ভিসির বাবার বাড়ির বিল বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায়!

ভিসির বাবার বাড়ির বিল বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায়!

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলী।

নিউজবাংলার এই প্রতিবেদককে উপাচার্য রোস্তম বলেন, ‘হ্যাঁ। আমি কয়েক মাস এমনভাবে বিল নিয়েছি। কিন্তু সর্বশেষ অডিট হওয়ার পর থেকে আমি আর এসব বিল নিই না। আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। এসবই আসলে ষড়যন্ত্রের অংশ।’

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমেস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলী ২০১৮ সালের ৭ মার্চ পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন।

দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি নানা ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ আছে, অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলী তার রাজশাহী শহরের পৈতৃক বাড়ির বিদ্যুৎ বিল, ইন্টারনেট বিল ও গৃহকর্মীর বেতনও কয়েক মাস বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে মিটিয়েছেন।

উপাচার্যের সই করা কয়েকটি রসিদ ঘেঁটে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি নিজেও এই অর্থ নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন নিউজবাংলার কাছে।

নিউজবাংলার হাতে আসা কয়েকটি রসিদ ঘেঁটে দেখা যায়, উপাচার্য অধ্যাপক রোস্তম আলী তার রাজশাহীর বাড়ির ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের বিদ্যুৎ বিল বাবদ ২ হাজার ৯২৮ টাকা বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে পরিশোধ করেছেন। তহবিলের সেই অর্থ উপাচার্য কর্তৃক অনুমোদন করা হয় ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিলে। এভাবে বেশ কয়েক মাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ পৈতৃক বাড়ির কাজে লাগিয়েছেন।


ভিসির বাবার বাড়ির বিল বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায়!


রসিদগুলো ঘেঁটে দেখা যায়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রোস্তম আলী রাজশাহীর ওই বাড়ির ইন্টারনেট বিল বাবদ বেশ কয়েক মাস তিন হাজার টাকা করে নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে।

পাবনার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের যে বাংলো রয়েছে, সেখানে পিয়ন, গৃহকর্মীসহ সব ধরনের সুবিধা আছে। এই বাংলোর সব ধরনের খরচ বিশ্ববিদ্যালয় বহন করে। উপাচার্য রোস্তম আলী বেশির ভাগ সময় এই বাংলোতেই থাকেন। তার ছেলে থাকেন রাজশাহীর বাড়িতে।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপাচার্য অধ্যাপক রোস্তম আলী বেশ কয়েক মাস ওই বাড়ির বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বিলের পাশাপাশি গৃহকর্মীর বেতনও নিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে, যে গৃহকর্মীর মাসিক বেতন সাড়ে তিন হাজার টাকা।

ভিসির বাবার বাড়ির বিল বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায়!

এভাবে প্রতি মাসে পাবনার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে রাজশাহীর পৈতৃক বাড়ির জন্য গড়ে সাড়ে ৯ হাজার টাকা তুলেছেন উপাচার্য রোস্তম আলী। ভেতরে ভেতরে তার এই অনিয়মের খবর ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে। সৃষ্টি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ।

তাদের মধ্যে একজন শিক্ষক নাম না প্রকাশের শর্তে সম্প্রতি কথা বলতে রাজি হন নিউজবাংলার সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলকে নিজস্ব তহবিল মনে করে সব সময় খরচ করে আসছেন ভিসি স্যার। তা ছাড়া তিনি ভিসি হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের পর অনিয়ম করে যাচ্ছেন। সেগুলোর ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে আলোচনা-সমালোচনা, এমনকি আন্দোলন হলেও এসবের তোয়াক্কা করেন না তিনি।'

ভিসির বাবার বাড়ির বিল বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায়!

ওই শিক্ষক আক্ষেপ করে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এগুলো কি বিশ্বাসযোগ্য কথা যে, ভিসি হয়েও তিনি নিজের বাড়ির ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ বিল বিশ্ববিদ্যালয় তহবিল থেকে নেবেন। নেবেন সেই বাড়ির বুয়ার বেতনের টাকাও।

‘কিন্তু এটা এখন আর বিশ্বাস-অবিশ্বাসের বিষয় না। দিনের আলোর মতো সত্য। সেসব বিলের সব ভাউচারও আছে। সেখানে ভিসি স্যারের সুপারিশসহ সই আছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক, দুঃখজনক।’

তিনি বলেন, ‘ভিসি স্যারের বিষয়ে এখন কথা বলা আর হরিণ হয়ে বনের বাঘের সঙ্গে যুদ্ধ করা একই কথা।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে শুক্রবার দুপুরে মোবাইল ফোনে কথা হয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম রোস্তম আলীর সঙ্গে।

ভিসির বাবার বাড়ির বিল বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকায়!


নিউজবাংলার কাছে রাজশাহীর বাড়ির বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট বিল এবং গৃহকর্মীর বেতনের টাকা কয়েক মাস বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল থেকে তোলার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। তবে পাল্টা অভিযোগও করেছেন এই উপাচার্য। বলছেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।

উপাচার্য রোস্তম বলেন, ‘হ্যাঁ। আমি কয়েক মাস এমনভাবে বিল নিয়েছি। কিন্তু সর্বশেষ অডিট হওয়ার পর থেকে আমি আর এসব বিল নিই না। আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়। এসবই আসলে ষড়যন্ত্রের অংশ।’

শেয়ার করুন

মন্তব্য

পূজায়ও পরীক্ষা নেবে জবি, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

পূজায়ও পরীক্ষা নেবে জবি, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

শিক্ষার্থী আবির রায় বলেন, ‘শুধু পূজার জন্য না, যেকোনো ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে পরীক্ষার তারিখ ঠিক করা সেই ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার সমতুল্য  বলে মনে করি।’

করোনাভাইরাস মহামারিতে আটকে থাকা সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা দুর্গাপূজার পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচির ঠিক আগ মূহুর্ত থেকেই নিতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)। এতে ক্ষোভ জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা।

এ বছরের ৭ অক্টোবর থেকে সশরীরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের বিভিন্ন বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। এদিকে ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা।

পাঁচদিনের পূজার বিপরীতে ছুটি রয়েছে মাত্র দুই দিন। ষষ্ঠী পূজার দিনেও পরীক্ষা নিতে যাচ্ছে পরিসংখ্যান বিভাগ, ইংরেজি বিভাগ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগসহ বেশ কয়েকটি বিভাগ।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা। আর সব সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থীরা এই পূজাকে কেন্দ্র করে অনেক পরিকল্পনা করেন। সারা বছর ধরে তারা পূজায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর অপেক্ষায় থাকেন।

শিক্ষার্থীদের মতে, করোনার জন্য দীর্ঘ দেড় বছর বিশ্ববিদ্যালয় যদি বন্ধ থাকতে পারে তাহলে পূজার এক সপ্তাহ পরে পরীক্ষা নিলেই হতো। এতে গ্রামে থাকা শিক্ষার্থীরা ঢাকায় মেস খুজে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার সময় পেত। অন্যদিকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা পরিবারের সঙ্গে পূজার আনন্দও ভাগাভাগি করতে পারত।

এ বিষয়ে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আবির রায় বলেন, ‘আমার মতে পরীক্ষার রুটিনগুলো শিক্ষার্থীবান্ধব হওয়া উচিত। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় উন্মুক্ত চিন্তার জায়গা।

ক্লাস প্রতিনিধিদের একবার জিজ্ঞেস করা উচিত যে তারা কমফোর্টেবল কিনা ওই তারিখে পরীক্ষা দিতে। যদিও এমনটা করা হয় না। তবে শুধু পূজার জন্য না, যেকোনো ধর্মের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে পরীক্ষার তারিখ ঠিক করা সেই ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার সমতুল্য বলে মনে করি।’

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী পিয়াল দাস বলেন, ‘এত দিন করোনার কারণে বন্ধ থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক পূজার আগে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সনাতন ধর্মাবলম্বী হিসেবে মেনে নিতে খুব খারাপ লাগে।

‘একদিকে পরীক্ষার একটা চাপ আর অন্যদিকে পূজার আনন্দ একসঙ্গে সম্ভব নয়। পূজার পরে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হতো।’

গণিত বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী শুভাশীষ মণ্ডল শুভ বলেন, ‘গত বছর তো করোনার কারণে বাড়ি গেলাম না। এবার পরীক্ষার জন্য যাওয়া হবে না। ৭ অক্টোবর একটা পরীক্ষা মাঝে পূজা তারপর আবার দশমীর পরদিন পরীক্ষা।’

এদিকে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের দুটি পরীক্ষা পূজার নির্ধারিত ছুটির দিনে দেয়া হয়েছে। ১২ অক্টোবর ফিজিক্যাল জিওগ্রাফি অফ বাংলাদেশ এবং ১৪ অক্টোবর পপুলেশন জিওগ্রাফি নামের দুটি কোর্স পরীক্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে রুটিনে।

এ বিষয়ে লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পূজার মধ্যে পরীক্ষা দিলে হবে না তো। পূজার মধ্যে কোনো পরীক্ষা হবে না। আমি ডিন, আমাকে এ বিষয়ে জানানো হয় নাই।

‘রুটিন আমাকে দেয়ার কথা। কিন্তু এখনও ডিপার্টমেন্ট থেকে আমাকে রুটিন দেয় নাই। এজন্য আমি এটা বলতে পারছি না। এ বিষয়ে খোঁজ নেব। পূজার মধ্যে কোনো পরীক্ষার ডেট থাকলে সেটি সংশোধন করা হবে।’

কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. চঞ্চল কুমার বোস বলেন, ‘পূজার মধ্যে তো কোনোভাবেই পরীক্ষা দেয়া উচিত না। পূজার কমপক্ষে তিন থেকে চারদিন আগে এবং পূজার তিন থেকে চারদিন পরে পরীক্ষা দেয়া যাবে। সেক্ষেত্রে আমার মতে ৮ অক্টোবরের পরে পরীক্ষা দেয়া যাবেনা। আবার ১৮ অক্টোবরের আগেও পরীক্ষা দেয়া যাবেনা।’

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামী বলেন, ‘পরীক্ষা হবে পূজাও হবে। যে পরীক্ষার্থী, তার মাথায় পরীক্ষা এবং পূজা দুইটাই থাকবে। আমি যেটা বলি, পরীক্ষার ডেটটা পূজার তিনদিন পর হলে পরীক্ষার্থী ধর্মীয় নিয়মনীতি পালন করার সুযোগ পাবে। আর যেহেতু শিক্ষার্থীদের ইতোমধ্যে দেড় বছর সময় নষ্ট হয়েছে, এটাও চিন্তা করতে হবে।’

শেয়ার করুন

অক্টোবরের মাঝামাঝি খুলছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

অক্টোবরের মাঝামাঝি খুলছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান জানান, আগামী ১৭ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত হয়। তবে এ সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে টিকা গ্রহণের ওপর। সব শিক্ষার্থীকে কমপক্ষে এক ডোজ টিকা নিতে হবে।

সব শিক্ষার্থী কমপক্ষে এক ডোজ টিকা নেয়া সাপেক্ষে আগামী ১৭ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে খুলছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

চবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান নিউজবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, সভায় আগামী ১৭ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় খোলার সিদ্ধান্ত হয়। তবে এ সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে টিকা গ্রহণের ওপর। সব শিক্ষার্থীকে কমপক্ষে এক ডোজ টিকা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ৪৮ হাজার টিকার চাহিদা দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জনকে চিঠি দিয়েছি। টিকা হাতে পেলে সবাইকে টিকার আওতায় আনা যাবে। আশা করছি ১৫ দিনের মধ্যে টিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত পাবো।’

মঙ্গলবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসন ও ক্লাসে পাঠদান শুরু করতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বৈঠকে ২৭ সেপ্টেম্বরের পর বিশ্ববিদ্যালয় খোলা যাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। এ সময়ের মধ্যে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকার জন্য রেজিস্ট্রেশন করতে বলা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করে টিকা কার্যক্রম শুরু করতেও বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা অটোপাস

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা অটোপাস

এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শর্ত সাপেক্ষে দ্বিতীয় বর্ষে উন্নীত হতে অটোপাশ দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের অটোপাস দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বদরুজ্জামান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, ‘আমরা শর্তসাপেক্ষে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের অটোপাস দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অফিস আদেশে বলা হয়, ২০২০ সালের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য যেসব শিক্ষার্থী বিধি মোতাবেক অন-লাইন কোর্স সম্পন্ন ও ইনকোর্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আবেদনের ফরম পূরণ করেছেন তাদেরকে তৃতীয় বর্ষে উন্নীত করা হবে। এ ছাড়া ২০১৭-১৮, ২০১৬-১৭ এবং ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের যেসব অনিয়মিত শিক্ষার্থী তৃতীয় বর্ষে উন্নীত হয়নি এবং ২০২০ সালের অনার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছে তাদের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের শর্ত সাপেক্ষে দ্বিতীয় বর্ষে উন্নীত হতে অটোপাশ দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া যেসব শিক্ষার্থী ২০২০ সালে অনার্স প্রথম বর্ষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছেন, তাদেরও শর্ত সাপেক্ষে দ্বিতীয় বর্ষে ক্লাস করার অনুমতি দেয়া হয়।

জানা যায়, ২০২০ সালে অনার্স প্রথম বর্ষ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করেছেন মোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৩৫ শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬২৬ এবং অনিয়মিত ১৯ হাজার ৫০ জন। আর মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৫১ হাজার ১৫৯। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে দ্বিতীয় বর্ষে উন্নীত হবেন ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

শেয়ার করুন

দেশব্যাপী আইডিয়া প্রতিযোগিতা শুরু

দেশব্যাপী আইডিয়া প্রতিযোগিতা শুরু

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘মুজিব শতবর্ষ আইডিয়া প্রতিযোগিতা তরুণদের নতুন উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে আগামীর সেবা খাতগুলোর সমস্যা সমাধানের উপায় চিহ্নিত করার পথ উন্মুক্ত হবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকসহ দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে উদ্ভাবনী ধারণা পেতে আইডিয়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

নতুন আইডিয়া ছাড়া কোন দেশ এগোতে পারে না। আইডিয়া সৃষ্টিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নেতৃত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

মুজিব শতবর্ষ আইডিয়া প্রতিযোগিতা-২০২১ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বুধবার রাতে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম আগামীর নেতৃত্ব দেবে। তাদের বুদ্ধিমত্তা ও আইডিয়া দেশকে সমৃদ্ধ করবে এবং আমাদের নতুন পথ দেখাবে। আইডিয়া সৃষ্টিতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নেতৃত্ব দিতে হবে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন ও মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ওপর ১০ এবং ১১ ডিসেম্বর দু’দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এই সম্মেলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আইডিয়া প্রতিযোগিতা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকসহ দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে উদ্ভাবনী ধারণা পেতে আইডিয়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘মুজিব শতবর্ষ আইডিয়া প্রতিযোগিতা তরুণদের নতুন উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে। এর মাধ্যমে আগামীর সেবা খাতগুলোর সমস্যা সমাধানের উপায় চিহ্নিত করার পথ উন্মুক্ত হবে। এসব খাতের বিদ্যমান সমস্যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংস, তথ্য বিশ্লেষণ এবং ক্লাউড কম্পিউটিং প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সমাধানের উপায় বের করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, এ আয়োজনে দেশে স্টার্টআপ সংস্কৃতির বিকাশ ত্বরান্বিত হবে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উদ্ভাবনের সংস্কৃতির ব্যাপ্তি ঘটবে। সম্মেলনটি বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রের গবেষক এবং অনুশীলনকারীদের একত্রিত করতে সহায়তা করবে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাপ্লিকেশনগুলোর বিনিময় এবং ব্যবহারিক উন্নয়নের পদ্ধতি ও প্রযুক্তিগত প্রচারকে উৎসাহিত করবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কারণে সব খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও উদ্ভাবনী চর্চার বিকাশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। মুজিব শতবর্ষ আইডিয়া প্রতিযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প কারখানার মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করতে সহায়তা এবং গবেষণার মাধ্যমে নাগরিক সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এম এন জিয়াউল আলম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, ইউজিসি সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর, অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও কনফারেন্সের টেকনিক্যাল কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও আইডিয়া প্রতিযোগিতা বিষয়ক কমিটির সভাপতি ড. শাহাদাত হোসেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামীম আল মামুন এবং আমাজন ওয়েব সার্ভিসের সল্যুশন্স আর্কিটেক্ট লিডার মোহাম্মদ মাহদী উজ জামান।

অনুষ্ঠানে ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. দিল আফরোজা বেগম, অধ্যাপক বিশ্বজিৎ চন্দ, কমিশনের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. ফেরদৌস জামানসহ বিশ্ববদ্যিালয়ের শিক্ষক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ইউজিসি’র জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও আইডিয়া প্রতিযোগিতা বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যরা যুক্ত ছিলেন।

মুজিব শতবর্ষ আইডিয়া প্রতিযোগিতা

এ সম্মেলনের মাধ্যমে এমন কিছু আইডিয়া একত্রিত করা হবে, যার দ্বারা প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্মার্ট দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। এই প্রতিযোগিতা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জীবন ও পরিবেশকে উন্নত করবে।

স্থানীয় উদ্ভাবন, বিশ্বব্যাপী পদার্পণ শিরোনামে শুরু হওয়া এ প্রতিযোগতায় প্রাথমিক উদ্ভাবন ধারণা জমা দেওয়া যাবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১ পর্যন্ত। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, স্মার্ট শহর ও গ্রাম, কর্মসংস্থান, ই-গভর্ন্যান্স, পরিবহন ও পর্যটন, পরিবেশ, রিটেইল ও ই-কমার্স এবং ব্যাংকিং ও আর্থিকসহ ১০টি ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ধারণা দিতে পারবেন।

উদ্ভাবন ধারণায় এসব ক্ষেত্রের সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উপায় ভবিষ্যৎ ন্যুনতম টেকসই পণ্য ফরমেটে জমা দিতে হবে। এ প্রতিযোগিতায় চূড়ান্তভাবে মনোনীত ১০০টি আইডিয়ার জন্য ২০ লাখ টাকা এবং সেরা ১০টি আইডিয়ার জন্য ১ কোটি টাকা পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে। এসব আইডিয়া বাংলাদেশ আইসিটি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে ইনকিউবেশনের মাধ্যমে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করবে। উদ্ভাবনী ধারণা বাংলা অথবা ইংরেজি যেকোন মাধ্যমে জমা দেওয়া যাবে। এ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য https://bn.ic4irb.org/mujib100ideas ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

এনটিআরসিএর বিশেষ গণনিয়োগের ফল প্রকাশ

এনটিআরসিএর বিশেষ গণনিয়োগের ফল প্রকাশ

এনটিআরসিএ সচিব মো. ওবায়েদুর রহমান বলেন, ‘মোট আবেদন ছিল ১৫ হাজার ১৯৮টি। ১০টি ট্রেডের মধ্যে প্লাম্বিং নামের একটি ট্রেডে কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। মোট ৬৬২টি পদের মধ্যে ৩৭১টি প্রতিষ্ঠানের ৪৭১টি পদে একজন করে প্রার্থীকে টেলিটকের স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার পদ্ধতিতে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।’

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) বিশেষ গণনিয়োগের ফল প্রকাশিত হয়েছে।

ফলাফল দেখা যাবে: http://ngi.teletalk.com.bd এবং www.ntrca.gov.bd ওয়েবসাইটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এনটিআরসিএ সচিব মো. ওবায়েদুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ফলাফল এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের ২৬টি পদ বাদ দেয়ার জন্য সেসিপের অনুরোধের প্রেক্ষিতে ৪৫২টি প্রতিষ্ঠানের ৬৬২টি পদের আবেদন বিবেচনা করা হয়।

‘মোট আবেদন ছিল ১৫ হাজার ১৯৮টি। ১০টি ট্রেডের মধ্যে প্লাম্বিং নামের একটি ট্রেডে কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি। মোট ৬৬২টি পদের মধ্যে ৩৭১টি প্রতিষ্ঠানের ৪৭১টি পদে একজন করে প্রার্থীকে টেলিটকের স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার পদ্ধতিতে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তবে ১৯১টি পদে প্রার্থী পাওয়া যায়নি৷ নির্বাচিত প্রার্থী ও প্রতিষ্ঠান প্রধানকে এসএমএস পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর নিয়োগ সুপারিশ করা হবে।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি প্রকল্পের ৬৮৮টি ইন্সট্রাক্টর পদের বিপরীতে ৫ আগস্ট গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এনটিআরসিএ। নিবন্ধনধারী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করেছেন।

১০টি বিষয়ে ৪৬৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য মোট ৬৮৮ জন শিক্ষক নিয়োগের কথা বলা হয়। সবগুলো পদই এমপিওভুক্ত।

যে সব বিষয়ে শিক্ষক নেয়া হবে

ফুড প্রসেস ও প্রিজারভেশন পদে ৫৮ জন, সিভিল কন্ট্রাকশনে ১৯ জন, জেনারেল ইলেকট্রিক ওয়ার্কে ১৯৩ জন, ড্রেস মিসিংয়ে ৪৪ জন, কম্পিউটার অ্যান্ড ইনফরশন টেকনোলজিতে ২৪২ জন, জেনারেল মেকানিকে ২২ জন, রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৩৪ জন, পাম্পিং অ্যান্ড পাইপ ফিটিংয়ে ১৮ জন এবং ওয়েডিং অ্যান্ড ফিব্রিকেশনে পাঁচ জন।

শেয়ার করুন

টিকা নিবন্ধনের নির্দেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

টিকা নিবন্ধনের নির্দেশ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

যারা ইতোমধ্যেই টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন তাদের তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে করোনাভাইরাসের টিকা নিবন্ধনের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সরকার ঘোষিত নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিতেই এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালযয়ের এ সংক্রান্ত জরুরি নির্দেশনা অধিভুক্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের করোনার টিকা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যারা এখনও টিকা গ্রহণ করেননি তাদের আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন সম্পন্ন করে টিকা গ্রহণ করতে হবে।

আরও বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীর বয়স ১৮ বা তার বেশি এবং যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তাদেরকে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জন্মনিবন্ধন সনদের নম্বর এই লিংকে- http://103.113.200.28/student_covidinfo/ প্রবেশ করাতে হবে। সনদপ্রাপ্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী যেন স্থানীয় পর্যায়ে টিকা পান তার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।

এ ছাড়া যারা ইতোমধ্যেই টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণ করেছেন তাদের তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। সেখানে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের টিকার নিবন্ধন শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজ নিজ একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদন নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু এবং আবাসিক হল খুলে দিতে পারবে।

শেয়ার করুন

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের ফোনালাপ: রিপোর্ট দাখিলে বাড়ল সময়

ভিকারুননিসার অধ্যক্ষের ফোনালাপ: রিপোর্ট দাখিলে বাড়ল সময়

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার। ফাইল ছবি

শুনানিতে আইনজীবী বলেন, ‘একজন অধ্যক্ষের মুখের ভাষা এমন হতে পারে না। এরইমধ্যে লাখ লাখ মানুষ তা শুনেছেন। এ অবস্থায় তাকে সে পদে রাখা সমিচিন হবে না। তাকে পদ থেকে বিরত রাখার আবেদন করেন আইনজীবী।’

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ও অভিভাবক ফোরামের উপদেষ্টা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ফাঁস হওয়া ফোনালাপের ঘটনা তদন্তে গঠন করা কমিটি প্রতিবেদন জমা দিতে আরও সময় পেয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির এ রিপোর্ট আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সেদিন পরবর্তী আদেশের জন্য ঠিক করে দিয়েছে আদালত।

তদন্ত রিপোর্ট দাখিলে রাষ্ট্রপক্ষ সময়ের আবেদন জমা দিলে বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া রাসেল। এ সময় অধ্যক্ষ আদালতে হাজির ছিলেন।

শুনানিতে আইনজীবী বলেন, ‘একজন অধ্যক্ষের মুখের ভাষা এমন হতে পারে না। এরইমধ্যে লাখ লাখ মানুষ তা শুনেছেন। এ অবস্থায় তাকে সে পদে রাখা সমিচিন হবে না। তাকে পদ থেকে বিরত রাখার আবেদন করেন আইনজীবী।’

এ বিষয়ে গত ৯ আগস্ট শুনানির সময় আদালত বলেছিলেন, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার ফোনালাপে যে ভাষা ব্যবহার করেছেন তা সত্য হয়ে থাকলে অবশ্যই নিন্দনীয়। এটা অপ্রত্যাশিত। তার মুখ থেকে এ ধরণের ভাষা আশা করা যায় না।

গত ৮ জুলাই ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার এবং অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়।

রিটে অধ্যক্ষ কামরুন নাহারকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখতে অন্তবর্তীকালীন নির্দেশনা চাওয়া হয়। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই ছাত্রীর অভিভাবক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম রিট দায়ের করেন। রিটে শিক্ষা সচিব ও শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও গর্ভনিংবডির সভাপতিকে বিবাদী করা হয়েছে।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার এবং অভিভাবক ফোরামের নেতা মীর সাহাবুদ্দিন টিপুর ফোনালাপ নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়। তাদের ৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ফোনালাপের এক পর্যায়ে অধ্যক্ষ কামরুন নাহার মুকুলকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি বালিশের নিচে পিস্তল রাখি।'

শেয়ার করুন