ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে গত ছয় দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক রূপ নিয়েছে চলতি মৌসুমি বন্যা। এক মাসেরও কম সময়ের ব্যবধানে পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যায় রাজ্যজুড়ে অন্তত ৪১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আসাম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এএসডিএমএ) প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিনের বরাতে সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এএসডিএমএ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যের পাঁচটি পৃথক জেলায় বানের পানিতে ডুবে নতুন করে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে চলমান বন্যায় রাজ্যজুড়ে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪১ জনে গিয়ে পৌঁছাল। ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে সবচেয়ে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে রয়েছে রাজ্যের শিবসাগর, চরাইদেও ও জোরহাট জেলা।
মেঘ বিস্ফোরণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে পার্শ্ববর্তী নাগাল্যান্ড রাজ্যের সংলগ্ন সীমান্ত এলাকা থেকে নতুন করে এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করে। এর ফলে রাজ্যজুড়ে ৯৩৯টিরও বেশি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং নষ্ট হয়েছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি।
দুর্যোগপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে পানিবন্দি মানুষদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ করছে ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও এনডিআরএফ (জাতীয় দুর্যোগ প্রাক্কলন বাহিনী)। উদ্ধারকাজে দুর্গম স্থানে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী পৌঁছাতে ব্যবহার করা হচ্ছে স্পিডবোট এবং ড্রোন।
বন্যাদুর্গত বিভিন্ন জেলা সরেজমিনে পরিদর্শন করে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মন্তব্য করেছেন, ক্ষয়ক্ষতির এই বিশাল মাত্রা স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণার বাইরে। বানের পানি না নামা পর্যন্ত এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের সকল সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরকে মাঠে সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা জানিয়ে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) গুয়াহাটিসহ আসামের বিভিন্ন এলাকায় পরবর্তী চার দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত এবং বজ্রপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। এতে আকস্মিক বন্যা, জলাবদ্ধতা এবং পার্বত্য এলাকায় ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের তিক্ত স্মৃতি নিয়ে দেশে ফেরার পথে বড় ধরনের আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) শীর্ষ কর্মকর্তারা। নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমানে ওঠার ঠিক আগ মুহূর্তে এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া এবং প্রভাবশালী কর্মকর্তা তোভিগিনোর মোবাইল ফোন জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অভিযানের কারণে আর্জেন্টিনা দলের চার্টার ফ্লাইটটি প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে উড্ডয়ন করে।
বিদেশী গণমাধ্যম ইনফোবায়ে ও ক্লারিন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেডারেল তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের উপস্থিতিতে এই অভিযান চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দলের সদস্যরা যখন ফ্লাইটে ওঠার অপেক্ষায় ছিলেন, তখন এফবিআই এজেন্টরা একটি বাসের ভেতরে তাপিয়া ও তোভিগিনোকে প্রায় ৩০ মিনিট জিজ্ঞাসাবাদ করেন। মূলত আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তি এবং আর্থিক লেনদেনে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবেই তাঁদের ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইসসমূহ জব্দ করা হয়েছে। একইসাথে আগামী ৩০ জুলাই ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য তাপিয়াকে তলব করা হয়েছে।
তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, যারা দীর্ঘদিন ধরে আর্জেন্টিনা দলের প্রীতি ম্যাচ আয়োজন, স্পনসরশিপ এবং সম্প্রচার স্বত্বের বাণিজ্যিক কাজ পরিচালনা করত। অভিযোগ উঠেছে, স্পনসরদের কাছ থেকে প্রাপ্ত কয়েক মিলিয়ন ডলারের একটি বড় অংশ মিয়ামির একটি ব্যাংক হিসাবে জমা হলেও তার সঠিক তথ্য এএফএ-র বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি। তদন্ত সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুসারে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার আয় করলেও এর মধ্যে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ডলার এমন কিছু সন্দেহজনক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করেছে, যাদের বৈধ অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে সংশয় রয়েছে।
পুরো বিষয়টি সামনে আসে মূলত আর্জেন্টাইন ব্যবসায়ী গিয়ের্মো তোফোনির করা একটি প্রতারণা মামলার প্রেক্ষিতে। তাঁর দাবি, ২০৩০ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের ম্যাচ আয়োজনের চুক্তিটি একতরফাভাবে বাতিল করা হয়েছিল। এ বিষয়ে ক্লদিও তাপিয়া বা এএফএ-র পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে এবং এ পর্যন্ত কোনো পক্ষকেই আদালত দোষী সাব্যস্ত করেনি।
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের বিতর্কিত মেডিকেল ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ বা দ্রুত বিচার আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দিল্লির যন্তর মন্তরে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র-যুবদের তীব্র আন্দোলনের মুখে বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নরেন্দ্র মোদী এই ঘোষণা দিয়ে বলেন, “প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে। তাঁদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। সেই লক্ষ্যে আমরা ‘ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আধিকারিকদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।”
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বক্তব্যে দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে লেখেন, “আমাদের তরুণদের ভাল রাখা এবং তাঁদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনও কিছুই এর চেয়ে বড় নয়।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করবে, তাদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না। এর আগে এনডিএ সংসদীয় দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে তিনি প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনাকে ‘মহাপাপ’ বলে অভিহিত করেছিলেন। তবে বিষয়টি নিয়ে এতদিন প্রকাশ্যে তাঁর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এবার সরাসরি কঠোর আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন তিনি।
এদিকে অরাজনৈতিক ছাত্র সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গত ৬ জুন থেকে যন্তর মন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। আন্দোলনকারীদের সমর্থনে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী রাজপথে নামার পাশাপাশি সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও দীর্ঘ অনশন পালন করেছেন। গত সোমবার বিক্ষোভকারীরা সংসদ অভিযানের চেষ্টা করলে দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশের এই হার্ডলাইন ভূমিকার সমালোচনা করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (আরএসএস)। সঙ্ঘের মতে, বলপ্রয়োগ না করে আরও আগে আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমন করা উচিত ছিল। তবে আরএসএস শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভারত সরকার ইতিমধ্যেই সিজেপির প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় বসেছে। তবে যন্তর মন্তরে উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি। গত বুধবার রাতেও পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে নতুন করে সংঘর্ষ হয়েছে, যেখানে পাথর নিক্ষেপ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে রাহুল গান্ধী ও অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে, যার প্রেক্ষাপটে জাতীয় টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) আমূল পরিবর্তনের দাবিও জোরালো হয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির প্রেক্ষিতে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান যদি তেল বিক্রিতে বাধার সম্মুখীন হয়, তবে এই অঞ্চলের অন্য কোনো দেশও তেল রপ্তানি করতে পারবে না। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সব অথবা কিছুই নয়’ পর্যায়ের হিসেবে উল্লেখ করেন। গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, ‘যে অঞ্চলে আমরা তেল বিক্রি করতে পারি না, সেখানে অন্য কেউও তেল বিক্রি করতে পারবে না।’ একই সঙ্গে তিনি জানান যে, ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এই অঞ্চলের কোনো অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না।
তেহরানের এই হার্ডলাইন অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বার্তা। এর আগে ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছিলেন, ‘এখন থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান যখনই কোনো জাহাজে হামলা চালাবে, যুক্তরাষ্ট্র একটি সেতু বা বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা চালিয়ে তা ধ্বংস করবে।’ ট্রাম্পের এমন হুমকির জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বার্তায় জানিয়েছেন, ইরানের প্রতিরক্ষা নীতি ‘চোখের বদলে চোখ’ নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন, আমাদের অবকাঠামোর ওপর হামলাসহ, শক্তিশালী ও চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া ডেকে আনবে।’ এমনকি এই ধরনের হামলায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তাকারী দেশগুলোকেও ইরানের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে ইরানের একটি সামরিক সূত্র তাসনিম সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে আঘাত হানে, তবে তেহরানও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে। ওই সূত্রটি আরও দাবি করে, গত ১০ দিনে ওয়াশিংটন ইরানের সক্ষমতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে তেহরান ‘ইস্পাত কঠিন সংকল্প’ নিয়ে এগোচ্ছে। তাদের মতে, জাহাজগুলো যদি ইরানের নির্ধারিত ব্যবস্থাপনা মেনে চলে, তবেই এই জলপথে নৌ চলাচল নিরাপদ থাকবে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার দুপুরে একটি দ্বীপে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে তাসনিম সংবাদ সংস্থা। কর্তৃপক্ষের তদন্তাধীন এই বিস্ফোরণটি একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ঘটেছে বলে জানা গেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি কাঠামোগত সমঝোতার চেষ্টা চললেও বাস্তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় অব্যাহত রয়েছে। গালিবাফের মতে, মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ছাড়াই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর হরমুজ প্রণালির অবস্থা আর আগের মতো থাকবে না।
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। বুধবারও (২২ জুলাই) যন্তর মন্তরে হাজারো শিক্ষার্থী, তরুণ, বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী এবং বিরোধী দলের সমর্থকরা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। ফলে আন্দোলন এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। বেকারত্ব, নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং একই সময়ে কৃষকদের অসন্তোষ এই চাপের মূল কারণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করায় গতকাল রাজধানীতে নিরাপত্তাজনিত কারণে লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বারাখাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ এবং শিবাজি স্টেডিয়াম—এই ১৬টি মেট্রো স্টেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে রাজীব চক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটে ইন্টারচেঞ্জ সুবিধা চালু রয়েছে। প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
দ্য হিন্দু জানিয়েছে, আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার।
এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বুধবার (২২ জুলাই) সংবাদ সম্মেলন করেছেন কংগ্রেস ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো ন্যায্য এবং কংগ্রেস তাদের সব দাবির পক্ষে।
রাহুলের ভাষায়, ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি ভারতের সবচেয়ে বড় সম্পদ—দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে দিয়েছেন। তাই তার আর এই পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।
প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের অবস্থান কর্মসূচির ব্যাখ্যা দিয়ে রাহুল বলেন, শিক্ষার্থীরা যখন নিজেদের ভবিষ্যতের জন্য রাস্তায় নেমেছে, তখন বিরোধীদলেরও তাদের পাশে দাঁড়ানো দায়িত্ব।
তিনি জানান, প্রথমে তারা লোকসভা স্পিকারের কাছে নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে আলোচনার আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সরকার সংসদে আলোচনা করতে রাজি না হওয়ায় তারা রাজপথে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেন।
রাহুল বলেন, এটি কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়। তাই এর সমাধানও কেন্দ্রকেই করতে হবে।
আন্দোলনকারীদের পক্ষে তিনি সরকারের কাছে পাঁচটি প্রধান দাবি পেশ করেন। সেগুলো হচ্ছে— শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অবিলম্বে পদত্যাগ। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ ও নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার। সংসদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও দ্রুত শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার। পুরো ব্যবস্থার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, যন্তর মন্তরে কয়েক হাজার আন্দোলনকারী অবস্থান নিয়েছেন। কাব্য নামের ২০ বছর বয়সি এক শিক্ষার্থী জানান, পুলিশের মারে ভীত হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের কোনো উপায় নেই। ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে থাকা শিক্ষামন্ত্রী প্রধান বলেছেন, সরকার সংস্কার এবং পার্লামেন্টে আলোচনার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দিতে সারাদেশ থেকে নানা শ্রেণিপেশার মানুষ নয়াদিল্লিতে জড়ো হচ্ছেন।
এই বিক্ষোভকারীদের একজন ২১ বছর বয়সি সমীর দোরওয়াল। তলস্তয় রোড থেকে আটক হওয়ার পর রাতে তাকে মন্দির মার্গ থানায় রাখা হয়েছিল। ছাড়া পাওয়ার পর সেখান থেকে সরাসরি যন্তর মন্তরে ফেরেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওপেন লার্নিংয়ের এই শিক্ষার্থী।
পুলিশের ব্যারিকেড, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের শেলের মুখোমুখি হওয়ার চেয়েও সমীর এখন অন্য এক কারণে বেশি উদ্বিগ্ন, তাকে এবার মা–বাবার মুখোমুখি হতে হবে।
সমীর বলেন, ‘আমি মা–বাবাকে বলেছিলাম যে এক বন্ধুর বাড়িতে থাকছি। আমাকে যে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না।’ তবে একটি বিষয়ে এ তরুণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, তিনি বাড়ি ফিরবেন এবং আবারও বিক্ষোভস্থলে আসবেন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষাব্যবস্থা ভেতর থেকে পচে গেছে। আমরা যদি এখন কিছু না করি, তবে কে করবে?’
পাঁচ হাজার রুপির একটি বন্ড জমা দিয়ে সমীর জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। তাকে আগামী আগস্টে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে আইপি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সি আইন বিভাগের শিক্ষার্থী সিদ্ধার্থের কাছে আটকের অভিজ্ঞতা ছিল ভয়ের। তিনি বলেন, ‘(সোমবার) পুলিশ যখন আমাকে আটক করেছিল, তখন আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। এরপর কী হবে, তা নিয়ে আমার কোনো ধারণাই ছিল না। অবাক করার বিষয়, পুলিশ আমাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারই করেছে।’
গ্রেপ্তার হওয়ার আগে তিন দিন ধরে যন্তর মন্তরে অবস্থান করেছেন সিদ্ধার্থ। তিনি বলেন, সোমবারের ঘটনাগুলো তাঁর সংকল্প আরও দৃঢ় করেছে। শিক্ষাই একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। তাই এ ইস্যুতে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে যন্তর মন্তরজুড়ে উল্লাসধ্বনি ছড়িয়ে পড়েছিল। ককরোচ জনতা পার্টির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ঘোষণা দেন যে সোমবারের বিক্ষোভে আটক হওয়া সবাইকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
৩৮ বছর বয়সি সীমা যাদব ও তার ১৬ বছর বয়সি মেয়ে কৃষ্ণা যন্তর মন্তরে এসেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের খবর জেনে তারা আলিগড় থেকে দিল্লিতে এসেছেন। দিল্লিতে তাদের কোনো আত্মীয়স্বজন নেই। তাই পাঁচ দিন ধরে গুরুদুয়ারা বাংলা সাহিবে অবস্থান করেছেন তারা।
সীমার অভিযোগ, ‘সোমবার (২০ জুলাই) অন্তত ২০ জন পুলিশ সদস্য আমাকে ও আমার মেয়েকে আটক করেন। এরপর আমাদের আলাদা করে দেন এবং আমাকে প্রায় এক কিলোমিটার টেনে নিয়ে যান। একপর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি।’
অধ্যাপক হওয়ার স্বপ্ন দেখা দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী কৃষ্ণা জানায়, ‘আমি আগে ভাবতাম, পুলিশ মানুষের সুরক্ষা দেয়। কিন্তু সোমবার (২০ জুলাই) তারা আমার চুল ধরে টেনেছে এবং আমাকে জেলে যেতে বলেছে।’
একদিনের কম সময়ের মধ্যে এই মেয়ে ও মা আবার বিক্ষোভস্থলে ফিরে এসেছেন। সেখানে তারা ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছেন।
গত মে মাসে দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আদালতে এক মামলার শুনানির সময় তরুণদের ‘ককরোচ’ (তেলাপোকা) এবং ‘পরজীবী’ হিসেবে তুলনা করেন। এই মন্তব্যের জেরে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া হিসেবে অনলাইনভিত্তিক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র আত্মপ্রকাশ ঘটে। পরবর্তীতে বেকারত্ব, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং মোদির ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী নিয়ে এটি বড় আন্দোলনে রূপ নেয়।
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার আর শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও বর্তমানে তা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে। ২০২৪ সালে নরেন্দ্র মোদি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর এটি তার সরকারের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিধি পাঠিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, আন্দোলনকারীরা এলে তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত।
তবে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যদি সরকার আলোচনা চায়, তাহলে তাদের এখানে (যন্তর মন্তরে) আসতে হবে। আমাদের শর্তগুলো তাদের অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
সিজেপির মুখপাত্র আশুতোশ রাঙ্কা কিছুটা নমনীয় হয়ে বলেছেন, সরকারের সঙ্গে একটি নিরপেক্ষ ভেন্যু অথবা যন্তর মন্তরে আলোচনা হতে পারে। তবে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে আমরা পিছিয়ে যাব না।
বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ছাত্র ও চাকরিপ্রার্থীদের শুরু হওয়া আন্দোলন দেশটির সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতিপথ তৈরি করেছে। তবে পরীক্ষা পরিচালনায় স্বচ্ছতা এনে কেন্দ্রীয় পরীক্ষা সংস্থাগুলোর সংস্কার এবং প্রশ্নফাঁস বিরোধী কড়া আইন প্রণয়নে বাধ্য হতে পারে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি নীতিগত সংস্কারে সরকারকে বাধ্য করাই এ আন্দোলনের প্রাথমিক বড় সাফল্য হতে পারে।
স্বাধীন সাংবাদিক স্মিতা শর্মা, যিনি গত এক মাস ধরে এই যুব আন্দোলনটির খবর সংগ্রহ করছেন, তিনি মনে করেন যে এই শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় সরকারকে এই বার্তা দিয়েছে যে, সমস্যাটি শুধু শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মুদ্রাস্ফীতি এবং বেকারত্বের মতো অন্যান্য বিষয়গুলোকেও সরকার উপেক্ষা করতে পারে না।
এই আন্দোলনের সমর্থক সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব বলেন, আজ যন্তর মন্তরে আমি যে নতুন প্রজন্মকে দেখছি, তা আমার বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। এই তরুণেরা শুধু নিজেদের জন্য লড়ছে না।
যোগেন্দ্র যাদব মনে করেন, যুবসমাজ একটি সুষ্ঠু শিক্ষাব্যবস্থা, কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী অর্থনীতি এবং এমন রাজনীতির জন্য লড়ছে যা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে দায়বদ্ধ।
এই প্রসঙ্গে সাংবাদিক স্মিতা শর্মা বলেন যে, সোমবারের বিক্ষোভের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল যে, এত বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী রাস্তায় নেমে আসবে, তা কেউই আশা করেনি।
স্মিতা শর্মা বিক্ষোভকে একটি নেতৃত্বহীন আন্দোলন হিসেবেও দেখছেন। তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। সিজেপি নেতারা তাদের মতামত জানাতে পারছিলেন না। মেট্রো স্টেশনগুলো বন্ধ ছিল। যে কোনো বার্তাই পৌঁছে দেওয়া কঠিন ছিল। আন্দোলনটি ছিল শিক্ষা নিয়ে, কিন্তু বিষয়টি প্রসারিত হয়ে মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব এবং ভোট চুরির মতো বিষয়গুলোকেও ছুঁয়েছে। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে কলেজের ছাত্রছাত্রীরা পর্যন্ত এই বিষয়ে আলোচনা করেছে, যা সত্যিই ইউনিক।
এই আন্দোলনের কারণে ভবিষ্যতে সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ কতটা বাড়বে, এই প্রশ্নের উত্তরে স্মিতা শর্মা বলেন, সরকার যদি এই বিক্ষোভ থেকে কোনো শিক্ষা না নেয়, তবে তা সরকারের জন্য একটি বড় ভুল হবে। কারণ তরুণরা এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা সংসদ পর্যন্ত মিছিল করার জন্য মুখিয়ে ছিল। সিজেপি যদি মাঝপথে তাদের সংসদ পর্যন্ত মিছিল করতে বাধাও দিত, তবুও হাজার হাজার মানুষ যন্তর মন্তর থেকে সংসদ পর্যন্ত মিছিল করত। ওদের লাঠি দিয়ে পেটানো সত্ত্বেও, ওরা ফিরে আসছিল, প্রশাসনের মোকাবিলা করছিল। এটি সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, মানুষের মধ্যে এমন ক্ষোভ জমা হয়েছে যে, কথা না শুনলে তা আজ যেমন বেলুনের মতো ফেটেছে, ভবিষ্যতেও তেমনই ফেটে পড়তে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের জন্য ব্রাত্য হলেও একই অঞ্চলের অপর দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরব শিগগিরই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ পেতে যাচ্ছে। রিয়াদকে এই সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করবে ওয়াশিংটন। মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দুই সূত্রের বরাত দিয়ে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ওয়াশিংটন সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। শুধু তাই নয়, একটি ঐতিহাসিক চুক্তির ঘোষণা বুধবার দিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের মাঝেই এই উদ্যোগের খবর এলো।
তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ কাটাতে প্রায় ৫ মাস ধরে প্রধান মিত্র ইসরায়েলকে নিয়ে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান দেশটি। এমনকি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর আবারও তেহরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।
মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু প্ল্যান্টগুলোয় হামলার হুমকি দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন বুধবার সৌদি আরবের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু চুক্তি সই করে তা ঘোষণার পরিকল্পনা করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন পারমাণবিক শিল্পে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে—৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তিতে এমন একটি ধারা থাকছে, যার আওতায় মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নির্মাণ করতে পারবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এই বেসামরিক পারমাণবিক প্রকল্পের বিরোধিতা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কর্মসূচিতে রূপ নিতে পারে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তিটি কংগ্রেসে উপস্থাপন করা হতে পারে। তবে এটি কার্যকর করতে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হবে না। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরেই বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি পরিচালনার অধিকার দাবি করে এসেছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তিকে তাদের বৃহত্তর কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। এর আওতায় সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০০৯ সালে সৌদি আরবের প্রতিবেশী ও প্রতিদ্বন্দ্বী সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে আমিরাতের এখনো কোনো নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ উদ্যোগ নেই।
গত মে মাসে আরব আমিরাতের এই পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে একটি জেনারেটরে ড্রোন হামলা হয়। এতে আগুন লেগে যায়। নীতিনির্ধারকদের দীর্ঘদিনের আশঙ্কা, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র তৈরি করে, তবে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে এ ধরনের অস্ত্র নির্মাণের হিড়িক পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় সবার আশঙ্কা, এই সংঘাত গোটা অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। চলতি সপ্তাহে তেহরানের মিত্র ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত করার হুমকি দিয়ে জানিয়েছে, তারা সৌদি আরবের বন্দরগুলো অবরোধ করবে।
এ ধরনের অবরোধ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ব্যাহত করতে পারে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত সপ্তাহে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়, যা ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের দ্বিতীয় দফা হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এতদিন পর্যন্ত হুতি বিদ্রোহীরা এই সংঘাতের বাইরে ছিল।
ছবি: সংগৃহীত
টানা কয়েক দিনের বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ইউক্রেনের সেনাপ্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে বরখাস্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তার জায়গায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যুদ্ধে অভিজ্ঞ জেনারেল মিখাইলো দ্রাপাতিইকে।
এর কয়েক দিন আগে জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর দেশজুড়ে টানা বিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুতে ধারণা করা হচ্ছিল, ফেদোরভের বিদায়ের পেছনে তার সঙ্গে সিরস্কির দ্বন্দ্বই কারণ। পরে স্পষ্ট হয়, ফেদোরভ ও সিরস্কির মধ্যে মতবিরোধই এ রদবদলের অন্যতম কারণ ছিল।
গত মঙ্গলবার রাতে সামাজিকমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি সিরস্কিকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের শুরুতে কিয়েভ রক্ষায় তার ভূমিকার প্রশংসা করেন।
ফেদোরভকে গত সপ্তাহে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে ইয়েভহেনি খমারাকে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী করা হয়। জেলেনস্কি জানান, তিনি মিখাইলো ফেদোরভকে সরকারের একটি ‘সম্মানজনক পদ’ নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন কি না, তা জানা যায়নি।
৩৫ বছর বয়সি ফেদোরভকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংস্কার, সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং দুর্নীতিবিরোধী উদ্যোগের জন্য ব্যাপক প্রশংসা করা হয়। অন্যদিকে, ৬০ বছর বয়সি সিরস্কিকে অনেক ইউক্রেনীয় সোভিয়েত ধাঁচের একজন সেনা কমান্ডার হিসেবে দেখেন, যিনি সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের সংস্কারে অনাগ্রহী ছিলেন।
নতুন সেনাপ্রধান ৪৩ বছর বয়সি মিখাইলো দ্রাপাতিই ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘আমি দায়িত্বশীলভাবে, পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে এবং আজ যারা আমাদের দেশ রক্ষা করছেন তাদের প্রতি সম্মান রেখে কাজ করব।’
একই সঙ্গে সিরস্কিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী করতে তার ধারাবাহিক কাজের জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি এই বাহিনীতেই বড় হয়েছি।’
এদিকে ফেদোরভ দ্রাপাতিইকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তার নিয়োগ ‘স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের জন্য স্বাধীন মানুষের লড়াইয়ে নতুন আশা’। তিনি বলেন, ‘এটি এমন পরিবর্তনের কণ্ঠস্বর, যাকে উপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না।’
ফেদোরভ আরও জানান, তিনি সিরস্কিকে ফোন করে কিয়েভ অঞ্চল এবং অন্যান্য ‘ঐতিহাসিক যুদ্ধ’ রক্ষায় তার ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তবে তিনি যোগ করেন, এখন আমাদের আরও দ্রুত এগোতে হবে এবং অতীতের ভুলগুলো শুধরে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় লিখতে হবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতেই ফেদোরভ প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। যুদ্ধক্ষেত্রে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সেনাবাহিনীর কার্যকারিতা বাড়ানোর উদ্যোগের জন্য তিনি ব্যাপক প্রশংসা পান।
গত সপ্তাহে ফেদোরভের স্থলাভিষিক্ত হন ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ)-এর সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ইয়েভহেনি খমারা। জেলেনস্কি বলেন, ‘সব সিদ্ধান্ত আগামীকাল আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হবে।’
ফেদোরভকে অপসারণের পর ছয় দিন ধরে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা সিরস্কিকে সরানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত জেলেনস্কি তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দ্রাপাতিইকে নিয়োগ দেন। বিশ্লেষকদের মতে, ফেদোরভের প্রকাশ্য সমর্থন এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে সহায়তা করতে পারে।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েভহেনি খমারা এবং নতুন সেনাপ্রধান দ্রাপাতিইকে নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন জেলেনস্কি। এতে সেনাবাহিনীর কর্পস কাঠামোর সংস্কার, অস্ত্র সরবরাহব্যবস্থা এবং ড্রোন সক্ষমতা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সিরস্কি এখনও এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে গত সোমবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ফেদোরভের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল ‘পেশাগত’। তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমি কাউকে, বিশেষ করে মিখাইলো আলবার্তোভিচ (ফেদোরভ)-কে কষ্ট দিয়ে থাকি, তাহলে আমি দুঃখিত।’
বিক্ষোভ প্রসঙ্গে সিরস্কির ভাষ্য, সামরিক চুক্তি, অস্ত্র সংগ্রহ এবং সেনা সমাবেশের মতো বিষয়গুলো জনসমক্ষে যতটা সহজভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, বাস্তবে সেগুলো অনেক বেশি জটিল। তার কথায়, যে সিদ্ধান্তের ওপর মানুষের জীবন নির্ভর করে, তা স্লোগান দিয়ে নেওয়া হয় না। যুদ্ধ জেতে বাস্তব কাজ, জনসমক্ষে তৈরি হওয়া নাটক নয়।’
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ফলে এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নীতিই বহাল থাকল। খবর জাপান টাইমস ও ব্লুমবার্গের ।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু হওয়ার পর ব্রিটেনের অবস্থান পর্যালোচনায় জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বার্নহ্যাম।
ওই বৈঠকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এর আগে গত মার্চে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে ইরানে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে প্রথমে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
তিনি বলেছিলেন, যে কোনো সামরিক পদক্ষেপকে আইনি শর্ত পূরণ করতে হবে। পরে ইরান ব্রিটেনের আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর হামলা চালানোর পর তিনি অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ইংল্যান্ডের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি এবং ভারত মহাসাগরের যৌথ যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া ব্যবহারের অনুমতি দেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী পিট হেগসেথ সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বা অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক জবাব দেবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলার ছাড়িয়েছে। বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ১ ডলার বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ০১ ডলারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৮২ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ১৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।
‘আলোচনার জন্য প্রস্তুত, তবে ইরান আন্তরিক নয়’
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র, তবে ইরান আলোচনায় আন্তরিক নয় বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। বুধবার ফিলিপাইনের ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
রুবিও বলেন, ‘ওয়াশিংটন মতপার্থক্য কমাতে আলোচনা করতে এবং সমাধান খুঁজতে চায়। কিন্তু সমস্যা হলো, ইরান আলোচনায় আন্তরিক নয়।’ তিনি বলেন, ‘তারা যদি আন্তরিক হয়, আমরাও আন্তরিক। কিন্তু তারা যদি না হয়, তাহলে আমাদের এবং আমাদের মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় যা প্রয়োজন তাই করব।’
রুবিও আরও বলেন, ‘এই সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জলপথে বাধা তৈরি হওয়া খুবই বিপজ্জনক।’ তার মতে, এমন ঘটনা বিশ্বের অন্য এলাকায়, এমনকি এশিয়াতেও ঘটতে পারে। তিনি বলেন, ‘এতে বৈশ্বিক অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়েছে এবং এটি ঘটতে দেওয়া যায় না।’
মন্তব্য