ইরানের সাবেক সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ যাত্রায় বিশ্বের একশরও বেশি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রয়াত্ব সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি। শতাধিক দেশের প্রতিনিধিরা তাকে শ্রদ্ধা জানাবেন। তার মরদেহ রাখা হয়েছে রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি মসজিদ কমপ্লেক্সে, যা গ্রান্ড মোসাল্লা নামে পরিচিত।
জানা গেছে, শুক্রবার (৩ জুলাই) শুধুমাত্র বিদেশি প্রতিনিধি ও মেহমানদের শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আজ থেকে রাজধানী তেহরানে সাধারণ মানুষের জন্য তার কফিন উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
খামেনির শেষ বিদায়ে আছেন যেসব বিশ্ব নেতা
পাকিস্তান: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এই অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি করতে শেহবাজ বড় ভূমিকা রেখেছেন।
তাজিকিস্তান: তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমোন শুক্রবার তেহরানে এসেছেন।
আর্মেনিয়া: আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাসিনইয়ান তার দেশকে খামেনির শেষ বিদায়ে নেতৃত্বে দিচ্ছেন।
জর্জিয়া: জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখাইল কাভেলাশভিলি খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছে তার সরকার।
তুরস্ক: তুরস্কের ভাইস-প্রেসিডেন্ট কেডভেট ইলমাজ খামেনির জানাজায় অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করেছে আঙ্কারা।
ভারত: ভারত তার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী পবিত্র মার্গেরিতা এবং বিহারের গভর্নর সৈয়দ আতা হাসনাইনকেজ পাঠাচ্ছে। সৈয়দ আতা হাসনাইন শিয়া মুসলিম। তিনি ভারতে বর্তমানে শিয়াদের মধ্যে সর্বোচ্চ পদধারী ব্যক্তি হিসেবে বিহারে গভর্নরের দায়িত্বে আছেন। এর আগে ভারতীয় সেনাবাহিনীর লেফটেনেন্ট জেনারেল ছিলেন তিনি।
এর সঙ্গে ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ এবং মেহবুবা মুফতিও ভারতীয় প্রতিনিধি দলে আছেন।
চীন: ইরানে চীন তাদের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠাচ্ছে সিনিয়র পার্লামেন্টেরিয়ান হি ওই। তিনি দেশটির ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ভাইস চেয়ারম্যানও।
রাশিয়া: রাশিয়া থেকে খামেনির শেষ বিদায়ে যুক্ত হবেন দেশটির সিকিউরিটি কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। তিনি রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন।
আফগানিস্তান: আফগানিস্তান থেকে যাচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। এছাড়া বাণিজ্য বিষয়ক প্রথম উপপ্রধানমন্ত্রী আব্দুল গণি বারাদারও যাচ্ছেন বলে আফগান সংবাদমাধ্যমগুলোতে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ: বাংলাদেশ থেকে খামেনিকে শ্রদ্ধা জানাতে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি হিসেবে থাকছেন স্পিকার হাফিজুদ্দিন আহমেদ। এরসঙ্গে বিরোধী দলের প্রতিনিধিরাও ইরান গেছেন।
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের লাহোরে একটি বেসরকারি কোচিং সেন্টারের ছাদ ধসে পড়ে ১৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। লাহোর শহরের কাহনা শহরতলিতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) এই দুর্ঘটনা ঘটে। কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা শিশুদের অধিকাংশের বয়স সাত থেকে ১১ বছর। এরমধ্যে ১০ বছরের কম বয়সি শিশুরাও রয়েছে। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র ফারুক আহমেদ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, তারা মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে এই দুর্ঘটনার খবর পান। খবর পাওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন করা হয়।
ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৪টি শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ছাদ ধসের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে দুর্ঘটনার পেছনে ভবন কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে নিজের ভাতিজি রয়েছে উল্লেখ করে ৪৫ বছর বয়সি জহির নামের এক ব্যক্তি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে জানান, ভবনটির ছাদের অবস্থা আগে থেকে খুবই জরাজীর্ণ ছিল।
তিনি আরও বলেন, শিশুরা যখন ভেতরে পড়াশোনা করছিল, তখন ছাদের টাইলস মেরামতের কাজ চলছিল। মেরামত কাজের জন্য তারা ছাদের ওপর অনেক বেশি ভারি ওজনের জিনিসপত্র রেখেছিল। মূলত সে কারণে ছাদটি শিশুদের ওপর ধসে পড়ে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে স্তব্ধ প্রতিবেশীরাও। বার্তা সংস্থা এপিকে বলেন, আমরা বুঝতে পারছি না যে, শিশুদের হারানোর শোকে সান্ত্বনা জানাতে প্রথমে কার বাড়িতে যাব।
ভয়াবহ এই ঘটনার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শরিফ এ ঘটনাকে একটি ‘ট্র্যাজেডি’ বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শেয়ার করা এক বার্তায় তিনি বলেন, ১৪টি নিষ্পাপ প্রাণের অকাল মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা।
সেই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, এই ঘটনার জন্য দায়ী প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে।
ছবি: সংগৃহীত
ভেনিজুয়েলায় স্মরণকালের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৯৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। কয়েক হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বিধ্বস্ত ভবনের নিচে আটকে থাকা মানুষের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে গেলেও সীমিত সক্ষমতার কারণে অনেক এলাকায় এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। খবর ডয়চে ভেলের।
দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ সর্বশেষ হতাহতের তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। রাজধানী কারাকাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ভবন ধসে পড়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর থেকেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়েছে। তবুও নিখোঁজ স্বজনদের আশায় বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের পাশেই অপেক্ষা করছেন।
এমনই একজন মিরেল্লা হেরেরা। ধসে পড়া ভবনের পাশে ছেলের খোঁজে অপেক্ষা করছেন তিনি। সিএনএনকে তিনি বলেন, 'এই অপেক্ষা পাগল হয়ে যাওয়ার মতো। নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে পানি খাচ্ছি, হাঁটছি। ভাবছি, তারা যদি এখনও বেঁচে থাকে, তাহলে হয়তো বেরিয়ে আসার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে।’
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রকাশিত স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা ধ্বংস হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের ও জ্যামন ভ্যান ডেন হোক ২৫ জুন সংগ্রহ করা ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেনটিনেল-১ স্যাটেলাইটের রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ মূল্যায়ন দিয়েছেন। তবে তারা এটিকে প্রাথমিক ও দ্রুত মূল্যায়ন বলে উল্লেখ করেছেন।
ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে স্পেনে গত এক মাসে ১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। বুধবার (১ জুলাই) দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, জুন মাসে অতিরিক্ত তাপমাত্রাজনিত কারণে মারা গেছে ১ হাজার ২৮ জন।
এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল কেবল ২০১৭ সালের জুনে। দেশটি তাপমাত্রাজনিত মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করা শুরু করে ২০১৫ সাল থেকে।
নিহতদের প্রায় সবাই বয়োবৃদ্ধ। তীব্র গরমে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ২২ জনের বয়স ৬৫ বছর বা এর বেশি। ৭২০ জনের বয়স ছিল ৮৫ বছরের ওপরে। ১৫ বছরের কম বয়সি মাত্র একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ভূমধ্যসাগরীয় ও উত্তরাঞ্চলের এলাকাগুলোতে। দেশটির এই অঞ্চলের বাসিন্দারা দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের সঙ্গে অভ্যস্ত নন। এলাকাভেদে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু কাতালোনিয়া অঞ্চলে- ২১৮ জন।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২১ জুনের দিকে দাবদাহ শুরু হওয়ার পর থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরের দিনগুলোতে তা অব্যাহত ছিল।
ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনিজুয়েলায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা দিতে দেশটির ভেতরে ৯ শতাধিক সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে পুয়ের্তো রিকো ও কুরাসাওতে আরও প্রায় ৮০০ সামরিক সদস্য অবস্থান করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন।
ডোনোভানের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিয়েছে। তারা বিমানবন্দর পুনরায় সচল করতে সহায়তা করছে এবং আকাশ ও নৌপথে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছে।
এ ছাড়া ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে চার-পাঁচটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মায়ামিভিত্তিক একটি সমন্বিত তথ্যকেন্দ্রের সঙ্গে এসব ড্রোনের তথ্য ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা, সড়ক যোগাযোগ এবং ধসে পড়া স্থাপনার অবস্থান শনাক্তে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ডোনোভান বলেন, সাধারণত আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত সক্ষমতাগুলো এখন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে কাজে লাগানো হচ্ছে। তার মতে, কিছু পরিস্থিতি আকাশপথ থেকে পর্যবেক্ষণ করা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য মাটির পর্যায় থেকে মূল্যায়নের তুলনায় বেশি কার্যকর হতে পারে।
এই সহযোগিতা সাম্প্রতিক সময়ের দুই দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী অভিযান চালিয়ে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার-সংক্রান্ত অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। তবে মাদুরো সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ ছাড়া গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনিজুয়েলার কারাগারভিত্তিক অপরাধী গোষ্ঠী ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’র নেতাকে লক্ষ্য করে আরেকটি অভিযান চালায়। ডোনোভান জানান, ওই অভিযান ভেনিজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সমন্বয়েই পরিচালিত হয়েছিল। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক এখন দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে গত বুধবার এক মিনিটের কম সময়ের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনিজুয়েলায়। এতে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং হাজারো মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে। উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিনে এসে ভেনিজুয়েলার আইনসভার প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এখন পর্যন্ত মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে। সে তিন বছর বয়সি একটি শিশু। যদিও উদ্ধার কার্যক্রম এখনো চলছে।
ডোনোভান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন সদস্যরাই প্রথম ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে যুক্ত হন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক উদ্ধারকারী দল পরিবহনেও সহায়তা করেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স থেকে যাওয়া একটি দল একজন মা ও তার ৯ মাস বয়সি শিশুকে উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ করেছে।
ত্রাণ কার্যক্রমে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে লজিস্টিক ব্যবস্থাপনাকে উল্লেখ করেন ডোনোভান। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক সহায়তা যেন প্রবেশপথে আটকে না পড়ে এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটিই এখন প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে দুর্যোগের শুরুর দিকে পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী দল না পাঠানোয় সমালোচনার মুখে পড়েছে ভেনিজুয়েলা সরকার। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই প্রথম কয়েক দিন হাতে, কোদাল ও দড়ি ব্যবহার করে নিজেরাই স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। গত শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে কিছু এলাকায় ভারী নির্মাণযন্ত্র দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর দৃশ্য দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো মরদেহ উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডোনোভান বলেন, কয়েক দশকের দুর্বল নেতৃত্বের কারণে ভেনিজুয়েলার অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ওষুধ ও হাসপাতালের জনবলসংকট মানুষের অসন্তোষ আরও বাড়াতে পারে।
ছবি: সংগৃহীত
এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে গত জুন মাসে সবচেয়ে শুষ্ক সময় পার করেছে ভারত। এর ফলে আসন্ন মৌসুমে কৃষি খাতে চাষাবাদ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বুধবার (১ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, গত ১২ বছরের মধ্যে ভারতে জুন মাসে সবচেয়ে শুষ্ক পরিস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে। ১৯০১ সাল থেকে দেশব্যাপী বৃষ্টিপাতের হিসাব সংরক্ষণ শুরুর পর থেকে জুন মাসকে পঞ্চমবারের মতো সর্বোচ্চ শুষ্ক মাস শনাক্ত করা হয়েছে।
আইএমডির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে ফসলের বীজ বপনের মৌসুমে কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।
সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় জুন মাসের শেষ পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ফসলের আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ধানের বীজ বপনের পরিমাণও প্রায় এক-চতুর্থাংশ হ্রাস পেয়েছে।
ভারতে লাখ লাখ কৃষক ফসল বপনের জন্য মৌসুমি বর্ষার ওপর নির্ভর করেন। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্ষার ধরনে পরিবর্তন এলে তা উৎপাদন ও ফলনের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
ভারতের কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৩০ জুন পর্যন্ত কৃষকরা ১ কোটি ৮২ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন ফসল বপন করেছেন। গত বছরের একই সময়ে ২ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে ফসল বপন করা হয়েছিল।
ভারতের প্রধান গ্রীষ্মকালীন ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, ডাল, মোটা শস্য, তৈলবীজ, তুলা, আখ ও পাট। এসব ফসল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ভারতের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭০ শতাংশ এই মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে হয়ে থাকে।
ভারতের কেরালা রাজ্যে সাধারণত ১ জুন বর্ষার আগমন ঘটে। এরপর এটি ধীরে ধীরে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়। চলতি বছরে বর্ষার আগমন তিন দিন বিলম্বিত হয়েছে। এ ছাড়া পশ্চিম ভারতের কিছু অংশে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বর্ষার অগ্রগতি মন্থর ছিল। এতে কয়েকটি কৃষিপ্রধান অঞ্চলে জমি প্রস্তুত ও বীজ বপনে বিলম্ব হয়েছে।
প্রকৃতির এ পরিবর্তনের ফলে ধান রোপণের গতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কৃষকরা চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ২৫ দশমিক ৮ লাখ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৪ লাখ হেক্টর। ফলে ধান রোপণ প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে।
ভারতের মোট আবাদি জমির প্রায় অর্ধেকেরই কোনো নির্ভরযোগ্য সেচব্যবস্থা নেই। এসব জমির চাষাবাদ মূলত বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। তাই লাখ লাখ কৃষকের জন্য সময়মতো বর্ষাকাল শুরু হওয়া এবং সারা দেশে এর বিস্তৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপর্যাপ্ত বর্ষার কারণে দেশে তৈলবীজের উৎপাদনও কমে যেতে পারে। ফলে আমদানিকৃত ভোজ্যতেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা আরও বাড়বে।
জুন মাসের অস্বাভাবিক শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ফসল চাষের শুরুতেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আইএমডি জুন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে ৯২ শতাংশ বৃষ্টিপাতের কথা জানিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই পূর্বাভাসের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আইএমডির মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বলেন, ১৯০১ সালের পর এটি ছিল ভারতের পঞ্চম শুষ্কতম জুন এবং গত ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক। এর চেয়ে ১৯০৫, ১৯২৬, ২০০৯ ও ২০১৪ সালের জুন মাস আরও বেশি শুষ্ক ছিল।
বিবিসি জানিয়েছে, কৃষকরা এখন জুলাই মাসের আবহাওয়ার দিকে নজর রাখছেন। কারণ এটি ভারতের বর্ষা মৌসুমের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল মাস। এ মাসেই মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হয়ে থাকে। সরকার জানিয়েছে, দুর্বল মৌসুমি বায়ু ও সম্ভাব্য এল নিনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেছেন, কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের ঝুঁকিতে থাকা ৩১৫টি জেলা চিহ্নিত করেছে। এসব এলাকার জন্য স্বল্পমেয়াদি ফসল, কম পানিনির্ভর জাত এবং পানি সংরক্ষণসহ জরুরি পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা কোনো সংকটের জন্য অপেক্ষা না করে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
ছবি: সংগৃহীত
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়মিত সাব রেজিষ্টার কর্মরত না থাকায় চরম ভোগান্তির পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা। জমির দলিল করতে এসে দিনের পর দিন ঘুরেও কাঙিক্ষত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ফলে বড় অংকের রাজস্বও হারাচ্ছে সরকার।
জানা গেছে, সাব-রেজিষ্ট্রি মোর্শেদ মিলন গত ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলায় বদলি হয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ডিমলা উপজেলার সাবরেজিষ্টার কে এম সুজাউদ্দিন। তিনি ৫০ থেকে ৫৫ কিলোমিটার দুর থেকে এ উপজেলায় এসে সপ্তাহে দুই দিন দায়িত্ব পালন করেন। এর পর তিনি দুই মাসের প্রশিক্ষণে গেলে আবারো অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন জেলা সদরের সাব রেজিষ্টার মো. আবদুল্লাহ আল মাসুম। সর্বশেষ এ বছরের ১৬ জুন থেকে আবারো কেএম সুজাউদ্দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
দলিল লেখকরা জানান, নিয়মিত অফিসার না থাকার কারণে সপ্তাহে দুইদিন জমি রেজিষ্ট্রি করতে গেলে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ব্যাংক ড্রাফট, জমির কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জোগাড় করতেই বেলা শেষ হয়ে যায়। ওইদিন কোন কারণে জমি রেজিষ্ট্রি না হলে পরের সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আবার কাগজে কোন ত্রুটি ধরা পরলে পরের সপ্তাহেও দলিল হয় না। শুধু তাই নয় বেলা ১১টা নাগাদ কাগজপত্র জমা করলে বিকাল বা সন্ধ্যা নাগাদ ডাক পরে। এসব দুভোর্গের কারণে জমির মালিকরা জমি বেচাকেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।
বুধবার (১ জুলাই) জমি বিক্রি করতে আসা বড়ভিটা ইউনিয়নের খাদেমুল ইসলাম তিনি বলেন, গত তিন সপ্তাহ ধরে আসছি আর ফেরত যাচ্ছি। আজকেও এসে জানতে পারি আজ নাকি ব্যাংক বন্ধ এ কারণে জমির দলিল হবে না।
অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব রেজিষ্টার কেএম সুজাউদ্দিন বলেন, প্রতিদিন শতাধিক জমি রেজিষ্ট্রি করা হতো। আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। দুইদিন দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা রয়েছে। দুইদিনে ২শ থেকে আড়াইশ দলিল রেজিষ্ট্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া ডিমলা থেকে কিশোরগঞ্জ উপজেলার দুরত্ব বেশি হওয়ার কারনে আমি নিজেও ভোগান্তিতে পরেছি।
নীলফামারী জেলা রেজিষ্টার সোহেল রানা মিলন বলেন, ৬ উপজেলার মধ্যে ৭টি সাবরেজিষ্টার অফিস রয়েছে। সাব রেজিষ্টার কর্মরত রয়েছে চারজন। এর মধ্যে তিনজন ৭টি সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালন করছে আর ডোমার উপজেলায় কর্মরত সাব রেজিষ্টার লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে অফিসারদের ভোগান্তির পাশাপাশি জমির ক্রেতা বিক্রেতারা হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। অফিসার কম থাকায় তারা কাঙিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না বলে স্বীকার করেছেন। সেই সাথে দলিল লেখক, ভেন্ডারসহ সকলেই তাদের পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না বলে আবারও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতেও দ্বিধা করবে না তেল আবিব।
ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েল গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। তার ভাষায়, ইসরায়েল নিজেদের উদ্যোগেই দেশকে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।’ ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমার আশা তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষর করেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়।
চুক্তিটির লক্ষ্য ছিল দীর্ঘ কয়েক মাসের সংঘাত ও উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান খুঁজে বের করা। এর মধ্যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে শুরু থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সমঝোতা নিয়ে সন্দেহ ও আপত্তি প্রকাশ করে আসছে ইসরায়েল। দেশটির নেতৃত্বের দাবি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।
ইসরায়েলি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর আগেও একাধিকবার বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা এককভাবেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে প্রস্তুত। নেতানিয়াহুর সর্বশেষ মন্তব্যকে সেই অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইসরায়েলের এই বক্তব্য নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে।
মন্তব্য