তার নামটা অনেক বড়। আবু মুহাম্মদ মুসলিহ আল দীন বিন আবদাল্লাহ শিরাজি। তবে তিনি আমাদের কাছে শেখ সাদি নামে পরিচিত। মধ্যযুগের নামকরা কবি ও লেখক ছিলেন। শিক্ষণীয় গল্প লিখতে ছিলেন পারদর্শী। ১২০০ সালের কিছু পরে তিনি ইরানের সিরাজ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। চলো তার একটা গল্প পড়ে দেখি।
ভালো মানুষ
বাদশাহ রাতে চমৎকার একটি স্বপ্ন দেখেছেন। তার আজ মন খুব ভালো। সকালেই তিনি ভৃত্যের হাতে এক থলে মোহর দিয়ে বললেন, ‘যাও, এই শহরে যত নিঃস্ব ও ভালো মানুষ আছে সবাইকে অর্থ দান করে এসো।’
ভৃত্যটি টাকার থলে হাতে নিয়ে বেরিয়ে গেল। সারা দিন ঘুরে সন্ধ্যার সময় ফিরে এল। মোহরের থলে বাদশাহকে ফেরত দিল।
বাদশাহ অবাক হলেন, ‘শহরে অনেক নিঃস্ব লোক রয়েছে। তুমি তাদের একজনকেও খুঁজে পেলে না? তুমি আবার ভালো করে অনুসন্ধান করো। তারপর মোহরগুলো দিয়ে এসো।’
ভৃত্যটি বিনয়ের সঙ্গে উত্তর দিল, ‘জাঁহাপনা, আমার সঙ্গে সবার দেখা হয়েছে। যারা প্রকৃত ভালো মানুষ তারা বিনয়ের সঙ্গে দান প্রত্যাখ্যান করেছে। আর যারা প্রকৃত ভালো মানুষ নয়, তারা লোভীর মতো হাত বাড়িয়েছে। আপনি নিঃস্ব ও ভালো মানুষদের টাকা দিতে বলেছেন। তারা টাকা গ্রহণ না করায় আমি সব মোহর ফেরত নিয়ে এসেছি।’
বাদশাহ খুব খুশি হলেন, ‘ঠিক কাজ করেছ। সবাই যে প্রকৃত সাধু ব্যক্তি নয়, এ কথাটি আমি বুঝতে পারিনি। তোমার কর্তব্যজ্ঞান আমাকে মুগ্ধ করেছে।’
গল্পের শিক্ষা : যার মন থেকে টাকাপয়সার লোভ দূর হয়নি, সে কখনও সাধু হতে পারে না।
ছবি: সংগৃহীত
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চারটি থানা, ছয়টি তদন্ত কেন্দ্র ও দুটি পুলিশ লাইনস স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনটি ডিসি অফিস, ৪১টি পুলিশ বক্স এবং স্বতন্ত্র ডিএমপি বিভাগ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। বুধবার (১ জুলাই) সকালে পূর্বাচলে পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য দেন তিনি।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চারটি থানা, ছয়টি তদন্ত কেন্দ্র এবং দুটি পুলিশ লাইনস স্থাপনের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়াও তিনটি ডিসি অফিস স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসবের পাশাপাশি পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের বিভিন্ন সেক্টরে ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
আইজিপি আরও জানান, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প ডিএমপির অধীনে এনে এখানে ডিএমপির অন্যান্য বিভাগের মতো একটি স্বতন্ত্র বিভাগ সৃষ্টি করে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনানের তত্ত্বাবধানে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, ‘পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের জন্য পুলিশের প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জন জনবল সৃষ্টির প্রস্তাব বিবেচনায় রাখা হয়েছে।’
তিনি জানান, ইতোমধ্যে পুলিশের অনুকূলে ২৯.২১ একর জমি বরাদ্দের মধ্যে ১৮.৬৩ একরের রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে পূর্বাচলকে ডিএমপির আওতায় এনে একজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক বিভাগ গঠন এবং প্রায় ৬ হাজার ৫২৪ জন জনবল সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদসহ পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা ও স্থানীয়রা।
ছবি: সংগৃহীত
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটি গঠন করেছে এবং কমিটি এ বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি অনলাইনভিত্তিক জনসচেতনতামূলক প্রচারণা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘Improvement of Urban Public Health Preventive Services Project (IUPHPSP)’-এর আওতায় আয়োজিত ‘Workshop on Insights Dissemination of IUPHPS Project’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় বক্তারা জানান, Improvement of Urban Public Health Preventive Services Project (IUPHPSP) বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ (LGD) কর্তৃক পরিচালিত একটি জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রকল্প। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শহরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রোগ প্রতিরোধের সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করা। বিশেষ করে নগর এলাকায় প্রতিরোধমূলক জনস্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণ এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রকল্পটি কাজ করছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে ইতোমধ্যেই জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই কমিটির ১ম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমি আশা করি, Improvement of Urban Public Health Preventive Services Project এক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরও মশার লার্ভা তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। পাশাপাশি অনলাইন প্রচারণা আরও বাড়াতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিরোধমূলক আচরণ গড়ে ওঠে।
মন্ত্রী আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। তিনি একটি পরিচ্ছন্ন শহর ও সুস্থ-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। তাঁর নেতৃত্বে আমরা সম্মিলিতভাবে সেই লক্ষ্য অর্জনে এগিয়ে যাব।
কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোঃ মাহমুদুল হাসান, এনডিসি, Improvement of Urban Public Health Preventive Services Project (IUPHPSP)-এর প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ছবি: সংগৃহীত
তীব্র দাবদাহে যখন জনজীবন ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই পিরোজপুরের রাস্তায় কর্মরত প্রান্তিক ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি।
বুধবার (১ জুলাই) রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দেশব্যাপী ‘হিটওয়েভ’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পিরোজপুর জেলা ইউনিটের উদ্যোগে এক বিশেষ ছাতা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তীব্র গরমে দীর্ঘক্ষণ বাইরে কাজ করা মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এই মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিন পিরোজপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থানরত ট্রাফিক পুলিশ, রিকশাচালক, মুচি এবং ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের হাতে এই ছাতাগুলো তুলে দেওয়া হয়।
ছাতা বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, পিরোজপুর ইউনিটের চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘তীব্র গরমে রাস্তায় কর্মরত শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন। হিটস্ট্রোকসহ গরমজনিত বিভিন্ন রোগ থেকে তাদের সুরক্ষায় আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। মানবসেবায় রেড ক্রিসেন্ট সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।’
উক্ত কর্মসূচিতে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পিরোজপুর ইউনিটের কর্মকর্তা, আজীবন সদস্য এবং যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত থেকে ছাতা বিতরণে সহায়তা করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য স্থানেও এই সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ছবি: সংগৃহীত
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারের হাসান আলী নামের এক সফল মৎস্য ব্যবসায়ী এবার শখের বশে বিলুপ্তপ্রায় ও দৃষ্টিনন্দন ‘কালিম পাখি’ পালন করে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। সাধারণত হাওর-বিল বা জলাভূমির এই বুনো পাখিকে খাঁচায় বন্দি না রেখে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ও পোষ মানিয়ে পালন করায় প্রতিদিন তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় উৎসুক জনতা।
জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারের ওই মৎস্য ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে মাছ ব্যবসার পাশাপাশি দেশীয় ও সৌখিন পাখি পালনে আগ্রহী ছিলেন। প্রায় বছর খানেক আগে তিনি সৌখিনভাবে এক জোড়া কালিম পাখির ছানা সংগ্রহ করেন। প্রথম দিকে পাখি দুটি বুনো স্বভাবের হলেও নিবিড় পরিচর্যা, সঠিক পুষ্টি এবং ভালোবাসার কারণে অল্প দিনেই তারা গৃহপালিত হাঁস-মুরগির মতো পোষ মেনে যায়। বর্তমানে পাখি দুটি চুকনগর বাজারের পাশে তার নিজস্ব খামার ও মৎস্য ঘেরের আশেপাশে উন্মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়ায় এবং মালিকের ডাক শুনলেই কাছে ছুটে আসে।
খামারি জানান, নীল ও বেগুনি রঙের মিশ্রণে চোখ ধাঁধানো রূপের এই কালিম পাখিটির পা ও ঠোঁট টকটকে লাল। এই পাখি লালন-পালন করা বেশ সহজ। এরা মূলত জলজ উদ্ভিদ, কচি ঘাস, ধানের শীষের পাশাপাশি বাজারে কিনতে পাওয়া ব্রয়লার ফিড, গম এবং ছোট চিংড়ি বা মাছ খেয়ে জীবন ধারণ করে। গৃহপালিত হাঁসের মতোই এদের রোগবালাই অত্যন্ত কম এবং দেশীয় আবহাওয়াতে এরা দারুণভাবে খাপ খাইয়ে নিয়েছে।
চুকনগর বাজারে আসা সাধারণ মানুষ ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা জানান, এক সময় খুলনার বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলসহ বিভিন্ন বিলে প্রচুর কালিম পাখি দেখা যেত। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও শিকারিদের দৌরাত্ম্যে এই পাখি এখন বিলুপ্তির পথে। চুকনগরের বুকে উন্মুক্ত অবস্থায় এমন সুন্দর পাখি ঘুরে বেড়াতে দেখে অনেকেই মুগ্ধ হচ্ছেন। অনেকে আবার এই মৎস্য ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেরাও কালিম পাখি পালনের খোঁজখবর নিচ্ছেন।
উদ্যোক্তা মৎস্য ব্যবসায়ী হাসান আলী জানান, কেবল শখের বশে শুরু করলেও এখন তিনি এটিকে বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের কথা ভাবছেন। তিনি বলেন, ‘কালিম পাখি খুবই বুদ্ধিমান। এদের ঠিকমতো যত্ন নিলে এরা চমৎকার পোষ মানে। আমার এখানে পাখি দুটি সম্পূর্ণ মুক্ত পরিবেশে বড় হচ্ছে। আশা করছি খুব শিগগিরই এরা ডিম দেবে এবং বাচ্চা ফুটিয়ে এদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে।’
ডুমুরিয়া উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড, আশরাফুল কবির বলেন স্থানীয় পরিবেশবাদীরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, যথাযথ নিয়ম মেনে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ক্ষুণ্ণ না করে যদি এই ধরনের বিরল প্রজাতির পাখির কৃত্রিম প্রজনন ও খামার তৈরি করা যায়, তবে তা জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যেমন ভূমিকা রাখবে, তেমনি সৌখিন পাখিপ্রেমীদের জন্য এক নতুন আয়ের উৎস হতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁ জেলা পুলিশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) শাখা, ক্রাইম এবং গোয়েন্দা শাখার উদ্যোগে গত এক মাসে (জুন) হারিয়ে যাওয়া ১০১টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে তা মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যলায়ের সম্মেলন কক্ষে এ উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তিনি উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন।
এ সময় হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে অনেকেই সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জেলা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আইসিটি, ক্রাইম এবং গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ টিম বিভিন্ন থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে মোবাইল ফোনগুলো শনাক্ত ও উদ্ধার করে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, মোবাইল ফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে পরিনত হয়েছে। হারানো মোবাইল মালিকদের নিকট ফিরিয়ে দিতে পেরে আনন্দিত। নওগাঁ জেলা পুলিশ হারানো সকল মোবাইল উদ্ধারের জন্য সর্বদাই তৎপর রয়েছে এবং সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শেখ মোহাম্মদ জিন্নাহ আল মামুনসহ কিসের বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
প্রায় পাঁচ বছর ধরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচয়হীন ও মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় ঘুরে বেড়ানো এক নেপালী যুবকের পরিচয় অবশেষে শনাক্ত হয়েছে। তিনি নেপালের নাগরিক বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইতিমধ্যে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগও হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ বছর আগে ভারত সীমান্তের জলঙ্গী এলাকা হয়ে ওই যুবক বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর দীর্ঘদিন ধরে তিনি দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন। বর্তমানে তিনি ইসলামপুর এলাকার ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি পলাশ আহমেদের (মুক্তার সরকার)এর হেফাজতে রয়েছেন। মানবিক কারণে পলাশ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে তাঁর আশ্রয়, চিকিৎসাসহ ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে ওই যুবকের মানসিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি ইমো নম্বর দেন। পরে ওই নম্বরে যোগাযোগ করে তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের পর জানা যায়, যুবকের নাম রিয়ান আনসারী। তিনি নেপালের বারা জেলার কালাইয়া থানার বাসিন্দা এবং বাদল আনসারীর ছেলে।
রিয়ানের পরিবারের সদস্যরা তার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন এবং দ্রুত দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে তিনি প্রতিদিন কয়েকবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন, যা তার মানসিক অবস্থার উন্নতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রিয়ানের দেখাশোনাকারী পলাশ আহমেদ বলেন, ‘প্রায় চার বছর ধরে রিয়ান আমার কাছেই আছে। পরিবারের একজন সদস্যের মতো করেই তাকে দেখাশোনা করছি। সে ভাত খেতে চায় না, গোশতের ঝোল দিয়ে মুড়ি মাখা ও ডিম ভাজি খেতে বেশি পছন্দ করে। কারও সঙ্গে খারাপ আচরণ করে না।
এ বিষয়ে উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও অনিন্দ্য গুহর সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ছবি: সংগৃহীত
প্রকৃতির শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে সমৃদ্ধির এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে মৌলভীবাজারের আকবরপুরের আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। জেলা শহর থেকে মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে এই গবেষণা কেন্দ্র ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে এই কেন্দ্রটি দেশের কৃষি খাতকে সমৃদ্ধ করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ৩১৪ বিঘা বিশাল জমির ওপর গড়ে ওঠা এই গবেষণা কেন্দ্রটি থেকে এ পর্যন্ত ফল চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে; উদ্ভাবিত হয়েছে ১১টি উচ্চফলনশীল ও উন্নত ফলের জাত, যা এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।
বর্তমানে এই কেন্দ্রে শুধু ফলই নয়, স্থানীয় আবহাওয়া উপযোগী বিভিন্ন সবজি ও তেল জাতীয় মাঠ ফসল নিয়েও চলছে ব্যাপক গবেষণা। একটি ফলের নতুন জাত উদ্ভাবন করতে কমপক্ষে ৫ থেকে ১০ বছর নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়।
দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময়ে এই কেন্দ্র থেকে যে ১১টি ফলের জাত অবমুক্ত করা হয়েছে, তা হলো, ১৯৯৬ সালে বারি পেয়ারা-২, বারি লিচি-২, বারি লিচি-৩, ১৯৯৭ সালে বারি বাতাবি লেবু-১, বারি কামরাঙ্গা-১, বারি কামরাঙা-২, ২০০৮ সালে বারি কাঁঠাল-১, ২০১২ সালে বারি আম-১০, ২০১৮ সালে বারি জারা লেবু-১, ২০২৩ সালে বারি কাঁঠাল- ৫ এবং বর্তমানে এখানে ড্রাগন, কাঁঠাল, জাম্বুরা, পেয়ারা, আম, আনারস, লিচু এবং জারা ও কলেম্বুসহ বিভিন্ন লেবু জাতীয় ফলের নতুন জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
অন্য অঞ্চলে ভালো ফলন হলেও মৌলভীবাজার অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়ার কারণে যেসব সবজি আগে এখানে ভালো হতো না, সেগুলোকে এ অঞ্চলের উপযোগী করার পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। অতীতে পানি কচু ও লতি কচু নিয়ে সফল গবেষণার পর বর্তমানে লাউ, মিষ্টি কুমড়া, চিচিঙ্গা, বরবটি, লালশাক, শিম, পটোল ও টমেটো নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি তেল জাতীয় ফসলের ঘাটতি মেটাতে বাদাম, চিনা বাদাম, সরিষা ও সূর্যমুখীর ওপর গবেষণা চলছে। এছাড়া কফি ও গোলমরিচের মতো অর্থকরী ফসলের জাত নিয়েও পরীক্ষা চালানো হচ্ছে, যা সফল হলে ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে নতুন জাত হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে।
গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা জানান, প্রথমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভালো ফলন হওয়া ফসলের নমুনা বা বীজ সংগ্রহ করা হয়। কখনো কখনো বিদেশি জাত এনেও পরীক্ষা করা হয়। এরপর এই অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ুর সাথে সামঞ্জস্য রেখে কীভাবে রোগবালাইমুক্ত ও অধিক ফলনশীল জাত তৈরি করা যায়, তা নিয়ে চলে দীর্ঘমেয়াদি ট্রায়াল। প্রাথমিক সফলতা মিললে পরে তা ব্যাপকভাবে চাষের উপযোগী জাত হিসেবে অনুমোদন পায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুরক্ষিত এই কেন্দ্রের ভেতরে কফি, গোলমরিচ, ড্রাগন, চায়না লেবু ও সিড লেবুসহ নানা প্রজাতির গাছের সমারোহ। স্থানীয় বাসিন্দা জুনেদ মিয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই দেখছি খুব নিরিবিলি পরিবেশে এখানে কৃষি গবেষণা হয়। সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সীমিত হলেও এখান থেকে উন্নত জাতের বিভিন্ন ফল ও গাছের চারা সুলভ মূল্যে বিক্রি করা হয়।
কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (কৃষিশাস্ত্র) মো. আব্দুল মাজেদ মিয়া ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দীন জানান, অন্য অঞ্চলের সফল ফসলকে এই অঞ্চলের উপযোগী করে তোলাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সময় বাড়ার সাথে সাথে কৃষকরাও আধুনিক এই জাতগুলোর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।
মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মাহমুদুল ইসলাম নজরুল এই কার্যক্রমের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে বলেন, আমাদের মূল কাজ হলো অঞ্চলভিত্তিক কৃষি উন্নয়ন। আবহাওয়া ও মাটির বৈশিষ্ট্যের কারণে যেসব ফসল এখানে হতো না, আমরা সেগুলোর গুণাগুণ বিশ্লেষণ করে এবং পোকামাকড় প্রতিরোধী করে এই অঞ্চলের উপযোগী জাত তৈরি করি। এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান (Non-profitable Organization)। আমরা অত্যন্ত সীমিত মূল্যে কৃষকদের মাঝে উন্নত বীজ ও চারা সরবরাহ করছি। ফলে এক সময় এই অঞ্চলে যেসব ফল ও সবজি চাষের কথা ভাবা যেত না, এখন তা অনায়াসেই উৎপন্ন হচ্ছে এবং স্থানীয় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
মন্তব্য