× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
US forces are finally leaving Iraq
google_news print-icon

অবশেষে ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী

অবশেষে-ইরাক-ছাড়ছে-মার্কিন-বাহিনী
ছবি: সংগৃহীত

সুদীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির চূড়ান্ত অবসান হতে চলেছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি ঘোষণা করেছেন যে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সকল সেনাসদস্য ইরাক ত্যাগ করবে। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলী আল-জাইদি সোজাসাপ্টা ভাষায় জানিয়েছেন যে, ‘৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা ইরাক ছেড়ে যাবে। তবে মার্কিন কোম্পানিগুলো ইরাকে থাকবে।’ এর ফলে ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে শুরু হওয়া দীর্ঘ ২৩ বছরের মার্কিন সামরিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।

হোয়াইট হাউসে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। বৈঠকে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ‘আমরা মনে করি, সেখানে আর আমাদের সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন নেই’। তবে তিনি একই সঙ্গে ইরাকের জ্বালানি ও তেল খাতে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ ও সম্পর্কের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, এক সময় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস দমনে ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা নিয়োজিত থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা হয়েছে।

ইরাক সরকার জানিয়েছে, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের এই পরিকল্পনাটি মূলত দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে আল-জাইদি বলেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বর আমেরিকান সেনারা চলে যাবে, আর আমেরিকান কোম্পানিগুলো আসবে। ৩০ সেপ্টেম্বরের পর রাষ্ট্রের বাইরে কোনও গোষ্ঠীকে অস্ত্র বহনের অনুমতি দেয়া হবে না।’ মূলত দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতেই বাগদাদ এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

ওয়াশিংটন সফরের সময় ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর প্রধান লক্ষ্য ছিল দেশের তেল, গ্যাস এবং বিদ্যুৎ খাতে বৃহৎ মার্কিন বিনিয়োগ নিশ্চিত করা। ওভাল অফিসে আলোচনার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাকের বিপুল তেল সম্পদের প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরা অনেক চুক্তি করব। দুই দেশের জন্যই অনেক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। আর আমরা বিপুল পরিমাণ তেল উত্তোলন করব’। এই অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে আগামী শুক্রবার ইরাক, মার্কিন জ্বালানি জায়ান্ট শেভরন, টিআই ক্যাপিটাল এবং কাতারের ইউসিসি-র মধ্যে একটি মেগা চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় বসরা হতে হাদিথা হয়ে তুরস্ক ও সিরিয়ার বন্দর পর্যন্ত প্রতিদিন ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম একটি আধুনিক পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
20 warships and hundreds of aircraft have been deployed to enforce the US blockade on Iran

ইরানে মার্কিন অবরোধ কার্যকরে যুদ্ধজাহাজ ও উড়োজাহাজ মোতায়েন

ইরানে মার্কিন অবরোধ কার্যকরে যুদ্ধজাহাজ ও উড়োজাহাজ মোতায়েন ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে দিয়ে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় পুনরায় নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর ওয়াশিংটন সময় মঙ্গলবার বিকেল ৪টা থেকে এই অবরোধ কার্যকর হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে এই পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শতাধিক সামরিক উড়োজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছে। সেন্টকমের দাবি, মার্কিন বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত ও সতর্ক রয়েছে।

অবরোধের প্রেক্ষাপট ও হরমুজ প্রণালির সংকট
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে হামলা চালানোর পর থেকেই সংকটের শুরু। এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান বিশ্ববাজারের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।

এরপর এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার নৌ অবরোধ আরোপ করলে ইরানের আমদানি-রপ্তানি কার্যত অচল হয়ে পড়ে। জুন মাসে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে সেই অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা থামেনি। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই সমঝোতা স্মারক ও যুদ্ধবিরতি বাতিল ঘোষণা করেন এবং এ সপ্তাহের শুরুতেই পুনরায় নৌ অবরোধের নির্দেশ দেন।

টানা চতুর্থ রাত হামলা ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
নৌ অবরোধের পাশাপাশি গতকাল টানা চতুর্থ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করে দিতেই এই আক্রমণ। এমনকি প্রথমবারের মতো সি-ড্রোন ব্যবহার করে ইরানের নৌঘাঁটিতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি অবিলম্বে আলোচনার টেবিলে না ফেরে, তবে আগামী সপ্তাহ থেকে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতেও হামলা চালানো হবে।

ইরানের পাল্টা জবাব
এদিকে বসে নেই ইরানও। দেশটির সেনাবাহিনী আজ বুধবার ভোরে জানিয়েছে, তারা জর্ডানের আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন অবস্থানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগারেও হামলা চালিয়েছে। তবে আইআরজিসির এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স এবং পেন্টাগনও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের এই চলমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Irans announcement of withdrawal from the Islamabad Accord

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে ইরানের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে ইরানের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি’ (ইসলামাবাদ এমওইউ) থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইরান। তেহরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের পক্ষ হতে গত মঙ্গলবার এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আসন্ন আগ্রাসন’ প্রতিহত করতেই ইরান এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

ঘারিবাবাদি স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেন যে, “হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার ইরান যে কোনো মূল্যে রক্ষা করবে। এর সঙ্গে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপারটি সরাসরি জড়িত। আমরা আর কোনো ইস্যুতে কখনও যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে আলোচনার জন্য অনুরোধ করব না।” মূলত হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এখন তেহরানের জন্য প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুদ্ধের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৭ জুন ট্রাম্প এবং পেজেশকিয়ান প্রশাসনের মধ্যে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির মূল শর্ত ছিল ইরান কর্তৃক জাহাজ হামলা বন্ধ এবং বিনিময়ে ওয়াশিংটন কর্তৃক তেল রপ্তানির ওপর হতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

তবে ৫ জুলাই আরব আমিরাতের জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি পুনরায় সংঘাতের দিকে মোড় নেয়। এর জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে। সংকটের মাত্রা আরও তীব্র হয় যখন গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় অবরোধ জারির নির্দেশ দেন এবং ঘোষণা করেন যে, এখন হতে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ হিসেবে কাজ করবে। এমনকি এই জলপথ ব্যবহারের জন্য বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ২০ শতাংশ হারে টোল প্রদানের নির্দেশ দেন ট্রাম্প, যা ইরানকে ক্ষুব্ধ করে তোলে।

ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরান সমঝোতা চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে মার্কিন সেন্টকমের মুখপাত্র অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন যে, অবরোধ জারির পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অনড় অবস্থানে বিশ্ব বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি এখন এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তা ও যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
US missile attack on Irans wheat storage warehouse

ইরানের গম সংরক্ষণ গুদামে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ইরানের গম সংরক্ষণ গুদামে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র  হামলা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের খুজেস্তান প্রদেশে অবস্থিত একটি বিশাল গম সংরক্ষণ সাইলো বা খাদ্য গুদামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের পক্ষ হতে দাবি করা হয়েছে যে, এই হামলায় স্থাপনাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির সংবাদ পাওয়া যায়নি। খুজেস্তান প্রদেশের উপ-গভর্নর দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘ফার্স নিউজ এজেন্সি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উপ-গভর্নর জানান, মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ছোড়া একটি শক্তিশালী প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি ওই গম সংরক্ষণ কেন্দ্রে আঘাত হানে। হামলার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি সেবা বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কেবল অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির কাজ চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে চলমান এই সামরিক উত্তেজনার মাঝে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বাইরেও খাদ্য এবং বেসামরিক অবকাঠামো আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি এক গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। খাদ্য গুদামের মতো স্পর্শকাতর স্থানে হামলার অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিতে পারে। তবে ইরানের এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা মন্তব্য প্রদান করেনি। ফলে হামলার প্রকৃতি ও নেপথ্য কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Iran threatens to kill Trump inside the White House

হোয়াইট হাউসের ভেতরেই ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি ইরানের

হোয়াইট হাউসের ভেতরেই ট্রাম্পকে হত্যার হুমকি ইরানের ছবি: সংগৃহীত

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক এক শীর্ষ কমান্ডার বলেছেন, ইরান চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসের ভেতরে হামলা চালিয়ে হত্যা করতে পারে। ইরানি সংবাদমাধ্যম ফারারুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার হোসেইন কানানি মোকাদ্দাম ওই হুমকি দিয়েছেন।

সাবেক এই ইরানি কমান্ডার বলেছেন, যদি ট্রাম্পকে হত্যার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়, তাহলে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হোয়াইট হাউসের ভেতরেই তা সহজে করতে পারে। যখনই প্রয়োজন হবে, আমরা তা করতে সক্ষম।

এই হুমকির পাশাপাশি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনা নিয়েও মন্তব্য করেছেন মোকাদ্দাম। তিনি বলেন, ইরানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই আলোচনার লক্ষ্য কোনও শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো নয়।

তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বর্তমান আলোচনা থেকে তার দেশ শান্তির আশা করছে না এবং যুদ্ধের জন্য আমেরিকার বিরুদ্ধে ‌‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার বিষয়টি উড়িয়ে দিতে অস্বীকৃতিও জানিয়েছেন তিনি।

মোকাদ্দাম বলেন, ‘আমরা শান্তির জন্য আমেরিকানদের সঙ্গে আলোচনা করছি না। আমরা উত্তেজনা কমানোর জন্য আলোচনা করছি। ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইরানের এই আলোচনার উদ্দেশ্য হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্রের দাবিগুলোকে জোরালো করা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ট্রাম্প এবং তার অপরাধী সহযোগীদের সঙ্গে শান্তির জন্য আলোচনা করছি না। আলোচনায় আমরা কেবল আমাদের অধিকার পুনরুদ্ধার এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে চাই।

মোকাদ্দাম বলেন, ‘আর প্রতিশোধ ও পাল্টা জবাবের বিষয়টি আলোচনার টেবিলেই দৃঢ়ভাবে রয়ে গেছে।’

ইরানের সাবেক এই সামরিক কমান্ডার এমন এক সময়ে হোয়াইট হাউসে তেহরানের হামলার সক্ষমতা নিয়ে মন্তব্য করলেন, যখন দেশটিতে ফের নতুন করে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠিন আঘাত হানারও হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় তেহরানের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, বিতর্কিত হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ বা প্রহরী হবে যুক্তরাষ্ট্র। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ‘এখন আমরা এটি পাহারা দিতে যাচ্ছি এবং এই পাহারার জন্য আমাদের অর্থ প্রদান করা হবে।’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Bangladesh is at risk of El Nino disaster 
আল জাজিরার প্রতিবেদন

প্রবল হচ্ছে এল নিনো, দুর্যোগের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ 

প্রবল হচ্ছে এল নিনো, দুর্যোগের ঝুঁকিতে বাংলাদেশ  ছবি: সংগৃহীত

দ্রুত শক্তিশালী হতে থাকা এল নিনো আবহাওয়া পরিস্থিতি পূর্ব আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য ভয়াবহ বন্যা, রোগব্যাধি এবং খরার হুমকি তৈরি করছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

গত সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় সংস্থাটি জানায়, পূর্ব আফ্রিকার কেনিয়া, উগান্ডা, সোমালিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। এসব দেশের কয়েকটি ইতোমধ্যেই দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

আইআরসির জরুরি পরিস্থিতি-বিষয়ক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বব কিচেন বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে কয়েকটি জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হতে দেখছি। যেসব এলাকার আরেকটি ধাক্কা সামলানোর মতো ন্যূনতম সক্ষমতা নেই, মূলত তারাই এখন নিশানা বা বিপদের মুখে রয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাইমেট প্রেডিকশন সেন্টার ৯ জুলাই জানায়, এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। ১৯৫০ সালের পর থেকে এটি অন্যতম শক্তিশালী রূপ নেওয়ার ৮১ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাব মূলত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এর আগে জুলাইয়ের শুরুতে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছিল, এল নিনো পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই সৃষ্টি হয়েছে এবং জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এটি আরও দ্রুত শক্তিশালী হতে পারে।

জলবায়ু বিজ্ঞানী ড্যানিয়েল সোয়েন তার ইউটিউব চ্যানেলে বলেন, বছরের এই সময়ে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। তিনি এটিকে ‘বিশ্বের জন্য এক বিশাল পরিণতির এক বিরাট ঘটনা’ বলে বর্ণনা করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবে আক্রান্ত অঞ্চলগুলোর জনগণ ইতিমধ্যেই খরা, সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ বাজেট কমে যাওয়ার কারণে চরম চাপে রয়েছে। ফলে নতুন একটি জলবায়ুগত বিপর্যয় মোকাবিলার সক্ষমতা তাদের খুবই সীমিত।

এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রার একটি স্বাভাবিক পরিবর্তন, যা সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর অন্তর ঘটে। স্বাভাবিক অবস্থায় বাণিজ্যিক বায়ু উষ্ণ পানিকে পশ্চিম দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু এই বায়ু দুর্বল হয়ে পড়লে উষ্ণ পানি পুরো প্রশান্ত মহাসাগরে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। এর ফলে বিশ্বের কোনো অঞ্চলে অস্বাভাবিক ভারি বৃষ্টিপাত হয়, আবার কোথাও বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পূর্ব আফ্রিকায় এর অর্থ হলো বছরের মাঝামাঝি সময়ে শুষ্ক আবহাওয়া এবং পরে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে অতিরিক্ত আর্দ্র ও বৃষ্টিপূর্ণ আবহাওয়া। আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারত মহাসাগরের তাপমাত্রার আরেকটি সম্পর্কিত পরিবর্তনের কারণে চলতি বছর এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে।

সোমালিয়ায় এ বছর ভারি বৃষ্টির কারণে রাজধানী মোগাদিশুর বিভিন্ন এলাকা ইতিমধ্যেই বারবার প্লাবিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত আগাম সতর্কীকরণ সংস্থা এফইডব্লিউএস নেট জানিয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে যদি ১৯৯৭ বা ২০২৩ সালের মতো বড় ধরনের বন্যা হয়, তবে সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে দুর্ভিক্ষের বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হবে। সংস্থাটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ওই সময় এল নিনো এবং ভারত মহাসাগরের সম্মিলিত প্রভাবে কৃষিজমি তলিয়ে গিয়েছিল এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল।

কেনিয়া, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানেও বাড়ছে উদ্বেগ: কেনিয়ার আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, বছরের বাকি সময়জুড়ে এল নিনো বজায় থাকার ৮০ থেকে ৮২ শতাংশ আশঙ্কা রয়েছে। বছরের মাঝামাঝি শুষ্ক আবহাওয়ার পর অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কায় দেশটি ইতোমধ্যেই জাতীয় দুর্যোগ পরিকল্পনা সক্রিয় করেছে।

বাংলাদেশে জুলাইয়ের শুরু থেকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ভূমিধস ও বন্যায় অন্তত ১৫ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত হয়েছেন এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্য দিকে পাকিস্তান একই সঙ্গে খরা ও বন্যার দ্বৈত সংকটের মুখোমুখি। দেশটিতে সামগ্রিকভাবে গড় বৃষ্টিপাত কম হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও উত্তরের পার্বত্য এলাকায় হঠাৎ হিমবাহ গলে সৃষ্ট বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।

ধানের ফলন কমে যেতে পারে অর্ধেক পর্যন্ত: বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, এল নিনো পুরোপুরি বিকশিত হলে দক্ষিণ এশিয়া এবং পূর্ব আফ্রিকার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ধানের ফলন এক-পঞ্চমাংশ থেকে অর্ধেক পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এসব অঞ্চলে ধান লাখ লাখ মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার প্রধান ভিত্তি। ফলে খাদ্যের ঘাটতি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।

বিশ্বব্যাংক আরও ইঙ্গিত দিয়েছে, এমন একসময়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে যখন ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ এবং তেহরানের পাল্টা হামলার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ও সার সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে চলতি বছরে সার উৎপাদনের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যা কৃষি উৎপাদনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা দাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, দুর্যোগ আঘাত হানার জন্য অপেক্ষা না করে এখনই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আগাম প্রস্তুতির জন্য অর্থায়ন করতে হবে। সংস্থাগুলোর মতে, সময়মতো বিনিয়োগ করা গেলে সম্ভাব্য প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক বিপর্যয়ের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
10 killed in heavy rain roof collapse in Pakistan

পাকিস্তানে ভারি বৃষ্টিতে ছাদ ধসে ১০ জন নিহত

পাকিস্তানে ভারি বৃষ্টিতে ছাদ ধসে ১০ জন নিহত ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ভারি বর্ষণের সময় একটি বাড়ির ছাদ ধসে নারীসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেশটির প্রাদেশিক সরকারের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। খবর আরব নিউজের।

প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ জানায়, খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাত জেলার লাচি তহসিলের মালাগিন এলাকায় গত রাতে তীব্র বর্ষণের একপর্যায়ে একটি বাড়ির ছাদ ধসে পড়ে। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠান।

খাইবার পাখতুনখাওয়ার তথ্যমন্ত্রী শফি জান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় নারীসহ ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।’

তিনি জানান, দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’-এর কর্মীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছেন। আহত ব্যক্তিরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রাদেশিক সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

পাকিস্তানে বার্ষিক মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা প্রদেশগুলোর অন্যতম এই খাইবার পাখতুনখাওয়া। এখানকার গ্রামীণ এলাকার মানুষের একটি বড় অংশ এখনও কাদামাটি ও পুরোনো ভাঙাচোরা ইটের তৈরি জরাজীর্ণ বাড়িতে বসবাস করেন, যা দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির সময় সহজেই ধসে পড়ে। এছাড়া পাহাড়ি এলাকা হওয়ার কারণে এখানে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে।

পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ জুন থেকে শুরু হওয়া এই মৌসুমের বৃষ্টি ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দুর্ঘটনায় দেশজুড়ে এখন পর্যন্ত ২৬ জন নিহত এবং ৯১ জন আহত হয়েছেন।

সরকারি এই পরিসংখ্যান আরও বলছে, এই সময়ের মধ্যে আবহাওয়া-সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর অর্ধেকই ঘটেছে ঘরবাড়ি ধসের কারণে। চলমান এই দুর্যোগে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে ইতিমধ্যে ৭৫টি বাড়ি আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ২৮টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।

মন্তব্য

সু চি কি বেচে আছেন?

সু চি কি বেচে আছেন? ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের হাতে বন্দি দেশটির গণতন্ত্রকামী নেত্রী অং সান সু চির কোনো খোঁজ মিলছে না অনেকদিন ধরে। পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার সরকারকে উৎখাত করা হয়। এরপর থেকেই কারাবন্দি তিনি। বর্তমানে ৮১ বছর বয়সি এই নেত্রী আদৌ বেঁচে রয়েছেন কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন—সু চি কি বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন?

সু চির ছেলে কিম আরিস কয়েক মাস ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরছেন। তিনি বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রীদের কাছে একটিই দাবি জানাচ্ছেন। তা হলো, মিয়ানমারের সামরিক সরকার যেন সু চির বেঁচে থাকার প্রমাণ (প্রুফ অব লাইফ) দেয়।

২০২২ সালের শেষের দিকে সু চির শেষ আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি দেখা গিয়েছিল। এরপর থেকে তার আইনজীবীদেরও তার সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি সু চির ১৫ বছর বয়সি প্রিয় কুকুর ‘তাইচিতো’ ইয়াঙ্গুনের বাড়িতে মারা গেছে। সু চি যখন ২০১০ সালে কারামুক্ত হন, তখন ছেলে কিম আরিস তাকে কুকুরটি উপহার দিয়েছিলেন। শেষ দিন পর্যন্ত বিশ্বস্ত কুকুরটি সু চির ফেরার অপেক্ষায় ছিল।

অং সান সু চি বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত রাজনৈতিক বন্দি। আশির দশক থেকে শুরু করে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করে দীর্ঘ সময় গৃহবন্দি ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।

২০১৫ সালে তার দল ক্ষমতায় আসার পর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের পক্ষে সাফাই গাইলে সু চির আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়। এরপর ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সামরিক জান্তা আবার ক্ষমতা দখল করে এবং সু চিকে কারাগারে পাঠায়।

চলতি বছরের এপ্রিলে জান্তা সরকার দাবি করেছিল, সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি করা হয়েছে। তবে কূটনীতিকদের তার সঙ্গে দেখা করার অনুরোধ বারবার প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। কূটনীতিকেরা সু চির অবস্থা জানতে চাইলে জান্তা কর্মকর্তারা কেবল বলেন, তিনি ‘ভালো আছেন’।

মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের নেতা সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং গত মার্চে নিজেকে দেশের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন। সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাতিসংঘের বিশেষ দূত জুলি বিশপ তার সঙ্গে বৈঠকে সু চির প্রসঙ্গ তোলেন। কূটনীতিকদের মতে, সু চির নাম শুনলেই প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েন জান্তা প্রধান।

জান্তা প্রধানের এমন প্রতিক্রিয়া দেখে কূটনীতিকদের একাংশের আশঙ্কা, সু চি হয়তো আর বেঁচে নেই অথবা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন। যে কারণে জান্তা সরকার তার বেঁচে থাকার প্রমাণ দিতে পারছে না।

অবশ্য লন্ডনের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ মরগান মাইকেলস ভিন্ন কথা বলছেন। তার মতে, সু চির মৃত্যুর মতো বড় খবর গোপন রাখা অসম্ভব। জান্তা প্রধানের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিদ্বেষের কারণেই সু চিকে এভাবে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হতে পারে।

মিয়ানমারের অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, দেশটিতে বর্তমানে ১৪ হাজার ৫১৭ জন রাজনৈতিক বন্দি রয়েছেন। চলতি বছরেই কারাগারে চিকিৎসাবঞ্চিত হয়ে ৬০ জনের বেশি রাজনৈতিক বন্দি মারা গেছেন।

সু চি কারাগারে অন্যান্য সাধারণ বন্দিদের মতোই মানবেতর পরিস্থিতিতে রয়েছেন। অন্য বন্দিরা সুবিধা পায় না বলে তিনি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) সেলে থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক জান্তা বাহিনী সশস্ত্র বিদ্রোহের চেয়ে সু চির অহিংস আন্দোলনকে বেশি ভয় পায়। সু চিকে মুক্তি দিলে বা তার খোঁজ মিললে দেশের জনগণের অবাধ্যতা আন্দোলন আবার তীব্র হতে পারে, যা জান্তার ক্ষমতাকে নাড়িয়ে দেবে। এই ভয়ের কারণেই হয়তো সু চিকে পৃথিবীর নজর থেকে পুরোপুরি আড়াল করে রাখা হয়েছে।

মন্তব্য

p
উপরে