দালালরাই যেখানে ‘বড় স্যার’

দালালরাই যেখানে ‘বড় স্যার’

সিটি করপোরেশন এলাকায় মূলত ব্যবসার ধরনের ওপর নির্ভর করে লাইসেন্স ফি নির্ধারিত হয়। এই ফি সর্বনিম্ন ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৬ হাজার টাকা। নিয়ম অনুযায়ী কোনো উদ্যোক্তার একটি লাইসেন্স পেতে তিন থেকে সাত কর্মদিবস লাগার কথা থাকলেও তার চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে। এই বিড়ম্বনা এড়াতে অনেক নতুন ব্যবসায়ীই অবৈধ পন্থায় সনদ নিচ্ছেন দালাল চক্রের মাধ্যমে।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স সেবা দেয়ার জন্য ১০টি আঞ্চলিক অফিস রয়েছে। এর মধ্যে উত্তর সিটির পাঁচটি এবং দক্ষিণ সিটির পাঁচটি অফিস থেকে ব্যবসা শুরুর এই সনদ দেয়া হয়।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই ট্রেড লাইসেন্স করতে গিয়ে ব্যবসা শুরুর আগেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন উদ্যোক্তারা। লাইসেন্স নবায়ন করতে ভোগান্তির শিকার হন পুরোনো ব্যবসায়ীরাও।

সিটি করপোরেশন এলাকায় মূলত ব্যবসার ধরনের ওপর নির্ভর করে লাইসেন্স ফি নির্ধারিত হয়। এই ফি সর্বনিম্ন ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ২৬ হাজার টাকা।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো উদ্যোক্তার একটি লাইসেন্স পেতে তিন থেকে সাত কর্মদিবস লাগার কথা থাকলেও তার চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে। এই বিড়ম্বনা এড়াতে অনেক নতুন ব্যবসায়ীই অবৈধ পন্থায় সনদ নিচ্ছেন দালাল চক্রের মাধ্যমে। দিচ্ছেন নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি টাকা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মূল ভবন নগর ভবনে রয়েছে এই লাইসেন্স নেয়ার অঞ্চল-১-এর অফিস।

ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে সম্প্রতি দুই দিন নিউজবাংলার এই প্রতিবেদক যান নগর ভবনে।

প্রথম দিন ভবনে ঢোকার সিঁড়িতে উঠতে উঠতেই চোখে পড়ল সিঁড়ির একপাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন দুজন। তাদের একজনের হাতে কাগজপত্র। একটু এগোতেই মনে হলো অফিশিয়াল কোনো ব্যাপারে কথা বলছেন তারা। মিনিট তিনেক পর স্পষ্ট হওয়া গেল, ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে কথা হচ্ছে তাদের মধ্যে।

অফিশিয়াল কাজ, অথচ কথা হচ্ছে অফিসকক্ষের বাইরে- এই রহস্য জানতে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর কাগজপত্র হাতে থাকা লোকটাকে আলাদা করে পাওয়া গেল।

জগন্নাথ কর্মকার নামের ওই যুবক নিউজবাংলাকে জানান, তিনি পেশায় স্বর্ণকার। আট বছর অন্যের দোকানে কাজ করেছেন। এখন নিজেই দোকান দিতে চান। তাই ট্রেড লাইসেন্সের জন্য এসেছেন নগর ভবনে।

‘মালিকের কাজ ছাইড়া দিচি। অহন তো বইয়া খাওনের উপায় নাই। নিজের দোকান খুলোন লাগবো। এই লাইগ্গা লাইসেন্স নিবার আইছি। আমার সাথে উনার কথা হইচে দুই দিনের মধ্যে লাইসেন্স দিয়া দিবো। খরচ লাগবো পাঁচ হাজার ট্যাহা’, বলেন জগন্নাথ কর্মকার।

এই লাইসেন্সের ফি যে পাঁচ হাজার টাকা, তা জানেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারি খচ্চ কত আমি জানি না। জিনিসটা আমার আইজ-কাইলকার মধ্যেই লাগবো, অফিসে গিয়ে কাউকাউ করা লাগে, তাছাড়া লোক ছাড়া কাম হয় না।

‘প্রথমে অফিসে গেছিলাম। অফিসে ঢোকার মুখে উনি খাড়াইন্না আছিলেন। কতা-বাত্তাই পইটা গেলো। বাইরে আইনা কইলো দুই দিনেই কাম হইবো, পাঁচ হাজার দিলেই চলবো। আমি রাজি হইয়া গেছি গা। হুনছি সরকারি খরচ কম আছে, কিন্তু উনারা করলে ঝামেলা নাই বইলা না কই নাই। অফিসের লোক আমগো দাম দিবার চায় না।’

স্বর্ণকার জগন্নাথ কর্মকার এতক্ষণ যাকে ‘উনি উনি’ করছিলেন তার নাম মিজান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, তিনি আদৌ এখানকার কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী নন। অনুসন্ধানের দুই দিনই তাকে নগর ভবনের লিফট ও ট্রেড লাইসেন্স শাখার আশপাশেই ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে।

এই চক্রের সঙ্গে অফিসের কারা কারা জড়িত তা জানতে নিউজবাংলার এই প্রতিবেদক নতুন উদ্যোক্তা সেজে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য কথা বলেন মিজানের সঙ্গে।

একটা জুসের দোকান দিতে চাই, ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে- এ কথা শুনেই মিজান জানতে চাইলেন, কোন অঞ্চল; কত নম্বর ওয়ার্ড?

সবকিছু বলার পর কাগজপত্র চেয়ে বসলেন মিজান। কাগজপত্র বন্ধু নিয়ে আসছে- বলার পর কত টাকা লাগবে জানতে চাওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গেই মিজানের উত্তর, ‘অফিসের সাথে আপনার কোনো কাম নাই। সব কাম আমার। আমিই সব কিছু করুম। টাকা লাগবো সাড়ে ছয় হাজার। টাইম লাগবো দুই দিন। কাগজপাতি, টাকা দিয়া যান, কাম হয়ে যাবে।’

এরপর মিজান ব্যস্ত হয়ে পড়েন অন্য ‘কাস্টমার’ ধরতে।

এই সুযোগে নিউজবাংলার এই প্রতিবেদক যান নগর ভবনের লিফটের ১০ তলায় অঞ্চল-১-এর অফিসের সামনে। সেখানে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, জগন্নাথ কর্মকার যে ট্রেড লাইসেন্স করতে চাইছেন তার ফি দুই হাজার টাকা। অথচ মিজান চেয়েছেন পাঁচ হাজার টাকা। আর জুসের দোকান দিতে ট্রেড লাইসেন্সের ফি এক হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। কিন্তু মিজান বলছেন, লাগবে সাড়ে ছয় হাজার টাকা, যিনি আসলে এই অফিসের কেউ না।

এরপর মিজানকে খুঁজতে নিউজবাংলার এই প্রতিবেদক যান নগর ভবনের নিচতলায় লিফটের কাছে। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়।

তখন সাংবাদিক পরিচয়ে মিজানের কাছে এসব ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে আকাশ থেকে পড়ার মতো অবস্থা হয় তার। মিজান বলেন, ‘আপনে আপনার পরিচয় লুকাইছেন ক্যান? পরিচয় দিলে কি বেশি টাকা লইতাম? যান মিয়া আমনার লগে কতা নাই।’

এ কথা বলতে বলতে অনেকটা অভিমানের সুরে সটকে পড়েন মিজান ও তার সঙ্গে থাকা আরেকজন।

নগর ভবন ঘুরতে ঘুরতে বেলায়েত হোসেন জাকির নামে পুরোনো এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দেখা মেলে। কথাবার্তায় একপর্যায়ে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি জানান তার ভোগান্তি আর আক্ষেপের কথা।

‘আমি তখন প্রথমবার আসছিলাম অফিসে। ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স লাগে। লাইসেন্সটা করতে এসে মনটা খারাপ হয়ে গেল। ব্যবসা শুরুই করতে পারলাম না, অথচ ভোগান্তির শেষ নেই। সিটি করপোরেশনে আসলাম। বলে যে কাগজপত্র ঠিক নেই। আমি কিন্তু যা যা দরকার সব কাগজপত্র নিয়েই গেছিলাম।

‘শেষমেশ যখন হলো না তখন অফিস থেকেই একজন বলল, নিচে ওমুকের কাছে যান। ওনারা সহজেই করে দিবে। যার কাছে পাঠানো হলো তার নাম আনোয়ারুল ইসলাম। তার কাছে আসার পর বুঝলাম সে আসলে দালাল। অবাক হয়েছি এটা দেখে যে, ওই দালালই আবেদন ফরম থেকে শুরু করে সব কিছু নিয়ে বসে আছেন। তার কাজকর্ম দেখে মনে হলো সে ওখানকার হর্তাকর্তা! হবেই তো। অফিসাররাই যেখানে তার কাছে লোক পাঠায়, সেখানে তার ভাবসাপ এমন হবেই তো।’

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জাকির নিউজবাংলার কাছে আরও অভিযোগ করেন, ‘ট্রেড লাইসেন্সের জন্য যে কাগজপাতি নিয়ে সিটি করপোরেশন অফিসে দৌড়ালাম, সেই একই কাগজপাতি কিন্তু দালালের কাছে দিলাম। কাজও হয়ে গেল। কিন্তু যেখানে তিন হাজার টাকা লাগার কথা ছিল, দালাল ধরতে গিয়ে লাগল সাত হাজার ৮০০ টাকা। এবার আসছি লাইসেন্স রিনিউ (নবায়ন) করতে। এটাও ঘুষ ছাড়া হবে না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি করপোরেশনের এক কর্মী বলেন, ‘খোঁজ নিয়ে দেখেন যারা চাকরি করে না তারাই এখানকার বড় চাকরিজীবী। তাদের কথার দামই এখানে বেশি। কারণ দালালদের মাধ্যমে অফিসাররা ঘুষ নেয়। এটা সহজ না?’

তিনি জানান, মিজানের সঙ্গে এই চক্রে জড়িত রতন কুমার, জিল্লু সিকদার ও শাকিল জোয়ারদার, যারা বড় দালাল হিসেবে পরিচিত। যাদের কাছে না গেলে কাজ হবে না।

অনুসন্ধানের দ্বিতীয় দিন নগর ভবনে কথা হয় জহির উদ্দিন নামে এক উদ্যোক্তার সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘ঘুষ না দিলে আমার কাজ আটকে থাকবে। ওর চেয়ে ঘুষ দেয়াই ভালো। পেরেশানি পোহানো লাগলো না। কেউ খুশি হয়ে দেয়, কেউ বাধ্য হয়ে ঘুষ দেয়। যার কাছে যেমন পারে তেমন বাগায়ে নেয় দালালরা।

‘দুই হাজার, তিন হাজার, পাঁচ শ, এক হাজার যার কাছে যেমন পারে নেয়। এগুলো বাড়তিই নেয়। জানাশোনা আছে বিধায় আমার কাছ থেকে এক হাজার নিছে।’

এসব অভিযোগের ব্যাপারে কথা হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর অঞ্চল-১-এর কর কর্মকর্তা কাজী সুমনা ইয়াসমিনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘এখানে যে দালাল নেই তা আমি কনফিডেন্টলি বলতে পারছি না। থাকতে পারে। তাদের পাহারা দেয়া আমার কাজ না। আমি থাকি অফিসকক্ষের ভেতরে। কক্ষের বাইরে কে কী করছে কীভাবে বলব?

কর কর্মকর্তা কাজী সুমনা ইয়াসমিন এ সময় জোর দিয়ে বলেন, ‘কারা এসব করছে তাদের নাম দেন। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এ সময় পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘গ্রাহকরা দালালদের কাছে যায় কেন? এখানে তো সব ব্যবস্থা আছে। নিয়ম অনুযায়ী গ্রাহক সব কাগজপত্র নিয়ে সরাসরি অফিসে আসবে। তারপর সবকিছু ঠিকঠাক করে বুথে গিয়ে সরকারি যে ফি তা জমা দেবে। অফিসের বাইরের কারও কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নাই।’

আরও পড়ুন:
দালালের সিল ছাড়া মেলে না পাসপোর্ট
হাসপাতালের ৮ দালালের সাজা

শেয়ার করুন

মন্তব্য

বাদাম বিক্রেতা থেকে সম্পদের পাহাড়ে আ. লীগের ‘নিগো ফারুক’

বাদাম বিক্রেতা থেকে সম্পদের পাহাড়ে আ. লীগের ‘নিগো ফারুক’

স্থানীয় লোকজন বলছেন, প্রায় এক যুগ আগে দেশে ফেরেন ফারুক। তারপর ঠিকাদারি কাজের সমঝোতা করতে করতে পরিচিতি পান ‘নিগো ফারুক’ নামে। এর একপর্যায়ে ‘নিগো ফারুক’ নামের বদনাম মুছতে বছর পাঁচেক আগে হজ করেন ফারুক। তারপর থেকে নিজেকে হাজি ফারুক পরিচয় দিতে শুরু করেন। বর্তমানে তার ‘সিগন্যাল’ ছাড়া কোনো দপ্তরের ঠিকাদারি কাজ পান না কেউ।

পাবনার গণপূর্ত ভবনে অস্ত্রের মহড়ায় নেতৃত্ব দেয়া আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হোসেনকে নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ঠিকাদারি সংশ্লিষ্ট আরও দুটি সরকারি অফিসের কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ফারুক হোসেন জোর করে ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিতে ৬ জুনের ওই ঘটনার আগেও তাদের লাঞ্ছিত করেছেন; দিয়েছেন হত্যার হুমকিও।

তার ব্যাপারে মুখ খুলছেন স্থানীয় লোকজনও। তারা বলছেন, পাবনা শহরের কৃষ্ণপুর মহল্লার আতোয়ার হোসেনের ছেলে ফারুক হোসেন। তাদের আর্থিক অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। সংসার চলত নিউ মার্কেটের কসমেটিক্সের দোকানের আয়ে। অষ্টম শ্রেণির পর আর লেখাপড়া হয়নি ফারুকের। একসময় লেখাপড়া বাদ দিয়ে সিনেমা হলের সামনে বাদাম বিক্রি শুরু করেন তিনি।

পরে বাবার দোকানের সামনের ফুটপাতে কসমেটিক্সের দোকানও দেন ফারুক। একপর্যায়ে চলে যান সিঙ্গাপুর। প্রায় এক যুগ আগে দেশে ফেরেন। তারপর ঠিকাদারি কাজের সমঝোতা করতে করতে পরিচিতি পান ‘নিগো ফারুক’ নামে। কখনও নিম্নমানের কাজ করে, কখনও কাজ না করেই বিল তুলতে থাকেন। এভাবে গড়তে শুরু করেন সম্পদের পাহাড়।

এর একপর্যায়ে ‘নিগো ফারুক’ নামের বদনাম মুছতে বছর পাঁচেক আগে হজ করেন ফারুক। তারপর থেকে নিজেকে হাজি ফারুক পরিচয় দিতে শুরু করেন। বর্তমানে তার ‘সিগন্যাল’ ছাড়া কোনো দপ্তরের ঠিকাদারি কাজ পান না কেউ।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ফারুকের এত অল্প সময়ে এত ক্ষমতাধর হওয়ার পেছনে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতা। তার আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে অষ্টম শ্রেণি ‘পাস’ ফারুক বাগিয়ে নিয়েছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদকের মতো পদ।

বাদাম বিক্রেতা থেকে সম্পদের পাহাড়ে আ. লীগের ‘নিগো ফারুক’
আওয়ামী লীগ নেতা নিগো ফারুক

ফারুক এখন নাইস কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক। যে প্রতিষ্ঠানটির নামে সম্প্রতি কোটি কোটি টাকার গাড়ি ও ঠিকাদারির কাজের যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে।

তবে ফারুক হোসেন বলছেন, তিনি কোনো অনিয়মে জড়িত নন। জেলার সব প্রকৌশলীর সঙ্গেই তার সুসম্পর্ক রয়েছে। ঠিকাদারি করেই বৈধভাবে এসব সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি।

গত ১২ জুন ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ৬ জুন দুপুর ১২টার দিকে ফারুক হোসেন দলবল নিয়ে গণপূর্ত ভবনে ঢোকেন। তার পেছনে শটগান হাতে ছিলেন পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলী রেজা খান মামুন। অস্ত্র হাতে ঢুকতে দেখা যায় জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুকেও।

এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে আগ্নেয়াস্ত্র দুটি ও সেগুলোর গুলি জব্দ করে পুলিশ। ঘটনা তদন্তে আওয়ামী লীগ নেতাদের অস্ত্র আইনের শর্তভঙ্গের প্রমাণ পেয়ে লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশও করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: আ.লীগ নেতারা শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে


নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, ৬ জুনের আলোচিত এই ঘটনার আগে ২৩ মে জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ে এক প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিত করেন ফারুক। আওয়ামী লীগের ‘প্রভাবশালী নেতাদের’ হস্তক্ষেপে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা হয়। তারও আগে গত ১৯ অক্টোবর ফারুক জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে ঢুকে সুপারিনটেনডেন্ট মুশফিকুর রহমানকে লাঞ্ছিত করে হত্যার হুমকি দেন।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, ফারুক হোসেন পড়ালেখা ছেড়ে দেয়ার পর পাবনার বীণা বাণী সিনেমা হলের সামনে বাদাম বিক্রি করতেন। এভাবে কিছুদিন চলার পর নিউ মার্কেটে বাবার কসমেটিক্সের দোকানের সামনে ফুটপাতে কসমেটিক্সেরই কম দামি পণ্য বিক্রি শুরু করেন। তার কিছুদিন পর সিঙ্গাপুর চলে যান ফারুক। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর দেশে ফেরেন।

আরও পড়ুন: শটগান হাতে গণপূর্ত অফিসে: অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ

ফারুক দেশে ফিরে প্রথমে বিভিন্ন ঠিকাদারের সাইট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় এক ‘প্রভাবশালী নেতার’ সুনজরে পড়েন। তার ছত্রছায়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), এলজিইডিসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিতে শুরু করেন।

সাধারণ ঠিকাদারদের বাধা দেয়ার পাশাপাশি সিন্ডিকেট করে কাজ কেড়ে নিতে থাকেন। এভাবে টেন্ডার সমঝোতা কমিটির হর্তাকর্তা বনে যান ‘নিগো ফারুক’। ধীরে ধীরে এলজিইডির উন্নয়নকাজে আধিপত্য বিস্তার করে, কখনও নিম্নমানের কাজ করে, কখনও কাজ না করেই বিল তুলে নিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

গত বছর ফারুক তার নাইস কনস্ট্রাকশনের অধীনে কয়েক কোটি টাকার ঠিকাদারি মেশিনারিজ ক্রয় করেছেন। কিনেছেন একাধিক দামি গাড়ি। নিজস্ব বাহিনীর জন্যও নিয়েছেন বেশ কিছু মোটরসাইকেল। জেলা প্রশাসকের বাসভবনের ঠিক সামনেরই একটি বিলাসবহুল বাড়িও কিনেছেন ফারুক।

ফারুকের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন এলজিইডি পাবনার সহকারী প্রকৌশলী ও দরপ্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেক।

নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকায় একটি রাস্তা নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করা হয়।

‘২৩ মে দুপুরে হঠাৎ হাজি ফারুক হোসেন আমার কক্ষে এসে কাজটি তাকে দেয়ার দাবি করেন। নিয়ম অনুযায়ী আবেদন, দরপ্রস্তাব ও কাগজপত্র ঠিক থাকলে কাজ পাবেন। আর যোগ্যতা না থাকলে বাতিল হবে জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ করে আমাকে মারতে উদ্যত হন। তিনি আমাকে দেখে নেয়ারও হুমকি দেন।’

এ বিষয়ে কেন আইনি ব্যবস্থা নেননি জানতে চাইলে এলজিইডির এই সহকারী প্রকৌশলী বলেন, ‘ঘটনা জানিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত জানিয়েছি। মামলার প্রস্তুতিও নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রভাবশালী দুজন জনপ্রতিনিধি বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ নিয়ে আমাদের অফিসে আসেন। নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান তাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা করে নেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডি পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘এটি একটি মীমাংসিত বিষয়। এ নিয়ে কথা বলার কিছু নেই। সব বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া যায় না।’ সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত জনপ্রতিনিধিদের নাম জানতে চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন।

এলজিইডির একটি সূত্র জানায়, ফারুকের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ এবং নিম্নমানের কাজ করে বিলের জন্য কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখানো নতুন কোনো ঘটনা নয়। ৬ জুনের আগেও কর্মকর্তাদের গালাগাল ও লাঞ্ছিত করেছেন তিনি। তার দাপটে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ ঠিকাদাররা অতিষ্ঠ। তারা আইনের আশ্রয় নেয়া তো দূরের কথা, তার বিরুদ্ধে মুখ খোলারই সাহস করেন না।

জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের সুপারিনটেনডেন্ট মুশফিকুর রহমানের অভিযোগ, গত ১৯ অক্টোবর হাজি ফারুক তাকে লাঞ্ছিত করেন এবং হত্যার হুমকিও দেন। তাই জীবনের নিরপত্তা চেয়ে সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

মুশফিকুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘জেলা ফিন্যান্স ও অ্যাকাউন্টস অফিস থেকে সব সরকারি কর্মকর্তার বেতন ও উন্নয়ন কাজের বিলের অর্থ দেয়া হয়। নাইস কনস্ট্রাকশনের মালিক ফারুক হোসেন তার একটি ঠিকাদারি কাজের জামানতের পাঁচটি চালান হারিয়ে ফেলে জাল চালান দিয়ে বিল দাখিল করেন। বিষয়টি আইনসম্মত না হওয়ায় হারিয়ে যাওয়া জামানতের চালানের অনুকূলে থানায় সাধারণ ডায়েরিসহ বিল দাখিলের পরামর্শ দেয়া হয়।

‘এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ফারুক। বিকেলেই ম্যানেজার আসাদকে নিয়ে অফিসে এসে গালিগালাজ করে মারতে যান। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটে এসে তাকে থামাতে গেলে তিনি আমাকে হত্যার হুমকি দেন। পরে দলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এসে আমার কাছে ক্ষমা চান।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফারুক হোসেন নিউজবাংলাকে বলেন, ‘প্রকৌশলী আব্দুল খালেকের সঙ্গে আমার কাজ নিয়ে কোনো ঝামেলা হয়নি। সামান্য কথাকাটি হয়েছিল।’

অন্য কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জেলার সব প্রকৌশলীর সঙ্গেই আমার খুব ভালো সম্পর্ক।’

অঢেল সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে ফারুক বলেন, ‘অন্যায়ভাবে সম্পদশালী হইনি। ঠিকাদারি ব্যবসায় ভালো করায় সম্পদ বেড়েছে।’

আরও পড়ুন:
দালালের সিল ছাড়া মেলে না পাসপোর্ট
হাসপাতালের ৮ দালালের সাজা

শেয়ার করুন

এক দিল আফরোজের দাপটে ধরা শিক্ষা ক্যাডারের ৩৩০৮ জন

এক দিল আফরোজের দাপটে ধরা শিক্ষা ক্যাডারের ৩৩০৮ জন

দিল আফরোজ বিনতে আছির ২০০৬ সাল থেকে কর্মরত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রধান কার্যালয়ে শিক্ষা ভবনে। এই ১৫ বছরে নানা অনিয়মে দিল আফরোজের নাম এসেছে। তারপরও মাউশির সর্বশেষ পদোন্নতির তালিকায় নাম এসেছে তার। এ কারণে বিতর্ক দেখা দেয়ায় আটকে গেছে যোগ্যদের পদোন্নতির প্রক্রিয়াও।

দিল আফরোজ বিনতে আছির। বর্তমানে শিক্ষা ভবনের সবচেয়ে আলোচিত এই কর্মকর্তা ২৪তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পান। সমাজবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর একটি কলেজে মাত্র ছয় মাস শিক্ষকতা করেছেন এই নারী। তারপর ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কর্মরত আছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) প্রধান কার্যালয়ে শিক্ষা ভবনে।

এই ১৫ বছরে নানা অনিয়মে দিল আফরোজের নাম এসেছে। তারপরও মাউশির সর্বশেষ পদোন্নতির তালিকায় নাম এসেছে তার। এ কারণে বিতর্ক দেখা দেয়ায় আটকে গেছে যোগ্যদের পদোন্নতির প্রক্রিয়াও।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরির ক্ষেত্রে একই স্থানে তিন বছরের বেশি সময় থাকার নিয়ম নেই। অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়ম মানা হচ্ছে না শিক্ষা ভবনের কারও কারও ক্ষেত্রে, বিশেষ করে মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের সহকারী পরিচালক দিল আফরোজ বিনতে আছিরের ক্ষেত্রে।

তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে শিক্ষা ভবনে থেকে গেছেন। পদোন্নতিও পেয়েছেন একাধিকবার। সর্বশেষ ২০১২ সালে পদোন্নতি পেয়ে তিনি হন মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের সহকারী পরিচালক। সেই থেকে তিনি এই ‘লাভজনক’ পদেই আছেন।

সব মিলিয়ে এখন পুরো শিক্ষা ভবনই যেন দিল আফরোজ বিনতে আছিরের কবজায়। এই সুযোগে নানা ধরনের অনিয়মে জড়িয়েছেন তিনি, সে জন্য তার বিরুদ্ধে হয়েছে একাধিক মামলাও।

এক দিল আফরোজের দাপটে ধরা শিক্ষা ক্যাডারের ৩৩০৮ জন

এসব অভিযোগ এবং মামলা থাকা সত্ত্বেও দিল আফরোজ বিনতে আছিরের পদোন্নতির জন্য তার নামও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে মাউশি থেকে। এ খবরে ক্ষুব্ধ পদোন্নতিবঞ্চিত হাজার হাজার শিক্ষক; সমালোচনা চলছে খোদ মাউশিতেও।

সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ঢাকা শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় মামলা চলছে দিল আফরোজ বিনতে আছিরের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা চলছে ঢাকার সিএমএম কোর্টে সহকর্মীর বেতন অন্য হিসাবে পাঠানোর এবং ওই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে। এ ছাড়া ১০ স্কুল প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আইন-বিধান মোতাবেক কারও বিরুদ্ধে সিআর মামলা বা বিভাগীয় মামলা চললে তিনি পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন না। কিন্তু দিল আফরোজ বিনতে আছিরের নাম পদোন্নতির তালিকায় কীভাবে গেল, সে বিষয়েও মাউশির দায়িত্বরত কেউ মুখ খুলছেন না।

এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও পদোন্নতি কমিটির সদস্য ফজলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘পদোন্নতির তো একটা বিধান আছে। তবে এ বিষয়টি এখন আমার নলেজে নেই। আপনি মাউশির মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি ভালো বলতে পারবেন।’

নিউজবাংলা এরপর যোগাযোগের চেষ্টা করে পদোন্নতি কমিটির সদস্যসচিব ও মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুকের সঙ্গে। গত দুই দিনে তার মোবাইল ফোনে ১৫ বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। প্রতিবারই সংযোগ কেটে দেন পদোন্নতি কমিটির সদস্যসচিব ও মাউশির মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এবার যোগ্যদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে শিক্ষা ক্যাডারের ১ হাজার ৮০ জনকে সহকারী অধ্যাপক থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এর বড় একটি অংশ সহকারী অধ্যাপক হওয়ার পর এক দিনের জন্যও শ্রেণিকক্ষে ক্লাস নেননি। কিন্তু তাদের নাম এসেছে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির তালিকায়।

প্রায় ৯ বছর ধরে মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের সহকারী পরিচালক পদে থাকা দিল আফরোজ বিনতে আছিরের বিরুদ্ধে দুটি মামলা চলার পরও পদোন্নতির জন্য তাকে ‘ফ্রেশ প্রার্থী’ হিসেবে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানোয় যোগ্য সবার পদোন্নতি আটকে আছে। এ-সংক্রান্ত জিও জারি করতে দেরি হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, দিল আফরোজ বিনতে আছিরের পদোন্নতির জন্য ‘বড় স্যাররা তদবির করেছেন’।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে জানান, প্রথমে দিল আফরোজ বিনতে আছিরের কারণে পদোন্নতির রেজল্যুশনে সই করতে অস্বীকার করেন মহাপরিচালক স্যার নিজেই। পরবর্তী সমযে কোনো না কোনো কারণে তিনি সই করেছেন।

গত ৯ মে শিক্ষা ক্যাডারের ৩ হাজার ৩০৮ জন কর্মকর্তার পদোন্নতিসংক্রান্ত সভা শুরু হয়, যা চলে সাত কর্মদিবস।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিক্ষা ক্যাডারের ২২তম বিসিএসের ৫৫০ জন ১২ বছর ধরে পদোন্নতি পাননি। এভাবে ২৩ ব্যাচের ১৭ জন প্রায় এক যুগ এবং ২৪ ব্যাচের ১ হাজার ৮৪৮ জন প্রায় ১০ বছর এক পদে আছেন। এ ছাড়া ২৫ ব্যাচের ১১২ জনের ও ২৬ ব্যাচের ৬৪৬ জনের পদোন্নতির যোগ্যতা থাকলেও একটি সিন্ডিকেটের বাধায় তারা বঞ্চিত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পদোন্নতিসংক্রান্ত ওই সভায় যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হবে- এমন আশায় ছিলেন শিক্ষা ক্যাডারের বঞ্চিত এসব কর্মকর্তা, যা শুধু হতাশায় পরিণত হয়েছে।

একাধিক শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে নিউজবাংলাকে বলেন, এক দিল আফরোজ বিনতে আছিরের কারণে দিনের পর দিন যোগ্যদের বঞ্চিত করার কোনো অর্থ হয় না। বিষয়টি নিয়ে সরকারের শীর্ষ মহলের হস্তক্ষেপ আশা করছেন তারা।

এ সব অভিযোগের ব্যাপারে দিল আফরোজ বিনতে আছিরের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন:
দালালের সিল ছাড়া মেলে না পাসপোর্ট
হাসপাতালের ৮ দালালের সাজা

শেয়ার করুন

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

প্রতীকী ছবি

দেশের হাইকোর্ট একাধিক রায় দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো নারীর সম্মতিতে তার সঙ্গে কারও যৌন সম্পর্ক হলে সেটিকে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এসব রায়ে আদালত ‘বিয়ের প্রলোভন’ এর অভিযোগকেও নাকচ করেছে।

প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ এর মতো অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে আলোচিত হলেও এ ধরনের ঘটনাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা যায় কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে আইন বিশেষজ্ঞদের।

এমনকি দেশের হাইকোর্টও একাধিক রায় দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ১৬ বছরের ঊর্ধ্বে কোনো নারীর সম্মতিতে তার সঙ্গে কারও যৌন সম্পর্ক হলে সেটিকে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এসব রায়ে আদালত ‘বিয়ের প্রলোভন’ এর অভিযোগকেও খারিজ করেছে। আইনজীবীরা বলছেন, হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আপিল না হওয়ায় আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে আদেশগুলো কার্যকর রয়েছে।

পাশের দেশ ভারতের উচ্চ আদালতও বলেছে, কোনো নারী স্বেচ্ছায় দীর্ঘদিন ধরে কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনতে পারবেন না।

আরও পড়ুন: ‘বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক সব সময় ধর্ষণ নয়’

এমন প্রেক্ষাপটে আলোচিত এই বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়েছে নিউজবাংলা। এতে দেখা গেছে, দেশের উচ্চ আদালত এ বিষয়ে একাধিক রায় দিলেও সেটি তেমনভাবে সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিষয়টি নিয়ে ৩০ বছর আগে ১৯৯১ সালে হাইকোর্ট বিভাগ লুকুছ মিয়া বনাম রাষ্ট্র মামলায় একটি পর্যবেক্ষণ দেয়।

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

বিচারপতি আব্দুল বারী সরকার ও বিচারপতি হাবিবুর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ লুকুছ মিয়ার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগ খারিজ করে বলে, ‘এটি অপরাধের মধ্যে পড়ে না। তার কারণ অভিযোগকারী নারী স্বেচ্ছায় যৌন সম্পর্কে অংশ নিয়েছেন। এর ফলে তার একটি সন্তানও হয়েছে। সব কিছু বিবেচনায় লুকুছ মিয়ার আপিল মঞ্জুর এবং অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেয়া হলো।’

মৌলভীবাজারের ছিকার আলীর ছেলে লুকুছ মিয়ার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন এক নারী। এ মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত লুকুছকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। তবে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন লুকুছ মিয়া। ওই আপিল শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট তাকে খালাস দেয়।

এছাড়া ২০০৭ সালে মনোয়ার মল্লিক বনাম রাষ্ট্র মামলায় বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ একটি রায় দিয়েছিল। এতে বলা হয়, ‘অভিযোগকারী নারী বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে স্বেচ্ছায় যৌন মিলনে সম্মত হয়েছেন। তবে এ কারণে আসামিকে ধর্ষণের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।’

আদালত রায়ে আরও বলে, ‘আমরা কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাইনি, যার ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল তাকে (মনোয়ার) সাজা দিতে পারে। তাই ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রাখা আমাদের জন্য কঠিন।’

এছাড়া, ২০১৬ সালে নাজিম উদ্দিন বনাম রাষ্ট্র মামলায় বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চও একই ধরনের রায় দেয়।

রায়ে হাইকোর্ট বলে, ‘সার্বিক পরিস্থিতি এবং সাক্ষ্য প্রমাণে এটা প্রমাণিত হয় না যে, এখানে এক পক্ষ দোষী। বরং এ কাজে দুই জনের সমান অংশগ্রহণ রয়েছে। সব কিছু বিবেচনায় দেখা যায়, ধর্ষণের জন্য শুধু পুরুষ সঙ্গীকে দায়ী করা যায় না।’

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

কী আছে আইনে

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনেও প্রাপ্তবয়স্ক নারীর ক্ষেত্রে ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ এর মতো অভিযোগ মিমাংসা করায় জটিলতা রয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ধর্ষণ, ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু ইত্যাদির শাস্তি অংশের ৯ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি [মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে] দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।’

এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত [ষোল বৎসরের] অধিক বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করিয়া, অথবা [ষোল বৎসরের] কম বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন।’

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন ২০২০ এও এই ধারাটি রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারার ব্যাখ্যায় প্রাপ্ত বয়স্কের ক্ষেত্রে ‘প্রতারণামূলকভাবে সম্মতি’ আদায়ের বিষয়টিকে ‘ধর্ষণ’ বলে গণ্য করার কথা থাকলেও আদালতে ‘বিয়ের প্রলোভনকে’ প্রতারণা হিসেবে প্রমাণ করা বেশ কঠিন।

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?

হাইকোর্টের রায় নিয়ে আইনজীবীদের অভিমত

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হাইকোর্ট যদি এ ধরনের রায় দিয়ে থাকে, তাহলে সেটি সবার ক্ষেত্রেই কার্যকর থাকবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা আছে, প্রতারণা করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক যৌন মিলন করলে সেটি ধর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে দুইজন যদি প্রাপ্তবয়স্ক হয়, সম্মতিতে মিলন হয়, তাহলে সেটি ধর্ষণ হবে না।’

সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ নিউজবাংলকে বলেন, ‘আদালত ঠিক রায়ই দিয়েছে। এ ধরনের অভিযোগে মামলা হলে সেটি ধর্ষণের মামলা হওয়া উচিত না।’

তিনি বলেন, ‘আমি আইনজীবী হিসেবে দেখেছি অনেক ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সম্মতিতেই সম্পর্ক হয়ে থাকে। পরে কোনো এক পর্যায়ে দেখে যে সুবিধা হচ্ছে না, তখনই মামলা মোকদ্দমা করা হয়। ধরেন কোনো পুরুষ সম্পর্কে জড়ানোর পরে যদি সে তার পছন্দসই অন্য কাউকে বিয়ে করতে চায়, কিংবা তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে, তখনই নারী তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করে দেন। এক্ষেত্রে আমার অভিমত হলো, এখানে ধর্ষণের অভিযোগে নয়, প্রতারণা বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগে মামলা হওয়া উচিত।’

এ অভিমতের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম। তবে তিনি নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আইনে ১৬ বছর উল্লেখ আছে, এ ক্ষেত্রে এটি ১৮ বছর করা উচিত ছিল।’

রাশনা ইমাম বলেন, ‘এমনিতেই ধর্ষণের মামলা অনেকভাবে টেকে না। তার মধ্যে প্রথমত অনেক নারী অভিযোগ দায়ের করতে চান না। দ্বিতীয়ত, থানায় গেলেও দেখা যায় ভিকটিম উল্টো হয়রানি শিকার হন। তৃতীয়ত সাক্ষ্য প্রমাণের অভাবে অনেক সময় আসামি খালাস পেয়ে যায়। এসব বিবেচনায় নিয়ে পুরো আইনটিই সংশোধন ও সময়োপযোগী করা উচিত।’

যা বলেছে ভারতের আদালত

ভারতের দিল্লি হাইকোর্ট গত বছর একটি মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলে, কোনো নারী স্বেচ্ছায় দীর্ঘদিন ধরে কারো সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখার পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনি ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ আনতে পারবেন না।

‘বিয়ের প্রলোভনে’ যৌন সম্পর্ক কি ধর্ষণ?
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খালাস দিয়ে আদালত বলে, ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতিকে কোনোভাবেই দীর্ঘায়িত ও একান্ত যৌন সম্পর্কের প্ররোচনা হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে না।’

পর্যবেক্ষণে বিচারপতি বিভু বাখ্রু বলেন, ‘অভিযোগকারী নারী যদি কিছু সময়ের জন্য নিজেকে অভিযুক্তের যৌন কামনার শিকার বলে মনে করেন, সেক্ষেত্রে বিষয়টিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্ররোচিত করার মতো অভিযোগ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।

‘এ ধরনের সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে একপক্ষ মানসিকভাবে রাজি না থাকার পরেও অন্য পক্ষের বিয়ের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে যৌন সম্পর্ক তৈরিতে সম্মতি দিতে পারে।’

আদালত বলে, স্বল্প সময়ের এই ‘সম্মতি’র ক্ষেত্রে বিয়ের প্রলোভনের মতো বিষয়টি প্রযোজ্য হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কোনো একটি পক্ষ অপর পক্ষের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক সম্মতি আদায়ের অভিযোগ তুলতে পারবে এবং ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের মামলা করা যাবে।

“তবে একটি পক্ষ অপরপক্ষের সঙ্গে ধারাবাহিক সম্পর্কের মধ্যে থাকলে এবং দীর্ঘদিন ধরে তাদের শারীরিক সম্পর্ক বজায় থাকলে, বিষয়টিকে বিয়ের প্রলোভনের কারণে ‘অনিচ্ছুক শারীরিক সম্পর্ক’ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।”

এর আগে ২০১৯ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে বলেছিল, শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ের প্রতিশ্রুতি না রাখার প্রতিটি ঘটনাকেই ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ধর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

সবশেষ গত মার্চে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট একটি রায়ে বলে, একসঙ্গে থাকা নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে পুরুষ পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি না রাখলে ধর্ষণের অভিযোগ আনা যাবে না। আদালত বলেছে, ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়া ঠিক নয়। এমনকি একজন নারীর ক্ষেত্রেও বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে সম্পর্ক ভেঙে দেয়া উচিত নয়। তবে এর মানে এই নয় যে, দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে যৌনমিলনকে ধর্ষণ হিসেবে অভিহিত করা যাবে।’

আরও পড়ুন:
দালালের সিল ছাড়া মেলে না পাসপোর্ট
হাসপাতালের ৮ দালালের সাজা

শেয়ার করুন

পাচারের ঘাটে ঘাটে ধর্ষণ, বিক্রি হচ্ছে সন্তানও

পাচারের ঘাটে ঘাটে ধর্ষণ, বিক্রি হচ্ছে সন্তানও

প্রতীকী ছবি

‘একপর্যায়ে সেই সন্তানের জন্ম ওই সব গোপন বাসায়ই হয়। যখন পুলিশ রেড দেয়, তখন বাচ্চাগুলোকে ওখানে রেখেই বাংলাদেশে চলে আসে। ওই সব বাচ্চার যে কী হয়, আল্লাই ভালো জানে। শুনছি, ওসব বাচ্চা নাকি ওই দেশে যাদের বাচ্চা হয় না, তাদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়।’

সুইটি ইসলাম (ছদ্মনাম)। বয়স ১৭ বছর। বাড়ি শরীয়তপুর জেলার চন্দনকর এলাকায়। বছর খানেক আগে ফেসবুকে টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে শিহাব নামে যশোরের এক তরুণের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক হয় তাদের। কিন্তু শিহাব যে তাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেছেন, তা বুঝতে পারেনি সে।

এরই একপর্যায়ে গত সোমবার সুইটি শরীয়তপুর থেকে তিন হাজার টাকায় মোটরসাইকেল ভাড়া করে একাই চলে যায় যশোরে শিহাবের কাছে।

সুইটির ভাষ্যমতে, যশোরে পৌঁছানোর পর প্রথমে একটি হোটেলে ওঠানো হয় তাকে। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এরপর ভুলিয়ে-ভালিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় একটি নির্জন গ্রামে। সেখানেও চলে ধর্ষণচেষ্টা। তবে যশোরে পরিচিত কেউ না থাকায় এসবের প্রতিবাদ করার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিল না মেয়েটি।

এরই মাঝে তাকে ভারতে পাচারের জন্য সেখান থেকে নেয়া হয় বেনাপোল বাসস্ট্যান্ডে। সেখানে সুযোগ বুঝে মেয়েটি আশপাশের লোকজনকে জানিয়ে দেয় যে, সে পাচারকারীদের খপ্পরে পড়েছে। এ সময় কৌশলে পালিয়ে যান শিহাব।

এ ঘটনার পর সুইটিকে নিরাপদে পৌঁছে দিতে যশোর জেলা প্রশাসন যোগাযোগ করে শরীয়তপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে। এ যাত্রায় বেঁচে যায় মেয়েটি। কিন্তু টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে পাচারকারীদের হাতে পড়ে আরও কত মেয়ে যে ভারতের অন্ধকার জগতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, তার কোনো হিসাব নেই।

পাচারের ঘাটে ঘাটে ধর্ষণ, বিক্রি হচ্ছে সন্তানও

যেভাবে পাচার হয়

একটা সময় পর্যন্ত সাধারণত আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেয়ে, গার্মেন্টসকর্মী এমনকি বিধবা নারীদের টার্গেট করে অনেক টাকার স্বপ্ন দেখিয়ে বিদেশে পাচার করা হতো। এ জন্য দালালের মাধ্যমে টার্গেট নারী বা তাদের পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো।

বছর দুয়েক আগে দেশে ‘টিকটক কালচার’ জনপ্রিয় হতে শুরু করে। এই অনলাইন সামাজিকমাধ্যমের মোহে পড়তে শুরু করে উঠতি বয়সী মেয়েরা। আর এ সুযোগ নেয় নারী পাচারে সক্রিয় পুরোনো এই চক্র। কারণ, টিকটক গ্রুপের অ্যাডমিনদের মাধ্যমে অনলাইনে সহজেই হ্যাং আউট বা পুল পার্টির সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।

দুই বছর ধরে এভাবে তারা টিকটক গ্রুপের নারী সদস্যদের ছলেবলে বিদেশে শুটিং-অডিশনের কথা বলে পাচার করছে। বিশেষ করে ভারতে। প্রতিবেশী এই দেশটিতে নেয়ার সময় পথে পথে তাদের করা হয় ধর্ষণ। কিছু ক্ষেত্রে এসব ঘটনায় ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেয়া হয়। একপর্যায়ে বাধ্য করা হয় যৌন পেশায়।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, পুরোনো এই চক্রটি আগের মতোই পুরোনো গার্মন্টসকর্মী দিয়ে নতুন গার্মেন্টসকর্মীকে প্রলোভনের মাধ্যমেও পাচার করছে। এ ছাড়া স্বর্ণ চোরাকারবারিদের একটি চক্র নারী পাচারে জড়িয়েছে। এই চক্রের কেউ কেউ স্থানীয় দালালের মাধ্যমে বিদেশে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নারী পাচার করছে।

পাচারের ঘাটে ঘাটে ধর্ষণ, বিক্রি হচ্ছে সন্তানও

বেশির ভাগই থেকে যায় ‘অন্ধকার জগতে’

পাচার হওয়ার পর যৌন নির্যাতনের শিকার এসব ভুক্তভোগীর কিছু অংশকে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বেশির ভাগই থেকে যায় অন্ধকার জগতে।

পাচার হওয়া মানুষ নিয়ে কাজ করে ‘রাইটস যশোর’ নামের একটি বেসরকারি সংগঠন। তাদের তথ্য বলছে, শুধু যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়েই ২০১৯ সালে ফেরত আনা হয়েছে পাচার হওয়া ৩৫ নারীকে, যাদের মধ্যে ছিল ৯টি মেয়েশিশুও।

২০২০ সালে একই সীমান্ত দিয়ে ফেরত আনা হয়ে ২৫ নারী ও ১৯ মেয়েশিশুকে। আর চলতি বছরের গত পাঁচ মাসে বেনাপোল দিয়ে ফেরত আনা হয়েছে চার মেয়েশিশু ও ১৩ নারীকে।

রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, গত ‌১৭-১৮ মাসে টিকটকের ফাঁদে ফেলে পাচার করা হয়েছে বহু মেয়েকে। কয়েকটি ঘটনার মাধ্যমে তাদের মধ্যে অল্প কয়েকজনকে উদ্ধার করা গেলেও বেশির ভাগই এখনো ভারতে রয়ে গেছে। করোনার বিধিনিষেধের কারণে তাদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

যেভাবে ফিরিয়ে আনা হয় পাচার হওয়া নারীদের

এ প্রসঙ্গে রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক নিউজবাংলাকে বলেন, ভারতে বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন কারণে রেড দেয় পুলিশ। তখন পাচার হওয়া যেসব মেয়েকে জোরপূর্বক যৌন পেশায় লিপ্ত করা হয়, তাদের অনেকে পুলিশের কাছে ধরা পড়েন। তারপর তাদের বেসরকারি সেফ হোমে রাখা হয়।

তিনি বলেন, ‘সেফ হোম থেকে আমরা তথ্য পাই। তারপর একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনকে। তারা বিষয়টা ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানায়।

‘এরপর ভুক্তভোগীদের ট্রাভেল পাস মেলে। ওই ট্রাভেল পাস নিয়েই দেশে ফিরতে পারেন তারা। এভাবে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পাচারের শিকার নারীরা যখন দেশে আসেন, তখন আমরা তাদের সংখ্যা হিসাব করি।’

পাচারের ঘাটে ঘাটে ধর্ষণ, বিক্রি হচ্ছে সন্তানও

‘স্বপ্ন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে ইজ্জতের ওপর হাত দেয় ওরা’

সম্প্রতি বাংলাদেশে ফিরে আসা এক নারী নিউজবাংলাকে জানিয়েছেন তার নির্মম অভিজ্ঞতার কথা।

তিনি বলেন, ‘একেকজন একেক কারণে পাচার হয়। অনেকজনকে একসঙ্গে নিয়ে যায় না পাচারকারীরা। কাউকে ভালো ইনকামের কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়। কাউকে নেয় মডেল বানানোর প্রলোভন দিয়ে। কাউকে কাউকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে নিয়ে যাওয়া হয়।’

ওই নারী বলেন, ‘ইন্ডিয়া যাওয়ার আগে এসব জানতাম না। কারণ আমাদের তিনজনকে ভালো কাজের কথা বলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ওখানে গিয়ে দেখি সবই গল্প। একেকজনকে একেক কথা বলে পাচার করা হয়েছে।

‘স্বপ্ন দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে ইজ্জতের ওপর হাত দেয় ওরা। একটা মেয়ে যখন পাচার হয়, তখন ঘাটে ঘাটে ধর্ষণের শিকার হয়। ওটা যে কী আজাব, তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।’

‘ওই সব বাচ্চার যে কী হয় আল্লাই ভালো জানে’

পাচারের পর নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসা আরও এক নারীর সঙ্গে কথা বলেছে নিউজবাংলা।

তিনি বলেন, ‘এক অমানুষ নিয়ে যায় আরেক অমানুষের কাছে। এভাবে কত অমানুষের হাতে যে আমাদের পড়তে হয়, তা বলে বোঝাতে পারব না। তারপর বিক্রি করে দেয় ভারতীয় দালালদের কাছে।

‘তারা আবার বিক্রি করে দেয় হোটেলে, গোপন বাসাবাড়িতে বা পতিতালয়ে। এসব জায়গায় থাকতে থাকতে অনেক মেয়ের পেটে বাচ্চা চলে আসে। মেয়েটি দেখতে সুন্দর হলে বাচ্চার ভ্রূণ নষ্ট করে দেয়া হয়।’

‘গোপন বাসাবাড়িতে’ যেসব মেয়েকে রাখা হয়, তাদের মধ্যে কারও কারও পেটে বাচ্চা এলে নষ্ট করা হয় না বলে জানান তিনি।

এর কারণ ব্যাখ্যা করে মেয়েটি বলেন, ‘যারা গোপন বাসায় পড়ে, অনেক সময় তারা বাচ্চা নষ্ট না করলেও কিছু বলা হয় না, বিশেষ করে যারা দেখতে তেমন আকর্ষণীয় না, বয়স ত্রিশের ওপরে তাদের।

‘একপর্যায়ে সেই সন্তানের জন্ম ওই সব গোপন বাসায়ই হয়। যখন পুলিশ রেড দেয়, তখন বাচ্চাগুলোকে ওখানে রেখেই বাংলাদেশে চলে আসে। ওই সব বাচ্চার যে কী হয় আল্লাই ভালো জানে। শুনছি, ওসব বাচ্চা নাকি ওই দেশে যাদের বাচ্চা হয় না, তাদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়।’

আরও পড়ুন:
দালালের সিল ছাড়া মেলে না পাসপোর্ট
হাসপাতালের ৮ দালালের সাজা

শেয়ার করুন

কিশোরী মেয়ের খোঁজে ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছেন বাবা

কিশোরী মেয়ের খোঁজে ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছেন বাবা

মেয়েটিকে ঢাকা আনার বিষয়ে শাহিদা ওরফে শানু নামে যে নারীর ভূমিকা ছিল, সেই নারী নিউজবাংলাকে বলেছেন, ‘শাহপরানের অনুসারী যাত্রাবাড়ীর এক দরবেশের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, মেয়েটি দিব্যি ফুর্তিতে আছে।’

সংসারের অভাব থেকে মুক্তি দিতে মাস ছয়েক আগে ১৩ বছরের মেয়েকে রাজধানী ঢাকা পাঠিয়েছিলেন কুড়িগ্রামের এক দম্পতি। দূর সম্পর্কের এক আত্মীয় তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, রাজধানীতে যার বাসায় থাকবে মেয়েটি তারা অনেক ভালো মানুষ, মেয়েটি অনেক ভালো থাকবে। কিন্তু এক মাস পর ওই বাসার মালিক মোবাইলে ফোন করে বাবা-মাকে জানান, মেয়েটি পালিয়ে গেছে, সঙ্গে চুরি করে নিয়ে গেছে ২৫ হাজার টাকাও।

কিন্তু বাড়িওয়ালার এই কথা বিশ্বাস করতে পারেনি কুড়িগ্রামের পরিবারটি। তাদের আশঙ্কা, দেখতে সুন্দর কিশোরী মেয়েটিকে পরিকল্পিতভাবে পাচার করা হয়েছে। মেয়েটির সন্ধানে কুড়িগ্রাম ও রাজধানীর একটি থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছেন তার বাবা। রাজধানীর একই থানায় জিডি করেছেন ওই বাসার মালিকও।

মেয়েটিকে ঢাকা আনার বিষয়ে শাহিদা ওরফে শানু নামে যে নারীর ভূমিকা ছিল, সেই নারী নিউজবাংলাকে বলেছেন, ‘শাহপরানের অনুসারী যাত্রাবাড়ীর এক দরবেশের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, মেয়েটি দিব্যি ফুর্তিতে আছে।’

পুলিশ বলছে, তারা মেয়েটিকে খুঁজে বের করার চেষ্টায় আছেন।

মেয়ের সন্ধানে রাজধানীতে এসে নাখালপাড়ায় একটি বাসা ভাড়া করেছেন কুড়িগ্রামের ওই বাবা-মা। গত বৃহস্পতিবার ওই বাসায় তাদের সঙ্গে কথা হয় নিউজবাংলার।

মেয়েটির বাবা জানান, তিনি এখন ঢাকায় রিকশা চালান। থানা-পুলিশ কোনো সন্ধান দিতে পারছে না। উপায় না পেয়ে রিকশা চালাতে চালাতেও মেয়েকে খুঁজছেন তিনি।

আশঙ্কা প্রকাশ করে এই বাবা বলেন, ‘পত্রিকা ও টিভি খুললেই নারী পাচারের খবর পাই, চমকে উঠি। এভাবে আমাদের মেয়েকেও কি কেউ কৌশলে পাচার করে দিয়েছে? সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমার মেয়ের সন্ধান চাই।’

নিখোঁজ মেয়েটির বাবা-মা জানান, তাদের ঘরে চার মেয়ে, কোনো ছেলে নেই। অভাব-অনটনের কারণে মেজো মেয়েকে এলাকার দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের পীড়াপীড়িতে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর এলাকার এক বাসায় পাঠান গত নভেম্বরে। সেখানে কাজ করার এক মাসের মধ্যেই মেয়েটি পালিয়ে যায় বলে দাবি করেন ওই বাসার লোকজন।

বিষয়টি নিয়ে নিউজবাংলা কথা বলেছে ওই বাসার মালিক আবদুল্লাহ আল হেলাল ও তার বড় ভাই জনির সঙ্গে। তারা বলছেন, মেয়েটি দ্বিতল ভবনের নিচতলার বাথরুমের ভাঙা ভেন্টিলেটরের ফাঁকা দিয়ে পালিয়ে গেছে। পালানোর পর এলাকায় মাইকিং করা হয়। পত্রিকায় নিখোঁজ সংবাদ ছাপানো হয়। তারপরও না পেয়ে থানায় জিডি করেন।

শেরেবাংলা নগর থানার এসআই আবদুল বারেক নিউজবাংলাকে জানান, মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও শেরেবাংলা নগর থানায় একটি করে জিডি করেছেন তার বাবা-মা। আরেকটি জিডি করেছেন শেরেবাংলা নগরের ওই বাসার মালিক হেলাল। এসব জিডির সূত্র ধরে তদন্ত করা হলেও মেয়েটির সন্ধান মেলেনি।

কিশোরী মেয়ের খোঁজে ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছেন বাবা
মেয়ের বাবার করা জিডি


তিনি আরও বলেন, ‘যে বাসা থেকে নিখোঁজ হয়েছে, সেই বাসায় গিয়েছি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে, মেয়েটি বাসার বাথরুমের ফাঁকা জায়গা দিয়ে পালিয়েছে। তারপরও বিষয়টির অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সিআইবির (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো) সহায়তা চাওয়া হয়েছে।’

নিখোঁজ মেয়েটির বাবা নিউজবাংলাকে জানান, যাত্রাবাড়িতে ‘বান্দা কাজ’ করেন এমন একজন পরিচিত নারী, যার নাম শাহিদা ওরফে শানু ও আব্দুল্লাহ আল হেলালের বড় ভাই জনির মাধ্যমে গত নভেম্বর মাসে মেয়েটি ঢাকা আসে। পরে শেরেবাংলা নগর এলাকার বাসায় পাঠানো হয়। গৃহকর্তা আবদুল্লাহ আল হেলালের বাড়িও কুড়িগ্রামে, নিজেকে কখনো ব্যাংকার, কখনো প্রকৌশলী পরিচয় দেন তিনি। তার স্ত্রীর বাড়ি কুমিল্লায়। মেয়েটির ব্যাপারে হেলালের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও তিনি রাজি হননি। বলেন, ‘তিনি সরকারি কর্মকর্তা ছাড়া কারও সঙ্গে কথা বলেন না।’

এসব বিষয়ে কথা বলার জন্য সোমবার হেলালের শেরেবাংলা নগরের জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের স্টাফ কোয়ার্টারের বাসায় যান নিউজবাংলার এই প্রতিবেদক। বাসার গেটে তালা মারা দেখে মোবাইলে ফোন করা হলে হেলাল বলেন, ‘আমি ঢাকার বাইরে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় আছি। এখানে এলজিইডি মন্ত্রণালয়ের আউটসোর্সিংয়ের কাজ করি। মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমরাও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি।’

তিনি বলেন, ‘মেয়েটি পালানোর পর এলাকায় মাইকিং করেছি; থানায় জিডি করেছি। তবে খোঁজ পাইনি। মেয়েটি বাসা থেকে যখন পালিয়ে যায়, তখন আমার স্ত্রী ছিল না। অফিসে যাওয়ার আগে ভুলে ড্রয়ারের চাবি বাসায় রেখে যায়। সেই চাবি দিয়ে ড্রয়ার খুলে ২৫ হাজার টাকাও নিয়ে যায় মেয়েটি।’

মেয়েটির বাবা নিউজবাংলাকে আরও বলেন, ‘‘মেয়ের খবর নিতে থানার এসআইকে ফোন দিলেই তিনি বলেন, ‘আমি খুঁজতেছি না! না পেলে আমি কী করব?’ হেলালকে ফোন করলে তিনিও হুমকি দিয়ে বলেন, ‘যাহ। তুই থানা-পুলিশ কর। কোর্টের মাধ্যমে ফাঁসি হলে হবে।’ হেলালের বড় ভাই জনিও একই কথা বলে।’’

মেয়েটির পরিণতি নিয়ে নানা আশঙ্কার কথা বলতে গিয়ে তার বাবা আরও বলেন, ‘আমার মনে হচ্ছে, মেয়েকে ভারতে পাচার করা হয়েছে। যেহেতু ৫-৬ মাস খুঁজতেছি। মাইকিং করা হচ্ছে। জিডি করেছি। আত্মীয়-স্বজনদের মাধ্যমে ফেসবুকেও সন্ধান চেয়ে পোস্ট দিয়েছি।

‘এখন পত্রিকা ও টিভিতে দেখি মেয়েদের পাচার করা হয়, তাই আমার সন্দেহ আমার মেয়েকেও পাচার করা হয়েছে। মেয়ের খোঁজ করতেই কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকায় এসেছি। পাঁচ মাস ধরে ঢাকায় রিকশা চালাই, আর মেয়েরে খুঁজি।’

কিশোরী মেয়ের খোঁজে ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছেন বাবা


মেয়েটির মা নিউজবাংলাকে বলেন, ‘‘ঢাকায় নেয়ার এক মাস পরই হেলাল ফোন করে বলে, ‘তোদের মেয়ে পালায়ে গেছে। ওর কাপড়-চোপড় নিয়ে গেছে।’ পরে মেয়ের খোঁজ করতে ঢাকায় আসি।’’

মেয়েটির বাবা বলেন, ‘‘মেয়ের খোঁজ করতে আমরা ডিসেম্বর মাসে একবার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মাঠের বাম পাশের কোয়ার্টারের সামনে যাই। তখন ২০-২৫ জন লোক জড়ো করেন হেলাল। তারপর বলেন, ‘তোর মেয়ে বাসা থেকে পালায়ে গেছে। সিসি ক্যামেরা দেখ।’ আমি ভয়ে বাসায় না গিয়ে তাকে সিসি ক্যামেরা দেখাতে বলি, তিনি বলেন, ‘এমপি-মন্ত্রী ছাড়া কোনো সিসি ক্যামেরা দেখা যাবে না।’’

‘দরবেশ বলেছে, মেয়েটি দিব্যি ফুর্তিতে আছে’

মেয়েটিকে ঢাকা আনতে যে নারী প্রথম যোগাযোগ করেন পরিবারটির সঙ্গে, সেই নারীর সঙ্গে সোমবার মোবাইল ফোনে কথা হয় নিউজবাংলার।

ওই নারী বলেন, ‘মেয়েটি নিখোঁজ হওয়ার পর আমিও দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। মেয়েটির অবস্থান জানার জন্য প্রায় এক মাস আগে শাহপরানের অনুসারী যাত্রাবাড়ীর এক দরবেশের কাছে যাই। ১০১ টাকা ফি দিয়ে মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়েটি দিব্যি ফুর্তিতে আছে। এক বছর পর ঠিকই ফিরে আসবে। সে এখন গাজীপুরে এক ছেলের সঙ্গে আছে।’

মেয়েটি কোনো পাচার চক্রের হাতে পড়েছে কি না জানতে চাইলে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. শহিদুল্লাহ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘তদন্ত চলছে। দেখা যাক।’

আরও পড়ুন:
দালালের সিল ছাড়া মেলে না পাসপোর্ট
হাসপাতালের ৮ দালালের সাজা

শেয়ার করুন

ডাক্তার-প্যাথলজিস্ট ছাড়াই টেস্ট রিপোর্ট

ডাক্তার-প্যাথলজিস্ট ছাড়াই টেস্ট রিপোর্ট

রোগীদের সঙ্গে নানা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর পান্থপথের হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে। ছবি: নিউজবাংলা

নিউজবাংলার তিন মাসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২১ সালের জানুয়ারিতে শামীম আহম্মদ নামে এক লোক হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে বসেন পান্থপথে, যার আসলে চিকিৎসা পেশায় কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। ভুঁইফোঁড় এই প্রতিষ্ঠানটি এমন সব দম্পতিকে টার্গেট করে, যাদের অনেক দিনেও সন্তান হয়নি।

নেই ডাক্তার, নেই প্যাথলজিস্ট। এমনকি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্সও নেই। তবু দেদার দিয়ে যাচ্ছে প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট, যা বিশ্বাস করে প্রতারিত হচ্ছেন সন্তানের জন্য পাগলপ্রায় অনেকে।

রাজধানীর পান্থপথ মোড়ের গাজী টাওয়ারের চতুর্থ তলায় অবস্থিত হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার বেশ কয়েক মাস ধরে এমন প্রতারণা করে আসছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগীদের সঙ্গে।

বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে গত তিন মাস অনুসন্ধান চালিয়েছে নিউজবাংলা।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে শামীম আহম্মদ নামে এক লোক হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার খুলে বসেন পান্থপথে, যার আসলে চিকিৎসা পেশায় কোনো অভিজ্ঞতাই নেই।

ভুঁইফোঁড় এই প্রতিষ্ঠানটি এমন সব দম্পতিকে টার্গেট করে, যাদের অনেক দিনেও সন্তান হয়নি। এরপর তাদের আসলে কী কী সমস্যা রয়েছে, সেসব পরীক্ষার জন্য নমুনা নেয়। প্রতিটি নমুনা পরীক্ষার জন্য রয়েছে আলাদা ফি। সিমেন অ্যানালাইসিসের ফি এক হাজার টাকা।

অধিকাংশ রোগীই এই পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন। তবে কোনো ধরনের পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আবার এই টেস্ট রিপোর্টও দেয়া হচ্ছে গ্রিন রোডেরই আরেকটি প্রতিষ্ঠানের নামে, যেটি গত বছর থেকে বন্ধ রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি পাঁচ মাস আগে চালু হলেও এখনো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্সই পায়নি তাদের কর্যক্রম চালানোর জন্য।

ভুক্তভোগীদের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মোহাম্মাদ রুবেল হোসেন। থাকেন রাজধানীর বসিলা এলাকায়। পাঁচ বছর আগে বিয়ে করলেও তাদের কোনো সন্তান হয়নি।

ডাক্তার-প্যাথলজিস্ট ছাড়াই টেস্ট রিপোর্ট
ভুক্তভোগী রুবেল হোসেনের টেস্ট রিপোর্ট। ছবি: সংগৃহীত

নিউজবাংলাকে রুবেল জানান, কয়েক বছর ধরে একটি সন্তানের আশায় সামর্থ্য অনুযায়ী সব ধরনের চেষ্টাই করেছেন তিনি। এ-ডাক্তার থেকে ও-ডাক্তারের কাছে গেছেন। তারা একেকজন একেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠিয়েছেন। কিন্তু সেসব পরীক্ষা করে ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলেও সন্তানের মুখ দেখতে পাননি তিনি।

এরই এক পর্যায়ে এক ডাক্তারের পরামর্শে রুবেল তার সিমেন পরীক্ষার জন্য গত ২৪ মার্চ সকালে গ্রিন রোডের হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান।

সকাল ১০টায় টেস্টের জন্য সিমেন দেন রুবেল। তাকে বলা হয় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে। দুপুর ১২টার মধ্যেই তাকে রিপোর্ট দিয়ে দেন রিসিপশনিস্ট। কিন্তু রিপোর্ট দেখেই চমকে যান তিনি।

নিউজবাংলাকে রুবেল বলেন, ‘টেস্টের রিপোর্ট হাতে পেয়েই আমার সন্দেহ হয়। কারণ আমি যেখানে টেস্ট করতে গেলাম, সেই প্রতিষ্ঠানের নাম হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কিন্তু টেস্টের রিপোর্টের ওপরে লেখা আছে গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টার। তার মানে রিপোর্টটি হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের না।

‘আমার মনে আরও প্রশ্ন দেখা দিল, মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই আরেক জায়গা থেকে কীভাবে রিপোর্ট করা সম্ভব? তখন আমার সন্দেহ হয়; এখানে নিশ্চয়ই কোনো ঝামেলা আছে। তখনই আমি রিপোর্টের নিচে যে ডাক্তারের সই আছে, সেই ডাক্তার রুবায়েতুল জান্নাতের সঙ্গে দেখা করতে চাই। কিন্তু রিসিপশনিস্ট বলেন এখন তো ডাক্তার স্যার নেই।’

রুবেল জানান, তখন তার মনে প্রশ্ন আসে, ডাক্তার রুবায়েতুল জান্নাত না থাকলে তার সইটা করল কে?

এমন পরিস্থিতিতে রুবেলের কথার সূত্র ধরে অনুসন্ধানে নামে নিউজবাংলা। দুই সন্তানের পিতা মুক্তার উদ্দিনকে (ছদ্মনাম) নিঃসন্তান সাজিয়ে গত ৩ এপ্রিল সিমেন অ্যানালাইসিসের টেস্ট করতে তাকে পাঠানো হয় হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। সঙ্গে ছিল নিউজবাংলা।

মুক্তার উদ্দিন দুপুর ১২টায় সিমেনের নমুনা দিয়ে পরীক্ষার ফল পেয়ে যান বেলা ২টার মধ্যেই। রিপোর্টটি হাতে পাওয়ার পর বসিলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রুবেলের অভিযোগের অক্ষরে অক্ষরে মিল পায় নিউজবাংলা। রুবেলের মতো তার রিপোর্টও গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টারের প্যাডে দেয়া হয়েছে। রিপোর্টের নিচেও সেই ডাক্তার রুবায়েতুল জান্নাতের সই রয়েছে।

ডাক্তার-প্যাথলজিস্ট ছাড়াই টেস্ট রিপোর্ট
মুক্তার উদ্দিনের টেস্ট রিপোর্ট

যদিও এই দুই-আড়াই ঘণ্টায় হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোনো ডাক্তার বা প্যাথলজিস্টকে ঢুকতে বা বের হতে দেখা যায়নি। পুরোটা সময় সেন্টারে ছিলেন শুধু একজন রিসিপশনিস্ট ও দুজন অফিস সহকারী।

তাহলে ডাক্তার রুবায়েতুল জান্নাত কই, রিপোর্টে তার সই কীভাবে এল এবং গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টারইবা কোথায়? এমন সব প্রশ্ন নিয়ে নিউজবাংলা কথা বলতে চায় রিসিপশনিস্টের সঙ্গে।

টেস্ট রিপোর্টে স্বাক্ষরকারী ডাক্তার রুবায়েতুল জান্নাত কি সেন্টারে আছেন- জানতে চাইলে এই তরুণী বলেন, ‘ডাক্তার স্বাক্ষর করে চলে গেছেন।’

এ সময় নাম জানতে চাইলে বিরক্ত হন ওই রিসিপশনিস্ট। বলেন, ‘আমার নাম দিয়ে আপনারা কী করবেন? আপনাদের যা বলার আমাদের মালিক শামীম আহম্মদকে বলবেন।’

এরপর দীর্ঘদিন হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নজর রেখেও শামীম আহম্মদ কখন সেখানে ঢুকছেন-বেরোচ্ছেন তা নিশ্চিত হতে পারেনি নিউজবাংলা। এদিকে করোনা বাড়তে থাকায় শুরু হয় লকডাউন; থেমে যায় নিউজবাংলার নজরদারিও।

লকডাউন কিছুটা শিথিল হওয়ার পর আবারও হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নজর রাখা শুরু করে নিউজবাংলা। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ জুন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে সেন্টারেই দেখা মেলে মালিক শামীম আহম্মদের।

ডাক্তার-প্যাথলজিস্ট ছাড়াই টেস্ট রিপোর্ট
হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শামীম আহম্মদ। ছবি: নিউজবাংলা

হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টারের প্যাডে রিপোর্ট দেয়া হয় কেন, জানতে চাইলে প্রথমেই বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি। বলেন, ‘এ রকম কাজ আমরা কখনোই করি না। এটা সম্ভব না।’

এরপর তাকে জানানো হয়, আমরাই একজনকে রোগী সাজিয়ে এখানে পাঠিয়েছিলাম। তার ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে। এ কথা শোনার পর বিব্রত হয়ে পড়েন হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শামীম। সুর পাল্টে বলেন, ‘হয়তো ভুল করে এমন হতে পারে।’

তখন শামীম আহম্মদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে তার এই প্রতিষ্ঠানের নামে নিবন্ধন নেয়া হয়েছে কি না? নিবন্ধন নম্বর কত?

জবাবে প্রথমে তিনি বলেন, ‘আমার সব লাইসেন্সই আছে।’ দেখতে চাইলে কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন, ‘আবেদন করেছি। কিছুদিনের মধ্যেই পেয়ে যাব।’

লাইসেন্স ছাড়া কীভাবে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন, জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

এদিকে ৩ জুন বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, নিবন্ধন পেতে গত ২৭ মে আবেদন করেছে হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, যা পেন্ডিং রয়েছে।

অধিদপ্তরের হাসপাতাল শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউজবাংলাকে বলেন, ‘হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনুমতির জন্য আমাদের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা পরিদর্শনে অসংখ্য ত্রুটি পাই। তাই আমরা তাদের লাইসেন্স দিই নাই।’

হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শামীমের সঙ্গে কথা বলার সময় টেস্টের রিপোর্টে সই থাকা ডাক্তার রুবায়েতুল জান্নাতের পরিচয় জানতে চায় নিউজবাংলা। তখন তিনি শুধু তার মোবাইল ফোন নম্বর দেন।

ডাক্তার-প্যাথলজিস্ট ছাড়াই টেস্ট রিপোর্ট

সেখান থেকে বেরিয়ে ফোন দিলে ডাক্তার রুবায়েতুল জান্নাত জানান, তিনি বারডেম হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।

আপনি পার্টটাইম চাকরি করেন হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। কিন্তু গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টারের প্যাডে আপনার সই কেন?

নিউজবাংলার এমন প্রশ্নে রুবায়েতুল জান্নাত বলেন, ‘আমি ওইখানে কাজ করি ঠিক আছে। কিন্তু আপনারা যে স্বাক্ষরের কথা বলছেন সেটা আমার না। কারণ আমি স্বাক্ষর করি হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের টেস্ট রিপোর্টে; গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টারের প্যাডে না। তা ছাড়া আমি রোজার আগেই হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চাকরি ছেড়ে দিয়েছি।’

রুবায়েতুল জান্নাতের সঙ্গে কথা বলার পর নিউজবাংলা যায় পান্থপথের রূপায়ণ প্রাইম টাওয়ারে অবস্থিত গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টারে, যে প্রতিষ্ঠানের প্যাড ব্যবহার করে টেস্ট রিপোর্ট দেয় শামীম আহম্মদের হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার।

সেখানে গিয়ে কথা হয় গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টারের মালিক ডাক্তার নাবিদ তওসিফ হোসাইনের সঙ্গে। তিনি জানান, তার প্রতিষ্ঠানটি গত জানুয়ারি মাসেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

কেন বন্ধ করে দিয়েছেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনকার হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শামীম আহম্মদ আর আমি গত বছর এই গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করি।

‘কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই দেখি শামীম আহম্মদ ডাক্তারদের স্বাক্ষর নকল করে রোগীদের সব ধরনের প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট দিচ্ছেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে ঝামেলা শুরু হয়। এরপর আমি আমার মানসম্মানের কথা চিন্তা করে নিজেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়ে আমাদের প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দিই।’

ডাক্তার-প্যাথলজিস্ট ছাড়াই টেস্ট রিপোর্ট
অসংখ্য ত্রুটি থাকার কারণে হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে অনুমোদন দিচ্ছে না স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

হার্টবিট ফার্টিলিটি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে গ্রিন ইনফার্টিলিটি সেন্টারের প্যাডে টেস্ট রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে, জানালে ডাক্তার নাবিদ তওসিফ হোসাইন বলেন, ‘বিষয়টি আমি বেশ কিছু রোগীর বরাতে জানতে পেরেছি। বিষয়টা আমার জন্য বিব্রতকর। কারণ ওই সব রোগীর কোনো ক্ষতি হলে তার দায়ভার তো আমার ওপরেও পড়বে। সে জন্য আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করেছি।’

এ ধরনের রিপোর্টের ফলে রোগী কী ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন, তা জানতে নিউজবাংলা কথা বলেছে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. ফাতেমা আশরাফের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘এটা তো একটা প্রতারণা। সবার চোখের সামনে লাইসেন্স ছাড়া, ডাক্তার ছাড়া নন-মেডিক্যাল মানুষ দিয়ে একটা ডায়াগনস্টিক সেন্টার চলছে কীভাবে?

‘সাধারণ মানুষ সন্তান না হওয়ার কষ্ট নিয়ে এখানে এসে প্রতারিত হচ্ছেন। কিন্তু তারা জানতেও পারছে না তারা প্রতারিত হচ্ছেন। আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে এর কঠিন শাস্তি চাই।’

আরও পড়ুন:
দালালের সিল ছাড়া মেলে না পাসপোর্ট
হাসপাতালের ৮ দালালের সাজা

শেয়ার করুন

বিদ্যুৎযোদ্ধাদের বেতনের অর্ধেক টাকা কাদের পকেটে?

বিদ্যুৎযোদ্ধাদের বেতনের অর্ধেক টাকা কাদের পকেটে?

কীভাবে ঠকাচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে ঠিকাদার আমাদের চাকরি দিছে, তারা ব্লাংক চেকে আমাদের সই নিয়ে নেয়। একেকবার তিনটা করে চেকে সই নেয়। ওই তিনটা শেষ হওয়ার আগেই আরও তিনটায় সই নেয়। এই দেখেন চেকের ছবি তুলে আনতে বলছিলেন, আনছি। ওরা আমাদের কারেন্টের মতো করে রক্ত চুষে খায়। আমরা কেউ কিছু কইতে পারি না চাকরি হারানোর ভয়ে।’

দেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)। গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে জীবন বাজি রেখে রাত-দিন কাজ করতে হয় এখানকার লাইনম্যানদের। অভিযোগ আছে, ব্যাংকে নির্দিষ্ট সেলারি অ্যাকাউন্ট থাকলেও মাস শেষে যে টাকা ঢোকে, তার পুরোটা তুলতে পারেন না এই বিদ্যুৎযোদ্ধারা।

নিউজবাংলার অনুসন্ধানে জানা গেছে, ব্যাংক থেকে এসএমএস দিয়ে তাদের যে টাকা ঢোকার কথা জানানো হয়, আসলে তার অর্ধেকটা পান তারা। সে টাকাও তাদের নিতে হয় কয়েক দিন পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হাতে হাতে। রক্ত পানি করা পরিশ্রমের টাকার অর্ধেকটা পেলেও বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলার সাহস পান না এসব লাইনম্যান।

এই বঞ্চনার কথা সাহস করে নিয়োগদাতা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বললে তাদের বলা হয়, ‘এটাই সিস্টেম। চাকরি করলে করো, না হলে চলে যাও।’ বিষয়টি নিয়ে ডিপিডিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি বলে বলছেন লাইনম্যানরা।

উদাহরণ দিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন লাইনম্যান নিউজবাংলাকে জানান, এই চাকরিতে ঢুকতে অন্তত ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। শুরুতে প্রত্যেক লাইনম্যানকে নিয়োগ দেয়া হয় ১৪ হাজার টাকা মাসিক বেতনে। কয়েক বছর কঠোর পরিশ্রমের পর বেতন বাড়ে এক-দুই হাজার টাকা।

তারা জানান, ধরেন, কোনো লাইনম্যান কয়েক বছর কাজ করার পর তার বেতন হয়েছে ১৭ হাজার টাকা। ব্যাংক থেকে তার কাছে ১৭ হাজার টাকা ঢোকার এসএমএস এলেও তিনি পান সর্বোচ্চ ৯ হাজার টাকা। এটাই এখানকার অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।

লাইনম্যানদের এমন শাসন ও শোষণের বিষয়টি নিউজবাংলা সম্প্রতি জানতে পেরেছে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে, যারা এর প্রমাণ হিসেবে তাদের ব্যাংক চেক, সেলারির এসএমএস দিয়েছেন এই প্রতিবেদককে।

বিদ্যুৎযোদ্ধাদের বেতনের অর্ধেক টাকা কাদের পকেটে?

লাইনম্যানদের কাছে এসব অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার পর রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব-সংলগ্ন বিদ্যুৎ ভবনের চতুর্থ তলায় ডিপিডিসির অফিসে গিয়ে খোঁজ নেয় নিউজবাংলা।

সেখানকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ডিপিডিসির আওতায় লাইনম্যান হিসেবে কাজ করেন ৪৫০ জন। লাইনম্যানদের এই সংখ্যা ঠিক হলে মাসে জনপ্রতি সর্বনিম্ন ৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হলেও মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৩১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

ডিপিডিসির ভুক্তভোগী এক লাইনম্যান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আমাদের মতো লাইনম্যানদের চাকরি হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। ডিপিডিসির আন্ডারে আমরা আউটসোর্সিংয়ে কাজ করি। নিয়োগ দেয় ডিপিডিসির ঠিকাদাররা।

বিদ্যুৎযোদ্ধাদের বেতনের অর্ধেক টাকা কাদের পকেটে?


‘চাকরিতে আমাদের স্টার্টিং বেতন ধরে ১৪ হাজার টাকা। অ্যাকাউন্টে এসএমএস আসে ১৪ হাজারের। কিন্তু আমরা ওই বেতনটা পাই না। আমার ১৭ হাজার টাকা বেতন। আমার নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খুলে দিছে অফিস। ব্যাংক থেকে মেসেজ আসে ১৭ হাজার টাকাই ঢুকছে। এই দেখেন মেসেজ। মাসের ৩ তারিখ মেসেজ আসছে। কিন্তু মাসের ১২ তারিখ আমারে ধরিয়ে দিল ৯ হাজার টাকা।’

অ্যাকাউন্ট আপনাদের নামে; অন্যরা টাকা তুলছেন কীভাবে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রথম দিকে আমাদের কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না। ঠিকাদার যারা আমাদের চাকরি দিত, তাদের হাত থেকেই টাকা নিতে হতো। তখনও আমাদের সবার বেতনের টাকা মারা হতো।

‘এগুলো নিয়ে বলাবলি হওয়ার কারণে সরকার বলছে, আমাদের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে যেন টাকা দেয়া হয়। তাই বছর দু-এক হলো আমাদের অ্যাকাউন্ট হয়েছে। কিন্তু সে অ্যাকাউন্টে যে বেতন ঢোকে, তার সব টাকা আমাদের কপালে জোটে না। হাতে হাতেই বেতন দেয় ঠিকাদার, তাও অর্ধেক।’

আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, ‘লাইনম্যানের এই চাকরিতে ঢুকতে ৫০ হাজার নেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সবার কাছ থেকে নেয় কি না জানি না। আমি যাদের চিনি, সবার কাছ থেকেই ৫০ হাজার নিছে। তারপরও আমাদের ঠকায়।’

বিদ্যুৎযোদ্ধাদের বেতনের অর্ধেক টাকা কাদের পকেটে?


কীভাবে ঠকাচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যে ঠিকাদার আমাদের চাকরি দিছে, তারা ব্লাংক চেকে আমাদের সই নিয়ে নেয়। একেকবার তিনটা করে চেকে সই নেয়। ওই তিনটা শেষ হওয়ার আগেই আরও তিনটায় সই নেয়। এই দেখেন, চেকের ছবি তুলে আনতে বলছিলেন, আনছি। ওরা আমাদের কারেন্টের মতো করে রক্ত চুষে খায়। আমরা কেউ কিছু কইতে পারি না চাকরি হারানোর ভয়ে।’

ভুক্তভোগী এসব লাইনম্যান বলছেন, চুক্তির যে বেতন তার অর্ধেক টাকা কেন দেয়া হয়- সে অভিযোগ করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলে, ‘এটাই সিস্টেম। চাকরি করলে করো, না হলে যাও।’ আর ডিপিডিসির স্যারদের বললে, তারা কোনো সাড়া দেন না।

সহকর্মীদের কথায় সাহস পেয়ে নিউজবাংলার কাছে মুখ খোলেন ডিপিডিসির আরও একজন লাইনম্যান। বলেন, ‘আমরা ডিপিডিসির কর্মী। কিন্তু আমাদের চাকরের সমান দামও নেই। আমাদের রক্ত পানি করা বেতন মেরে খায় ওরা। পিলারে পিলারে জীবন হাতে নিয়ে কাজ করি। তারপরও যদি আমাদের বেতনের টাকা মেরে খায়, তাহলে কেমন লাগে বলেন? ৪ তারিখের মধ্যে সেলারির এসএমএস আসে। কিন্তু ঠিকাদার হাতে টাকা দেয় ১০ তারিখের পর, তাও অর্ধেক।’

বিদ্যুৎযোদ্ধাদের বেতনের অর্ধেক টাকা কাদের পকেটে?


বিষয়টি নিয়ে নিউজবাংলার সঙ্গে কথা হয়েছে আরও একজন লাইনম্যানের। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘এমনতিই আমাদের মতো লাইনম্যানদের বেতন কম। তারপর টাকা মেরে খায়। এ জন্য অনেকে খারাপ কাজ করে ফেলে।’

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি কয়েকজন লাইনম্যানের চাকরি গেছে। বলা হচ্ছে, তারা কেব্‌ল চুরি করেছে, তাই চাকরি গেছে।’

এ সময় তিনি তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘বেতনের টাকা মেরে খেলে চুরি করবে না তো কী করবে? সংসার চালাবে কীভাবে? নিজে চলবে কীভাবে।’

লাইনম্যানদের পরিচয়পত্র ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে দেখা যায়, জেডএফ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিয়েছে তাদের।

লাইনম্যানদের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মোকলেসুর রহমান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আপনি যেসব বিষয়ে বলছেন, এগুলো সত্য না।’

তাহলে সত্য কী- জানতে চাইলে তিনি আর কথা বলতে চাননি।

এ ব্যাপারে ডিপিডিসি অফিসে কথা হয় সেখানকার চিফ কো-অর্ডিনেশন অফিসার জুলফিকার আলীর সঙ্গে। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এগুলো হয়ে থাকতে পারে। অভিযোগের তথ্য-প্রামণ থাকলে অসৎ লোকদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া দরকার। এর সঙ্গে যদি ডিপিডিসির লোকও জড়িত থাকে, ছাড় দেয়া হবে না।’

ডিপিডিসির ঠিকাদার নিয়োগ শাখার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (কন্ট্রাক্ট অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) সালেক মাহমুদের কাছে অভিযোগের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। এমন কোনো প্রমাণ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ডিপিডিসির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) নিহার রঞ্জন সরকার বলেন, ‘মানুষ নিয়ে যারা ব্যবসা করে, তারা তো ব্লাড সাকার। ওরা তো মানুষের রক্তই চুষবে।’

আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘কী আর বলব। বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।’

ডিপিডিসির ডিজিএম নিহার রঞ্জন সরকারের পর নিউজবাংলা কথা বলে প্রতিষ্ঠানটির আরেক কর্মকর্তার সঙ্গে, যিনি তার পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি।

এই লুটপাটে ডিপিডিসির লোকজনও জড়িত ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘ঠিকাদারদের বাপের ক্ষমতা আছে টাকা একা খাওয়ার? কারও ভাগ কেউ ছাড়ে না। এবার বুঝে নেন। দেখেন না, সবাই চুপ। এতই যদি ব্যবস্থা নেয়, শ্রমিকরা যখন অভিযোগ করে তখন তারা কই যায়?’

আরও পড়ুন:
দালালের সিল ছাড়া মেলে না পাসপোর্ট
হাসপাতালের ৮ দালালের সাজা

শেয়ার করুন