শব্দগুলো খুঁজে বের করো

শব্দগুলো খুঁজে বের করো

সুন্দর ঘরটার মধ্যে ছয়টি শব্দ লুকানো আছে। শব্দগুলো হলো Read, PAGE, NOVEL, BOOK, STORY ও words।

খুব সুন্দর সাজানো-গোছানো একটা ঘর।

বাবা, মা, ভাই, বোন সবাই পড়ছে।

পড়ছে কুকুরটাও।

ঘুমাচ্ছে শুধু দুষ্টু বিড়ালটা।

এই সুন্দর ঘরের মধ্যে ছয়টি শব্দ লুকানো আছে।

শব্দগুলো হলো Read, PAGE, NOVEL, BOOK, STORY ও words।

তোমাদের শব্দগুলো খুঁজে বের করতে হবে।

সময় মাত্র ৫ মিনিট।

এবার দেখব, কে কে পারো।

...বেশ, ৫ মিনিট শেষ।

যারা পেরেছো, তাদের ধন্যবাদ।

আর যারা পারোনি, তারা উত্তর দেখে নাও।

নিচের ছবিতে উত্তর দেয়া আছে।

শব্দগুলো খুঁজে বের করো

আরও পড়ুন:
মহাকাশচারীকে পথ দেখাও
ধাঁধা আর ধাঁধা
পাঁচটি পার্থক্য বের করো
লুকানো সাপের খোঁজে
কাঠবিড়ালি বাসায় যাবে

শেয়ার করুন

মন্তব্য

ভূত চালানো সহজ নয়

ভূত চালানো সহজ নয়

উচাটন মন্ত্রে ভূত আসে, কিন্তু একটা শর্ত—সর্বক্ষণ তাকে কাজ দিতে হবে। কাজ না দিলে অথবা বিতাড়ন মন্ত্রে তাকে তাড়াতে না পারলে, সে তোমার ঘাড় মটকে চলে যাবে। কত ওঝার এইভাবে অপঘাতে মৃত্যু হয়েছে।

ভূতের গল্প বল আজ—ছেলেরা ধরল চরকা বুড়ীকে।

ভূত? ভূত তো কবে সব পালিয়ে গেছে তোদের উৎপাতে।

না, সব ভূত পালায়নি, বলল একটি ছেলে। আমাদের গাঁয়ের একটি মেয়েকে ধরেছিল বাঁশ ঝাড়ের ভূতে। ওঝা এসে ভূত চালান দিয়ে তাকে ভালো করে দেয়। আচ্ছা, এত গাছ থাকতে বাঁশ গাছে ভূত থাকে কেন? জিজ্ঞাসা করে আর একজন।

চরকা বুড়ী চরকা কাটে আর বলে—সবই বলছি, শোন। ভূত চালানো সহজ নয়। ওর বিপদ আছে অনেক। বড় বড় ওঝাদের এজন্য উচাটন, বিতাড়ন সব রকম বিছে শিখতে হয়। ভূতসিদ্ধ যারা, তারা উচাটন মন্ত্রে ভূতকে নামায়, আবার বিতাড়ন মন্ত্রে তাকে তাড়িয়ে দেয়।

এই উচাটনের মন্ত্র-তন্ত্র শিখতে লাগে পুরো দশটি বছর আর বিতাড়নের মন্ত্র-তন্ত্র শিখতেও লাগে কমসে কম আরও দশ বছর। এই বছর কুড়ি ধৈর্য ধরে যারা গুরুর কাছে পড়ে থাকতে পারে—তারাই হয় ভূত মন্ত্রে সিদ্ধ।

কিন্তু তা তো হয় না। আমাদের ধৈর্য কৈ? আমরা সব কিছুই ফাঁকি দিয়ে অল্পের মধ্যে সারতে চাই ।

ওঝাদের বেলাতেও তাই। বছর কয়েক তাড়াতাড়ি করে উচাটন মন্ত্র শিখে, তারা আর বিতাড়ন মন্ত্র শিখতে চায় না। ভাবে, তারা সব শিখে ফেলেছে। তার ফল হয় সাংঘাতিক।

উচাটন মন্ত্রে ভূত আসে, কিন্তু একটা শর্ত—সর্বক্ষণ তাকে কাজ দিতে হবে। কাজ না দিলে অথবা বিতাড়ন মন্ত্রে তাকে তাড়াতে না পারলে, সে তোমার ঘাড় মটকে চলে যাবে। কত ওঝার এইভাবে অপঘাতে মৃত্যু হয়েছে।

একবার হয়েছিল কি, এক ওঝা পূর্ণ সিদ্ধ হওয়ার আগেই উচাটন মন্ত্রে ভূতকে আবাহন জানাল। তার আর দেরি সইছিল না।

ব্যস, ভূত এসে উপস্থিত। উপায়? কাজ চাই তো! ভেবে চিন্তে তো সে ভূতকে ডাকনি।

ওঝা বলল, বাড়ী করে দাও, পুকুর কাটো।

অমনি সঙ্গে সঙ্গে পুকুর, বাড়ী-ঘর সব হয়ে গেল। তারপর? ওঝার আর কোন কাজের কথা মনে পড়ে না। কিন্তু কাজ দিতেই হবে ভূতকে, নইলে—

ওঝা তাড়াতাড়ি বলল—জল আনো।

ভূত জল আনছে তো আনছেই। জলে থৈ থৈ। চারদিক জলে ডুবুডুবু। উপায়?

তখন বুদ্ধি করে ওঝা বলল, সব জল তুলে ফেল ।

কিছুক্ষণের মধ্যেই সব জল তুলে ফেলল ভূত। এবার? কাজ না দিতে পারলে এখনই তো তার ঘাড়টি মটকে মেরে ফেলে দেবে—কিন্তু এত কাজই বা কোথায়?

এমন উভয় সংকটের মধ্যে পড়েও লোকটির মাথায় ধাঁ করে একটা বুদ্ধি খেলে গেল।

ভূতকে সে কি করতে বলল, বল দেখি তোরা?—জিজ্ঞাসা করল চরকাবুড়ী।

ছেলেরা তখন এ-ওর মুখের দিকে তাকাচ্ছে।

একজন বলল, ভূতকে ওঝা বলুক, দৌড়ে পালাও এখান থেকে এক্ষুনি— আপদ বিদায় হোক।

চরকাবুড়ী ঘাড় নেড়ে বলল—উহু, ওটি হবে না। একমাত্র বিতাড়ন মন্ত্রেই তাকে বলা যাবে—পালাও। বিতাড়ন মন্ত্র যে জানে না, তাকে কেবল কাজ দিয়ে যেতে হবে ভূতকে—বেকার থাকবে না সে এক মুহূর্তও।

চরকার সুতোটা ঠিক করে নিয়ে বুড়ী বলল—চট্‌ করে ওঝার মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল! সে ভূতকে বলল, ঝাড় থেকে খুব বড় দেখে একটা বাঁশ কেটে আনো।

বাঁশ এলো।

ওঝা বলল—ঐ ফাঁকা জায়গায় বাঁশটা পোঁতো। পোঁতা হলো সঙ্গে সঙ্গে।

ওঝা হুকুম করে বলল, ঐ বাঁশের মাথায় ওঠো আর নামো।

আজ পর্যন্ত ভূত তাই করছে। সেই একটা বাঁশ থেকে কত বাঁশ, কত ঝাড় ঝাড় বাঁশ হয়েছে। ভূত আজও তাই বাঁশ ঝাড়েই ওঠা-নামা করে।

আরও পড়ুন:
মহাকাশচারীকে পথ দেখাও
ধাঁধা আর ধাঁধা
পাঁচটি পার্থক্য বের করো
লুকানো সাপের খোঁজে
কাঠবিড়ালি বাসায় যাবে

শেয়ার করুন

একই রকম কচ্ছপ দুটি খুঁজে বের করো

একই রকম কচ্ছপ দুটি খুঁজে বের করো

এই কচ্ছপগুলোর মধ্যে দুটি দেখতে একই রকম। সব সময় একই রকম করে নাচে, গান গায়।

ওপরের ছবিতে অনেকগুলো কচ্ছপ দেখা যাচ্ছে।

কেউ নাচছে, কেউ ভেংচি কাটছে, কেউ গাইছে গান।

এই কচ্ছপগুলোর মধ্যে দুটি দেখতে একই রকম।

সব সময় একই রকম করে নাচে, গান গায়।

তুমি সেই কচ্ছপ দুটিকে খুঁজে বের করতে পারবে?

যদি পারো, তাহলে তোমাকে ধন্যবাদ।

আর যদি না পারো, তবে মন খারাপ করার দরকার নেই।

নিচের ছবিতে উত্তর দেয়া আছে।

ঝটপট সেটা দেখে নাও।

বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও কুইজ বানিয়ে আমাদের কাছে পাঠাতে পারো। কুইজের সঙ্গে অবশ্যই তোমার নাম, স্কুলের নাম, কোন ক্লাসে পড়ো এবং আব্বু বা আম্মুর ফোন নম্বর দেবে।

পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

একই রকম কচ্ছপ দুটি খুঁজে বের করো

আরও পড়ুন:
মহাকাশচারীকে পথ দেখাও
ধাঁধা আর ধাঁধা
পাঁচটি পার্থক্য বের করো
লুকানো সাপের খোঁজে
কাঠবিড়ালি বাসায় যাবে

শেয়ার করুন

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুল

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুল

সাধারণ ফুলের চেয়ে এটা আকারে বড়। সত্যি বলতে এটা আকারে তোমার চেয়েও বড়।

আমরা সবাই ফুল ভালোবাসি, তাই না?

ফুল দেখতে খুব সুন্দর। ফুলের ঘ্রাণে আমাদের বুক ভরে যায়।

তবে পৃথিবীতে এমন একটা ফুল আছে, যেটা থেকে ঘ্রাণ বের হয় না। বের হয় ভয়ংকর দুর্গন্ধ।

সাধারণ ফুলের চেয়ে এটা আকারে বড়। সত্যি বলতে এটা আকারে তোমার চেয়েও বড়।

এটাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুল।

ফুলটার নাম কী জানো?

কর্পস ফুল।

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার বনে জন্মে এটা। মাঝে মাঝে মালয়েশিয়ার বনেও জন্মাতে দেখা যায়।

গাছের বয়স যখন ৫ থেকে ১০ বছর হয়, তখন এতে ফুল ধরে।

এরপর প্রতি দুই থেকে তিন বছর পরপর ফুল আসে।

আগেই বলেছি, এটা থেকে দুর্গন্ধ বের হয়।

গন্ধটা অনেকটা পচা মাংসের মতো।

এবার বলো, তুমি কি এই ফুলটা তোমার পড়ার ঘরে সাজিয়ে রাখতে চাও?

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুল

আরও পড়ুন:
মহাকাশচারীকে পথ দেখাও
ধাঁধা আর ধাঁধা
পাঁচটি পার্থক্য বের করো
লুকানো সাপের খোঁজে
কাঠবিড়ালি বাসায় যাবে

শেয়ার করুন

টিস্যুবক্স হবে মেছোভূত

টিস্যুবক্স হবে মেছোভূত

কাঁচি দিয়ে সাদা আর্ট পেপারকে ত্রিভুজের মতো করে কেটে বেশ কয়েকটা দাঁত বানাও। দাঁতগুলোও আঠা দিয়ে লাগাও।

বক্সের টিস্যু শেষ হয়ে গেলে বক্সটা ফেলে দিও না। কারণ, এই বক্স দিয়েই আজ আমরা বানাব মেছোভূত।

যা যা লাগবে

একটা টিস্যু বক্স

সাদা আর্ট পেপার

দুই রকমের রং

কালো মার্কার পেন

বিভিন্ন রঙের পম পম।

কাঁচি এবং আঠা।

টিস্যুবক্স হবে মেছোভূত

টিস্যু বক্সের বাইরে এক রং আর ভিতরে আরেক রং দিয়ে রঙিন করে ফেল।

টিস্যুবক্স হবে মেছোভূত

আর্ট পেপারকে গোল গোল করে কেটে চোখ বানাও। মার্কার দিয়ে চোখের মণি এঁকে নাও। এবার আঠা দিয়ে ছবিতে দেখানো জায়গায় লাগিয়ে ফেল।

টিস্যুবক্স হবে মেছোভূত

কাঁচি দিয়ে সাদা আর্ট পেপারকে ত্রিভুজের মতো করে কেটে বেশ কয়েকটা দাঁত বানাও। দাঁতগুলোও আঠা দিয়ে লাগাও।

টিস্যুবক্স হবে মেছোভূত

পম পমগুলো তোমার ইচ্ছেমতো যেখানে খুশি সেখানে লাগাও।

টিস্যুবক্স হবে মেছোভূত

ব্যস হয়ে গেল আমাদের মেছোভূত। এবার ওদের মিছেমিছি মাছ খেতে দাও।

আরও পড়ুন:
মহাকাশচারীকে পথ দেখাও
ধাঁধা আর ধাঁধা
পাঁচটি পার্থক্য বের করো
লুকানো সাপের খোঁজে
কাঠবিড়ালি বাসায় যাবে

শেয়ার করুন

আঠা

আঠা

১৯৪২ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী হ্যারি কুভার দুর্ঘটনাবশত আবিষ্কার করেন সিয়ানোয়াক্রিলেইট। এটাই এখন সুপার গ্লু নামে পরিচিত।

আঠা আমরা সবাই চিনি। কাগজ কিংবা খেলনা জোড়া দিতে আমরা আঠা ব্যবহার করি। চলো আজ আঠা সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য জেনে নিই।

১. কোনো কোনো গাছকে কাটলে এক ধরনের আঠালো পদার্থ পাওয়া যায়। প্রথম দিকে এই প্রাকৃতিক আঠাই ব্যবহার করা হতো। পরবর্তীতে মৃত জীবজন্তুর পা, চামড়া, হাড় ফুটিয়েও আঠা তৈরি করা হতো।

২. ১৯৪২ সালে আমেরিকান বিজ্ঞানী হ্যারি কুভার দুর্ঘটনাবশত আবিষ্কার করেন সিয়ানোয়াক্রিলেইট। এটাই এখন সুপার গ্লু নামে পরিচিত।

৩. আট হাজার বছর আগেও মানুষ প্রাকৃতিক আঠা ব্যবহার করত বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা। তবে আঠা ব্যবহার করার সবচেয়ে প্রাচীন প্রমাণ মেলে পিরামিডে। রাজা তুতানখামুনের কফিনে আঠা ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ পেয়েছেন।

৪. প্রথম আঠার কারখানা খোলা হয় ১৬৯০ সালে, নেদারল্যান্ডসে।

৫. আটা, ময়দা এমনকি ভাত দিয়েও আঠা বানানো যায়।

আরও পড়ুন:
মহাকাশচারীকে পথ দেখাও
ধাঁধা আর ধাঁধা
পাঁচটি পার্থক্য বের করো
লুকানো সাপের খোঁজে
কাঠবিড়ালি বাসায় যাবে

শেয়ার করুন

পার্থক্যগুলো খুঁজে বের করো

পার্থক্যগুলো খুঁজে বের করো

বাবার চোখের চশমাটা নেই হয়ে গেছে। সে জন্য মেয়েটার মুখও হয়ে গেল গোমড়া।

ছোট্ট মেয়েটা তার বাবার সঙ্গে স্কুলে যাচ্ছে।

আজ তার প্রজেক্ট জমা দেয়ার দিন।

বাবার হাতে রয়েছে সেই প্রজেক্টটা।

খুব সাবধানে হাঁটছে তারা।

ওদিকে গোলাপি রঙের একটা পাখি সাইনবোর্ডে বসে বাবা-মেয়ের কাণ্ড-কারখানা দেখছে।

খুব সুন্দর না দৃশ্য দুটো?

একই রকম হলেও দৃশ্য দুটির মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য আছে।

দেরি না করে তুমি সেই পার্থক্যগুলো বের করে ফেলো।

বের করেছো?

বেশ। এবার আমাদের সঙ্গে মিলিয়ে নাও।

বাবার চোখের চশমাটা নেই হয়ে গেছে। সে জন্য মেয়েটার মুখও হয়ে গেল গোমড়া।

এদিকে স্কুল বানানটাও শুদ্ধ থেকে ভুল হয়ে গেছে। পেছনের বিল্ডিংটার একটা জানালা গায়েব। রাস্তার পাশরে খানিকটা ঝোপও এখন নেই। এক পায়ের মোজাও চোখে পড়ছে না।

পার্থক্যগুলো খুঁজে বের করো

আরও পড়ুন:
মহাকাশচারীকে পথ দেখাও
ধাঁধা আর ধাঁধা
পাঁচটি পার্থক্য বের করো
লুকানো সাপের খোঁজে
কাঠবিড়ালি বাসায় যাবে

শেয়ার করুন

কৌটোর ভূত

কৌটোর ভূত

দুপুরবেলা যখন জয়তিলকবাবু খেয়েদেয়ে ভুঁড়ি ভাসিয়ে ঘুমোচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে আমি আর বিশু তার ভূতের কৌটো চুরি করলুম। এক দৌড়ে আমবাগানে পৌছে কৌটো খুলে ফেললুম। উপুড় করতেই পাঁচটা শুকনো পাতার মতো জিনিস পড়ল মাটিতে।

জয়তিলকবাবু যখনই আমাদের গাঁয়ের বাড়িতে আসতেন তখনই আমরা, অর্থাৎ ছোটরা ভারি খুশিয়াল হয়ে উঠতুম।
তখনকার, অর্থাৎ প্রায় ত্রিশ বছর আগের পূর্ববঙ্গের গাঁ-গঞ্জ ছিল আলাদা রকম, মাঠ-ঘাট খাল-বিল, বন-জঙ্গল মিলে এক আদিম আরণ্যক পৃথিবী। সাপখোপ জন্তু-জানোয়ার তো ছিলই, ভূত-প্রেতেরও অভাব ছিল না। আর ছিল নির্জনতা।
তবে আমাদের বিশাল যৌথ পরিবারে মেলা লোকজন, মেলা কাচ্চাবাচ্চা। মেয়ের সংখ্যাই অবশ্য বেশি। কারণ বাড়ির পুরুষেরা বেশির ভাগই শহরে চাকরি করত, আসত কালেভদ্রে। বাড়ি সামাল দিত দাদুটাদু গোছের বয়স্করা। বাবা-কাকা-দাদাদের সঙ্গে বলতে কি আমাদের ভাল পরিচয়ই ছিল না, তারা প্রবাসে থাকার দরুন।
বাচ্চারা মিলে আমরা বেশ হৈ-হুল্লোড়বাজিতে সময় কাটিয়ে দিতাম। তখন পড়াশুনার চাপ ছিল না। ভয়াবহ কোন শাসন ছিল না। যথেষ্ট স্বাধীনতা ছিল। কিন্তু অভাব ছিল একটা জিনিসের। আমাদের কেউ যথেষ্ট পাত্তা বা মূল্য দিত না।
জয়তিলকবাবু দিতেন, আত্মীয় নন, মাঝে মধ্যে এসে হাজির হতেন। কয়েক দিন থেকে আবার কোথায় যেন উধাও হতেন। কিন্তু যে কয়েকটা দিন থাকতেন বাচ্চাদের গল্পে আর নানারকম মজার লেখায় মাতিয়ে রাখতেন।
মাথায় টাক, গায়ের রঙ কালো, বেঁটে, আঁটো গড়ন আর পাকা গোঁফ ছিল তার। ধুতি আর ফতুয়া ছিল বারোমেসে পোশাক, শীতে একটা মোটা চাদর। সর্বদাই একটা বড় বোঁচকা থাকত সঙ্গে। শুনতাম তার ফলাও কারবার। তিনি নাকি সবকিছু কেনেন এবং বেচেন। যা পান তাই কেনেন, যাকে পান তাকেই বেচেন। কোনো বাছাবাছি নেই।
সেবার মাঘ মাসের এক সকালে আমাদের বাড়ি এসে হাজির হলেন। এসেই দাদুকে বললেন, গাঙ্গুলিমশাই, এবার কিছু ভূত কিনে ফেললাম। দাদু কানে কম শুনতেন, মাথা নেড়ে বললেন, খুব ভাল। এবার বেচে দাও।
জয়তিলক কাঁচুমাচু মুখ করে বললেন, সেটাই তো সমস্যা। ভূত কেনে কে? খদ্দের দিন না।
—খদ্দর? না বাপু ওসব আমি পরি না, স্বদেশীদের কাছে যাও।
—আহা, খদ্দর নয়, খদ্দের, মানে গ্রাহক।
—গায়ক। না বাপু, গানবাজনা আমার আসে না।
জয়তিলক অগত্যা ক্ষান্ত দিয়ে আমাদের সঙ্গে এসে জুটলেন। তিনি ভূত কিনেছেন শুনে আমাদের চোখ গোল্লা গোল্লা। ঘিরে ধরে ভূত দেখাও, ভূত দেখাও বলে মহা শোরগোল তুলে ফেললুম।
প্রথমে কিছুতেই দেখাতে চান না। শেষে আমরা ঝুলোবুলি করে তাঁর গোঁফ আর জামা ছিঁড়ে ফেলার উপক্রম করায় বললেন, আচ্ছা আচ্ছা দেখাচ্ছি। কিন্তু সব ঘুমন্ত ভূত, শুকিয়ে রাখা।
সে আবার কী?
আহা, যেমন মাছ শুকিয়ে শুঁটকি হয় বা আম শুকিয়ে আমসি হয়, তেমনই আরকি। বহু পুরনো জিনিস।
জয়তিলক তাঁর বোঁচকা খুলে একটা জংধরা টিনের কৌটো বের করলেন। তারপর খুব সাবধানে ভেতরে উঁকি মেরে দেখে নিয়ে ফিসফিস করে বললেন, বেশি গোলমাল কোরো না, এক এক করে উঁকি মেরে দেখে নাও। ভূতেরা জেগে গেলেই মুস্কিল।
কী দেখলুম তা বলা একটা সমস্যা। মনে হলো শুকনো পলতা পাতার মত চার-পাঁচটা কেলেকুষ্টি জিনিস কৌটোর নীচে পড়ে আছে। কৌটোর ভিতরটা অন্ধকার বলে ভাল বোঝাও গেল না। জয়তিলক টপ করে কৌটোর মুখ এঁটে দিয়ে বললেন, আর না। এসব বিপজ্জনক জিনিস। বলাবাহুল্য, ভূত দেখে আমরা আদপেই খুশি হইনি। আমরা সিদ্ধান্ত নিলুম যে, ওগুলো মোটেই ভূত নয়। জয়তিলকবাবুকে ভাল মানুষ পেয়ে কেউ ঠকিয়েছে।
জয়তিলকবাবু মাথা নেড়ে বললেন, না হে, ঠকায়নি। চৌধুরী বাড়ির বহু পুরনো লোক হল গোলোক। সারাজীবন কেবল ভূত নিয়ে কারবার। তার তখন শেষ অবস্থা, মুখে জল দেওয়ার লোক নেই। সেই সময়টায় আমি গিয়ে পড়লাম। সেবাটেবা করলাম খানিক, কিন্তু তার তখন ডাক এসেছে। মরার আগে আমাকে কৌটোটা দিয়ে বলল, তোমাকে কিছু দিই এমন সাধ্য নেই। তবে কয়েকটা পুরোনো ভূত শুকিয়ে রেখেছি। এগুলো নিয়ে যাও, কাজ হতে পারে। ভূতগুলোর দাম হিসেব করলে অনেক। তা তোমার কাছ থেকে দাম নেবোই বা কি করে, আর নিয়ে হবেই বা কী। তুমি বরং আমাকে পাঁচ টাকার রসগোল্লা খাওয়াও। শেষ খাওয়া আমার।
এই বলে জয়তিলকবাবু একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন।
আমরা তবু বিশ্বাস করছিলুম না দেখে জয়লতিকাবাবু বললেন, মরার সময় মানুষ বড় একটা মিছে কথা বলে না।
তবু আমাদের বিশ্বাস হল না। কিন্তু সেকথা আর বললুম না তাকে। দুপুরবেলা যখন জয়তিলকবাবু খেয়েদেয়ে ভুঁড়ি ভাসিয়ে ঘুমোচ্ছেন, ঠিক সেই সময়ে আমি আর বিশু তাঁর ভূতের কৌটো চুরি করলুম। এক দৌড়ে আমবাগানে পৌঁছে কৌটো খুলে ফেললুম। উপুড় করতেই পাঁচটা শুকনো পাতার মত জিনিস পড়ল মাটিতে। হাতে নিয়ে দেখলুম, খুব হাল্কা। এত হাল্কা যে জিনিসগুলো আছে কি নেই তা বোঝা যায় না। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখে মনে হল, এগুলো পাতা-টাতা নয়। অনেকটা ঝুল জাতীয় জিনিস, তবে পাক খাওয়ানো, বেশ ঠাণ্ডাও।
বিশু বলল, ভূত কিনা তা প্রমাণ হবে যদি ওগুলো জেগে ওঠে। —তা জাগাবি কী করে?
—আগুনে দিলেই জাগবে। ছ্যাকার মত জিনিস নেই। আমরা শুকনো পাতা আর ডাল জোগাড় করে কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন জ্বেলে ফেললুম। আঁচ উঠতেই প্রথমে একটা ভূতকে আগুনের মধ্যে ফেলে দিলুম।
প্রথমে একটা উৎকট গন্ধ উঠল। তারপর আগুনটা হঠাৎ হাত দেড়েক লাফিয়ে উঠল। একটু কালো ধোঁয়া বেরিয়ে এল। তারপরই হড়াস করে অন্তত সাড়ে পাঁচ ফুট উঁচু একটা কেলে চেহারার বিকট ভূত আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল। চোখ দুখানা কটমট করছে।
ওরে বাবা রে। বলে আমরা দৌড়াতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলুম। পড়ে দিয়ে দেখলুম জ্যান্ত ভূতটা আর চারটে ঘুমন্ত ভূতকে তুলে আগুনে ফেলে দিচ্ছে।
চোখের পলকে পাঁচ পাঁচটা ভূত বেরিয়ে এল। তারপর হাসতে হাসতে তারা আমবাগানের ভেতর দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে লাগল। ঘটনাটির কথা আমরা কাউকেই বলিনি। জয়তিলকবাবুর শূন্য কৌটোটা যথাস্থানে রেখে দিয়ে এলুম।
সেই রাত্রি থেকে আমাদের বাড়িতে প্রবল ভূতের উপদ্রব শুরু হয়ে গেল।
কুয়োপাড়ে ভূত। এই তারা হি হি করে হাসে, এই তারা মাছ চুরি করে খায়। এই ঝি-চাকরদের ভয় দেখায়। সে ভীষণ উপদ্রব। ভূতের দাপটে সকলেই তটস্থ।
জয়তিলকবাবু এইসব কাণ্ড দেখে নিজের কৌটো খুলে মাথায় হাত দিয়ে বসলেন, বললেন, এঃ হেঃ, ভূতগুলো পালিয়েছে তাহলেঃ ইস, কী দারুণ জাতের ভূত ছিল, বেচলে মেলা টাকা পাওয়া যেত। নাঃ ভূতগুলোকে ধরতেই হয় দেখছি।
এই বলে জয়তিলকবাবু মাছের জাল নিয়ে বেরোলেন। ভূত দেখলেই জাল ছুড়ে মারেন। কিন্তু জালে ভূত আটকায় না। জয়তিলকবাবু আঠাকাঠি দিয়ে চেষ্টা করে দেখলেন। কিন্তু ভূতের গায়ে আঠাও ধরে না। এরপর জাপটে ধরার চেষ্টাও যে না করেছেন তাও নয়। কিন্তু কিছুতেই ভূতদের ধরা গেল না।
দুঃখিত জয়তিলকবাবু কপাল চাপড়ে আবার শুঁটকি ভূতের খোঁজে বেরিয়ে পড়লেন।
পাঁচ পাঁচটা ভূত দাপটে আমাদের বাড়িতে রাজত্ব করতে লাগল।

আরও পড়ুন:
মহাকাশচারীকে পথ দেখাও
ধাঁধা আর ধাঁধা
পাঁচটি পার্থক্য বের করো
লুকানো সাপের খোঁজে
কাঠবিড়ালি বাসায় যাবে

শেয়ার করুন