বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে পল্টন ময়দান। দেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে অসংখ্য গৌরবগাথার জন্ম দিয়েছে এই ময়দান।
পল্টনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে মওলানা ভাসানী, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়া—সবাই নির্দেশনা দিয়েছেন নেতাকর্মীদের।
ঢাকার বুকে এই ময়দান দেড় দশক আগেও ছিল সভা-সমাবেশের অন্যতম প্রধান জায়গা। পল্টন ময়দান থেকে নেতাদের দেয়া বিভিন্ন নির্দেশনা ছড়িয়ে পড়ত সারা দেশে।
ঐতিহাসিক সেই পল্টন ময়দান এখন কেমন আছে, তা সরেজমিনে অনুসন্ধান করেছে নিউজবাংলা।
আশপাশেই এখন অপরিচিত
পল্টনের খুব কাছেই গুলিস্থান এলাকায় ভর দুপুরে রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন রমিজ মিয়া। পল্টন ময়দানটি কোথায়, জানতে চাইলে তিনি মাথা নেড়ে জানালেন, চেনেন না।
তার মতোই একই উত্তর পাওয়া গেল কয়েকজন ঠেলাগাড়িওয়ালা, পথচারী, দায়িত্বরত পুলিশ ও ফুটপাতের চা-দোকানির কাছ থেকে।
তবে আরেকটু এগিয়ে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের পূর্বপাশের ফুটপাতে খাবারের ব্যবসায়ী আফসার মিয়াকে জিজ্ঞেস করতেই বললেন, ‘ওই যে দ্যাহেন স্টেডিয়ামের তিন নম্বর গেট, তার সাথের ছোট মাঠটা।’
ছোট মাঠ কেন, এমন প্রশ্নে আফসার কণ্ঠে আক্ষেপ, ‘অহন কি আর সেই ময়দান আছে! ময়দানের জায়গায় এখন অনেক কিছু উঠছে। এক কোনায় একটু জায়গা ফাঁকা। আমি ৪৫ বছর এহানে আছি। আগে ময়দানে ঘটি গরম চানাচুর আর বাদাম বিক্রি করতাম। তহন অনেক সভা হইত, কিন্তু অনেক দিন কিছুই হয় না। হইবোই বা কই, জায়গা থাকলে তো!’
আফসার একটুও বাড়িয়ে বলেননি। কয়েক দশকের উত্তাল রাজনীতিকে ধারণ করা ঐতিহাসিক পল্টন ময়দান এখন ধুঁকছে। মাঠ ঘিরে গড়ে উঠেছে একের পর এক ভবন। আর সেগুলোর দাপটে ময়দানের পুরোনো রূপ এখন কল্পনা করাই কঠিন।
আফসার নিউজবাংলাকে বলেন, ‘আগে যখন সভা-সমাবেশ হইত তহন আগের দিন মাইকিং হইত। একটা অন্যরকম ব্যাপার স্যাপার ছিল। বড় নেতারা আইতো, বক্তৃতা করত। অহন আর সেই ময়দান নাই। ঢাকায় যারা দুই-দশ বছরের মধ্যে ঢুকছে তারা চিনবোই না পল্টন ময়দান কই ছিল।’
নামেমাত্র ময়দান
পল্টন ময়দানের বেশির ভাগ জায়গা জুড়েই এখন বিভিন্ন ভবন। শুধু পূর্ব দিক খালি রেখে বাকি তিন দিক থেকে সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে মাঠটি।
পশ্চিম পাশে উত্তর-দক্ষিণে লম্বা হয়ে গড়ে উঠেছে সুবিশাল শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্স। আর দক্ষিণে যেখানে জনসভার মঞ্চ বানানো হতো, সেখানকার কিছু অংশ নিয়ে দক্ষিণের সীমানা পর্যন্ত গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ অ্যামেচার বক্সিং ফেডারেশন। আগে থেকেই অল্প জায়গায় গড়ে ওঠা অলিম্পিক ফেডারেশনও তাদের পরিধি বাড়িয়েছে সেখানে।
উত্তর-পূর্ব কোণে গড়ে উঠেছে হ্যান্ডবল ফেডারেশন, নার্সারি। আর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তার দক্ষিণ অংশ ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।
ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন নিউজবাংলাকে জানান, ব্রিটিশ আমলে একটি নতুন সেনানিবাস গড়তে ঢাকার তখনকার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট চার্লস ডস নবাবপুর ও ঠাঁটারীবাজার ছাড়িয়ে শহরের উত্তর-পূর্ব দিকের জায়গায় বেশ কিছু সংস্কার করেন। সেখানে সিপাহিদের ছাউনি, অফিসারদের বাসস্থান ও প্যারেড গ্রাউন্ড করা হয়।
এ এলাকাটিই বর্তমান পল্টন বা পুরানা পল্টন এলাকা। ঢাকার ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, এই পল্টনের অবস্থান ছিল স্রোতস্বিনী পাণ্ডু নদীর তীরে। সেই নদীর অস্তিত্ব পরে বিলীন হয়ে যায়।
মুনতাসীর মামুন জানান, মশা, ম্যালেরিয়াসহ বিভিন্ন উপদ্রব ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ব্রিটিশদের তৈরি করা সেনানিবাসটিও পরে পরিত্যক্ত হয়। ১৮৫৯ সালে তখনকার সার্ভেয়ার জেনারেলের ঢাকার মানচিত্রে পল্টনকে একটি বিরান অঞ্চল হিসেবে দেখানো হয়।
সেনানিবাস সরিয়ে নেয়ার পর পল্টন এলাকাটির পরিচর্যার দায়িত্ব পায় মিউনিসিপ্যাল কমিটি। এরপর এক অংশে গড়ে তোলা হয় ‘কোম্পানির বাগান’। আরেক অংশ খেলাধুলা ও বিভিন্ন সময় সিপাহিদের কুচকাওয়াজের জন্য ব্যবহার করা হতো। উনিশ শতকের শেষার্ধে পল্টনে মাঝেমধ্যে জনসভা হতে শুরু করে। পাকিস্তান পর্বে এই ময়দানই ছিল মুক্তিকামী বাঙালির আন্দোলন-সমাবেশের মূল কেন্দ্র।
স্বাধীনতার পরেও বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের প্রাণকেন্দ্র ছিল পল্টন ময়দান। নিয়মিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ হতো এখানে। তবে জিয়াউর রহমানের সময়ে পল্টনে সভা-সমাবেশের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করায় সেই ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়তে শুরু করে।
নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় আবার প্রাণ ফিরে পায় পল্টন ময়দান। তবে এরশাদের পতনের পরের প্রায় দেড় যুগে এই ময়দান ধীরে ধীরে ঔজ্জ্বল্য হারাতে থাকে।
মোহাম্মদ হানিফ ঢাকার মেয়র থাকার সময়ে পল্টন ময়দানকে সিটি করপোরেশনের অধীনে নিয়ে সমাবেশের জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। ওয়ান-ইলেভেন সরকারের পর এ ময়দানের নিয়ন্ত্রণ পায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।
বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পল্টন ময়দান বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। এই মাঠে জনসভায় বঙ্গবন্ধু পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সেটা ছিল ১৯৭১ সালের ৩ মার্চের ঘটনা।
‘শুধু তাই না। জাতির মুক্তিসনদ ছয় দফা দেয়ার কারণে বঙ্গবন্ধু মুজিবসহ সর্বমোট ৩৫ জনকে ফাঁসি দেয়ার লক্ষ্যে আগরতলা মামলার আসামি করা হয়। ১৯৬৯ সালের ৪ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু কার্যালয়ে ডাকসু ভিপি হিসেবে আমার সভাপতিত্বে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি শপথ দিবসে পল্টন ময়দানে সভাপতির ভাষণ শেষে স্লোগান তুলি- শপথ নিলাম শপথ নিলাম মুজিব তোমায় মুক্ত করব; শপথ নিলাম শপথ নিলাম, মাগো তোমায় মুক্ত করব।’
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসে পল্টনের মহাসমুদ্রে আমরা ১০ ছাত্রনেতা প্রিয় নেতা শেখ মুজিবসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় আটক সবার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে স্বৈরশাসকের উদ্দেশে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রদান করি। জনরোষের ভয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান আগরতলা মামলা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে বঙ্গবন্ধুসহ সব রাজবন্দিকে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়।’
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান নিউজবাংলাকে বলেন, ‘পল্টন ময়দান শুধু একটা মাঠ না। বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের কাছে এর আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। এক সময়ে দেশের সকল আন্দোলন, কর্মসূচি, দাবি-দাওয়া আহ্বানের সাক্ষী এই পল্টন ময়দান। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের বাঘা বাঘা নেতাদের তেজদীপ্ত কণ্ঠে তোলা দাবি-দাওয়া এবং সেগুলো আদায়ের গুরুত্বপূর্ণ গ্রাউন্ড এই মাঠ।
‘সিপিবির অনেক গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ও সভা সমাবেশের সাক্ষীও পল্টন ময়দান। এখানে সিপিবির সমাবেশে বোমা হামলায় দলের ৭ নেতাকর্মী নিহত হন। আবার এই ময়দান থেকেই গণমানুষের হয়ে বহু দাবি আদায় করেছে সিপিবি।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নিউজবাংলাকে বলেন, ‘বিএনপির কাছে পল্টন ময়দান অনেক অর্থ বহন করে। এই ময়দানে দাড়িয়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কথা বলেছেন। ওখানে দাঁড়িয়ে বহু আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাছাড়া পল্টন ময়দান থেকেই কিন্তু চার দলীয় ঐক্যজোট গঠন হয়।
‘শুধু তাই না, এরশাদের আমলে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন হয়েছিল পল্টন ময়দানে। আমি নিজে পল্টন ময়দান থেকে একবার বিশাল মিছিল বের করে নিউ মার্কেট পর্যন্ত গিয়েছিলাম। সবশেষ ২০০৫ সালে পল্টন ময়দানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সমাবেশ করে বিএনপি।’
ফেনীতে জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতা মূলক র্যালি ও বিশেষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক।
শনিবার (০৬ জুন) সকাল সাড়ে ১১ টায় ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির শুরুতে হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবন থেকে একটি র্যালি শুরু হয়ে সদর হাসপাতাল মোড়ে গিয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে জনসাধারণের মাঝে লিফলেট বিতরণ করা হয় এবং পুনরায় হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের নিচে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শেষ হয়।
সিভিল সার্জন ও ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: রুবাইয়াত বিন করিম এর সভাপতিত্বে উক্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহন করেন জেলা পুলিশ সুপার মো: শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো: আল আমিন সরকার, ড্যাবের সাধারণ সম্পাদক মোবারক হোসেন দুলাল ও ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা: রুকনুজ্জামান সহ হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।
সিভিল সার্জন ডা. রুবাইয়াত বিন করিম বলেন, ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে হলে আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে। আমরা যদি আমাদের আশপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে পারি তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব। সুতরাং আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, করোনার মতো ডেঙ্গুর কোন ভ্যাকশিনেশন নেই। ফলে আমাদের ডেঙ্গু ঠেকাতে গেলে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে যেতে হবে। আমাদের আশপাশে জমে থাকা পানি এডিস মশার জন্য সুইটেবল। আমাদের আশপাশে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে। তাই চারপাশের পানি নিষ্কাশন প্রণালি সচল এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আমাদের পরিবারগুলোকেও সচেতন হতে হবে। সরকারি উদ্যোগে আমরা কাজ করছি। আমরা সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সয়াবিন তেলবাহী একটি কাভার্ডভ্যানের চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে কাভার্ডভ্যান চালক বাবলু মিয়া (৫০) নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন হেলপার। স্থানীয়রা ওই হেলপারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
গতকাল শনিবার সকাল ৮ টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের নয়াগাঁও এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত বাবলু টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী থানার রামকৃষ্ণবাড়ী এলাকার মৃত সানোয়ার হোসেনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকাগামী মায়ের দোয়া ট্রান্সপোর্ট নামে একটি কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো-উ ১১-৪২৮০) গতকাল শনিবার সকালে মহাসড়কের নয়াগাও এলাকা অতিক্রম করছিল। এসময় চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ কাভার্ডভ্যানটির চাকা ফেটে যায়। এতে চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারালে সড়কের পাশে থাকা পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। পরে কাভার্ডভ্যানটি উল্টে গেলে দুটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এসময় সাময়িকভাবে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনায় চালক বাবলু মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত হন তাঁর সঙ্গে থাকা হেলপার। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ হেলপারকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচলে ধীরগতি সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
নিহতের ভাতিজা মো. শাকিল জানান, তার চাচা কাভার্ড ভ্যান চালাতেন। চট্টগ্রাম থেকে রূপচাঁদা ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। পথে সোনারগাঁ এলাকায় পৌঁছালে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। পরে পুলিশের মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তিনি জানতে পারেন তার চাচা ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।
কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. শামীম শেখ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহত হেলপারের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড় থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৬ জুন) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জ্যৈষ্ঠপুরা পাহাড়ের অরিহুরার চর এলাকার একটি লিচু বাগানে লাশটি দেখতে পান স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা জানান, সকালে পাহাড়ে যাওয়া লোকজন লাশটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। নিহত ব্যক্তির পরনে সাদা টিস্যু গেঞ্জির ওপর একটি হাফহাতা গেঞ্জি ও কুঁচে করা লুঙ্গি ছিল। লাশে পচন ধরেছে। তার হাত দুটো পিছমোড়া করে এবং পা দুটো বাঁধা ছিল।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
ভারতীয় বাহিনী বিএসএফ এর পুশইন নিয়ে যখন বাংলাদেশের সিমান্ত এলাকায় তৎপর বিজিবি। ঠিক তখন মেহেরপুর জেলার প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করলো ৭ জন।
অথচ এই ৭জনের অনুপ্রবেশের কোন অফিসিয়্যাল তথ্য নেই প্রশাসনের কাছে।
স্থানীয়রা বলছেন আজ শনিবার ভোরে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার তেতুলবাড়িয়া বাংলাদেশ সিমান্তের ১৪০ এর ৪ এস পিলার এলাকায় পুশইনের এ এঘটনা ঘটে। বিজিবির কর্মব্যাক্তিরা বলছেন পুশইনের ব্যাপারে কোন তথ্য নেই তাদের কাছে।
সিমান্ত এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আজ মধ্যরাতে ভারতীয় সিমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ৭ জনকে পুশইন করে। তারা রাতে এই এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে, ভোরের দিকে গাড়িতে বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। যাদের মধ্যে ৩ জন নারী ও ৪ জন পুরুষ ছিলেন।
অনুপ্রবেশকারিদের বহণ করা ভ্যান চালক আকুববার বলেন,আজ ভোরে আমাকে ৬ জন যাত্রী ব্যাগ হাতে নিয়ে বলে। আমাদের শহরে বাস চলাচল করে এমন স্থানে নিয়ে যাবেন। তাতে ভাড়া কত নেবেন? আমি বলি ৩০০ টাকা লাগবে। তাতে তারা রাজি হয়। এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা উঠিয়ে আমাকে ভাড়া প্রদান করে ও বাকি টাকা তাদের কাছে রাখে। আমার সাথে কথা বলার সময় তারা বলেছিলো আমাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ ও মাগুরা জেলাতে।
সিমান্ত এলাকা তেতুলবাড়িয়া গ্রামের মাসুম আলী বলেন, আমার বাড়ি সিমান্ত এলাকার ১৪০ এর ৪ এস সাথেই। গতরাতে মধ্যরাতে এক মেয়ে আমাদের আম বাগানে এসে আশ্রয় নেই। তবে সে কোন কথা বলছে না। শুধু একটা কথা বলছে আমার নাম রোজিনা। বলে কান্না করছে। তবে বিজিবি কিংবা পুলিশ বিষয়টি কেও জানে না।
এই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির সহকারি পরিচালক নুরুল হুদা বলেন, আমাদের জানামতে এঅঞ্চল দিয়ে কোন পুশইনের ঘটনা ঘটেনি। তবে হতে আরে দির্ঘ এলাকায় বিএসএফের সদস্যরা গোপনে তারকাটার যেকোন একপাশ দিয়ে বাংলাদেশ এলাকায় পুশইন করেছে। যার অফিসিয়াল কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। সে ক্ষেত্রে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে লোকমান মিয়া (২২) নামে এক পিকআপচালক নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার সাতগাঁও চৌমুহনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর পিকআপ ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে গেলে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত লোকমান মিয়া উপজেলার পশ্চিম শ্রীমঙ্গল লালবাগ এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ ভ্যানটির চালক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ থেকে সিলেটগামী যাত্রীবাহী একটি বাস সাতগাঁও এলাকায় একটি যানবাহনকে ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে পিকআপ ভ্যানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সোলায়মান আকঞ্জি জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। হাইড্রোলিক স্প্রেডারের সাহায্যে পিকআপ ভ্যানের ভেতর থেকে চালককে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নিশাত নওয়াব মুমু বলেন, ভোর পনে ৬টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত একজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
সাতগাঁও হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় পিকআপচালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও পিকআপ ভ্যান জব্দ করে হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
যশোরের শার্শা উপজেলার বেনাপোল পৌরসভার বড়আচড়া গ্রামে ব্যবসায়িক লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সোহাগ হোসেন (৩৬) নামে এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় সোহাগ হোসেন প্রাণে রক্ষা পান।
সোহাগ বড়আচড়া গ্রামের মৃত হায়দার আলীর ছেলে। সে নিজ বাড়িতে থাকেন না। একই গ্রামের চেকপোস্ট এলাকার মশিয়ারের বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা ঘরের বাইরে থেকে সোহাগকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি জানালা ভেদ করে ঘরে প্রবেশ করলেও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে জানালা ও দরজা ভেদ করে বাইরে চলে যায়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সোহাগ জানান, রাত ১০ টার সময় অফিস থেকে বাসায় ফেরার কিছুক্ষণ পরেই ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাঁর বাড়িতে এসে হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তারা ঘরের জানালার কাচ ও দরজা লক্ষ্য করে তিনটি গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় তিনি অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।পূর্বের একটি ব্যবসায়িক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলা ঘটে থাকতে পারে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
এলাকাটি জনবসতিপূর্ণ হওয়ায় প্রকাশ্যে গুলির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আশরাফ হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ব্যবহার করা গুলি ও তার খোসাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ব্যবসায়িক লেনদেন-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ গুলাগুলির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’
‘সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি, নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শেরপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি লক্ষ্যে র্যালি ও পরিচ্ছন্নতা প্রচার অভিযান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সকালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে জেলা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে র্যালিটির উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন।
এ সময় তিনি বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে নিজ নিজ বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।”
র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার এ কে এম জহিরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা, সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ শাহীন, জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সেলিম মিয়া, প্রেসক্লাব সভাপতি কাকন রেজাসহ জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে অতিথিরা পরিচ্ছন্নতা প্রচার কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
মন্তব্য