বিদ্যুৎযোদ্ধাদের বেতনের অর্ধেক টাকা কাদের পকেটে?

বিদ্যুৎযোদ্ধাদের বেতনের অর্ধেক টাকা কাদের পকেটে?

কীভাবে ঠকাচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে ঠিকাদার আমাদের চাকরি দিছে, তারা ব্লাংক চেকে আমাদের সই নিয়ে নেয়। একেকবার তিনটা করে চেকে সই নেয়। ওই তিনটা শেষ হওয়ার আগেই আরও তিনটায় সই নেয়। এই দেখেন চেকের ছবি তুলে আনতে বলছিলেন, আনছি। ওরা আমাদের কারেন্টের মতো করে রক্ত চুষে খায়। আমরা কেউ কিছু কইতে পারি না চাকরি হারানোর ভয়ে।’

দেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)। গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে জীবন বাজি রেখে রাত-দিন কাজ করতে হয় এখানকার লাইনম্যানদের। অভিযোগ আছে, ব্যাংকে নির্দিষ্ট সেলারি অ্যাকাউন্ট থাকলেও মাস শেষে যে টাকা ঢোকে, তার পুরোটা তুলতে পারেন না এই বিদ্যুৎযোদ্ধারা।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্যাংক থেকে এসএমএস দিয়ে তাদের যে টাকা ঢোকার কথা জানানো হয়, আসলে তার অর্ধেকটা পান তারা। সে টাকাও তাদের নিতে হয় কয়েক দিন পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হাতে হাতে। রক্ত পানি করা পরিশ্রমের টাকার অর্ধেকটা পেলেও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলার সাহস পান না এসব লাইনম্যান।

এই বঞ্চনার কথা সাহস করে নিয়োগদাতা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বললে তাদের বলা হয়, ‘এটাই সিস্টেম। চাকরি করলে করো, না হলে চলে যাও।’ বিষয়টি নিয়ে ডিপিডিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে বলছেন লাইনম্যানরা।

উদাহরণ দিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন লাইনম্যান নিউজবাংলাকে জানান, এই চাকরিতে ঢুকতে অন্তত ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। শুরুতে প্রত্যেক লাইনম্যানকে নিয়োগ দেয়া হয় ১৪ হাজার টাকা মাসিক বেতনে। কয়েক বছর কঠোর পরিশ্রমের পর বেতন বাড়ে এক-দুই হাজার টাকা।

তারা জানান, ধরেন, কোনো লাইনম্যান কয়েক বছর কাজ করার পর তার বেতন হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। ব্যাংক থেকে তার কাছে ১৭ হাজার টাকা ঢোকার এসএমএস এলেও তিনি পান সর্বোচ্চ ৯ হাজার টাকা। এটাই এখানকার অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।

লাইনম্যানদের এমন শাসন ও শোষণের বিষয়টি নিউজবাংলা সম্প্রতি জানতে পেরেছে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে, যারা এর প্রমাণ হিসেবে তাদের ব্যাংক চেক, সেলারির এসএমএস দিয়েছেন এই প্রতিবেদককে।

বিদ্যুৎযোদ্ধাদের বেতনের অর্ধেক টাকা কাদের পকেটে?

লাইনম্যানদের কাছে এসব অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব-সংলগ্ন বিদ্যুৎ ভবনের চতুর্থ তলায় ডিপিডিসির অফিসে গিয়ে খোঁজ নেয় নিউজবাংলা।

সেখানকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিপিডিসির আওতায় লাইনম্যান হিসেবে কাজ করেন ৪৫০ জন। লাইনম্যানদের এই সংখ্যা ঠিক হলে মাসে জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হলেও মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ডিপিডিসির ভুক্তভোগী এক লাইনম্যান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের মতো লাইনম্যানদের চাকরি হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। ডিপিডিসির আন্ডারে আমরা আউটসোর্সিংয়ে কাজ করি। নিয়োগ দেয় ডিপিডিসির ঠিকাদাররা।

বিদ্যুৎযোদ্ধাদের বেতনের অর্ধেক টাকা কাদের পকেটে?


‘চাকরিতে আমাদের স্টার্টিং বেতন ধরে ১৪ হাজার টাকা। অ্যাকাউন্টে এসএমএস আসে ১৪ হাজারের। কিন্তু আমরা ওই বেতনটা পাই না। আমার ১৭ হাজার টাকা বেতন। আমার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খুলে দিছে অফিস। ব্যাংক থেকে মেসেজ আসে ১৭ হাজার টাকাই ঢুকছে। এই দেখেন মেসেজ। মাসের ৩ তারিখ মেসেজ আসছে। কিন্তু মাসের ১২ তারিখ আমারে ধরিয়ে দিল ৯ হাজার টাকা।’

অ্যাকাউন্ট আপনাদের নামে; অন্যরা টাকা তুলছেন কীভাবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রথম দিকে আমাদের কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না। ঠিকাদার যারা আমাদের চাকরি দিত, তাদের হাত থেকেই টাকা নিতে হতো। তখনও আমাদের সবার বেতনের টাকা মারা হতো।

‘এগুলো নিয়ে বলাবলি হওয়ার কারণে সরকার বলছে, আমাদের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে যেন টাকা দেয়া হয়। তাই বছর দু-এক হলো আমাদের অ্যাকাউন্ট হয়েছে। কিন্তু সে অ্যাকাউন্টে যে বেতন ঢোকে, তার সব টাকা আমাদের কপালে জোটে না। হাতে হাতেই বেতন দেয় ঠিকাদার, তাও অর্ধেক।’

আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘লাইনম্যানের এই চাকরিতে ঢুকতে ৫০ হাজার নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সবার কাছ থেকে নেয় কি না জানি না। আমি যাদের চিনি, সবার কাছ থেকেই ৫০ হাজার নিছে। তারপরও আমাদের ঠকায়।’

বিদ্যুৎযোদ্ধাদের বেতনের অর্ধেক টাকা কাদের পকেটে?


কীভাবে ঠকাচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে ঠিকাদার আমাদের চাকরি দিছে, তারা ব্লাংক চেকে আমাদের সই নিয়ে নেয়। একেকবার তিনটা করে চেকে সই নেয়। ওই তিনটা শেষ হওয়ার আগেই আরও তিনটায় সই নেয়। এই দেখেন, চেকের ছবি তুলে আনতে বলছিলেন, আনছি। ওরা আমাদের কারেন্টের মতো করে রক্ত চুষে খায়। আমরা কেউ কিছু কইতে পারি না চাকরি হারানোর ভয়ে।’

ভুক্তভোগী এসব লাইনম্যান বলছেন, চুক্তির যে বেতন তার অর্ধেক টাকা কেন দেয়া হয়- সে অভিযোগ করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলে, ‘এটাই সিস্টেম। চাকরি করলে করো, না হলে যাও।’ আর ডিপিডিসির স্যারদের বললে, তারা কোনো সাড়া দেন না।

সহকর্মীদের কথায় সাহস পেয়ে নিউজবাংলার কাছে মুখ খোলেন ডিপিডিসির আরও একজন লাইনম্যান। বলেন, ‘আমরা ডিপিডিসির কর্মী। কিন্তু আমাদের চাকরের সমান দামও নেই। আমাদের রক্ত পানি করা বেতন মেরে খায় ওরা। পিলারে পিলারে জীবন হাতে নিয়ে কাজ করি। তারপরও যদি আমাদের বেতনের টাকা মেরে খায়, তাহলে কেমন লাগে বলেন? ৪ তারিখের মধ্যে সেলারির এসএমএস আসে। কিন্তু ঠিকাদার হাতে টাকা দেয় ১০ তারিখের পর, তাও অর্ধেক।’

বিদ্যুৎযোদ্ধাদের বেতনের অর্ধেক টাকা কাদের পকেটে?


বিষয়টি নিয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা হয়েছে আরও একজন লাইনম্যানের। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘এমনতিই আমাদের মতো লাইনম্যানদের বেতন কম। তারপর টাকা মেরে খায়। এ জন্য অনেকে খারাপ কাজ করে ফেলে।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি কয়েকজন লাইনম্যানের চাকরি গেছে। বলা হচ্ছে, তারা কেব্‌ল চুরি করেছে, তাই চাকরি গেছে।’

এ সময় তিনি তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘বেতনের টাকা মেরে খেলে চুরি করবে না তো কী করবে? সংসার চালাবে কীভাবে? নিজে চলবে কীভাবে।’

লাইনম্যানদের পরিচয়পত্র ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে দেখা যায়, জেডএফ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছে তাদের।

লাইনম্যানদের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মোকলেসুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আপনি যেসব বিষয়ে বলছেন, এগুলো সত্য না।’

তাহলে সত্য কী- জানতে চাইলে তিনি আর কথা বলতে চাননি।

এ ব্যাপারে ডিপিডিসি অফিসে কথা হয় সেখানকার চিফ কো-অর্ডিনেশন অফিসার জুলফিকার আলীর সঙ্গে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এগুলো হয়ে থাকতে পারে। অভিযোগের তথ্য-প্রামণ থাকলে অসৎ লোকদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এর সঙ্গে যদি ডিপিডিসির লোকও জড়িত থাকে, ছাড় দেয়া হবে না।’

ডিপিডিসির ঠিকাদার নিয়োগ শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (কন্ট্রাক্ট অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) সালেক মাহমুদের কাছে অভিযোগের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। এমন কোনো প্রমাণ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ডিপিডিসির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) নিহার রঞ্জন সরকার বলেন, ‘মানুষ নিয়ে যারা ব্যবসা করে, তারা তো ব্লাড সাকার। ওরা তো মানুষের রক্তই চুষবে।’

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘কী আর বলব। বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।’

ডিপিডিসির ডিজিএম নিহার রঞ্জন সরকারের পর নিউজবাংলা কথা বলে প্রতিষ্ঠানটির আরেক কর্মকর্তার সঙ্গে, যিনি তার পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।

এই লুটপাটে ডিপিডিসির লোকজনও জড়িত ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারদের বাপের ক্ষমতা আছে টাকা একা খাওয়ার? কারও ভাগ কেউ ছাড়ে না। এবার বুঝে নেন। দেখেন না, সবাই চুপ। এতই যদি ব্যবস্থা নেয়, শ্রমিকরা যখন অভিযোগ করে তখন তারা কই যায়?’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

সৌদিতে শুল্ক ছাড়াই ১৩৭ পণ্য রপ্তানি চায় বাংলাদেশ

সৌদিতে শুল্ক ছাড়াই ১৩৭ পণ্য রপ্তানি চায় বাংলাদেশ

সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বে সৌদি আরবে সফররত বাংলাদেশি দল

সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) আওতায় দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়েও অনুরোধ সালমান এফ রহমান।

সৌদি আরবে ১৩৭টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী আল কাসাবির কাছে এই অনুরোধ করেন।

শনিবার আল কাসাবির সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন সালমান এফ রহমান। সরকারি সফরে তিনি এখন সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব বর্তমানে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত ও প্লাস্টিক পণ্য, হিমায়িত মাছ ও ওষুধ আমদানি করে উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান হালাল মাংস রপ্তানিতেও আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ সময় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে জোরদার করতে সৌদি আরবে রপ্তানি হয় এমন ১৩৭টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা চান তিনি। এ ছাড়া সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাবসা করার সুযোগ দেওয়ারও অনুরোধ করেন।

সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী দাবি করেন, তার দেশ বিদেশিদের বৈধভাবে ব্যবসা করার সুযোগ দেয়। বাংলাদেশিরা এ ব্যপারে সৌদি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহায়তা পাবে।

সৌদি আরব চাইলে বাংলাদেশ সৌদি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠা করে বিশেষ সুবিধা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও আল কাসাবিকে জানান সালমান এফ রহমান। সৌদি পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (পিআইএফ) আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়েও অনুরোধ জানান তিনি। এ ব্যপারে ইতিবাচক মনোভব দেখান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীও।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের ঢাকা থেকে পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ এবং কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিনিয়োগ করতে পারে।

এ ছাড়া ২০১৯ সালে সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরের সময় দুই বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে স্বাক্ষরিত বিভিন্ন সমঝোতা দ্রুত কার্যকর করারও অনুরোধ জানান তিনি। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন কাসাবি।

সালমান এফ রহমান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরেরও আমন্ত্রণ জানান। এই আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করেন আল কাসাবি।

এর আগে বৈঠকের শুরুতেই সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন সালমান এফ রহমান। শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সৌদি সরকার অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলে জানান সৌদি বাণিজ্যমন্ত্রী।

ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন, পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা আফরোজ এবং সৌদি আরবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

তুরাগে যাত্রীসহ প্রাইভেটকার, নিহত ১

তুরাগে যাত্রীসহ প্রাইভেটকার, নিহত ১

প্রতীকী ছবি।

উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মনির হোসেন জানান, প্রাইভেটকারটি ঢাকা থেকে আশুলিয়ার দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটি টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের মরাগাং এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে তুরাগ নদে পড়ে যায়। এসময় গাড়ি থেকে দুইজন বেরিয়ে আসতে পারলেও, আটকা পড়েন একজন।

ঢাকার সাভারে একটি প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তুরাগ নদে পড়ে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দুইজন।

তাদের আশুলিয়ার নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের মরাগাং এলাকায় শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম ভোলা দাশ। আহত দুইজনের নাম জানা যায়নি।

উত্তরা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মনির হোসেন জানান, প্রাইভেটকারটি ঢাকা থেকে আশুলিয়ার দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটি টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের মরাগাং এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে তুরাগ নদে পড়ে যায়। এসময় গাড়ি থেকে দুইজন বেরিয়ে আসতে পারলেও, আটকা পড়েন একজন।

‘ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট গাড়ির ভেতর থেকে একজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। আহত দুইজনকে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।’

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ কুমার গোপ বলেন, ‘পানিতে তলিয়ে যাওয়া প্রাইভেটকারের আহত দুই যাত্রীকে আশুলিয়ার নারী ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। মরদেহ থানায় নেয়া হয়েছে। পানির নিচে থাকা প্রাইভেটকারটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’

শেয়ার করুন

গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত মরদেহের পাশে বসে কাঁদছিল শিশু

গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত মরদেহের পাশে বসে কাঁদছিল শিশু

ওবায়দুর রহমান বলেন, এলাকার একটি হাওরে কয়েকজন লোক মাছ ধরছিলেন। এ সময় তারা একটি শিশুর কান্না শুনতে পান। তখন আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে দেখতে পান হাওরের পাশে নির্জন স্থানে ক্ষতবিক্ষত এক নারীর মরদেহ পড়ে আছে। পাশে বসে শিশুটি কাঁদছে।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে ইয়াসমিন নামে এক গৃহবধূর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে পলাতক আছেন স্বামীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার গাঙাইল ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে মদনপুর-যুগের হাওর নামক স্থান থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিউজবাংলাকে নিশ্চিত করেছেন নান্দাইল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওবায়দুর রহমান।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি জানান, শ্রীরামপুর গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পাইকুড়া ইউনিয়নের সোহাগপুর গ্রামের ইয়াসমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক কলহ ছিল। তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। পারিবারিক কলহে গৃহবধূ ইয়াসমিন তার বাপের বাড়িতে চলে গেলেও দুই দিন আগে স্বামীর বাড়িতে ফিরে আসেন।

ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘এলাকার একটি হাওরে কয়েকজন লোক মাছ ধরছিলেন। এ সময় তারা একটি শিশুর কান্না শুনতে পান। তখন আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে দেখতে পান হাওরের পাশে নির্জন স্থানে ক্ষতবিক্ষত এক নারীর মরদেহ পড়ে আছে। পাশে বসে শিশুটি কাঁদছে।

‘জেলেদের চিৎকারে স্থানীয়রা এসে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।’

পুলিশের ওই এসআই বলেন, ‘তিন বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার নামের শিশুটি নিহত গৃহবধূর মেয়ে। গৃহবধূর বুকে, পিটে ও হাতে ছুরির আঘাত রয়েছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হতে পারে।’

মরদেহ থানায় রাখা হয়েছে। রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ঘটনার পর থেকে ওই নারীর স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা লাপাত্তা বলে জানায় পুলিশ।

শেয়ার করুন

স্কুলের মাঠ দখল করে কলাবাগান

স্কুলের মাঠ দখল করে কলাবাগান

স্কুলের মাঠ দখল করে সেখানে রোপন করা হয় কলাগাছ। ছবি: নিউজবাংলা

করোনায় বন্ধ থাকার সুযোগে স্কুলের মাঠে কলাগাছের চারা রোপন করেন ওই স্কুলের জমিদাতার নাতিরা। তাদের দাবি, জমির মালিকানা তাদের দাদি পিয়ারজান বিবির ছিল না। তাই তিনি জমি লিখে দিতে পারেন না। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও জমিদাতার স্বজনদের মধ্যে।

ময়মনসিংহের নান্দাইলে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে কলাগাছের বাগান করেছেন জমিদাতার পরিবারের সদস্যরা। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে পাঠদান চললেও, মাঠে খেলাধুলা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবিভাবকসহ স্থানীয়রা।

উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের কুতুবপুর পিয়ারজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে কলাগাছ লাগানোর ঘটনায় কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদ জানালেও, লাভ হয়নি। সালিশে বসেও সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে বিদ্যালয়ের নামে জমি লিখে দেন পিয়ারজান বিবি নামের এক নারী। তিনি বর্তমানে বেঁচে নেই।

৪৭ বছর পর জমিদাতার নাতিরা দাবি করছেন, জমির মালিকানা পিয়ারজান বিবির ছিল না। তাই তাদের দাদি জমি লিখে দিতে পারেন না। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও জমিদাতার স্বজনদের মধ্যে।

স্থানীয়রা জানান, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে প্রায় দেড় বছর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এ সময়ে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে কম আসতেন। এই সুযোগে বিদ্যালয় মাঠে কলাগাছের চারা রোপন করে জমিদাতার স্বজনরা।

খবর পেয়ে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে গেলে তাদের দেয়া হয় নানা রকম হুমকি। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে নান্দাইল মডেল থানায় মামলা করেন।

প্রধান শিক্ষক রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘গত ২৯ মে স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয় জমিদাতার স্বজনরা বিদ্যালয়কে ৩১ শতক জমি সাফকবলা দলিল করে দেবেন। বিনিময়ে তাদের তিন লাখ টাকা দেয়া হয়। কিন্তু এখন তারা জমি লিখে দেয়ার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে পাঠদানের জন্য একমাত্র টিনশেড ঘরটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, মাঠ থেকে কলাগাছ সরানো হয়নি। এ অবস্থায় গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি খোলা হয়।’

জমিদাতা পিয়ারজান বিবির নাতি আবুল ইসলাম জানান, তারা তিন লাখ টাকা পেয়েছেন। তবে জমি লিখে দিতে হলে আগের দলিল বাতিল করতে হবে।

পিয়ারজান বিবির আরেক নাতি সুরুজ আলী বলেন, ‘আগের দলিল বাতিল করা না হলে নতুন করে জমি লিখে দেব না। গাছগুলো সরানোর বিষয়ে তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক বলেন, ‘একটি মীমাংসিত বিষয়কে জটিল করে তুলেছেন জমিদাতার স্বজনরা। ঘটনাটি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

ছাদ থেকে পড়ে মেট্রোরেলের কর্মী নিহত

ছাদ থেকে পড়ে মেট্রোরেলের কর্মী নিহত

ঢাকা মেডিক্যালে শান্তর মৃতদেহ

মেট্রোরেলের শেওড়াপাড়া আট নম্বর স্টেশনে কাজ করতেন ২৩ বছর বয়সী শান্ত। আগারগাঁও তালতলার একটি বাসায় কয়েকজন মিলে থাকতেন।

রাজধানীর আগারগাঁও তালতলা এলাকার একটি ভবনের ৬ তলা ছাদ থেকে অসাবধানতায় পড়ে গিয়ে আরিফুল ইসলাম শান্ত নামে এক মেট্রোরেল কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে নয়টার তার মৃত্যু হয়।

নিহতের চাচা আব্দুল হান্নান জানান, মেট্রোরেলের শেওড়াপাড়া আট নম্বর স্টেশনে কাজ করতেন ২৩ বছর বয়সী শান্ত। আগারগাঁও তালতলার একটি বাসায় কয়েকজন মিলে থাকেন। ওই বাসার ছয় তলার ছাদে মোবাইলে কথা বলতে বলতে অসাবধানবশত নিচে পড়ে যান।

প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলেও পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যালে শান্তকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের আবু সালেকের সন্তান তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল খান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকেও জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

প্রতারক চাকরিদাতারা রিমান্ডে

প্রতারক চাকরিদাতারা রিমান্ডে

গ্রেপ্তার হওয়া তিন প্রতারক

ড্রিম জবস ইন কানাডা নামে প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতারণা করে আসছে। চক্রের একটি অংশ প্রথমে ভিকটিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিবিড় বন্ধুত্ব গড়ে তোলে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক মেসেঞ্জার, ভয়েস-ওভার-আইপি সার্ভিস ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণার দায়ে গ্রেপ্তার তিন প্রতারককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে একদিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।

শনিবার প্রতারণায় অভিযুক্ত মো. কবির হোসেন, শামসুল কবীর ও ইয়াছিন আলীকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। পরে কদমতলী থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলার তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম শহিদুল ইসলাম আসামিদের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে শুক্রবার রাজধানীর কল্যাণপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের একটি দল। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংকের ২৫৭টি চেকবই, ২৩৪টি ডেবিট কার্ড, ৮টি মোবাইল ফোন ও ১১টি মোবাইলের সিম জব্দ করা হয়।

শনিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত কমিশনার ডিবির প্রধান এ কে এম হাফিজ আক্তার।

হাফিজ জানান, ড্রিম জবস ইন কানাডা নামে প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতারণা করে আসছে। চক্রের একটি অংশ প্রথমে ভিকটিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিবিড় বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। আবার ফেসবুকে বিদেশে চাকরির অফার দিয়ে আগ্রহীদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও ই-মেইলে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে ফির বাহানায় ব্যাংকে টাকা জমা দিতে বলে প্রতারকরা। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তারা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর প্রদান করে। এভাবে প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা আয় তাদের।

শেয়ার করুন

বান্দরবানে পর্যটকবাহী গাড়িতে গুলি, আহত ২

বান্দরবানে পর্যটকবাহী গাড়িতে গুলি, আহত ২

বান্দরবানে সন্ত্রাসী হামলায় আহত ২ জন হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

স্থানীয় সাংবাদিক আকাশ মারমা জানান, বান্দরবানের রুমা থেকে রাজস্থলী পোয়াইতি মুখ পাড়ার ১৯ জন পর্যটক ফেরার পথে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের গলাচিপা এলাকায় হামলার শিকার হন। এ সময় তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে একদল সন্ত্রাসী। এতে দুই জন আহত হন।

বান্দরবানে একটি গাড়িতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ২ আদিবাসী নারী আহত হয়েছেন। জেলার গলাচিপা এলাকায় শনিবার বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহত দুই নারীর একজন য়‌ইসিং‌নু মারমা, অন্যজন মেহাইসিং মারমা। তারা কাপ্তাই চন্দ্রঘোনা খ্রিস্টান হাসপাতলে ভর্তি আছেন।

স্থানীয় সাংবাদিক আকাশ মারমা জানান, বান্দরবানের রুমা থেকে রাজস্থলী পোয়াইতি মুখ পাড়ার ১৯ জন পর্যটক ফেরার পথে রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের গলাচিপা এলাকায় হামলার শিকার হন। এ সময় তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে একদল সন্ত্রাসী। এতে দুই জন আহত হন।

এ ঘটনায় জনসংহতি সমিতিকে (জেএসএস) দায়ী করছে স্থানীয়রা। জেএসএস অবশ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটকবাহী একটি চাঁদের গাড়িতে হামলার ঘটনার কথা শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

শেয়ার করুন