× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
1000 dead in Spain amid Europe wide heatwave
google_news print-icon

ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহের মধ্যে স্পেনে মৃত্যু ছাড়াল ১ হাজার

ইউরোপজুড়ে-তাপপ্রবাহের-মধ্যে-স্পেনে-মৃত্যু-ছাড়াল-১-হাজার
ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপজুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে স্পেনে গত এক মাসে ১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। বুধবার (১ জুলাই) দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, জুন মাসে অতিরিক্ত তাপমাত্রাজনিত কারণে মারা গেছে ১ হাজার ২৮ জন।

এর আগে এমন ঘটনা ঘটেছিল কেবল ২০১৭ সালের জুনে। দেশটি তাপমাত্রাজনিত মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করা শুরু করে ২০১৫ সাল থেকে।

নিহতদের প্রায় সবাই বয়োবৃদ্ধ। তীব্র গরমে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১ হাজার ২২ জনের বয়স ৬৫ বছর বা এর বেশি। ৭২০ জনের বয়স ছিল ৮৫ বছরের ওপরে। ১৫ বছরের কম বয়সি মাত্র একজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ভূমধ্যসাগরীয় ও উত্তরাঞ্চলের এলাকাগুলোতে। দেশটির এই অঞ্চলের বাসিন্দারা দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের সঙ্গে অভ্যস্ত নন। এলাকাভেদে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু কাতালোনিয়া অঞ্চলে- ২১৮ জন।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২১ জুনের দিকে দাবদাহ শুরু হওয়ার পর থেকে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। পরের দিনগুলোতে তা অব্যাহত ছিল।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Death toll from twin earthquakes in Venezuela rises to 1943

ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯৪৩

ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯৪৩ ছবি: সংগৃহীত

ভেনিজুয়েলায় স্মরণকালের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১ হাজার ৯৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ। কয়েক হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বিধ্বস্ত ভবনের নিচে আটকে থাকা মানুষের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা কাজ চালিয়ে গেলেও সীমিত সক্ষমতার কারণে অনেক এলাকায় এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। খবর ডয়চে ভেলের।

দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ সর্বশেষ হতাহতের তথ্য জানান। তিনি বলেন, ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। রাজধানী কারাকাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ভবন ধসে পড়ার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর থেকেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। সময়ের সঙ্গে সেই দুর্গন্ধ আরও তীব্র হয়েছে। তবুও নিখোঁজ স্বজনদের আশায় বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের পাশেই অপেক্ষা করছেন।

এমনই একজন মিরেল্লা হেরেরা। ধসে পড়া ভবনের পাশে ছেলের খোঁজে অপেক্ষা করছেন তিনি। সিএনএনকে তিনি বলেন, 'এই অপেক্ষা পাগল হয়ে যাওয়ার মতো। নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে পানি খাচ্ছি, হাঁটছি। ভাবছি, তারা যদি এখনও বেঁচে থাকে, তাহলে হয়তো বেরিয়ে আসার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার প্রকাশিত স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের ভূমিকম্পে প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা ধ্বংস হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের ও জ্যামন ভ্যান ডেন হোক ২৫ জুন সংগ্রহ করা ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেনটিনেল-১ স্যাটেলাইটের রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ মূল্যায়ন দিয়েছেন। তবে তারা এটিকে প্রাথমিক ও দ্রুত মূল্যায়ন বলে উল্লেখ করেছেন।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The United States has deployed more than 900 US troops in relief and rescue operations in Venezuela

ভেনিজুয়েলায় ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতায় ৯ শতাধিক মার্কিন সেনা মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের

ভেনিজুয়েলায় ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতায় ৯ শতাধিক মার্কিন সেনা মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের ছবি: সংগৃহীত

ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনিজুয়েলায় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা দিতে দেশটির ভেতরে ৯ শতাধিক সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে পুয়ের্তো রিকো ও কুরাসাওতে আরও প্রায় ৮০০ সামরিক সদস্য অবস্থান করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান জেনারেল ফ্রান্সিস ডোনোভান রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

ডোনোভানের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিয়েছে। তারা বিমানবন্দর পুনরায় সচল করতে সহায়তা করছে এবং আকাশ ও নৌপথে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছে।

এ ছাড়া ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে চার-পাঁচটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মায়ামিভিত্তিক একটি সমন্বিত তথ্যকেন্দ্রের সঙ্গে এসব ড্রোনের তথ্য ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা, সড়ক যোগাযোগ এবং ধসে পড়া স্থাপনার অবস্থান শনাক্তে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ডোনোভান বলেন, সাধারণত আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত সক্ষমতাগুলো এখন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে কাজে লাগানো হচ্ছে। তার মতে, কিছু পরিস্থিতি আকাশপথ থেকে পর্যবেক্ষণ করা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য মাটির পর্যায় থেকে মূল্যায়নের তুলনায় বেশি কার্যকর হতে পারে।

এই সহযোগিতা সাম্প্রতিক সময়ের দুই দেশের সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী অভিযান চালিয়ে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে মাদক পাচার-সংক্রান্ত অভিযোগে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনা ছিল। তবে মাদুরো সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ ছাড়া গত এক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনিজুয়েলার কারাগারভিত্তিক অপরাধী গোষ্ঠী ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’র নেতাকে লক্ষ্য করে আরেকটি অভিযান চালায়। ডোনোভান জানান, ওই অভিযান ভেনিজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সমন্বয়েই পরিচালিত হয়েছিল। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক এখন দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে গত বুধবার এক মিনিটের কম সময়ের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে ভেনিজুয়েলায়। এতে বহু ভবন ধসে পড়ে এবং হাজারো মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে। উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিনে এসে ভেনিজুয়েলার আইনসভার প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, এখন পর্যন্ত মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে। সে তিন বছর বয়সি একটি শিশু। যদিও উদ্ধার কার্যক্রম এখনো চলছে।

ডোনোভান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন সদস্যরাই প্রথম ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে যুক্ত হন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক উদ্ধারকারী দল পরিবহনেও সহায়তা করেছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স থেকে যাওয়া একটি দল একজন মা ও তার ৯ মাস বয়সি শিশুকে উদ্ধারের ভিডিও প্রকাশ করেছে।

ত্রাণ কার্যক্রমে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে লজিস্টিক ব্যবস্থাপনাকে উল্লেখ করেন ডোনোভান। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক সহায়তা যেন প্রবেশপথে আটকে না পড়ে এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছায়, সেটিই এখন প্রধান লক্ষ্য।

এদিকে দুর্যোগের শুরুর দিকে পর্যাপ্ত ভারী যন্ত্রপাতি ও উদ্ধারকারী দল না পাঠানোয় সমালোচনার মুখে পড়েছে ভেনিজুয়েলা সরকার। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই প্রথম কয়েক দিন হাতে, কোদাল ও দড়ি ব্যবহার করে নিজেরাই স্বজনদের উদ্ধারের চেষ্টা করেন। গত শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে কিছু এলাকায় ভারী নির্মাণযন্ত্র দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরানোর দৃশ্য দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিদেশি উদ্ধারকারী দলগুলো মরদেহ উদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ডোনোভান বলেন, কয়েক দশকের দুর্বল নেতৃত্বের কারণে ভেনিজুয়েলার অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ওষুধ ও হাসপাতালের জনবলসংকট মানুষের অসন্তোষ আরও বাড়াতে পারে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
India experienced its driest period in June last year

গত জুন মাসে সবচেয়ে শুষ্ক সময় পার করেছে ভারত

গত জুন মাসে সবচেয়ে শুষ্ক সময় পার করেছে ভারত ছবি: সংগৃহীত

এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে গত জুন মাসে সবচেয়ে শুষ্ক সময় পার করেছে ভারত। এর ফলে আসন্ন মৌসুমে কৃষি খাতে চাষাবাদ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বুধবার (১ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, গত ১২ বছরের মধ্যে ভারতে জুন মাসে সবচেয়ে শুষ্ক পরিস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে। ১৯০১ সাল থেকে দেশব্যাপী বৃষ্টিপাতের হিসাব সংরক্ষণ শুরুর পর থেকে জুন মাসকে পঞ্চমবারের মতো সর্বোচ্চ শুষ্ক মাস শনাক্ত করা হয়েছে।

আইএমডির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে ফসলের বীজ বপনের মৌসুমে কৃষকদের দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় জুন মাসের শেষ পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন ফসলের আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ধানের বীজ বপনের পরিমাণও প্রায় এক-চতুর্থাংশ হ্রাস পেয়েছে।

ভারতে লাখ লাখ কৃষক ফসল বপনের জন্য মৌসুমি বর্ষার ওপর নির্ভর করেন। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্ষার ধরনে পরিবর্তন এলে তা উৎপাদন ও ফলনের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

ভারতের কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ৩০ জুন পর্যন্ত কৃষকরা ১ কোটি ৮২ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন ফসল বপন করেছেন। গত বছরের একই সময়ে ২ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে ফসল বপন করা হয়েছিল।

ভারতের প্রধান গ্রীষ্মকালীন ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, ডাল, মোটা শস্য, তৈলবীজ, তুলা, আখ ও পাট। এসব ফসল দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। ভারতের বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় ৭০ শতাংশ এই মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে হয়ে থাকে।

ভারতের কেরালা রাজ্যে সাধারণত ১ জুন বর্ষার আগমন ঘটে। এরপর এটি ধীরে ধীরে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়। চলতি বছরে বর্ষার আগমন তিন দিন বিলম্বিত হয়েছে। এ ছাড়া পশ্চিম ভারতের কিছু অংশে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বর্ষার অগ্রগতি মন্থর ছিল। এতে কয়েকটি কৃষিপ্রধান অঞ্চলে জমি প্রস্তুত ও বীজ বপনে বিলম্ব হয়েছে।

প্রকৃতির এ পরিবর্তনের ফলে ধান রোপণের গতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কৃষকরা চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ২৫ দশমিক ৮ লাখ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৩৪ দশমিক ৪ লাখ হেক্টর। ফলে ধান রোপণ প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে।

ভারতের মোট আবাদি জমির প্রায় অর্ধেকেরই কোনো নির্ভরযোগ্য সেচব্যবস্থা নেই। এসব জমির চাষাবাদ মূলত বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। তাই লাখ লাখ কৃষকের জন্য সময়মতো বর্ষাকাল শুরু হওয়া এবং সারা দেশে এর বিস্তৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপর্যাপ্ত বর্ষার কারণে দেশে তৈলবীজের উৎপাদনও কমে যেতে পারে। ফলে আমদানিকৃত ভোজ্যতেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা আরও বাড়বে।

জুন মাসের অস্বাভাবিক শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে ফসল চাষের শুরুতেই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আইএমডি জুন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে ৯২ শতাংশ বৃষ্টিপাতের কথা জানিয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই পূর্বাভাসের তুলনায় ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে।

আইএমডির মহাপরিচালক মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বলেন, ১৯০১ সালের পর এটি ছিল ভারতের পঞ্চম শুষ্কতম জুন এবং গত ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক। এর চেয়ে ১৯০৫, ১৯২৬, ২০০৯ ও ২০১৪ সালের জুন মাস আরও বেশি শুষ্ক ছিল।

বিবিসি জানিয়েছে, কৃষকরা এখন জুলাই মাসের আবহাওয়ার দিকে নজর রাখছেন। কারণ এটি ভারতের বর্ষা মৌসুমের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল মাস। এ মাসেই মৌসুমি বৃষ্টিপাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হয়ে থাকে। সরকার জানিয়েছে, দুর্বল মৌসুমি বায়ু ও সম্ভাব্য এল নিনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেছেন, কর্তৃপক্ষ স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের ঝুঁকিতে থাকা ৩১৫টি জেলা চিহ্নিত করেছে। এসব এলাকার জন্য স্বল্পমেয়াদি ফসল, কম পানিনির্ভর জাত এবং পানি সংরক্ষণসহ জরুরি পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা কোনো সংকটের জন্য অপেক্ষা না করে আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Kishoreganj sub registry office open 2 days a week buyers and sellers of land suffer

সপ্তাহে ২ দিন সচল কিশোরগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিস, দুর্ভোগে জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা

সপ্তাহে ২ দিন সচল কিশোরগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিস, দুর্ভোগে জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা ছবি: সংগৃহীত

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে নিয়মিত সাব রেজিষ্টার কর্মরত না থাকায় চরম ভোগান্তির পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা। জমির দলিল করতে এসে দিনের পর দিন ঘুরেও কাঙিক্ষত সেবা মিলছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ফলে বড় অংকের রাজস্বও হারাচ্ছে সরকার।

জানা গেছে, সাব-রেজিষ্ট্রি মোর্শেদ মিলন গত ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল সুনামগঞ্জ জেলায় বদলি হয়ে যাওয়ার পর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন ডিমলা উপজেলার সাবরেজিষ্টার কে এম সুজাউদ্দিন। তিনি ৫০ থেকে ৫৫ কিলোমিটার দুর থেকে এ উপজেলায় এসে সপ্তাহে দুই দিন দায়িত্ব পালন করেন। এর পর তিনি দুই মাসের প্রশিক্ষণে গেলে আবারো অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন জেলা সদরের সাব রেজিষ্টার মো. আবদুল্লাহ আল মাসুম। সর্বশেষ এ বছরের ১৬ জুন থেকে আবারো কেএম সুজাউদ্দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

দলিল লেখকরা জানান, নিয়মিত অফিসার না থাকার কারণে সপ্তাহে দুইদিন জমি রেজিষ্ট্রি করতে গেলে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ব্যাংক ড্রাফট, জমির কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জোগাড় করতেই বেলা শেষ হয়ে যায়। ওইদিন কোন কারণে জমি রেজিষ্ট্রি না হলে পরের সপ্তাহের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। আবার কাগজে কোন ত্রুটি ধরা পরলে পরের সপ্তাহেও দলিল হয় না। শুধু তাই নয় বেলা ১১টা নাগাদ কাগজপত্র জমা করলে বিকাল বা সন্ধ্যা নাগাদ ডাক পরে। এসব দুভোর্গের কারণে জমির মালিকরা জমি বেচাকেনায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে।

বুধবার (১ জুলাই) জমি বিক্রি করতে আসা বড়ভিটা ইউনিয়নের খাদেমুল ইসলাম তিনি বলেন, গত তিন সপ্তাহ ধরে আসছি আর ফেরত যাচ্ছি। আজকেও এসে জানতে পারি আজ নাকি ব্যাংক বন্ধ এ কারণে জমির দলিল হবে না।

অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব রেজিষ্টার কেএম সুজাউদ্দিন বলেন, প্রতিদিন শতাধিক জমি রেজিষ্ট্রি করা হতো। আমি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। দুইদিন দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা রয়েছে। দুইদিনে ২শ থেকে আড়াইশ দলিল রেজিষ্ট্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া ডিমলা থেকে কিশোরগঞ্জ উপজেলার দুরত্ব বেশি হওয়ার কারনে আমি নিজেও ভোগান্তিতে পরেছি।

নীলফামারী জেলা রেজিষ্টার সোহেল রানা মিলন বলেন, ৬ উপজেলার মধ্যে ৭টি সাবরেজিষ্টার অফিস রয়েছে। সাব রেজিষ্টার কর্মরত রয়েছে চারজন। এর মধ্যে তিনজন ৭টি সাব রেজিষ্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালন করছে আর ডোমার উপজেলায় কর্মরত সাব রেজিষ্টার লালমনিরহাট জেলার হাতিবান্ধা উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এতে করে অফিসারদের ভোগান্তির পাশাপাশি জমির ক্রেতা বিক্রেতারা হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন। অফিসার কম থাকায় তারা কাঙিক্ষত সেবা পাচ্ছেন না বলে স্বীকার করেছেন। সেই সাথে দলিল লেখক, ভেন্ডারসহ সকলেই তাদের পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Netanyahu warns of military action in Iran

ইরানে সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর

ইরানে সামরিক অভিযানের হুঁশিয়ারি নেতানিয়াহুর বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না বলে আবারও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালাতেও দ্বিধা করবে না তেল আবিব।

ইসরায়েলি টেলিভিশন চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েল গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। তার ভাষায়, ইসরায়েল নিজেদের উদ্যোগেই দেশকে একটি বড় ধরনের নিরাপত্তাঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইসরায়েলের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।’ ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমার আশা তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে স্বাক্ষর করেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়।

চুক্তিটির লক্ষ্য ছিল দীর্ঘ কয়েক মাসের সংঘাত ও উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান খুঁজে বের করা। এর মধ্যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

তবে শুরু থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সমঝোতা নিয়ে সন্দেহ ও আপত্তি প্রকাশ করে আসছে ইসরায়েল। দেশটির নেতৃত্বের দাবি, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।

ইসরায়েলি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর আগেও একাধিকবার বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা এককভাবেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে প্রস্তুত। নেতানিয়াহুর সর্বশেষ মন্তব্যকে সেই অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই ইসরায়েলের এই বক্তব্য নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
US Iran indirect technical talks begin

শুরু হল যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা

শুরু হল যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা শুরু হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দোহায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা চলছে বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে।

সূত্রটি জানায়, বুধবারের (১ জুলাই) কারিগরি বৈঠকের জন্য পরিবেশ তৈরি করতে মার্কিন দূত স্টিভ হুইটেকার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তবে তারা নিজেরা এই আলোচনায় উপস্থিত নেই।

মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের অ্যালেক্স ভ্যাটাঙ্কা আল জাজিরাকে বলেছেন, চুক্তি বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান বিরোধিতা দেখা যাচ্ছে। এই সমঝোতা স্মারকটি কাগজে-কলমে আকর্ষণীয় শোনাচ্ছে, কিন্তু বাস্তব পদক্ষেপ নেই।

এদিকে এখনো ইরানের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ)। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান যুদ্ধবিরতিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং দ্রুত সংঘাত বৃদ্ধির সম্ভাবনার কারণে ইরাক ও লেবাননের ওপর দিয়েও ফ্লাইট রুট ব্যবহার করা উচিত নয় বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সংস্থাটি মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উড্ডয়নের সময় বাণিজ্যিক বিমানগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। ইএএসএ জানিয়েছে, তারা এই অঞ্চলের জন্য তাদের সংঘাতপূর্ণ এলাকা সংক্রান্ত সতর্কতা ১ জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। কিন্তু এখন তা ৮ জুলাই পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে।

মুখোমুখি বসছেন না শীর্ষ কূটনীতিকরা

কাতারের রাজধানী দোহায় দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিক বা মধ্যস্থতাকারীরা এই মুহূর্তে সরাসরি কোনো মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন না। আল জাজিরার নির্ভরযোগ্য কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দুই দেশের প্রতিনিধি দল এখন কাতারে অবস্থান করছে। তবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনার টেবিল প্রস্তুত হয়নি। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে এই কারিগরি আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূলত অবরুদ্ধ বা ফ্রিজড হওয়া ইরানি তহবিল ছাড়করণের বিষয়গুলো নিয়ে তাদের বিশেষজ্ঞ দল দোহায় কাজ করছে। অন্যদিকে কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে মার্কিন প্রতিনিধিরাও সেখানে অবস্থান করছেন। তবে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের অনাস্থা ও হরমুজ প্রণালীতে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এড়ানো হচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, আলোচনা চলমান রয়েছে এবং তারা আশা করছেন সমঝোতা স্মারকের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই জটিল বিষয়গুলোর একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান আসবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিতে ইরানের কঠোর শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে বড় আলটিমেটাম দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান মধ্যস্থতাকারী মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন সম্প্রতি স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকের পাঁচটি মূল শর্ত ওয়াশিংটন সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত তেহরান কোনো চূড়ান্ত আলোচনায় বসবে না। তেহরানে এক বিবৃতিতে তিনি এই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

গালিবাফের এই কঠোর বার্তা দুই দেশের মধ্যে চলতি মাসের শুরুতে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ নামে পরিচিত অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তির নাজুক পরিস্থিতিকেই ফুটিয়ে তুলেছে। মূলত আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্য অবরোধ প্রত্যাহারের লক্ষ্যেই এই অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে যৌথ কমিটি

গালিবাফের বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অবসান। তিনি উল্লেখ করেন, দ্বিপক্ষীয় এই সমঝোতা স্মারকের মূল শর্ত অনুযায়ী লেবাননে সামরিক অভিযান পুরোপুরি বন্ধ করতে এবং দেশটির সার্বভৌম স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই আঞ্চলিক চুক্তিটি যেন কঠোরভাবে মেনে চলা হয়, তা নিশ্চিত করতে একটি বিশেষায়িত যৌথ পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হচ্ছে বলে জানান গালিবাফ। এই কমিটিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং লেবাননের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

গালিবাফ বলেন, ‘লেবাননে যুদ্ধ অবসানের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং লেবাননের মধ্যে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হবে। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

চূড়ান্ত আলোচনার আগে শর্তের আলটিমেটাম

৬০ দিনের এই অস্থায়ী অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটিকে একটি স্থায়ী আইনি চুক্তিতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছেন ইরানি স্পিকার। গালিবাফ ঘোষণা করেন, চুক্তির ১, ৪, ৫, ১০ এবং ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত শর্তগুলো ওয়াশিংটনকে অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। এই অনুচ্ছেদগুলোতে মূলত আগ্রাসন বন্ধ করা, নৌঅবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের ওপর থেকে প্রাথমিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এগুলো নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইরান কোনো চূড়ান্ত খসড়া আলোচনায় অংশ নেবে না।

একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক ব্যাংকে আটকে থাকা নিজস্ব অর্থ ফেরত পেতে বিশ্বমঞ্চে জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে তেহরান। গালিবাফ নিশ্চিত করেছেন যে, সমঝোতা স্মারকের ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদের মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়ন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এই প্রক্রিয়াটি সফল করতে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সমন্বয় করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের এই বিপুল অর্থ ধাপে ধাপে ছাড় করার আইনি ও লজিস্টিক প্রক্রিয়াটি নিয়ে খুব শিগগিরই দোহারে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য

p
উপরে