উপরের ছবির লোকটাকে ঠিক চিনতে পারছি না।
কে হতে পারে, বলো তো?
লোকটার ইয়া বড় গোঁফ।
মাথায় রাজকীয় টুপি।
গলায় মালাও আছে।
মনে হচ্ছে অনেক আগের দিনের কোনো রাজা।
রাজা হোক বা মন্ত্রী, লোকটাকে খুব সুন্দর করে বানানো হয়েছে।
কে বানিয়েছে জানো?
আমাদের ছোট্ট বন্ধু অভ্র নীল।
শুধু কাগজ আর নানা রকম রং ব্যবহার করে বানানো হয়েছে এটা।
বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও এমন ছোট ছোট জিনিস বানিয়ে ছবি তুলে আমাদের কাছে পাঠাতে পারো। লিখতে পারো ছড়া, গল্প, কৌতুক কিংবা আঁকতে পারো ছবি। সেগুলো প্রকাশ করবে কিডজোন। লেখার সঙ্গে অবশ্যই তোমার নাম, স্কুলের নাম, কোন ক্লাসে পড়ো এবং আব্বু বা আম্মুর ফোন নম্বর দেবে।
পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসএসএফের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সে বিষয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সকে (এসএসএফ) বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসএসএফের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপরই তার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। তিনি এসএসএফকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি সফিসটিকেটেড বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই।’
এসএসএফকে বিশেষায়িত বাহিনী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এ বাহিনীর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এসএসএফ প্রতিষ্ঠার সময়ের তুলনায় বর্তমান সময়ে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের কারণে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, ‘একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনোই সুযোগ নেই।’
তরুণ বয়স থেকেই এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে নিজের পরিচিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারপ্রধান হিসেবে তিনি এখন প্রতিদিন-প্রতি সময় এসএসএফের কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছেন। তিনি বলেন, ‘মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় থেকেই তিনি এসএসএফের কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত।’
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমি এসএসএফকে আমার ও আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আবারো ধন্যবাদ জানাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব পালন করছে। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী সরকারপ্রধান হিসেবে এসএসএফ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি। গাড়ি বহরের আকার সীমিত করার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তিনি তার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছেন। এ কারণে সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ দায়িত্ব যথাসম্ভব সুন্দরভাবে পালনের জন্য বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জনসভা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জটিল বলে উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখার মধ্যে ভারসাম্য রেখেই এসএসএফকে নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়।
এসএসএফের নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ উদ্বোধনের কথাও অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছুক্ষণ আগে তিনি ফায়ারিং রেঞ্জটি উদ্বোধন করেছেন এবং উদ্বোধনী মহড়াও প্রত্যক্ষ করেছেন। পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে এটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
২০০২ সালের পর এসএসএফের ‘রেড বুক’ সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পুনরায় সংস্কার করে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই ‘রেড বুক’ এসএসএফের কার্যপদ্ধতি ও কর্মপদ্ধতির নীতিমালা দেওয়ার পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এসএসএফ সদস্যদের জন্য সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিয়মানুবর্তিতা এবং চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ও জড়িত।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্য নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, সমন্বয় যত বেশি দক্ষতার সঙ্গে করা যাবে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও তত বেশি সুচারুভাবে সম্পন্ন হবে। দায়িত্ব পালনের সময় জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়, সে বিষয়েও এসএসএফকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে হবে, তবে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখতে হবে।
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান । ছবি: সংগৃহীত
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দক্ষ, আধুনিক ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতা ও আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) প্যারেড গ্রাউন্ডে ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে তিনি কৃতি ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
সেনাপ্রধান বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি দক্ষ ও যোগ্য সেনা কর্মকর্তা তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সমৃদ্ধ করে চলেছে। এসব কর্মকর্তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনী দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিএমএতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরিতে এ ব্যাটালিয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নবীন কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সেনাপ্রধান বলেন, শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাদের ওপর দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে। সততা, সত্যবাদিতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মতো নেতৃত্বের মৌলিক গুণাবলি ধারণ করে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকা, দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং সামরিক মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সেনাপ্রধান।
তিনি আরও বলেন, শৃঙ্খলা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব ও উৎকর্ষ অর্জনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সেনাবাহিনীর সব কার্যক্রম নির্ধারিত নিয়ম, প্রথা ও অনুশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
নতুন কর্মকর্তাদের অধীনস্থ সৈনিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল আচরণ করার পাশাপাশি তাদের দক্ষ ও সুপ্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মূলমন্ত্র ‘সমরে আমরা, শান্তিতে আমরা, সর্বত্র আমরা দেশের তরে’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই হবে একজন সেনা কর্মকর্তার জীবনের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব।
দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স থেকে মোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেছেন। তাদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন।
এছাড়া ফিলিস্তিনের চারজন, তানজানিয়ার একজন, জাম্বিয়ার একজন এবং মালদ্বীপের একজন অফিসার ক্যাডেট বিএমএ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন।
কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ এবং সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন।
তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর একাডেমির সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশি ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ লাভ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএমএতে নবপ্রতিষ্ঠিত ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে সেনাপ্রধানের। একই সঙ্গে নবনির্মিত সিএমএইচ, ভাটিয়ারি, বিএমএ পার্ক, বিএমএ সুইমিং পুল এবং এমইএস অফিস কমপ্লেক্সেরও উদ্বোধন করবেন তিনি।
ছবি: সংগৃহীত
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মামলার জট কমাতে বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগে একদিনে ২ হাজার ৪২৫টি পুরোনো মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চগুলোতে মোট ১ হাজার ৮৮৪টি পুরনো ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। একই সঙ্গে রিট মোশন বেঞ্চগুলোতে ৫৪১টি পুরনো রিট মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে একদিনে পুরনো ক্রিমিনাল মিস ও রিট মামলা মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৪২৫টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, পুরনো মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত চার কার্যদিবসে মোট ১৫ হাজার ১৭২টি পুরনো ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং ৫ হাজার ৫৬৮টি পুরনো রিট মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ চার কার্যদিবসে সর্বমোট ২০ হাজার ৭৪০টি পুরোনো মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ ও রিট মোশন বেঞ্চসমূহে দীর্ঘদিনের পুরনো মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, মামলা জট কমানো এবং বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৭ মে থেকে হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চগুলোর বিচারপতিরা প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে পুরনো ক্রিমিনাল মিস ও রিট মামলা নিষ্পত্তির এ বিশেষ কার্যক্রম শুরু করেন। আদালত প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মামলা জট নিরসনে পুরনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে। তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীদের (পিএসও) গত বুধবার (১৭ জুন) দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কলকাতার কালীঘাটে অবস্থিত সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে বিগত প্রায় ২০ বছর ধরে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন তারা।
নতুন করে ৪-৫ জনকে পিএসওর দায়িত্ব দিয়ে মমাতর বাড়িতে পাঠানো হলেও তাদের গ্রহণ করেননি মমতা। ফলে বুধবার (১৭ জুন) রাতে তার বাড়ির বাইরের পুলিশ বক্স পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়। রাতে সেখানে কোনো পুলিশ দেখা যায়নি। এর মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি।
বুধবার (১৭ জুন) সন্ধ্যায় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে প্রবেশ করেন তার অনুগামী সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। পরে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন সাংসদ ছিলেন সেই সময় থেকে তার নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন এই কয়েকজন পিএসও। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ পুলিশের পক্ষ থেকে হঠাৎ করেই তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এরপর যাদের পাঠানো হয়, তাদের কাউকেই চেনেন না মমতা।
ডেরেক বলেন, রাত সাড়ে ৯টায় কয়েকজন অচেনা অফিসারকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাদের ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন।
আপাতত মমতার বাড়িতে রাষ্ট্রীয় স্তরের কোনো রকমের পুলিশি নিরাপত্তা নেই বলে জানিয়েছেন ডেরেক ও ব্রায়েন। তিনি বলেন, ‘আমরা দুজন নিরাপত্তারক্ষী রেখেছি।’ এই কথা বলার পর মেন গেটে তালা দিয়ে ডেরেক ও ব্রায়েনকে বের হতে দেখা যায়।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শুভেন্দু অধিকারী একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তায় যাতে কোনো ধরনের গাফিলতি না হয়। তার প্রাপ্য সম্মান ও মর্যাদা যাতে পুরোপুরি বজায় থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেছিলেন শুভেন্দু। সেই নিয়ম ও প্রোটোকল হিসেবে মমতার জন্য দশজন পিএসও এবং সর্বোচ্চ স্তরের ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা বরাদ্দ থাকার কথা।
জেড-প্লাস নিরাপত্তা হলো ভারতের কোনো ভিআইপি বা ভিভিআইপি ব্যক্তিকে প্রদত্ত সর্বোচ্চ স্তরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। জীবননাশের হুমকির মুখে থাকা দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদ, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও অত্যন্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এই বিশেষ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
জেড-প্লাস নিরাপত্তার মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এখানে সর্বমোট ৫৫ জনের একটি সুদক্ষ দল নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে। যার মধ্যে ১০ জনের বেশি ক্ষীপ্রগতির এনএসজি কমান্ডো এবং বাকিরা পুলিশ বাহিনীর সদস্য হন। এই কমান্ডোরা মার্শাল আর্ট ও বিনা অস্ত্রে লড়াইয়ে অত্যন্ত দক্ষ ও পারদর্শী হন এবং তাদের কাছে সবসময় আধুনিক এমপি-৫ বন্দুক ও অত্যন্ত উন্নতমানের যোগাযোগের যন্ত্র থাকে। এটি ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা স্তর, যার অবস্থান মূলত স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজি নিরাপত্তার ঠিক পরে।
যাত্রাবাড়ী এলাকায় অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদে অভিযান। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চালানো অভিযানে ফ্লাইওভারের ইনকামিং অংশ থেকে শুরু করে যাত্রাবাড়ী হয়ে কাজলা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের ফুটপাত ও রাস্তায় গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
এ সময় অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা চালানোর দায়ে ৫টি মামলা করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে থেকে মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা ও টাঙ্গাইলে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও অনুমোদনবহির্ভূত গ্যাস ব্যবহার বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। অভিযানে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, পাইপলাইন অপসারণ এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
গত বুধবার (১৭ জুন) তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট মহাব্যবস্থাপক ও উপমহাব্যবস্থাপকদের উপস্থিতিতে ঢাকা জেলার আমিনবাজারের সালেহপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এ সময় স্থানীয়দের অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের কারণে বৈধ গ্রাহকরা প্রাপ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযানে সালেহপুর এলাকার এক আবাসিক গ্রাহকের সংযোগ থেকে অবৈধভাবে ওয়াশিং কারখানায় গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে লক-উইং ককে প্লাস্টিক সিল লাগানো হয়। একইভাবে একটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অবৈধভাবে মডিফাইড বার্নারের মাধ্যমে গ্যাস ব্যবহার করায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ ছাড়া পাঁচজন বৈধ গ্রাহকের প্রাঙ্গণে অনুমোদনবহির্ভূতভাবে গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগে তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে লক-উইং ককে প্লাস্টিক সিল স্থাপন করা হয়।
অন্যদিকে, টাঙ্গাইলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াইয়ের নাজিরপাড়া এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে প্রায় ৭৪০ ফুট দীর্ঘ ৩/৪ ইঞ্চি ব্যাসের জিআই পাইপ অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি আনুমানিক ৫৬টি বাড়ির ৬৩টি ডাবল চুলার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এ সময় অবৈধ গ্যাস সরবরাহের পাঁচটি উৎসস্থল স্থায়ীভাবে বিচ্ছিন্ন (কিলিং) করা হয় এবং দুটি সম্পূর্ণ অবৈধ রেগুলেটর জব্দ করা হয়। অনুমোদনের অতিরিক্ত চুলায় গ্যাস ব্যবহারের দায়ে তিনজন গ্রাহকের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
অভিযানে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের দায়ে দুই ব্যক্তির কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও চুরি রোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ছবি: সংগৃহীত
খাল, বিল ও নদী-অধ্যুষিত কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রাম। এক সময়ের উত্তাল ধলেশ্বরীর পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই হাওর জনপদ বর্ষায় প্লাবিত হয় বিশাল জলরাশিতে। আবার শুকনো মৌসুমে দেখা দেয় তীব্র খরা; খাল-বিল ফেটে হয় চৌচির।
প্রমত্তা ধলেশ্বরী তখন রূপান্তরিত হয় সবুজ ফসলের মাঠে। 'মাছের ভান্ডর' বলে খ্যাত এই হাওরে শুকনো মৌসুমে দেখা দেয় দেশীয় মাছের তীব্র সংকট। ফলে জেলেরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হন।
অষ্টগ্রাম উপজেলায় প্রায় ৮৭৭৯ জেলে পরিবারের বসবাস। খাল-বিল ও নদী-নালায় পানি না থাকায় বছরের প্রায় ৬ মাস তাদের বেকার থাকতে হয়। ফলে এই জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে মেয়ের বিয়ে, সংসারের ভরণপোষণ এবং নৌকা-জাল কিনতে গিয়ে দিন দিন তাদের ঋণের বোঝা বাড়ছে। ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তা ও গভীর উৎকণ্ঠায় কাটছে তাদের দিন।
জরাজীর্ণ টিন ও বাঁশের নড়বড়ে বাসস্থানে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। বাসিন্দাদের চোখে-মুখে হতাশার স্পষ্ট ছাপ। নির্ঘুম চোখ, শরীরে ক্লান্তি আর রোগা জীর্ণ-শীর্ণ দেহ সবকিছুই যেন সাব্ষ্য দিচ্ছে তাদের নিদারুণ দৈন্যতার। চরম দারিদ্র্যের সাথে সংগ্রাম করে হাওরের নিভৃত পল্লীগুলোতে বংশপরম্পরায় বসবাস করছে মূলত হিন্দু ধর্মাবলম্বী এই মৎস্যজীবী গোষ্ঠী। আবহমান কাল ধরে মাছ শিকারই তাদের জীবিকার একমাত্র প্রধান উৎস।
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হওয়ায় তাদের জীবন আজ দুর্বিষহ। উজান থেকে নেমে আসা পলি ও বালি জমে ভরাট হয়ে গেছে হাওরের নদী, নালা ও খাল-বিল। পর্যাপ্ত জলাধারের অভাব এবং নদীতে মাছের অপ্রতুলতার কারণে তারা উপার্জন ক্ষমতা হারাচ্ছেন। এক সময় ঘাটে ঘাটে সারি সারি মাছ ধরার ডিঙ্গি নৌকা বাঁধা থাকত, মাছ ধরার ক্ষেত্রও ছিল অবাধ। এখন আর সেই চিরচেনা দৃশ্য চোখে পড়ে না।
চলতি বছরের ২৯ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত হাওরে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। এই সময়টাতে জেলেরা সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কিন্তু নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে কোনো সরকারি বিকল্প সাহায্য বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম খাদ্য সংকটে ভুগছেন।
জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞার পর বর্ষাকালে মাছ ধরার সুযোগ থাকলেও জলমহালগুলো থাকে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ইজারাদারদের দখলে। দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলেও বন্ধ হয়নি জলমহাল ইজারা প্রথা; কেবল দখলদারদের হাতবদল হয়েছে। জেলেদের নৌকা প্রতি মোটা অঙ্কের টাকা ইজারাদারদের দিয়ে জলমহালের আশপাশে মাছ ধরার সুযোগ মিললেও পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় তাদের অভাব দূর হচ্ছে না।
পক্ষান্তরে, হাওরের অধিকাংশ কৃষক এখন কৃষি কাজের পাশাপাশি মাছ ধরার সকল কৌশল রপ্ত করে নিয়েছেন। বর্ষাকালে তারাও মাছ ধরায় নিয়োজিত হন। মাছ ধরার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ও কৃষকদের দাপটে দুর্বল প্রকৃতির পেশাদার জেলেরা যত্রতত্র জাল ফেলতে ভয় পান। নানা কারণে মাছ ধরা এখন জেলে সম্প্রদায়ের কাছে কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকেই বংশানুক্রমিক এই পেশা ছেড়ে বেঁচে থাকার তাগিদে দিনমজুরির মতো বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন। জেলে পরিবারের নারী-পুরুষদের এখন দৈনিক কৃষি মজুর হিসেবে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। তবে অভ্যস্ত না হওয়ায় অন্য পেশায় তারা ঠিকমতো মানিয়ে নিতে পারছেন না।
গভীর রাত কিংবা সারা রাত ঝড়-বৃষ্টি ও কনকনে শীত উপেক্ষা করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে তাদের মাছ ধরতে হয়। দীর্ঘদিন এই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে অনেকেই পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) হয়ে পড়ছেন। অর্থের অভাবে সঠিক চিকিৎসা করাতে না পেরে পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পতিত হচ্ছে। এছাড়া সামাজিক অবহেলা ও জাতিভেদ প্রথার কারণেও তারা সামাজিকভাবে এখনো বেশ পিছিয়ে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি উদ্যোগে নদী খনন এবং হাওরের জলমহালগুলো ইজারাভুক্ত না করে সাধারণ জেলেদের জন্য উন্মুক্ত করে দিলে তারা অবাধে মাছ ধরার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি জেলেদের প্রশিক্ষিত করে টেকসই ও বিকল্প জীবিকার উৎস তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। সহজ শর্তে ঋণ এবং সরকারি নানামুখী সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যের অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আশরাফুল ইসলাম রিয়েল জানান: "হাওরের হতদরিদ্র জেলেদের মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি বিবেচনা করে আগামী বছর থেকে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে তাদের জন্য ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে বিশেষ খাদ্য সহায়তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।"
মন্তব্য