শেখ সাদির গল্প

শেখ সাদির গল্প

যারা প্রকৃত ভালো মানুষ তারা বিনয়ের সঙ্গে দান প্রত্যাখ্যান করেছে। আর যারা প্রকৃত ভালো মানুষ নয়, তারা লোভীর মতো হাত বাড়িয়েছে।

তার নামটা অনেক বড়। আবু মুহাম্মদ মুসলিহ আল দীন বিন আবদাল্লাহ শিরাজি। তবে তিনি আমাদের কাছে শেখ সাদি নামে পরিচিত। মধ্যযুগের নামকরা কবি ও লেখক ছিলেন। শিক্ষণীয় গল্প লিখতে ছিলেন পারদর্শী। ১২০০ সালের কিছু পরে তিনি ইরানের সিরাজ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। চলো তার একটা গল্প পড়ে দেখি।

ভালো মানুষ

বাদশাহ রাতে চমৎকার একটি স্বপ্ন দেখেছেন। তার আজ মন খুব ভালো। সকালেই তিনি ভৃত্যের হাতে এক থলে মোহর দিয়ে বললেন, ‘যাও, এই শহরে যত নিঃস্ব ও ভালো মানুষ আছে সবাইকে অর্থ দান করে এসো।’
ভৃত্যটি টাকার থলে হাতে নিয়ে বেরিয়ে গেল। সারা দিন ঘুরে সন্ধ্যার সময় ফিরে এল। মোহরের থলে বাদশাহকে ফেরত দিল।
বাদশাহ অবাক হলেন, ‘শহরে অনেক নিঃস্ব লোক রয়েছে। তুমি তাদের একজনকেও খুঁজে পেলে না? তুমি আবার ভালো করে অনুসন্ধান করো। তারপর মোহরগুলো দিয়ে এসো।’
ভৃত্যটি বিনয়ের সঙ্গে উত্তর দিল, ‘জাঁহাপনা, আমার সঙ্গে সবার দেখা হয়েছে। যারা প্রকৃত ভালো মানুষ তারা বিনয়ের সঙ্গে দান প্রত্যাখ্যান করেছে। আর যারা প্রকৃত ভালো মানুষ নয়, তারা লোভীর মতো হাত বাড়িয়েছে। আপনি নিঃস্ব ও ভালো মানুষদের টাকা দিতে বলেছেন। তারা টাকা গ্রহণ না করায় আমি সব মোহর ফেরত নিয়ে এসেছি।’
বাদশাহ খুব খুশি হলেন, ‘ঠিক কাজ করেছ। সবাই যে প্রকৃত সাধু ব্যক্তি নয়, এ কথাটি আমি বুঝতে পারিনি। তোমার কর্তব্যজ্ঞান আমাকে মুগ্ধ করেছে।’

গল্পের শিক্ষা : যার মন থেকে টাকাপয়সার লোভ দূর হয়নি, সে কখনও সাধু হতে পারে না।

আরও পড়ুন:
অহংকারী খরগোশ
শীত সকালের মাঠ
শিং আতঙ্ক
অক্ষয়
কী আনন্দ!

শেয়ার করুন

মন্তব্য

দাদুর গাছে আম পেকেছে

দাদুর গাছে আম পেকেছে

কার্টুনটি এঁকেছেন কাওছার মাহমুদ

দিনের বেলায় চোখ দুটো ন’য় রাখতে পারে খুলে/ কিন্তু রাতে না ঘুমালে চোখ তো যাবে ফুলে

দাদুর গাছে আম পেকেছে—রাখছে চোখে চোখে,

আমবাগানে দুষ্ট ছেলে কেউ না যেন ঢোকে।

দিনের বেলায় চোখ দুটো ন’য় রাখতে পারে খুলে,

কিন্তু রাতে না ঘুমালে চোখ তো যাবে ফুলে।

তাই তো দাদু দুচোখ বুজে ঘুমিয়ে থাকে রাতে,

রোজ সকালেই দুয়েকটা আম কম পড়ে যায় তাতে।

একরাতে তাই ঘুমোল না, থাকল দাদু জেগে—

দেখব আমি কোন ব্যাটা রোজ আম নিয়ে যায় ভেগে?

গভীর রাতে মড়মড়ামড় আওয়াজ গেলো শোনা,

তার মানে কী?—চোর এসেছে—চোরের আনাগোনা।

লুকোয় দাদু গাছের পাশে, হাতে নিয়ে ছড়ি,

পালিয়ে যাবে?—অত সোজা! এই যে আছে দড়ি।

সরাসরাসর হচ্ছে আওয়াজ গাছের পাতায় পাতায়,

হঠাৎ করে দড়াম করে চোর পড়ে তার মাথায়।

লুটিয়ে পড়ে দুজন দুদিক—ডাকে যে যার মাকে!

আতঙ্কিত দুইজনই—কে সান্ত্বনা দেয় কাকে?

ঘাড় ভেঙে আর কোমর ভেঙে উঠল দুদিক দুজন,

দেখল দাদু চোর মহাশয় তারই নাতি সুজন।

আরও পড়ুন:
অহংকারী খরগোশ
শীত সকালের মাঠ
শিং আতঙ্ক
অক্ষয়
কী আনন্দ!

শেয়ার করুন

চোখ নিয়ে কথা

চোখ নিয়ে কথা

বাঘ রাতের বেলা মানুষের চেয়ে ছয় গুণ বেশি দেখতে পারে।

চোখ দিয়ে আমরা মানুষসহ সব পশুপাখি দেখে থাকি। তবে সবার চোখ কিন্তু এক রকম নয়। আজ তোমাদের জন্য থাকছে চোখ নিয়ে মজার কিছু তথ্য।

এক ধরনের গিরগিটি শিকারি প্রাণীকে তাড়ানোর জন্য চোখ দিয়ে রক্ত ছুড়ে দেয়।

Eye_10

উটের চোখের পাপড়ি তিনটি। মরুভূমির ধূলি ঝড় থেকে বাঁচতে এগুলো ওদের সাহায্য করে।

ছাগলের চোখের মণি আয়তকার।

কেঁচোর কোনো চোখ নেই।

স্ক্যালপ নামের একধরনের ঝিনুকের ১০০-এর বেশি চোখ থাকে। এগুলো ওদের খোলের প্রান্তে থাকে।

চার চোখা মাছ একই সঙ্গে পানির উপরে ও নিচে দেখতে পারে।

ডলফিন এক চোখ খোলা রেখে ঘুমায়।

ক্যামেলিয়ন গিরগিটি একই সময়ে দুই চোখ দিয়ে দুই দিকে তাকাতে পারে।

উটপাখির চোখ এর মস্তিষ্কের চেয়ে বড়।

বাঘ রাতের বেলা মানুষের চেয়ে ছয় গুণ বেশি দেখতে পারে।

আরও পড়ুন:
অহংকারী খরগোশ
শীত সকালের মাঠ
শিং আতঙ্ক
অক্ষয়
কী আনন্দ!

শেয়ার করুন

মামার বাড়ি

মামার বাড়ি

ঝড়ের দিনে মামার দেশে/আম কুড়াতে সুখ

আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা,

ফুল তুলিতে যাই

ফুলের মালা গলায় দিয়ে

মামার বাড়ি যাই।

মামার বাড়ি পদ্মপুকুর

গলায় গলায় জল,

এপার হতে ওপার গিয়ে

নাচে ঢেউয়ের দল।

দিনে সেথায় ঘুমিয়ে থাকে

লাল শালুকের ফুল,

রাতের বেলা চাঁদের সনে

হেসে না পায় কূল।

আম-কাঁঠালের বনের ধারে

মামা-বাড়ির ঘর,

আকাশ হতে জোছনা-কুসুম

ঝরে মাথার ‘পর।

রাতের বেলা জোনাক জ্বলে

বাঁশ-বাগানের ছায়,

শিমুল গাছের শাখায় বসে

ভোরের পাখি গায়।

ঝড়ের দিনে মামার দেশে

আম কুড়াতে সুখ

পাকা জামের শাখায় উঠি

রঙিন করি মুখ।

কাঁদি-ভরা খেজুর গাছে

পাকা খেজুর দোলে

ছেলে-মেয়ে, আয় ছুটে যাই

মামার দেশে চলে।

আরও পড়ুন:
অহংকারী খরগোশ
শীত সকালের মাঠ
শিং আতঙ্ক
অক্ষয়
কী আনন্দ!

শেয়ার করুন

বেলুন অ্যানিম্যাল

বেলুন  অ্যানিম্যাল

মাসায়োশি মাতসুমোতো ভাইয়া তার বেলুন অ্যানিম্যালের সঙ্গে

একটা প্রতিকৃতি বানাতে তার দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগে। তবে একটু জটিলগুলো বানাতে ছয় ঘণ্টাও লেগে যায়।

মাসায়োশি মাতসুমোতো থাকেন জাপানে।

এই ভাইয়াটা তোমাদের মতো বেলুন দিয়ে খেলতে ভালোবাসেন।

তার খেলাটা একটু অন্যরকম।

তিনি বেলুন দিয়ে এটা সেটা বানান।

তার বানানো পশুপাখি, ফুল, লতাপাতাগুলো দেখতে এত সুন্দর যে তোমার চোখ না ধাঁধিয়ে পারবেই না।

হাতিটাকে চিনতে পেরেছো?

মাসায়োশি ভাইয়া সাত বছর বয়স থেকে এসব বানিয়ে আসছেন।

ছোটবেলায় তার পশুপাখি ভালো লাগত।

তখন থেকেই ভাবতেন কিভাবে এদের প্রতিকৃতি বানানো যায়।

হাতের কাছে বেলুন পেয়ে একদিন চেষ্টা করলেন।

দেখলেন, খুব সহজেই পশুপাখি বানাতে পারছেন।

একটা প্রতিকৃতি বানাতে তার দুই ঘণ্টার মতো সময় লাগে।

তবে একটু জটিলগুলো বানাতে ছয় ঘণ্টাও লেগে যায়।

ইঁদুর আর পাখিটা তোমাদের সঙ্গে খেলতে চাইছে।

ওরে বাবা! ভালুকের পেটটা কত্ত মোটা!

সরে যাও! বিচ্ছুটা রেগে আছে।

বলো দেখি, এটা মোরগ না মুরগি?

তোমরা কখনো টার্কি খেয়েছো?

এর নাম চমরী গাই। বাড়ি তিব্বত।

বানর ঝোলে গাছের ডালে, পোকা নাচে তালে তালে।

ঘাস ফড়িং কি ঘাস খায়?

শিং উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গন্ডার মামা।

মাসায়োশি ভাইয়ার বানানো আরও প্রতিকৃতি দেখতে চাইলে এখানে ক্লিক করো।

আরও পড়ুন:
অহংকারী খরগোশ
শীত সকালের মাঠ
শিং আতঙ্ক
অক্ষয়
কী আনন্দ!

শেয়ার করুন

চাষী

চাষী

ব্রত তাহার পরের হিত, সুখ নাহি চায় নিজে, রৌদ্র দাহে শুকায় তনু, মেঘের জলে ভিজে।

সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা,

দেশ মাতারই মুক্তিকামী, দেশের সে যে আশা।

দধীচি কি তাহার চেয়ে সাধক ছিল বড়?

পুণ্য অত হবে নাক সব করিলে জড়।

মুক্তিকামী মহাসাধক মুক্ত করে দেশ,

সবারই সে অন্ন জোগায় নাইক গর্ব লেশ।

ব্রত তাহার পরের হিত, সুখ নাহি চায় নিজে,

রৌদ্র দাহে শুকায় তনু, মেঘের জলে ভিজে।

আমার দেশের মাটির ছেলে, নমি বারংবার

তোমায় দেখে চূর্ণ হউক সবার অহংকার।

আরও পড়ুন:
অহংকারী খরগোশ
শীত সকালের মাঠ
শিং আতঙ্ক
অক্ষয়
কী আনন্দ!

শেয়ার করুন

বনভোজন

বনভোজন

কেউবা বসে হলদি বাটে কেউবা রাঁধে ভাত/ কেউবা বলে দুত্তুরি ছাই পুড়েই গেল হাত

নুরু, পুশি, আয়েশা, শফি সবাই এসেছে

আম বাগিচার তলায় যেন তারা হেসেছে।

রাঁধুনিদের শখের রাঁধার পড়ে গেছ ধুম,

বোশেখ মাসের এই দুপুরে নাইকো কারো ঘুম।

বাপ মা তাদের ঘুমিয়ে আছে এই সুবিধা পেয়ে,

বনভোজনে মিলেছে আজ দুষ্টু কটি মেয়ে।

বসে গেছে সবাই আজি বিপুল আয়োজনে,

ব্যস্ত সবাই আজকে তারা ভোজের নিমন্ত্রণে।

কেউবা বসে হলদি বাটে কেউবা রাঁধে ভাত,

কেউবা বলে দুত্তুরি ছাই পুড়েই গেল হাত।

বিনা আগুন দিয়েই তাদের হচ্ছে যদিও রাঁধা,

তবু সবার দুই চোখেতে ধোঁয়া লেগেই কাঁদা।

কোর্মা পোলাও কেউবা রাঁধে, কেউবা চাখে নুন,

অকারণে বারে বারে হেসেই বা কেউ খুন।

রান্না তাদের শেষ হল যেই, গিন্নী হল নুরু,

এক লাইনে সবাই বসে করলে খাওয়া শুরু।

ধূলোবালির কোর্মা-পোলাও আর সে কাদার পিঠে,

মিছিমিছি খেয়া সবাই, বলে- বেজায় মিঠে।

এমন সময় হঠাৎ আমি যেই পড়েছি এসে,

পালিয়ে গেল দুষ্টুরা সব খিলখিলিয়ে হেসে।

আরও পড়ুন:
অহংকারী খরগোশ
শীত সকালের মাঠ
শিং আতঙ্ক
অক্ষয়
কী আনন্দ!

শেয়ার করুন

খরগোশ ও কচ্ছপের গল্প

খরগোশ ও কচ্ছপের গল্প

কচ্ছপের ওই হাঁটা দেখে একদিন খরগোশটি হেসে বলল, ‘তোমার হাঁটার যে ছিরি, দেখলেই হাসি পায়।’ ব্যঙ্গ করতে দেখে কচ্ছপটি গম্ভীর কণ্ঠে বলল, ‘এত হাসার কি আছে? চল দৌড় প্রতিযোগিতায় নামি। দেখি কে জোরে ছুটতে পারে।’

এক বনে খরগোশ আর কচ্ছপ পাশাপাশি বাস করত। দুইজনের মধ্যে বেশ বন্ধুত্বও ছিল। কিন্তু মাঝে মাঝে ঝগড়াঝাটি যে হতো না তা নয়।

খরগোশ খুব জোরে ছোটে। যেন বাতাসের আগেই ছুটে চলে।

আর কচ্ছপ? সে চলে ধীরে ধীরে হেলেদুলে।

কচ্ছপের ওই হাঁটা দেখে একদিন খরগোশটি হেসে বলল, ‘তোমার হাঁটার যে ছিরি, দেখলেই হাসি পায়।’

ব্যঙ্গ করতে দেখে কচ্ছপটি গম্ভীর কণ্ঠে বলল, ‘এত হাসার কি আছে? চলো দৌড় প্রতিযোগিতায় নামি। দেখি কে জোরে ছুটতে পারে।’

প্রতিযোগিতা! হো হো করে হেসে উঠল খরগোশ।

বলল, ‘প্রতিযোগিতা! তা কার সঙ্গে? তোমার সঙ্গে?’

বলেই আবার হো হো করে হাসতে লাগল, ‘আচ্ছা, তুমি যখন নিজের মুখে বলছ তবে তো রাজি হতেই হয়। তাহলে কত দূর যাওয়ার প্রতিযোগিতা হবে? আর কখন শুরু হবে?’

কচ্ছপ বলল, ‘এখনই শুরু হবে। ওই অনেক দূরে ওই নদীর ধারে একটা অশ্বত্থ গাছ দেখা যাচ্ছে, দেখি ওইখানে কে আগে পৌঁছতে পারে?’

অতএব শুরু হয়ে গেল প্রতিযোগিতা।

খরগোশ এক দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে গেল। পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখতে পেল কচ্ছপ বলতে গেলে সেখানেই পড়ে আছে।

সেদিন রোদের তেজ ছিল বেশি। পাশেই গাছের নিচে একটু ছায়া দেখে খরগোশ ভাবল, ‘একটু বিশ্রাম নিলে ভালো হয়। এখানে পৌঁছতে কচ্ছপের অনেক দেরি আছে। একটু বিশ্রাম নেয়া যাক।’

হঠাৎ ফুরফুর করে হাওয়া বইতে লাগল। গাছের ছায়ায় বসে মিষ্টি ফুরফুরে হাওয়ায় খরগোশের ঘুম পেয়ে গেল।

খরগোশ কখন যে ঘুমিয়ে পড়ল তা নিজেই জানতে পারল না।

ওদিকে কচ্ছপ কিন্তু একটানা হেঁটে চলছিল। তেজি রোদ গ্রাহ্য না করে সে হেঁটে চলল।

এদিকে বেলা পড়ে এল। খরগোশের ঘুম ভাঙল এবার।

সে তখন আশপাশে তাকিয়ে কচ্ছপকে দেখতে না পেয়ে নদীর তীরের সেই অশ্বত্থ গাছটার দিকে ছুটতে থাকল।

সেখানে পৌঁছে হাঁপাতে হাঁপাতে খরগোশ দেখল তার আগেই সেখানে কচ্ছপ পৌঁছে বিশ্রাম করছে।

গল্পের শিক্ষা : ধীর ও স্থির ব্যক্তিরাই প্রতিযোগিতায় জয়লাভ করে।

আরও পড়ুন:
অহংকারী খরগোশ
শীত সকালের মাঠ
শিং আতঙ্ক
অক্ষয়
কী আনন্দ!

শেয়ার করুন

ad-close 103.jpg