ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে ১১ বছরের এক মুসলিম শিশুকে অপহরণ করে ধর্ষণের পর চোখ উপড়ে বিভৎসভাবে হত্যা করেছে ৪ হিন্দু যুবক। শিশুটি গত ৪ জুলাই বিকেলে বান্ধবীর জন্মদিনের উপহার কিনতে গিয়ে নিখোঁজের পর তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছে এ ব্যাপারে এফআইআর করতে গেলে তাদের থানা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এলাকার লোকজন স্থানীয়দের সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পায় প্রভাস মণ্ডলসহ ৪ হিন্দু যুবক মেয়েটিকে জোর করে একটি গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
পরে ওই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় অপহরণ ও হত্যা মামলা দিতে গেলেও পুলিশ নেয়নি বলে ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ। অভিযুক্তদের ধরে এলাকাবাসী থানায় সোপর্দ করে আসলেও বিজেপি নেতারা ধর্ষকদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। এ ঘটনা পর অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠে কলকাতা। মুসলিম শিশুটির ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডটি পশ্চিমবঙ্গে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। আর এ আন্দোলন দমতে তড়িঘড়ি করে মঙ্গলবার রাতে মূল আসামিকে এনকাউন্টারে হত্যা করে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন।
এই ইস্যুতে কলকাতায় আন্দোলন তুঙ্গে, তৃণমূল নেত্রী মমতাসহ বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে সব শ্রেণিপেশার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, তখনই গদি বাঁচাতে রাতারাতি ধর্ষককে ধরে এনে এনকাউন্টারের নাটক সাজালো শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন।
বারুইপুর ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, এক ব্যক্তি আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছেন, মরদেহটি কোথায় রয়েছে। তার দেখানো জায়গা থেকে বস্তাবন্দি নাবালিকার মরদেহ উদ্ধার হতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এলাকাবাসী। মারধর শুরু হয় ওই ব্যক্তিকে। ঘটনাচক্রে দেখা গিয়েছে, ওই ব্যক্তিই এই ধর্ষণ এবং খুন কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল।
মঙ্গলবার রাতেই পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় প্রভাসের। মঙ্গলবার রাতে তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। পুলিশ জানায়, সেই সময় পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালান প্রভাস। পুলিশের পাল্টা গুলিতে গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। বারুইপুর কাণ্ডে প্রথম গ্রেপ্তার হয়েছিলেন প্রভাসই।
গত শনিবার বন্ধুর জন্মদিনে যাবে বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ওই নাবালিকা। তারপর থেকে তার আর খোঁজ মেলেনি। তার খোঁজ করার সময় এলাকার কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। সেই সময় ওই নাবালিকাকে এক যুবকের সঙ্গে দেখতে পাওয়া যায়।
নীল টি-শার্ট এবং লাল টুপি পরা ওই যুবকের খোঁজ শুরু হয়। সেই সূত্র ধরে পুলিশ ওই যুবককে শনাক্ত করে। তার পরই গ্রেপ্তার হন প্রভাস। তাকে জেরা করে আরও তিন অভিযুক্ত আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয় আরও এক যুবককে।
প্রভাসের বাড়ি সূর্যপুর এলাকাতেই। স্থানীয় সূত্রে খবর, পরিবারে মা, বাবা, স্ত্রী এবং এক পুত্রসন্তান রয়েছে। প্রভাসের বাবা অসুস্থ। মা গৃহবধূ। স্ত্রী পরিচারিকার কাজ করেন। তবে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় প্রভাসের নাম জড়ানোর পর শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান প্রভাসের স্ত্রী। বাড়িতে প্রভাসের মা এবং বাবা রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, কোনো স্থায়ী কাজ করতেন না প্রভাস। যাখন যা পেতেন তাই করতেন। কখনো ভ্যান চালাতেন। তবে নেশা করতেন তিনি। প্রভাসের মা সন্ধ্যা মণ্ডল বলেন, ‘আমাদের কথা শুনত না। নেশা করত।’ জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় বাকি অভিযুক্তরাও প্রভাসের নেশার সঙ্গী ছিলেন।
সূত্রের খবর, গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে তার সূত্র ধরে বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর প্রত্যেককে আলাদা আলাদাভাবে জেরা করে পুলিশ। তখনই ঘটনার পুরো ছবি স্পষ্ট হয়।
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা সময়ের অপচয়। আমরা গত (মঙ্গলবার) রাতে ইরানের অত্যন্ত বিপজ্জনক লোকদের ওপর খুব শক্তিশালী হামলা চালিয়েছি। ওরা দুষ্ট, অসুস্থ লোক। ওদের কিছু একটা সমস্যা হয়েছে।
বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ৩৬তম ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “ইরান সরকার একটি ‘ক্যান্সার’, যা শুরুতেই ছেঁটে ফেলতে হবে। ওরা দুষ্ট, অসুস্থ লোক। আমাদের এই ক্যান্সার থেকে মুক্তি পেতে হবে... ক্যান্সার শুরু ছেঁটে ফেলতে হবে।”
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক বা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি শেষ হয়ে গেছে। অর্থাৎ তেহরানের সঙ্গে হওয়া চুক্তিটি ভেস্তে গেছে এবং যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।’ ইরানিদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখতে চান না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
এর আগে, গত মঙ্গলবার রাতে ইরানের অন্তত ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে ‘শক্তিশালী’ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করতে চাওয়া তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান হামলা করেছে। যদিও এই হামলার দায় স্বীকার করেনি ইরান। পরে মধ্যপ্রাচ্যে কুয়েত ও বাহরাইনের অন্তত ৮৫টি মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ইরানের আইআরজিসি।
এসব হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোক শোভাযাত্রা প্রায় শেষের দিকে এবং আজ বৃহস্পতিবার মাশহাদে তার জন্মভূমিতে দাফন করা হবে।
ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাতিল হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আঙ্কারায় ন্যাটো নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া এক বক্তৃতায় ট্রাম্প আরও জানান, তিনি তার ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সকল বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে মাদ্রিদকে ন্যাটোর একটি ‘ভয়াবহ অংশীদার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প।
সম্প্রতি হরমুজ প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে (তেলবাহী ট্যাংকার) হামলার জবাবে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে শক্তিশালী সামরিক হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ইরানের তেল বিক্রির সাময়িক ছাড়ও প্রত্যাহার করেছে।
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ ইরাকে পৌঁছেছে। দেশটির পবিত্র নগরী নাজাফের সড়কে লাখো মানুষ খামেনির কফিনসহ শোকযাত্রায় অংশ নেয়। বুধবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
গত শনিবার থেকে প্রয়াত খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতা চলছে। বুধবার ওই আনুষ্ঠানিকতার পঞ্চম দিনটি শিয়া অধ্যুষিত ইরাকবাসীদের জন্য নিবেদন করা হয়েছে।
ইরানের প্রত্যাশা, প্রয়াত নেতার জানাজাকে ঘিরে এই বিপুল আয়োজন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পর ঐক্য ও শক্তিমত্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুগপৎ হামলা চালিয়ে এই যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায় ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র। সেদিনই খামেনি ও তার পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হন।
এমন সময় নাজাফের এই শোকযাত্রা শুরু হলো, যখন আবারও নতুন করে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর ও দ্রুত যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাজে তেহরান হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর হামলা চালানোর দাবি করেছে।
পরবর্তীতে ইরানের বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বাহরাইন ও কুয়েতে মার্কিন সেনাবাহিনীর অধীনে থাকা অন্তত ৮৫টি লক্ষ্যে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করে। ইরানের পবিত্র শহর কোমে জনাকীর্ণ শোকযাত্রার শেষে গত মঙ্গলবার রাতে ইরাকের কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদরা নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খামেনির মরদেহ গ্রহণ করেন।
এ সময় সেখানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও প্রয়াত নেতার একজন সন্তান উপস্থিত ছিলেন। ইরাক কর্তৃপক্ষ আজকের দিনটিকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। সকাল ৬টা থেকে নাজাফে শোকযাত্রা শুরু হয়।
কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাঝে একটি ট্রাকে করে খামেনির মরদেহ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জামাতা হযরত আলী (রা.)-এর মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। উল্লেখ্য, শিয়া মুসলিমদের কাছে শ্রদ্ধাভাজন হিসেবে বিবেচিত ১২ ইমামের মধ্যে প্রথম ইমাম হযরত আলী (রা.)।
হযরত আলী (রা.)-এর মাজারে খামেনির জন্য দোয়া পড়ানো হয়। তারপর সেখান থেকে তার মরদেহ কারবালা শহরে নিয়ে যাওয়া হয়। আজ বৃহস্পতিবার নিজের জন্মস্থান মাশহাদ শহরে খামেনিকে কবর দেওয়া হবে। শহরটি ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত। গত মঙ্গলবার বিমানবন্দরে খামেনির বড় ছেলে মোস্তাফা খামেনি উপস্থিত ছিলেন।
খামেনির মৃত্যুর অল্প সময় পর তার উত্তরসূরি হিসেবে নির্বাচিত হন দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনি। খামেনির ওপর হামলার দিনে তিনিও আহত হন। নিরাপত্তাজনিত কারণে মোজতবা খামেনি এখনও জনসম্মুখে আসেননি। তবে লিখিত বার্তার মাধ্যমে তিনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ওই শহরে অসংখ্য শিয়া ধর্মগুরু পড়ালেখা করেছেন, শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছেন এবং বসবাস করেছেন। তাদের মধ্যে খামেনির পূর্বসূরী আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি অন্যতম। নাজাফ থেকে উড়োজাহাজে করে খামেনির মরদেহ ৬০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত কারবালায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে আরেকটি শোকযাত্রার মাধ্যমে তার মরদেহ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন ও তার ভাই আব্বাসের মাজারে নেওয়া হবে।
নাজাফ ও কারবালায় শোকযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের বিনামূল্যে খাবার ও পানীয় দেওয়ার জন্য সড়কের দুই পাশেই স্বেচ্ছাসেবকরা অসংখ্য স্টল বসিয়েছেন। শিয়া অধ্যুষিত ইরান ও ইরাকের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে বলিষ্ঠ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক আয়োজন সফল করতে ইরাকের সরকার ও জনগণের ব্যাপক প্রস্তুতি গোটা বিশ্বের সামনে ইরাক ও ইরান—এই দুই মহান জাতির গভীর আধ্যাত্মিক বন্ধনের পরিচয় তুলে ধরেছে।’
আশির দশকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন ইরাকের প্রয়াত নেতা সাদ্দাম হুসেইন। তিনি শিয়াদের ওপর দমন-পীড়নও চালান। তবে ২০০৩ সালে সাদ্দামের পতনের পর দুই দেশ ঘনিষ্ঠ মিত্রে রূপান্তরিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আইআরজিসি সদস্য নিহত
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক সদস্য নিহত হয়েছে। দেশটির বন্দর মাহশাহরে চালানো মার্কিন ড্রোন হামলায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ওই ব্যক্তি আইআরজিসির নৌবাহিনীর সদস্য ছিলেন। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করেনি তেহরান। এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম।
বুধবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ বুশেহরের গর্ভনরের একজন নিরাপত্তাবিষয়ক উপমন্ত্রী জানিয়েছেন, বুশেহর প্রদেশের দুটি সামরিক ঘাঁটি শত্রুপক্ষের ছোড়া গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রদেশের দাশতি কাউন্টিতে একটি ও চোগাদাক শহরের কাছে আরেকটি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি বন্দর আব্বাস, সিরিক বন্দরনগরী ও কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলা এমন সময় হয়েছে, যখন দেশটিতে সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার রাষ্ট্রীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, মার্কিন বাহিনী ইরানে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে ইরানের তেল বিক্রির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন।
এর জবাবে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একই সময়ে কুয়েত ও বাহরাইনের ৮৫ স্থানে হামলার কথা জানিয়েছে আইআরজিসি। ইরান সতর্ক করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দেওয়া হবে। আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহবি তাসনিম নিউজকে বলেন, ‘বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ এলাকার আকাশে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি এমকিউ-৯ ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।’
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ আগ্রাসনকে বৈধতা দিয়েছেন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা জোট ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট। তিনি বলেন, ‘ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলাগুলো খুব দরকার ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখানোটা অত্যন্ত জরুরি।’
বুধবার তুরস্কের রাজধানী আংকারায় শুরু হওয়া ৩৬তম ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন জোট সংগঠনটির প্রধান কর্মকর্তারা।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তেহরানের তেল বিক্রির বিশেষ লাইসেন্সও বাতিল করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন এই পদক্ষেপের ফলে দুই দেশের মধ্যকার আগে থেকেই ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
আংকারায় সামরিক জোট ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলন শুরুর আগে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট সাংবাদিকদের বলেন, ‘যখন একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকে এবং ইরান মূলত সেটি লঙ্ঘন করে, তখন আমার মনে হয় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখানোটা অত্যন্ত জরুরি ছিল।’
আংকারা শীর্ষ সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই সামরিক জোটে পুনরায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে রাজি করানো। কারণ, ইরান যুদ্ধ ও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সম্প্রতি ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের নতুন করে বিরোধ তৈরি হয়েছে। অবশ্য রুটো জোর দিয়ে বলেছেন, ‘ন্যাটোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ অঙ্গীকার’ নিয়ে কোনো সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই। তার মতে, এই জোট মূলত যুক্তরাষ্ট্রকেও রক্ষা করতে কাজ করে।
ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বণ্টন নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে রুট আরও বলেন, ‘তবে এই প্রত্যাশাও রয়েছে যে ইউরোপীয় ও কানাডিয়ানরা প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সমপরিমাণ ব্যয় করবে, যা আমি মনে করি সম্পূর্ণ ন্যায্য।’
ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক বাজেট বাড়ানোর দিকে ইঙ্গিত করে তিনি একে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। রুটে বলেন, ‘সুখবর হলো, এটাই আজকের বড় জয়। এটি ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য একটি ক্ষতি, আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য বড় জয় যে ইউরোপীয় ও কানাডিয়ানরা অবশেষে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে ঠিক তাই করছে।’
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরাক ও সিরিয়া। তিনটি সিরীয়, পশ্চিমা ও ইরাকি সূত্র গত সোমবার লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যম আশারক আল–আওসাতকে এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্রগুলোর মতে, ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদির জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন সফরের সময় এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। এই উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে এমন একটি নতুন আঞ্চলিক জোটের ভিত্তি স্থাপন করতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী আঞ্চলিক শিবির থেকে দেশ দুটির সরে আসার ইঙ্গিত বহন করছে।
সিরীয় সূত্র জানিয়েছে, সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন সফরে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেখানে ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি অথবা তার সফরসঙ্গী ইরাকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফরের ফাঁকে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
পশ্চিমা একটি সূত্রের ভাষ্য, এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে হোয়াইট হাউসে আল-জাইদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাশিত বৈঠকের পর। সিরীয় সূত্রটি আরও জানায়, বাগদাদ ও দামেস্কের মধ্যকার এই চুক্তির পৃষ্ঠপোষকতা করবেন সিরিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক। চলমান কারিগরি ও রাজনৈতিক সমঝোতা চূড়ান্ত হলে পরবর্তী সময়ে অন্যান্য আরব দেশও এতে যোগ দিতে পারে।
অন্যদিকে একটি ইরাকি সূত্র আল-জাইদির সঙ্গে সিরীয় কর্মকর্তাদের বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিতও করেনি, তবে অস্বীকারও করেনি। তবে আগের ইরাকি সরকারের একজন রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেছেন, আল-জাইদির দল সিরিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আরেকটি ইরাকি সূত্র জানিয়েছে, ১৫ জুলাই শুরু হয়ে প্রায় চার দিনব্যাপী আল-জাইদির ওয়াশিংটন সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস নেতারা এবং মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এরপর তিনি টেক্সাস সফর করবেন, যেখানে বড় বড় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অতিরিক্ত বৈঠক করার কথা রয়েছে।
এক ইরাকি সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকই সফরের প্রধান এজেন্ডা।’ তবে তিনি অন্য কোনো দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরাকি সরকার সমান্তরালে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করছে। প্রথমত, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে এনে সেগুলোকে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ। দ্বিতীয়ত, দুর্নীতির অভিযোগে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, যাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যাদের সঙ্গে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
একই সময়ে মার্কিন প্রশাসন ইরাকের ওপর ইরানের প্রভাব কমানোর জন্য চাপ অব্যাহত রাখায় বাগদাদও ক্রমশ ওয়াশিংটনের দিকে ঝুঁকছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, আল-জাইদির সরকার আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। এটি এমন একটি নতুন আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে তুলতে পারে, যা বাগদাদ, ওয়াশিংটন ও তেহরানের পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।
ইরাক বর্তমানে তেল রপ্তানির পথ বৈচিত্র্যময় করার পাশাপাশি প্রচলিত সমুদ্রপথের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে সিরিয়া নিজের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে জ্বালানি ও বাণিজ্যের আঞ্চলিক করিডর হিসেবে নিজেদের ভূমিকা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আশা করছে।
পশ্চিমা সূত্রটি জানিয়েছে, সিরিয়ায় মার্কিন দূত টম বারাক ইরাক ও সিরিয়াকে ঘিরে তার কৌশলকে বাস্তব প্রকল্পে রূপ দিতে কাজ করছেন। তার লক্ষ্য হলো ইরাক, সিরিয়া এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের স্বার্থকে একত্র করে একটি ‘নতুন স্বার্থভিত্তিক জোটের মূল ভিত্তি’ গড়ে তোলা। এই জোটের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানোর একটি সংক্ষিপ্ত রুট তৈরি হবে, যা হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাবে।
প্রস্তাবিত রূপে চুক্তিটি সম্পন্ন হলে এটি মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রতিফলন হবে। এতে ইরাককে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলের সঙ্গে সংযুক্তকারী আন্তঃসীমান্ত অবকাঠামো প্রকল্পগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক জ্বালানি প্রবাহ পুনর্গঠনে সিরিয়াকে আরও বড় ভূমিকা দেওয়া হবে।
বাহরাইনে সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলা। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ৮৫টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ধ্বংস করেছে। একই অভিযানে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে সংস্থাটি।
বুধবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, বাহরাইনের সালমান বন্দর, যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের সামুদ্রিক এলাকা এবং কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনকে গুলি করে নামানো হয়েছে। এদিকে ইরানের ৮০টিরও বেশি স্থাপনা হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে করে দুদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আইআরজিসি অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পুরোনো অভ্যাস’ অনুসরণ করেছে। তাদের দাবি, ‘বুধবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজগান ও মাহশাহর উপকূলীয় ঘাঁটি এবং বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করেছে।’
ইরানের এই বাহিনী আরও দাবি করেছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় নজিরবিহীন জনসমাগম দেখে যুক্তরাষ্ট্র আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে এবং ঐতিহাসিক এই ঘটনাকে আড়াল করতেই হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইরানি জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণে শত্রুকে পরাজিত করার যে ঐতিহাসিক বিদায় আয়োজন হয়েছে এবং শহীদ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ইরাকের গর্বিত জনগণের লাখো মানুষের অংশগ্রহণ বিশ্বজুড়ে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, তা আগ্রাসী মার্কিন সরকারের জন্য আরও বড় পরাজয় হিসেবে দেখা দিয়েছে।’
তবে আইআরজিসির এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সতর্ক করল ইরান
ইরানের দক্ষিণ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। তাদের দাবি, এই হামলা যুদ্ধ অবসানসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের গুরুতর লঙ্ঘন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সতর্ক করেছে ইরান।
বুধবার ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জাতিসংঘ সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদের ৪ নম্বর দফা লঙ্ঘন করে ইরানের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত কয়েকটি পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।
ইরান জানিয়েছে, এসব হামলা যুদ্ধবিরতিসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারকের প্রথম দফারও স্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সব রাষ্ট্রের, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ উপকূলীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর দায়িত্ব হলো—তাদের ভূখণ্ড বা স্থাপনা ব্যবহার করে যেন কোনো আগ্রাসী পক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে না পারে।
ইরান সতর্ক করে বলেছে, ‘এ ধরনের হামলায় কোনো দেশের সহযোগিতা আগ্রাসনের অপরাধে অংশগ্রহণ ও সহায়তা হিসেবে গণ্য হবে।’
একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও মহাসচিবকে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না এবং হামলার উৎস ও দায়ী পক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
ছবি: সংগৃহীত
চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে মেজাজ হারিয়ে নিজের দলের কর্মীদেরই চড় মেরেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রোববার (৫ জুলাই) পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিনই সেখানে যেতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁকে সেখানে যেতে বাধা দেওয়া হয় এবং পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর কালীঘাটের বাসভবন ঘিরে তাঁকে একপ্রকার নজরবন্দী করে রাখা হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে বুধবার (৮ জুলাই) আদালতের পূর্বানুমতি নিয়ে পথে নামে তৃণমূলের ছাত্র ও যুব সংগঠন। বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলটি হাজরা চত্বরের কাছে পৌঁছালে সেখানে বিজেপির অন্য একটি মিছিল মুখোমুখি চলে আসে এবং চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মিছিলে হঠাৎ করে ‘চোর চোর’ ধ্বনি ও ‘মাছ চোর’ গান বাজানো শুরু হলে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি বেধে যায়। তৃণমূলের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিজেপি কর্মীরা তাদের মিছিলে ঢুকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত তাণ্ডব চালিয়েছে।
এই চরম বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনার মধ্যে মিছিল শেষে অনেক কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁরা মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে যান। সেখানে মমতার বাড়ির সামনেও ভিড় ও বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করলে একপর্যায়ে তিনি নিজেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। ভিড় সামলাতে প্রথমে মাইক হাতে সবাইকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও অনেকেই মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও করতে ব্যস্ত ছিলেন এবং সরতে চাননি। ভিড়ের চাপে সেখানে আরও কয়েকজন কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের গাড়িতে তুলে হাসপাতালে পাঠানোর সময় পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এ সময় মেজাজ হারিয়ে কমলা টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তিকে সপাটে চড় মারেন মমতা। দলীয় সূত্রমতে, ওই ব্যক্তি একজন তৃণমূল কর্মী। এরপর আরও বেশ কয়েকজন কর্মীর পিঠেও তাঁকে থাপ্পড় মারতে দেখা যায়। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এতটা ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মীদের ওপর এভাবে চড়াও হয়েছিলেন, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
মন্তব্য