20201002104319.jpg
20201003015625.jpg
আসছে শীত, নিচ্ছে তারা ঘুমের প্রস্তুতি...

আমিও যাচ্ছি ঘুমের দেশে

আসছে শীত, নিচ্ছে তারা ঘুমের প্রস্তুতি...

আসছে শীত, কিছু প্রাণী নিচ্ছে ঘুমের প্রস্তুতি। এক ঘুমে কাটিয়ে দেবে শীতকাল। ঘুমকাতুরে এমন কিছু মজার প্রাণীর গল্প শুনি, চলো

সকালে একটু বেশি ঘুমালেই বড়দের যতো বিপত্তি! যারা ঘুমকাতুরে আর যারা একটু ঘুমালেই বড়োদের বকার মুখে পড়ো, তাদের বলি, শীতকাল ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেওয়া এসব প্রাণীর গল্প বড়দের শুনিয়ে দিতে পারো।

ঘুমকাতুরেরা যে লম্বা ঘুম দেয়, এই ঘুমের একটা নামও দিয়েছেন প্রাণীবিজ্ঞানীরা: হাইবারনেশন। তাদের ভাষায় এইচআইটি বা ‘হাইবারনেশন ইনডিউসমেন্ট ট্রিগার’ শীতঘুম নিয়ে আসে। শীতের শুরুতে যখন দিন ছোট হতে থাকে, তাপমাত্রা কমতে শুরু করে, তখন এসব প্রাণীর শরীরে এইচআইটি জেগে ওঠে। ফলে তারা ঘুমিয়ে পড়ে।

বলবে, এই কুম্ভকর্ণ কারা গো? বলছি শোনো, তার আগে তাদের খাবারের কথা একটু বলে নিই। এই ঘুমকাতুরেদের কেউ কেউ শীত আসি আসি করলেই মাটির গর্তে বা গাছের খোড়লে খাবার জমানো শুরু করে। তারপর যখন শীত এসে পড়ে, তখন তারা মাঝেমধ্যে শীতঘুম থেকে অল্প সময়ের জন্য জেগে ওঠে এবং জমানো খাবার খেয়ে ফের টুক করে ঘুমিয়ে পড়ে।

কেউবা আবার এতোই আলসে যে তারা খাবার জমানোর ঝামেলা পছন্দ করে না। তাই বলে শীতকালটা না খেয়ে ঘুমিয়ে কাটিয়ে দেয়? মোটেও নয়। তারা শীত আসার আগ থেকেই বেশি বেশি খেতে শুরু করে। পারলে সারাদিনই খায়! এই এত্তো এত্তো খাবার তাদের শরীরে চর্বি আকারে জমতে থাকে। একেকটা তখন মোটাসোটা হয়ে যায়।

তাদের শরীরে দু ধরনের চর্বি হয়ে থেকে যায় খাবারগুলো। স্বাভাবিক সাদা আর বিশেষ ধরনের বাদামি রঙের চর্বি। বাদামি রঙের চর্বি তাদের মগজ, হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের কাছে পাতলা প্রলেপের আকারে থাকে। শীত শেষে এই চর্বি শরীরের ওই অঙ্গগুলোতে দ্রুত উষ্ণতা ছড়িয়ে প্রাণীটিকে জেগে উঠতে সাহায্য করে। জেগে ওঠে কী করে তারা? সেই গল্প আরেকদিন। আজ শুধুই ঘুমের গল্প।

তো, শীতঘুমের সময় এসব প্রাণীর শরীরের তাপমাত্রা, শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃৎপিণ্ডের গতি অস্বাভাবিক রকম কমে যায়। উডচোবা নামে যুক্তরাষ্ট্রে কাঠবেড়ালির মতো এক ধরনের প্রাণী আছে, যারা মাটিতে গভীর গর্ত করে বাস করে। তাদের হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন মিনিটে ৮০ থেকে ৪-এ নেমে আসে। আর শরীরের তাপমাত্রা ৯৮ থেকে নেমে আসে ৩৮ ডিগ্রি ফারেনহাইটে।

তাপমাত্রা যদি এর চেয়ে বেশি নেমে আসে, তবেই তারা ঘুম থেকে জেগে ওঠে। আবার কিছু কিছু প্রাণী প্রতি সপ্তাহেই জেগে ওঠে প্রাকৃতিক কাজ সারে। খাবার পেলে কিছু খায়, না পেলেও মন খারাপ করে না। ফের খালি পেটেই ঘুমিয়ে পড়ে। শরীরে জমানো চর্বি তো আছেই!

তবে শীতে আশ্চর্য ঘুম দেয় ভালুক। তারা এক ঘুমে শীত পার করে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিজলি অথবা কালো ভালুকের হৃৎপিণ্ডের গতি প্রতি মিনিটে ৪০-৫০ থেকে ৪-১২ তে নেমে আসে।

তবে তাদের শরীরের তাপমাত্রা তেমন একটা কমে না। আশ্চর্যের বিষয় ঘুমে থাকায় পুরো শীতকাল ভালুক কিছুই খায় না। পানও করে না। এমনকি প্রাকৃতিক কাজ করার প্রয়োজনও হয় না তাদের! ভালুকের এই শীতঘুম ছয় মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।


এ ছাড়া বাদুড়, সাপ, ব্যাঙ, লাফানো ইঁদুর, ছোট বাদামি বাদুড়, চিপমাংক, মাটিতে বাস করা কাঠবেড়ালি এবং কানাডার পাহাড়ি অঞ্চলে বাস করা পাখি পুরো শীতকালটা ঘুমিয়ে কাটায়।

শেয়ার করুন