20201002104319.jpg
ইঁদুর পেল স্বর্ণপদক

ইঁদুর পেল স্বর্ণপদক

শিরোনাম পড়ে চমকে গেছেন? যাওয়ারই কথা।

কিন্তু ঘটনাটি মোটেও বানানো নয়। অ্যানিমেশন ফিল্ম স্টুয়ার্ট লিটলের মতোই মানুষের বন্ধু হয়ে বহু প্রাণ বাঁচিয়েছে ইঁদুর ‘মাগাওয়া’ ও তার বন্ধুরা।

পুরো ঘটনাটি বিচিত্রই বলা চলে।

১৯৭৫ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত কম্বোডিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলার সময় মাটিতে মাইন পুঁতে রেখেছিল দুই পক্ষ। যুদ্ধ থামলেও এসব মাইন মানুষের রক্ত ঝরাচ্ছিল।

অন্তত ৬৪ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়েছে এই যুদ্ধাস্ত্র। বিস্ফোরণে আরও ২৫ হাজার মানুষ হারিয়েছেন অঙ্গ।

সিদ্ধান্ত হয়, মাইন খুঁজে বের করে এলাকা নিরাপদ করতে হবে। কিন্তু প্রায় ৫০ লাখ মাইন খুঁজে বের করা চাট্টিখানি কথা না।

কী করা যায়, ভেবে বের হলো আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব এক উপায়। কাজ লাগানো হবে প্রশিক্ষিত ইঁদুর মাগাওয়া এবং তার কয়েকজন ‘বন্ধু’কে।

জন্ম তার আফ্রিকার তানজানিয়ায়। সেটা ২০১৪ সালের কথা। এক বছর প্রশিক্ষণ দেয়ার পর ছোট বয়স থেকেই লাগানো হয় এই কাজে।

মাগাওয়াদের দিয়ে মাইন খোঁজার পরিকল্পনার একটি কারণ হলো, প্রাণীগুলোর দৃষ্টিশক্তি কম হলেও ঘ্রাণশক্তি প্রখর

মাগাওয়া সাধারণ ইঁদুরের তুলনায় একটু বড় আকৃতির। ছোটবেলাতে তাকে বিস্ফোরক শনাক্তে এক বছরের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ‘হিরো র‌্যাট প্রোগাম’ এর অধীনে এই কাজটি করেছে অ্যাপোপো নামে একটি সংস্থা।

মাগাওয়ার প্রশিক্ষক মেলেন তাকে শিকলে বেঁধে মাঠজুড়ে ঘুরান। মাগওয়া মাইন খুঁজে পেলে সেটির উপরে থাকা মাটি আঁচড়িয়ে ইঙ্গিত দেয়।

মেটাল ডিটেক্টর এর চেয়ে দ্রুত কাজ করতে পারে ইঁদুর। একটি টেনিস কোর্টের সমান বড় জায়গা তল্লাশি করতে মাগাওয়ার ৩০ মিনিট সময় লাগে। একটি মানুষের এই কাজ করতে চার দিন সময় লেগে যেত।

প্রশিক্ষক মেলেন বলেন, ‘মাগাওয়া মাঠে অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে কাজ করে। সে অনেক দ্রুত কাজ করে এবং সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে কোন বিষয় বিপজ্জনক কি না।’

মাগাওয়া একাই ৩৯ টি ভূমি মাইন এবং ২৮ টি অবিস্ফোরিত বোমা শনাক্ত করেছে। বোমাগুলো বিমান থেকে ফেললেও কোনো কারণে বিস্ফোরিত হয়নি।

মাগাওয়ার ভূমিকায় মুগ্ধ বৃটিশ দাতব্য সংস্থা পিডিএসএ (পিপলস ডিসপেনসারি ফর সিক এনিমেলস) গত ২৫ সেপ্টেম্বর এই পুরস্কার দেয়। অনুষ্ঠান করে তার গলায় পড়িয়ে দেয়া হয় ছোট্ট একটি স্বর্ণপদক।

সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে গত ৭৫ বছরে ৩০টি প্রাণীকে এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইঁদুর হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে মাগাওয়া। বাকি সব পদক পেয়েছে কুকুর।

প্রাণ বাঁচানোর পাশাপাশি মাগাওয়া বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক জায়গাকে ব্যবহার উপযোগী করেছে। গত চার বছরে সে এক লাখ ৪১ হাজার বর্গমিটার জায়গাকে নিরাপদ করেছে।

মাগাওয়ার বয়স এখন সাত। এখন সে অবসরে যাবে। অবসর জীবনে সে যত্নে থাকবে, এটি নিশ্চিত করেছে তাকে প্রশিক্ষণ দেয়া সংস্থা এপোপো।

মাগাওয়াদের এই ভূমিকার পরেও পুরো নিরাপদ হয়নি কম্বোডিয়া। ৫০ লাখ মাইনের অর্ধেক এখনও শনাক্ত করা বাকি।

সূত্র: নিউজফরকিডস ডট নেট

 

শেয়ার করুন