ডাক্তার-প্যাথলজিস্ট ছাড়াই টেস্ট রিপোর্ট

ডাক্তার-প্যাথলজিস্ট ছাড়াই টেস্ট রিপোর্ট

রোগীদের সঙ্গে নানা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর পান্থপথের হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা

নিউজবাংলার তিন মাসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শামীম আহম্মদ নামে এক লোক হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে বসেন পান্থপথে, যার আসলে চিকিৎসা পেশায় কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। ভুঁইফোঁড় এই প্রতিষ্ঠানটি এমন সব দম্পতিকে টার্গেট করে, যাদের অনেক দিনেও সন্তান হয়নি।

নেই ডাক্তার, নেই প্যাথলজিস্ট। এমনকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্সও নেই। তবু দেদার দিয়ে যাচ্ছে প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট, যা বিশ্বাস করে প্রতারিত হচ্ছেন সন্তানের জন্য পাগলপ্রায় অনেকে।

রাজধানীর পান্থপথ মোড়ের গাজী টাওয়ারের চতুর্থ তলায় অবস্থিত হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার বেশ কয়েক মাস ধরে এমন প্রতারণা করে আসছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীদের সঙ্গে।

বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত তিন মাস অনুসন্ধান চালিয়েছে নিউজবাংলা।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে শামীম আহম্মদ নামে এক লোক হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে বসেন পান্থপথে, যার আসলে চিকিৎসা পেশায় কোনো অভিজ্ঞতাই নেই।

ভুঁইফোঁড় এই প্রতিষ্ঠানটি এমন সব দম্পতিকে টার্গেট করে, যাদের অনেক দিনেও সন্তান হয়নি। এরপর তাদের আসলে কী কী সমস্যা রয়েছে, সেসব পরীক্ষার জন্য নমুনা নেয়। প্রতিটি নমুনা পরীক্ষার জন্য রয়েছে আলাদা ফি। সিমেন অ্যানালাইসিসের ফি এক হাজার টাকা।

অধিকাংশ রোগীই এই পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। তবে কোনো ধরনের পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আবার এই টেস্ট রিপোর্টও দেয়া হচ্ছে গ্রিন রোডেরই আরেকটি প্রতিষ্ঠানের নামে, যেটি গত বছর থেকে বন্ধ রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ মাস আগে চালু হলেও এখনো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্সই পায়নি তাদের কর্যক্রম চালানোর জন্য।

ভুক্তভোগীদের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোহাম্মাদ রুবেল হোসেন। থাকেন রাজধানীর বসিলা এলাকায়। পাঁচ বছর আগে বিয়ে করলেও তাদের কোনো সন্তান হয়নি।

ডাক্তার-প্যাথলজিস্ট ছাড়াই টেস্ট রিপোর্ট
ভুক্তভোগী রুবেল হোসেনের টেস্ট রিপোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

নিউজবাংলাকে রুবেল জানান, কয়েক বছর ধরে একটি সন্তানের আশায় সামর্থ্য অনুযায়ী সব ধরনের চেষ্টাই করেছেন তিনি। এ-ডাক্তার থেকে ও-ডাক্তারের কাছে গেছেন। তারা একেকজন একেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়েছেন। কিন্তু সেসব পরীক্ষা করে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলেও সন্তানের মুখ দেখতে পাননি তিনি।

এরই এক পর্যায়ে এক ডাক্তারের পরামর্শে রুবেল তার সিমেন পরীক্ষার জন্য গত ২৪ মার্চ সকালে গ্রিন রোডের হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান।

সকাল ১০টায় টেস্টের জন্য সিমেন দেন রুবেল। তাকে বলা হয় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে। দুপুর ১২টার মধ্যেই তাকে রিপোর্ট দিয়ে দেন রিসিপশনিস্ট। কিন্তু রিপোর্ট দেখেই চমকে যান তিনি।

নিউজবাংলাকে রুবেল বলেন, ‘টেস্টের রিপোর্ট হাতে পেয়েই আমার সন্দেহ হয়। কারণ আমি যেখানে টেস্ট করতে গেলাম, সেই প্রতিষ্ঠানের নাম হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কিন্তু টেস্টের রিপোর্টের ওপরে লেখা আছে গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টার। তার মানে রিপোর্টটি হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের না।

‘আমার মনে আরও প্রশ্ন দেখা দিল, মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই আরেক জায়গা থেকে কীভাবে রিপোর্ট করা সম্ভব? তখন আমার সন্দেহ হয়; এখানে নিশ্চয়ই কোনো ঝামেলা আছে। তখনই আমি রিপোর্টের নিচে যে ডাক্তারের সই আছে, সেই ডাক্তার রুবায়েতুল জান্নাতের সঙ্গে দেখা করতে চাই। কিন্তু রিসিপশনিস্ট বলেন এখন তো ডাক্তার স্যার নেই।’

রুবেল জানান, তখন তার মনে প্রশ্ন আসে, ডাক্তার রুবায়েতুল জান্নাত না থাকলে তার সইটা করল কে?

এমন পরিস্থিতিতে রুবেলের কথার সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নামে নিউজবাংলা। দুই সন্তানের পিতা মুক্তার উদ্দিনকে (ছদ্মনাম) নিঃসন্তান সাজিয়ে গত ৩ এপ্রিল সিমেন অ্যানালাইসিসের টেস্ট করতে তাকে পাঠানো হয় হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সঙ্গে ছিল নিউজবাংলা।

মুক্তার উদ্দিন দুপুর ১২টায় সিমেনের নমুনা দিয়ে পরীক্ষার ফল পেয়ে যান বেলা ২টার মধ্যেই। রিপোর্টটি হাতে পাওয়ার পর বসিলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রুবেলের অভিযোগের অক্ষরে অক্ষরে মিল পায় নিউজবাংলা। রুবেলের মতো তার রিপোর্টও গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টারের প্যাডে দেয়া হয়েছে। রিপোর্টের নিচেও সেই ডাক্তার রুবায়েতুল জান্নাতের সই রয়েছে।

ডাক্তার-প্যাথলজিস্ট ছাড়াই টেস্ট রিপোর্ট
মুক্তার উদ্দিনের টেস্ট রিপোর্ট

যদিও এই দুই-আড়াই ঘণ্টায় হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোনো ডাক্তার বা প্যাথলজিস্টকে ঢুকতে বা বের হতে দেখা যায়নি। পুরোটা সময় সেন্টারে ছিলেন শুধু একজন রিসিপশনিস্ট ও দুজন অফিস সহকারী।

তাহলে ডাক্তার রুবায়েতুল জান্নাত কই, রিপোর্টে তার সই কীভাবে এল এবং গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টারইবা কোথায়? এমন সব প্রশ্ন নিয়ে নিউজবাংলা কথা বলতে চায় রিসিপশনিস্টের সঙ্গে।

টেস্ট রিপোর্টে স্বাক্ষরকারী ডাক্তার রুবায়েতুল জান্নাত কি সেন্টারে আছেন- জানতে চাইলে এই তরুণী বলেন, ‘ডাক্তার স্বাক্ষর করে চলে গেছেন।’

এ সময় নাম জানতে চাইলে বিরক্ত হন ওই রিসিপশনিস্ট। বলেন, ‘আমার নাম দিয়ে আপনারা কী করবেন? আপনাদের যা বলার আমাদের মালিক শামীম আহম্মদকে বলবেন।’

এরপর দীর্ঘদিন হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নজর রেখেও শামীম আহম্মদ কখন সেখানে ঢুকছেন-বেরোচ্ছেন তা নিশ্চিত হতে পারেনি নিউজবাংলা। এদিকে করোনা বাড়তে থাকায় শুরু হয় লকডাউন; থেমে যায় নিউজবাংলার নজরদারিও।

লকডাউন কিছুটা শিথিল হওয়ার পর আবারও হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নজর রাখা শুরু করে নিউজবাংলা। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ জুন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সেন্টারেই দেখা মেলে মালিক শামীম আহম্মদের।

ডাক্তার-প্যাথলজিস্ট ছাড়াই টেস্ট রিপোর্ট
হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শামীম আহম্মদ। ছবি: নিউজবাংলা

হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টারের প্যাডে রিপোর্ট দেয়া হয় কেন, জানতে চাইলে প্রথমেই বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। বলেন, ‘এ রকম কাজ আমরা কখনোই করি না। এটা সম্ভব না।’

এরপর তাকে জানানো হয়, আমরাই একজনকে রোগী সাজিয়ে এখানে পাঠিয়েছিলাম। তার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। এ কথা শোনার পর বিব্রত হয়ে পড়েন হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শামীম। সুর পাল্টে বলেন, ‘হয়তো ভুল করে এমন হতে পারে।’

তখন শামীম আহম্মদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তার এই প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধন নেয়া হয়েছে কি না? নিবন্ধন নম্বর কত?

জবাবে প্রথমে তিনি বলেন, ‘আমার সব লাইসেন্সই আছে।’ দেখতে চাইলে কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, ‘আবেদন করেছি। কিছুদিনের মধ্যেই পেয়ে যাব।’

লাইসেন্স ছাড়া কীভাবে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন, জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে ৩ জুন বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, নিবন্ধন পেতে গত ২৭ মে আবেদন করেছে হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, যা পেন্ডিং রয়েছে।

অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুমতির জন্য আমাদের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা পরিদর্শনে অসংখ্য ত্রুটি পাই। তাই আমরা তাদের লাইসেন্স দিই নাই।’

হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শামীমের সঙ্গে কথা বলার সময় টেস্টের রিপোর্টে সই থাকা ডাক্তার রুবায়েতুল জান্নাতের পরিচয় জানতে চায় নিউজবাংলা। তখন তিনি শুধু তার মোবাইল ফোন নম্বর দেন।

ডাক্তার-প্যাথলজিস্ট ছাড়াই টেস্ট রিপোর্ট

সেখান থেকে বেরিয়ে ফোন দিলে ডাক্তার রুবায়েতুল জান্নাত জানান, তিনি বারডেম হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।

আপনি পার্টটাইম চাকরি করেন হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। কিন্তু গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টারের প্যাডে আপনার সই কেন?

নিউজবাংলার এমন প্রশ্নে রুবায়েতুল জান্নাত বলেন, ‘আমি ওইখানে কাজ করি ঠিক আছে। কিন্তু আপনারা যে স্বাক্ষরের কথা বলছেন সেটা আমার না। কারণ আমি স্বাক্ষর করি হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেস্ট রিপোর্টে; গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টারের প্যাডে না। তা ছাড়া আমি রোজার আগেই হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চাকরি ছেড়ে দিয়েছি।’

রুবায়েতুল জান্নাতের সঙ্গে কথা বলার পর নিউজবাংলা যায় পান্থপথের রূপায়ণ প্রাইম টাওয়ারে অবস্থিত গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টারে, যে প্রতিষ্ঠানের প্যাড ব্যবহার করে টেস্ট রিপোর্ট দেয় শামীম আহম্মদের হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

সেখানে গিয়ে কথা হয় গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টারের মালিক ডাক্তার নাবিদ তওসিফ হোসাইনের সঙ্গে। তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠানটি গত জানুয়ারি মাসেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

কেন বন্ধ করে দিয়েছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনকার হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শামীম আহম্মদ আর আমি গত বছর এই গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করি।

‘কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই দেখি শামীম আহম্মদ ডাক্তারদের স্বাক্ষর নকল করে রোগীদের সব ধরনের প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট দিচ্ছেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে ঝামেলা শুরু হয়। এরপর আমি আমার মানসম্মানের কথা চিন্তা করে নিজেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিই।’

ডাক্তার-প্যাথলজিস্ট ছাড়াই টেস্ট রিপোর্ট
অসংখ্য ত্রুটি থাকার কারণে হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে অনুমোদন দিচ্ছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টারের প্যাডে টেস্ট রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে, জানালে ডাক্তার নাবিদ তওসিফ হোসাইন বলেন, ‘বিষয়টি আমি বেশ কিছু রোগীর বরাতে জানতে পেরেছি। বিষয়টা আমার জন্য বিব্রতকর। কারণ ওই সব রোগীর কোনো ক্ষতি হলে তার দায়ভার তো আমার ওপরেও পড়বে। সে জন্য আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করেছি।’

এ ধরনের রিপোর্টের ফলে রোগী কী ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন, তা জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. ফাতেমা আশরাফের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘এটা তো একটা প্রতারণা। সবার চোখের সামনে লাইসেন্স ছাড়া, ডাক্তার ছাড়া নন-মেডিক্যাল মানুষ দিয়ে একটা ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলছে কীভাবে?

‘সাধারণ মানুষ সন্তান না হওয়ার কষ্ট নিয়ে এখানে এসে প্রতারিত হচ্ছেন। কিন্তু তারা জানতেও পারছে না তারা প্রতারিত হচ্ছেন। আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে এর কঠিন শাস্তি চাই।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বিমানবন্দরে তিন কেজি সোনা জব্দ

বিমানবন্দরে তিন কেজি সোনা জব্দ

বিমানবন্দরে জব্দ করা সোনার বার। ছবি: নিউজবাংলা

সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে করে সৌদি থেকে আসা মোহাম্মদ রিপন নামে এক যাত্রীর জ্যাকেটে ছিল ২৫টি সোনার বার।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদিফেরত এক যাত্রীর কাছ থেকে দুই কোটি টাকা মূল্যের সোনার বার উদ্ধার করেছে কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ টিম।

বুধবার রাত ১১টা ১২ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে করে সৌদি থেকে আসা মোহাম্মদ রিপন নামে এক যাত্রীর কাছ থেকে ২৫টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। এগুলোর ওজন ২ কেজি ৯০০ গ্রাম।

অবৈধভাবে সোনা নিয়ে আসার অভিযোগে রিপনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা কাস্টমস হাউসের ডেপুটি কমিশনার (প্রিভেনটিভ) সানোয়ারুল কবীর।

সৌদি আরব ফেরত এ যাত্রীর হাতে থাকা হুডি জ্যাকেটের ভেতরে ছিল সোনার বার। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে সোনা আনার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

রিপনকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

‘ডাক্তার’ পদবি চান হোমিও চিকিৎসকরা

‘ডাক্তার’ পদবি চান হোমিও চিকিৎসকরা

হোমিও শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১১ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করতে চান হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনে এমন দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ছাত্র অধিকার সংগঠন।

সংগঠনটির সভাপতি আরমান হোসেন বলেন, ‘সম্প্রতি আদালত হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের নামের পূর্বে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করা বেআইনি ঘোষণা করেছে। আদালত স্বপ্রনোদিত হয়ে উক্ত আদেশটি দিয়েছে, যা হোমিওপ্যাথিক আইনের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী ৪ বছর ৬ মাস কলেজে লেখাপড়া করে সরকারি সকল ফি পরিশোধ করে সরকার কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত হয়ে কেন ডাক্তার লিখতে পারবেনা? পেশাগত জীবনে আমরা আমাদের যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে চাই।’

তিনি দাবি করেন, হোমিওপ্যাথিক বিষয়ে আলাদা আইন আছে। দ্য বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক প্র্যাকটিশনার্স অর্ডিন্যান্স ১৯৮৩ এবং মাদকদ্রব্য আইন ২০১৮-এর আওতায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের নামের আগে ডাক্তার পদবী ব্যবহার অইনগতভাবে বৈধ।

আরমান হোসেন আরও করেন, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা আইনণতভাবে নামের আগে ডাক্তার পদবি ব্যবহার করেন।

কিন্তু আদালতের কাছে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে আদালত এ রায় দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, এই রায়ের ব্যাপারে যথাযথ আইনী পদক্ষেপের মাধ্যমে মহামান্য আদালতের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিলের মাধ্যমে অধিকার ফিরবে।’

মানববন্ধনে নাগরিকের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ১১ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

শেয়ার করুন

এস-ফ্যাক্টরে ‘কোটি টাকা হাতিয়ে নিল’ সুইসড্রাম

এস-ফ্যাক্টরে ‘কোটি টাকা হাতিয়ে নিল’ সুইসড্রাম

বাজারে ছাড়া প্রতারক চক্রের এস-ফ্যাক্টর ওষুধ

প্রতারক চক্রটির মূল হোতা কাজী আল-আমিন দামি ব্রান্ডের গাড়ি নিয়ে কোম্পানির নতুন সদস্যদের কাছে কখনও প্রবাসী, কখনও বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন।

কোম্পানির নাম সুইসডার্ম। বাজারে আছে তাদের এক মহৌষধ ‘এস-ফ্যাক্টর’। দাবি, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও হার্টের অসুখসহ এমন কোনো রোগ নেই যার নিরাময় এই ওষুধটি করতে পারে না। সম্প্রতি এই ওষুধকে তারা করোনা প্রতিরোধী হিসেবেও প্রচার করে আসছিল।

চাকচিক্যময় প্রচারের মাধ্যমে কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ওঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

মাল্টিলেভেল মার্কেটিংয়ের (এমএলএম) মাধ্যমে এই ওষুধ বিক্রি করা হতো গ্রাহকদের কাছে। যারা কিনতেন, কোম্পানির সদস্য করা হতো তাদের।

কোম্পানির নতুন সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে টাকা হাতিয়ে নিতো সুইসডার্ম। সর্বনিম্ন ৪ হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায় তাদের সদস্য হওয়া যেত। টাকার বিনিময়ে সদস্যদের দেয়া হতো মহৌষধ নাম দেয়া এই এস-ফ্যাক্টর।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে কোম্পানিটির প্রায় ৫০ হাজার সদস্য রয়েছে। তাদের কাছ থেকেই ২০-২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এমএলএম পদ্মতিতে এই ভূয়া পণ্য বিক্রির ফাঁদ পেতেছিলেন মুন্সিগঞ্জের কাজী আল-আমিন। তার এই প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত আছেন আরও বেশ কিছু মানুষ। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। প্রতারণার অভিযোগে আল-আমিনসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতারণার কৌশল জানিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলাও হয়েছে।

এস-ফ্যাক্টরে ‘কোটি টাকা হাতিয়ে নিল’ সুইসড্রাম
প্রতারণার অভিযোগ গ্রেপ্তার হওয়া ১৭ জন

র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক নিউজবাংলাকে বলেন, ‘ওরা বিভিন্ন ওষুধের কথা বলতো। যেগুলোর মিথ্যে এবং অবাস্তব গুণের কথা বলে সামর্থ্যবানদের কাছে বিক্রি করে সদস্যপদ দিত। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও বিস্তারিত তথ্য নেয়ার চেষ্টা চলছে।’

যেভাবে সদস্য সংগ্রহ

র‌্যাবের ভাষ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃতরা প্রতারণাকেই পেশা হিসেবে নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করেছিল। বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের কর্মী ও সদস্য আছে; যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেকার তরুণ-তরুণীদের স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখাত।

প্লাটিনাম, গোল্ড, সিলভার ও সাধারণ হিসেবে সদস্যদের অর্ন্তভুক্ত করা হতো। কথাবার্তায় পটু, আর্থিকভাবে মোটামুটি স্বচ্ছলরাই ছিল তাদের লক্ষ্য। কেউ সদস্য হয়ে গেলে তিনিও নতুন সদস্য সংগ্রহের মিশনে নেমে যেতেন।

যেহেতু টাকা দিয়ে সদস্য হতে হয়, সেহেতু নতুন সদস্য যত বেড়েছে কোম্পানিটি ততই ফুলে ফেঁপে ওঠেছে। এভাবেই প্রায় ৫০ হাজার সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে ২০-২৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

যত কৌশল

গ্রেপ্তার কাজী আল-আমিন দামি ব্রান্ডের গাড়ি নিয়ে কোম্পানির নতুন সদস্যদের কাছে কখনও প্রবাসী, কখনও বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। গ্রাহকদের প্রলুব্ধ করে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে মনোনয়ন দেয়া হতো। যার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়া হতো।

শিকারদের প্রলুব্ধ করে এবং তথ্যাদি সংগ্রহ করে নানা কৌশলে প্রতারক চক্রের অফিস কার্যালয়ে নিয়ে আসা হতো। এদেরকে গ্রাহক প্রতি বা নির্দিষ্ট সংখ্যক গ্রাহক সংগ্রহের টার্গেট দিয়ে বিপুল অর্থ প্রদানের লোভ দেখানো হতো।

চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অভিজাত ও আকর্ষণীয় রেস্তোরাঁয় ভিকটিমদেরকে নিয়ে এসে সভা-সেমিনার, লাঞ্চ ও ডিনার পার্টির আয়োজন করত।

সেখানে সুইসডার্ম অ্যাপস-এ একাউন্ট খোলার আহ্বান জানানো হতো।

ঘন ঘন অফিস পরিবর্তন করা ছিল তাদের আরেকটি কৌশল। প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট কোন সাইনবোর্ড বা ঠিকানাও ব্যবহার করত না তারা।

নতুন সদস্যদের ৫টি ক্যাটাগরির মাধ্যমে অন্তর্ভুক্ত করা হতো। ১ ও ২ ক্যাটাগরিতে যথাক্রমে ৪,২০০ ও ৬,২০০ টাকায় ১ প্যাকেট ওষুধ এবং ৩ ও ৪ ক্যাটাগরিতে ২৬,২০০ ও ৫৮,০০০ হাজার টাকায় ৬ থেকে ১৪ প্যাকেট এবং ৫ নম্বর ক্যাটাগরিতে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকায় ২৮ প্যাকেট এস-ফ্যাক্টর দেয়া হতো।

আরও যেসব অভিযোগ

র‌্যাব বলছে, কোম্পানিটির সব কার্যক্রমই প্রতারণামূলক। পণ্যগুলো বাজারজাত করতে বিএসটিআই এবং ঔষধ প্রশাসনের কাছ থেকে তারা কোনো অনুমতি নেয়নি। পণ্য আমদানি সংক্রান্ত কোম্পানির সঙ্গে তাদের বৈধ কাগজপত্র নেই। ।

এস-ফ্যাক্টর ছাড়াও সৌন্দর্যবর্ধনকারী কয়েকটি প্রসাধনীও তারা উচ্চমূল্যে বিক্রি করত। এগুলো শরীর ও ত্বকে ব্যবহার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেও জানিয়েছে র‌্যাব।

শেয়ার করুন

ব্যাংক হিসাব তলব: সাংবাদিক সম্মেলন স্থগিত

ব্যাংক হিসাব তলব: সাংবাদিক সম্মেলন স্থগিত

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রতিবাদে রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়। ছবি: নিউজবাংলা

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসা পর্যন্ত তাদের ঘোষিত ২৩ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি স্থগিতে সম্মত হন। বৈঠকে হাছান মাহমুদ বলেন, ইতোমধ্যে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছেন। সরকারও দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট রয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদের অনুরোধে বৃহস্পতিবার সারা দেশে সমাবেশ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে সাংবাদিক নেতারা।

বুধবার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের আহ্বানে ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবের ইস্যুতে মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন সাংবাদিক নেতারা।

বৈঠকে হাছান মাহমুদ বলেন, ইতোমধ্যে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেছেন। সরকারও দ্রুত এ সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট রয়েছে।

তিনি এ বিষয়ে সহযোগিতার পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে কর্মসূচি স্থগিত রাখার জন্য সাংবাদিক নেতাদের অনুরোধ করেন।

ব্যাংক হিসাব তলব: সাংবাদিক সম্মেলন স্থগিত
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ফাইল ছবি

মন্ত্রীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসা পর্যন্ত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় সাংবাদিকদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা করেন।

এর আগে রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশের সব প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়। গণমাধ্যম ও সরকারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতেই এটা করা হয়েছে অভিযোগ করে কর্মসূচিতে বলা হয়, এর সন্তোষজনক সমাধান না হলে আন্দোলন চলবে।

১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করে গত ১২ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন ব্যাংকে চিঠি পাঠায় মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসী অর্থায়ন প্রতিরোধে গঠিত বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

চিঠিতে এ মঙ্গলবারের মধ্যে নির্দিষ্ট ফরমে সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাবের সব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি, ট্রানজেকশন প্রোফাইল, শুরু থেকে এখন পর্যন্ত লেনদেনের বিবরণী।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান ছাড়া অন্য সাংবাদিক নেতারা হলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) (বিএনপি সমর্থিত) সভাপতি আব্দুল কাদের গণি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম।

ব্যাংক হিসাব তলব: সাংবাদিক সম্মেলন স্থগিত
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) (বিএনপি সমর্থিত) সভাপতি এম আবদুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন রোকনের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

অন্য যাদের হিসাব দিতে বলা হয়েছে, তারা হলেন: বিএফইউজের সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপু এবং ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।

পেশাদার সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর নির্বাচিত শীর্ষ ১১ নেতার ব্যাংক হিসাব তলবের ঘটনায় সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ গণমাধ্যমে কথা বলেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় হাছান মাহমুদের সঙ্গে সচিবালয়ে সাংবাদিক নেতাদের বৈঠক হয়। বৈঠকে সাংবাদিক নেতারা তাদের নির্বাচিত শীর্ষ নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলব করার ক্ষেত্রে সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক পরিচয় একীভূত করার ঘটনাকে রহস্যজনক বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব তলবের খবরে সারা দেশের সাংবাদিকদের মনে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

সচিবালয়ে এ সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএফইউজে সভাপতি মোল্লা জালাল, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মজিদ, জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানী ও সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খান।

শেয়ার করুন

গণপিটুনিতে হত্যার মামলায় দুই শিশুর বিচার শুরু

গণপিটুনিতে হত্যার মামলায় দুই শিশুর বিচার শুরু

গৃহবধূ তাসলিমা বেগম রেনু। ফাইল ছবি

উত্তর বাড্ডায় ২০১৯ সালের ২০ জুলাই ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে আহত করে বিক্ষুব্ধ জনতা। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের সন্তানের ভর্তির ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়ে মর্মান্তিক এ ঘটনার শিকার হন রেনু।

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গৃহবধূ তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় দুই শিশুর বিচার শুরু হয়েছে।

ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোছা. কামরুন্নাহার বুধবার বিচার শুরুর আদেশ দেন। পৃথক আদালতে চলছে এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১৩ আসামির বিচার।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আফরোজা ফারহানা আহমেদ অরেঞ্জ নিউজবাংলাকে জানান, অভিযোগ গঠনের পর মামলাটিতে দুই শিশুর বিরুদ্ধে সাক্ষ্য নিতে ৮ নভেম্বর দিন ঠিক করেন বিচারক।

উত্তর বাড্ডায় ২০১৯ সালের ২০ জুলাই ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে আহত করে বিক্ষুব্ধ জনতা। গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের সন্তানের ভর্তির ব্যাপারে খোঁজ নিতে গিয়ে মর্মান্তিক এ ঘটনার শিকার হন তাসলিমা বেগম রেনু।

এ ঘটনায় ওই দিন বাড্ডা থানায় ৪০০-৫০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন রেনুর ভাগনে নাসির উদ্দিন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আব্দুল হক ২০২০ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ১৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় মোল্লা, রিয়া বেগম ময়না, আবুল কালাম আজাদ, কামাল হোসেন, মো. শাহিন, বাচ্চু মিয়া, মো. বাপ্পি, মুরাদ মিয়া, সোহেল রানা, আসাদুল ইসলাম, বেল্লাল মোল্লা, মো. রাজু, মহিন উদ্দিন, জাফর হোসেন পাটোয়ারী ও ওয়াসিম আহমেদ।

তাদের মধ্যে জাফর ও ওয়াসিম অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিচার শিশু আদালতে করার সিদ্ধান্ত হয়।

এর আগে ১ এপ্রিল প্রাপ্তবয়স্ক ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়েছে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফাতেমা ইমরুজ ক্ষনিকার আদালতে। তাদের মধ্যে তিনজন কারাগারে এবং বাকি ১০ জন জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

সর্বশেষ মামলায় দুই শিশু আসামি জাফর ও ওয়াসিমের বিরুদ্ধে বুধবার অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।

আসামিদের মধ্যে ওয়াসিম, হৃদয় ও রিয়া বেগম আদালতে দোষ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

শেয়ার করুন

উচ্চশিক্ষা পাঠ্যক্রম ঢেলে সাজানোর পরামর্শ

উচ্চশিক্ষা পাঠ্যক্রম ঢেলে সাজানোর পরামর্শ

‘আউটকাম বেইজড এডুকেশন বাস্তবায়ন’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা। ছবি: নিউজবাংলা

ড. আবু তাহের বলেন, ‘প্রয়োজনের নিরিখে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা হলে উচ্চশিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আসবে। পাঠ্যক্রম যেন জীবনমুখী হয়, দক্ষ স্নাতক তৈরি ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা উপযোগী হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে উচ্চশিক্ষা স্তরে পাঠ্যক্রম ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের।

ইউজিসির স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যানিং অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স (এসপিকিউএ) বিভাগ আয়োজিত ‘আউটকাম বেইজড এডুকেশন বাস্তবায়ন’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বুধবার সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ পরামর্শ দেন।

ড. আবু তাহের বলেন, ‘প্রয়োজনের নিরিখে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা হলে উচ্চশিক্ষায় গুণগত পরিবর্তন আসবে। পাঠ্যক্রম যেন জীবনমুখী হয়, দক্ষ স্নাতক তৈরি ও চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদা উপযোগী হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

এসপিকিউএ বিভাগের উপ-পরিচালক বিষ্ণু মল্লিকের সঞ্চালনায় কর্মশালায় বিভাগের পরিচালক ড. ফখরুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে এসপিকিউএ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক জেসমিন পারভীনসহ কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ড. আবু তাহের বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আউটকাম বেইজড এডুকেশন অনুসরণ করে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করতে হবে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে উচ্চশিক্ষা স্তরে পাঠ্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এর মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃজন হবে এবং শিক্ষায় বৈচিত্র্য আসবে।’

কর্মশালায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ৩০ জন শিক্ষক অংশ নেন। রিসোর্স পারসন হিসেবে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মোজাহার আলী।

শেয়ার করুন

রাজধানীতে নিজ ঘরে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ

রাজধানীতে নিজ ঘরে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ

রামপুরায় তরুণীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বামী হৃদয় পলাতক। ছবি: সংগৃহীত

রামপুরা থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইয়াকুব আলী বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন জানান ছয় মাস আগে স্বামী-স্ত্রী মিলে ওই রুম ভাড়া নেয়। ওই বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে থানায় খবর দেয়। দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’

রাজধানীর রামপুরার জামতলা এলাকার একটি বাসা থেকে এক তরুণীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, তরুণীর নাম লামিয়া আক্তার। বয়স ১৯ বছর। গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার খোরকোলা গ্রামে।

বুধবার মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রামপুরা থানার পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইয়াকুব আলী বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে রামপুরার জামতলা এলাকার পানির পাম্পের পাশে ১৩৮/৪/৫/এ বাসার চার তলায় একটি রুম থেকে গলিত মরদেহ উদ্ধার করি। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।’

তিনি বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন জানান ছয় মাস আগে স্বামী-স্ত্রী মিলে ওই রুম ভাড়া নেয়। ওই বাসা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে থানায় খবর দেয়। দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে ওড়নায় ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।’

তরুণীর স্বামী হৃদয় ফকির পলাতক। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন