যৌন নিপীড়ন ও মানহানি মামলায় ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৬০ কোটি টাকা জরিমানা গুনলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বহুল আলোচিত এই মামলায় প্রখ্যাত লেখিকা ই. জিন ক্যারল ক্ষতিপূরণের পুরো অর্থ বুঝে পেয়েছেন। আদালতের নথি ও ক্যারলের আইনজীবীর বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা এপি।
একটি বিশেষ অ্যাকাউন্ট থেকে এই অর্থ ক্যারলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০২৩ সালে জুরির দেওয়া মূল ৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানার সঙ্গে অতিরিক্ত সুদ যুক্ত হয়ে এই অর্থের পরিমাণ ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
ক্যারলের প্রধান আইনজীবী রবার্টা কাপলান মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে অর্থ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ৮২ বছর বয়সি কলাম লেখিকা ই. জিন ক্যারল নিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাবস্ট্যাকে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে লিখেছেন, ‘ঈগল অবশেষে অবতরণ করেছে।’ এর মাধ্যমে তিনি মূলত টাকা হাতে পাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করেছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৩ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জুরি বোর্ড রায় দেওয়ার পরপর আদালতের নির্দেশে এই অর্থ একটি জরুরি এসক্রো অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়েছিল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এই দেওয়ানি রায়টি সম্পূর্ণ বহাল রাখে। এতে বিচারক লুইস এ. কাপলানের জন্য আটকে থাকা অর্থ লেখিকার কাছে ছাড় করার আইনি পথ পরিষ্কার হয়ে যায়। যদিও ট্রাম্পের আইনজীবীরা শেষ মুহূর্তে এই অর্থ প্রদান ঠেকাতে আদালতে জরুরি স্থগিতাদেশের আবেদন জানিয়েছিলেন।
কিন্তু আদালত এক লাইনের সংক্ষিপ্ত আদেশে ট্রাম্পের সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয়। আদালত ক্যারলকে এই অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আইনি শর্তও জুড়ে দেয়নি। ক্যারলের আইনজীবীরা আদালতের নথিপত্রে জানিয়েছেন, এই বিশাল অর্থ তিনি তার একটি অবসরকালীন অ্যাকাউন্টে জমা রাখার পরিকল্পনা করছেন। অবশ্য ট্রাম্পের ডিফেন্স টিম এখনও হাল ছাড়েনি। তারা এই অর্থ প্রদান বন্ধ বা সম্পূর্ণ বাতিল করার দাবিতে পুনরায় নতুন করে আপিল দায়ের করেছে।
ঘটনার শুরু যেভাবে
এই মামলা শুরু হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। জুরি বোর্ডের তদন্ত ও রায়ে প্রমাণিত হয়, সেই বছর নিউইয়র্কের একটি বিলাসবহুল ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের ড্রেসিংরুমে ই. জিন ক্যারলকে জোরপূর্বক যৌন আক্রমণ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে ২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম প্রেসিডেন্ট মেয়াদ চলাকালীন ক্যারল তার প্রকাশিত একটি স্মৃতিকথায় বা আত্মজীবনীমূলক বইয়ে এই ভয়ংকর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আনেন।
ঘটনাটি সামনে আসার পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে ক্যারলের বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করেন। ট্রাম্প তখন দাবি করেছিলেন, ক্যারলের সঙ্গে তার কোনো ধরনের যৌন সম্পর্ক বা ঘটনা ঘটেনি।
২০১৯ সালের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আক্রমণাত্মকভাবে বলেন, ক্যারল ‘পুরোপুরি মিথ্যা বলছেন’ এবং তিনি কোনোভাবেই ‘আমার পছন্দের নারী নন।’ এমনকি ১৯৮৭ সালের একটি পার্টিতে তাদের তৎকালীন স্বামী ও স্ত্রীদের সঙ্গে তোলা একটি গ্রুপ ছবিকে সম্পূর্ণ তাৎপর্যহীন ও ভুয়ো বলে উড়িয়ে দেন ট্রাম্প। ট্রাম্প উল্টো ক্যারলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং তার নাম ভাঙিয়ে বই বিক্রি করার নোংরা চেষ্টার অভিযোগ আনেন।
বিচার চলাকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিনের জন্যও আদালতে উপস্থিত হননি। অন্যদিকে ক্যারল আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সশরীরে সাক্ষ্য দিয়ে জানান, নিউইয়র্কের সেই ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ট্রাম্পের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ ও আকস্মিক মোলাকাতটি কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে এক চরম সহিংসতায় রূপ নিয়েছিল।
মূলত নিউইয়র্ক আইন সংশোধন করে দূর অতীতের যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের জন্য পুনরায় নতুন করে মামলা করার বিশেষ আইনি সুযোগ দেওয়ার পর ক্যারল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই মামলা ঠুকে দিয়েছিলেন।
এই মামলা ছাড়াও ২০২৪ সালের আরেকটি পৃথক বিচারে ম্যানহাটনের একটি জুরি বোর্ড ট্রাম্পকে ক্যারলের মানহানি করার অপরাধে আরও ৮৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। সেখানে ট্রাম্প নিজে সংক্ষিপ্ত সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ট্রাম্প বর্তমানে সেই বিশাল জরিমানার বিরুদ্ধেও উচ্চ আদালতে আপিল প্রক্রিয়া সচল রেখেছেন। সংবাদমাধ্যম যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের নাম গোপন রাখলেও, ক্যারল নিজেই তার নাম প্রকাশে পূর্ণ সম্মতি দিয়েছেন।
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে দিয়ে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় পুনরায় নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর ওয়াশিংটন সময় মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে এই অবরোধ কার্যকর হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে এই পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শতাধিক সামরিক উড়োজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছে। সেন্টকমের দাবি, মার্কিন বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত ও সতর্ক রয়েছে।
অবরোধের প্রেক্ষাপট ও হরমুজ প্রণালির সংকট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে হামলা চালানোর পর থেকেই সংকটের শুরু। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান বিশ্ববাজারের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
এরপর এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার নৌ অবরোধ আরোপ করলে ইরানের আমদানি-রপ্তানি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। জুন মাসে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সেই অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা থামেনি। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই সমঝোতা স্মারক ও যুদ্ধবিরতি বাতিল ঘোষণা করেন এবং এ সপ্তাহের শুরুতেই পুনরায় নৌ অবরোধের নির্দেশ দেন।
টানা চতুর্থ রাত হামলা ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
নৌ অবরোধের পাশাপাশি গতকাল টানা চতুর্থ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করে দিতেই এই আক্রমণ। এমনকি প্রথমবারের মতো সি-ড্রোন ব্যবহার করে ইরানের নৌঘাঁটিতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে না ফেরে, তবে আগামী সপ্তাহ থেকে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতেও হামলা চালানো হবে।
ইরানের পাল্টা জবাব
এদিকে বসে নেই ইরানও। দেশটির সেনাবাহিনী আজ বুধবার ভোরে জানিয়েছে, তারা জর্ডানের আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন অবস্থানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগারেও হামলা চালিয়েছে। তবে আইআরজিসির এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স এবং পেন্টাগনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি’ (ইসলামাবাদ এমওইউ) থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইরান। তেহরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের পক্ষ হতে গত মঙ্গলবার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আসন্ন আগ্রাসন’ প্রতিহত করতেই ইরান এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ঘারিবাবাদি স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন যে, “হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার ইরান যে কোনো মূল্যে রক্ষা করবে। এর সঙ্গে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপারটি সরাসরি জড়িত। আমরা আর কোনো ইস্যুতে কখনও যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে আলোচনার জন্য অনুরোধ করব না।” মূলত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এখন তেহরানের জন্য প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৭ জুন ট্রাম্প এবং পেজেশকিয়ান প্রশাসনের মধ্যে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির মূল শর্ত ছিল ইরান কর্তৃক জাহাজ হামলা বন্ধ এবং বিনিময়ে ওয়াশিংটন কর্তৃক তেল রপ্তানির ওপর হতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
তবে ৫ জুলাই আরব আমিরাতের জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি পুনরায় সংঘাতের দিকে মোড় নেয়। এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে। সংকটের মাত্রা আরও তীব্র হয় যখন গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় অবরোধ জারির নির্দেশ দেন এবং ঘোষণা করেন যে, এখন হতে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ হিসেবে কাজ করবে। এমনকি এই জলপথ ব্যবহারের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ২০ শতাংশ হারে টোল প্রদানের নির্দেশ দেন ট্রাম্প, যা ইরানকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।
ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান সমঝোতা চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে মার্কিন সেন্টকমের মুখপাত্র অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন যে, অবরোধ জারির পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অনড় অবস্থানে বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি এখন এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে অবস্থিত একটি বিশাল গম সংরক্ষণ সাইলো বা খাদ্য গুদামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ হতে দাবি করা হয়েছে যে, এই হামলায় স্থাপনাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির সংবাদ পাওয়া যায়নি। খুজেস্তান প্রদেশের উপ-গভর্নর দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উপ-গভর্নর জানান, মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ছোড়া একটি শক্তিশালী প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি ওই গম সংরক্ষণ কেন্দ্রে আঘাত হানে। হামলার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কেবল অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে চলমান এই সামরিক উত্তেজনার মাঝে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বাইরেও খাদ্য এবং বেসামরিক অবকাঠামো আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি এক গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। খাদ্য গুদামের মতো স্পর্শকাতর স্থানে হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিতে পারে। তবে ইরানের এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা মন্তব্য প্রদান করেনি। ফলে হামলার প্রকৃতি ও নেপথ্য কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক এক শীর্ষ কমান্ডার বলেছেন, ইরান চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের ভেতরে হামলা চালিয়ে হত্যা করতে পারে। ইরানি সংবাদমাধ্যম ফারারুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার হোসেইন কানানি মোকাদ্দাম ওই হুমকি দিয়েছেন।
সাবেক এই ইরানি কমান্ডার বলেছেন, যদি ট্রাম্পকে হত্যার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়, তাহলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হোয়াইট হাউসের ভেতরেই তা সহজে করতে পারে। যখনই প্রয়োজন হবে, আমরা তা করতে সক্ষম।
এই হুমকির পাশাপাশি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনা নিয়েও মন্তব্য করেছেন মোকাদ্দাম। তিনি বলেন, ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই আলোচনার লক্ষ্য কোনও শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো নয়।
তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বর্তমান আলোচনা থেকে তার দেশ শান্তির আশা করছে না এবং যুদ্ধের জন্য আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দিতে অস্বীকৃতিও জানিয়েছেন তিনি।
মোকাদ্দাম বলেন, ‘আমরা শান্তির জন্য আমেরিকানদের সঙ্গে আলোচনা করছি না। আমরা উত্তেজনা কমানোর জন্য আলোচনা করছি। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের এই আলোচনার উদ্দেশ্য হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দাবিগুলোকে জোরালো করা।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ট্রাম্প এবং তার অপরাধী সহযোগীদের সঙ্গে শান্তির জন্য আলোচনা করছি না। আলোচনায় আমরা কেবল আমাদের অধিকার পুনরুদ্ধার এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই।
মোকাদ্দাম বলেন, ‘আর প্রতিশোধ ও পাল্টা জবাবের বিষয়টি আলোচনার টেবিলেই দৃঢ়ভাবে রয়ে গেছে।’
ইরানের সাবেক এই সামরিক কমান্ডার এমন এক সময়ে হোয়াইট হাউসে তেহরানের হামলার সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করলেন, যখন দেশটিতে ফের নতুন করে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠিন আঘাত হানারও হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় তেহরানের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, বিতর্কিত হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ বা প্রহরী হবে যুক্তরাষ্ট্র। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ‘এখন আমরা এটি পাহারা দিতে যাচ্ছি এবং এই পাহারার জন্য আমাদের অর্থ প্রদান করা হবে।’
ছবি: সংগৃহীত
দ্রুত শক্তিশালী হতে থাকা এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতি পূর্ব আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য ভয়াবহ বন্যা, রোগব্যাধি এবং খরার হুমকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গত সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানায়, পূর্ব আফ্রিকার কেনিয়া, উগান্ডা, সোমালিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। এসব দেশের কয়েকটি ইতোমধ্যেই দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
আইআরসির জরুরি পরিস্থিতি-বিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বব কিচেন বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কয়েকটি জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখছি। যেসব এলাকার আরেকটি ধাক্কা সামলানোর মতো ন্যূনতম সক্ষমতা নেই, মূলত তারাই এখন নিশানা বা বিপদের মুখে রয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার ৯ জুলাই জানায়, এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। ১৯৫০ সালের পর থেকে এটি অন্যতম শক্তিশালী রূপ নেওয়ার ৮১ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাব মূলত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছিল, এল নিনো পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি আরও দ্রুত শক্তিশালী হতে পারে।
জলবায়ু বিজ্ঞানী ড্যানিয়েল সোয়েন তার ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, বছরের এই সময়ে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি এটিকে ‘বিশ্বের জন্য এক বিশাল পরিণতির এক বিরাট ঘটনা’ বলে বর্ণনা করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবে আক্রান্ত অঞ্চলগুলোর জনগণ ইতিমধ্যেই খরা, সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ বাজেট কমে যাওয়ার কারণে চরম চাপে রয়েছে। ফলে নতুন একটি জলবায়ুগত বিপর্যয় মোকাবিলার সক্ষমতা তাদের খুবই সীমিত।
এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রার একটি স্বাভাবিক পরিবর্তন, যা সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর ঘটে। স্বাভাবিক অবস্থায় বাণিজ্যিক বায়ু উষ্ণ পানিকে পশ্চিম দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু এই বায়ু দুর্বল হয়ে পড়লে উষ্ণ পানি পুরো প্রশান্ত মহাসাগরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এর ফলে বিশ্বের কোনো অঞ্চলে অস্বাভাবিক ভারি বৃষ্টিপাত হয়, আবার কোথাও বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পূর্ব আফ্রিকায় এর অর্থ হলো বছরের মাঝামাঝি সময়ে শুষ্ক আবহাওয়া এবং পরে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অতিরিক্ত আর্দ্র ও বৃষ্টিপূর্ণ আবহাওয়া। আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারত মহাসাগরের তাপমাত্রার আরেকটি সম্পর্কিত পরিবর্তনের কারণে চলতি বছর এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে।
সোমালিয়ায় এ বছর ভারি বৃষ্টির কারণে রাজধানী মোগাদিশুর বিভিন্ন এলাকা ইতিমধ্যেই বারবার প্লাবিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত আগাম সতর্কীকরণ সংস্থা এফইডব্লিউএস নেট জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে যদি ১৯৯৭ বা ২০২৩ সালের মতো বড় ধরনের বন্যা হয়, তবে সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে দুর্ভিক্ষের বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হবে। সংস্থাটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ওই সময় এল নিনো এবং ভারত মহাসাগরের সম্মিলিত প্রভাবে কৃষিজমি তলিয়ে গিয়েছিল এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।
কেনিয়া, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও বাড়ছে উদ্বেগ: কেনিয়ার আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, বছরের বাকি সময়জুড়ে এল নিনো বজায় থাকার ৮০ থেকে ৮২ শতাংশ আশঙ্কা রয়েছে। বছরের মাঝামাঝি শুষ্ক আবহাওয়ার পর অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় দেশটি ইতোমধ্যেই জাতীয় দুর্যোগ পরিকল্পনা সক্রিয় করেছে।
বাংলাদেশে জুলাইয়ের শুরু থেকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ভূমিধস ও বন্যায় অন্তত ১৫ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত হয়েছেন এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্য দিকে পাকিস্তান একই সঙ্গে খরা ও বন্যার দ্বৈত সংকটের মুখোমুখি। দেশটিতে সামগ্রিকভাবে গড় বৃষ্টিপাত কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও উত্তরের পার্বত্য এলাকায় হঠাৎ হিমবাহ গলে সৃষ্ট বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
ধানের ফলন কমে যেতে পারে অর্ধেক পর্যন্ত: বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, এল নিনো পুরোপুরি বিকশিত হলে দক্ষিণ এশিয়া এবং পূর্ব আফ্রিকার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধানের ফলন এক-পঞ্চমাংশ থেকে অর্ধেক পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এসব অঞ্চলে ধান লাখ লাখ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি। ফলে খাদ্যের ঘাটতি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।
বিশ্বব্যাংক আরও ইঙ্গিত দিয়েছে, এমন একসময়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যখন ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং তেহরানের পাল্টা হামলার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও সার সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে চলতি বছরে সার উৎপাদনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যা কৃষি উৎপাদনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা দাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, দুর্যোগ আঘাত হানার জন্য অপেক্ষা না করে এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আগাম প্রস্তুতির জন্য অর্থায়ন করতে হবে। সংস্থাগুলোর মতে, সময়মতো বিনিয়োগ করা গেলে সম্ভাব্য প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ভারি বর্ষণের সময় একটি বাড়ির ছাদ ধসে নারীসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেশটির প্রাদেশিক সরকারের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। খবর আরব নিউজের।
প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ জানায়, খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাত জেলার লাচি তহসিলের মালাগিন এলাকায় গত রাতে তীব্র বর্ষণের একপর্যায়ে একটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার তথ্যমন্ত্রী শফি জান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় নারীসহ ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’
তিনি জানান, দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’-এর কর্মীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছেন। আহত ব্যক্তিরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রাদেশিক সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
পাকিস্তানে বার্ষিক মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা প্রদেশগুলোর অন্যতম এই খাইবার পাখতুনখাওয়া। এখানকার গ্রামীণ এলাকার মানুষের একটি বড় অংশ এখনও কাদামাটি ও পুরোনো ভাঙাচোরা ইটের তৈরি জরাজীর্ণ বাড়িতে বসবাস করেন, যা দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির সময় সহজেই ধসে পড়ে। এছাড়া পাহাড়ি এলাকা হওয়ার কারণে এখানে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে।
পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুন থেকে শুরু হওয়া এই মৌসুমের বৃষ্টি ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত ২৬ জন নিহত এবং ৯১ জন আহত হয়েছেন।
সরকারি এই পরিসংখ্যান আরও বলছে, এই সময়ের মধ্যে আবহাওয়া-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর অর্ধেকই ঘটেছে ঘরবাড়ি ধসের কারণে। চলমান এই দুর্যোগে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ইতিমধ্যে ৭৫টি বাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৮টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
ছবি: সংগৃহীত
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের হাতে বন্দি দেশটির গণতন্ত্রকামী নেত্রী অং সান সু চির কোনো খোঁজ মিলছে না অনেকদিন ধরে। পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার সরকারকে উৎখাত করা হয়। এরপর থেকেই কারাবন্দি তিনি। বর্তমানে ৮১ বছর বয়সি এই নেত্রী আদৌ বেঁচে রয়েছেন কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—সু চি কি বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন?
সু চির ছেলে কিম আরিস কয়েক মাস ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরছেন। তিনি বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রীদের কাছে একটিই দাবি জানাচ্ছেন। তা হলো, মিয়ানমারের সামরিক সরকার যেন সু চির বেঁচে থাকার প্রমাণ (প্রুফ অব লাইফ) দেয়।
২০২২ সালের শেষের দিকে সু চির শেষ আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তার আইনজীবীদেরও তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি সু চির ১৫ বছর বয়সি প্রিয় কুকুর ‘তাইচিতো’ ইয়াঙ্গুনের বাড়িতে মারা গেছে। সু চি যখন ২০১০ সালে কারামুক্ত হন, তখন ছেলে কিম আরিস তাকে কুকুরটি উপহার দিয়েছিলেন। শেষ দিন পর্যন্ত বিশ্বস্ত কুকুরটি সু চির ফেরার অপেক্ষায় ছিল।
অং সান সু চি বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত রাজনৈতিক বন্দি। আশির দশক থেকে শুরু করে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করে দীর্ঘ সময় গৃহবন্দি ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
২০১৫ সালে তার দল ক্ষমতায় আসার পর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের পক্ষে সাফাই গাইলে সু চির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়। এরপর ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক জান্তা আবার ক্ষমতা দখল করে এবং সু চিকে কারাগারে পাঠায়।
চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা সরকার দাবি করেছিল, সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি করা হয়েছে। তবে কূটনীতিকদের তার সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ বারবার প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। কূটনীতিকেরা সু চির অবস্থা জানতে চাইলে জান্তা কর্মকর্তারা কেবল বলেন, তিনি ‘ভালো আছেন’।
মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং গত মার্চে নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ তার সঙ্গে বৈঠকে সু চির প্রসঙ্গ তোলেন। কূটনীতিকদের মতে, সু চির নাম শুনলেই প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েন জান্তা প্রধান।
জান্তা প্রধানের এমন প্রতিক্রিয়া দেখে কূটনীতিকদের একাংশের আশঙ্কা, সু চি হয়তো আর বেঁচে নেই অথবা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন। যে কারণে জান্তা সরকার তার বেঁচে থাকার প্রমাণ দিতে পারছে না।
অবশ্য লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ মরগান মাইকেলস ভিন্ন কথা বলছেন। তার মতে, সু চির মৃত্যুর মতো বড় খবর গোপন রাখা অসম্ভব। জান্তা প্রধানের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিদ্বেষের কারণেই সু চিকে এভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হতে পারে।
মিয়ানমারের অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, দেশটিতে বর্তমানে ১৪ হাজার ৫১৭ জন রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন। চলতি বছরেই কারাগারে চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে ৬০ জনের বেশি রাজনৈতিক বন্দি মারা গেছেন।
সু চি কারাগারে অন্যান্য সাধারণ বন্দিদের মতোই মানবেতর পরিস্থিতিতে রয়েছেন। অন্য বন্দিরা সুবিধা পায় না বলে তিনি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) সেলে থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক জান্তা বাহিনী সশস্ত্র বিদ্রোহের চেয়ে সু চির অহিংস আন্দোলনকে বেশি ভয় পায়। সু চিকে মুক্তি দিলে বা তার খোঁজ মিললে দেশের জনগণের অবাধ্যতা আন্দোলন আবার তীব্র হতে পারে, যা জান্তার ক্ষমতাকে নাড়িয়ে দেবে। এই ভয়ের কারণেই হয়তো সু চিকে পৃথিবীর নজর থেকে পুরোপুরি আড়াল করে রাখা হয়েছে।
মন্তব্য