× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

অনুসন্ধান
পদ্মা সেতু এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ১১ ভারতীয় আটক
google_news print-icon

পদ্মা সেতু এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ১১ ভারতীয় আটক

পদ্মা-সেতু-এলাকা-থেকে-সন্দেহভাজন-১১-ভারতীয়-আটক
পদ্মা সেতু। ফাইল ছবি
শরীয়তপুরের জাজিরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ২৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যরা প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন। জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় সন্দেহজনক আচরণ দেখে গত ১৭ মাসে ১১ ভারতীয়কে আটক করেন সেনা সদস্যরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের জাজিরা থানায় হস্তান্তর করা হয়। এই ১১ জনের মধ্যে চলতি বছরই আটক করা হয় ছয়জনকে।

পদ্মা বহুমুখী সেতুর শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্ত থেকে গত ১৭ মাসে ১১ ভারতীয় নাগরিককে আটক করা হয়েছে। অনুপ্রবেশের অভিযোগে করা মামলায় তারা এখন কারাবন্দি।

আচরণ ও বেশভূষা সন্দেহজনক হওয়ায় তাদের আটক করা হয়। একের পর এক এমন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সেতুর বিভিন্ন পয়েন্টে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে; বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।

গত কয়েক দিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশন নিউজবাংলাকে বলেছে, এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই।

শরীয়তপুরের জাজিরা থানা পুলিশ জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ২৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যরা প্রকল্পের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড এলাকায় নিয়মিত টহলের সময় সন্দেহজনক আচরণ দেখে গত ১৭ মাসে ১১ ভারতীয়কে আটক করেন সেনা সদস্যরা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের জাজিরা থানায় হস্তান্তর করা হয়। এই ১১ জনের মধ্যে চলতি বছরই আটক করা হয় ছয়জনকে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, প্রাথমিকভাবে তাদের বেশভূষায় পাগল মনে হলেও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেশির ভাগকেই পাগল মনে হয়নি। কারণ তাদের বেশির ভাগই নিজের দেশ, বাড়ি, জেলা ও গ্রামের নাম পর্যন্ত বলতে পারছেন। শুধু তা-ই নয়, তারা তাদের পরিবারের সদস্যদের নামও বলেছেন। তবে এই ১১ জনের মধ্যে চারজনের কাছ থেকে কোনোভাবেই কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি। এ কারণে এই চারজনকে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবেই আদালতে পাঠানো হয়।

পদ্মা সেতু এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ১১ ভারতীয় আটক

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আরও জানান, এই ১১ জনের অনেকেই হিন্দি ভাষায় কথা বলেন। কয়েকজন হিন্দির মতো কথা বলেন। সেটা তাদের আঞ্চলিক ভাষাও হতে পারে।

কারা কর্মকর্তারা বলছেন, ১১ ভারতীয় নাগরিককে সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গেই রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে প্রাথমিকভাবে মানসিক ভারসম্যহীন মনে হওয়ায় তাদের পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসা শেষে তাদের কারাগারে ফেরত পাঠিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তারা এখন ভালো আছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, পার্শ্ববর্তী একটি দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা এসব সন্দেহভাজনের বেশভূষা, কথাবার্তা, আচার-আচরণে পাগলামির ভাব থাকলেও তাদের সবাইকে পাগল মনে হয়নি। কারণ তাদের ছেঁড়া পোশাক, উসকোখুশকো চুল থাকলেও হাত ও পায়ের নখ পরিপাটি। ভারতের যেসব রাজ্য থেকে তারা আসার কথা বলেছেন, সেগুলোর কোনো কোনোটির দূরত্ব হাজার মাইলেরও বেশি। এত দূর থেকে তারা কেন বাংলাদেশের শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতু এলাকায় এসেছেন, তদন্ত সংশ্লিষ্টরা তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।

পদ্মা সেতু এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ১১ ভারতীয় আটক

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৯ সালের ১৪ ডিসেম্বর প্রথম সন্দেহভাজন এক ভারতীয়কে আটক করা হয়। তার কাছে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না। ব্যক্তিগত কোনো তথ্যই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তিনি দেননি। সর্বশেষ গত ২৫ জুন যে ভারতীয়কে আটক করা হয়, তিনি নিজেকে রুপসা রায় দিপক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে পরিচয় যা জানা গেছে

আটক ১১ ভারতীয়র মধ্যে সাতজন তাদের নাম-ঠিকানা বলেছেন বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে। তাদের সেই নাম উল্লেখ করেই মামলা হয়েছে। বাকি চারজনকে অজ্ঞাতপরিচয় দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

রুপসা রায় দিপক: ২০২১ সালের ২৫ জুন জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় আটক হন তিনি। ভারতের গুজরাটের উম্বারিয়া জেলার জাগারিয়া থানার বিল্লা গ্রামের এই বাসিন্দার বাবার নাম খোরা রায়।

বিজলী কুমার রায়: তিনি আটক হন ২০২১ সালের ২৩ জুন জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের মাঝিরকান্দি এলাকা থেকে। ভারতের বিহারের এই বাসিন্দার বাবার নাম টুনা রায়।

বলদেভ হামরান: তাকে আটক করা হয় ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের নাওডোবা টোল প্লাজা এলাকা থেকে। তিনি ওড়িশার বাসিন্দা। তার বাবার নাম ডুবিলাল।

বীরু মণ্ডল: ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের নাওডোবায় বাংলা হাউসের প্রবেশপথ থেকে আটক হন তিনি। ভারতের ডান্ডিপুর এলাকার এই বাসিন্দার বাবার নাম বাগবান মণ্ডল।

সোনু সিং: তাকে আটক করা হয় ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের নাওডোবা এলাকা থেকে। বিহারের মালান্দা জেলার হারনাউদ থানার এই বাসিন্দার বাবার নাম বীর সিং তারাদেবী।

প্রমুথ কুমার মেরা: ২০২১ সালের ৪ মার্চ জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় আটক হন তিনি। মধ্যপ্রদেশের হোসনেয়াবাদ জেলার এই বাসিন্দার বাবার নাম লক্ষ্মণ সেন।

আরওয়ারী মদিমা চন্দনলতা: ২০২০ সালের ২৬ মে জাজিরার হাওলাদার মার্কেট থেকে আটক করা হয় দুই ভারতীয়কে। তাদের একজন আরওয়ারী মদিমা চন্দনলতা। তিনি ভারতের হরিপুরের আকিউরগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা।

পদ্মা সেতু এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ১১ ভারতীয় আটক

অজ্ঞাতপরিচয় চারজন: ২০২০ সালে ২৬ মে জাজিরার হাওলাদার মার্কেট থেকে আরওয়ারী মদিমা চন্দনলতার সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় যে ভারতীয়কে আটক করা হয়, তার পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

এর আগে একই মার্কেট থেকে ২০২০ সালের ৫ মার্চ আটক করা হয় আরেকজনকে, যার পরিচয়ও জানা যায়নি।

২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের টোল প্লাজা এলাকা থেকে একজনকে আটক করা হয়, যার পরিচয়ও জানা যায়নি।

২০১৯ সালে ১৪ ডিসেম্বর জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকা থেকে একজনকে আটক করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি নাম-পরিচয় দেননি।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘এই ১১ জনকেই বিভিন্ন সময়ে সেনাবাহিনীর টহল দল পদ্মা সেতুর কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড এলাকা থেকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে। আমরা তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ১৯৫২ সালের কন্ট্রোল অফ এন্ট্রি অ্যাক্টের ৪ ধরায় অনুপ্রবেশের অভিযোগে মামলা করে আদালতে পাঠাই। তাদের সবাইকে আদালতের মাধ্যমে শরীয়তপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এদের কয়েকজন তাদের নাম প্রকাশ করেনি। তাই আমরা তাদের অজ্ঞাতনামা করেই আদালতে পাঠিয়েছি। এদের জন্য ভারতীয় হাইকমিশন থেকে এখনও কেউ আমাদের কাছে আসেনি। এমনকি তাদের পরিবারের কোনো সদস্যও আসেনি।

‘কাগজপত্র ছাড়াই যেহেতু তারা বাংলাদেশে এসেছে, তাই তাদের ছয় মাস কারাগারেই থাকতে হবে। তারপর দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হলে একরকম, আর না হলে তাদের কারাগারেই থাকতে হবে।’

পদ্মা সেতু এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ১১ ভারতীয় আটক

ভাষা বোঝা যায় না

শরীয়তপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেল সুপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মনদীপ ঘরাই বলেন, ভারতীয় বন্দিদের মধ্যে নতুন আসা দুজনকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সোমবার তাদের করোনা টেস্ট করা হয়েছে। এই দুইজন বাদে বাকি সবাই সাধারণ বন্দিদের সঙ্গেই থাকে। বন্দিদের মধ্যে একজন নারী।

তিনি বলেন, ‘চারজনকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে তাদের কারাগারেই রাখা হয়েছে। কারাবন্দি ভারতীয় মহিলা চিল্লাপাল্লা করে। তার ভাষাও আমরা বুঝি না। কারাবন্দি সবাই স্থানীয় ভাষায় কথা বলে। তারা আমাদের কথাও বোঝে না।’

নিউজবাংলার এক প্রশ্নের জবাবে মনদীপ ঘরাই বলেন, ‘আমরা নিজেরা বলতে পারি না তারা পাগল। তবে চারজনকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তারা পাঠিয়ে দিয়েছে। আনার পর তারা এখন ভালো আছে।’

জাজিরা প্রান্তে নিরাপত্তা জোরদার

জাজিরায় পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় একের পর এক সন্দেহভাজন ভারতীয় নাগরিক আটক হওয়ার প্রেক্ষাপটে সেখানকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

সোমবার নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর জাজিরা এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ১১ ভারতীয় নাগরিক গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। ওই এলাকায় পুলিশের টহলও বাড়ানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সন্দেহভাজন হিসেবে যেসব ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের বেশির ভাগকে অপ্রকৃতস্থ মনে হয়েছে। তাদের কেউ হিন্দি ভাষায় কথা বলেন, কেউ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক ভাষা বলেন। এসব অনুপ্রবেশকারীর বিরুদ্ধে আলাদা মামলা হয়েছে। সেসব মামলা ধরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত করছে। আশা করছি, শিগগিরই এদের আসল পরিচয়, উদ্দেশ্য বের করা সম্ভব হবে।’

পদ্মা সেতু এলাকা থেকে সন্দেহভাজন ১১ ভারতীয় আটক

কোনো বক্তব্য নেই ভারতীয় হাইকমিশনের

নিউজবাংলার পক্ষ থেকে ১১ ভারতীয় নাগরিকের আটক হওয়ার বিষয়টি জানিয়ে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের গণমাধ্যম শাখার কর্মকর্তা দেবব্রত দাশের কাছে বক্তব্য চাওয়া হয় সোমবার।

জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই।’

আরও পড়ুন:
পদ্মা সেতু এলাকায় আরেক ভারতীয় আটক
নিখোঁজ চীনা প্রকৌশলীর খোঁজ দিলে ২ লাখ টাকা
পদ্মা সেতুর কাছে সেনাবাহিনীর হাতে আটক ভারতীয় নাগরিক
পদ্মা সেতুর সব রেলস্ল্যাব বসানো শেষ
ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পে বরাদ্দ বেড়েছে

মন্তব্য

আরও পড়ুন

অনুসন্ধান
The attack on BTVs head office the fire the fear of stopping broadcasting

বিটিভির প্রধান কার্যালয়ে হামলা আগুন, সম্প্রচার বন্ধের শঙ্কা

বিটিভির প্রধান কার্যালয়ে হামলা আগুন, সম্প্রচার বন্ধের শঙ্কা বৃহস্পতিবার বিকেলে রামপুরায় বিটিভি প্রধান কার্যালয় প্রবেশ করে ভাংচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। ছবি: পিয়াস বিশ্বাস
বিটিভির মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘কিছু লোক দুপুর ২টার পর বিটিভি কার্যালয়ে হামলা করে। তারা রিসিপশনে ভাঙচুর করে, পাশে থাকা বেশকিছু গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ঢাকা কেন্দ্র এবং ডিজাইন শাখায়ও আগুন ধরিয়ে দেয়। সন্ধ্যা ৬ টায়ও আগুন জ্বলছে। ডিজাইন শাখা পুড়ে গেছে। এখন মূল কেন্দ্র জ্বলে গেলে বিটিভির প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে।’

রাজধানীর রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রধান কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিটিভি কার্যালয়ের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এক দল লোক। পরে তারা ভেতরে থাকা দুটি মাইক্রোবাস ও কয়েকটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেন।

বিটিভির মহাপরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে গণমাধ্যমকে জানান, আগুন লাগার চার ঘণ্টাতেও ফায়ার সার্ভিস বিটিভি ভবনে আসেনি। আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, ‘কিছু লোক দুপুর ২টার পর বিটিভি কার্যালয়ে হামলা করে। তারা রিসিপশনে ভাঙচুর করে, পাশে থাকা বেশকিছু গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে ঢাকা কেন্দ্র এবং ডিজাইন শাখায়ও আগুন ধরিয়ে দেয়।

‘সন্ধ্যা ৬ টায়ও আগুন জ্বলছে। ডিজাইন শাখা পুড়ে গেছে। এখন মূল কেন্দ্র জ্বলে গেলে বিটিভির প্রচার বন্ধ হয়ে যাবে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকেল ৩টার দিকে শতাধিক লোক প্রধান ফটক ভেঙে বিটিভি কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় প্রধান ফটকের বাইরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও দুটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় বিটিভি কার্যালয়ে অবস্থানরত কর্মকর্তা–কর্মচারীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

বিক্ষুব্ধদের তৎপরতার মুখে বিটিভি কার্যালয়ের সামনে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা মালিবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন। তারা কিছুক্ষণ পরপর বিক্ষোভকারীদের দিকে কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়েন।

পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে বিটিভি ভবনের সামনে এসে অভিযান শুরু করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।

সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিটিভি কার্যালয়ের ওপর দিয়ে টহল দেয়। এর প্রায় ১৫ মিনিট পর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে র‌্যাবের একটি হেলিকপ্টারও টহল দেয় সেখানে।

সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুকে পেজে একটি পোস্টে বলা হয়, ‘বিটিভিতে ভয়াবহ আগুন। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সহযোগিতা কামনা করছি। ভেতরে আটকা পড়েছেন অনেকে।’

আন্দোলনকারীরা এর আগে দুপুরে রামপুরা ব্রিজের পাশে ট্রাফিকের সহকারী পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় আফতাবনগরে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে একটি পুলিশ ফাঁড়ির ফটকে থাকা তিনটি মোটরসাইকেলেও আগুন দেয়া হয়।

আরও পড়ুন:
ভৈরবে শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ গুলি, মহাসড়ক অবরোধ
খুলনায় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ
‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ সন্ধ্যা পর্যন্ত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর
অবরোধে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ
সিলেটে পুলিশ-শিক্ষার্থী ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিক

মন্তব্য

অনুসন্ধান
The image that was seen in the shutdown is the Bankpara of Motijheel

শাটডাউনে যে চিত্র দেখা গেল মতিঝিলের ব্যাংকপাড়ার

শাটডাউনে যে চিত্র দেখা গেল মতিঝিলের ব্যাংকপাড়ার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কমপ্লিট শাটডাউনের মধ্যে বৃহস্পতিবার মতিঝিলের শাপলা চত্বরের পাশ দিয়ে ভ্যানে করে গন্তব্যে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি। ছবি: আহমেদ সুলতান/নিউজবাংলা
মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের কারণে অন্যান্য দিনের তুলনায় গ্রাহক উপস্থিতি অনেক কম, যার কারণে লেনদেনের পরিমাণও কম, তবে শাখার নিরাপত্তার জন্য আমাদের নিয়োগকৃত নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পার্শ্ববর্তী থানাকেও অবহিত করে রেখেছি।’

কোটা সংস্কার আন্দেলনকারীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির মধ্যে বৃহস্পতিবার ঢাকার অন্যান্য অংশের মতো বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে পরিচিত মতিঝিলেও দেখা গেছে থমথমে পরিস্থিতি।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেও অনেকটা গ্রাহকশূন্য ছিল ব্যাংকগুলো।

ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাংকপাড়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানান ব্যাংকাররা।

তারা জানান, স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ব্যাংক লেনদেন নেই বললেই চলে। লেনদেনে ভাটা পড়েছে অবশ্য ঢাকার প্রায় সব ব্যাংকের শাখাতেই। আন্দোলন আর বুলেটের শব্দে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তারাও।

রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, ফকিরাপুল ও গুলিস্তান এলাকার কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলে একই চিত্র পাওয়া যায়। খুব প্রয়োজনে দুই-একজন গ্রাহক ব্যাংকে আসেন। তারাও শঙ্কার মধ্যে লেনদেন করে দ্রুত ব্যাংক ত্যাগ করেছেন।

মতিঝিলে সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের কারণে অন্যান্য দিনের তুলনায় গ্রাহক উপস্থিতি অনেক কম, যার কারণে লেনদেনের পরিমাণও কম, তবে শাখার নিরাপত্তার জন্য আমাদের নিয়োগকৃত নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী রয়েছে।

‘অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পার্শ্ববর্তী থানাকেও অবহিত করে রেখেছি।’

সোনালী ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘সকালে ঝুঁকি নিয়ে অফিসে এসেছি। পরিস্থিতি এত খারাপ হবে জানলে আজকের জন্য ছুটি নিতাম।’

সকাল থেকে মতিঝিলে গণপরিবহন ছিল না বললেই চলে। পুরো এলাকায় চলাচলের প্রধান বাহন ছিল রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা। মাঝে মাঝে চলাচল করছিল প্রাইভেট কার।

যারা গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন, তাদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক আতঙ্ক।

নিজাম নামের একজন প্রাইভেটকারচালক জানান, তার বস একটি প্রাইভেট ব্যাংকে টাকা তুলতে এসেছেন।

গাড়ি নিয়ে বের হয়ে কোনো সমস্যায় পড়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা আরামবাগ থেকে এসেছি। তাই এখনও কোনো ঝামেলায় পড়িনি, তবে মালিক বলেছে, কোন গ্যাঞ্জাম দেখলে সাথে সাথে গাড়ি কোথাও পার্কিং করে নিজেকে সেভ রাখতে।’

এদিকে ভয় আর শঙ্কা নিয়ে জীবনের তাগিদে কাজে নেমেছেন রিকশাচালকরা, যাদের একজন জানান, তাদের পেটের দায়ে আয় না করলে চলবে না বলেই রিকশা নিয়ে বের হয়েছেন।

মতিঝিল এলাকায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও গণপরিবহনের খোঁজ পাচ্ছিলেন না সাধারণ মানুষ। যারা উত্তরা, মিরপুর এলাকার দিকে যাবে, তারা শুধু মেট্রোরেলে করে অনায়াসে যেতে পারছিলেন।

অন্য সব গন্তব্যের যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ফকিরাপুলের বাসস্ট্যান্ডেও কোনো বাস ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি।

ফকিরাপুলের জনতা ব্যাংকের লেনদেনের চিত্রেও ফুটে উঠেছে ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব। নিয়মিত যেখানে ১৫ থেকে ২০ জন গ্রাহক লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন সেখানে কাউন্টারে মাত্র দুই একজন গ্রাহক চোখে পড়েছে। তবে ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন লেনদেন স্বাভাবিক।

দিলকুশা এলাকার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া শাখা ইসলামী ব্যাংকের লোকাল অফিস। সেখানেও ফুটে উঠেছে কমপ্লিট শাটডাউনের ছাপ।

গতকাল কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করার কারণে পুরো এলাকা প্রায় ফাঁকা ছিল। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের লোকাল অফিসে লেনদেন করতে আসতে কাউকে দেখা যায়নি।

ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘অন্যান্য দিনের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ একেবারেই কম। স্বাভাবিক দিনে যেখানে লম্বা লাইন হয়ে থাকে, সেখানে প্রতিটি কাউন্টারে একজন-দুইজনের বেশি উপস্থিতি নেই।

‘কারণ বাইরে লক্ষ করলেই দেখতে পাবেন সাধারণ জনগণের চেয়ে পুলিশের সংখ্যা বেশি। সারাক্ষণ বাজছে পুলিশের সাইরেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘থেমে থেমেই গোলাবারুদের শব্দ। এসব কারণে শাখায় লেনদেনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।’

আরও পড়ুন:
কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর
সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শাবি শিক্ষার্থীদের
গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ আন্দোলনকারীদের
ইন্টারনেট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যা বললেন পলক
কোটা আন্দোলন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র: মিলার

মন্তব্য

অনুসন্ধান
The prime minister has assigned two ministers to negotiate with the quota protesters
সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী

কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর

কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান। ফাইল ছবি
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য আমাকে, মানে আইনমন্ত্রীকে এবং শিক্ষামন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি, তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা তাদের সাথে বসব এবং আমরা এটাও বলতে চাই যে, তারা যখনই বসতে রাজি হবে, এটা যদি আজকে হয়, আজকেই আমরা বসতে রাজি আছি।’

দেশজুড়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দেশব্যাপী কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনের টানেল গেটে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের (কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী) সঙ্গে আলোচনা করার জন্য আমাকে, মানে আইনমন্ত্রীকে এবং শিক্ষামন্ত্রী জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি, তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন।

‘আমরা তাদের সাথে বসব এবং আমরা এটাও বলতে চাই যে, তারা যখনই বসতে রাজি হবে, এটা যদি আজকে হয়, আজকেই আমরা বসতে রাজি আছি।’

তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ঘোষণা দিতে বলেছেন যে, আগামী ৭ অগাস্ট, ২০২৪ সালে যে মামলাটা শুনানির কথা ছিল, সে মামলাটার শুনানি এগিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থা নিতে।

‘আমি সেই মর্মে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছি যে, আগামী রবিবার তিনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে আবেদন করবেন, যাতে মামলাটার শুনানির তারিখ তারা এগিয়ে আনেন।’

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তৃতীয়ত হচ্ছে যে, আপনারা জানেন যে গতকালকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির কথা ঘোষণা দিয়েছিলেন।

‘সেই প্রেক্ষিতে আমরা একজন বিজ্ঞ বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি জনাব খন্দকার দিলীরুজ্জামানকে এই কমিটির বিচার বিভাগীয় তদন্তের দায়িত্ব দেয়ার জন্য কমিটি তৈরি করেছি।’

আরও পড়ুন:
কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রাণহানির প্রতিবাদে টরন্টোতে বিক্ষোভ
শাটডাউন: দেশজুড়ে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি
ঢাবি ক্যাম্পাস এলাকায় রাতেও শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ
নিহত ওয়াসিমের মায়ের কান্না থামছে না
কুবিতে গায়েবানা জানাজায় ইমামের ‘না’

মন্তব্য

অনুসন্ধান
Considering the situation mobile internet is off blink

ইন্টারনেট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যা বললেন পলক

ইন্টারনেট নিয়ে প্রশ্নের জবাবে যা বললেন পলক রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিসিসি অডিটোরিয়ামে আইসিটি বিভাগের ‘দীক্ষা-দক্ষতা উন্য়নে শিক্ষা অনলাইনে’ প্রকল্পের আওতায় নিয়মিত কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ইন্টারনেট নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাব দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। ছবি: ফেসবুক
মোবাইল ইন্টারনেট নিয়ে জানতে চাইলে পলক বলেন, ‘একদিকে যে রকম পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তারা চেষ্টা করছে, তাদের নিরাপত্তাটা রক্ষা করা। আমরা সাইবার নিরাপত্তাটা নিশ্চিত করার জন্য সাইবার প্ল্যাটফর্মে আমরা চেষ্টা করছি। যে জায়গায় যে ধরনের ভূমিকা নেয়া উচিত বা প্রয়োজন, সেটাই আমরা চেষ্টা করছি এবং সেটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখেই আমরা সকলের সহযোগিতা পাচ্ছি এবং আমি আপনদেরও সহযোগিতা কামনা করব।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সাইবার প্ল্যাটফর্মে সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বিসিসি অডিটোরিয়ামে আইসিটি বিভাগের ‘দীক্ষা-দক্ষতা উন্য়নে শিক্ষা অনলাইনে’ প্রকল্পের আওতায় নিয়মিত কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

মোবাইল ইন্টারনেট নিয়ে জানতে চাইলে পলক বলেন, ‘এটা আসলে আমরা পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে, আমাদের যে গোয়েন্দা সংস্থার যে রিপোর্ট এবং সবকিছু মিলিয়ে একটা তো ছিল ধরেন যখন আন্দোলন হয়, তখন একটা জায়গায় যখন বেশি মানুষের আরকি উপস্থিতি হয়, তখন কিন্তু টেকনোলজির একটা প্রবলেম তৈরি হয়, কিন্তু বর্তমানে আমরা খেয়াল করছি যখন আমরা লক্ষ করলাম যে, এই সোশ্যাল মিডিয়াটাকে প্ল্যাটফর্মটাকে ব্যবহার করে গুজব, মিথ্যা, অপপ্রচার করাটাকে একটা অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে একটা গোষ্ঠী এবং শুধু দেশের ভেতরে না, দেশের বাইরে থেকে কিছু কনটেন্ট বুস্ট করা হচ্ছে, তার মানে টাকা দিয়ে মিথ্যা খবরটা সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার যে অপকৌশল বা ষড়যন্ত্র, এটা আমরা যখন দেখছি, তথ্য-উপাত্ত এবং গোয়েন্দা সংস্থার সকল বিশ্লেষণ, তখন আমরা মনে করেছি যে, দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদের যার যতটুকু সক্ষমতা আছে, সেটা করা দরকার।

‘একদিকে যে রকম পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তারা চেষ্টা করছে, তাদের নিরাপত্তাটা রক্ষা করা। আমরা সাইবার নিরাপত্তাটা নিশ্চিত করার জন্য সাইবার প্ল্যাটফর্মে আমরা চেষ্টা করছি। যে জায়গায় যে ধরনের ভূমিকা নেয়া উচিত বা প্রয়োজন, সেটাই আমরা চেষ্টা করছি এবং সেটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখেই আমরা সকলের সহযোগিতা পাচ্ছি এবং আমি আপনদেরও সহযোগিতা কামনা করব।’

আরও পড়ুন:
কুবিতে গায়েবানা জানাজায় ইমামের ‘না’
যৌথ অভিযানে চার ঘণ্টা পর মুক্ত রাবি উপাচার্য
বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
চট্টগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ মামলা, আসামি কয়েক হাজার
জামালপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, সংঘর্ষে আহত ১২

মন্তব্য

অনুসন্ধান
US closely watching quota movement Miller

কোটা আন্দোলন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র: মিলার

কোটা আন্দোলন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র: মিলার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার। ফাইল ছবি
প্রশ্নের জবাবে মিলার বলেন, ‘প্রথমত বলব, এটি (প্রশ্নকারীর বক্তব্য) ঠিক নয়। এ সপ্তাহে আপনি আমাকে কয়েকবার বলতে শুনেছেন, সোমবারও বলেছি; আমার মনে হয় এটি গতকালও আরেকবার বলেছি। আমি এটি আজ আবারও বলছি যে, আমরা শান্তিপূর্ণ যেকোনো প্রতিবাদের ওপর সহিংসতার নিন্দা জানাই।’

বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার।

ওয়াশিংটন ডিসিতে স্থানীয় সময় বুধবার স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থান ব্যক্ত করেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ বিষয়ে প্রশ্নকারী সাংবাদিক মিলারের উদ্দেশে বলেন, ‘সঙ্গী শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা ও উদ্ধারে পুলিশের সামনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের তরুণ ছাত্র আবু সাঈদ, তবে সরকারি বাহিনী তাকে গুলি করতে ইতস্তত করেনি। বন্ধুদের উদ্ধারের সময় সে খেয়ালই করেনি যে, সে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। প্রহসনের নির্বাচনের ঠিক আগে এভাবেই ক্ষমতা ধরে রেখেছেন (প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনা।

‘আমি দুঃখিত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী (অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন) বলেছিলেন, গোটা বিশ্ব বাংলাদেশের নির্বাচন দেখছে এবং স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্র এটার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে, কিন্তু জনগণের অধিকার কেড়ে নেয়ার পর হঠাৎ আপনারা নীরব হয়ে গেলেন। এটি কেন?’

ওই প্রশ্নের জবাবে মিলার বলেন, ‘প্রথমত বলব, এটি (প্রশ্নকারীর বক্তব্য) ঠিক নয়। এ সপ্তাহে আপনি আমাকে কয়েকবার বলতে শুনেছেন, সোমবারও বলেছি; আমার মনে হয় এটি গতকালও আরেকবার বলেছি। আমি এটি আজ আবারও বলছি যে, আমরা শান্তিপূর্ণ যেকোনো প্রতিবাদের ওপর সহিংসতার নিন্দা জানাই।

‘আমাদের (ঢাকাস্থ) দূতাবাস এবং ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা বিষয়টিকে (কোটা সংস্কার আন্দোলন) নিবিড়ভাবে নজরে রেখেছি এবং আন্দোলন, প্রতিবাদে লোকজনের নিহত হওয়ার খবর পর্যবেক্ষণ করছি।

‘আমরা আবারও লোকজনের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের অধিকার সমুন্নত রাখতে (বাংলাদেশ) সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।’

আরও পড়ুন:
কুবিতে গায়েবানা জানাজায় ইমামের ‘না’
যৌথ অভিযানে চার ঘণ্টা পর মুক্ত রাবি উপাচার্য
বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের
চট্টগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনায় ৪ মামলা, আসামি কয়েক হাজার
জামালপুরে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ, সংঘর্ষে আহত ১২

মন্তব্য

অনুসন্ধান
Protests in Toronto to protest the loss of lives in the quota reform movement

কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রাণহানির প্রতিবাদে টরন্টোতে বিক্ষোভ

কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রাণহানির প্রতিবাদে টরন্টোতে বিক্ষোভ কানাডায় বুধবারের প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ। ছবি: সংগৃহীত
বাংলা টাউনে বাংলাদেশি স্টুডেন্ট ইন কানাডার উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ সমবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেন এবং তারা এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান।

দেশজুড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সহিংসতায় মঙ্গলবার আন্দোলনকারীসহ ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে কানাডার টরন্টোতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মৌন প্রতিবাদ সভা করেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় সময় বুধবার বিকেলে টরন্টোর শহীদ মিনার চত্বরে অন্যস্বর ও অন্য থিয়েটারের আয়োজনে মৌন প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়।

অনুসরের প্রধান সংস্কৃতিকর্মী আহমাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এই প্রতিবাদে টরন্টোর সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতস্ফূর্তভাবে যোগ দেন। তারা এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান।

এর আগে বাংলা টাউনে বাংলাদেশি স্টুডেন্ট ইন কানাডার উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের এক বিক্ষোভ সমবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সমাবেশেও শিক্ষার্থীরা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেন এবং তারা এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনে নেয়ার দাবি জানান তারা।

আরও পড়ুন:
শাটডাউন: দেশজুড়ে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি
ঢাবি ক্যাম্পাস এলাকায় রাতেও শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ
নিহত ওয়াসিমের মায়ের কান্না থামছে না
কুবিতে গায়েবানা জানাজায় ইমামের ‘না’
যৌথ অভিযানে চার ঘণ্টা পর মুক্ত রাবি উপাচার্য

মন্তব্য

অনুসন্ধান
Shutdown 229 Platoon BGB across the country

শাটডাউন: দেশজুড়ে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি

শাটডাউন: দেশজুড়ে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি কক্সবাজারে সড়কে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্যরা। ছবি: বিজিবি
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) শরীফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘কমপ্লিট শাটডাউনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকাসহ সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ঘোষিত কমপ্লিট শাটডাউনকেন্দ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশজুড়ে ২২৯ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) শরীফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘কমপ্লিট শাটডাউনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকাসহ সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন।’

এর আগে বুধবার বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া, ফরিদপুর ও কক্সবাজারে বিজিবি মোতায়েন।’

তারও আগে মঙ্গলবার রাতে বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, বগুড়া, রংপুর এবং রাজশাহীতে বিজিবি মোতায়েন।’

আরও পড়ুন:
ঢাবি ক্যাম্পাস এলাকায় রাতেও শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ
নিহত ওয়াসিমের মায়ের কান্না থামছে না
কুবিতে গায়েবানা জানাজায় ইমামের ‘না’
যৌথ অভিযানে চার ঘণ্টা পর মুক্ত রাবি উপাচার্য
বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা শিক্ষার্থীদের

মন্তব্য

p
উপরে