× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Trumps appeal in sexual assault case rejected
google_news print-icon

যৌন নির্যাতন মামলায় ট্রাম্পের আপিল আবেদন খারিজ

যৌন-নির্যাতন-মামলায়-ট্রাম্পের-আপিল-আবেদন-খারিজ
ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলা বাতিলের আবেদন খারিজ করেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত (সুপ্রিম কোর্ট)। ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া রায় বহাল থাকল।

এই মামলা করেছিলেন মার্কিন লেখিকা ও কলামিস্ট ই. জেন ক্যারল, যিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। ট্রাম্পের আইনজীবী দল মামলাটি বাতিলের জন্য সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দাখিল করেছিল।

স্থানীয় সময় সোমবার দেওয়া রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ওই পিটিশন নাকচ করে দেয়। তবে আদালত কেন এই আবেদন খারিজ করা হলো, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালে জেন ক্যারল ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন। তার অভিযোগ, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি ড্রেসিং রুমে ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেন।

২০২৩ সালের মে মাসে নিম্ন আদালত মামলার রায়ে জেন ক্যারলের পক্ষে রায় দেয় এবং ট্রাম্পকে দায়ী করে। এরপর সেই রায় চ্যালেঞ্জ করে ফেডারেল আদালতে আপিল করেন ট্রাম্পের আইনজীবীরা। তবে ফেডারেল আদালতও নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালে এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করা হয়। সর্বশেষ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট সেই আপিল খারিজ করে দেয়, ফলে নিম্ন ও ফেডারেল আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যত বহাল থাকল। সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Gold worth billions of rupees is spreading from the volcano

আগ্নেয়গিরি থেকে ছড়াচ্ছে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ

আগ্নেয়গিরি থেকে ছড়াচ্ছে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ ছবি: সংগৃহীত

আগ্নেয়গিরি থেকে বছরে ছড়াচ্ছে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও বাস্তবেই এমন তথ্য দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, অ্যান্টার্কটিকার গভীরে অবস্থিত মাউন্ট এরেবাস পৃথিবীর অন্য যেকোনো আগ্নেয়গিরির তুলনায় ব্যতিক্রমী। এই আগ্নেয়গিরি থেকেই প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার সমমূল্যের স্বর্ণ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের দক্ষিণতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরিটি বায়ুমণ্ডলে বিশুদ্ধ স্বর্ণের ক্ষুদ্র স্ফটিক নির্গত করে। জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্সে ১৯৯১ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, মাউন্ট এরেবাস থেকে প্রতিদিন প্রায় ৮০ গ্রাম আণুবীক্ষণিক স্বর্ণের স্ফটিক নির্গত হয়।

বর্তমান স্বর্ণের দাম অনুযায়ী, এর মূল্য দৈনিক প্রায় ৬ হাজার ডলার। বছরে এর মূল্য দাঁড়ায় ২০ লাখ ডলারেরও বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৪ কোটি টাকার বেশি। ভৌগোলিকভাবে মাউন্ট এরেবাস দক্ষিণ মেরু থেকে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ কিলোমিটার দূরে রস সাগরের রস দ্বীপে অবস্থিত। আগ্নেয়গিরিটির লাভা থেকে অবিরাম আগ্নেয় গ্যাস নির্গত হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এসব গ্যাস বিশুদ্ধ সোনার আণুবীক্ষণিক কণা বহন করে, যা অ্যান্টার্কটিকার বরফে জমা হওয়ার আগে প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত ভেসে যেতে পারে।

ইলেকট্রন অণুবীক্ষণযন্ত্র ব্যবহার করে গবেষকেরা দেখেছেন, আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত স্বর্ণ সাধারণ ধূলিকণা নয়। কণাগুলো ক্ষুদ্র হলেও সুগঠিত স্ফটিকের আকার ধারণ করে। এর কোনো কোনোটির ব্যাস ৬০ মাইক্রোমিটার পর্যন্ত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগ্নেয়গিরির গ্যাসে স্বর্ণের উপস্থিতি পুরোপুরি অস্বাভাবিক নয়। হাওয়াইয়ের কিলাউয়া, ইতালির মাউন্ট এটনা, আলাস্কার অগাস্টিন আগ্নেয়গিরি এবং মেক্সিকোর এল চিচনসহ বিশ্বের আরও কয়েকটি আগ্নেয়গিরিতেও অল্প পরিমাণে স্বর্ণের সন্ধান পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্লোরিন বা সালফারসমৃদ্ধ যৌগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গরম আগ্নেয় গ্যাসের মাধ্যমে স্বর্ণ ওপরের দিকে উঠে আসে। গ্যাস ঠাণ্ডা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বর্ণ আলাদা হয়ে স্ফটিকে পরিণত হয়।

তবে মাউন্ট এরেবাস অন্য সব আগ্নেয়গিরির তুলনায় অনেকটাই ব্যতিক্রম। এর এই বৈশিষ্ট্যের রহস্য এখনও পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। গবেষকরা এ বিষয়ে দুটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ক্লোরিনসমৃদ্ধ আগ্নেয় গ্যাস বাতাসে ঠাণ্ডা হওয়ার সময় সেখান থেকেই সরাসরি স্বর্ণের স্ফটিক তৈরি হতে পারে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ প্রক্রিয়াটি সহজ নয়। কারণ এসব গ্যাসে স্বর্ণের পরিমাণ অত্যন্ত কম।

আরেকটি তত্ত্ব অনুযায়ী, স্বর্ণের স্ফটিক প্রথমে আগ্নেয়গিরির লাভার হ্রদের উপরিভাগে ধীরে ধীরে তৈরি হয়। পরে আগ্নেয় গ্যাসের সঙ্গে তা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ আবিষ্কারের তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিতভাবে এর ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ফলে বিষয়টি এখনও রহস্যই রয়ে গেছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Tension between India and China is rising over Arunachal

অরুণাচলকে ঘিরে ভারত-চীনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে

অরুণাচলকে ঘিরে ভারত-চীনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশকে ঘিরে চীনের সঙ্গে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে নীরবে রাজ্যের ভূখণ্ড দখলের অভিযোগ করেছে আদিবাসী সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (এনডব্লিউএস)। তাদের দাবি, অরুণাচলের আপার সুবানসিরি জেলার প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকায় ভারতের অভ্যন্তরে ধীরে ধীরে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)। তবে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ২৬ জুন আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনারের কাছে এ সংক্রান্ত স্মারকলিপি জমা দিয়েছে এনডব্লিউএস। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় মানুষ আগে যেসব জায়গা গবাদিপশু চরানো, শিকার করা ও বন থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করতেন, চীনা বাহিনী সেখানে এখন রাস্তা, সেতু এবং সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করেছে।

এনডব্লিউএস পাঁচটি এলাকার তালিকা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ওইং, পানিয়ার (চুজারতা এলাকা), মারপান (মারনাফে), পোত্রাং লেক ও টিনডিংটাং (টিজি)। ২০২০ সাল পর্যন্ত স্থানীয়রা এসব এলাকা ব্যবহার করতেন। কিন্তু বর্তমানে সেখানে চীনা কার্যকলাপ বৃদ্ধির পাওয়ায় পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে ধীরে ধীরে ওই এলাকায় রাস্তা ও সামরিক স্থাপনা নির্মাণ করে চীন তাদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা থাকলেও ধীরে ধীরে জমি হারানোর ঘটনায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছে।

স্মারকলিপির অন্যতম জোরালো একটি অংশে এনডব্লিউএসের প্রেসিডেন্ট কেরু চাদের লিখেছেন, আমাদের পৈতৃক ভূমি, যা ছিল আমাদের শিকারের এলাকা যেখানে আমরা অবাধে বিচরণ করতাম ও বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতাম, এবং আমাদের গবাদি পশুর চারণভূমি, এখন চীনা পিএলএ-র দখলে।

স্মারকলিপিতে এনডব্লিউএসের সভাপতি কেরু চাদের দাবি করেন, আমাদের পূর্বপুরুষদের জমি, শিকারের এলাকা, বনজ সম্পদ সংগ্রহের স্থান ও গবাদিপশুর চারণভূমি এখন চীনা বাহিনীর দখলে। স্থানীয় বিধায়ক নাকাপ নালো বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে সরকারি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

সাবেক বিধায়ক পাকঙ্গা বাগেও রাজ্য সরকারকে বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের নজরে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

অভিযোগ নাকচ ভারতীয় সেনাবাহিনীর

চীনা বাহিনী দ্বারা অরুণাচল প্রদেশে ভূখণ্ড দখলের আদিবাসী সংগঠন নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির করা অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ভারতের সেনাবাহিনী। তারা এই দাবিকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘আমরা কিছু সংবাদমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন দেখেছি যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে, চীনা পিএলএ অরুণাচল প্রদেশে অনুপ্রবেশ করে সেনা ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এই প্রতিবেদনগুলো মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।’

তদন্তের আশ্বাস রাজ্য সরকারের

রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার অরুণাচলের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মামা নাটুং জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যে অভিযোগ তোলা হয়েছে সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। জেলা প্রশাসন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় জনগণ এবং পঞ্চায়েত কমিটিগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তিতে যাবতীয় পদক্ষেপ করা হবে।

মামা নাটুং আরও বলেন, যদি সত্যিই কোনও অবৈধ দখল হয়ে থাকে, তবে তা খুবই অন্যায় হবে। এলাকায় আসলে কী ঘটছে তা খুঁজে বের করতে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। অরুণাচল প্রদেশকে কেন্দ্র করে ভারত ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। ভারত ম্যাকমোহন লাইনকে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) হিসেবে মানলেও চীন তা স্বীকৃতি দেয় না।

বেইজিং অরুণাচল প্রদেশকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ বা ‘জাংনান’ নামে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। অন্যদিকে ভারতের দাবি, অরুণাচল প্রদেশ দেশটির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ বিরোধকে ঘিরেই দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The US court sentenced the Chinese billionaire to 30 years in prison

চীনা ধনকুবেরকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিল মার্কিন আদালত

চীনা ধনকুবেরকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিল মার্কিন আদালত ছবি: সংগৃহীত

বিলিয়ন ডলার আত্মসাত ও প্রতারণার মামলায় চীনা এক ধনকুবেরকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যবসায়ীর নাম গুও ওয়েনগুই, যাকে একসময় চীনের সেরা ধনীদের একজন বলে বিবেচনা করা হতো।

চীনে বসবাসকালে গুও রিয়েল এস্টেট বা আবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ২০১৭ সালে সেখান থেকে পালিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। অভিযোগগুলো মিথ্যা বলে দাবি করে আসছিলেন গুও। একই সঙ্গে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তিনি নিজেকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টি, তথা চীনের সরকারের একজন কড়া সমালোচক হিসেবে নিজেকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেন।

অনলাইনে একনিষ্ঠ কিছু অনুসারীও পেয়ে যান এই ধরকুবের। কিন্তু পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা, অর্থ আত্মসাত এবং অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠে। চীনে যারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন, ব্যবসায়ী গুও তাদের শোষণ করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাত করেছেন বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালতের বিচারক অ্যানালিসা টরেস।

আত্মসাৎ করা অর্থ তিনি নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য ব্যয় করেছেন বলেও জানানো হয়েছে। ব্যবসায়ী গুও তার সমর্থকদের কাছে মাইলস গুও এবং হো ওয়ান কোয়োকসহ আরও অনেক নামে পরিচিত। রায় ঘোষণার তাদের অনেকেই আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত ছিলেন।

রায়ের পর বাদীপক্ষের আইনজীবী শন এস বাকলি বলেন, ‘লোভে পড়ে গুও হাজার হাজার মানুষের বিশ্বাসের অপব্যবহার করেছেন।’ বাকলি আরও বলেন, ‘আজকের এই রায় দেখিয়ে দিয়েছে যে, খ্যাতি ও সম্পদ আপনাকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না এবং যারা নিজের সুখ-সমৃদ্ধির স্বার্থে পরিবারকেই শিকার বানাতে দ্বিধা করেন না, সেই প্রতারকদের কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হতে হয়।’

চীন থেকে পালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগে গুও আবাসন ব্যবসা করতেন এবং এই ব্যবসার মাধ্যমে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। চীনা সরকারের সঙ্গেও তখন তার সুসম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। কিন্তু পরে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন চীন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এরপর শাস্তি এড়াতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর থেকে গুও চীনের কমিউনিস্ট শাসনের কড়া সমালোচক হয়ে ওঠেন। এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চীনা সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্রমেই তার পরিচিতি বাড়তে থাকে এবং অনলাইনে একনিষ্ঠ অনেক অনুসারীও তৈরি হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন ছাড়াও চীন সরকারের অন্যান্য সমালোচকদের সঙ্গেও একপর্যায়ে তার সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। ক্ষমতাবানদের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং নিজের পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে গুও ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তার ভক্ত ও অনুসারীদের কাছ থেকে এক বিলিয়ন বা ১০০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেন।

কথা ছিল চীনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ওইসব অর্থ ব্যবহৃত হবে। কিন্তু তা না করে গুও সেই অর্থ নিজের বিলাসী জীবনযাপনের পেছনে ব্যয় করেন। ভক্ত ও সমর্থকদের দেওয়া অর্থে তিনি ৫০ হাজার বর্গফুটের বিশাল একটি প্রাসাদ কিনেছেন। সেইসঙ্গে, ১০ লাখ ডলার দিয়ে একটি ল্যাম্বরগিনি গাড়ি এবং তিন দশমিক সাত কোটি ডলার ব্যয় করে একটি বিলাসবহুল ইয়টেরও মালিক হয়েছেন।

তবে রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হলেও গুও অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ভক্ত ও সমর্থকদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পেছনে ব্যয় করা হয়েছে বলেও দাবি করে আসছেন তিনি।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Britain increased defense spending by and20 billion

প্রতিরক্ষা খাতে ২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাড়াল ব্রিটেন

প্রতিরক্ষা খাতে ২০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় বাড়াল ব্রিটেন সামরিক ড্রোন পরিদর্শন করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড (১৯ দশমিক ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন। সামরিক বাহিনী ও জাতীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

যদিও দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব ছিল এই বরাদ্দের পরিমাণ ২৮ বিলিয়ন করার। সেই তুলনায় এই বরাদ্দ অপ্রতুল। ঘোষিত অতিরিক্ত বরাদ্দের ৫ বিলিয়ন পাউন্ড শুধুমাত্র ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের পেছনে খরচ করা হবে।

ব্রিটিশ সরকারের লক্ষ্য, ২০২৯ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট ৮০ বিলিয়ন পাউন্ডে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে অন্যান্য বেসামরিক খাত ও সরকারি পরিচালন ব্যয় থেকে সমপরিমাণ অর্থ সমন্বয় বা কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, সরকার ইতোমধ্যেই ১৯৮০-এর দশকের পর থেকে প্রতিরক্ষা খাতে ‘সবচেয়ে বড় ও ধারাবাহিক বৃদ্ধি’ সাধন করছে। এই ব্যয় মেটাতে বেসামরিক খাতের বিভিন্ন খাতে, বিশেষ করে সরকারি কর্মী নিয়োগসহ পরিচালন ব্যয়ে কাটছাঁট করতে হবে।

এরপর তিনি ঘোষণা করেন যে, প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার অধীনে সরকার প্রতিরক্ষা খাতে অর্থায়ন আরও ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড বৃদ্ধি করে একটি নতুন রেকর্ড স্থাপন করছে। বিগত সরকার প্রতিরক্ষা খাতে বছরে ৫৪ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করত, যা ২০২৯ সালের মধ্যে বাড়িয়ে বছরে ‘প্রায় ৮০ বিলিয়ন পাউন্ড’ করা হচ্ছে। এটি প্রকৃত অর্থে ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে প্রতিরক্ষা ব্যয়কে ‘অতল গহ্বর’ হিসেবে দেখা হতো। তবে এবার সেই ধারণা বদলাতে হবে। তার মতে, শুধু বেশি অর্থ ব্যয় করলেই হবে না, সেই অর্থ আরও কার্যকর ও দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় করতে হবে।

তিনি বলেন, এ পরিকল্পনার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনীতে প্রজন্মগত পরিবর্তন আনা হবে। ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সেনাবাহিনীকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। ড্রোন প্রযুক্তিতে ৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি বিনিয়োগ করা হবে, যা এ খাতে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ।

বিদায়ী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য একটি ‘হাইব্রিড নৌবাহিনী’ গড়ে তুলবে। এতে যুদ্ধজাহাজের পাশাপাশি পানির ওপর ও নিচে চলাচলকারী চালকবিহীন (আনক্রুড) নৌযানও ব্যবহার করা হবে। ব্রিটিশ ফ্রিগেট যখন রাশিয়ার কোনো হুমকিস্বরূপ জাহাজ মোকাবিলা করবে, তখন এসব চালকবিহীন নৌযানও অভিযানে সহায়তা করবে।

তিনি আরও বলেন, রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধ সক্ষমতা গড়ে তোলা হবে। স্বয়ংক্রিয় ‘উইংম্যান’ ড্রোনের সঙ্গে টাইফুন যুদ্ধবিমান পরিচালনা করা হবে, যা শত্রুর নজর এড়িয়ে অভিযান চালাতে সহায়তা করবে।

এছাড়া সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, সাঁজোয়া যান এবং ড্রোন প্রতিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিনিয়োগ বাড়ানোর কথাও জানান স্টারমার। তার দাবি, এসব পদক্ষেপের ফলে সেনাবাহিনীর আক্রমণক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় ১০ গুণ বাড়বে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Serious allegations against Modi

মোদির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

মোদির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ নরেন্দ্র মোদি।

পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া সামরিক সংঘাতে ভারতীয় বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্যের নিহতের তথ্য গোপন করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে। প্রায় তেরো মাস আগে সংঘটিত ওই লড়াইয়ে ভারতের ছয়জন সেনা সদস্য নিহত হওয়ার খবর সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর এই নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের পদত্যাগ দাবি করেছে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে চার দিনব্যাপী চলা এক রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের সময় ‘অপারেশন সিন্দুর’ পরিচালনা করা হয়েছিল। ওই অভিযানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পাঁচজন এবং বিমানবাহিনীর একজনসহ মোট ছয়জন সদস্য নিহত হন।

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার এতদিন এই তথ্য দেশের সংসদ ও জনগণের কাছে সম্পূর্ণ গোপন করে রেখেছিল। বিরোধী দলটির মতে, নিহতদের নাম দীর্ঘ তেরো মাস পর প্রকাশ করে সরকার কেবল দেশের সংসদকে বিভ্রান্ত করেনি, বরং জীবন উৎসর্গকারী বীর জওয়ানদের প্রাপ্য রাষ্ট্রীয় সম্মান ও স্বীকৃতি থেকেও বঞ্চিত করেছে।

নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে কংগ্রেসের প্রাক্তন সেনাবিষয়ক বিভাগের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল রোহিত চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার অনুমা আচার্য সরকারের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন।

অনুমা আচার্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পূর্ববর্তী সব সরকার দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া প্রতিটা সেনাকে প্রকাশ্যে বীরের সম্মান জানিয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতার স্বার্থে দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে এবং সাধারণ সৈনিকদের সঙ্গে বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে কর্নেল রোহিত চৌধুরী ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সমালোচনা করে বলেন, ‘ভোটের রাজনীতিতে জওয়ানদের ব্যবহার করা হলেও তাদের জীবনের প্রকৃত মূল্যায়ন করা হচ্ছে না।’

তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং যখন সংসদে দাঁড়িয়ে কোনো সেনা সদস্য নিহত হননি বলে অসত্য বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন সরকারি দলের এমপিরা হাততালি দিচ্ছিলেন। এ ধরনের বক্তব্য ভারতের সেনাবাহিনী এবং শহীদদের জন্য চরম অপমানজনক দাবি করে তিনি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে সংসদে বিশেষ অধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব আনারও ঘোষণা দেন।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Israel is making weapons capable of attacking from space

‘মহাকাশ থেকে হামলায় সক্ষম অস্ত্র বানাচ্ছে ইসরায়েল’

‘মহাকাশ থেকে হামলায় সক্ষম অস্ত্র বানাচ্ছে ইসরায়েল’ ইসরায়েল কাটজ।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ গত সোমবার বলেছেন, পৃথিবীর ওপরের মহাকাশে হামলা চালানোর জন্য ইসরায়েল মহাকাশভিত্তিক লেজার প্রযুক্তি উন্নয়ন করছে। সামরিক প্রতিবেদকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং আমি যে প্রধান লক্ষ্যগুলোর একটি নির্ধারণ করেছি, তা হলো আমরা সেরা মেধাবীদের নিয়োগ দিচ্ছি। আজ পর্যন্ত কোনো দেশেরই মহাকাশে হামলা চালানোর সক্ষমতা নেই। এই সক্ষমতায় বিশ্বের শীর্ষ দেশ আমাদেরই হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যদি আমরা এটি অর্জন করতে পারি, তবে এটি আমাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে—যাদের বিপুল সম্পদ রয়েছে—প্রতিরোধ, আঘাত হানা, ধ্বংস করা এবং অন্যান্য সব বিষয়ে আমাদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করবে।

গত বৃহস্পতিবার কাটজ বলেছিলেন, মহাকাশ থেকে হামলা চালানোর সক্ষমতায় শীর্ষ শক্তি হয়ে উঠতে ইসরায়েল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তার সবশেষ বক্তব্যে প্রথমবারের মতো তিনি নির্দিষ্টভাবে মহাকাশভিত্তিক লেজারের কথা উল্লেখ করলেন।

ইসরায়েল ইতোমধ্যেই এই ক্ষেত্রে একটি অগ্রণী দেশ। তারা আয়রন বিম নামে স্থলভিত্তিক লেজার ব্যবস্থা তৈরি করেছে। সম্প্রতি এলবিট সফরের সময় দ্য জেরুজালেম পোস্ট একটি প্রকল্প প্রত্যক্ষ করেছে এবং সে সম্পর্কে অবহিত হয়েছে, যার লক্ষ্য ভবিষ্যতে যুদ্ধবিমান থেকে লেজার নিক্ষেপের সক্ষমতা তৈরি করা।

ব্রিফিংয়ের সময় কাটজের বক্তব্য থেকে মনে হয়েছে, তিনি ইরানের কথাই উল্লেখ করছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, এ বছর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল মহাকাশযুদ্ধ-সম্পর্কিত ইরানের একাধিক স্থাপনায় হামলা চালায়, যার মধ্যে মহাকাশে স্যাটেলাইটে হামলার সক্ষমতা উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাও ছিল।

তবে এখনো স্পষ্ট নয়, কাটজ রাশিয়া ও চীনকে ইরানের মহাকাশ প্রতিযোগিতা এবং অন্যান্য বিষয়ে সহায়তা করা থেকে নিরুৎসাহিত করতে চাইছেন কি না।

তবে অন্য কোনো দেশের এ ধরনের সক্ষমতা নেই—কাটজের এই বক্তব্য পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ রাশিয়া ও চীন উভয়ই নিজেদের স্যাটেলাইটে হামলা চালিয়ে পরীক্ষামূলক লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করেছে।

বিদেশি বিভিন্ন প্রতিবেদনের মতে, লেজার প্রযুক্তি সম্ভাব্যভাবে শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট ধ্বংস করতে পারে এবং মহাকাশে হামলার ফলে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষও পুড়িয়ে ফেলতে সক্ষম হতে পারে।

এ নিয়ে জল্পনা রয়েছে যে, বর্তমানে মহাকাশে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে আঘাত হানতে সক্ষম অ্যারো–৩ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে ইসরায়েলের শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট ধ্বংস করার সক্ষমতাও থাকতে পারে।

তবে রাশিয়া ও চীনের যেহেতু মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ মোকাবিলার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাই অনেক দেশই বর্তমানে স্যাটেলাইটের বিরুদ্ধে অচল করে দেওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত করা, জ্যামিং করা, টেনে সরিয়ে নেওয়া অথবা লেজার ব্যবহারের মতো অন্যান্য কৌশল নিয়ে কাজ করছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
US delegation to Qatar to discuss Iran issue

ইরান ইস্যুতে আলোচনা করতে কাতারে মার্কিন প্রতিনিধিরা

ইরান ইস্যুতে আলোচনা করতে কাতারে মার্কিন প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমানে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। ইরান ইস্যুতে আলোচনা করতে তারা সেখানে গেছেন বলে জানা গেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ বর্তমানে দোহায় রয়েছেন। তবে তারা ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকে অংশ নেবেন না।

তিনি বলেন, কুশনার ও উইটকফ মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং চলমান আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া ইরানের জব্দ থাকা ৬০০ কোটি মার্কিন ডলারের সম্পদ এখনো তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি বলেও জানান ওই মুখপাত্র।

জব্দ অর্থ ছাড়ের দাবিতে দোহা যাচ্ছেন কর্মকর্তারা: ইরান

উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনার জন্য কাতারের রাজধানী দোহায় প্রতিনিধি পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরান দাবি করেছে, আমেরিকার সাথে এমন কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা তাদের নেই; দোহা সফরে ইরানি দল দেশটির অবরুদ্ধ সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টি উত্থাপন করবে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ দোহা যাচ্ছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। দোহায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’

তবে ট্রাম্পের এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আলোচনার সূচি নির্ধারিত নেই।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, ইরানের একটি কারিগরি প্রতিনিধি দল এ সপ্তাহে কাতার সফর করবে ঠিকই, তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দোহা সফরের সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

ইরানের ভাষ্য, এই প্রতিনিধি দলের সফরের উদ্দেশ্য দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনার পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা নয়। বরং সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।

ইরানের অভিযোগ, সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের গতি অত্যন্ত ধীর। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত প্রথম অনুচ্ছেদ বাস্তবায়ন নিয়ে তাদের নানা আপত্তি, সমালোচনা ও উদ্বেগ রয়েছে।

এছাড়া সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদ বাস্তবায়ন নিয়েও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

ইরানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে ৬০ দিনের আলোচনাকালে হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল নিয়ন্ত্রণের অধিকার তাদের রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। ওয়াশিংটনের মতে, ইরানকে নৌচলাচলে কোনো বাধা না দিয়ে প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে হবে।

এছাড়া হরমুজ প্রণালীর ওমান-সংলগ্ন জলসীমা দিয়ে নতুন নৌপথ চালু করা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তেহরান। তাদের দাবি, ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।

আলোচনায় ইরানি প্রতিনিধি দল প্রথম ধাপে কাতারে আটকে থাকা ৬০০ কোটি ডলার ছাড়ের ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দেবে বলে জানিয়েছে ইরান।

চার মাস ধরে চলা যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি সই হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক দিনে দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে সেই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নতুন করে হামলা শুরু করেছে।

ইরান জানায়, তাদের নৌ ও বিমানবাহিনী কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, পুনরায় চুক্তি লঙ্ঘন করা হলে আরও ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেওয়া হবে।

কাতারে বৈঠকের ঘোষণা ট্রাম্পের, অস্বীকার ইরানের

কাতারের দোহায় ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা শান্তিবৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ ঘোষণা অস্বীকার করেছে ইরান। তেহরান বলছে, এমন কোনো কিছুর পরিকল্পনা আপাতত তাদের নেই।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছে। দোহায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে!

ইরান সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ দাবি অস্বীকার করেছেন। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদির উদ্ধৃতি দিয়ে সোমবার আলজাজিরা জানিয়েছে, কাতারে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা ইরান করছে না।

তাসনিম বার্তা সংস্থাকে তিনি বলেন, অন্য পক্ষের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ফলোআপসহ কাতারের সঙ্গে যথারীতি পরামর্শ চলমান থাকলেও দোহায় ওয়ার্কিং গ্রুপগুলোর কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়টি কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে যেভাবে এসেছে, তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের পক্ষ থেকে আসা এই দুটি বক্তব্য আপাতদৃষ্টে সাংঘর্ষিক মনে হলেও, গরিবাবাদীর মন্তব্যের পর বৈঠকটি চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, দোহায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনার।

ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলমান থাকর এই সময়ে বিশেষ দূত উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার চলতি সপ্তাহে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে দোহা যাচ্ছেন। উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনার পাশাপাশি মূল বৈঠকের ফাঁকে কারিগরি আলোচনাও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান লেভিট।

প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুর দিকে যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছায়, যার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে জটিল বিষয়, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হয়। তবে লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবির মুখে এই চুক্তিটি বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছে।

মন্তব্য

p
উপরে