পদ্মা বহুমুখী সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্ত থেকে গত ১৭ মাসে ১১ ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। অনুপ্রবেশের অভিযোগে করা মামলায় তারা এখন কারাবন্দি।
আচরণ ও বেশভূষা সন্দেহজনক হওয়ায় তাদের আটক করা হয়। একের পর এক এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেতুর বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে; বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।
গত কয়েক দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন নিউজবাংলাকে বলেছে, এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই।
শরীয়তপুরের জাজিরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ২৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যরা প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় সন্দেহজনক আচরণ দেখে গত ১৭ মাসে ১১ ভারতীয়কে আটক করেন সেনা সদস্যরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের জাজিরা থানায় হস্তান্তর করা হয়। এই ১১ জনের মধ্যে চলতি বছরই আটক করা হয় ছয়জনকে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, প্রাথমিকভাবে তাদের বেশভূষায় পাগল মনে হলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেশির ভাগকেই পাগল মনে হয়নি। কারণ তাদের বেশির ভাগই নিজের দেশ, বাড়ি, জেলা ও গ্রামের নাম পর্যন্ত বলতে পারছেন। শুধু তা-ই নয়, তারা তাদের পরিবারের সদস্যদের নামও বলেছেন। তবে এই ১১ জনের মধ্যে চারজনের কাছ থেকে কোনোভাবেই কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি। এ কারণে এই চারজনকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবেই আদালতে পাঠানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আরও জানান, এই ১১ জনের অনেকেই হিন্দি ভাষায় কথা বলেন। কয়েকজন হিন্দির মতো কথা বলেন। সেটা তাদের আঞ্চলিক ভাষাও হতে পারে।
কারা কর্মকর্তারা বলছেন, ১১ ভারতীয় নাগরিককে সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গেই রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে প্রাথমিকভাবে মানসিক ভারসম্যহীন মনে হওয়ায় তাদের পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাদের কারাগারে ফেরত পাঠিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা এখন ভালো আছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, পার্শ্ববর্তী একটি দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা এসব সন্দেহভাজনের বেশভূষা, কথাবার্তা, আচার-আচরণে পাগলামির ভাব থাকলেও তাদের সবাইকে পাগল মনে হয়নি। কারণ তাদের ছেঁড়া পোশাক, উসকোখুশকো চুল থাকলেও হাত ও পায়ের নখ পরিপাটি। ভারতের যেসব রাজ্য থেকে তারা আসার কথা বলেছেন, সেগুলোর কোনো কোনোটির দূরত্ব হাজার মাইলেরও বেশি। এত দূর থেকে তারা কেন বাংলাদেশের শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতু এলাকায় এসেছেন, তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রথম সন্দেহভাজন এক ভারতীয়কে আটক করা হয়। তার কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। ব্যক্তিগত কোনো তথ্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তিনি দেননি। সর্বশেষ গত ২৫ জুন যে ভারতীয়কে আটক করা হয়, তিনি নিজেকে রুপসা রায় দিপক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে পরিচয় যা জানা গেছে
আটক ১১ ভারতীয়র মধ্যে সাতজন তাদের নাম-ঠিকানা বলেছেন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। তাদের সেই নাম উল্লেখ করেই মামলা হয়েছে। বাকি চারজনকে অজ্ঞাতপরিচয় দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
রুপসা রায় দিপক: ২০২১ সালের ২৫ জুন জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় আটক হন তিনি। ভারতের গুজরাটের উম্বারিয়া জেলার জাগারিয়া থানার বিল্লা গ্রামের এই বাসিন্দার বাবার নাম খোরা রায়।
বিজলী কুমার রায়: তিনি আটক হন ২০২১ সালের ২৩ জুন জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের মাঝিরকান্দি এলাকা থেকে। ভারতের বিহারের এই বাসিন্দার বাবার নাম টুনা রায়।
বলদেভ হামরান: তাকে আটক করা হয় ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের নাওডোবা টোল প্লাজা এলাকা থেকে। তিনি ওড়িশার বাসিন্দা। তার বাবার নাম ডুবিলাল।
বীরু মণ্ডল: ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের নাওডোবায় বাংলা হাউসের প্রবেশপথ থেকে আটক হন তিনি। ভারতের ডান্ডিপুর এলাকার এই বাসিন্দার বাবার নাম বাগবান মণ্ডল।
সোনু সিং: তাকে আটক করা হয় ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের নাওডোবা এলাকা থেকে। বিহারের মালান্দা জেলার হারনাউদ থানার এই বাসিন্দার বাবার নাম বীর সিং তারাদেবী।
প্রমুথ কুমার মেরা: ২০২১ সালের ৪ মার্চ জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় আটক হন তিনি। মধ্যপ্রদেশের হোসনেয়াবাদ জেলার এই বাসিন্দার বাবার নাম লক্ষ্মণ সেন।
আরওয়ারী মদিমা চন্দনলতা: ২০২০ সালের ২৬ মে জাজিরার হাওলাদার মার্কেট থেকে আটক করা হয় দুই ভারতীয়কে। তাদের একজন আরওয়ারী মদিমা চন্দনলতা। তিনি ভারতের হরিপুরের আকিউরগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা।

অজ্ঞাতপরিচয় চারজন: ২০২০ সালে ২৬ মে জাজিরার হাওলাদার মার্কেট থেকে আরওয়ারী মদিমা চন্দনলতার সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় যে ভারতীয়কে আটক করা হয়, তার পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
এর আগে একই মার্কেট থেকে ২০২০ সালের ৫ মার্চ আটক করা হয় আরেকজনকে, যার পরিচয়ও জানা যায়নি।
২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের টোল প্লাজা এলাকা থেকে একজনকে আটক করা হয়, যার পরিচয়ও জানা যায়নি।
২০১৯ সালে ১৪ ডিসেম্বর জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকা থেকে একজনকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি নাম-পরিচয় দেননি।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ১১ জনকেই বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীর টহল দল পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড এলাকা থেকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। আমরা তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ১৯৫২ সালের কন্ট্রোল অফ এন্ট্রি অ্যাক্টের ৪ ধরায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা করে আদালতে পাঠাই। তাদের সবাইকে আদালতের মাধ্যমে শরীয়তপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এদের কয়েকজন তাদের নাম প্রকাশ করেনি। তাই আমরা তাদের অজ্ঞাতনামা করেই আদালতে পাঠিয়েছি। এদের জন্য ভারতীয় হাইকমিশন থেকে এখনও কেউ আমাদের কাছে আসেনি। এমনকি তাদের পরিবারের কোনো সদস্যও আসেনি।
‘কাগজপত্র ছাড়াই যেহেতু তারা বাংলাদেশে এসেছে, তাই তাদের ছয় মাস কারাগারেই থাকতে হবে। তারপর দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হলে একরকম, আর না হলে তাদের কারাগারেই থাকতে হবে।’
ভাষা বোঝা যায় না
শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনদীপ ঘরাই বলেন, ভারতীয় বন্দিদের মধ্যে নতুন আসা দুজনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সোমবার তাদের করোনা টেস্ট করা হয়েছে। এই দুইজন বাদে বাকি সবাই সাধারণ বন্দিদের সঙ্গেই থাকে। বন্দিদের মধ্যে একজন নারী।
তিনি বলেন, ‘চারজনকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে তাদের কারাগারেই রাখা হয়েছে। কারাবন্দি ভারতীয় মহিলা চিল্লাপাল্লা করে। তার ভাষাও আমরা বুঝি না। কারাবন্দি সবাই স্থানীয় ভাষায় কথা বলে। তারা আমাদের কথাও বোঝে না।’
নিউজবাংলার এক প্রশ্নের জবাবে মনদীপ ঘরাই বলেন, ‘আমরা নিজেরা বলতে পারি না তারা পাগল। তবে চারজনকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তারা পাঠিয়ে দিয়েছে। আনার পর তারা এখন ভালো আছে।’
জাজিরা প্রান্তে নিরাপত্তা জোরদার
জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় একের পর এক সন্দেহভাজন ভারতীয় নাগরিক আটক হওয়ার প্রেক্ষাপটে সেখানকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
সোমবার নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর জাজিরা এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ১১ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। ওই এলাকায় পুলিশের টহলও বাড়ানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সন্দেহভাজন হিসেবে যেসব ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের বেশির ভাগকে অপ্রকৃতস্থ মনে হয়েছে। তাদের কেউ হিন্দি ভাষায় কথা বলেন, কেউ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা বলেন। এসব অনুপ্রবেশকারীর বিরুদ্ধে আলাদা মামলা হয়েছে। সেসব মামলা ধরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত করছে। আশা করছি, শিগগিরই এদের আসল পরিচয়, উদ্দেশ্য বের করা সম্ভব হবে।’
কোনো বক্তব্য নেই ভারতীয় হাইকমিশনের
নিউজবাংলার পক্ষ থেকে ১১ ভারতীয় নাগরিকের আটক হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা দেবব্রত দাশের কাছে বক্তব্য চাওয়া হয় সোমবার।
জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’
বেসরকারি টিভি চ্যানেল সময় টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়ের ও তার পরিবারের সদস্যসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
পরোয়ানাভুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আহমেদ জোবায়েরের স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী, দুই সন্তান সারাফ নাওয়ার জয়ীতা ও আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন এবং সানি চৌধুরী।
এর আগে রাজধানীর কলাবাগান থানায় দায়ের করা একটি বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় আহমেদ জোবায়েরসহ ছয়জনকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। গত ১০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই সমন জারি করে, যা পরে গত ১৪ মে মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ নিশ্চিতের মাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে।
আদালত সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের আইনি জবাব দাখিলের সুযোগ দিতে আদালত সশরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য বুধবার দিন ধার্য করেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি। ছবি: সংগৃহীত
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি বলেছেন, ‘বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রথমবারের মতো মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল করবে সরকার। চট্টগ্রাম বন্দর ও মাতারবাড়িতে দুটি অঞ্চলে বিদেশিরা এ ট্যাক্স ফ্রি সুবিধা পাবে। এ ছাড়া আনোয়ারায় চায়নিজ ইপিজেডের কাজ এগিয়ে নিতে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে অর্থনীতিসংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
বুধবার (১৭ জুন) সকালে সচিবালয়ে অর্থনীতি বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার ১৮ তম সভা ও ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সাথে এসব কথা বলেছেন তিনি।
তিনি জানান, দেশে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম বন্দর ও মাতারবাড়ি বন্দরের কাছে একটি করে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপন করবে সরকার। ৬০০ একরের এই দুটি বিশেষ অঞ্চলে বিদেশিদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি বলেন, ‘আপাতত এটা দুটা জায়গায় স্থাপন করার জন্য অর্থনৈতিক কমিটির প্রস্তাব আছে। তার মধ্যে একটা হতে যাচ্ছে মাতারবাড়ী বন্দরের কাছে। আরেকটা হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের সামান্য একটু দূরে। মোট ৬০০ একর জায়গা নিয়ে দুটো জায়গায় মুক্ত অঞ্চল করা হচ্ছে।’
সভায় রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে ৫৫ হাজার টন ইউরিয়া সার ও সিশেলস দ্বীপ রাষ্ট্র থেকে ১৫ হাজার টন শিল্প কাঁচামাল কেনার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়। এ ছাড়া জুন ও জুলাই মাসের প্রথম অংশের জন্য স্পট মার্কেট থেকে জ্বালানি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে, জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
ড. নাসিমুল গনি বলেন, ‘এটা হলো স্পট মার্কেট থেকে। ওখানে একটা কমপ্লেক্স মেথড আছে। তিন–চারটা স্কেল আছে, সেগুলো দিয়ে ঠিক করা হয়, এর আগের চারমাসে কী ছিল। মাঝামাঝি একটা মূল্য ধরে করতে হয়। এখন যেহেতু দামটা একটু কমার দিকে আছে সে জন্য আমাদের ইমিডিয়েট যেটা জুন মাসে এবং জুলাই মাসের প্রথম দিকে লাগবে সেই দুটা বলেছি যে নিয়ে আসো। কারণ জাহাজটা আসার পর মাল নামানো হবে, সময় লাগবে। তা না হলে তো হু হু করে দাম বেড়ে যাবে।’
প্রথম চার মাসে সরকার কেমন করল জানতে চাইলে নাসিমুল গণি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার দ্রুত এগোচ্ছে।’ জনগনের জন্য কাজ করতে প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। তাকে সচিব পদে পদোন্নতির পর এ নিয়োগ দিয়ে বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গত ৯ জুন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।
অন্যদিকে জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির (এনএপিডি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের (পরিবহন পুল) পরিবহন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. খায়রুল কবীর মেনন। তাকেও সচিব পদে পদোন্নতির পর এ পদে পদায়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে এনএপিডির মহাপরিচালক (সচিব) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে অবসরে যাওয়ার সুবিধার্থে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৫৭ হাজার ৬৯৯ বাংলাদেশি হাজি। এদিকে হজ পালনে সৌদিতে গিয়ে হজ সম্পন্ন হওয়ার আগে এবং পরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৫২ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ এবং ১৭ জন নারী। বুধবার (১৭ জুন) হজ পোর্টাল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, হজযাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এখন পর্যন্ত মোট ১৪২ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৭০টি ফ্লাইটে দেশে ফিরেন ২৪ হাজার ৫৭২ জন। সৌদি এয়ারলাইনসের ৫১টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ৩১ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২১টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৩৮০ হজযাত্রী দেশে ফিরেছেন। অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৪ হাজার ৭১৬ জন হাজি।
স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজার ৪১০টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৮ হাজার ১১৩টি সেবা দেওয়া হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানিনিরাপত্তা জোরদার এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এ কথা জানিয়েছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।
রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে শূন্য শুল্কসুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। চুক্তিটি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানিনিরাপত্তা জোরদার এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইউরোপ ও আমেরিকার মতো প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান বাজারগুলোতে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।’
খলিলুর রহমান আরও বলেন, ‘সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে কৃষিপণ্য ও অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের আম রপ্তানির বিষয়ে কার্যক্রম চলমান।’
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বল প্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বর্তমানে ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় ফ্রন্টে রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতির বাস্তবতায় আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলমান। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার শপথ গ্রহণের পর মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আরাকান আর্মির প্রধান উভয়েই প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান, যা ইতোপূর্বে ঘটেনি।’
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উপস্থিতি, অর্থনৈতিক কূটনীতি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা করে আসছে। বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বের ১৭টি দেশের ২০টি মিশনে বাংলাদেশের নিজস্ব মালিকানাধীন ভবনে চ্যান্সারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আরও ৪টি প্রকল্প চলমান। বিদেশস্থ বাকি মিশনগুলো ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। মিশনগুলোর ভাড়া বাবদ সরকারকে বার্ষিক প্রায় ১০০ কোটি টাকা টাকা ব্যয় করতে হয়।’
খলিলুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার বিদেশে বাংলাদেশের নিজস্ব কূটনৈতিক স্থাপনা প্রতিষ্ঠাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে চ্যান্সারি ভবন নির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কূটনৈতিক কমপ্লেক্স স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন দীর্ঘ মেয়াদে সরকারি ব্যয় হ্রাস পাবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মর্যাদা ও কূটনৈতিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটির চতুর্থ বৈঠক কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য হুইপ এ.বি.এম. আশরাফ উদ্দিন (নিজান), নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মীর আহমাদ বিনকাসেম, সাঈদ আল নোমান, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, হুমাম কাদের চৌধুরী এবং আখতার হোসেন অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকের শুরুতে সভাপতি উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর বিগত বৈঠকের গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সাব-কমিটি ১-এর প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং এর ওপর বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আওতাধীন Strengthening Institutions, Policies and Services (SIPS) প্রকল্পের অধীনে ইউএনডিপি (UNDP)-এর সহযোগিতায় সংসদ গ্রন্থাগারকে ই-পার্লামেন্টের আওতাভুক্ত ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে লাইব্রেরি কমিটির সদস্য সাঈদ আল নোমান, মীর আহমাদ বিন কাসেম এবং হুমাম কাদের চৌধুরীসহ ইউএনডিপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় গ্রন্থাগার বিধির আলোকে আগ্রহী গবেষকদের গ্রন্থাগার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সশরীরে অথবা অনলাইনভিত্তিক আবেদনপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু, পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবহিতকরণ এবং অধিবেশন চলাকালীন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গবেষকদের গ্রন্থাগার ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার জন্য কমিটি সুপারিশ করে।
বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গবেষণা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কমিটির সদস্য সাঈদ আল নোমানকে সভাপতি করে একটি গবেষণা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গ্রন্থাগারে দুইজন আইটি কর্মকর্তা ও দুইজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদায়ন এবং জাতীয় সংসদ গ্রন্থাগারের প্রবেশ পথে ডিজিটাল নামফলক সংযোজনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটি কর্তৃক সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
“তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সাথে আজ ঢাকায় মন্ত্রণালয়ে তাঁর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত Michael Miller সাক্ষাৎ করেন (বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬)। -পিআইডি”
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের লক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান’ (জাতীয় কর্মপরিকল্পনা) তৈরি করা হচ্ছে। বুধবার মন্ত্রণালয়ে তথ্যমন্ত্রীর অফিস কক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে, রাষ্ট্রদূতকে তিনি এ বিষয়ে জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
বৈঠকে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে বর্তমান সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশ তা কাজে লাগাতে পারে।
রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণকে ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়াও সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকার একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে কাজ করছে।’
তথ্যমন্ত্রী জানান, গণমাধ্যম খাতে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে একটি ‘ড্রাফট কমিটি’ গঠন করা হবে। এই কমিটি একটি ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে। পরবর্তীতে এই ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের ওপর ভিত্তি করেই স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে।
মন্তব্য