তেনালি রামকৃষ্ণ ছিলেন মহারাজা কৃষ্ণদেব রায়ের দরবারের একজন কবি এবং পরামর্শদাতা। তাকে আমরা চিনি তার অসাধারণ রসিকতা, কৌতুক-রসবোধ এবং অসামাণ্য বুদ্ধিমত্তার জন্য। আজ শুনব তার একটি মজার ঘটনা।
চোর এবং কুয়ো
একদিন মহারাজ কৃষ্ণদেব রায় জেলখানা পরিদর্শনে গেলেন। তখন দুজন সিঁধেল চোর তার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করল। জানাল তারা দুজনেই সিঁধ কাটায় পারদর্শী এবং বিশেষজ্ঞ। অভিজ্ঞতা দিয়ে তারা রাজ্যের অন্য চোরদের ধরে দিতে মহারাজকে সাহায্য করবে।
মহারাজ দয়ালু ব্যক্তি ছিলেন। তখনই ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তবে এক শর্তে। বললেন, ‘আমি পরীক্ষা করে দেখব তোমরা কত বড় চোর। আমার পরামর্শদাতা তেনালি রামনের বাড়িতে চুরি করে দেখাতে হবে। যদি পারো, তবেই মুক্তি মিলবে, মিলবে চাকরি।’
চোররা রাজি হয়ে গেল।
সেই রাত্রিতেই চোর দুজন তেনালি রামনের বাড়ির কাছে গেল এবং ঝোপের আড়ালে লুকিয়ে পড়ল।
রাতে আহারের পর তেনালি পায়চারি করার জন্য বাগানের কাছে গেলেন। ঝোপের পেছনে খচমচ আওয়াজ শুনে বুঝতে পারলেন বাগানে চোর ঢুকেছে।
কিছুক্ষণ পরে ঘরে ঢুকে স্ত্রীকে চেঁচিয়ে বললেন, ‘আমাদের উচিত ধনসম্পদ আগলে রাখা। কারণ চারদিকে চুরি বেড়েছে। এখনই সাবধান না হলে পরে পস্তাতে হবে।’
আরও বললেন, ‘বাসার সব সোনাদানা ট্রাঙ্কের মধ্যে ভরে ফেলো।’
চোররা তেনালির সব কথাই শুনল। আর শুনবেই না বা কেন? তেনালি তো ওদের শোনানোর জন্য জোরে জোরে কথা বলেছেন।
কিছুক্ষণ পর তেনালি ট্রাঙ্কটিকে বাড়ির পেছনের কুয়োর কাছে নিয়ে গেলেন। তারপর সেটাকে কুয়োর মধ্যে ফেলে দিলেন।
চোররা সবই দেখল।
কাজ শেষে তেনালি আর তার স্ত্রী যখন ঘরের ভেতর ঢুকে গেলেন, তখনই চোর দুজন বেরিয়ে কুয়োর পানি তুলতে শুরু করল।
সারা রাত পানি তুলল তারা।
ভোরের দিকে অনেক কষ্টে তারা বাক্সটি তুলতে পারল। কিন্তু খুলে যা দেখল তাতে মাথা ঘুরে গেল। ট্রাঙ্কে সোনাদানা নেই, শুধু পাথর।
সেই সময় তেনালি তার ঘর থেকে বেরিয়ে এসে চোরদের ধন্যবাদ দিয়ে বললেন, ‘গাছগুলোকে সারা রাত পানি দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।’
চোররা বুঝতে পারল, তেনালি তাদের বোকা বানিয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রমত্তা পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীনের পথে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম। নদীর প্রবল স্রোতে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভেঙে পড়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পৈতৃক ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত পরিবার। প্রতি বছর নদীভাঙনে পদ্মা নদীর তীরবর্তী অনেক মানুষ ভূমিহীন হয়ে এখন নিঃস্ব প্রায়। ইতোমধ্যে ওই এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে।
পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হার্ডিংঞ্জ ব্রিজ পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে ফয়জুল্লাহপুর এলাকার ওপর দিয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।
ফয়জুল্লাহপুর গ্রামের প্রবীণ অধিবাসী ইয়ার কবিরাজ বলেন, ‘কয়েকদফায় নদীর ভয়াবহ ভাঙনে সব হারিয়ে গেছে। এখন বসতবাড়িটুকুই আমার শেষ সম্বল।’ তিনি আরও জানান, প্রায় ৬০-৭০ বছর আগে চাকলার চর থেকে এই এলাকায় তার বাপ-দাদারা এসে বসবাস শুরু করেছিলেন। শেষ সম্বল বাড়িটুকু হারিয়ে গেলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
তবে সেটিও আগামী কিছুদিনের মধ্যে মধ্যে নদীতে বিলিন হওয়ার শঙ্কায় কাটছে তার প্রতিটি নির্ঘুম রাত।
আফতাবুল সরদার (৭০) জানান, সবই চলে গেছে পানির নিচে। বেচাকেনা করলেও মানতে পারতাম। কিন্তু এখানে তো সবই গেছে পানির নিচে।
শুধু আফতাবুর সরদারই নন, ভিটেমাটি হারিয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বহু সচ্ছল পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, এলাকার মানুষ একদম নিঃস্ব হয়ে গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টা আরও দেখভাল করলে ভালো হতো।
পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকে এই ভাঙনের মূল কারণ বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
গত কয়েক বছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড বন্যা নিয়ন্ত্রণে কিছু জিওব্যাগ নদীতে ফেলে দিলেও তীব্র স্রোত ও ভৌগোলিক পরিবর্তনে সেসব বাঁধ টেকসই হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বারবার প্রতিরক্ষা বাঁধ দেওয়ার পরও থামানো যায়নি ভাঙন। তাই বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বাঁচাতে মজবুত বাঁধ নির্মাণের দাবি স্থানীয়দের।
তারা জানান, সবাই দিন এনে দিন খাওয়া মানুষ। অনেক চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক জায়গায় কথা বলে হয়েছে; কিন্তু কোনো উপকার হচ্ছে না।
অনেক নেতাই বারবার এসে প্রতিশ্রুতি দেন; কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয় না।
কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন। তবে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’
ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলে ৯ বছর বয়সি এক শিশু অপহরণ ও হত্যা মামলায় মো. সাব্বির মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড এবং মোট ৯০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (১৫ জুলাই) টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আ.ন.ম. ইলিয়াস এ রায় ঘোষণা করেন।
পিপি অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দিলু জানান, ২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া আক্তার প্রতিদিনের মতো প্রাইভেট পড়তে যায়। সকাল ৯টার দিকে প্রাইভেট শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে অপহরণ করা হয়।
পরে ভুক্তভোগীর বাবা রনজু মিয়ার ইমু নম্বরে একটি অজ্ঞাত পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট থেকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে জানানো হয়, শিশুটি তাদের হেফাজতে রয়েছে এবং তাকে জীবিত ফেরত পেতে হলে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। বিষয়টি কাউকে বা পুলিশকে জানালে শিশুটিকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় রনজু মিয়া সখীপুর থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ মো. সাব্বির মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
রায়ে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ৮ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। পাশাপাশি দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় তাকে মৃত্যুদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ২০১ ধারায় ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
ছবি: সংগৃহীত
যশোরের কেশবপুর উপজেলায় পরপর দ্বিতীয়বার কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় এক প্রসূতি নারী ও তার নবজাতক কন্যাশিশুকে হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। পরে বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন তাদের পাশে দাঁড়ান এবং চিকিৎসার ব্যয়সহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেন।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) কেশবপুর উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে এক নারী কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এর আগে তার ঘরে আরও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নবজাতক কন্যাশিশুর জন্মের খবর পেয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা প্রসূতি মা ও শিশুটিকে ক্লিনিকে রেখে চলে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অসহায় ওই নারীর বাবা নেই। আর্থিক সংকটের কারণে তার মাও দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকতে পারেননি। ফলে অপারেশনের পর প্রয়োজনীয় সেবা, পুষ্টিকর খাবার ও মানসিক সমর্থন ছাড়াই নবজাতককে নিয়ে হাসপাতালে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাতে হয় তাকে। এমনকি খাবার ও অর্থের অভাবে অন্যের সহায়তায় কোনোমতে দিন পার করছিলেন তিনি।
ঘটনার বিষয়টি ইউএনও রেকসোনা খাতুন জানতে দ্রুত পদক্ষেপ নেন। প্রসূতি নারীর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে কেশবপুরে আনার ব্যবস্থা করা হয়। পরে তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
ইউএনওর অনুরোধে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রসূতি নারীর সিজারিয়ান অপারেশনসহ চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ মওকুফ করে। পরবর্তীতে মা ও নবজাতককে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে তার মায়ের বাড়িতে পাঠানো হয়।
বর্তমানে মা ও নবজাতক শিশুটি তার মাতৃগৃহে অবস্থান করছে। তবে কন্যাসন্তান জন্মের কারণে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘ সময় তাদের কোনো খোঁজখবর নেয়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইউএনও রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘প্রসূতি মা ও নবজাতকের দুর্দশার কথা জানতে পেরে আমরা দ্রুত সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছি। একজন মায়ের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের সময়ে তাকে এভাবে পরিত্যাগ করা অত্যন্ত অমানবিক। সন্তানের লিঙ্গ নিয়ে বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কেশবপুর থানার অফিসার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহযোগিতায় শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এখন মা ও শিশুকে নিজেদের কাছে নিয়ে যেতে সম্মতি জানিয়েছে।’
রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘বিজ্ঞান ও সভ্যতার এই যুগে দাঁড়িয়ে কন্যাসন্তান জন্মকে অপরাধ হিসেবে দেখা চরম মানসিক দেউলিয়াত্বের পরিচয়। ছেলে-মেয়ে নয়, প্রত্যেক সন্তানই সমান মর্যাদা ও ভালোবাসার দাবিদার। সমাজে কন্যাসন্তানের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠুক, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।’
স্থানীয় সচেতন মহল এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয় উল্লেখ করে কন্যাসন্তান নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্যমূলক মানসিকতা দূর করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আন্দারমানিক নদীর পানির প্রবল স্রেতে সদরপুর স্লুইস বেরিবাঁধ ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। স্লুইসটি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় প্রায় সাতশ একর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। সষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সাত গ্রামের প্রায় চার হাজার পরিবার।
সরেজমিনে জানা যায়, এই এলাকায় বন্ধ হয়ে গেছে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। এতে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। হাজীপুর এলাকায় সোনাতলা ও আন্ধারমানিক নদীর সংযোগস্থল এবং সাগর মোহনা ঘেঁষা জনপদের মানুষকে জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় হাজীপুর সেতু থেকে জালালপুর পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় বেড়িবাঁধ। ওই বেড়িবাঁধের অভ্যন্তরের পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হয় সদরপুর তিন ভেন্টের স্লুইস । দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এবার পানির তীব্র চাপে স্লুইসটি বেরিবাঁধসহ ভেঙে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, স্লুইসটি ভেঙে যাওয়ার পর পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে সোনাতলা নদীর জোয়ারের পানি ঢুকে আশপাশের সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বসতঘর, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেকের পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে পরিবারগুলো।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, গত বছর থেকেই স্লুইসে ভাঙনের লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। তখন প্রয়োজনীয় মেরামত করা হলে বর্তমান পরিস্থিতির সষ্টি হতো না। কয়েকদিন ধরে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকলেও স্লুইস দিয়ে পানি নামানোর কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
সদরপুর গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, গত বছর থেকেই স্লুইসটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তখন সংস্কার করলে আজ আমাদের এমন সমস্যায় পড়তে হতো না।
এবিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অফিস সূত্রে জানাজায়, উপজেলার অনেক স্লুইস ও জলকপাট দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের জন্য প্রস্তবনা পাঠানো হয়েছে।
কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, ভেঙে যাওয়া স্লুইস ও জলকপাটগুলো পুননি©মা©ণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁর পত্নীতলায় হানিট্রাপ এর ফাঁদে ফেলে এবং ওয়েব পেজ ব্যবহার করে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের দুই তরুণীসহ ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এর আগে গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে পত্নীতলার উপজেলার সরদারপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জেলার পত্নীতলা উপজেলার পুঁইয়া এলকার মৃত আল হেলালের ছেলে মাহফুজুর রহমান বাঁধন (২৬), একই উপজেলার শিবপুর সরদার পাড়ার মৃত কামরুজ্জামানের ছেলে মমিনুর ইসলাম (২২), পোরশা উপজেলার সুতরইল এলাকার মারুফ হাসান মুন্নার স্ত্রী মোছা. সাদিয়া আক্তার মায়া (১৯) এবং পাশের জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার হালাট্টী এলাকার মো. শান্তর স্ত্রী রুমা খাতুন (২০)।
জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত সংঘবদ্ধ চক্রটি সর্দারপাড়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে এ অপরাধ সংঘটিত করে আসছিল। ফেসবুক পেজ ও ইমো অ্যাপ ব্যবহার করে তারা ভিকটিমদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করত এবং তাদের বাসায় নিয়ে এসে মারধর করে মোবাইলে তাদের নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করত। এ সকল ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ভিকটিমের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করত।
এ সংক্রান্ত তথ্য পেয়ে পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল ও-ই বাসায় অভিযান চালিয়ে এ অপরাধের সাথে জড়িত দুইজন নারী ও দুইজন পুরুষ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই অপরাধের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তারা বেশ কিছুদিন যাবত বিভিন্ন জায়গায় বাসা ভাড়া করে এ ধরনের কাজ করে বেড়াচ্ছেন। চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করার জন্য অভিযান চলমান আছে।
নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এ চক্রের আরো সদস্য যারা জড়িত রয়েছে, তাদের বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তিনি এ ধরনের হানিট্রাপের ফাঁদ থেকে তরুণদেরকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সিরাজগঞ্জের তারাশের চলনবিলে সোনালী আঁশ পাট ছড়ানোর কাজ করছেন কৃষকরা। ছবি: সংগৃহীত
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নদী-নালা, খাল-বিল এখন পানিতে থৈ থৈ করছে। আর এই সময়টার জন্যই অপেক্ষা করছিলেন পাট চাষিরা। পানি আসায় বিলের যত্রতত্র এখন দেখা যাচ্ছে পাট জাগ দেওয়া এবং পাটের আঁশ ছড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট চাষিরা। পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া ও সিরাজগঞ্জের তারাশ উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর তুলে ধরা হলো;
তেতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি জানান : পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় সোনালী আঁশের বাম্পার ফলন হয়েছে। অতীতের সকল লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি রেকর্ড মাত্রা আবাদ। বাজারে ন্যায্য মূল্য পেয়ে হাসি ফুটেছে। প্রান্তিক কৃষকের মুখে পাট ফলন চাষ বেশি হয়েছে।
জলের অভাবে পাট জাগ দিতে প্রথমে সমস্যায় পড়েন পাট চাষিরা। পাট জাগ আঁশ ছড়ানোর কাজে ব্যস্ত পাট চাষি কৃষক এখন শেষ পয্যায়ে। বাজার দর বেশি উৎপাদন ভালো হওয়ায় আগামীতে এ অঞ্চলে পাট চাষ আরো অনেক বাড়বে বলে কৃষি অফিসার শাবরিনা আফরিন এ প্রতিবেদকে জানান। কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ৮শত ৫০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্জন হয়েছে ৯শত হেক্টর। এছাড়াও চলতি মৌসুমে চাষিকে বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া হয়। জমিতে হাল চাষ বীজ নিরানি সার বিষ কিটনাশক প্রয়োগ পাট কাটা ও ধোয়া শুকানোসহ অর্থ ব্যয় হয়েছে ২১/২২ হাজার টাকা। প্রতি বিঘাতে পাট আবাদ ১৬ থেকে ১৮ মন। প্রতি মন ভালো পাটের বাজার মূলো প্রকার বেদে ৪ হাজার ৫ শত টাকা থেক টাকা ধরে পর্যন্ত বাজারে কেনা বেচা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তিরনই হাট ইউপির খয়খাট পাড়া গ্রামের কৃষক সামসুদ্দন ( ৫০) দেড় বিঘা ইউপি সদস্য জব্বার (৪০) ৫০ শতক আমিরুল একর জমিতে পাট আবাদ করেছে। এখন পাটের দাম শুনে খুশি এবং তেতুলিয়া সদর ইউনিয়নের রনচন্ডি গ্রামের কৃষক আব্দুল (৪০) জানান, কৃষি অফিস থেকে প্রান্তিক তৃণমুল চাষিদের সুযোগ সুবিধা কখনও পায়নি। তিরনই হাট ডেমগছ গ্রামে বাসিন্দা মো. বেলাল হোসেন, একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, ৩০ শতক পাট চাষ করেন। তিনি আশা করেন ন্যায্যমূল্যে পাবেন।
এদিকে, তাড়াশ(সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি জানান : নতুন পানির আগমনের সাথেই চলনবিল অঞ্চলের নাটোর, পাবনা ও সিরাজগঞ্জের কৃষকদের মাঝে শুরু হয়েছে পাট জাগ দেওয়া এবং সোনালী আঁশ ছড়ানোর উৎসবমুখর ব্যস্ততা।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চলনবিলের নদী-নালা, খাল-বিল এখন পানিতে থৈ থৈ করছে। এই সময়টার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন স্থানীয় পাট চাষিরা। পানি আসায় বিলের যত্রতত্র এখন দেখা যাচ্ছে পাট জাগ দেওয়ার দৃশ্য।
ঘুরে দেখা গেছে, পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও পাট ধোয়ার কাজে হাত বাড়িয়েছেন। কেউ খেত থেকে পাট কেটে আঁটি বাঁধছেন, কেউ সেই আঁটি পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ পানির মধ্যে বসেই পরম যত্নে পাট থেকে সোনালী আঁশ ছাড়াচ্ছেন। এরপর সেই আঁশ ধুয়ে বাঁশের আড়া বা রাস্তার পাশে রোদে শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।
স্থানীয় এক পাট চাষি জানান, এ বছর পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। তবে কিছুদিন আগে পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে বেশ চিন্তায় ছিলাম। আল্লাহর রহমতে সময়মতো বিলের নতুন পানি চলে আসায় এখন আর সমস্যা নেই। দিনরাত এক করে আমরা পাট ধোয়ার কাজ করছি।
কৃষকরা জানান, বিলের নতুন ও পরিষ্কার পানিতে পাট জাগ দেওয়ার কারণে এবার আঁশের রঙ খুব সুন্দর ও উজ্জ্বল হচ্ছে। বাজারে এই উজ্জ্বল ও মানসম্মত পাটের (সোনালী আঁশ) চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। ফলে এবার ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তারা।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, চলতি মৌসুমে চলনবিল অঞ্চলের কৃষকরা যদি পাটের সঠিক মূল্য পান, তবে গত কয়েক মাসের হাড়ভাঙা খাটুনি সার্থক হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে আবার চাঙ্গা ভাব ফিরে আসবে বলে মনে করছেন।
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব সাপ দিবসের দিনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় লোকালয় থেকে একটি অজগর সাপ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সাপটিকে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হলে সেটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ৫ নম্বর পুল উত্তর ভাড়াউড়া এলাকার বাসিন্দা যোবায়ের আহমেদের বাড়ি থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে যোবায়ের আহমেদের বাড়ির বেশ কয়েকটি হাঁস ও মুরগির বাচ্চা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির দেয়ালের ওপর একটি বড় অজগর সাপকে পাশের গাছের দিকে যেতে দেখেন। এতেই তাদের দীর্ঘদিনের রহস্য কাটতি শুরু হয় এবং তারা বুঝতে পারেন যে, নিখোঁজ হওয়া হাঁস-মুরগির বাচ্চাগুলো এই অজগরটিই খেয়ে আসছিল।
বাড়িতে অজগর দেখার পর আতঙ্কিত না হয়ে বাড়ির মালিক বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ এবং রিদন গৌড় দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অজগর সাপটিকে কোনো ধরনের আঘাত না করে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
উদ্ধার অভিযান শেষে সাপটিকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক জানান, উদ্ধারকৃত অজগর সাপটি আমাদের কাছে হস্তান্তর করার পর আমরা সেটিকে নিরাপদ প্রাকৃতিক আবাসস্থল লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে অবমুক্ত করেছি।
তিনি আরও বলেন, অজগর সাপ বিষধর নয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই লোকালয়ে কখনো সাপ দেখা গেলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে হত্যা না করে, বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়ার জন্য তিনি সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিশ্ব সাপ দিবসের দিন এই ধরনের উদ্ধার অভিযান ও সচেতনতা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাধারণ মানুষের ভূমিকা ও সচেতনতাকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দেবে।
মন্তব্য