× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অনুসন্ধান
Women do not have a job in the forest department in the forest
google_news print-icon

বনবিদ্যায় পড়ে বন বিভাগে চাকরি নেই নারীদের!

বনবিদ্যায়-পড়ে-বন-বিভাগে-চাকরি-নেই-নারীদের
২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের কয়েকজন ছাত্রী। ছবি: সংগৃহীত
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এফএসটিআইয়ের এক শিক্ষক নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ফরেস্ট্রি কোর্সের প্রতিটি ব্যাচে আসনসংখ্যা ৫০। প্রতিবছরই ছাত্রীরা ভর্তি হন। তবে বন অধিদপ্তরের নিয়োগবিধির কারণে কোর্স শেষ করছেন না বেশির ভাগ। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাচে ছাত্রী রয়েছেন মাত্র ১২ জন।

চট্টগ্রামের ফরেস্ট্রি সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট (এফএসটিআই) থেকে চার বছরের ডিপ্লোমা ইন ফরেস্ট্রি কোর্স করেও বেকার বসে আছেন নারী শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, ফরেস্টার পদের নিয়োগবিধিতে থাকা উচ্চতা ও বুকের মাপের শর্তের কারণেই চাকরির আবেদন করতে পারছেন না তারা, যেখানে কোর্সে ভর্তির সময় শারীরিক যোগ্যতার কোনো শর্তই ছিল না।

এসব শিক্ষার্থী বলছেন, ২০১৯ সালে প্রকাশিত বন অধিদপ্তরের কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালায় নারীদের প্রসঙ্গই নেই। এতে শারীরিক যোগত্যার যেসব শর্ত দেয়া হয়েছে, তার সবই পুরুষ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অথচ নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি দেশের বনাঞ্চল রক্ষায় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্যই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে এখানে নারী শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে ফরেস্টার পদে নিয়োগের জন্য নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শারীরিক যোগ্যতা শিথিল করতে বাংলাদেশের প্রধান বন সংরক্ষক বরাবর ২০২০ সালের নভেম্বরে একবার লিখিত আবেদন জানান। তারপর আরও একবার একই আবেদন জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

তাদের এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা। তারা বলছেন, এফএসটিআইয়ের নারী শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে নিয়োগবিধি পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। বর্তমানে পুলিশের নারী কনস্টেবলদের যে শারীরিক যোগ্যতার কথা উল্লেখ আছে, সেভাবেই তাদের বিষয়ে উল্লেখ থাকবে। তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এতে নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

বন, পরিবেশ, বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য, বন ব্যবহার, সামাজিক বনায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম নগরীর পূর্ব নাছিরাবাদ এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় এফএসটিআই। এখানে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ফরেস্ট্রি কোর্সে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি করা হয় মেধাতালিকার ভিত্তিতে। এ ক্ষেত্রে শারীরিক উচ্চতা বা বুকের মাপ নিয়ে কোনো শর্ত নেই।

এফএসটিআইতে শিক্ষার্থীদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বন ও পরিবেশ-সম্পর্কিত জ্ঞানে পারদর্শী করা হয়। বনবিদ্যায় ডিপ্লোমাধারী এসব শিক্ষার্থীই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে ফরেস্টার হিসেবে যোগদান করতে পারেন। বাংলাদেশে বর্তমানে ১০ হাজার ডিপ্লোমা ইন ফরেস্ট্রি জ্ঞানলব্ধ মানবসম্পদের প্রয়োজন। সম্পূর্ণ আবাসিক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এবং বন অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এফএসটিআইতে ডিপ্লোমা ইন ফরেস্ট্রি কোর্সে ২১তম ব্যাচ পর্যন্ত শুধু ছাত্ররাই ছিলেন। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ছাত্রীরা এই কোর্স করতে পারছেন। প্রতিষ্ঠানের ২২তম ব্যাচের ওই শিক্ষার্থীদের মধ্যে আট ছাত্রী কোর্সটি সম্পন্ন করেছেন।

নিউজবাংলাকে এসব নারী শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানিয়েছেন, কোর্স শেষে চাকরির দরখাস্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, তাদের কোনো কথাই নেই নিয়োগবিধিতে। শারীরিক যে যোগ্যতার কথা বলা হয়েছে, তা আসলে পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যে কারণে শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেও ফরেস্টার পদে চাকরির আবেদনই করতে পারছেন না তারা। ভবিষ্যৎ নিয়ে আছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এফএসটিআইয়ের এক শিক্ষক নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন, চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন ফরেস্ট্রি কোর্সের প্রতিটি ব্যাচে আসনসংখ্যা ৫০। প্রতিবছরই ছাত্রীরা ভর্তি হন। তবে বন অধিদপ্তরের নিয়োগবিধির কারণে কোর্স শেষ করছেন না বেশির ভাগ। বর্তমানে বিভিন্ন ব্যাচে ছাত্রী রয়েছেন মাত্র ১২ জন।

তিনি বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানে নারী শিক্ষার্থী ভর্তি শুরুর পর থেকেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বন অধিদপ্তরের নিয়োগবিধি পরিবর্তনের কথা বলে আসছি। কিন্তু তারা আমলে নেয়নি। তবে সম্প্রতি জানতে পেরেছি, মেয়েদের কথা চিন্তা করে নিয়োগবিধি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

‘কিন্তু সেখানেও পুলিশের নারী কনস্টেবলের শারীরিক যোগ্যতার মতো শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। এটা সত্য হলে পাস করে যাওয়া একটি মেয়েও চাকরি পাবেন না। তাই পুলিশের নারী কনস্টেবলের সঙ্গে নারী ফরেস্টারদের শারীরিক যোগ্যতার মাপকাঠি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

এফএসটিআইয়ের এসব নারী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা নিউজবাংলাকে অভিযোগ করে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে নারী শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিয়ে ফরেস্টার পদে তাদের নিয়োগ সহজ করার আশা দিয়েছে। তবে তারা ডিপ্লোমা শেষ করার পর যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়, তাতে নারীদের বিষয় উল্লেখই করা হয়নি।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিয়োগ বিধিমালায় ফরেস্টার পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু পুরুষ প্রার্থীদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ও শারীরিক যোগ্যতা (উচ্চতা ১৬৩ সেন্টিমিটার ও বুকের মাপ ৭৬ সেন্টিমিটার) নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চতা ও বুকের মাপের এ শর্তের কারণে আদিবাসী নারীসহ কোনো নারীই আবেদন করতে পারবেন না।

কোর্স সম্পন্ন করা এক নারী শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা চার বছর ধরে বনবিদ্যায় ডিপ্লোমা করেছি কি পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগের মতো শর্তে চাকরি করার জন্য? আমি যখন ভর্তি হয়, তখন তো শারীরিক যোগত্যার কোনো কথা বলা হয়নি।

‘কোর্স শেষে এখন দেখছি চাকরির জন্য পুলিশের মতো শারীরিক গঠন লাগবে। কৃষি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরেও ডিপ্লোমাধারী নারীরা মেধার ভিত্তিতে চাকরি করছেন। তাদের ক্ষেত্রে তো পুলিশের মতো শারীরিক যোগ্যতা লাগছে না। আমাদের ক্ষেত্রে কেন লাগবে?’

তিনি বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে বাবা-মা আমাকে এখানে পড়িয়েছে। সবাই জানে আমি ফরেস্টার হব। কিন্তু পড়ালেখা শেষে দেখছি মেয়েদের ফরেস্টার হওয়ার কোনো সুযোগই নেই। এখন মনে হচ্ছে, পুরোটা সময়ই নষ্ট হয়েছে। এ নিয়ে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছি।’

এফএসটিআইয়ের এসব নারী শিক্ষার্থী যে শারীরিক যোগ্যতার ঘাটতির কারণে ফরেস্টার পদে চাকরির আবেদন করতে পারছেন না, তা নিউজবাংলার কাছে স্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মোহাম্মদ আলীও।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দেশের একমাত্র বনবিদ্যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে নারী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। এই শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া অনেক ছাত্রী তাদের ডিপ্লোমা শেষ করেননি। যারা ছিলেন সবার রেজাল্টই ভালো।

‘যে মেয়েটি সবচেয়ে ভালো করেছেন, তার শারীরিক উচ্চতা সবচেয়ে কম। বাকি ছাত্রীদের উচ্চতাও নিয়োগবিধির উচ্চতার চেয়ে কম। এ কারণে তারা কেউই চাকরির আবেদন করতে পারছেন না।’

ফরেস্টার পদে চাকরিতে নারীদের শারীরিক যোগ্যতা কেন গুরুত্বপূর্ণ- এমন প্রশ্নে এফএসটিআইয়ের পরিচালক বলেন, ‘আগে তো এ বিষয়ে মেয়েদের অধ্যয়নের সুযোগই ছিল না। তাই পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়োগবিধি করা হয়। বিষয়টি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশের নারী কনস্টেবলদের ক্ষেত্রে যেসব শর্ত আছে, এখানকার নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও তাই করার প্রক্রিয়া চলছে।’

চাকরির নিয়োগবিধিতে শারীরিক যোগ্যতা উল্লেখ করা হলে ভর্তির সময় কেন শারীরিক যোগ্যতার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি- জানতে চাইলে কোনো উত্তর দেননি তিনি।

এ প্রসঙ্গে জানতে বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।

বন অধিদপ্তরের উপপ্রধান বন সংরক্ষক ড. মো. জগলুল হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘নারীদের কথা চিন্তা করে নিয়োগবিধি পরিবর্তনের প্রস্তাব নিয়ে কাজ চলছে। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। আগের নিয়োগবিধিতে নারীদের বিষয়টি উল্লেখ না থাকলেও বর্তমানে নারী কনস্টেবলদের যে শারীরিক যোগ্যতার কথা উল্লেখ আছে, সেভাবেই তাদের বিষয়ে উল্লেখ থাকবে।’

প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে এমন কোনো শারীরিক যোগ্যতার কথা বলা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করছে সরকার। তাই বলে কারও চাকরি তো নিশ্চিত করতে পারব না। ফরেস্ট্রিতে ডিপ্লোমা করে বন বিভাগেই চাকরি করতে হবে, এ কথা তো কাউকে বলা হয়নি।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালক (কারিকুলাম) প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমরা শুধু কারিকুলাম দেখি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি বিভাগের সিলেবাস ফলো করা হয় এফএসটিআইতে। এখান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের বন বিভাগে চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। সে ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে সেটা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের দেখার কথা।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হেলাল উদ্দিনের অফিসের নম্বরে ফোন করলে তার ব্যক্তিগত সহকারী সাজ্জাদ হোসেন রিসিভ করেন। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘স্যার জুম মিটিংয়ে আছেন। আধা ঘণ্টা পর ফোন দেন।’

এর আধা ঘণ্টা পর একই নম্বরে ফোন করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি জানিয়ে হেলাল উদ্দিনের হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি নিয়ে নিউজবাংলা কথা বলেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিচালক (প্রোগ্রাম) নীনা গোস্বামীর সঙ্গে। সংস্থাটি মানবাধিকার রক্ষা, লিঙ্গসমতা, সামাজিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আইনগত সহায়তা দিয়ে থাকে।

নিউজবাংলাকে নীনা গোস্বামী বলেন, ‘নারীরা এই প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে যাতে কাঙ্ক্ষিত চাকরি পান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সে বিষয়টি মাথায় রেখে নিয়োগবিধি প্রণয়ন করা উচিত। যাতে নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন বাধাগ্রস্ত না হয়।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অনুসন্ধান
At the beginning of the monsoon dengue infection is increasing and death is increasing

বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গু সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী, বাড়ছে মৃত্যু

বর্ষার শুরুতেই ডেঙ্গু সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী, বাড়ছে মৃত্যু ফাইল ছবি

দেশে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু ঊর্ধ্বমুখী। রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মাসে মৃত্যুসংখ্যা দাঁড়াল ৮ জনে। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহেই মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের। এর আগে গত মে মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল একজনের। আর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসে মারা গেছেন ১৩ জন। এ ছাড়া নতুন করে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ১৯৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫ হাজার ৫১৫ জনে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় (২৪ জুন সকাল আটটা থেকে ২৫ জুন সকাল আটটা) নতুন করে আক্রান্ত ১৯৮ জনের মধ্যে ১২৬ জন পুরুষ এবং ৭২ জন নারী। এর মধ্যে সর্বোচ্চসংখ্যক রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায়, যার সংখ্যা ৩১ জন। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ২৬ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৮ জন এবং বরিশাল বিভাগে ৩১ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে যে একজনের মৃত্যু হয়েছে তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা এবং ৩১ থেকে ৩৫ বছর বয়সি একজন পুরুষ ছিলেন।

চলতি বছরের এক জানুয়ারি থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোতে সর্বমোট পাঁচ হাজার ৫১৫ জন ডেঙ্গুরোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ রোগীর সংখ্যা তিন হাজার ৪২৯ জন (৬২.২ শতাংশ) এবং নারী রোগী দুই হাজার ৮৫ জন (৩৭.৮ শতাংশ)।

বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক হাজার ৪৮৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন বরিশাল বিভাগে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এক হাজার ৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগে। এ ছাড়া ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মিলে মোট এক হাজার ৩৮৮ জন (ডিএনসিসি ৪৬৮ জন ও ডিএসসিসি ৭৭৭ জন) এবং ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৬৯৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছরে এ পর্যন্ত মৃত ১৩ জনের মধ্যে আটজন পুরুষ এবং পাঁচজন নারী। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বরিশাল বিভাগে; উভয় অঞ্চলেই তিনজন করে মোট ছয়জন মারা গেছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও খুলনায় দুইজন করে এবং ঢাকা (সিটি করপোরেশনের বাইরে), ডিএনসিসি ও ময়মনসিংহে একজন করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ইকবাল বলছেন, ‘বর্ষা মৌসুমে মশার প্রজনন বেশি থাকে। পাশাপাশি বর্ষাকাল প্রলম্বিত হলে বেড়ে যায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি। এ বছর বৃষ্টি বেশি হচ্ছে, ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বেশি থাকবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি, সামাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এর ব্যত্যয় হলে বাড়বে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।’

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নবজাতক বিভাগের অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার দে বলেছেন, ‘রোগের ধরন পাল্টাচ্ছে। নানা রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। আগে জ্বর এলে তিন থেকে সাত দিন পর্যন্ত সাধারণ জ্বরের চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ ছিল। এখন এই অবস্থা নেই। অনেক রোগীকে লক্ষণ দেখে প্রথম দিনেই ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে দিতে হয়। এখনকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।’

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে সরকার অনুমোদিত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। কোনোভাবেই নিজে নিজে বা দালালদের মাধ্যমে নিবন্ধনহীন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না।’

তবে আতঙ্কিত না হয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কাজ করার কথা জানালেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি বলেছেন, ‘প্রথমত, মশা পরিষ্কার পানিতে ডিম পাড়ে। প্রত্যেকের বাসায় যত ধরনের পানির পাত্র আছে, তা পরিষ্কার রাখতে হবে। ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করতে হবে অথবা অন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকারকে মশা ও লার্ভা ধ্বংস করতে কার্যকর রাসায়নিক নিয়মিতভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। তৃতীয়ত, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে সরকার অনুমোদিত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হবে। কোনোভাবেই নিজে নিজে বা দালালদের মাধ্যমে নিবন্ধনহীন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না।’

মন্তব্য

অনুসন্ধান
21 thousand 988 illegal river occupiers identified in the country Shipping Minister in Parliament

দেশে ২১ হাজার ৯৮৮ জন অবৈধ নদী দখলকারী চিহ্নিত: সংসদে নৌপরিবহনমন্ত্রী

দেশে ২১ হাজার ৯৮৮ জন অবৈধ নদী দখলকারী চিহ্নিত: সংসদে নৌপরিবহনমন্ত্রী নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে মোট ১ হাজার ৪১৫টি নদী রয়েছে এবং সারা দেশে ২১ হাজার ৯৮৮ জন অবৈধ নদী দখলকারী চিহ্নিত হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ময়মনসিংহ-৬ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কামরুল হাসানের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তার প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

তিনি বলেন, ‘নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং নদীকর্মীদের সহায়তায় প্রণীত তালিকা অনুযায়ী দেশে ১ হাজার ৪১৫টি নদী রয়েছে।’

তিনি জানান, নদীর এই তালিকা ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সক্ষমতা বাড়াতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন আইন, ২০১৩ সংশোধনের কাজ চলছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নদী দখল ও দূষণকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা, পৃথক নদী আদালত গঠন, দখলসংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত, দূষণের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও আদায় এবং সংশ্লিষ্ট মামলার তদারকির বিধান রাখা হয়েছে।

মুন্সিগঞ্জ–১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী ২০২৫ সালের ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ২১ হাজার ৯৮৮ জন অবৈধ নদী দখলকারী চিহ্নিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের তালিকা যাচাই করে উচ্ছেদ পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। পরিকল্পনা পাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

জামালপুর-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘নাব্যতা সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোতে নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে দেশের নাব্য নৌপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ হাজার ২০০ কিলোমিটার, যা বর্ষা মৌসুমে বেড়ে প্রায় ৮ হাজার কিলোমিটারে পৌঁছে।’

মন্তব্য

অনুসন্ধান
Organized workshop on social boycott of corrupt people in Madaripur

মাদারীপুরে দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কটে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মাদারীপুরে দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কটে কর্মশালা অনুষ্ঠিত ছবি: সংগৃহীত

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশল (টিআইবি) ও সচেতন নাগরিক কমটি (সনাক)-এর উদ্যোগে মাদারীপুরে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে লিগ্যাল এইড অ্যাসোসিয়েন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কট ও প্রতিরোধে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে ‘টেকসই উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবী তরুণ সংগঠকদের করণীয় শীর্ষক’ কর্মশালায় দর্নীতি প্রতিরোধ, সুশাসন নিশ্চিতকল্পে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকারের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় মাদারীপুরে কর্মরত ২০টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অর্ধশত তরুণ সংগঠকরা উক্ত কর্মশালায় অংশ নেন।

টিআইবির ‘সিভিক এনগেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট’-এর কো-অর্ডিনেটর মো. আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় এ সময় দুর্নীতি প্রতিরোধ, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও এর উপাদান, সুশাসনের ঘাটতি ও এর প্রভাব, টেকসই উন্নয়ন, শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান, তথ্য অধিকার আইন প্রয়োগ কৌশলসহ অন্যান্য জনসম্পৃক্ত বিষয়ে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, ‘দর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হলে সর্বক্ষেত্রে সুশাসনের চর্চা করা, আলোকিত মানুষ হিসেবে তরুণ-যুবকসহ সবাইকে গড়ে তোলা, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সবার ঐক্যবদ্ধ অংশ গ্রহণ করার কোনো বিকল্প নেই।’

এ সময় অন্যান্যর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সনাক) এর জেলা শাখার সভাপতি এনায়েত নান্নু, সহসভাপতি প্রফেসর (অব.) মো. মকবুল হোসেন, টিআইবির ঢাকা ক্লাষ্টারের কো-অর্ডিনের মাহান-উল-হক, ইয়েস গ্রুপের আহ্বায়ক সাংবাদিক আঞ্জুমান আরা জুলিয়া, দলনেতা মো. ইব্রাহিবসহ সামাজিক সংগঠনের উদ্যোক্তা, এনজিও ব্যক্তিরা ও তরুণ সামাজিক সংগঠনের সংগঠকরা। সভায় সমাপনী বক্তব্য রাখেন, টিআইবি মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি খান মো. শহীদ।

মন্তব্য

অনুসন্ধান
Govt stands by helpless backward people Kazi Shahidul Islam

পিছিয়ে পড়া অসহায় জনগোষ্ঠীর পাশে রয়েছে সরকার: কাজী শহিদুল ইসলাম

পিছিয়ে পড়া অসহায় জনগোষ্ঠীর পাশে রয়েছে সরকার: কাজী শহিদুল ইসলাম ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর পবা উপজেলায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ভিক্ষুক পুনর্বাসন, দুস্থ পরিবার ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন। সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ চত্বর ও অনুষ্ঠানস্থলে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে সুবিধাভোগীরা আসতে থাকেন। কেউ এসেছিলেন চলাচলের সহায়তা হিসেবে হুইল চেয়ার নিতে, কেউ ঘর মেরামতের জন্য টিন ও নগদ অর্থের আশায়, আবার কেউ এসেছিলেন ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে নতুন জীবিকার স্বপ্ন নিয়ে। সহায়তা হাতে পেয়ে অনেকের চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু, মুখে ছিল স্বস্তির হাসি।

অনুষ্ঠানে পবা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ৮ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইল চেয়ার দেওয়া হয়। ভিক্ষুক পুনর্বাসন সহায়তার আওতায় ২৫ জনকে পুনর্বাসনের জন্য সহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৪২ জন দুস্থ ব্যক্তি ও ১০ জন দরিদ্র শিক্ষার্থীর মধ্যে মোট ৭৮ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ১০ জন সুবিধাভোগীকে দুই বান্ডিল করে ঢেউটিন ও নগদ ছয় হাজার করে টাকা দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার সবসময় অসহায়, দুস্থ, প্রতিবন্ধী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে রয়েছে। মানবিক সহায়তার মূল উদ্দেশ্য শুধু অনুদান দেওয়া নয়, বরং সুবিধাভোগীদের আত্মনির্ভরশীল করে সম্মানজনক জীবনের পথে এগিয়ে নেওয়া। যারা আজ হুইল চেয়ার, টিন, নগদ অর্থ ও পুনর্বাসন সহায়তা পেয়েছেন, তারা যেন এসব সহায়তা সঠিকভাবে কাজে লাগান।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, ‘পবা উপজেলার অসহায়, দুস্থ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। আজকের এই সহায়তা শুধু সাময়িক অনুদান নয়, বরং সুবিধাভোগীদের স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি মানবিক উদ্যোগ।

সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায় এবং তারা যেন তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন নজর রাখবে।’

মন্তব্য

অনুসন্ধান
Two workers were burned in the explosion of the boiler of the tire burning factory in Rajbari

রাজবাড়ীতে টায়ার পুড়ানো কারখানার বয়লার বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ

রাজবাড়ীতে টায়ার পুড়ানো কারখানার বয়লার বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ ছবি: সংগৃহীত

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বনাথ পাড়া এলাকায় অবস্থিত টায়ার কারখানার বয়লার বিস্ফোরণে দুইজন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহত শ্রমিক দুজন হলেন, মৌলভীবাজার জেলার জুরি থানার বিনন্দাপুর গ্রামের ছুনু মন্ডর ছেলে শাওন মুন্ডা (১৬) ও গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার মোল্লাপাড়া এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে মো. সোহেল রানা (২৪)।

জানা যায়, প্রতিদিনের মতো কারখানার শ্রমিকরা বয়লারের মধ্যে টায়ার পুড়ানোর কাজ করার সময় হঠাৎ কারখানার বয়লার বিস্ফোরিত হয়ে দুজন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়। পরে তাদের দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

একজন শ্রমিক বলেন, ‘আমি বয়লারে টায়ার লোড দেওয়ার কাজ করি। সকালে বয়লারে টায়ার লোড দিয়ে পাশেই অন্য কাজ করেছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ শোনতে পাই। কাছে এসে দেখি শাওন ও সোহেল দগ্ধ অবস্থায় পরে আছে। তারপর সবাই মিলে ধরাধরি করে ওদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ভালো চিকিৎসার জন্য ঢাকা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।’

কারখানার দায়িত্বে থাকা আ. রাজ্জাক বলেন, ‘আহত দুইজনকে আমরা ঢাকায় বার্ন ইউনিটে ভর্তি করিয়েছি, তারা এখন ভালো আছেন।’

এ বিষয়ে রাজবাড়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালককে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পরে রাজবাড়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. ইমরান হোসেন মুঠোফোনে জানান, যে কারখানাটি গড়ে উঠেছে সেই কারখানার ছাড়পত্র রয়েছে। ফরিদপুর অফিস থেকে তারা কারখানাটির কাগজপত্র করিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, ‘শুনেছি কারখানাটি পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন নিয়ে গড়ে উঠেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে অবৈধভাবে তারা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছে এ জন্য তাদের বেশ কয়েকবার অনুমোদনের কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত করেনি। আজকের বিস্ফোরণের ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তর কর্মকর্তাকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হয়েছে। কিন্তু তিনিও আমার ফোন রিসিভ করেননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদারকি করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

মন্তব্য

অনুসন্ধান
People of 20 villages are in fear of continuous erosion of Kangsa river in Netrakona

নেত্রকোনায় কংস নদীর অব্যাহত ভাঙন আতঙ্কে ২০ গ্রামের মানুষ

নেত্রকোনায় কংস নদীর অব্যাহত ভাঙন আতঙ্কে ২০ গ্রামের মানুষ ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার সদর উপজেলার কালিয়ারা-গাবরাগাতী ইউনিয়ন ও বারহাট্টা উপজেলার বাউশি ইউনিয়নসংলগ্ন কংস নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী জনপদে উদ্বেগ বাড়ছে। বছরের পর বছর ধরে চলা ভাঙনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে কয়েক শতাধিক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও বনাঞ্চল। এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে মুক্তিরবাজার, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ-মন্দির এবং কয়েকটি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়ক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে বাহিরকান্দা, নেওবদ, হরিদাসপুর, কাকিয়াকুড়ি, মহিষাশুড়া, চকারকান্দা, সেহড়াউদ ও কর্নখলাসহ অন্তত ২০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে ভাঙন আরও তীব্র হয়। ফলে নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলা সদরের সাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুক্তিরবাজার, স্থানীয় মসজিদ ও মন্দির, ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন এলাকা এবং বিভিন্ন গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান সড়ক। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এসব স্থাপনা ও যোগাযোগব্যবস্থা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

মুক্তিরবাজার এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক দশক ধরে সড়কটির উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। একসময় এটি কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াত পথ ছিল। কিন্তু নদী ভাঙনের কারণে সড়কের একাংশ ধসে পড়ছে। বর্তমানে ভ্যান, রিকশা ও অটোরিকশা চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির সময় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পাহাড়ি ঢল নামলেই নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নদীর তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণিপাকের কারণে প্রতিনিয়ত মাটি ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় পাঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন রোধ ও সড়ক রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

বাউসী এলাকার বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘নদী ভাঙনে বাউসী বাজার থেকে মৌয়াটি সড়কটি ভেঙে গেছে। স্থানীয়দের ঘরবাড়ি ভাঙতে শুরু করেছে। গাছপালা নদীতে চলে যাচ্ছে। পশ্চিত মৌয়াটি, সালিপুরাসহ অন্তত চারটি গ্রামের ২০ হাজার মানুষ চলাচলের পাকা সড়কটি গত শনিবার কংস নদের ভাঙনে ক্ষতি হয়েছে। এখন চলাচল প্রায় বন্ধ আছে। জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাটি রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কংস নদীর ভাঙনে মুক্তিরবাজার ও বাউসী বাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সড়কটি রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিরক্ষামূলক কাজ শেষ হলে ওই এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে এবং সড়কটি সুরক্ষিত থাকবে। ভবিষ্যতে স্থায়ী সমাধানের বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে।’

নেত্রকোনা-২ আসনের (সদর-বারহাট্টা) সংসদ সদস্য বাউসি এলাকার নদী ভাঙনের কবলে থাকা সড়কটি পরিদর্শন করে জানান, সদর উপজেলার মুক্তিরবাজার ও বাউসী বাজার এলাকার পশ্চিম মৌয়াটি গ্রামের সড়ক দুটি নদী ভাঙনে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙনের মুখে পড়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জরুরি পদক্ষেপ নিতে। আপাতত জিও ব্যাগ ফেলে সড়কসহ ঘরবাড়ি রক্ষা করতে বলা হয়েছে। পরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কাজ শুরু না হলে ভাঙনের মুখে পড়বে মুক্তিরবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা। পাশাপাশি আরও বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য

অনুসন্ধান
The body of an unidentified person was recovered from a residential hotel in Bangshal of the capital

রাজধানীর বংশালে আবাসিক হোটেল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর বংশালে আবাসিক হোটেল থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর বংশালের একটি আবাসিক হোটেল থেকে মো. শামীম হাসনাত (৪৬) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে বংশালের সিদ্দিক বাজারের ‘ঢাকা প্যালেস’ নামের আবাসিক হোটেলের চতুর্থ তলার ১২১ নম্বর রুম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। শামীম হাসনাত কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার শশেয়দিঘী গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মাহফুজুল হক বলেন, ‘ গত বুধবার রাত থেকেই শামীমের রুমটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল বলে আমাদের জানিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে হোটেলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সাহিদা বেগম রুমটি পরিষ্কার করতে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিলে তা খুলে যায়। তিনি শামীমকে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।’

বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা পুলিশে খবর দেন। পরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের পর ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন ওসি।

মন্তব্য

p
উপরে