× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Aragchi warned about the final agreement with the United States
google_news print-icon

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে হুঁশিয়ারি দিলেন আরাগচি

যুক্তরাষ্ট্রের-সঙ্গে-চূড়ান্ত-চুক্তি-নিয়ে-হুঁশিয়ারি-দিলেন-আরাগচি
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে। মঙ্গলবার ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরাগচি বলেন, ‘হুমকি অব্যাহত থাকলে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু হবে না।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় লাখ লাখ ইরানি সমবেত হচ্ছেন। কোনো হুমকিতে তারা বা আমাদের সশস্ত্র বাহিনী—কেউই পিছু হটবে না। আপনারা আপনাদের স্বাক্ষরকে সম্মান করুন।’ এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, অথবা ‘তাদের শেষ করে দেবে’।”

গত সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমরা এক ঘণ্টার মধ্যে তাদের সেতুগুলো ভেঙে ফেলতে পারি। আমরা তাদের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারি। তাদের কাছে এখন কোনো টাকা নেই। আমরা তাদের কোনো টাকা দিইনি।’

এদিকে খামেনির দাফন প্রক্রিয়ার মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে হামলা চালিয়েছে ইরান। গত সোমবার মধ্যরাতে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এ হামলা চালিয়েছে। দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে মঙ্গলবার এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া দেয়নি।

গত সোমবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল একটি রেকর্ডিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড সামুদ্রিক রেডিওর মাধ্যমে জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছে। তারা বলেছে, ‘নির্দেশনা অমান্য করলে আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আপনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে প্রস্তুত।’

আক্রমণের শিকার হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে একটি হলো নাকিলাতের মালিকানাধীন ও পরিচালিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী ট্যাংকার আল রেকায়াত। এটি কাতারের এলএনজি শিল্পের একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান। প্রজেক্টাইলটি জাহাজটির বাম পাশে ইঞ্জিন রুমের ওপরের অংশে আঘাত হেনেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, হামলার ফলে ইঞ্জিন রুমে আগুন লেগেছে এবং চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না। জাহাজটির সব নাবিক নিরাপদে জাহাজের ডান পাশে একত্রিত হয়েছেন।

ডব্লিউএসজে জানিয়েছে, ওমান উপসাগরে হরমুজ প্রণালীর প্রবেশমুখে অবস্থানকালে জাহাজটি হামলার শিকার হয়।

গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এরই মধ্যে উপকূলের কাছাকাছি নির্ধারিত পথ ব্যবহার না করা জাহাজগুলোকে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে তেহরান।

মেরিন ট্র্যাফিক জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রণালীটিতে অন্তত ৮৯টি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। গত বৃহস্পতি ও শনিবার যথাক্রমে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ এবং পানামার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলাসহ এসব ঘটনার বেশিরভাগের জন্যই তেহরানকে দায়ী করা হয়েছে।

গত ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করার পর থেকে নৌপথে জাহাজ চলাচল বেড়েছে। তবে বর্তমানে এ সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর আগের দৈনিক প্রায় ১৩০টি পারাপারের তুলনায় এখনও অনেক কম। মেরিন ট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার অন্তত ৪৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। আর মঙ্গলবার ৩৪টি জাহাজ পার হয়েছে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
15 killed in heavy rain tornado in China

ভারি বৃষ্টি-ঘূর্ণিঝড়ে চীনে প্রাণহানি ১৫

ভারি বৃষ্টি-ঘূর্ণিঝড়ে চীনে প্রাণহানি ১৫ ছবি: সংগৃহীত

টানা কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড় এবং এর ফলে সৃষ্ট বন্যায় চীনের একাধিক অঞ্চল ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাণহানির পাশাপাশি বহু এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে এবং উদ্ধারকর্মীরা দুর্গত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বাত্মক উদ্ধার অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দুর্গত এলাকায় দ্রুত ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দেশটির মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশে। সেখানে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণাঞ্চলের গুয়ানজি প্রদেশেও দুর্যোগের প্রভাব ছিল ব্যাপক। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, সেখানে চারজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আটজনের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি। প্রবল বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান চালাতে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।

চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় ঘন ঘন দেখা যাচ্ছে। প্রবল বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ জনজীবনের পাশাপাশি অবকাঠামো, কৃষি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের উদ্ধারে অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Saudi Arabia has launched a package visa to make travel easier

ভ্রমণ সহজ করতে ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু করল সৌদি আরব

ভ্রমণ সহজ করতে ‘প্যাকেজ ভিসা’ চালু করল সৌদি আরব ফাইল ছবি

পর্যটকদের ভ্রমণ প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে একটি পাইলট (পরীক্ষামূলক) ‘প্যাকেজ ভিসা’ প্রকল্প চালু করেছে সৌদি আরব। এর আওতায় যোগ্য পর্যটক বিমান টিকিট, আবাসন ও অন্যান্য ভ্রমণ সুবিধাসহ সমন্বিত প্যাকেজের অংশ হিসেবে সরাসর ট্যুরিস্ট ভিসা পাবেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষামূলক বাজারে অনুমোদিত ভ্রমণ ও পর্যটন পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই বিশেষ সুবিধা চালু করা হচ্ছে।

প্যাকেজ ভিসার প্রধান বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে যোগ্য ভ্রমণকারীরা একটি মাত্র সমন্বিত প্যাকেজের মাধ্যমেই ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই প্যাকেজের মধ্যে যাওয়া-আসার বিমান ভাড়া, লাইসেন্সপ্রাপ্ত আতিথেয়তা কেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক ভিসা আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

পর্যটকরা চাইলে তাদের মূল ভ্রমণ পরিকল্পনার সঙ্গে বিভিন্ন আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান, বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড ও দর্শনীয় স্থান দেখার অভিজ্ঞতাও যুক্ত করে নিতে পারবেন। এই ব্যবস্থা চালুর ফলে পর্যটকদের আলাদাভাবে ফ্লাইট, হোটেল বুকিং কিংবা ভিসার ব্যবস্থা করার বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হবে না। শুধুমাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং ২৪ ঘণ্টা গ্রাহক সহায়তা দিতে সক্ষম এমন অনুমোদিত ভ্রমণ সংস্থাগুলোই এই সেবা দেওয়ার সুযোগ পাবে।

সৌদি আরবের ভিশন-২০৩০-এর আওতায় পর্যটন খাতের পরিধি ও সুযোগ সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এই প্যাকেজ ভিসা চালু করা হয়েছে। দেশটির পর্যটন মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিমা কর্তৃপক্ষের যৌথ সহযোগিতায় এই সমন্বিত উদ্যোগটি রূপ নিয়েছে।

পর্যটকদের জন্য ই-ভিসা কর্মসূচি চালু করার পর থেকে সৌদি আরব অন-অ্যারাইভাল ভিসা ও স্টপওভার ট্রানজিট ভিসাসহ বেশ কিছু নমনীয় প্রবেশ ব্যবস্থা চালু করেছে। এসব কার্যকর পদক্ষেপের ফলে দেশটিতে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে দেশটি রেকর্ড ২৯ মিলিয়নেরও বেশি আন্তর্জাতিক পর্যটককে স্বাগত জানিয়েছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
9 police officers were killed in a terrorist attack in Pakistan

পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় ৯ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত

পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় ৯ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের জিয়ারাত জেলার একটি বাঁধ প্রকল্পের কাছে অবস্থিত পুলিশের চেকপোস্টে জঙ্গি হামলায় ৯ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। পরবর্তীতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১৫ জন জঙ্গি সদস্য নিহত হয় বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি ও পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন। বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্ড নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকটি থানার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আছেন।

মুখপাত্র শাহিদ রিন্ড বিবৃতিতে বলেন, ‘হামলার পর যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হয়। এতে ফিতনা আল খাওয়ারিজের ১৫ সদস্য নিহত হয়।’ এই যৌথ অভিযানে আধা-সামরিক, পুলিশ ও জঙ্গি দমন বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন বলে জানান তিনি।

পাকিস্তানে নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান সংগঠনের সদস্যদের কথা উল্লেখ করার সময় সরকারি পরিভাষায় ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

সূত্ররা জানান, গভীর রাতে সশস্ত্র ব্যক্তিরা পুলিশের চেকপোস্টে হামলা চালায়। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বেশ কিছুক্ষণ লড়াই চালিয়ে যায় পুলিশের সদস্যরা। তবে এক পর্যায়ে তারা চেকপোস্টের ভেতর ঢুকে পড়তে সক্ষম হন।

জিয়ারাত-এর উপকমিশনার (ডিসি) আবদুল কুদুস আচাকজাই নিহতদের সংখ্যা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি মানজি বাঁধের কাছাকাছি জায়গায় ঘটেছে।

তিনি জানান, এখনো পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা নিখোঁজ আছেন।

বেশ কয়েক বছর ধরে একের পর এক জঙ্গি হামলায় জর্জরিত হচ্ছে বেলুচিস্তান প্রদেশ। জঙ্গিরা মূলত সরকারি বাহিনীর সদস্য ও বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে থাকে।

আফগানিস্তান ও ইরান সীমান্তবর্তী এই প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চলটি পাকিস্তানের সবচেয়ে গোলযোগপূর্ণ এলাকার অন্যতম হিসেবে বিবেচিত।

পাশাপাশি, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো থেকেও নিয়মিত জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটছে। ইসলামাবাদের দাবি, ওইসব হামলার উৎপত্তি আফগানিস্তান থেকে। কাবুল এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে।

এ কারণে গত কয়েক মাসে আফগান ভূখণ্ডে বেশ কয়েক দফা বিমানহামলাও চালিয়েছে পাকিস্তান। তাদের দাবি, জঙ্গিদের বিরুদ্ধেই এসব হামলা পরিচালিত হচ্ছে।

আফগানিস্তানের তালেবান সরকার ও জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অসংখ্য নিরীহ, বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Trump hinted at giving F 35 fighter jets to Turkey

তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প

তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিতব্য দুই দিনব্যাপী ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন এবং সেখানে তিনি দেশটির কাছে পুনরায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন বলে জানা গেছে।

সিএনএন এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ও রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে তিনি তার প্রথম মেয়াদে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাটি প্রত্যাহার করবেন, যা পরবর্তীতে আইনে পরিণত হয়েছিল।

যুদ্ধবিমান বিক্রির ওপর কংগ্রেসের নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্প ঠিক কীভাবে এড়াবেন, তা স্পষ্ট ছিল না। তবে সফরের আগে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের জন্য এমন একটি ‘উপহার’ নিয়ে তিনি তুরস্কে পৌঁছানোর ইচ্ছা রাখেন, যা তাকে খুব খুশি করবে।’

২০১৯ সালে তুরস্ক রাশিয়ার এস-৪০০ নামের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর ট্রাম্প দেশটির ওপর মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্রয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তবে তিনি অনিচ্ছাসত্ত্বেও এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, এবং এই পরিস্থিতির জন্য ওবামা প্রশাসনকে দায়ী করেন ও এরদোয়ানের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা এক অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে বাধ্য হয়েছেন।’

২০২০ সালে কংগ্রেস এই নিষেধাজ্ঞাটিকে আইনে পরিণত করে এবং বলে যে, তুরস্কের কাছে যদি আর এস-৪০০ না থাকে, তবে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানগুলো হস্তান্তর করা যেতে পারে।

এদিকে, কংগ্রেসের অনেক রিপাবলিকান তুরস্ককে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান হস্তান্তরের বিষয়ে সন্দিহান, যেমনটা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও। তিনি এই সপ্তাহে ফক্স নিউজে বলেছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ ‘মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করবে, যা চূড়ান্তভাবে ইসরায়েলি আকাশ শ্রেষ্ঠত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার অবস্থানের দ্বারা নিশ্চিত।’

কিন্তু ট্রাম্প এরদোয়ানকে বন্ধু হিসেবে বিবেচনা করেন এবং আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একটি সমাধান খুঁজে বের করার জন্য বিষয়টি পর্যালোচনা করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ৩৬তম ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনটি তুরস্কের আঙ্কারায় ৭ থেকে ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Irans missile attacks on ships in the Strait of Hormuz

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছবি: সংগৃহীত

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যেও থেমে থাকেনি ইরান। তেহরানের কড়া বার্তার মাঝে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি)। গত সোমবার মধ্যরাতে অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে এই আকস্মিক হামলা চালানো হয়। দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে জাহাজে থাকা কোনো ক্রু বা কর্মকর্তা এই ঘটনায় হতাহত হননি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

এদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনাবিষয়ক সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) মঙ্গলবার ভোরে জানায় অন্য একটি ঘটনার কথা। ওমানের লিমা অঞ্চল থেকে প্রায় ৮ নটিক্যাল মাইল (১৫ কিলোমিটার) পূর্ব দিকে সমুদ্রসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র বা দূরপাল্লার বস্তু আঘাত হেনেছে। দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হওয়া ওই ট্যাংকারটির বাম দিকে (পোর্ট সাইড) আঘাত লাগার পরপরই সেখানে আগুন ধরে যায়। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সেখানে কোনো হতাহত কিংবা সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পরিবেশ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে তীব্র সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা নিরসনে এবং কূটনীতির সুযোগ দিতে দুই মাসের (৬০ দিন) একটি যুদ্ধবিরতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ফুরিয়ে আসার পর গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা কোনো স্থায়ী শান্তির আলো না দেখে শেষ হয়। এই কূটনৈতিক ব্যর্থতা এবং খামেনির দাফন শেষ হওয়ার পরপর সমুদ্রে নতুন করে এই হামলার ঘটনা ঘটল।

ঠিক এই পরিস্থিতিতে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্প হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে আসবে, অন্যথায় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এ কাজ শেষ হবে।’

সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল তাদের হাতে পাওয়া একটি অডিও রেকর্ডিংয়ের সূত্র ধরে জানিয়েছে, গত সপ্তাহের শেষদিকে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আইআরজিসি সামুদ্রিক রেডিওর মাধ্যমে ওই রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে হুমকি দিয়ে বলেছিল, আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শত্রুদের আঘাত হানার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আক্রান্ত জাহাজগুলোর মধ্যে একটির পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। সেটি হলো কাতারের এলএনজি শিল্পের রাষ্ট্রীয় নৌপরিবহন সংস্থা ‘নাকিলাত’-এর মালিকানাধীন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনকারী ট্যাংকার আল রেখায়াত। ওমান উপসাগরের প্রণালীর মুখে থাকা অবস্থায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুমের ওপরের অংশে ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানে।

জাহাজ থেকে পাঠানো একটি জরুরি বার্তার রেকর্ডিংয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে গেছে এবং পুরো জায়গা ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে ক্ষতির সঠিক পরিমাণ অনুমান করা যাচ্ছে না। তবে সব ক্রু সুরক্ষিত আছেন এবং তারা জাহাজের ডান দিকে আশ্রয় নিয়েছেন।

কোম শহরে পৌঁছেছে খামেনির মরদেহ

ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মরদেহ পবিত্র নগরী কোমে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সেখানে তার স্মরণে একটি বিশাল শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রেস টিভি মঙ্গলবার সকালে খামেনির মরদেহ বহনকারী একটি হেলিকপ্টার রাজধানী তেহরানের দক্ষিণের শহর কোমে অবতরণের দৃশ্য সম্প্রচার করে।

এর আগে, টানা তৃতীয় দিনের মতো তেহরানের রাজপথ ছিল শোকার্ত মানুষের দখলে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্য। তাদের মরদেহ বহনকারী একটি ট্রাক তেহরানের প্রধান প্রধান সড়ক হয়ে আজাদি স্কয়ারের দিকে এগিয়ে যায়।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, এই শোকযাত্রায় লাখ লাখ মানুষের ঢল নেমেছিল, যা ১৯৮৯ সালে ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ঐতিহাসিক জানাজা স্মরণ করিয়ে দেয়।

কালো পোশাক পরা লাখ লাখ মানুষ তাদের নেতার কফিনের ওপর ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এই কফিনগুলোর মধ্যে খামেনির মাত্র ১৪ মাস বয়সি নাতনির একটি ছোট্ট কফিনও ছিল, শিশুটিও খামেনির সঙ্গে হামলায় নিহত হয়।

জানাজায় অংশ নেওয়া হামিদ নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানকে টুকরো টুকরো করতে চেয়েছিল, কিন্তু আমাদের নেতা তা হতে দেননি। তার অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে আমরা এসেছি।’ মারজিয়া নামের এক নারী বলেন, ‘আমরা শহীদ নেতাকে বলতে এসেছি, আপনার রক্ত বৃথা যাবে না। আমরা আপনার প্রতি আবারও আনুগত্যের শপথ নিচ্ছি।’

তবে বাবার জানাজা ও শোকযাত্রায় এখনও দেখা মেলেনি খামেনির ছেলে তথা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির। বাবার মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি পুরোপুরি আড়ালে আছেন। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মোহাম্মদ ইসলামি এর কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে এখন অত্যন্ত ভঙ্গুর এক যুদ্ধবিরতি চলছে। এই মুহূর্তে জটিল সব বিষয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে। তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নতুন সর্বোচ্চ নেতার পক্ষে এভাবে জনসমক্ষে আসা সম্ভব নয়।’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
End of all speculations the dead Ahmadinejad came to the public

সব জল্পনার অবসান: জনসমক্ষে এলেন ‘নিহত’ আহমাদিনেজাদ

সব জল্পনার অবসান: জনসমক্ষে এলেন ‘নিহত’ আহমাদিনেজাদ ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকযাত্রায় জনসমক্ষে হাজির হয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। গত সোমবার রাজধানী তেহরানে কালো জ্যাকেট পরে, মুখে মাস্ক লাগিয়ে শোকাহত মানুষের ভিড়ের মধ্যে হাঁটতে দেখা যায় তাকে।

যুদ্ধের প্রথম দিনই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই নিহত হন। সে সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় ঘনিষ্ঠ কয়েকটি গণমাধ্যমে ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা আহমাদিনেজাদও ‘নিহত’ হয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করা হয়েছিল।

ধারণা করা হয়েছিল, তার বাড়ির কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানায় তিনি মারা গেছেন। এরপর কয়েক মাস তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তার ভাগ্য নিয়ে সরকারিভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্যও দেওয়া হয়নি। ফলে যুদ্ধের শুরুর দিককার বিশৃঙ্খলার মধ্যে তাকে ঘিরে অনিশ্চয়তা থেকে যায়।

খামেনির শোকযাত্রায় ইরানের জীবিত অন্য দুই সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি ও হাসান রুহানি অনুপস্থিত ছিলেন— এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর অবশেষে জনসমক্ষে আহমাদিনেজাদের দেখা মিলল। সমালোচকদের দাবি, তাদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি।

শোকযাত্রায় ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের অনেকেই অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফসহ মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য।

তবে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এবারও জনসমক্ষে আসেননি। বাবার উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তাকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

গত রোববার খামেনির জানাজার নামাজে সামনের সারিতে দাঁড়িয়েছিলেন তার তিন ছেলে—মোস্তাফা, মাসউদ ও মেইসাম। বাবার নিহত হওয়ার পর এই প্রথম তারা জনসমক্ষে উপস্থিত হন। এ সময় তাদের আবেগাপ্লুত ও অশ্রুসিক্ত দেখা যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা ভিডিওতে রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রজুড়ে মানুষের ঢল দেখা যায়। কর্তৃপক্ষের ধারণা, জানাজা ও শোকযাত্রায় প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে।

এ সময় শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষজন স্লোগান দেন, ‘আমার শহীদ নেতা, আপনার পথচলা অব্যাহত থাকবে। আমার শহীদ পিতা, আপনার পথচলা অব্যাহত থাকবে।’

শোকযাত্রায় খামেনির কফিনটি ছিল ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত তার পরিবারের সদস্যদের কফিনও একই ট্রাকে রাখা হয়।

গত শনিবার শুরু হওয়া রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে। এরপর খামেনির মরদেহ তার জন্মস্থান মাশহাদে অবস্থিত ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে। এর আগে, ইরানের কোম এবং ইরাকের নাজাফ ও কারবালায়ও পৃথক শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Saudi plans to extend oil pipeline to Red Sea

তেলের পাইপলাইন লোহিত সাগর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সৌদির

তেলের পাইপলাইন লোহিত সাগর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সৌদির ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরব লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত তাদের অপরিশোধিত তেল পরিবহনের পাইপলাইনের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এর ফলে দেশটি এবং সম্ভব হলে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম না করেই আরও বেশি তেল পরিবহন করতে পারবে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত পাঁচটি সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এটি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে প্রতিদিন ৭০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল পরিবহন করতে পারে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গত মেতে বলেছিলেন, প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পশ্চিম উপকূলের শোধনাগারগুলোতে সরবরাহ করা হয় এবং প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানির জন্য ব্যবহার করা হয়।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাইপলাইনের সক্ষমতা প্রতিদিন আরও ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত সম্ভাব্য বৃদ্ধির বিষয়ে সৌদি আরব তার কিছু প্রতিবেশীর সাথে প্রাথমিক আলোচনা করছে।

আরামকোর পরিকল্পিত সক্ষমতা বৃদ্ধির এই প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়ন নাকি একটি নতুন পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে, তা স্পষ্ট নয়। একটি সূত্র জানিয়েছে, এই সক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যে পেট্রোলিয়াম বা তেলজাত পণ্যের জন্য একটি ছোট আকারের দ্বিতীয় পাইপলাইনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

কুয়েত, বাহরাইন এবং কাতার—সবারই হরমুজ প্রণালী এড়ানোর মতো বিকল্প পথের অভাব রয়েছে, অন্যদিকে বিরোধ এবং বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তুরস্কের সাথে ইরাকের পাইপলাইনটি তার সক্ষমতার চেয়ে অনেক কম কার্যকর রয়েছে।

কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ নওয়াফ আল-সাবাহ গত মাসে আটলান্টিক কাউন্সিল গ্লোবাল এনার্জি ফোরামে বলেছিলেন, ‘কুয়েতের তেলের ব্যারেলগুলো সামঞ্জস্য করার জন্য আমাদের ভাই সৌদি আরব এবং আমিরাতের সাথে তাদের বিদ্যমান পাইপলাইন ব্যবস্থা কীভাবে সম্প্রসারণ করা যায় তা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি।’

দুটি সূত্র জানিয়েছে, এই সম্প্রসারণ প্রতিদিন ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ ব্যারেলের জন্য হতে পারে, যেখানে পরিশোধিত তেলের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, এটি সম্পন্ন হতে কয়েক বছর সময় লাগবে, শত শত কোটি ডলার খরচ হবে এবং সৌদি অপরিশোধিত তেলের মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে।

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধের কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উৎপাদকরা প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল, যার ফলে তেলের দাম অনেক বেড়ে যায়। গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার একটি প্রাথমিক চুক্তির পর তেল প্রবাহ আংশিকভাবে পুনরায় শুরু হয়েছে, তবে তা যুদ্ধপূর্ব অবস্থার চেয়ে কম রয়েছে।

গত মেতে ইরাকের তেল উৎপাদন প্রতিদিন ৪৩ লাখ ব্যারেল থেকে কমে ১৫ লাখ ব্যারেলেরও নিচে নেমে আসে, কুয়েত গত মার্চ মাসে চুক্তি বাস্তবায়নে তাদের অক্ষমতা বা ‘ফোর্স ম্যুর’ ঘোষণা করে এবং বাহরাইনের সিত্রা শোধনাগার বেশ কয়েকবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়।

লন্ডনভিত্তিক হার্ডক্যাসল অ্যাডভাইজরির ব্যবস্থাপনা অংশীদার জায়েদ বেলবাগী বলেন, ‘সৌদি আরব, কুয়েত এবং কাতারকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন পাইপলাইন করিডোর বা পথ নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা একটি বৃহত্তর কৌশলগত বাস্তবতা প্রতিফলিত করে। এই সংঘাত আঞ্চলিক দেশগুলোর মনোযোগ সম্পূর্ণভাবে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভর করার বিপদের দিকে কেন্দ্রীভূত করেছে।’

আরামকো এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, অন্যদিকে সৌদি ও বাহরাইন সরকারের যোগাযোগ দপ্তর, ইরাকের তেল মন্ত্রণালয় এবং কাতার এনার্জি মন্তব্যের অনুরোধে অবিলম্বে কোনো সাড়া দেয়নি।

তিনটি সূত্র জানিয়েছে, কাতার—যা মূলত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি করে, তারা আরও বড় প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছে এবং সৌদি আরবের মধ্য দিয়ে পথসহ বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য বিকল্প বিবেচনা করছে।

মন্তব্য

p
উপরে