখতে না পেলেও আগের মতো খেলতে পারছে, ঘুরতে পারছে বলে সে এখন আনন্দিত।

আমাদেরও রাজহাঁস বাটনসের মতো হওয়া উচিত।

বিপদে পড়া কুকুর বন্ধুকে সে যেমন ছেড়ে যায়নি, তেমনি আমাদেরও উচিত, যেসব বন্ধু বিপদে পড়েছে তাদের ছেড়ে না গিয়ে সাহায্য করা।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

শব্দগুলো খুঁজে বের করো

শব্দগুলো খুঁজে বের করো

শব্দগুলো হলো CAT, cord, MIRROR, TILES, STRAW এবং COUCH।

দুই ভাইবোন ঘরের মধ্যে খেলছে।

একজন বানিয়েছে তাঁবু।

অন্যজন বালিশ নিয়ে যাচ্ছে সেখানে ঘুমাবে বলে।

এদিকে পোষা বিড়ালটা মনে মনে ভাবছে, তাকে কখন ঘরে ঢুকতে দেয়া হবে।

খুব সুন্দর না দৃশ্যটা?

এই সুন্দর দৃশ্যের মধ্যে ছয়টি শব্দ লুকানো আছে।

শব্দগুলো হলো CAT, cord, MIRROR, TILES, STRAW এবং COUCH।

তোমাদের এই শব্দগুলো খুঁজে বের করতে হবে।

সময় মাত্র ৫ মিনিট।

দেখব, কে কে পারো।

...বেশ, ৫ মিনিট শেষ।

যারা পেরেছ, তাদের ধন্যবাদ।

আর যারা পারোনি, তারা উত্তর দেখে নাও।

নিচের ছবিতে উত্তর দেয়া আছে।

শব্দগুলো খুঁজে বের করো

শেয়ার করুন

ঘরবন্দি শিশুদের দূরের বস্তু দেখার ক্ষমতা কমছে

ঘরবন্দি শিশুদের দূরের বস্তু দেখার ক্ষমতা কমছে

গবেষকরা তাদের নিবন্ধে লিখেছেন, মহামারির বিস্তার ঠেকাতে ঘরে থাকার বাধ্যবাধকতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখায় ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তিসহ মানুষের জীবনযাপনে পরিবর্তন ঘটছে। এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সবার জীবনে, বিশেষ করে শিশুদের ওপর থাকবে।

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্বজুড়ে চলছে বিপর্যয়। একের পর এক লকডাউনে বিভিন্ন দেশে তৈরি হয়েছে অচলাবস্থা। দিনের পর দিন ঘরবন্দি জীবনে থাকতে বাধ্য হচ্ছে মানুষ।

করোনার এই সংকটে দুর্বিষহ অবস্থায় রয়েছে শিশুরাও। বিভিন্ন দেশে থেমে থেমে বন্ধ রাখা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এর মধ্যে বাংলাদেশের মতো কিছু দেশে শিক্ষাঙ্গন বন্ধ প্রায় দেড় বছর। শুধু স্কুল নয়, শিশুদের জন্য ঘরের বাইরে খেলাধুলা, বেড়াতে যাওয়া বলতে গেলে একেবারেই বন্ধ।

চার দেয়ালের মাঝে বন্দি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ভয়ংকর অবনতি নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, চলমান মহামারি শিশুদের ভবিষ্যৎ জীবনেও তীব্র নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এ অবস্থায় নতুন করে আশঙ্কাজনক তথ্য বেরিয়ে এসেছে একটি গবেষণায়। দেখা গেছে, করোনার সময় ঘরে আটকে থাকা শিশুদের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দূরের বস্তু পরিষ্কার দেখতে পাওয়ার ক্ষমতা হারাচ্ছে তারা।

হংকংয়ের দ্য চায়নিজ ইউনিভার্সিটি অফ হংকং-এর একদল গবেষক দেড় বছরের বেশি সময় গবেষণা চালিয়ে এমন উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন। তাদের নিবন্ধটি ব্রিটিশ জার্নাল অফ অফথমলজিতে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষকরা গত বছর ৬ থেকে ৮ বছর বয়সী ৭০৯ শিশুকে পর্যবেক্ষণ করে অনেকের মধ্যেই হ্রস্বদৃষ্টি বা মায়োপিয়ার লক্ষণ দেখতে পান। এ ধরনের শিশুরা কাছের বস্তুকে ভালোভাবে দেখতে পেলেও দূরের বস্তু ছিল ঘোলাটে। গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৯ সালের তুলনায় করোনার প্রথম বছরে শিশুদের মায়োপিয়ায় আক্রান্তের হার বেড়েছে ১০ শতাংশ।

গবেষকরা বলছেন, মহামারির সময়ে শিশুদের জীবনযাপনে পরিবর্তন আসায় মায়োপিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তারা বাড়ির বাইরে যেতে পারছে না। পাশাপাশি দিনভর ঘরের ভেতরে ডিজিটাল মাধ্যমে আসক্তি, আঁকাআঁকি, বই পড়ার মতো কাজ করায় ‘হ্রস্বদৃষ্টি’ তৈরি হচ্ছে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মায়োপিয়ার ক্ষেত্রে জিনগত কারণের চেয়ে বেশি দায়ী ঘরের বাইরে না যাওয়া। ঘরের মধ্যে দীর্ঘদিন আটকে থাকলে মানুষের চোখ দূরের বস্তুকে দেখার জন্য প্রয়োজনীয় অভিযোজন ক্ষমতা হারাতে থাকে।

হংকংয়ের গবেষকরা তাদের নিবন্ধে লিখেছেন, ‘মহামারির বিস্তার ঠেকাতে ঘরে থাকার বাধ্যবাধকতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার মতো ব্যবস্থা চিরদিন থাকবে না, তবে এই সময়ে ডিজিটাল ডিভাইসে আসক্তিসহ মানুষের জীবনযাপনে যে পরিবর্তন ঘটছে, তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সবার জীবনে, বিশেষ করে শিশুদের ওপর থাকবে।’

আধুনিক জীবনে বিভিন্ন দেশেই মায়োপিয়া উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের ৯০ শতাংশের মতো মানুষ হ্রস্বদৃষ্টির সমস্যায় আক্রান্ত, এ কারণে দেশটিতে মায়োপিয়াকে মহামারি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, চীনে ২০২০ সালে ৬ বছর বয়সী শিশুদের মায়োপিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা আগের বছরের চেয়ে তিন গুণ বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রকাশিত ওই গবেষণায় চীনে মায়োপিয়া বাড়ার কারণ হিসেবেও লকডাউনকে দায়ী করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির কাহিনি

আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টির কাহিনি

একসময় ফানকু নিশ্চিন্ত হলেন যে, আকাশ ও পৃথিবী আর এক হতে পারবে না। তিনি মনে মনে অনেক শান্তি পেলেন। ওদিকে এসব করতে গিয়ে ফানকুর গায়ের সমস্ত শক্তি শেষ হয়ে গেল। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। শেষে মৃত্যুবরণ করলেন।

হাজার হাজার বছর আগে কোনো আকাশ ও পৃথিবী ছিল না। গোটা মহাকাশ একটি বড় ডিমের মতো ছিল। ডিমের ভেতরে গাঢ় অন্ধকার। সেখানে কোনো উপর-নিচ, বাম-ডান, পূর্ব-পশ্চিম ও দক্ষিণ-উত্তর ছিল না।

এই ডিম এক মহান বীর তৈরি করেছিলেন। তিনি ফানকু। ফানকু বড় ডিমে ১৮ হাজার বছর ছিলেন। একদিন ফানকু ঘুম থেকে জেগে চোখ খুলে দেখলেন, চার পাশে অন্ধকার। প্রচণ্ড গরমে শ্বাস নিতে পারছেন না। তিনি দাঁড়াতে চান কিন্তু ডিমের খোসায় তিনি হাত-পা নাড়তে পারেন না।

ফানকু রাগ করে ডিমের মধ্যে রাখা একটি কুঠার তুলে ডিমের খোসা ভেঙে দিলেন। প্রচণ্ড শব্দে সেই ডিমের তরল পদার্থ ওপরে উঠে আকাশে পরিণত হলো। বাকি ভারী জিনিস নিচে পড়ে পরিণত হলো পৃথিবীতে।

ফানকু কুঠার দিয়ে আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করে দারুণ মজা পেলেন। তবে তিনি ভয় পাচ্ছিলেন, আকাশ ও পৃথিবী হয়তো আবার এক হয়ে যাবে। তাই তিনি আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে দাঁড়িয়ে মন্ত্র পড়ে নিজের শরীর আরও লম্বা করতে চাইলেন।

প্রতিদিন তার শরীরের উচ্চতা তিন মিটারের বেশি বাড়তে থাকল। সঙ্গে আকাশ ও পৃথিবীর দূরত্বও তিন মিটার করে বাড়তে শুরু করল। এইভাবে ১৮ হাজার বছর বাড়ার পর ফানকুয়ের শরীরের উচ্চতা আর আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যে দূরত্ব হাজার হাজার কিলোমিটার হয়ে গেল।

একসময় ফানকু নিশ্চিন্ত হলেন যে, আকাশ ও পৃথিবী আর এক হতে পারবে না। তিনি মনে মনে অনেক শান্তি পেলেন। ওদিকে এসব করতে গিয়ে ফানকুর গায়ের সমস্ত শক্তি শেষ হয়ে গেল। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন। শেষে মৃতু্বরণ করলেন।

মৃত্যুর পর ফানকুর বাঁ চোখ লাল সূর্যে পরিণত হলো। ডান চোখ পরিণত হলো রুপালি চাঁদে। তার শেষ নিঃশ্বাস বাতাস ও মেঘে পরিণত হলো। শেষ ডাক পরিণত হলো বজ্রপাতে। চুল ও দাড়ি তারায় এবং মাথা ও হাত-পা পাহাড়ে পরিণত হলো।

রক্ত পরিণত হলো পৃথিবীর নদী ও হ্রদে। এভাবে শিরাগুলো রাস্তায়, মাংসপেশি উর্বর চাষের জমিতে, চামড়া ফুল, ঘাস, গাছে; দাঁত ও হাড় সোনা, রুপা, তামা, লোহা ও দামি পাথরে পরিণত হলো। তার ঘাম বৃষ্টি হয়ে নেমে এলো পৃথিবীতে।

সেই থেকে পৃথিবী সুজলা সুফলা শস্য শ্যামল হতে শুরু করে।

শেয়ার করুন

রঙিন গ্রামে একদিন

রঙিন গ্রামে একদিন

রাস্তার পাশে ফুটে আছে নানা রঙের ফুল। চারদিকে নানা রঙের খেলা। সেজন্যই এই গ্রামের নাম রঙ্গীন গ্রাম।

রঙিন একটা গ্রামে গিয়েছিলো আমাদের ছোট্ট বন্ধু মুইদ।

সেই গ্রামে আছে লাল রঙের তালগাছ।

গাছের পাতাগুলি সবুজ আর হলুদ।

কৃষ্ণচূড়া গাছ ছেয়ে আছে লাল রঙের ফুলে।

মনে হয় যেন গাছে আগুন লেগেছে।

রাস্তার পাশে ফুটে আছে নানা রঙের ফুল।

চারদিকে নানা রঙের খেলা।

সেজন্যই এই গ্রামের নাম রঙিন গ্রাম।

ছবিটি এঁকেছে মো. মুইদ আল হাসান

সে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।

বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও ছবি এঁকে আমাদের কাছে পাঠাতে পার। লিখতে পার ছড়া, গল্প কিংবা কৌতুক। লেখার সঙ্গে অবশ্যই তোমার নাম, স্কুলের নাম, কোন ক্লাসে পড় এবং আব্বু বা আম্মুর ফোন নম্বর দেবে।

পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

শেয়ার করুন

ঘুড়ির ছড়া

ঘুড়ির ছড়া

আকাশ-জুড়ে ওড়াওড়ি নেই তো পিঠে ডানা, হঠাৎ দেখে ভাবছি তাকে দৈত্যদানোর ছানা।

বুক নেই তার মাথা আছে

আজব সে এক দানো,

ইচ্ছে হলেই লেজটি ধরে

যায় রে দেওয়া টানও।

আকাশ-জুড়ে ওড়াওড়ি

নেই তো পিঠে ডানা,

হঠাৎ দেখে ভাবছি তাকে

দৈত্যদানোর ছানা।

গলার মধ্যে সুতো বাঁধা

ছিঁড়ে গেলে তাহা,

আপনমনে উড়তে থাকে

কী যে স্বাধীন, আহা!

শেয়ার করুন

ভূত চালানো সহজ নয়

ভূত চালানো সহজ নয়

উচাটন মন্ত্রে ভূত আসে, কিন্তু একটা শর্ত—সর্বক্ষণ তাকে কাজ দিতে হবে। কাজ না দিলে অথবা বিতাড়ন মন্ত্রে তাকে তাড়াতে না পারলে, সে তোমার ঘাড় মটকে চলে যাবে। কত ওঝার এইভাবে অপঘাতে মৃত্যু হয়েছে।

ভূতের গল্প বল আজ—ছেলেরা ধরল চরকা বুড়ীকে।

ভূত? ভূত তো কবে সব পালিয়ে গেছে তোদের উৎপাতে।

না, সব ভূত পালায়নি, বলল একটি ছেলে। আমাদের গাঁয়ের একটি মেয়েকে ধরেছিল বাঁশ ঝাড়ের ভূতে। ওঝা এসে ভূত চালান দিয়ে তাকে ভালো করে দেয়। আচ্ছা, এত গাছ থাকতে বাঁশ গাছে ভূত থাকে কেন? জিজ্ঞাসা করে আর একজন।

চরকা বুড়ী চরকা কাটে আর বলে—সবই বলছি, শোন। ভূত চালানো সহজ নয়। ওর বিপদ আছে অনেক। বড় বড় ওঝাদের এজন্য উচাটন, বিতাড়ন সব রকম বিছে শিখতে হয়। ভূতসিদ্ধ যারা, তারা উচাটন মন্ত্রে ভূতকে নামায়, আবার বিতাড়ন মন্ত্রে তাকে তাড়িয়ে দেয়।

এই উচাটনের মন্ত্র-তন্ত্র শিখতে লাগে পুরো দশটি বছর আর বিতাড়নের মন্ত্র-তন্ত্র শিখতেও লাগে কমসে কম আরও দশ বছর। এই বছর কুড়ি ধৈর্য ধরে যারা গুরুর কাছে পড়ে থাকতে পারে—তারাই হয় ভূত মন্ত্রে সিদ্ধ।

কিন্তু তা তো হয় না। আমাদের ধৈর্য কৈ? আমরা সব কিছুই ফাঁকি দিয়ে অল্পের মধ্যে সারতে চাই ।

ওঝাদের বেলাতেও তাই। বছর কয়েক তাড়াতাড়ি করে উচাটন মন্ত্র শিখে, তারা আর বিতাড়ন মন্ত্র শিখতে চায় না। ভাবে, তারা সব শিখে ফেলেছে। তার ফল হয় সাংঘাতিক।

উচাটন মন্ত্রে ভূত আসে, কিন্তু একটা শর্ত—সর্বক্ষণ তাকে কাজ দিতে হবে। কাজ না দিলে অথবা বিতাড়ন মন্ত্রে তাকে তাড়াতে না পারলে, সে তোমার ঘাড় মটকে চলে যাবে। কত ওঝার এইভাবে অপঘাতে মৃত্যু হয়েছে।

একবার হয়েছিল কি, এক ওঝা পূর্ণ সিদ্ধ হওয়ার আগেই উচাটন মন্ত্রে ভূতকে আবাহন জানাল। তার আর দেরি সইছিল না।

ব্যস, ভূত এসে উপস্থিত। উপায়? কাজ চাই তো! ভেবে চিন্তে তো সে ভূতকে ডাকনি।

ওঝা বলল, বাড়ী করে দাও, পুকুর কাটো।

অমনি সঙ্গে সঙ্গে পুকুর, বাড়ী-ঘর সব হয়ে গেল। তারপর? ওঝার আর কোন কাজের কথা মনে পড়ে না। কিন্তু কাজ দিতেই হবে ভূতকে, নইলে—

ওঝা তাড়াতাড়ি বলল—জল আনো।

ভূত জল আনছে তো আনছেই। জলে থৈ থৈ। চারদিক জলে ডুবুডুবু। উপায়?

তখন বুদ্ধি করে ওঝা বলল, সব জল তুলে ফেল ।

কিছুক্ষণের মধ্যেই সব জল তুলে ফেলল ভূত। এবার? কাজ না দিতে পারলে এখনই তো তার ঘাড়টি মটকে মেরে ফেলে দেবে—কিন্তু এত কাজই বা কোথায়?

এমন উভয় সংকটের মধ্যে পড়েও লোকটির মাথায় ধাঁ করে একটা বুদ্ধি খেলে গেল।

ভূতকে সে কি করতে বলল, বল দেখি তোরা?—জিজ্ঞাসা করল চরকাবুড়ী।

ছেলেরা তখন এ-ওর মুখের দিকে তাকাচ্ছে।

একজন বলল, ভূতকে ওঝা বলুক, দৌড়ে পালাও এখান থেকে এক্ষুনি— আপদ বিদায় হোক।

চরকাবুড়ী ঘাড় নেড়ে বলল—উহু, ওটি হবে না। একমাত্র বিতাড়ন মন্ত্রেই তাকে বলা যাবে—পালাও। বিতাড়ন মন্ত্র যে জানে না, তাকে কেবল কাজ দিয়ে যেতে হবে ভূতকে—বেকার থাকবে না সে এক মুহূর্তও।

চরকার সুতোটা ঠিক করে নিয়ে বুড়ী বলল—চট্‌ করে ওঝার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল! সে ভূতকে বলল, ঝাড় থেকে খুব বড় দেখে একটা বাঁশ কেটে আনো।

বাঁশ এলো।

ওঝা বলল—ঐ ফাঁকা জায়গায় বাঁশটা পোঁতো। পোঁতা হলো সঙ্গে সঙ্গে।

ওঝা হুকুম করে বলল, ঐ বাঁশের মাথায় ওঠো আর নামো।

আজ পর্যন্ত ভূত তাই করছে। সেই একটা বাঁশ থেকে কত বাঁশ, কত ঝাড় ঝাড় বাঁশ হয়েছে। ভূত আজও তাই বাঁশ ঝাড়েই ওঠা-নামা করে।

শেয়ার করুন

একই রকম কচ্ছপ দুটি খুঁজে বের করো

একই রকম কচ্ছপ দুটি খুঁজে বের করো

এই কচ্ছপগুলোর মধ্যে দুটি দেখতে একই রকম। সব সময় একই রকম করে নাচে, গান গায়।

ওপরের ছবিতে অনেকগুলো কচ্ছপ দেখা যাচ্ছে।

কেউ নাচছে, কেউ ভেংচি কাটছে, কেউ গাইছে গান।

এই কচ্ছপগুলোর মধ্যে দুটি দেখতে একই রকম।

সব সময় একই রকম করে নাচে, গান গায়।

তুমি সেই কচ্ছপ দুটিকে খুঁজে বের করতে পারবে?

যদি পারো, তাহলে তোমাকে ধন্যবাদ।

আর যদি না পারো, তবে মন খারাপ করার দরকার নেই।

নিচের ছবিতে উত্তর দেয়া আছে।

ঝটপট সেটা দেখে নাও।

বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও কুইজ বানিয়ে আমাদের কাছে পাঠাতে পারো। কুইজের সঙ্গে অবশ্যই তোমার নাম, স্কুলের নাম, কোন ক্লাসে পড়ো এবং আব্বু বা আম্মুর ফোন নম্বর দেবে।

পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

একই রকম কচ্ছপ দুটি খুঁজে বের করো

শেয়ার করুন