× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Three Bangladeshis of the same family were killed and seriously injured in Italy
google_news print-icon

ইতালিতে একই পরিবারের তিন বাংলাদেশিকে হত্যা, গুরুতর আহত ১

ইতালিতে-একই-পরিবারের-তিন-বাংলাদেশিকে-হত্যা-গুরুতর-আহত-১
ছবি: সংগৃহীত

ইতালির রাজধানী রোমে এক প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের ওপর নেমে এসেছে নৃশংসতার কালো ছায়া। অজ্ঞাতপরিচয় এক দুর্বৃত্তের এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাতে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। গত শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় পিনেতা সাচেত্তি সংলগ্ন ভিয়া মন্তিগ্লো এলাকার একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে পরিবারের প্রধান কামাল হোসেনের (৪৫) পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার আদি নিবাস বাংলাদেশের নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। তিনি দীর্ঘকাল ধরে সপরিবারে ইতালিতে বসবাস করে আসছিলেন। হামলায় নিহত অন্য দুজন হলেন কামাল হোসেনের স্ত্রী এবং তাদের মাত্র ৫ বছর বয়সী শিশুকন্যা।

এই নৃশংস ঘটনায় কামালের ১৮ বছর বয়সী বড় ছেলেও গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ওই ঘাতক অস্ত্র নিয়ে কামালের অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। হামলাকারীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান কামাল, তার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে। এ সময় বড় ছেলে বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় ছেলেটি সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে করতে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে এলে প্রতিবেশীরা দ্রুত পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়েই ইতালির বিশেষ পুলিশ বাহিনী ‘কারাবিনিয়েরি’ এবং অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ সেখান থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত তরুণকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ছেলেটি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

এদিকে, এই লোমহর্ষক ঘটনার পর পুরো পিনেতা সাচেত্তি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘাতককে শনাক্ত করতে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে রোম পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, ডাকাতি নাকি ব্যক্তিগত কোনো বিরোধের জেরে ঘটেছে—তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন।

এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা। তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘাতককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। রোম পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং লোমহর্ষক একটি অপরাধ। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।”

তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনই নিহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করেনি। তবে তদন্তে অগ্রগতি হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী তথ্য জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Saudi Arabia issued a temporary travel ban on three countries

তিন দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করলো সৌদি আরব

তিন দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করলো সৌদি আরব ছবি: সংগৃহীত

প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রুখতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান—এই তিন দেশের ওপর কঠোর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি নাগরিকদের এই দেশগুলোতে ভ্রমণে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং এই তিন দেশ থেকে আগত পর্যটকদের ভিসা প্রদানসহ সৌদিতে প্রবেশ সম্পূর্ণ স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র সরাসরি আসা যাত্রীদের জন্য নয়; বরং যারা সৌদি আরবে প্রবেশের ২১ দিন আগে এই তিনটি দেশের যেকোনো একটিতে অবস্থান করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ তৃতীয় কোনো দেশ হয়ে সৌদিতে আসতে চাইলে তাঁদের ক্ষেত্রেও এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। সৌদি আরবের জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ‘ওয়েকায়া’ জানিয়েছে, সংক্রামক রোগের আন্তঃসীমান্ত বিস্তার ঠেকাতে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে তারা এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর প্রতিবেশী রাষ্ট্র রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, তানজানিয়া এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্র থেকে আগত যাত্রীদের জন্যও বিশেষ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। সৌদি আরবের সকল প্রবেশপথে এই দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের নিবিড় স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে। ওয়েকায়া আশ্বস্ত করেছে যে, এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে ইবোলার কোনো নিশ্চিত বা সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়নি এবং দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মহামারি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতির ওপর ভিত্তি করে আগামীতে এই সুপারিশমালা সংশোধন বা হালনাগাদ করা হতে পারে। জননিরাপত্তা রক্ষায় এমন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
UAE granted on arrival visa facility to 6 new countries

নতুন ৬ দেশকে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা দিল ইউএই

নতুন ৬ দেশকে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা দিল ইউএই ছবি: সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের বিদ্যমান অন-অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধার পরিধি আরও বিস্তৃত করার ঘোষণা দিয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের আরও ৬টি দেশের নাগরিকরা এখন থেকে দেশটিতে পৌঁছানোর পর তাৎক্ষণিকভাবে ভিসার সুবিধা পাবেন। এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া নতুন দেশগুলো হলো— ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, কেনিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে ‘গালফ নিউজ’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ছয়টি দেশের পর্যটক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য দুই ধরনের মেয়াদী অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রকল্প চালু করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী ১৪ দিন অথবা ৬০ দিনের যেকোনো একটি ক্যাটাগরির জন্য আবেদন করতে পারবেন। ফি’র বিষয়ে জানানো হয়েছে যে, ১৪ দিনের ভিসার জন্য ১০০ দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ হাজার ৩৪১ টাকা) এবং ৬০ দিনের ভিসার জন্য ২৫০ দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ হাজার ৩৫১ টাকা) পরিশোধ করতে হবে।

এর আগে পর্যন্ত বিশ্বের মোট ৩৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য আমিরাতে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগ বিদ্যমান ছিল। এই তালিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এখন নতুন করে এশিয়া ও আফ্রিকার আরও ছয়টি দেশ যুক্ত হওয়ায় এই বিশেষ সুবিধাভোগী দেশের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪১টিতে।

আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ছয় দেশের দর্শনার্থীরা যাতে “আমিরাতের সংস্কৃতি, বিশ্বমানের পর্যটন, গতিশীল অর্থনীতি, আকর্ষনীয় বাণিজ্য পরিবেশ এবং বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত অবকাঠামো সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারেন— সেজন্যই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।” আন্তর্জাতিক পর্যটন ও বাণিজ্যিক হাব হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতেই আমিরাত সরকার এই কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আন্তর্জাতিক
The death toll from the devastating earthquake in Venezuela has risen to 235

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ও বিধ্বংসী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে আহত হয়েছেন ১ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও অনেক বাড়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে উদ্ধারকর্মীরা সেখানে আটকা পড়া জীবিতদের খুঁজে বের করতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ‘ইউএসজিএস’-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে প্রথমে ৭.২ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। এর মাত্র কয়েক সেকেন্ড পরেই ৭.৫ মাত্রার আরও একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূ-পৃষ্ঠের অগভীরে এই কম্পনগুলো উৎপন্ন হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়েছে। একটি জাতীয় ছুটির দিন হওয়ায় অধিকাংশ মানুষ নিজ নিজ বাসগৃহে অবস্থান করছিলেন, যা হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজধানীর বাইরে ত্রুজিলো, ইয়ারাকুই, কারাবোবো এবং মিরান্ডা অঙ্গরাজ্যেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে।

ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের মুখে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ জানিয়েছেন যে, রাজধানী কারাকাস ও উপকূলীয় লা গুইরা শহরের অন্তত ২৫০টি ভবন ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আসা মানুষের আর্তনাদ পরিস্থিতিকে আরও বিভীষিকাময় করে তুলেছে। রাজধানীর প্রধান মাইকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে এর সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে জানিয়েছেন যে, মূল ভূকম্পনের পর অন্তত ৩০টি ‘আফটারশক’ অনুভূত হয়েছে।

ইউএসজিএস সতর্ক করে জানিয়েছে যে, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা ধারণার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। সংস্থাটির প্রাথমিক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই দুর্যোগে "১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪২ শতাংশ এবং এক লাখের বেশি মানুষের প্রাণহানির সম্ভাবনা ৩৩ শতাংশ"। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১৯০০ সালের পর এটিই ভেনেজুয়েলায় অনুভূত সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং ১৯৬৭ সালের পর রাজধানী কারাকাসের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি দুটি টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত এবং প্লেট দুটির অভ্যন্তরীণ চাপ হঠাৎ মুক্ত হওয়ার ফলেই এই মহাবিপর্যয় ঘটেছে।

এই সংকটকালীন সময়ে উদ্ধার অভিযানে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে কাতার, মেক্সিকো, ডোমিনিকান রিপাবলিক ও এল সালভাদর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ১৫ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা ও অনুসন্ধান কাজের জন্য সামরিক পরিবহন বিমান ও জাহাজ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বার্তায় শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, ভেনেজুয়েলার মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাঁর সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। এছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলসহ জরুরি চিকিৎসা ও মানবিক ত্রাণ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
At least 164 killed in powerful earthquake in Venezuela

ভেনিজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৬৪

আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে
ভেনিজুয়েলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৬৪ ভেনিজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত

ভেনিজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে রাজধানী কারাকাসসহ বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে ১৬৪ জনের নিহতের খবর মিলেছে। এ ছাড়া আহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনিজুয়েলায় বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে, বহু মানুষ আটকা পড়েছেন এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে গ্যাস সরবরাহও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এতে আরও হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় গত বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে পুরো অঞ্চল কেঁপে ওঠে। বিভিন্ন শহর ও এলাকায় ভবন খালি করা হয়। এমনকি প্রায় ১ হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরে ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চল পর্যন্ত কম্পন অনুভূত হয়।

গত বুধবার (২৪ জুন) গভীর রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে ডেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ‘ভূমিকম্পে প্রধান বিমানবন্দর সিমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেটি বন্ধ করে দিতে হয়েছে।’ পাশাপাশি কয়েক দিনের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বাতিল করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। রদ্রিগেজ বলেন, ‘আমরা জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা ঐক্যের আহ্বান জানাচ্ছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) প্রথমে জানায়, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ১। পরে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ২ বলা হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল দেশটির ক্যারিবীয় উপকূলের মোরন এলাকার পশ্চিমে, কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার।

ইউএসজিএস জানায়, এর মাত্র এক মিনিট পর আরও শক্তিশালী ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল মোরন থেকে ১৬ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।

এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনিজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে গত বুধবারের ভূমিকম্প অন্যতম। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার কিছু সময় পর ভূমিকম্প দুটি আঘাত হানে।

এ সময় রাজধানী কারাকাসে দুলতে থাকা ভবনগুলো থেকে আতঙ্কিত হয়ে মানুষ বেরিয়ে আসতে শুরু করে। কোথাও কোথাও ভবন ও পুরো দেওয়াল ধসে পড়ায় রাস্তা থেকেই ভবনের ভেতরের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছিল। রাজধানীর দুই এলাকায় ধুলার কুণ্ডলীও দেখা যায়। এসব এলাকায় সাধারণত রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থাকায় মানুষের ভিড়ও কিছুটা বেশি ছিল বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলায় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসাসামগ্রী এবং মানবিক সহায়তা পাঠাবে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈদেশিক সহায়তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেরেমি লিউইন।

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন ভেনিজুয়েলা সরকারের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে এমন একটি দুর্যোগ সহায়তা দল রয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের। লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।’

এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে জানিয়েছেন, তার দেশ ৫০ টন সরঞ্জাম ও ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত করেছে। পাশাপাশি ৩০০ উদ্ধারকর্মীও প্রস্তুত রয়েছেন, যারা ‘কারাকাসের উদ্দেশে রওনা হতে প্রস্তুত’। ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া আজিনও জানিয়েছেন, তার দেশ ভেনিজুয়েলায় তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে।

এদিকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা বলেছেন, ‘ভেনিজুয়েলাকে সহায়তা করতে তার দেশ কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, তা মূল্যায়ন করা হবে।’ তিনি ভেনিজুয়েলাকে ব্রাজিলের ‘বন্ধুপ্রতিম দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। মেক্সিকোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব রবার্তো ভেলাস্কো আলভারেজও ভেনিজুয়েলাকে ‘প্রয়োজনীয় সব ধরনের সংহতি ও সহায়তা’ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।

ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত আটকা বহু

ভেনিজুয়েলায় জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানার পর সেখানকার কাতিয়া লা মার শহর বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানকার বহু ঘরবাড়ি ও উঁচু ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে শহরটি।

এর মধ্যে অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। তাদের সারারাত খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছেন আত্মীয়-স্বজনরা। আটকে পড়াদের অনেকে জীবিত থাকলেও তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি কেউ।

ল্যারি রোজাস নামে ৪৯ বছর বয়সি এক নারী বলেছেন, ‘আমাদের আর কিছুই নেই। একটু শক্তিও নেই ধসে পড়া ভবনের কাছে যাওয়ার।’ তিনি তার ধসে পড়া বাড়ির সামনে বসে আছেন। এর ভেতর তার বেশ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন আটকা পড়ে আছেন।

আরেক নারীর এক মেয়ে ১২ তলা উঁচু একটি ভবনের নিচে আটকা পড়ে আছে। কিন্তু ভূমিকম্পের পর ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো তার মেয়েকে কেউ উদ্ধার করতে আসেনি। তিনি বলেছেন, ‘ধসে পড়া ভবনের নিচে জীবিত মানুষ আছেন। কিন্তু তাদের বাঁচাতে কেউ আসছেন না।’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Lawsuit against Trump calling the ban illegal

নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা

নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) তিন বিচারক মামলা দায়ের করেছেন। গত বছর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে তারা ট্রাম্প এবং তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কানাডার বিচারক কিম্বারলি প্রোস্ট, উগান্ডার সলোমি বালুঙ্গি বোসা এবং বেনিনের রেইন অ্যাডিলেড সোফি অ্যালাপিনি গানসু গত বুধবার ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে দায়ের করেছেন। তারা অভিযোগ করেন, বিচারবহির্ভূত চাপ প্রয়োগের জন্য তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো তাদের শাস্তি দেওয়া এবং নতি স্বীকারে বাধ্য করা।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরুর সিদ্ধান্তের জন্য গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির বেশ কয়েকজন বিচারকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। এ নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের থাকা তাদের সব সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছিল। এ ছাড়া তাদের সঙ্গে লেনদেনও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

আইসিসি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ১২৫টি সদস্য দেশে সংঘটিত গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধের বিচারের আন্তর্জাতিক এখতিয়ার রয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোনো সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি সুপারিশ করলে সে ক্ষেত্রেও আদালত বিচার করতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া এবং ইসরায়েলের মতো কিছু দেশ আইসিসিরি কর্তৃত্ব স্বীকার করে না।

বিচারকরা অভিযোগ করেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা আইনের পরিপন্থি। কারণ এটি আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের লঙ্ঘন। কোনো ধরনের প্রকৃত জাতীয় জরুরি অবস্থা বা অস্বাভাবিক হুমকির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিচারকদের আর্থিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করে তাদেরসহ আইসিসির অন্য বিচারকদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

বিচারকরা বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার কারণে বিচারকরা এখন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, ব্যাংকিংসেবা গ্রহণ, আমাজন ও গুগলের মতো সাধারণ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, ভ্রমণের টিকিট বুকিং এবং এমনকি অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিমাও পাচ্ছেন না।’

বিচারকরা আরও বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের কাছে বিচারাধীন বা ভবিষ্যতের কোনো মামলায় তথ্য-প্রমাণ ও যুক্তি উপস্থাপন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Bangladeshi youth sentenced to 15 years in prison for child rape in Britain

ব্রিটেনে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে বাংলাদেশি যুবককে ১৫ বছর কারাদণ্ড

ব্রিটেনে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে বাংলাদেশি যুবককে ১৫ বছর কারাদণ্ড ছবি: সংগৃহীত

ব্রিটেনে পোর্টসমাউথ ক্রাউন কোর্টে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক যুবককে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০ বছর বয়সি দণ্ডপ্রাপ্ত ওই যুবকের নাম তারেক মিয়া। তিনি ১২ বছর বয়সি প্রতিবন্ধী এক মেয়েশিশুকে ধর্ষণ ও ৯ বছর বয়সি আরেক শিশুকে অনলাইনে গ্রুমিং করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। আদালত জানিয়েছেন, তারেক এখনো মেয়েশিশুদের জন্য ‘অত্যন্ত উচ্চঝুঁকি’ তৈরি করছেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ডেইলি মেইল জানিয়েছে, তারেক মিয়া তিন বছর বয়সে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। তিনি ওয়েস্ট সাসেক্সের ওয়ার্থিংয়ে বাস করতেন। ২০২৩ সালের আগস্টে স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের মাধ্যমে ১২ বছরের প্রতিবন্ধী মেয়েটির সঙ্গে তার যোগাযোগ শুরু হয়। মেয়েটি নিজের বয়স জানালেও তারেক বারবার তাকে চাপ দিয়ে দেখা করতে রাজি করান। তারেকের বয়স সে সময় ১৭ বছর ছিল।

প্রসিকিউশনের আইনজীবী স্টিভেন মলয় জানান, প্রথম দেখাতেই তারেক গাড়িতে করে মেয়েটিকে এক বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ঘরের দরজা বন্ধ করে তাকে নির্যাতন করেন। বাড়িটির ভেতরে, গাড়ির পেছনে ও অন্যান্য স্থানে মেয়েটিকে তিনি একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ওই সময়ে তারেক কোনো সুরক্ষাসামগ্রীও ব্যবহার করেননি। অন্যদিকে মেয়েটির কোনো যৌন অভিজ্ঞতা ছিল না। ঘটনার পর সে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

আদালতে ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমার জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। স্কুলে থাকা অবস্থায় হঠাৎ ওই ঘটনা মনে পড়ে যায়। স্কুলে যেতে ভয় লাগে। ছয় মাস ধরে মায়ের সঙ্গে ঘুমাতে হয়েছে। দরজায় মাথা ঠেকিয়ে মেঝেতে শুয়েছি। আমি এখনো সেই ভয় কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এটা আমার শৈশব, শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিয়েছে।’

মেয়েটির মা বলেন, ‘আমার মেয়ের মানসিক ক্ষতি হয়েছে। সে এখন ভুল জিনিস দেখে ও শোনে। আগের চেয়ে অনেক বেশি অন্তর্মুখী হয়ে গেছে।’ প্রবেশন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, তারেকের সাংস্কৃতিক পটভূমি মেয়েশিশুদের প্রতি তার মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।

২০২৪ সালের মে মাসে তারেক দ্বিতীয় ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন—যার বয়স ছিল তখন মাত্র ৯ বছর। তারেক ওই শিশুকে নিজের হস্তমৈথুনের ভিডিও পাঠান এবং ওই শিশুকেও যৌনকাজের ভিডিও পাঠাতে বাধ্য করেন। এই ঘটনার পর মেয়েটি খুব ‘উদ্বিগ্ন’ বোধ করতে শুরু করে।

দ্বিতীয় ভুক্তভোগীর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমি নাচের ক্লাস ছেড়ে দিয়েছি। স্কুলে মন বসে না। মায়ের কাছে থাকতে চাই। তিনি আমার ইমোশনাল পার্টনার।’ তার মা বলেন, ‘ঘটনার পর খুব ছোট বয়সেই আমাদের মেয়েকে যৌনতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে হয়েছে।’

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারেক ঘটনাগুলোকে ‘সিলি মিসটেক’ ও ‘বয়সের দোষ’ বলে অস্বীকার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু জামিনে থাকার সময়ও তিনি অন্য শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তার ডিভাইসে শিশু পর্নোগ্রাফিসংক্রান্ত উপাদানও পাওয়া গেছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
BSF member killed while patrolling India Bangladesh border

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে টহলরত অবস্থায় বিএসএফ সদস্য নিহত

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে টহলরত অবস্থায় বিএসএফ সদস্য নিহত ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে টহলরত অবস্থায় বজ্রপাতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এক সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহত ভিনীত কুমার দুবে (৪৬) বিএসএফের ৭১ ব্যাটালিয়নের একজন হেড কনস্টেবল ছিলেন। তিনি উত্তর প্রদেশের কানৌজ জেলার বাসিন্দা। মুর্শিদাবাদের বাবুরা ঘাট সীমান্ত ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন তিনি।

বিএসএফ সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) গভীর রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বৃষ্টি, ঝোড়ো হাওয়া ও ঘন ঘন বজ্রপাত হচ্ছিল। ওই সময় আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছে মিঠিপুর এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন দুবে।

সীমান্তের ‘জিরো লাইন’ সংলগ্ন উন্মুক্ত স্থানে নজরদারির সময় বজ্রপাতের শিকার হন তিনি। ঘটনাটি ঘটার পর সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মিঠিপুর ক্যাম্পে নিয়ে যান। পরে তাকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে একই দিনে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান এলাকায় বজ্রপাতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। গঙ্গা নদী পার হওয়ার সময় নৌকায় থাকা অবস্থায় তারা বজ্রাঘাতের শিকার হন। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়ার কারণে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নাগরিকদের প্রয়োজন ছাড়া খোলা স্থানে অবস্থান না করার আহ্বান জানিয়েছে।

মন্তব্য

p
উপরে