পদ্মা বহুমুখী সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্ত থেকে গত ১৭ মাসে ১১ ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। অনুপ্রবেশের অভিযোগে করা মামলায় তারা এখন কারাবন্দি।
আচরণ ও বেশভূষা সন্দেহজনক হওয়ায় তাদের আটক করা হয়। একের পর এক এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেতুর বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে; বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।
গত কয়েক দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন নিউজবাংলাকে বলেছে, এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই।
শরীয়তপুরের জাজিরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ২৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যরা প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় সন্দেহজনক আচরণ দেখে গত ১৭ মাসে ১১ ভারতীয়কে আটক করেন সেনা সদস্যরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের জাজিরা থানায় হস্তান্তর করা হয়। এই ১১ জনের মধ্যে চলতি বছরই আটক করা হয় ছয়জনকে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, প্রাথমিকভাবে তাদের বেশভূষায় পাগল মনে হলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেশির ভাগকেই পাগল মনে হয়নি। কারণ তাদের বেশির ভাগই নিজের দেশ, বাড়ি, জেলা ও গ্রামের নাম পর্যন্ত বলতে পারছেন। শুধু তা-ই নয়, তারা তাদের পরিবারের সদস্যদের নামও বলেছেন। তবে এই ১১ জনের মধ্যে চারজনের কাছ থেকে কোনোভাবেই কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি। এ কারণে এই চারজনকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবেই আদালতে পাঠানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আরও জানান, এই ১১ জনের অনেকেই হিন্দি ভাষায় কথা বলেন। কয়েকজন হিন্দির মতো কথা বলেন। সেটা তাদের আঞ্চলিক ভাষাও হতে পারে।
কারা কর্মকর্তারা বলছেন, ১১ ভারতীয় নাগরিককে সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গেই রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে প্রাথমিকভাবে মানসিক ভারসম্যহীন মনে হওয়ায় তাদের পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাদের কারাগারে ফেরত পাঠিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা এখন ভালো আছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, পার্শ্ববর্তী একটি দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা এসব সন্দেহভাজনের বেশভূষা, কথাবার্তা, আচার-আচরণে পাগলামির ভাব থাকলেও তাদের সবাইকে পাগল মনে হয়নি। কারণ তাদের ছেঁড়া পোশাক, উসকোখুশকো চুল থাকলেও হাত ও পায়ের নখ পরিপাটি। ভারতের যেসব রাজ্য থেকে তারা আসার কথা বলেছেন, সেগুলোর কোনো কোনোটির দূরত্ব হাজার মাইলেরও বেশি। এত দূর থেকে তারা কেন বাংলাদেশের শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতু এলাকায় এসেছেন, তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রথম সন্দেহভাজন এক ভারতীয়কে আটক করা হয়। তার কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। ব্যক্তিগত কোনো তথ্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তিনি দেননি। সর্বশেষ গত ২৫ জুন যে ভারতীয়কে আটক করা হয়, তিনি নিজেকে রুপসা রায় দিপক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে পরিচয় যা জানা গেছে
আটক ১১ ভারতীয়র মধ্যে সাতজন তাদের নাম-ঠিকানা বলেছেন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। তাদের সেই নাম উল্লেখ করেই মামলা হয়েছে। বাকি চারজনকে অজ্ঞাতপরিচয় দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
রুপসা রায় দিপক: ২০২১ সালের ২৫ জুন জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় আটক হন তিনি। ভারতের গুজরাটের উম্বারিয়া জেলার জাগারিয়া থানার বিল্লা গ্রামের এই বাসিন্দার বাবার নাম খোরা রায়।
বিজলী কুমার রায়: তিনি আটক হন ২০২১ সালের ২৩ জুন জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের মাঝিরকান্দি এলাকা থেকে। ভারতের বিহারের এই বাসিন্দার বাবার নাম টুনা রায়।
বলদেভ হামরান: তাকে আটক করা হয় ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের নাওডোবা টোল প্লাজা এলাকা থেকে। তিনি ওড়িশার বাসিন্দা। তার বাবার নাম ডুবিলাল।
বীরু মণ্ডল: ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের নাওডোবায় বাংলা হাউসের প্রবেশপথ থেকে আটক হন তিনি। ভারতের ডান্ডিপুর এলাকার এই বাসিন্দার বাবার নাম বাগবান মণ্ডল।
সোনু সিং: তাকে আটক করা হয় ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের নাওডোবা এলাকা থেকে। বিহারের মালান্দা জেলার হারনাউদ থানার এই বাসিন্দার বাবার নাম বীর সিং তারাদেবী।
প্রমুথ কুমার মেরা: ২০২১ সালের ৪ মার্চ জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় আটক হন তিনি। মধ্যপ্রদেশের হোসনেয়াবাদ জেলার এই বাসিন্দার বাবার নাম লক্ষ্মণ সেন।
আরওয়ারী মদিমা চন্দনলতা: ২০২০ সালের ২৬ মে জাজিরার হাওলাদার মার্কেট থেকে আটক করা হয় দুই ভারতীয়কে। তাদের একজন আরওয়ারী মদিমা চন্দনলতা। তিনি ভারতের হরিপুরের আকিউরগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা।

অজ্ঞাতপরিচয় চারজন: ২০২০ সালে ২৬ মে জাজিরার হাওলাদার মার্কেট থেকে আরওয়ারী মদিমা চন্দনলতার সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় যে ভারতীয়কে আটক করা হয়, তার পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
এর আগে একই মার্কেট থেকে ২০২০ সালের ৫ মার্চ আটক করা হয় আরেকজনকে, যার পরিচয়ও জানা যায়নি।
২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের টোল প্লাজা এলাকা থেকে একজনকে আটক করা হয়, যার পরিচয়ও জানা যায়নি।
২০১৯ সালে ১৪ ডিসেম্বর জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকা থেকে একজনকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি নাম-পরিচয় দেননি।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ১১ জনকেই বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীর টহল দল পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড এলাকা থেকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। আমরা তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ১৯৫২ সালের কন্ট্রোল অফ এন্ট্রি অ্যাক্টের ৪ ধরায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা করে আদালতে পাঠাই। তাদের সবাইকে আদালতের মাধ্যমে শরীয়তপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এদের কয়েকজন তাদের নাম প্রকাশ করেনি। তাই আমরা তাদের অজ্ঞাতনামা করেই আদালতে পাঠিয়েছি। এদের জন্য ভারতীয় হাইকমিশন থেকে এখনও কেউ আমাদের কাছে আসেনি। এমনকি তাদের পরিবারের কোনো সদস্যও আসেনি।
‘কাগজপত্র ছাড়াই যেহেতু তারা বাংলাদেশে এসেছে, তাই তাদের ছয় মাস কারাগারেই থাকতে হবে। তারপর দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হলে একরকম, আর না হলে তাদের কারাগারেই থাকতে হবে।’
ভাষা বোঝা যায় না
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনদীপ ঘরাই বলেন, ভারতীয় বন্দিদের মধ্যে নতুন আসা দুজনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সোমবার তাদের করোনা টেস্ট করা হয়েছে। এই দুইজন বাদে বাকি সবাই সাধারণ বন্দিদের সঙ্গেই থাকে। বন্দিদের মধ্যে একজন নারী।
তিনি বলেন, ‘চারজনকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে তাদের কারাগারেই রাখা হয়েছে। কারাবন্দি ভারতীয় মহিলা চিল্লাপাল্লা করে। তার ভাষাও আমরা বুঝি না। কারাবন্দি সবাই স্থানীয় ভাষায় কথা বলে। তারা আমাদের কথাও বোঝে না।’
নিউজবাংলার এক প্রশ্নের জবাবে মনদীপ ঘরাই বলেন, ‘আমরা নিজেরা বলতে পারি না তারা পাগল। তবে চারজনকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তারা পাঠিয়ে দিয়েছে। আনার পর তারা এখন ভালো আছে।’
জাজিরা প্রান্তে নিরাপত্তা জোরদার
জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় একের পর এক সন্দেহভাজন ভারতীয় নাগরিক আটক হওয়ার প্রেক্ষাপটে সেখানকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
সোমবার নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর জাজিরা এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ১১ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। ওই এলাকায় পুলিশের টহলও বাড়ানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সন্দেহভাজন হিসেবে যেসব ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের বেশির ভাগকে অপ্রকৃতস্থ মনে হয়েছে। তাদের কেউ হিন্দি ভাষায় কথা বলেন, কেউ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা বলেন। এসব অনুপ্রবেশকারীর বিরুদ্ধে আলাদা মামলা হয়েছে। সেসব মামলা ধরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত করছে। আশা করছি, শিগগিরই এদের আসল পরিচয়, উদ্দেশ্য বের করা সম্ভব হবে।’
কোনো বক্তব্য নেই ভারতীয় হাইকমিশনের
নিউজবাংলার পক্ষ থেকে ১১ ভারতীয় নাগরিকের আটক হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা দেবব্রত দাশের কাছে বক্তব্য চাওয়া হয় সোমবার।
জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’
ছবি: সংগৃহীত
ডিজিটাল যুগের আধুনিক অপরাধ যেমন অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক লেনদেন রুখতে ১৫৯ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। মঙ্গলবার স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করলে তা সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়। মূলত ১৮৬৭ সালের সেকেলে আইনটি বর্তমান সময়ের জটিল প্রযুক্তিগত অপরাধ মোকাবিলায় যথেষ্ট ছিল না বলেই এই আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে।
বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, দেড় শতাধিক বছরের পুরোনো ‘The Public Gambling Act, 1867’ বর্তমান ডিজিটাল বাস্তবতায় অকার্যকর ও অপর্যাপ্ত হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে যে জুয়া ও অর্থপাচার হচ্ছে, তা তরুণ সমাজ এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর সাজার বিধান রেখে নতুন আইনটি প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছিল।
নতুন আইনে আধুনিক জুয়ার বিভিন্ন ধরণ যেমন অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ক্যাসিনো বেটিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহারকে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এ ছাড়া জুয়ার উদ্দেশ্যে ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করা, বিদেশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের প্রতিনিধি বা এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ পরিচালনা করাকে এখন থেকে গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এমনকি জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচার কিংবা এ জাতীয় কোনো স্পনসরশিপ গ্রহণের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
পাস হওয়া এই আইনে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে, যা প্রয়োজনে উভয় দণ্ডেও রূপান্তরিত হতে পারে। আইনের অধীনে সংঘটিত সকল অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ এবং ‘অজামিনযোগ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এসব অপরাধের বিচারিক কার্যক্রম সাইবার ট্রাইব্যুনাল কিংবা বিশেষ ক্ষেত্রে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এই কঠোর আইনি ব্যবস্থার ফলে দেশ থেকে ডিজিটাল জুয়ার সিন্ডিকেট নির্মূল করা সহজ হবে বলে সরকার প্রত্যাশা করছে।
ছবি: সংগৃহীত
একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে তাদের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সরকারি দলের সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে সংসদকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন তিনি। সংসদে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে তিনি বলেন, সরকার একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী আরও জানান যে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সকল কারিগরি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কমিশন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল করিমের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কোনো সক্রিয় পরিকল্পনা সরকারের নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক মহলে যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, মন্ত্রীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তার একটি আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া গেল। আজ সকালের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশালাকার বাজেট পাস করা হয়েছে। নতুন এই বাজেট বুধবার (১ জুলাই) থেকে সারা দেশে কার্যকর হতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে এই বাজেট অনুমোদিত হয়। এবারের বাজেটে সাধারণ মানুষের করের বোঝা কমানোসহ বিনিয়োগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ রদবদল আনা হয়েছে।
এর আগে সোমবার (২৯ জুন) প্রয়োজনীয় কয়েকটি সংশোধনীর মাধ্যমে অর্থবিল পাস করে জাতীয় সংসদ। সংশোধিত এই বিলে সাধারণ নাগরিকদের স্বস্তি দিতে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিষয় আবাসন খাতে বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগটি এবার সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
শিক্ষাক্ষেত্রে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিকেল কলেজের ওপর আরোপিত করপোরেট কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর নতুন করে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থবিল পাসের মাধ্যমেই কর ও শুল্ক সংক্রান্ত এসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন চূড়ান্ত করা হলো।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট পাসের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সোমবার সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। বুধবার থেকে নতুন এই অর্থবছরের সকল কার্যক্রম ও আর্থিক পরিকল্পনা কার্যকর হবে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের সুদৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে জনস্বার্থ ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেই এই প্রকল্প সম্পন্ন করবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জনগণ এবং নিজস্ব স্বার্থ অনুযায়ী তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এতে অন্য কোনো দেশের ‘কনসার্ন’ থাকার সুযোগ নেই।’
তথ্য উপদেষ্টা উত্তরবঙ্গের মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর তিস্তা নদীর প্রভাব তুলে ধরে বলেন, বর্ষাকালে নদীভাঙন এবং গ্রীষ্মে পানির তীব্র সংকট এই অঞ্চলের মানুষের জন্য এক মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে। এই সংকট নিরসনে তিস্তা মহাপরিকল্পনার আওতায় নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের কাজে চীনের বিশেষ দক্ষতা ও পর্যাপ্ত তহবিল রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই কাজ শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রকল্পটি নিয়ে উদ্ভূত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ সার্বভৌম দেশ হিসেবে জণগণ ও তার নিজস্ব স্বার্থে পদক্ষেপ নেবে। এই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব প্রকাশের অধিকার রাষ্ট্রের রয়েছে। আমাদের এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপে অন্য কোনো দেশের কনসার্ন হওয়ার কারণ দেখি না। ভারত বা অন্য যেকোনো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই এনগেজ করবে। যদি কারো কোনো সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা কনসার্ন থাকেও, বাংলাদেশ তা মাথায় রাখবে। এসব সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো আপস না করেই কাজ করবে।’ তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারগুলোর সময় জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বৈদেশিক সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা করা হলেও বর্তমান প্রশাসন সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসেছে এবং যেকোনো দেশের সঙ্গে এখন পারস্পরিক ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই কাজ করা হবে।
অভিন্ন নদীর পানির হিস্যার বিষয়ে উপদেষ্টা নিশ্চিত করে বলেন যে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের অর্থ কোনোভাবেই ন্যায্য অধিকার ছেড়ে দেওয়া নয়। তাঁর ভাষায়, ‘এই প্রকল্প বা ব্যারাজ নির্মাণের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি করা ছেড়ে দিচ্ছে। আমরা তিস্তা ও গঙ্গাসহ অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আমাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। তবে নদী শাসন ও সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ ডাউনস্ট্রিম ব্যারাজ প্রকল্পের কাজ নিজেদের স্বার্থেই দ্রুত করতে হবে।’
এ ছাড়া ব্রিফিংকালে তথ্য উপদেষ্টা আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা এবং নতুন তথ্য কমিশন গঠনের অগ্রগতির বিষয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফাইল ছবি
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হাসানুল হক ইনু আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। প্রায় ২১১ পৃষ্ঠার এই দীর্ঘ রায়ের বিবরণীতে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগসমূহের সত্যতা ও সাক্ষীদের জবানবন্দি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে শুরু হওয়া দীর্ঘ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই রায় প্রদান করা হলো। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের মুম্বাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাউ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনু আন্দোলনকারীদের "বিএনপি-জামায়াত ও সন্ত্রাসী-জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের উসকানি দেন"। এছাড়া তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলীয় জোটের সভায় অংশ নিয়ে তিনি "নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশনা কার্যকরেও ভূমিকা রাখেন"। কুষ্টিয়ায় আন্দোলন দমনে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে ফোনে নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমে তিনি সেখানে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন। তাঁর নির্দেশনার ফলে পুলিশ ও জোটের সশস্ত্র কর্মীদের গুলিতে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ, মারণাস্ত্রের ব্যবহার এবং কারফিউ জারির মাধ্যমে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানোর প্রতিটি ক্ষেত্রে হাসানুল হক ইনু উসকানিদাতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি কেবল হত্যাযজ্ঞের উসকানিই দেননি, বরং ২৯ জুলাইয়ের এক সভায় জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নৃশংসতাকে কৌশলে বৈধতা প্রদানের চেষ্টা করেন। এমনকি সরকার পতনের পূর্বদিন ৪ আগস্টেও তিনি শেখ হাসিনার গৃহীত দমনমূলক পদক্ষেপসমূহ অনুমোদন করেছিলেন। ট্রাইব্যুনালের এই পুরো বিচারিক কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।
এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জন সাক্ষী ইনুর বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং আসামিপক্ষে দুজন সাফাই সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। গত ১৪ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন। অবশেষে মঙ্গলবার চূড়ান্ত এই দণ্ডাদেশের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার সম্পন্ন হলো।
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের বিশেষ আমন্ত্রণে তিনি এই জানাজায় যোগ দিতে তেহরান সফরে যাচ্ছেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। ৪ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া খামেনির দীর্ঘ শোক ও বিদায় কর্মসূচিতে স্পিকার সশরীরে উপস্থিত থাকবেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর এক যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ খামেনি তার পরিবারের সদস্যসহ নিহত হন। মৃত্যুর আগে তিনি টানা ৩৬ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন। তার মৃত্যুতে দেশটিতে কয়েক দিনব্যাপী অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ জুলাই খামেনির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৭ জুলাই কোম শহরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে ৯ জুলাই মাশহাদে তাকে সমাহিত করার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের আমন্ত্রণপত্র পাওয়ার পর বাংলাদেশের স্পিকারের এই সফর নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি সেখানে মরহুমের জানাজায় অংশগ্রহণ করবেন এবং শোকসন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করবেন। আন্তর্জাতিক এই শোকযাত্রায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের অভিশাপ জলাবদ্ধতা সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সমন্বিতভাবে একাধিক স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এবং খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে সরকার বর্তমানে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
সংসদকে অবহিত করে মন্ত্রী বলেন, “রাজধানীর জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ১০৮টি জলাবদ্ধতাপ্রবণ হটস্পট চিহ্নিত করে সেগুলোর স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে। একই সঙ্গে ১০টি অঞ্চলে ২১টি কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) গঠন করা হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “এসব দল নিয়মিত পিট, ক্যাচপিট, ড্রেনেজ লাইন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকাগুলো পরিষ্কার করছে, যার ফলে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা দ্রুত কমে এসেছে।” অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, গত অর্থবছর ডিএনসিসি ১১০ কিলোমিটারের বেশি রাস্তা ও নর্দমা নির্মাণ করেছে এবং আগামী অর্থবছরে আরও বিস্তৃত পরিসরে এই উন্নয়ন কাজ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া অবৈধ দখল রোধে খালের সীমানা নির্ধারণে এক হাজার ১৮১টি পিলার স্থাপন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে কমলাপুর টিটিপাড়া, ধোলাইখাল ও হাতিরঝিল—এই তিনটি আউটলেটের মাধ্যমে ১০৯ দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন করা হয়, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।” এই সংকট নিরসনে দ্রুত আরও দুটি নতুন আউটলেট নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সদরঘাট পর্যন্ত একটি বৃহৎ নর্দমা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, নিউমার্কেট, গ্রিন রোড ও শান্তিনগরসহ ৩৩টি প্রধান জলাবদ্ধ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে নিয়মিত নর্দমা পরিষ্কার ও পাম্প স্থাপনের কাজ চলছে। একই সঙ্গে সরকারি অর্থায়নে কালুনগর, শ্যামপুর, জিরানী ও মান্ডা খালের সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
একই অধিবেশনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, প্রবাসীদের জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে আইটি-নির্ভর বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রথমবারের মতো আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার আওতায় ভোটার নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) পদ্ধতি চালু করেছে।” আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও এই সুবিধা অব্যাহত থাকবে এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাসীকে এর আওতায় আনতে নির্বাচন কমিশন নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে আজ সকাল ১১টা ৪ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই সংসদ অধিবেশন শুরু হয়।
মন্তব্য