নজিরবিহীন ছাত্রবিক্ষোভ ও তীব্র আন্দোলনের মুখে নতিস্বীকার করেছে মোদি সরকার। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) নেতৃত্বে ভারতজুড়ে তুমুল বিক্ষোভ চলে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে প্রথম থেকেই অনড় ছিল সিজেপি। তারা সরকারকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয়। অবশেষে শনিবার (২৫ জুলাই) পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রীত্বের মেয়াদে এই প্রথম জনদাবির মুখে নতিস্বীকার করে পদত্যাগ করলেন কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
নিটের প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম থেকেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানিয়েছিল সিজেপি। বলা হয়েছিল, মন্ত্রীর ইস্তফা ছাড়া কোনও শর্তেই তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করবে না। এ বিষয়ে কোনও বোঝাপড়া চলবে না। দুর্নীতির দায় মন্ত্রীকে নিতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সিজেপি-র প্রতিনিধিদের দু’দফা বৈঠক হয়েছে।
কিন্তু আন্দোলনকারীরা দাবিতে অনড় ছিলেন। শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে তৃতীয় দফার আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র। ধর্মেন্দ্র জানিয়েছেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী নিয়ম অনুযায়ী তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠান। রাষ্ট্রপতি সেই ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেছেন।
সম্প্রতি ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট-ইউজি) ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং ব্যাপক কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। এরপরই মূলত ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির এই আন্দোলন গতি পায়। গত সোমবার সিজেপির ডাকে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী নয়াদিল্লিতে পার্লামেন্ট (সংসদ) অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিপেটা করে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে দিল্লিতে এটি ছিল সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। এরপর সিজেপি ঘোষণা দেয়, শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এই চাপের মুখেই শনিবার (২৫ জুলাই) পদত্যাগের ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
আন্দোলন প্রত্যাহার ককরোচ পার্টির
ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার শিক্ষাথীদের সব দাবি মেনে নেওয়ায় চলমান আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সরকারের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ককরোচ জনতা পার্টির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এবং শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং এবং সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস।
আশুতোষ রাঙ্কা বলেন,’ সরকার আশ্বাস দিয়েছে, ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের করা পুলিশি মামলা প্রত্যাহার করা হবে, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং মেডিকেল ভতি পরিক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা ছাত্রদের পরিবারকে নিয়ম ও বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। সরকার নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে—এই প্রত্যাশা নিয়েই সিজেপি আন্দোলন শেষ করেছে।’
পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগপত্রে লিখেছেন…
আমার প্রিয় যুব বন্ধুরা,
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে আমি ছাত্র, শিক্ষক এবং শিক্ষা সংস্কারের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছি। আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি যে, একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দূরদর্শী শিক্ষাব্যবস্থা একটি শক্তিশালী জাতির ভিত্তি।
আমি দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি এবং বৈধ প্রত্যাশাকে গভীরভাবে সম্মান করি। ভারতের যুব প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণ করা আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের নৈতিক অঙ্গীকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি তাকে কৃতজ্ঞতা জানাই।
তবে, ২০২৬ সালের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউ পরীক্ষায় অনিয়ম প্রকাশ্যে আসে। এর তাৎক্ষণিক স্বীকৃতি নিয়ে ভারত সরকার তদন্ত সিবিআইর হাতে তুলে দেয়, পরীক্ষা বাতিল করে এবং পুনরায় পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে। এ ছাড়া, আগামী বছর থেকে এই পরীক্ষা কম্পিউটার-ভিত্তিক মোডে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সময়ে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার ছিল ২০ লাখের বেশি ছাত্র-ছাত্রীর জন্য পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। এটি অর্জিত হয়েছে ভারত সরকার, রাজ্য সরকার এবং বিশেষ করে জেলা প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় ২০২৬ সালের ২১ জুন পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
প্রথম দিন থেকেই আমি পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছি এবং পরিস্থিতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিইনি। আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলাম যেকোনো মেধাবী ছাত্রের সম্ভাবনা ‘পরীক্ষা মাফিয়া’র কারণে নষ্ট হতে দেব না বা কোনো ছাত্রের প্রতি অন্যায় হতে দেব না।
১৬ জুলাই ঘোষিত নিট পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক ছিল, যেখানে দরিদ্র পটভূমির অনেক মেধাবী ছাত্র সাফল্য পেয়েছে। তবে এই সময়েও দায়িত্বশীল পদে থাকা কিছু ব্যক্তি বাধা সৃষ্টি এবং ছাত্রদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন, যা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।
আমি সবসময় আমাদের গণতন্ত্রের শক্তির প্রতি অটল বিশ্বাস রেখেছি এবং যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে গভীর সম্মান করেছি। তারা শুধু ভারতের ভবিষ্যৎ নয়, তারা নতুন ও উন্নত ভারতের দিশারী, স্রষ্টা এবং স্থপতি। গত দশ দিনের ঘটনায় আমি ব্যথিত। এটি আমার কাছে ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়। ভারতের যুবশক্তিই এই জাতির প্রকৃত শক্তি। যুবসমাজকে বিভ্রান্তির জালে জড়িয়ে পড়তে না দেওয়াই আমার সংকল্প।
যন্তর মন্তর এবং সারাদেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেশবিরোধী শক্তিরা যাতে এর সুযোগ না নিতে পারে, জাতীয় ঐক্য রক্ষা করা যায়, একজন ভারতীয় ছাত্রের ভবিষ্যৎও যাতে আইনি জটিলতায় আটকে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়তে পারে, সেই লক্ষ্যে আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।
প্রধানমন্ত্রীকে তার নির্দেশনা, আস্থা ও সার্বক্ষণিক সমর্থনের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। মন্ত্রিসভার সহকর্মী, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং যাদের সঙ্গে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। দেশসেবা আমার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার; আমি চিরকাল এই কাজে নিবেদিত থাকব। ভগবান জগন্নাথের আশীর্বাদে আমি ভবিষ্যতেও মা ভারত, ওড়িষ্যার জনগণ এবং দেশের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সর্বাত্মকভাবে নিজেকে উৎসর্গ করব।
দারুণ কাজ করেছে শিক্ষার্থীরা: রাহুল গান্ধী
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি এই পদত্যাগকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের পথে ‘বড় পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) একটি ভিডিও বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, ‘দারুণ কাজ করেছে শিক্ষার্থীরা। এটি কেবল প্রথম পদক্ষেপ, তবে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠনের পথে এটি একটি বড় অগ্রগতি। দেশের সব শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন। তোমাদের নিয়ে আমরা গর্বিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে সব তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থী গণতন্ত্র, সংবিধান এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় রাজপথে নেমে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন।’
গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে: অভিজিৎ
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর এ ঘটনাকে চলমান আন্দোলনের বিজয় হিসেবে তুলে ধরেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
দ্য হিন্দু জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠানোর কথা জানিয়ে একটি চিঠি প্রকাশ করার পর প্রতিক্রিয়ায় অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এটি প্রমাণ করে, আপনি যদি ভয় না পান, এই সরকারের সামনে মাথা নত না করেন, তাহলে যে কারও পদত্যাগ আদায় করা সম্ভব। গণতন্ত্রে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।’
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আসামে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১ জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) একদিনেই ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এএসডিএমএ)। ভারতীয় সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীও রাজ্য সরকারের ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করছে।
এমন দুর্যোগ পরিস্থিতিতে শনিবার (২৫ জুলাই) আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ফোনালাপে আসামের বন্যা পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি এবং চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন মোদি।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, ২ হাজারের বেশি গ্রামের ১১ লাখেরও বেশি মানুষ বন্যার প্রভাবে দুর্ভোগে আছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মন্ত্রীরা সরাসরি ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করছেন। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ১৬২টি ত্রাণশিবিরে ৪১ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, প্রধানমন্ত্রী ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, ত্রাণ কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে রাজ্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের কাছে সহায়তা পাঠানোর কথা জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত জানান, প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই দুর্যোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কেন্দ্র সরকার ত্রাণ, পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনে সব ধরনের সহায়তা করবে।
এএসডিএমএ জানিয়েছে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) চরাইদেও জেলায় ৭ জন, শিবসাগরে ৬ জন এবং জোরহাটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শিবসাগরে মৃতের সংখ্যা ছিল ২১; নতুন ছয়জনের মৃত্যুর পর জেলাটিতে মোট মৃতের সংখ্যা ২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া এখনও নিখোঁজ রয়েছেন একজন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে শিবসাগর। ওই জেলায় প্রায় ৩ লাখ ৪৮ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত অবস্থায় রয়েছেন। চরাইদেওতে ১ লাখ ৮৮ হাজার এবং জোরহাটে ১ লাখ ২৬ হাজার মানুষ এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ৪৮ ঘণ্টায় আসাম ও প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে তুলনামূলক কম বৃষ্টিপাত হওয়ায় প্রধান নদীগুলোর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। তবে, গোলাঘাট, চরাইদেও, ডিব্রুগড়, হোজাই, নগাঁও, বিশ্বনাথ, জোরহাট, ধেমাজি, শিবসাগর, সোনিতপুর, কামরূপ (মেট্রো) ও কারবি আংলংসহ মোট ১২টি জেলা এখনো বন্যায় আক্রান্ত।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহে রাজ্য সরকার এরই মধ্যে ১১১ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে। এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার কুইন্টালের বেশি চাল, ২ হাজার কুইন্টাল ডাল এবং ৫৮ হাজার ৮২০ লিটার সরিষার তেলসহ বিভিন্ন জরুরি পণ্য বিতরণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের ভ্রাম্যমাণ দল দুর্গত এলাকায় কাজ করছে। বন্যার কারণে রোগের প্রাদুর্ভাব বন্ধে এবং আক্রান্ত মানুষ ও গবাদিপশুর দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, উত্তর আসামের বন্যার পাশাপাশি গুয়াহাটি শহরও জলাবদ্ধতায় ভুগছে। এএসডিএমএর তথ্য অনুযায়ী, শহরের ১০টি ওয়ার্ডে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
এদিকে, আসামের নগর উন্নয়নমন্ত্রী কৌশিক রায় গুয়াহাটির জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সিটি করপোরেশন, সড়ক বিভাগ ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে দ্রুত নালা পরিষ্কার ও পলি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) এবং বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ক্যালেন্ডার তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। ছবি: সংগৃহীত
ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে এ হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে সৌদি আরব। হোদাইদাহ বন্দরনগরীতে হামলার জবাবে গোষ্ঠীটি এ পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) বার্তাসংস্থা রয়টার্সে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তবে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রতিহত করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রিক নিরাপত্তা সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, সৌদি আরবে মোতায়েন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি ভূপাতিত করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্র দুটি পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইয়ানবুর তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল।
এর আগে চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবের চালানো হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করে হুথিরা। এ ঘটনার পর জিজান ও ইয়ানবু শহরে সতর্কতা জারি করা হয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে হুতি-সমর্থিত আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে হুথিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি কামারান দ্বীপেও হামলার খবর দিয়েছে। দ্বীপটিতে হামলায় এখন পর্যন্ত এক নারী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হোদাইদাহ বন্দরেও বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বন্দরটিকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা অস্বীকার করেছে।
হোদাইদাহ বন্দর শহরটি হুতি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লাইফলাইন। এ বন্দর দিয়ে হুথি-নিয়ন্ত্রিত উত্তর ইয়েমেনে অধিকাংশ বাণিজ্যিক পণ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে থাকে।
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য হুথিদের দায়ী করেছেন। তিনি লোহিত সাগরে জাহাজগুলোর ওপর গোষ্ঠীটির হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত ও বেপরোয়া’ বলে উল্লেখ করেছেন।
এক বিবৃতিতে আল-মালিকি বলেছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ‘সমস্ত প্রয়োজনীয় অভিযানিক পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা গ্রহণ’ অব্যাহত রাখবে। হুথিরা যদি তাদের ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে যায়, তাহলে কঠোর হস্তে তা দমন করা হবে।
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানী ঢাকার ৪টি জোনে শহর প্রতিরক্ষা দলের (টিডিপি) ২৪ দিন মেয়াদি ‘অ্যাডভ্যান্সড মৌলিক প্রশিক্ষণ (পুরুষ ও মহিলা ১ম ধাপ)’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থীর মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।
একই সাথে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করা কৃতী প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ পুরস্কার এবং সবাইকে দেশ ও মানুষের সেবার শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। প্রশিক্ষণ শেষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর টিডিপি সদস্যদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
পূর্ব জোনের ডেমরা ও মতিঝিল; দক্ষিণ জোনের চকবাজার ও কোতোয়ালি; পশ্চিম জোনের পল্লবী ও শেরেবাংলানগর এবং উত্তর জোনের দক্ষিণখান ও গুলশান থানার নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। ঢাকা মহানগর আনসারের (ডিএমএ) পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান গনী প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে ও ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে জোন অধিনায়কদের উপস্থিতিতে এই সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন।
প্রতিটি জোনে ১০০ জন পুরুষ ও ১০০ জন নারী এই প্রশিক্ষণে অংশ নেন। রাজধানীর মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় টিডিপি প্রশিক্ষণার্থীদের এই আধুনিক প্রশিক্ষণ অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। উল্লেখ্য, প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ ভাতা ও যাতায়াত ভাতা যার যার মোবাইল ব্যাংকিং এ্যাকাউন্টে সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান করা হবে।
করিম খান
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অপসারণ করেছে সদস্য রাষ্ট্রগুলো। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পরিচালনা পর্ষদ অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিস-এর ভোটাভুটিতে তাকে বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ‘রাজনৈতিক’ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে করিম খানের আইনি দল।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র চাপের মধ্যে ৫৬ বছর বয়সি এই ব্রিটিশ ব্যারিস্টারকে সরিয়ে দেওয়া হলো। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
করিম খানের আইনি দলের প্রধান তাইয়াব আলী জানান, জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি পরিষেবা দপ্তরের (ইউএনওআইওএস) প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে বিচারিক প্যানেল সর্বসম্মতভাবে জানিয়েছিল, করিম খান কোনো আইনি কাঠামো বা দায়িত্ব লঙ্ঘন করেননি। আদালতের এই স্বাধীন তদন্তকে উপেক্ষা করেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে অন্যায্য দাবি করে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাধীনতা তখন টিকে থাকে যখন এর নির্বাচিত কর্মকর্তারা রাজনৈতিক বা কার্যপ্রণালীগতভাবে অন্যায্য অপসারণ থেকে সুরক্ষা পান। অতিরিক্ত রাজনৈতিক চাপ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা অবস্থায় তাকে শুনানির ন্যায্য সুযোগ না দিয়ে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ সামনে আসার প্রায় দুই বছর পর সদস্য রাষ্ট্রগুলো বরখাস্তের চূড়ান্ত প্রস্তাবটি অনুমোদন করল। এর আগে গত জুনে তদারকি প্যানেল মারাত্মক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানালে তিনি পদ থেকে সাময়িকভাবে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
আইসিসি জানিয়েছে, আপাতত করিম খানের জায়গায় ডেপুটি প্রসিকিউটর নাজহাত শামীন খান এবং মামে মানদিয়ায়ে নিয়াং প্রসিকিউটরের দায়িত্ব সামলাবেন। ‘স্যারা’ ছদ্মনামের এক নারী সিএনএনের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, ঘুমানোর ভান করে থাকার সময় করিম খান তাকে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করেছিলেন। করিম খান শুরু থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন।
গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েন করিম খান। তৎকালীন ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক জোসেপ বোরেল এক নিবন্ধে সতর্ক করেছিলেন, করিম খানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আইসিসির ওপর এক বড় ধরনের আক্রমণের অংশ। করিম খানের অপসারণের পর নতুন প্রসিকিউটর নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও আগামী বছরের আগে সেই নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে এই রদবদলের ফলে নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে জারি হওয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না, কারণ তা প্রত্যাহারের এখতিয়ার কেবল আইসিসির বিচারকদের রয়েছে।
এদিকে করিম খানের বরখাস্তের খবর সামনে আসতেই আইসিসির তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লাইটার দাবি করেন, নিজের অনৈতিক কর্মকাণ্ড ঢাকা দিতে করিম খান ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। তিনি আদালতটিকে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে এটি বন্ধের দাবি জানান।
অন্যদিকে, হেগে অবস্থিত ফিলিস্তিনি মিশন ইসরায়েলের এই দাবিকে অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে আইসিসি জানিয়েছে, করিম খান বরখাস্ত হলেও যেকোনো অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা সবসময় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ছবি: সংগৃহীত
সিরিয়া সফরে গিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তার এ সফরের মাধ্যমে ১৭ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো কোনো জাতিসংঘ মহাসচিব দেশটি সফর করলেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, গুতেরেস শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে দামেস্ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। এ সময় তাকে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি স্বাগত জানান।
দেশটিতে সফরকালে গুতেরেস রাষ্ট্রপতি আহমেদ আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আল-শারা নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আল-কায়েদার সাবেক কমান্ডার ছিলেন। গত বছর পর্যন্ত তার ওপর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল।
২০০৯ সালের পর এই প্রথম কোনো জাতিসংঘ মহাসচিব সিরিয়া সফর করছেন। এরপর দেশটিতে দীর্ঘ ১৪ বছরের রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
এ ঘটনাকে আল-শারার জন্য আরও একটি কূটনৈতিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি ২০২৪ সালে সিরিয়ার দীর্ঘদিনের নেতা বাশার আল-আসাদের পতনের পর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করে আসছেন।
আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি দেশটিতে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এর মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা এবং সিরীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি অধিকৃত সিরীয় গোলান মালভূমিও সফর করবেন। সেখানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশন ইউএনডিওএফের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেছেন, গুতেরেসের এই সফর একটি বিশেষ বার্তা বহন করছে। সিরিয়ার সামনে শুধু সংঘাত থেকে পুনরুদ্ধারেরই নয়, বরং এমন এক ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে, যা দেশটিকে আগামী দিনে আরও স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ করে তুলবে।
গুতেরেসের সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করা হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি দেশটিতে কয়েক দিন অবস্থান করবেন। আগামী সোমবার তিনি সিরিয়ার পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে পারেন।
বাশার আল-আসাদের পতনের পর সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টও সিরিয়া সফর করেছেন। তার সফরকালে রাজধানী দামেস্কের একটি এলাকায় দুটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পরই গুতেরেস দেশটিতে সফর করছেন।
সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বোমা বিস্ফোরণের জন্য দায়ী সেলটিকে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএলের (আইএসআইএস) সঙ্গে যুক্ত।
ফ্রান্সে দাবানলের আগুন নেভাচ্ছে দমকলকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়েছে ফ্রান্স ও স্পেন। তীব্র গরম ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শুরু হওয়া এ দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত। দাবানলের কারণে ফ্রান্স ও স্পেনে ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমের এলাকা জিরোন্দ ও লঁদের বাসিন্দাই ২ লাখ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের কাছে একটি দাবানল ছড়িয়ে দমকলকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার বাইরে চলে গেছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। রাজধানীর পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়া তিনটি দাবানল একত্রিত হয়ে একটি বিশাল অগ্নিকাণ্ডে রূপ নেওয়ার পর তারা এ সতর্কবার্তা দেন।
এ অবস্থায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্পেন সরকার। দেশটিতে ২৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে ঘরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।
মাদ্রিদ প্রাদেশিয় প্রেসিডেন্ট ইসাবেল দিয়াজ আয়ুসো এটিকে ‘অঞ্চলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল’ বলে অভিহিত করেছেন। তার ভাষ্য, তীব্র তাপপ্রবাহ, টানা বাতাস এবং দাবানল থেকে সৃষ্ট একাধিক অগ্নিকাণ্ডের মিলিত প্রভাবে ‘পারফেক্ট স্টর্ম’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্পেনের স্থানীয় জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানী থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) দূরের রোবলেদো দে চাভেলা ও ফ্রেসনেদিয়াস দে লা অলিভা পৌর এলাকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দাবানল। মাদ্রিদের জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রধান কার্লোস নোভিয়ো সাংবাদিকদের বলেন, চরম আকার ধারণ করেছে দাবানলটি। এটিকে এখন নিয়ন্ত্রণে আনা দমকলকর্মীদের সক্ষমতার বাইরে। সরাসরি আগুন নেভানোর কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না, তাই কেবল প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কার্লোস নোভিয়ো আরও জানান, আগুনের বিস্তার ঠেকাতে মিলিটারি ইমার্জেন্সি ইউনিট (ইউএমই) মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য এল এসকোরিয়াল শহরের আশপাশের এলাকাগুলোকে রক্ষা করা।
নিকটবর্তী আভিলা প্রদেশে পৃথক আরেকটি দাবানলও পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ। সেখানকার বুর্গোন্দোর বিশাল দাবানলটি মাদ্রিদের আগুনের সঙ্গে মিশে যেতে পারে বলে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানান, দুটি দাবানল যাতে যুক্ত না হতে পারে, সেজন্য কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি ফ্রান্সিসকো মার্তিন সতর্ক করে বলেন, নিহতের বা ক্ষতিগ্রস্তের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ বাতাসে আগুনের ফুলকি কয়েক মাইল দূরে গিয়ে পড়ছে যার ফলে দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রিদ অঞ্চলে অন্তত ৬ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। আর আভিলার দাবানলে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে ছাই হয়েছে।
চাপিনেরিয়া, নাভাস দেল রে, কোলমেনার দেল অরোইও, ফ্রেসনেদিয়াস দে লা ওলিভিয়া, রবলেদো দে চাভেলা, আলদিয়া দেল ফ্রেসনো, নাভালাগামেলা এবং জারজালেজোসহ আটটি পৌরসভার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সান মার্টিন দে ভালদেইগলেসিয়াস, পেলায়োস দে লা প্রেস এবং ভিলা দেল প্রদোসহ আরও কয়েকটি শহরে বাসিন্দাদের ওপর বাইরে বের না হওয়ার বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে।
স্পেন সরকারের প্রশাসন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার জরুরি সমন্বয়কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। এর আগে শুক্রবার সানচেজ বলেন, একটি মারাত্মক সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বুর্গোহন্দোর দাবানলের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেনের সিভিল গার্ড। আরও একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারে অবহেলার কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
অন্যদিকে ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমের অঞ্চল জিরোন্দ ও লঁদের পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। জিরোন্দে ১৯ হাজার হেক্টরের (৪৬ হাজার একর) বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং প্রায় ৮০টি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় শত শত মানুষকে নৌকায় করে সরিয়ে নেওয়া হয়। এলাকাটিতে সারা বছর প্রায় ৮ হাজার মানুষের বসবাস হলেও গ্রীষ্মকালীন ছুটির মৌসুমে জনসংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বেড়ে যায়।
আরও দক্ষিণে লঁদ অঞ্চলের বিসকারোসের কাছে আরেকটি দাবানলের কারণে বাড়িঘর, ক্যাম্পসাইট, একটি বৃদ্ধাশ্রম এবং একটি সামার ক্যাম্প থেকে ২৩ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট মাখোঁ দেশের দাবানল পরিস্থিতিকে ‘খুবই উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফ্রান্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিভিল প্রোটেকশন ব্যবস্থাকে সক্রিয় করেছে। সহায়তা হিসেবে চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া থেকে দুটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারসহ অতিরিক্ত সহায়তা আসবে।
স্পেন ও ফ্রান্সে আগুন নেভানোর কাজে সহায়তার জন্য বিমান ও হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। দক্ষিণ ইউরোপের বড় একটি অংশজুড়ে ক্রমাগত দাবদাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরা চলছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮০-এর দশকের পর থেকে বিশ্বের গড় তাপমাত্রার চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে ইউরোপ, যা বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ।
অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া গাছপালার আর্দ্রতা শুষে নিচ্ছে। ফলে এসব শুকনো গাছপালা দাবানল জ্বলে ওঠার এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে। তবে আগুনের শুরু একটি স্ফুলিঙ্গ থেকে হয়, যা সাধারণত অসাবধানতাবশত বা ইচ্ছাকৃত মানবিক কর্মকাণ্ড কিংবা বজ্রপাত থেকে ঘটে।
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের মধ্যে সরকারের সঙ্গে বৈঠকে নিজেদের প্রধান দাবি থেকে সরে আসেনি ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি ‘আলোচনার অযোগ্য’ এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকারকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
বৃহ (২৪ জুলাই) দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের বিস্তারিত বৈঠক হয় বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু। সরকারের পক্ষে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অংশ নেন। সিজেপির প্রতিনিধিত্ব করেন জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
বৈঠক শেষে সৌরভ দাস বলেন, তারা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি নিয়ে কোনো আপস হবে না।
তিনি আরও জানান, আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা সব এফআইআর প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়েছে।
সিজেপির প্রতিনিধিরা বলেন, সরকার মৃত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছাড়া তারা কিছু মেনে নেবেন না।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘এ বিষয়ে (শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ) সরকার আমাদের কাছে শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময় চেয়েছে। আমরা আশা করছি, সরকার দ্রুত ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদ থেকে সরিয়ে দেবে অথবা তিনি নিজেই পদত্যাগ করবেন। তাহলে এ সংকটের একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে। দাবি না মানা হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।’
অন্যদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা বলেন, সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষের মধ্যে শনিবার আবারও আলোচনা হবে।
দ্য হিন্দু বলছে, এটি সিজেপি ও সরকারের মধ্যে তৃতীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠক (গত সোমবার দুই পক্ষের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল)।
এদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ৫৭ বছর বয়সি এই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই। গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
দিল্লির জন্তর মন্তরে সিজিপির (CJP) নেতৃত্বে অবস্থানরত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অনড় থাকলেও সরকারি সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে যে, সরকার মন্ত্রীর পাশেই রয়েছে।
সরকারের মতে, পদত্যাগ করা হলো সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত। জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং আমরা কাজ করে দেখাব।
সূত্র আরও জানায়, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) সমস্যাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং দ্রুতই এগুলোর সমাধান করা হবে। ইতিমধ্যেই প্রশ্নফাঁসে জড়িত একাধিক চক্রকে ধরা হয়েছে এবং সামনে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ইতোমধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল করেছে। উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশীকে অন্য মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি, দীর্ঘ আলোচনার পর আন্দোলনকারীদের সমর্থনে আমরণ অনশনে থাকা অ্যাক্টিভিস্ট সোনাম ওয়াংচুক তার অনশন ভঙ্গ করেছেন।
গত ২০ জুলাই দিল্লিতে পার্লামেন্টমুখী মিছিলে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) পেলেট গান ব্যবহার করেছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী (সিআরপিএফ) জানিয়েছে, তারা এ-সংক্রান্ত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন যাচাই করছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন প্রণয়নের ঘোষণা দিলেও সিজেপির অবস্থান, পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় সরকারের সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ হওয়া উচিত শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করা।
এদিকে সরকারের আশ্বাস পাওয়ার পর শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক তার ২৬ দিনের অনশন শেষ করলেও সিজেপি জানিয়েছে, তাদের আন্দোলন দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার তরুণ জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। সরকারবিরোধী এ আন্দোলনকে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে যুবসমাজের ছুড়ে দেওয়া সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তরুণসমাজের আন্দোলনের প্রতি কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোও সমর্থন জানিয়েছে। এ আন্দোলনকে ঘিরে চলতি সপ্তাহে ভারতের সংসদে শুরু হওয়া বর্ষাকালীন অধিবেশন বারবার মুলতবি হচ্ছে।
মন্তব্য