১০ বছরে ৭ জন প্রধানমন্ত্রী দেখল ব্রিটেন। দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজমান। লন্ডনের ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বিখ্যাত চকচকে কালো দরজাওয়ালা ভবনটি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে প্রায় ৩০০ বছরের ইতিহাসে বহু রাজনৈতিক নেতার আবাসস্থল হয়েছে। এই ভবনে উইনস্টন চার্চিল মোট নয় বছর বসবাস করেছিলেন।
‘আয়রন লেডি’ মার্গারেট থ্যাচার প্রায় ১২ বছর, অর্থাৎ ১৯৮০-এর দশকজুড়ে সেখানে ছিলেন। টনি ব্লেয়ার ১৯৯৭ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত এক দশক ওই বাসভবনে ছিলেন। কিন্তু গত ১০ বছরে ব্রিটিশ নেতারা যেন বাক্সপত্র গুছিয়ে রাখার আগেই পরবর্তী নেতার জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ২০১৬ সালের পর থেকে সাতজন প্রধানমন্ত্রী এই সরকারি বাসভবনে থেকেছেন।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কীভাবে নির্বাচিত হয়
যুক্তরাজ্যের ভোটাররা যুক্তরাষ্ট্রের মতো সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না। বরং ভোটাররা নিজেদের নির্বাচনি এলাকার প্রতিনিধিত্বের জন্য ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব কমন্সের সদস্য নির্বাচন করেন। সাধারণত যে দলের নেতা হাউস অব কমন্সে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়, তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।
রাজনৈতিক দলগুলো অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের মাধ্যমে যেকোনো সময় তাদের নেতা পরিবর্তন করতে পারে, এমনকি তিনি প্রধানমন্ত্রী হলেও। যদি তিনি দলের পর্যাপ্ত সদস্যের আস্থা হারান, তবে তাকে সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। কোনো দলীয় নেতা পদত্যাগ করলে বা পদচ্যুত হলে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদও হারান।
এই ব্যবস্থার ফলে সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে বদলানো সম্ভব। তবে ক্ষমতাসীন দল নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকে। যুক্তরাজ্যের আইনে সর্বোচ্চ প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে ক্ষমতাসীন সরকার চাইলে তার আগেও নির্বাচন দিতে পারে।
সাধারণত কোনো সরকার যদি মনে করে সংসদে আরও বেশি আসন জিতে নিজেদের জনসমর্থন বাড়াতে পারবে, অথবা জনসমর্থন কমে যাওয়ার চাপ থেকে আগাম নির্বাচন আয়োজন করা হয়। গত এক দশকে এমন ঘটনা অনেকবার ঘটেছে। ফলে এক ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা এখন প্রায় স্বাভাবিক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে।
সবকিছুর শুরু সম্ভবত ব্রেক্সিট থেকে। ২০১৬ সালের বিতর্কিত গণভোটে ব্রিটিশ ভোটাররা অল্প ব্যবধানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দেন। এর ফলে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস শুরু হয়, যার প্রভাব এখনও অব্যাহত রয়েছে।
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বে কনজারভেটিভ পার্টি ছয় বছর ধরে ক্ষমতায় ছিল। ২০১৫ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ক্যামেরন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, পুনর্নির্বাচিত হলে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যপদ নিয়ে গণভোট আয়োজন করবেন।
কনজারভেটিভরা নির্বাচনে জয়ী হয় এবং ক্যামেরন ডাউনিং স্ট্রিটে থেকে যান। কিন্তু গণভোট তার প্রত্যাশামতো হয়নি। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকার পক্ষে ‘রিমেইন’ শিবিরে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। নির্বাচনে জয় পেলেও গণভোটে তার সমর্থিত ‘রিমেইন’ শিবির পরাজিত হয়। গণভোটের ফল প্রকাশের পর ২০১৬ সালের জুলাইয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।
ব্রেক্সিট কনজারভেটিভ পার্টির রাজনৈতিক ভিত্তিতেও বড় পরিবর্তন আনে। দীর্ঘদিনের অনেক সমর্থক ব্যবসাবান্ধব ও ইউরোপীয় ইউনিয়নপন্থি অবস্থান থেকে সরে গিয়ে জনতাবাদী ও ব্রেক্সিটপন্থি রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন। একই সময়ে কনজারভেটিভদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্য-বামপন্থী লেবার পার্টির দীর্ঘদিনের অনেক সমর্থক ব্রেক্সিট আন্দোলনকে সমর্থন করেন।
‘ভোট লিভ’ প্রচারণা ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। তাদের বলা হয়েছিল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ছাড়লে অভিবাসন কমবে, অর্থনীতির উন্নতি হবে, দেশের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বিপুল অর্থ সহায়তা পাবে এবং ব্রিটেন নতুন জাতীয় দিকনির্দেশনা খুঁজে পাবে।
কোভিড-১৯ মহামারি এবং ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিঃসন্দেহে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলেছিল। কিন্তু ভোটাররা এর বদলে পেয়েছেন বছরের পর বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতা।
এ কারণেই পতন ঘটে থেরেসা মের। ডেভিড ক্যামেরন সরে দাঁড়ানোর পর ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের দায়িত্ব তার ওপর বর্তায়। কিন্তু ব্রেক্সিট নিয়ে নিজের দলের ভেতরের বিভক্তির কারণে তিনি কার্যত বাধাগ্রস্ত হন। শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে চোখের জল নিয়ে কনজারভেটিভ পার্টির নেতার পদ ছাড়েন এবং দলের আরেক সদস্যের জন্য জায়গা করে দেন।
বরিস জনসন তার প্রচারণার স্লোগান করেছিলেন ‘গেট ব্রেক্সিট ডান’ বা ‘ব্রেক্সিট সম্পন্ন করো’। এই স্লোগান তাকে কনজারভেটিভদের যথেষ্ট সমর্থন এনে দেয় এবং তিনি দলের নেতৃত্ব লাভ করেন।
তবে ব্রেক্সিটের পর বারবার অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও জনসনের নীতির অধীনে দেশে প্রবেশকারী মানুষের সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে যায়। এতে তার দল এবং সামগ্রিকভাবে ব্রিটিশ রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শেষ পর্যন্ত জনসনের পতনের কারণ হয় তার নিজের কর্মকাণ্ড। কোভিড-১৯ সময়ে জারি করা নিজের একাধিক বিধিনিষেধ তিনি নিজেই ভঙ্গ করেন। এর মধ্যে লকডাউনের সময় ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে একাধিক সামাজিক সমাবেশ আয়োজন ছিল অন্যতম। এই কেলেঙ্কারি দ্রুত ‘পার্টিগেট’ নামে পরিচিতি পায়।
চূড়ান্ত ধাক্কা আসে যখন জনসন যৌন নিপীড়নের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও এক কনজারভেটিভ রাজনীতিককে পদোন্নতি দেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি পদত্যাগ করেন। তার উত্তরসূরি লিজ ট্রাস ব্রিটেনের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বল্পমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রেকর্ড গড়েন।
তার আলোচিত ‘মিনি বাজেট’-এ অর্থের উৎস নির্ধারণ ছাড়া বড় ধরনের কর কমানোর প্রস্তাব ছিল। এতে আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং ব্রিটেনে মর্টগেজ ঋণের সুদের হার বেড়ে যায়। মাত্র ৪৫ দিন দায়িত্ব পালন করে ২০২২ সালের অক্টোবরে তিনি পদত্যাগ করেন।
ট্রাসের পর প্রধানমন্ত্রী হন ঋষি সুনাক। তিনি প্রায় দুই বছর দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে তীব্র হওয়া জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলায় তিনি উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে পারেননি। ১৪ বছর ধরে কনজারভেটিভ শাসনের পর ভোটারদের আরও এক মেয়াদের জন্য রাজি করাতে ব্যর্থ হন তিনি।
ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নতুন করে সামরিক হামলার তীব্র হুমকি আসায় সুইজারল্যান্ডে চলমান উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা বর্জন করেছে ইরানের প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ইরানের প্রধান আলোচক ও দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনা ত্যাগের কথা নিশ্চিত করেছেন।
মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দেন যে, তেহরান কখনোই আমেরিকার সাথে সরাসরি সংলাপে বসতে চায়নি, কেবল মধ্যস্থতাকারীদের বিশেষ অনুরোধে তারা পরোক্ষ আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। আলোচনার মাঝপথে ট্রাম্পের দেওয়া হুমকির সংবাদ পাওয়ার পর তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান। গালিবাফ বলেন, “ট্রাম্প আমাদের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আমাদের এই প্রতিনিধি দল এবং একই সাথে ইরানের মূল ভূখণ্ডে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর তীব্র হুমকি দিয়েছেন।” তিনি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ্য করে সভাকক্ষেই স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন যে, এই ধরনের হুমকি উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির শর্তগুলোর সরাসরি লঙ্ঘন। চাপের মুখে ইরান কোনো আলোচনা চালিয়ে যাবে না বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর ইরানি প্রতিনিধি দল তাৎক্ষণিকভাবে সভাকক্ষ ত্যাগ করে। মার্কিন পক্ষ থেকে পুনরায় বৈঠকের অনুরোধ জানানো হলেও তেহরান তা সরাসরি নাকচ করে দেয়। পরবর্তীতে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানি প্রতিনিধিদের সাথে দীর্ঘ ৮০ মিনিট আলোচনা করেন এবং একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন। ইরানি স্পিকার মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে দেন যে, তারা কেবলমাত্র কাতার ও পাকিস্তানের সাথে কথা বলবেন, আমেরিকার সাথে আর কোনো সংলাপে অংশ নেবেন না।
এর আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছিলেন যে, লেবাননে ইরানের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো কার্যক্রম বন্ধ না করলে তেহরানের ওপর আরও মারাত্মক আঘাত হানা হবে। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও কঠোর ভাষায় বলেন যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধের চেষ্টা করলে ইরানের অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে। ট্রাম্পের এমন উসকানিমূলক বক্তব্যের পর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য যে, গত ১৪ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশ এক ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছিল, যার অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল লেবানন যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা।
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার পর থেকে যে দলের অবিসংবাদিত নেত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একচ্ছত্র আধিপত্য ধরে রেখেছিলেন, সেই দলের শীর্ষ পদ থেকেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন হাওড়ার বিধায়ক অরূপ রায়।
সোমবার (২২ জুন) কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে এই বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে দলের প্রায় ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতা পৌরসভার অন্তত ৭০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের সাংগঠনিক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন।
তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর সর্বভারতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা বাধ্যতামূলক হলেও ২০২২ সালের পর আর কোনো নতুন কমিটি গঠিত হয়নি। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকেই এই জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এরপর দ্রুত সাংগঠনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে ধ্বনি ভোটে অরূপ রায়কে চেয়ারম্যান হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়।
এই পরিবর্তনের মাধ্যমে দলের নতুন নেতৃত্ব কাঠামোও চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, রথিন ঘোষ এবং সাবিনা ইয়াসমিন।
সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান এবং সন্দীপন সাহাকে। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামান আনসারিকে। পাশাপাশি দলের অতীতের সব আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য বিশেষ নিরীক্ষক বা অডিটর নিয়োগের সিদ্ধান্তও ঘোষণা করা হয়েছে।
ছবিঃ ব্রিটানিকা
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্ত্যন্তিনিভকায় প্রবেশ করেছে রুশ বাহিনী। শহরটি এখন তারা অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। ইউক্রেনীয় সেনাদের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, পুরো শহরটি বর্তমানে কোনো পক্ষেরই একক নিয়ন্ত্রণে নেই এবং এটি কার্যত একটি ‘ধূসর অঞ্চলে’পরিণত হয়েছে।
কোস্ত্যন্তিনিভকা শহরটি দনবাস অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। এই শহরের পতন ঘটলে রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনে ইউক্রেনীয়দের শেষ প্রধান দুটি ঘাঁটি—ক্রামাতোরস্ক এবং স্লোভিয়ানস্কের দিকে সরাসরি অগ্রসর হতে পারবে। এর ফলে সমগ্র দনবাস অঞ্চল দখল করার যে লক্ষ্য ক্রেমলিন নির্ধারণ করেছে, তা অর্জন করা মস্কোর জন্য অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে।
বিবিসিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউক্রেনীয় ড্রোন পাইলট বলেন, ‘তারা (রুশ সেনারা) পেছনের দিক থেকে আমাদের এলাকায় ঢুকে পড়ছে। শহুরে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে তাদের সেখান থেকে হটিয়ে দেওয়া চরম কঠিন কাজ।’
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন যুদ্ধ মূলত সম্মুখভাগে স্থবির হয়ে ছিল। ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের দাবি ছিল, তাঁরা এ বছর হারানোর চেয়ে বেশি এলাকা পুনরুদ্ধার করেছেন এবং রুশ সীমান্ত ও অধিকৃত ক্রিমিয়ার মধ্যকার মস্কোর গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ লাইন ব্যাহত করতে পেরেছেন। কিন্তু কোস্ত্যন্তিনিভকায় রুশ সেনারা দক্ষিণ দিক থেকে অগ্রসর হয়ে এখন শহরের উত্তর প্রান্তেও অবস্থান নিয়েছে।
মস্কোর দাবি, তাদের বাহিনী কোস্ত্যন্তিনিভকার দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং তারা ইউক্রেনীয় সামরিক ইউনিটগুলোকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে।
তবে কিয়েভ এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। শহরটি প্রতিরক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ইউক্রেনের ১৯তম কর্পসের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওলেক্সান্ডার বাকুলিন জোর দিয়ে বলেন, ‘পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শত্রুরা সফল হতে পারেনি।’ তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এখনো শহরের ভেতরে প্রায় ১৩০ জন রুশ সেনা অবস্থান করছে।
শহরের ভেতরে যুদ্ধরত এক ইউক্রেনীয় সামরিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি মস্কোর দাবির মতো এতটা সংকটজনক না হলেও, ইউক্রেনীয় প্রশাসন জনসমক্ষে যা স্বীকার করছে, পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর। তিনি বলেন, ‘শহরের ভেতরে আমাদের পরিচ্ছন্নতা ও আক্রমণকারী দল কাজ করছে ঠিকই, কিন্তু রুশরা ক্রমাগত সেখানে আরও সেনা জড়ো করতে সক্ষম হচ্ছে।’
গ্রীষ্মের গাছপালার আড়াল এবং প্রতিটি ভবনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রুশ সেনারা অত্যন্ত ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন এড়াতে রুশ সেনারা অনেক সময় দিনে মাত্র ১০০ মিটার পথ হামাগুড়ি দিয়ে পার হচ্ছে।
বর্তমানে রুশ ড্রোন পাইলটরা ইউক্রেনীয় ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে। ইউক্রেনীয় ড্রোন পাইলট জানান, তাদের জনবল ও সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতা থাকায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা যেহেতু শত্রু পাইলটদের খোঁজার চেয়ে তাদের পদাতিক বাহিনীকে ঠেকাতে বেশি ব্যস্ত থাকি, তাই তারা অনায়াসেই আমাদের অবস্থানগুলো শনাক্ত করে আক্রমণ চালাচ্ছে এবং আমাদের পিছু হটতে বাধ্য করছে।’
ইউক্রেনীয় ড্রোন পাইলট বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি ‘বড় সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রুশ বাহিনী এখন এতটাই কাছাকাছি চলে এসেছে যে তারা ইউক্রেনীয় অবস্থান শনাক্ত করতে সস্তা চীনা ড্রোন ব্যবহার করছে। ফলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য রসদ সরবরাহ করা চরম কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ, সবকটি স্থলপথ এখন সরাসরি রুশ গোলন্দাজ বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুর আওতায় রয়েছে।
ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইন পর্যবেক্ষণকারী প্রকল্প ‘ডিপস্টেট’ জানিয়েছে, কোস্ত্যন্তিনিভকার পতন এখন ‘সময়ের ব্যাপার মাত্র’। এটি ঘটলে এই অঞ্চলে ইউক্রেনের লজিস্টিক অপারেশন আরও জটিল হবে এবং ক্রামাতোরস্ক শহরের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাও অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।
ছবি: সংগৃহীত
বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা ফি এক ধাক্কায় বাড়িয়ে পাঁচ গুণ করেছে জাপান। গত প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এটিই দেশটিতে ভিসা ফি বাড়ানোর প্রথম ঘটনা। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন এই বর্ধিত ফি কার্যকর হতে যাচ্ছে।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একক প্রবেশাধিকারের (সিঙ্গেল-এন্ট্রি) ভিসা ফি বর্তমানের ৩ হাজার ইয়েন (প্রায় ১৮.৬৯ মার্কিন ডলার) থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার ইয়েন করা হচ্ছে। অন্যদিকে, একাধিক প্রবেশাধিকারের (মাল্টিপল-এন্ট্রি) ভিসা ফি বর্তমানের ৬ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার ইয়েন করা হয়েছে।
১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম ভিসা ফি সংশোধন করল টোকিও। গত শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি এবং মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামাকে প্রতিফলিত করতেই এই ফি সংশোধন করা হয়েছে।’
তবে এই সিদ্ধান্তের কারণে জাপানের বিকাশমান পর্যটনশিল্পে বড় কোনো ধাক্কা লাগবে না বলে মনে করেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করছি না যে এটি জাপানে আসা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের সংখ্যার ওপর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’
২০২১ সাল থেকে জাপানি মুদ্রা ‘ইয়েন’-এর মান ক্রমাগত কমছে। বর্তমানে ইয়েনের মান গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। ইয়েনের এই দরপতন এবং করোনা মহামারি পরবর্তী ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কারণে জাপানে বিদেশি পর্যটকদের ঢল নেমেছে। কম খরচে ভ্রমণের সুযোগ পাওয়ায় গত বছর দেশটিতে রেকর্ড ৪ কোটি ২৭ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পর্যটকদের এই রেকর্ড আগমনও পরোক্ষভাবে এই ফি বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
কেবল ভিসাই নয়, জাপানে বসবাসরত বা বসবাস করতে ইচ্ছুক বিদেশিদের জন্য অন্যান্য ফি-ও বড় আকারে বৃদ্ধি করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত মে মাসে জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে বিদেশিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ফি বৃদ্ধির একটি বিল পাস হয়।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, জাপানে স্থায়ী বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) আবেদনের সংবিধিবদ্ধ সর্বোচ্চ ফি বর্তমানের ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ইয়েন পর্যন্ত নির্ধারণের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা বর্তমানের ৩০ গুণ।
এ ছাড়া রেসিডেন্সি স্ট্যাটাসের মেয়াদ বাড়ানোর ফিও বর্তমানের ১০ হাজার ইয়েন থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ইয়েন পর্যন্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। জাপানের নীতিনির্ধারকদের দাবি, ভিসা এবং আবাসনসংক্রান্ত ফিগুলো গ্রুপ অব সেভেন (জি৭) ভুক্ত অন্য উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এত দিন অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় জাপানের ভিসা ফি বেশ কম ছিল।
উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রে অনাবাসী (নন-ইমিগ্রেন্ট) ভিসা আবেদন ফি ১৮৫ ডলার থেকে ৩১৫ ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যে ভ্রমণের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের সাধারণ স্বল্পমেয়াদি ভিসার ফি ১৩৫ পাউন্ড (প্রায় ১৭০ ডলার)। সেই তুলনায় জাপানের নতুন নির্ধারিত ফি উন্নত বিশ্বের অন্যান্য দেশের সমকক্ষ হবে বলে মনে করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে হরমুজ প্রণালী বন্ধের যেকোনো উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া প্রায় ২০ মিনিটের এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরান যদি সমঝোতার পথে না আসে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। এমনকি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ এবং ওই পথে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে আমরা হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেব। তারা যদি সমঝোতা না করে, তাহলে সেখানে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায় করব।
এর আগে শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইসরায়েলকে দায়ী করে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সরাসরি সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও তদারকির দায়িত্ব নিতে পারে। একই সঙ্গে ওই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত তেলের একটি অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বাস্তব অর্থ ও সম্ভাব্য নীতিগত অবস্থান সম্পর্কে জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এদিকে, লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকেও নতুন করে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানকে অবিলম্বে লেবাননে তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা রোববার সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার বৈঠকটি শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আলোচনার মধ্যেই ট্রাম্পের এ ধরনের কঠোর অবস্থান নতুন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনৌতে একটি কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত একটি তিনতলা ভবনে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে অন্তত ১৩ জন নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর উদ্ধারকারীরা ভবনটি থেকে অন্তত ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করেন।
দুর্ঘটনা কবলিত ভবনটিতে দ্বিতীয় তলায় থাকা কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি একটি পোষা প্রাণীর দোকানসহ আরও কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ভবনের ওপরের তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীসহ বহু মানুষ ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন। তবে আগুন লাগার সময় ঠিক কতজন মানুষ সেখানে অবরুদ্ধ ছিলেন, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিক সংখ্যা জানানো হয়নি।
ভবনের ভেতরে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে আটকা পড়া মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে দ্বিতীয় তলায় থাকা কোচিং সেন্টার থেকে পাঁচ থেকে সাতজন শিক্ষার্থী নিচে লাফিয়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি ভাঙা জানালা দিয়ে বাইরে বের হয়ে কার্নিশ ধরে ঝুলে থাকার চেষ্টা করছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি বেড়ার ওপর এবং পরে মাটিতে পড়ে যান। লাফ দেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্তত একজনের হাড় ভেঙে গেছে এবং আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভয়াবহ এই ঘটনার পর উদ্ধারকাজ সরাসরি তদারকি করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক। উদ্ধারকাজের অংশ হিসেবে দমকল কর্মীরা ভবনের কয়েকটি জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তিনি লখনৌর স্থানীয় কর্মকর্তাদের দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার এবং তাদের সম্ভাব্য সব ধরনের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
শাহবাজ শরিফ
দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে অবশেষে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক বিবৃতিতে এই ইতিবাচক অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেছেন।
তার দেওয়া তথ্যমতে, অত্যন্ত ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা (রোডম্যাপ) তৈরিতে সম্মত হয়েছেন।
উভয় পক্ষের এই আলোচনাকে এগিয়ে নিতে এবং রাজনৈতিকভাবে তদারকি করতে একটি উচ্চ-পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আগামী দিনগুলোতে আরও গভীর কারিগরি বা টেকনিক্যাল আলোচনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাকিস্তানের ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করে শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘একটি শান্তিপূর্ণ এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সংলাপ ও কূটনীতিকে এগিয়ে নিতে পাকিস্তান তার সৎ এবং আন্তরিক ভূমিকা পালন করে যাবে।’
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এবং বিশ্ব শান্তির ক্ষেত্রে এই আলোচনাকে একটি বড় ধরনের বরফ-গলা অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর পটভূমিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শাহবাজ শরিফ। সুইজারল্যান্ডে চলমান এই কূটনৈতিক আসরে ট্রাম্পের ‘দূরদর্শী এবং অত্যন্ত গতিশীল নেতৃত্বের’ জন্য তাকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।
সুইজারল্যান্ডের বৈঠকস্থলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শাহবাজ শরিফ বলেন, আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যার সুনির্দিষ্ট ফল হিসেবে আজ আমরা সবাই এখানে এক টেবিলে বসতে পেরেছি। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে এই আলোচনার ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে দারুণ আশাবাদ ব্যক্ত করেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী।
শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, আমার বিশ্বাস, এখানে আমাদের মধ্যে অত্যন্ত চমৎকার কিছু আলোচনা হতে যাচ্ছে। আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে, এই আলোচনা আগামী দিনগুলোতে একটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও ইতিবাচক পরিণতির দিকে এগিয়ে যাবে।
এর আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, বিগত কয়েক ঘণ্টায় দুই দেশের মধ্যে ‘অসাধারণ’ অগ্রগতি হয়েছে। তবে আলোচনার টেবিলে ইতিবাচক পরিবেশ থাকলেও ইরানকে ঢালাওভাবে ছাড় দেননি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি এখনো ইরানকে ‘আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে এর দায় তেহরানের ওপর চাপান। তবে একই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি দুই দেশকে এমন এক ভবিষ্যতের মুখোমুখি করেছে যেখানে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করতে পারবে।
মন্তব্য