'লেটারস ফ্রম অ্যা ফাদার টু হিজ ডটার' বাংলায় 'মা-মণিকে বাবা' নামে বই থেকে সেই বিখ্যাত বাবার এই চিঠি পড়ে দেখো। কেমন লাগে। চিঠির অনুবাদক হেনা চৌধুরী। চিঠি পড়ো আর বোঝো, প্রতিটি বাবা-মা কী প্রগাঢ় ভালোবাসেন ছেলেমেয়েদের।
এ কথা তুমি জানো নিশ্চয়ই মামণি, আমাদের পৃথিবীটা সূর্যের চারদিকে ঘোরে আর চাঁদের পথপরিক্রমাও আমাদের এই পৃথিবীকেই ঘিরে। তুমি এ কথাও জানো হয়তো যে, আমাদের পৃথিবীর মতো আরও অনেক জিনিস সূর্যকে ঘিরে আবর্তিত হয়। এদের এবং আমাদের পৃথিবীকে বলা হয় সূর্যের গ্রহ।
চাঁদের অস্তিত্ব আমাদের পৃথিবীকে অবলম্বন করে, সে জন্য চাঁদকে এই পৃথিবীর উপগ্রহ বলা হয়। অন্যান্য গ্রহমণ্ডলীরও এই রকম উপগ্রহ আছে। সূর্য এবং গ্রহমণ্ডলী, তাদের উপগ্রহগুলো নিয়ে সৃষ্টি করেছে যেন এক পরম সুখী পরিবারের।
একে সৌরমণ্ডল নামে অভিহিত করা হয়। সৌর মানে কী জানো তো? সৌর কথার অর্থ সূর্য, আর সূর্য সমগ্র গ্রহমণ্ডলীর জনক বলেই এর নাম দেওয়া হয়েছে সৌরমণ্ডল।
রাত্রিবেলা তুমি দেখতে পাও আকাশের বুকে ঝকমকিয়ে ওঠে হাজার হাজার তারকারাজি। তার মধ্যে গ্রহের সংখ্যা খুবই কম। আবার তাদের প্রকৃতপক্ষে তারকা নামেও অভিহিত করা যায় না।
আচ্ছা মামণি! তুমি কি গ্রহ ও তারার মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে পারো? গ্রহরা আমাদের পৃথিবীর মতোই আকারে ছোট, বিশেষ করে তারকাদের তুলনায়। তাহলে তা এত বড় দেখায় কেন? এর কারণ, গ্রহরা পৃথিবীর খুব কাছের প্রতিবেশী।
চাঁদের বেলায়ও সেই একই কারণ। পৃথিবীর অত্যন্ত কাছের প্রতিবেশী বলে চাঁদকেও আমরা এত পরিস্কার ও বড় দেখি।
তবে গ্রহ ও তারকার সত্যিকারের পার্থক্য নির্ণয় করতে গেলে তাদের জ্বলজ্বল করা দেখে বুঝতে হবে। অর্থাৎ নক্ষত্র জ্বলজ্বল করে, গ্রহ করে না। গ্রহদের যেটুকু উজ্জ্বলতা আমরা দেখতে পাই তার কারণ, সূর্যের আলো গিয়ে পড়ে তাদের ওপর, আর সেই আলোই উজ্জ্বল করে তোলে তাদের।
চাঁদের আলো বলে যাকে আমরা জানি, সেটাও কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সূর্যেরই জ্যোতি, চাঁদের গায়ে প্রতিভাত হয়ে পৃথিবীতে এসে পড়ে। প্রকৃত তারকারা সূর্যেরই মতোন উত্তপ্ত আর জ্বলন্ত বলে আপন আলোয় আলোকিত।
প্রকৃতপক্ষে আমাদের সূর্যও একটি তারকা। তবে তারকাদের তুলনায় পৃথিবীর অপেক্ষাকৃত কাছে থাকার জন্য তাকে অপূর্ব এক জ্বলন্ত আগুনের বলের মতো দেখায়।
সুতরাং এবার তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, আমাদের এই পৃথিবীও সূর্যের পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। সৌরমণ্ডলেরই অন্তর্গত। আর ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আমাদের নিজেদের সঙ্গে তুলনা করলে এই পৃথিবীকে কি বিরাট আকৃতির বলেই না মনে হয়!
অতি দ্রুতগতির ট্রেন বা স্টিমারে করে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে যেতে সময় লাগে কত জানো? সপ্তাহের পর সপ্তাহ, মাসের পর মাস। কিন্তু আমাদের যা এত অসীম বলে মনে হয়, আসলে কিন্তু তা সামান্য ধূলিকণার মতো হাওয়ায় ভেসে বেড়ানো একটি পদার্থমাত্র।
সূর্যের অবস্থান যার কাছ থেকে কোটি কোটি মাইল দূরে। আর তারারা আরও অনেক অনেক দূরের।
নক্ষত্র-বিশারদরা গবেষণা করে প্রমাণ করেছেন, বহু বছর আগে আমাদের পৃথিবী এবং অন্যান্য গ্রহ সূর্যেরই একটি অংশ মাত্র ছিল। আর সূর্য তখন ছিল ভয়ঙ্কর উত্তপ্ত জ্বলন্ত একটি অগ্নিপিণ্ড মাত্র। তারপর যেভাবেই হোক, সূর্যের থেকে এর কিছু অংশ বিচ্যুত হয়ে গিয়ে আবদ্ধ হয়ে পড়ল বায়ুতে।
কিন্তু পিতা সূর্যকে ছেড়ে যেতে তারা পারল না। তাই ঠিক যেন একই সুতায় গাঁথা মালার পুঁতির মতো সেই অংশগুলো আবদ্ধ হয়ে রইল। শুরু হলো তাদের সূর্যকে ঘিরে পথপরিক্রমা।
আশ্চর্য এ প্রকৃতির আকর্ষণ শক্তি! যাকে আমি একই সুতায় গাঁথা মালার পুঁতি বন্ধনের সঙ্গে উপমা দিয়েছি। এটা এমনই একটা শক্তি যা সব সময় ক্ষুদ্রকে বৃহতের প্রতি আকর্ষণ করে। এ আকর্ষণীয় শক্তির বলেই যে কোনো বস্তু শূন্যে অবস্থান না করে নিচের দিকে নেমে আসে।
আমাদের কাছাকাছি পৃথিবী হচ্ছে সবচেয়ে বড়। সুতরাং দিন-রাত পৃথিবী আমাদের সব কিছুকে, তার আপন গতি ও শক্তি অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। অতএব বুঝতে পারলে তো মামণি!
আমাদের এ পৃথিবী সূর্য থেকে বিচ্যুত একটি অংশমাত্র। এখন পৃথিবীর গল্প শোনো। সৃষ্টির প্রথম অবস্থায়, আমাদের এই পৃথিবীটাও ছিল প্রচণ্ড উত্তপ্ত বাষ্পে পরিপূর্ণ। কিন্তু বিশাল সূর্যের তুলনায় তো আকৃতিতে তা অনেক ছোট!
তাই একটু একটু করে শীতল হতে শুরু করল। তারপর ভয়ঙ্কর উত্তপ্ত বিরাট সূর্যের তাপও আস্তে আস্তে কমে এলো। কিন্তু তাই বলে তা দু’চার হাজার বছরে সম্ভব হয়নি, লেগেছিল লাখ লাখ বছর।
সেই তুলনায় ঠাণ্ডা হতে আমাদের পৃথিবীর নিশ্চয় অনেক কম সময়ই লেগেছিল। যখন আজকের এই পৃথিবীটা ছিল শুধু জ্বলন্ত এক অগ্নিপিণ্ড সেদিন এর বুকে না মানুষ, না পশুপাখি, না গাছপালা; কোনো কিছুর পক্ষে বাস করা সম্ভব হয়নি।
কেমন করেইবা হবে! সামান্য গ্রীষ্ম কালেই যদি তাপমাত্রা একটু বেড়ে যায়, তো আমাদের অবস্থটা এখানে কী হয় ভেবে দ্যাখো তো? তাহলে কল্পনা করতে পার; সেই জ্বলন্ত অগ্নিবলয় থেকে খসে যাওয়া, সেদিনের এই পৃথিবীরূপী এক টুকরো অঙ্গারের ভয়াবহ উত্তাপের কথা।
সূর্যের একটি কণিকা থেকে যেমন সৃষ্টি হলো আমাদের পৃথিবী তেমনি আবার পৃথিবীর একটি টুকরো থেকে জন্ম নিলো চাঁদ।
একটা খুব মজার কথা, অনেকে মনে করেন কী জানো? আমেরিকা ও জাপানের মধ্যবর্তী স্থলে, যেখানে বর্তমান প্রশান্ত মহাসাগর অবস্থিত, বহুদিন আগে সেখানে ছিল বিরাট এক শূন্যতা। এক গহ্বর। আর সেই গহ্বরের হৃদয় ভেদ করে উদিত হয়েছিল চাঁদ।
যাই হোক, আমাদের পৃথিবীটা তো দিব্যি ঠাণ্ডা হতে শুরু করল। অবশ্যই তা বহু বছরের সাধনার ফল। আর বাইরেটা যদিওবা আস্তে আস্তে একটু একটু করে ঠাণ্ডা হলো।
তবে এর ভেতরের দিকটা প্রচণ্ড উত্তপ্তই রয়ে গেল। তার প্রমাণস্বরূপ আজও যদি তুমি কোনো কয়লার খনির ভেতরে নামো তো অনুভব করবে ভয়ঙ্কর গরম।
আর যতই তুমি গভীরে নামবে ততই দেখবে উত্তাপও ক্রমেই বাড়ছে। এ থেকেই কি কথাটা আমাদের কাছে পরিস্কার হয়ে ওঠে না যে পৃথিবীর গভীর প্রদেশ আজও জ্বলন্ত ও উত্তপ্ত!
চাঁদ তো আকৃতিতে আমাদের পৃথিবীর চেয়ে অনেক ছোট, তাই পৃথিবীর চেয়ে অনেক তাড়াতাড়ি তা শীতলও হয়ে গেল। বলো মামণি, আজও তো চাঁদকে কী মধুর মনোরম আর শীতল বলে মনে হয়, তাই না?
তাই তো চাঁদের নামকরণ করা হয়েছে শীতল চাঁদ। আমার কি মনে হয় জানো, এর অভ্যন্তর ভাগ বরফ আর হিমবাহে পরিপূর্ণ।
তারপর একদিন পৃথিবী শীতলতা পেল। বায়ুতে আর্দ্রতা অর্থাৎ জলীয় বাষ্প আছে, তা ক্রমেই ঠাণ্ডা গাঢ় হতে হতে জলে পরিণত হলো। আর সম্ভবত তা একদিন বৃষ্টি হয়ে আবার এই পৃথিবীর বুকেই ঝরে পড়ল।
সে বৃষ্টি অবশ্য এখন আমরা যে বৃষ্টি দেখি, নিশ্চয়ই তার চেয়ে লাখ লাখ গুণ সাংঘাতিক রকমের ভয়াবহ বৃষ্টি হয়েছিল। সম্ভবত তাকেই আমরা প্রলয় বলে থাকি। কারণ সেই প্রচণ্ড প্রলয়ঙ্কর বরিধারায় পরিপূর্ণ হয়ে গেল ধরণীর বুকের সব গহ্বর। জন্ম নিলো সাগর আর মহাসাগররা।
পৃথিবী ঠাণ্ডা হওয়ার পর মহাসমুদ্রের জলও ঠাণ্ডা হতে লাগল আস্তে আস্তে তারপর পৃথিবীর কোলে আর মহাসাগরের জলে প্রাণীর পক্ষে বসবাস করা সম্ভব হয়ে উঠল। পরবর্তী চিঠিতে আমরা প্রাণের সূচনা সম্পর্কে আলোচনা করব।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের ২৯৫ বিদেশি শিক্ষার্থী। ক্লিনিক্যাল ক্লাস ও ইন্টার্নশিপ বন্ধ থাকায় তাদের ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সমাধানের খোঁজে দুই অধিদপ্তরে ধরনা দিয়েও কোনো কর্মকর্তার দেখা মেলেনি।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গত ১১ জুন আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নিবন্ধন স্থগিত করে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর।
হাসপাতাল বন্ধ হওয়ায় ক্লিনিক্যাল ক্লাস বন্ধ হয়ে যায় আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তাদের ইন্টার্নশিপ কোথায় হবে তাও নির্ধারিত হয়নি।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা অন্য হাসপাতালে মাইগ্রেশন নিয়ে একাডেমিক ঘাটতি কিছুটা পূরণ করতে পারলেও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সেই পথও বন্ধ।
বিপাকে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা: কলেজের মোট ২৯৫ বিদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮৬ জন ইন্টার্ন এবং ২০৯ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী। তাদের প্রায় সবাই ভারতীয়।
ভারতের মেডিকেল সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, বিদেশে পড়া শিক্ষার্থীদের একই কলেজের অধীন হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। অন্য কোথাও ইন্টার্ন করলে দেশে ফিরে ডিগ্রির গ্রহণযোগ্যতা নাও মিলতে পারে।
ভারতের কাশ্মির থেকে আসা রেজা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা এখন অন্য হাসপাতালে মাইগ্রেশন নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের পক্ষে সেটা সম্ভব নয়। আমাদের কারিকুলাম অনুযায়ী এই হাসপাতাল থেকেই পড়াশোনা শেষ করতে হবে। আমি আট বছর ধরে এখানে আছি। পড়াশোনা শেষ পর্যায়ে। এখন যদি আমাদের পড়াশোনা আটকে যায়, তাহলে এই ডিগ্রি আমার কোনো কাজে আসবে না।’
অধিদপ্তর থেকে হতাশ হয়ে ফিরলেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা: নিজেদের শিক্ষাজীবনের এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা। ডিগ্রির বৈধতার জন্য আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ইন্টার্নশিপের অনুমতি চান তারা।
বিষয়টির সুরাহার জন্য সোমবার স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরে যান বিদেশি শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও দুই অধিদপ্তরের কোনো মহাপরিচালকের দেখা মেলেনি। ফলে হতাশ হয়েই ফিরতে হয় তাদের।
আরেক শিক্ষার্থী খুজাইমা বলেন, ‘আমরা আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে খুবই বিপাকে আছি। বিষয়টি সমাধানের জন্য দূতাবাসসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কোথাও থেকে সাড়া পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে এখানে এসেছি। এখন যদি তারা আমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেন, তাহলে আমরা আরও সমস্যায় পড়ে যাব। আমাদের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়টি তাদের জানাতে এসেছি।’
মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের গ্যাঁড়াকলে বিপাকে শিক্ষার্থীরা: বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেখছে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘শুনেছি তারা এসেছিল। তবে আমার অন্য একটি প্রোগ্রাম থাকায় বাইরে ছিলাম। আর হাসপাতাল খুলবে কি না তা মহাপরিচালকই বলতে পারবেন।’
একই কথা জানান অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান।
স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘একটি অবহেলার ঘটনায় আইন অনুযায়ী অধিদপ্তর ব্যবস্থা নিয়েছে। সেটি পুনরায় খোলার সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত রয়েছে। তাদের আপিলের সুযোগ রয়েছে, সেই সময় এখনো আছে। যদি তারা আপিল করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ একদিকে স্বাস্থ্য সচিব বরাবর আবেদন করেছে, অন্যদিকে আদালতে রিট করেছে। এতে বিষয়টি জটিলতার দিকে গেছে।’
বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদনের বিষয়ে প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘এটি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর বলতে পারবে, তারা কী করবে।’
আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষের অবস্থান: নিবন্ধন ফেরত পেতে এক মাসের মধ্যে আপিলের সুযোগ থাকলেও সেই পথে যেতে রাজি নয় আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ। গত ১৭ জুন মানবিক বিবেচনায় হাসপাতাল খুলে দিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আদ্-দ্বীন উইমেন্স মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুস সবুর বলেন, ‘লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল নয়, আমরা মানবিক দিক বিবেচনায় হাসপাতাল চালু করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আবেদন করেছি। আশা করছি, রোগীদের কথা মাথায় রেখে তারা বিষয়টি দেখবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছে আমরা আবেদন জানিয়েছি। আশা করি সপ্তাহ দু-একের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। সরকার যেসব সংস্কারের কথা বলেছে, সেগুলো সম্পন্ন হওয়ার পথে। আশা করছি, দ্রুত খুলে যাবে।’
এর আগে গত ১৪ জুন শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিকল্পনা জানতে চেয়ে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয় স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।
দুশ্চিন্তা দেখছে না স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর: স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তর। আমরা কলেজ বন্ধ করিনি। কলেজের সঙ্গে যেহেতু শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শেখার বিষয়টি রয়েছে, সে জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, কাজেই এখনই দুশ্চিন্তার কিছু নেই। পরিস্থিতি কোনদিকে যায় সেটি দেখতে হবে। শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যেহেতু হাসপাতাল থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, কলেজ কর্তৃপক্ষ কী করছে তা আমরা জানতে চাই। শিক্ষার্থীদের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে তাড়াহুড়ার কিছু নেই।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মেঘনা-গোমতী সেতুতে টোল আদায়ে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আগামী ২০ সেপ্টেম্বর ধার্য করা হয়েছে।
ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ আলমগীর মঙ্গলবার (২৩ জুন) এই তারিখ ধার্য করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ধার্য ছিল। কিন্তু তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত নতুন তারিখ ধার্য করেন।
এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, আনিসুল হক, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপসচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান, মো. আব্দুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রোডে মেঘনা-গোমতী সেতুতে ২০১৬ সালে নীতিমালা উপেক্ষা করে ‘কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড’কে (সিএনএস) উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। টাকার অঙ্কে কাজের মূল্য নির্ধারণ না করে বরং মোট আদায়কৃত টোলের ১৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি মোট ৪৮৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বিল তুলেছে। দুদক বলছে, এ প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রায় ৩০৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এ ঘটনায় দুদক গত বছর ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে।
বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। ছবি: সংগৃহীত
প্রায় সাড়ে চার মাস ধরে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকার পর মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোরে সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসসি) জানিয়েছে, ‘বাংলার জয়যাত্রা’ মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর ৩টায় হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে।
বিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার ফলে এই সাফল্য এসেছে। এই অনিশ্চিত সময়ে সরকারের এই সমর্থন জাহাজের ক্রু সদস্যদের মনোবল ধরে রাখতে বিশেষ সহায়তা করেছে।
করপোরেশনটি এ ঘটনাকে বাংলাদেশের সামুদ্রিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাদের মতে, বড় ধরনের পরিচালনাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত প্রচেষ্টার ইতিবাচক ফলাফলই এ অর্জন।
বর্তমানে জাহাজটি জ্বালানি সংগ্রহ এবং তলার অংশ পরিষ্কার করার (বটম-ক্লিনিং) জন্য ফুজাইরা বন্দরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিএসসি।
ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত ৬৩টি তাজিয়া মিছিল ও শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বেলা সোয়া ১১টায় পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএমপি কমিশনার জানান, ১ থেকে ১০ মহররম পর্যন্ত ঢাকা মহানগরের লালবাগ, ওয়ারী, রমনা, তেজগাঁও, মতিঝিল ও মিরপুর বিভাগের ২৮টি ইমামবাড়া থেকে মোট ৬৩টি তাজিয়া মিছিল হবে। প্রতিটি মিছিলের জন্য নির্ধারিত রুট ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি মিছিল ও সমাবেশস্থলে ব্যারিকেড, পিকেট, রুফটপ নজরদারি এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। হোসেনি দালানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ড্রোন ও সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সোয়াট, ক্রাইম সিন টিম ও ডিবির বিশেষ টিম প্রস্তুত থাকবে।
ডিএমপি মোসলেহ্ উদ্দিন জানান, আগামী ২৬ জুন সকাল ১০টা থেকে হোসেনি দালান থেকে ধানমন্ডি লেকের কারবালা পর্যন্ত তাজিয়া মিছিলের নির্ধারিত রুটে ট্রাফিক ডাইভারশন কার্যকর থাকবে। যানজট এড়াতে নগরবাসীকে বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানান তিনি।
তিনি বলেন, মিছিলে কোনো ধরনের ধারালো অস্ত্র, দাহ্য পদার্থ, লাঠি, ব্যাগ, স্যুটকেস বা সন্দেহজনক বস্তু বহন করা যাবে না। নিশানের উচ্চতা ১২ ফুটের বেশি রাখা যাবে না। আতশবাজি, পটকা, উচ্চ শব্দের সাউন্ড সিস্টেম এবং ঢাক-ঢোল ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।
মোসলেহ্ উদ্দিন বলেন, যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, র্যাব এবং সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড ও বোম্ব ডিসপোজাল টিম দ্বারা প্রতিটি ভেন্যু ও রুটে তল্লাশি করা হবে। ইমামবাড়া বা সমাবেশস্থলগুলোতে আর্চওয়ে গেট ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খ ডিজিটাল তল্লাশি এবং ম্যানুয়াল চেকিং নিশ্চিত করা হবে। হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় একটি অস্থায়ী সাব-কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, অনলাইন গুজব প্রতিরোধে সাইবার পেট্রোলিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং চলবে। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা বস্তু চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইমামবাড়ার নেতৃবৃন্দ, আয়োজক কমিটি, বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় পবিত্র আশুরার সব কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে।
এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম পুলিশ কমিশনারগণ, বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড নিয়ে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের সেই ভাইরাল কৃষক কবির হোসেন আর নেই।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
কবির হোসেনের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি শোকাহত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা মহানগর আনসার (ডিএমএ) দক্ষিণ জোনের আওতাধীন শাহবাগ থানার নবাবপুর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অঙ্গীভূত আনসার সদস্যদের তাৎক্ষণিক তৎপরতা এবং ফায়ার সার্ভিসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তাদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
গত সোমবার (২২ জুন) রাতে নবাবপুর টাওয়ারের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত এবি ব্যাংকের একটি এসিতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা, পিসি মোক্তার হোসেন, এপিসি শাহীন মিয়া এবং ক্যাম্পে অবস্থানরত আনসার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। একই সঙ্গে তারা ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করেন।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আনসার সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে মাইকিং করে ভবনের ভেতরে অবস্থানরত ব্যক্তি ও আশপাশের ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেন, নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সহায়তা করেন এবং জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আনসার সদস্যদের সহযোগিতায় অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের শুরুতেই আনসার সদস্যদের দ্রুত উপস্থিতি, সতর্কতামূলক মাইকিং এবং নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপের কারণে আগুন পার্শ্ববর্তী দোকান ও অন্যান্য স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। তারা আনসার সদস্যদের সাহসিকতা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালকে দিকনির্দেশনায় বাহিনীর সদস্যরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। নবাবপুর টাওয়ারের এ ঘটনাটি তাদের দায়িত্বশীলতা, সাহসিকতা এবং জননিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকারের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ফাইল ছবি
চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এই আদেশ দেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতি আঘাত আনবে। ৩০ বছর পর মরদেহ উত্তোলন করে কিছুই পাওয়া যাবে না। শুধু শুধু শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে সংঘর্ষ সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য আমরা এই মরদেহ উত্তোলনের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করি। শুনানি শেষে আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেন।’
আবেদনে বলা হয়, বহুল আলোচিত চিত্র নায়ক সালমান শাহ এর মৃত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছিল এবং বর্তমানে সেখানেই কবরস্থ আছে। ভিকটিমের মরদেহ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনা হবে এবং ব্যাপক বাধার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও বারবার লাশ উত্তোলনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং ব্যাপক বাধার সৃষ্টি সহ সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাদী মো.আলমগীর কুমকুম এবং মা নিলুফাজামান চৌধুরী ওরফ নীলা চৌধুরীর ব্যাপক আপত্তি রয়েছে। এজন্য আলোচিত চিত্রনায়ক সালমান শাহ এর মরদেহ উত্তোলনের আদেশ বাতিল করা একান্ত প্রয়োজন।
এর আগে, গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জিয়াউল মোর্শেদ লাশ কবর থেকে উত্তোলনপূর্ব সুরতহাল প্রস্তুত এবং ময়না তদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতিসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গেল ২৪ মে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দেন।
গত ২০ বছরের অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলে- সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদীর ভাগনে চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ (২৫) ছিলেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য চিত্রনায়ক। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় বাদীর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী, বোন জামাই কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহসহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখান থেকে নীলা চৌধুরী ও শাহরানসহ তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেট যাওয়ার কথা ছিল।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদীর বোন ও বোন জামাই গ্রিন রোডের বাসায় পৃথকভাবে বসবাস করতেন। তারা সালমানের ইস্কাটনের বাসায় যাওয়ার পর স্ত্রী সামিরা এবং কর্মচারী আবুল জানান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে তার বাবা-মা স্ত্রী সামিরাকে বলে আসেন যে, তারা সিলেটে যাওয়ার পথে সালমানের সঙ্গে দেখা করে যাবেন। এরপর তারা এবং প্রযোজক সিদ্দিক ইস্কাটনের বাসা ত্যাগ করেন।
ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমানের ‘যেন কী হয়েছে’। খবর পেয়েই তারা দ্রুত বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সালমান তার শোবার ঘরে পড়ে আছেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সে সময় দুই-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে একটি মেয়ে সেখানে বসে ছিলেন। তখন সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে সালমানের বাবা-মা তাকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ধারণ করতে দেখেন। অবস্থার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বেশ কিছুক্ষণ আগেই সালমান শাহ মারা গেছেন।
মন্তব্য