আখ্রোট বাখ্রোট খট্ খট্ খটাস্...

আখ্রোট বাখ্রোট খট্ খট্ খটাস্...

নিজের এইটুকুন বয়সের এত্তো এত্তো গল্প নিয়ে ‘ছেলেবেলা’ নামের ঝলমলে এই বই লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। বইটি সম্পর্কে জেনে নিই, চলো...

ছেলেবেলা বইয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন-পাল্কির বাইরে এক-একদিন ছিলো আমার মাষ্টারি; রেলিঙগুলো আমার ছাত্র, ভয়ে থাকতো চুপ। এক-একটা ছিলো ভারি দুষ্টু।

পড়াশুনোয় কিচ্ছুই মন নেই; ভয় দেখাই যে, বড়ো হলে কুলিগিরি করতে হবে। মার খেয়ে আগাগোড়া গায়ে দাগ পড়ে গেছে. দুষ্টুমি থামতে চায় না-কেননা, থামলে যে চলে না, খেলা বন্ধ হয়ে যায়।

আরো একটা খেলা ছিলো, সে আমার কাঠের সিঙ্গিকে নিয়ে। পূজায় বলিদানের গল্প শুনে ঠিক করেছিলুম সিঙ্গিকে বলি দিলে খুব একটা কাণ্ড হবে। তার পিঠে কাঠি দিয়ে অনেক কোপ দিয়েছি।

মন্ত্র বানাতে হয়েছিলো, নইলে পূজো হয় না-
সিঙ্গিমামা কাটুম
আন্দিবোসের বাটুম
উলুকুট ঢুলুকুট ঢ্যামকুড়্ কুড়্
আখ্রোট বাখ্রোট খট্ খট্ খটাস্-
পট্ পট্ পটাস্।

এর মধ্যে প্রায় সব কথাই ধার-করা, কেবল আখরোট কথাটা আমার নিজের। আখরোট খেতে ভালোবাসতুম। খটাস্ শব্দ থেকে বোঝা যাবে আমার খাঁড়াটা ছিলো কাঠের।

আর পটাস্ শব্দে জানিয়ে দিচ্ছে সে খাঁড়া মজবুত ছিলো না।

newsbanglakid

কার খাঁড়া রে? সে আর বলতে হয়! উপরের লেখাটা পড়েই তো বুঝতে পারছো যে, কার খাঁড়ার কথা বলছি। বলি, কাঠের খাঁড়া পোষ মানানো এই কবিটার পিচ্চি বেলার নানা ঘটনা জানতে তোমরা পড়ে নাও তারই লেখা ‘ছেলেবেলা’ বইটি।

২৫০ টাকা মূল্যের এই বইতে কবির ছোট বেলার গল্পের সঙ্গে পাবে রঙ্গিন অনেক ছবি।

তো আর দেরি না করে, বসে পড় না পণ্ডিত কবির ছেলেবেলা হাতে। ডুবে যাও তার অদ্ভুত সব গল্পে।

আর শোনো, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছেলেবেলা নামের এই বই তোমাদের জন্য প্রকাশ করেছে বাংলাবাজারের প্রতীক প্রকাশনী। তোমার আশপাশের লাইব্রেরীতে খোঁজ করলেও পেয়ে যাবে বইটি।

বইটি পড়ে কেমন লাগলো, তা আমাদের জানিও।

শেয়ার করুন