বিমানবাড়ি

ক্যাম্পবেল চাচ্চুর বিমানবাড়ি

বিমানবাড়ি

এই বিমানে ঘুমানোর জন্য আছে খাট। সোফা আছে, কফি মেকার আছে, লন্ড্রি করার ব্যবস্থা আছে, আছে বেশ কয়েকটা ওয়াশরুম।

আমরা কেউ টিনের বাড়িতে বাস করি, কেউ ইটের বাড়িতে। আমেরিকান চাচ্চু ব্রুস ক্যাম্পবেল কোথায় বাস করেন জানো?

বিমানবাড়িতে।

দারুণ না ব্যাপারটা?

আস্ত একটা বিমানেই তার বেডরুম, ড্রইংরুম, কিচেন, ওয়াশরুম...সব।

আজ তোমাদের শোনাব, বিমানটি যেভাবে বিমানবাড়ি হলো, সেই গল্প।

ক্যাম্পবেল চাচ্চু মনে হয় বিমানবাড়িতে ঘুমাচ্ছেন।

গল্পের শুরুটা হয়েছে অনেক আগে।

তখন ক্যাম্পবেল চাচ্চু তোমাদের মতো ছোট।

আকাশে পাখির মতো বিমান উড়তে দেখে বিমানকে ভালোবেসে ফেলেন তিনি। বিমানে ওড়ার খুব ইচ্ছে হতো তার।

একসময় বিমানে উঠলেন। উড়লেন আকাশে।

সেই থেকে বিমানের প্রতি তার ভালোবাসা আরও বেড়ে গেল।

বিমানবাড়ির সোফায় বসে অনলাইনে কাজ করছেন ক্যাম্পবেল চাচ্চু।

একদিন শুনলেন, বিমান পুরোনো হয়ে গেলে তাকে ভেঙে ফেলা হয়।

শুনে খুব মন খারাপ হলো তার। কিভাবে পুরোনো বিমানগুলো ভেঙে ফেলা থেকে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে ভাবলেন ক্যাম্পবেল।

কিন্তু কোনো উপায় পেলেন না।

শেষে ঠিক করলেন, অন্তত একটা বিমান তিনি রক্ষা করবেন।

বড় হয়ে বিমান রক্ষার কাজে নেমে পড়লেন ক্যাম্পবেল চাচ্চু। শুরু করলেন পুরোনো বিমান খোঁজা। একদিন পেয়ে গেলেন বোয়িং ৭২৭ মডেলের এই বিমানটি।

প্রায় ২ কোটি টাকায় কিনে ফেললেন।

Biman-Bari_5
বিমানবাড়ির ভিতরটা এরকম।

আমেরিকার ওরেগন প্রদেশে ১০ একর জায়গা কিনে সেখানে বিমানটিকে নিয়ে এলেন। তারপর বিমানটিকে বিমানবাড়ি বানিয়ে শুরু করলেন বসবাস।

এই বিমানে ঘুমানোর জন্য আছে খাট। সোফা আছে, কফি মেকার আছে, লন্ড্রি করার ব্যবস্থা আছে, আছে বেশ কয়েকটা ওয়াশরুম।

সব মিলিয়ে বিমানবাড়িতে বাস করে ক্যাম্পবেল চাচ্চু খুশি।

বিমানবাড়িটি সাজিয়েগুছিয়ে রেখেছেন ক্যাম্পবেল চাচ্চু।

বছরের ছয় মাস তিনি এই বিমানবাড়িতে থাকেন। বাকি ছয় মাস থাকেন জাপানে।

চেষ্টা চালাচ্ছেন আরেকটা পুরোনো বিমান কেনার। সেটা দিয়ে জাপানে বিমানবাড়ি বানাবেন।

বিমানবাড়ি নিয়ে ক্যাম্পবেল চাচ্চুর একটা ওয়েবসাইট আছে। সেখানে যেতে চাইলে এখানে ক্লিক কর।

শেয়ার করুন

মন্তব্য

খরগোশ ও কচ্ছপের গল্প

খরগোশ ও কচ্ছপের গল্প

কচ্ছপের ওই হাঁটা দেখে একদিন খরগোশটি হেসে বলল, ‘তোমার হাঁটার যে ছিরি, দেখলেই হাসি পায়।’ ব্যঙ্গ করতে দেখে কচ্ছপটি গম্ভীর কণ্ঠে বলল, ‘এত হাসার কি আছে? চল দৌড় প্রতিযোগিতায় নামি। দেখি কে জোরে ছুটতে পারে।’

এক বনে খরগোশ আর কচ্ছপ পাশাপাশি বাস করত। দুইজনের মধ্যে বেশ বন্ধুত্বও ছিল। কিন্তু মাঝে মাঝে ঝগড়াঝাটি যে হতো না তা নয়।

খরগোশ খুব জোরে ছোটে। যেন বাতাসের আগেই ছুটে চলে।

আর কচ্ছপ? সে চলে ধীরে ধীরে হেলেদুলে।

কচ্ছপের ওই হাঁটা দেখে একদিন খরগোশটি হেসে বলল, ‘তোমার হাঁটার যে ছিরি, দেখলেই হাসি পায়।’

ব্যঙ্গ করতে দেখে কচ্ছপটি গম্ভীর কণ্ঠে বলল, ‘এত হাসার কি আছে? চলো দৌড় প্রতিযোগিতায় নামি। দেখি কে জোরে ছুটতে পারে।’

প্রতিযোগিতা! হো হো করে হেসে উঠল খরগোশ।

বলল, ‘প্রতিযোগিতা! তা কার সঙ্গে? তোমার সঙ্গে?’

বলেই আবার হো হো করে হাসতে লাগল, ‘আচ্ছা, তুমি যখন নিজের মুখে বলছ তবে তো রাজি হতেই হয়। তাহলে কত দূর যাওয়ার প্রতিযোগিতা হবে? আর কখন শুরু হবে?’

কচ্ছপ বলল, ‘এখনই শুরু হবে। ওই অনেক দূরে ওই নদীর ধারে একটা অশ্বত্থ গাছ দেখা যাচ্ছে, দেখি ওইখানে কে আগে পৌঁছতে পারে?’

অতএব শুরু হয়ে গেল প্রতিযোগিতা।

খরগোশ এক দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে গেল। পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখতে পেল কচ্ছপ বলতে গেলে সেখানেই পড়ে আছে।

সেদিন রোদের তেজ ছিল বেশি। পাশেই গাছের নিচে একটু ছায়া দেখে খরগোশ ভাবল, ‘একটু বিশ্রাম নিলে ভালো হয়। এখানে পৌঁছতে কচ্ছপের অনেক দেরি আছে। একটু বিশ্রাম নেয়া যাক।’

হঠাৎ ফুরফুর করে হাওয়া বইতে লাগল। গাছের ছায়ায় বসে মিষ্টি ফুরফুরে হাওয়ায় খরগোশের ঘুম পেয়ে গেল।

খরগোশ কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল তা নিজেই জানতে পারল না।

ওদিকে কচ্ছপ কিন্তু একটানা হেঁটে চলছিল। তেজি রোদ গ্রাহ্য না করে সে হেঁটে চলল।

এদিকে বেলা পড়ে এল। খরগোশের ঘুম ভাঙল এবার।

সে তখন আশপাশে তাকিয়ে কচ্ছপকে দেখতে না পেয়ে নদীর তীরের সেই অশ্বত্থ গাছটার দিকে ছুটতে থাকল।

সেখানে পৌঁছে হাঁপাতে হাঁপাতে খরগোশ দেখল তার আগেই সেখানে কচ্ছপ পৌঁছে বিশ্রাম করছে।

গল্পের শিক্ষা : ধীর ও স্থির ব্যক্তিরাই প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করে।

শেয়ার করুন

ভর দুপুরে

ভর দুপুরে

ওমা এ-যে কাজল বিলের বোয়ালে/পালের দড়ি আটকে আছে চোয়ালে

মেঘনা নদীর শান্ত মেয়ে তিতাসে

মেঘের মত পাল উড়িয়ে কী ভাসে!

মাছের মত দেখতে এ কোন পাটুনি

ভর দুপুরে খাটছে সখের খাটুনি।

ওমা এ-যে কাজল বিলের বোয়ালে

পালের দড়ি আটকে আছে চোয়ালে

আসছে ধেয়ে লম্বা দাড়ি নাড়িয়ে,

ঢেউয়ের বাড়ি নাওয়ের সারি ছাড়িয়ে।

কোথায় যাবে কোন উজানে ও-মাঝি

আমার কোলে খোকন নামের যে-পাজি

হাসছে, তারে নাও না তোমার নায়েতে

গাঙ-শুশুকের স্বপ্নভরা গাঁয়েতে;

সেথায় নাকি শালুক পাতার চাদরে

জলপিপিরা ঘুমায় মহা আদরে,

শাপলা ফুলের শীতল সবুজ পালিশে

থাকবে খোকন ঘুমিয়ে ফুলের বালিশে।

শেয়ার করুন

শহীদ মিনার এঁকেছে ভাষা

শহীদ মিনার এঁকেছে ভাষা

ছবিটি এঁকেছে আননাবা আফাফ ভাষা

ওপরের ছবিতে তোমরা সুন্দর একটা শহীদ মিনার দেখতে পাচ্ছ। ছবিটি এঁকেছে আননাবা আফাফ ভাষা। সে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ চিলড্রেন একাডেমিতে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।

আমরা আজ বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি। এই স্বীকৃতিটা এমনি এমনি আসেনি। আন্দোলন করে বাংলাকে আমাদের মুখের ভাষা করতে হয়েছে। সেটা করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকেই।

তাদের সেই আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আমরা প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করি। শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাই।

ওপরের ছবিতে তোমরা সুন্দর একটা শহীদ মিনার দেখতে পাচ্ছ। ছবিটি এঁকেছে আননাবা আফাফ ভাষা। সে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ চিলড্রেন একাডেমিতে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।

বন্ধুরা, চাইলে তোমরাও ছড়া, গল্প, কৌতুক লিখে কিংবা ছবি এঁকে আমাদের কাছে পাঠাতে পারো। সেগুলো প্রকাশ করবে কিডজোন। পাঠানোর ঠিকানা: [email protected]

শেয়ার করুন

কোন দেশে

কোন দেশে

কোথায় ডাকে দোয়েল-শ্যামা ফিঙে নাচে গাছে গাছে?

কোন দেশেতে তরুলতা

সকল দেশের চাইতে শ্যামল?

কোন দেশেতে চলতে গেলেই

দলতে হয় রে দুর্বা কোমল?

কোথায় ফলে সোনার ফসল,

সোনার কমল ফোটেরে?

সে আমাদের বাংলাদেশ,

আমাদেরই বাংলা রে!

কোথায় ডাকে দোয়েল-শ্যামা

ফিঙে নাচে গাছে গাছে?

কোথায় জলে মরাল চলে,

মরালী তার পাছে পাছে?

বাবুই কোথা বাসা বোনে,

চাতক বারি যাচে রে?

সে আমাদের বাংলাদেশ,

আমাদেরই বাংলা রে!

শেয়ার করুন

ট্রেন

ট্রেন

দেশ-বিদেশে বেড়ায় ঘুরে নেই কো ঘোরার শেষ। ইচ্ছে হলেই বাজায় বাঁশি, দিন কেটে যায় বেশ।

ঝক ঝক ঝক ট্রেন চলেছে
রাত দুপুরে অই।
ট্রেন চলেছে, ট্রেন চলেছে
ট্রেনের বাড়ি কই?
একটু জিরোয়, ফের ছুটে যায়
মাঠ পেরুলেই বন।
পুলের ওপর বাজনা বাজে
ঝন ঝনাঝন ঝন।
দেশ-বিদেশে বেড়ায় ঘুরে
নেই কো ঘোরার শেষ।
ইচ্ছে হলেই বাজায় বাঁশি,
দিন কেটে যায় বেশ।
থামবে হঠাৎ মজার গাড়ি
একটু কেশে খক।
আমায় নিয়ে ছুটবে আবার
ঝক ঝকাঝক ঝক।

শেয়ার করুন

শহীদ মিনারে ছড়া

শহীদ মিনারে ছড়া

বাবা বলেন বাংলা ভাষার জন্য যারা প্রাণ

শহীদ মিনার এসে ছড়া

বাবার কাছে বলে

মানুষ কেন খালি পায়ে

ফুল দিয়ে যায় চলে?

বাবা বলেন বাংলা ভাষার

জন্য যারা প্রাণ-

দিয়েছিলেন তাদেরকে দেয়

বাঙালি সম্মান।

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg