× হোম রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া সিটিজেন জার্নালিজম বিচিত্র ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন ইউরোপ অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ মানসিক স্বাস্থ্য ব্লকচেইন অন্যান্য ভাষান্তর ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
440 crore of Trinamool Congress deferred
google_news print-icon

তৃণমূল কংগ্রেসের ৪৪০ কোটি রুপি স্থগিত

তৃণমূল-কংগ্রেসের-৪৪০-কোটি-রুপি-স্থগিত-

ভোটের বিপর্যয়ের পর এবার তীব্র আর্থিক ও সাংগঠনিক সংকটের মুখে পড়ল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। দলের প্রায় ৪৪০ কোটি রুপি জমা থাকা তিনটি বেসরকারি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ডেবিট অপারেশন (টাকা তোলার প্রক্রিয়া) সম্পূর্ণ ‘ফ্রিজ’বা স্থগিত করা হয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের।

দলটিরই কয়েকজন বিদ্রোহী বিধায়কের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে, যা মূলত দলের ভেতরের চরম অর্থ-তহবিল নিয়ন্ত্রণ যুদ্ধকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। বিধাননগরের একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা পিটিআইকে জানিয়েছে, একটি বেসরকারি ব্যাংকে থাকা ওই তিনটি অ্যাকাউন্ট বর্তমানে ‘ডেবিট ফ্রিজ’-এর আওতায় রয়েছে।

এর অর্থ হলো, এই অ্যাকাউন্টগুলোতে নতুন করে টাকা জমা দেওয়া বা ক্রেডিট করা সম্ভব হলেও, সেখান থেকে কোনো টাকা তোলা বা অন্য কোথাও স্থানান্তর (আউটওয়ার্ড ট্রানজেকশন) করা যাবে না।

সম্প্রতি সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক ও আর্থিক কাঠামোর দখল নেওয়া নিয়ে দুটি শিবিরের মধ্যে বিরোধ চরম রূপ নেয়। এর একদিকে রয়েছেন বিদায়ী মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং অন্যদিকে রয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়।

এই ক্ষমতার লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়ের অনুগামী ১০ জন বিধায়ক বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তারা অ্যাকাউন্টগুলোর টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে একটি সুনির্দিষ্ট এফআইআর ও বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানান।

বিদ্রোহী বিধায়কদের দায়ের করা অভিযোগপত্রের একটি কপি থেকে জানা যায়, তারা এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোনো আইনি উৎস থেকে এসেছে, নাকি অবৈধ কোনো কার্যক্রম—যেমন সন্দেহভাজন ‘কাট-মানি’ আদায়, সরকারি তহবিলের অপব্যবহার কিংবা কোনো কেলেঙ্কারির মাধ্যমে অর্জিত টাকা এখানে জমা করা হয়েছে সেটা তদন্তকারীদের খতিয়ে দেখতে বলেছেন।

অভিযোগপত্রে এক বিধায়ক উল্লেখ করেন, ‘আমি নির্ভরযোগ্য সূত্র ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি থেকে জানতে পেরেছি যে, ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদুপায় এবং অবৈধ অর্থ আদায়ের মাধ্যমে উপার্জিত কিছু টাকা ঘুরপথে এই ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে জমা করা হয়ে থাকতে পারে।’

এদিকে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের অনুগত এক প্রবীণ বিধায়ক বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, তারা পুলিশের এই পদক্ষেপের কথা শুনেছেন তবে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নোটিশ পাননি। তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। সন্ধ্যার মধ্যে আমরা বিস্তারিত জানতে পারব।’

টাকা চুরির আশঙ্কায় বা অ্যাকাউন্টগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে কয়েক দিন আগেই প্রবীণ তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেখানে তিনি দলের আনুমানিক ৫০০ কোটি রুপির বেশি আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের লেনদেন স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

তবে অরূপ বিশ্বাস যেখানে প্রশাসনিক বা সুরক্ষার কারণে অ্যাকাউন্ট স্থগিতের দাবি জানিয়েছিলেন, সেখানে বিদ্রোহী বিধায়করা বিষয়টিকে পুরোপুরি অপরাধমূলক বা ‘ক্রিমিনাল’ তদন্তের দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছেন।

মমতা অনুপন্থী নেতা ও বিধায়ক কুনাল ঘোষ অবশ্য দাবি করেছেন, অরূপ বিশ্বাস এখন আর দলের কোষাধ্যক্ষ পদে নেই এবং আর্থিক বিষয়ে কথা বলার কোনো এখতিয়ার তার নেই।

কুনাল ঘোষ বলেন, ‘কোনো বিভ্রান্তি না রেখে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, অরূপ বিশ্বাস একসময় দলের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। কিন্তু গত ৫ জুনের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে শুভাশিষ চক্রবর্তীকে নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তখন থেকেই তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন।’

টাকা জমা থাকা মূল ৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি অবরুদ্ধ বা ডেবিট ফ্রিজ হয়ে যাওয়ায় তৃণমূলের ভেতরের এই আর্থিক ক্ষমতার লড়াই এখন আর কেবল অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন একদিকে কোটি কোটি টাকার অবৈধ উৎস খোঁজার পুলিশি তদন্ত এবং অন্যদিকে দলের আসল ‘কোষাধ্যক্ষ’ কে—তা নিয়ে আইনি ও প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।

এই আর্থিক অচলাবস্থার কারণে দল পরিচালনার স্বাভাবিক খরচ মেটানো এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম চালানো তৃণমূলের বর্তমান নেতৃত্বের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Main topics of discussion Lebanon conflict Iran

আলোচনায় মূল বিষয় লেবানন সংঘাত: ইরান

আলোচনায় মূল বিষয় লেবানন সংঘাত: ইরান

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার টেবিলে বসার আগে আবারও হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। একইসঙ্গে দেশটি স্পষ্ট করে দিয়েছে, শীর্ষ পর্যায়ের এই বৈঠকে লেবাননে ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলার বিষয়টি তাদের আলোচনার মূল বিষয়। শান্তি আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পথে হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরানের অনড় অবস্থান নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সামরিক সূত্রের বরাতে ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ নিশ্চিত করেছে, হরমুজ প্রণালী এখনো সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। ইরানের শক্তিশালী রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কোনো জাহাজ বা নৌযানকে এই জলপথ পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

বার্তা সংস্থা ইরনার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ‘লেবান যুদ্ধবিরতি প্রতিনিয়ত লঙ্ঘন করেই চলেছে ইরান। স্বাভাবিকভাবে আজকের বৈঠকে এই বিষয়টি আমাদের আলোচনার প্রধান বিষয়।’

বাঘাই আরও জানান, লেবানন সংকটের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদগুলো সহজলভ্য করা এবং ইরানি তেল বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়টিও তাদের আলোচনার এজেন্ডাতে রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে স্থায়ী শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে দুই পক্ষই প্রথমে একটি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত শনিবার আইআরজিসি হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচল সচল রয়েছে। তবে ইরানের সামরিক সূত্র আজ আবারও তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধই থাকছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

এদিকে স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে আজ মুখোমুখি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আলোচনায় অংশ নিতে রোববার সকালে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টকে আয়োজিত এই শীর্ষ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে ভ্যান্সের পাশাপাশি আরও অংশ নিচ্ছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।

অন্যদিকে, ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। এই দলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিসহ দেশটির নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং তেল খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

আলোচনা সফল করতে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে থাকছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এছাড়াও আলোচনায় কাতারেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

শান্তিচুক্তির আরও বিস্তারিত জানালেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

যুদ্ধ স্থায়ী বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া প্রাথমিক চুক্তির আরও বিস্তারিত প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, চুক্তির অংশ হিসেবে বর্তমানে কাতারের হেফাজতে থাকা ইরানের অবরুদ্ধ ৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অর্থ সম্পদ ফেরত দেওয়া হবে।

প্রতিবেদনে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের সব শর ইরানের পক্ষে রয়েছে। এই আলোচনা ও মধ্যস্থতার ইতিবাচক ফলাফল খুব দ্রুত সবার সামনে স্পষ্ট করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে পেজেশকিয়ান বলেন, ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক ভাষণে ইরানের জন্য যে বিষয়গুলো নিষিদ্ধ করেছিলেন, চুক্তিতে সেগুলোর সবকটিকে ইরানি জনগণের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

সুইজারল্যান্ডে চলমান এই উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকেও খোঁচা দিতে ছাড়েননি ইরানি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, এই সমঝোতায় বিশ্বের মধ্যে নেতানিয়াহু প্রথম ব্যক্তি যিনি সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট ও অসুখী হবেন।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The bodies of 15 migrants washed ashore in Libya

লিবিয়ার উপকূলে ভেসে এলো ১৫ অভিবাসীর মরদেহ

লিবিয়ার উপকূলে ভেসে এলো ১৫ অভিবাসীর মরদেহ ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে গত এক সপ্তাহে নারীসহ অন্তত ১৫ জন অভিবাসীর মরদেহ ভেসে উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নৌকা উল্টে গিয়ে সাগরে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) নিরাপত্তা বাহিনী, নৌবাহিনী এবং চিকিৎসক সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নৌবাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, উপকূল থেকে অন্তত ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তারা বলছেন, নৌকাটিতে প্রায় ৬১ জন আরোহী ছিলেন।

সূত্রগুলো জানায়, মিসর সীমান্তের কাছে তোব্রুক শহরের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার হয়েছে। দুজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, উদ্ধার করা মরদেহগুলোতে পচন ধরতে শুরু করেছে। এলাকায় আরও মরদেহ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

তোব্রুক রেড ক্রিসেন্টের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, সাদা প্রতিরক্ষামূলক পোশাক পরা স্বেচ্ছাসেবকরা পাথুরে উপকূল থেকে মরদেহগুলো সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরছেন।

২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই লিবিয়া উপকূল হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার অন্যতম প্রধান রুটে পরিণত হয়েছে। সংঘাত, দারিদ্র্য ও কর্মসংস্থানের আশায় হাজারো অভিবাসী মরুভূমি ও সাগরের ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেন। তেলসমৃদ্ধ লিবিয়ার অর্থনীতিও অনেক দরিদ্র অভিবাসীকে আকৃষ্ট করে।

এদিকে আলাদা একটি ঘটনায় রাজধানী ত্রিপোলির ইমার্জেন্সি মেডিসিন অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার জানিয়েছে, উপকূলে নৌকাডুবির পর ১৩ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
59 percent of Israelis want Netanyahu to leave

নেতানিয়াহুর বিদায় চান ৫৯ শতাংশ ইসরায়েলি

নেতানিয়াহুর বিদায় চান ৫৯ শতাংশ ইসরায়েলি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র আর ইরান সমঝোতায় পৌঁছানোয় চাপে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দেশে–বিদেশে ইসরায়েল ও দেশটির সরকারের প্রতি ক্ষোভ বাড়ছে। এমনকি ইসরায়েলের বেশির ভাগ মানুষের চাওয়া, নেতানিয়াহু এখন রাজনীতি থেকে বিদায় নেবেন।

ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম চ্যানেল–১২–এর এক জরিপে এমন মনোভাবের কথা উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ইসরায়েলিদের ৫৯ শতাংশ মনে করছেন, নেতানিয়াহুর রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া উচিত। আসছে শরতে হতে যাওয়া ইসরায়েলের পরবর্তী নির্বাচনে তার আর অংশ নেওয়া উচিত হবে না।

জরিপে অংশ নেওয়া ইসরায়েলিদের মাত্র ৩৩ শতাংশ দেশটির পরবর্তী নির্বাচনে লিকুদ পার্টির নেতা নেতানিয়াহুর অংশ নেওয়াকে সমর্থন করেছেন। ৮ শতাংশ ইসরায়েলি বিষয়টি নিয়ে কোনো মতামত জানাননি।

নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ইসরায়েলের শাসনক্ষমতায় রয়েছেন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। এ পদে ছিলেন ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত। এরপর ২০০৯ সালে আবারও ইসরায়েলের সরকারপ্রধান হন নেতানিয়াহু। ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

সাময়িক বিরতির পর ২০২২ সালে আবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী হন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সেই থেকে দেশটির সরকারপ্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। নেতানিয়াহু ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা সরকারপ্রধান।

ফিলিস্তিনের গাজা, লেবানন ও ইরানে নির্বিচার হামলার জেরে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নেতানিয়াহু দেশে–বিদেশে সমালোচিত হচ্ছেন। গাজায় যুদ্ধাপরাধের কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) এই রাজনীতিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আর ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত বুধবার সমঝোতা স্মারকে সই করেন। চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে দুই পক্ষ সুইজারল্যান্ডে ৬০ দিনের সময়সীমা মাথায় রেখে আলোচনায় বসছে।

সমঝোতার অন্যতম শর্ত, লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। কিন্তু ইসরায়েল শুরুতে তা মানতে চায়নি। অবশেষে গত শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির কথা জানায়।

এরপরও লেবাননে নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। দেশটিতে গতকাল এক দিনেই অন্তত ৪৭ জনকে হত্যা করে তারা। গতকাল শনিবার ইসলায়েলি হামলায় আরও অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েল যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা নস্যাৎ করতে চাইবে, এমন আশঙ্কার কথা আগে থেকে থেকে বলে আসছিলেন বিশ্লেষকেরা। নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলের উগ্র ইহুদিবাদী নেতারা চান, লেবাননে হামলা চলুক।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
22 killed in Israeli attack in Lebanon

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২২

লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২২ ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২০ জুন) দক্ষিণ লেবানন ও বেকা উপত্যকায় এসব হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ইসরায়েল দাবি করেছে, হিজবুল্লাহর হামলার জবাবে তারা এসব অভিযান চালিয়েছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ বলেছে, তারা লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর ‘অবাধ চলাচল’ মেনে নেবে না।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবানন এবং বেকা অঞ্চলে একাধিক বিমান ও ড্রোন হামলা হয়, যা হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে এ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। তবে আলোচনা কবে শুরু হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে সংঘাত অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
New round of talks between Israel and Lebanon in Washington

ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফায় আলোচনা

ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফায় আলোচনা লেবানন-ইসরায়েলের আলোচনা। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রর ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েল ও লেবাননের শীর্ষ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একটি নতুন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই কূটনৈতিক আলোচনার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ওয়াশিংটনের এই ঘোষণার ঠিক কিছুক্ষণ আগেই ইসরায়েল ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ লেবানন সীমান্তে পুনরায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার কথা জানায়। এর আগে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর অবিরাম বিমান হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক শান্তি সমঝোতা স্মারকটি সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী লেবাননের অবরুদ্ধ দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের চালানো সাম্প্রতিকতম হামলায় অন্তত ৪৭ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলাপ করেন। ফোনালাপে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনাটিই মূলত লেবাননের জাতীয় পুনর্গঠন, ধসেপড়া অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘদিনের সংঘাত অবসানের একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ। দুই দেশের শীর্ষ নেতা আগামী ২৩ ও ২৫ জুন ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোর এজেন্ডা নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে এই নির্ধারিত বৈঠকগুলোতে দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম সরকার একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করবে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে ১৯৯৩ সালের পর প্রথমবারের মতো দুই দেশের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি সরাসরি আলোচনায় বসেছিলেন। পরবর্তীতে জুন মাসের দ্বিতীয় দফার বৈঠকের পর উভয় পক্ষ সাময়িক সংঘর্ষ বিরতির ঘোষণা দিলেও ওই আলোচনাগুলোতে শক্তিশালী হিজবুল্লাহকে সম্পৃক্ত না করায় মাঠপর্যায়ে কোনো অর্থবহ অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হয়নি।

বিগত ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকেই লেবাননের বর্তমান সরকার মার্কিন-সমর্থিত একটি বিশেষ রোডম্যাপের অংশ হিসেবে হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্র করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর বিপরীতে লেবানন সরকারও দেশটির দক্ষিণ সীমান্ত থেকে সব ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে গত জুন মাসে সম্পাদিত একটি চুক্তিতে হিজবুল্লাহকে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর উত্তরাঞ্চলে সরে যাওয়ার শর্ত দেওয়া হলেও সেখানে ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত রয়ে গেছে।

অবশ্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্পাদিত মূল যুদ্ধ অবসান চুক্তি বা এমওইউ-তে লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান দুই উগ্রপন্থি ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গভির ও স্মোট্রিচ কর্তৃক লেবাননকে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং চলমান সীমান্ত সংঘর্ষ এই শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের পথে বারবার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত বিরলভাবে ইসরায়েলি আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন যে ইসরায়েল মূলত ওই অঞ্চলে একটি স্থায়ী যুদ্ধের পরিবেশ বজায় রাখতে চায়।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
US situation worse than ever after Iran war Obama

ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আগের চেয়েও শোচনীয়: ওবামা

ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থা আগের চেয়েও শোচনীয়: ওবামা বারাক ওবামা। ছবি: সংগৃহীত

১৫ সপ্তাহের ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি সংঘাত শুরুর আগের চেয়েও শোচনীয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। শুক্রবার (২০ জুন) এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

শিকাগোতে ওবামা প্রেসিডেনশিয়াল সেন্টার উদ্বোধনের প্রাক্কালে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওবামা বলেন, যুদ্ধের পেছনে শত শত কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছে, সামরিক বাহিনীর ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। অথচ এর বিনিময়ে প্রাপ্তি শূন্য। তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধ শুরুর আগের অবস্থানেই ফিরে এসেছি, বরং বলা যায় অবস্থা এখন আরও খারাপ।”

ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের স্বাক্ষরিত নতুন সমঝোতা স্মারক নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ওবামা ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) বাতিলের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার শর্তে চুক্তিবদ্ধ ছিল, কিন্তু ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসায় ইরান উল্টো আরও বেশি পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে।

অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শান্তি পরিকল্পনার সুফল পাওয়ার দাবি করেছেন। তিনি দাবি করেন, ইরানের প্রচলিত সামরিক শক্তি ভেঙে পড়েছে এবং জ্বালানির দাম কমছে। তবে ভ্যান্সের সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত হওয়ায় নতুন আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ওদিকে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে যেকোনো আলোচনায় তেহরানের নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা শর্ত মানতে হবে। অন্যথায় কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এক্সন মবিলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নিল চ্যাপম্যান সতর্ক করে বলেছেন, কৌশলগত মজুত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছালে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ থেকে ১৬০ ডলারে উঠতে পারে।

সাক্ষাৎকারের শেষভাগে ওবামা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন ও অস্থিরতা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী রাখতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহির আওতায় আনার দায়িত্ব নাগরিকদেরই নিতে হবে এবং অস্থির এই সময় পার করতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা জরুরি।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
The question of reconciliation between the United States and Iran on the Lebanon issue

লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা নিয়ে প্রশ্ন

লেবানন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা নিয়ে প্রশ্ন লেবাননে ধ্বংসস্তূপের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক নারী। ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির পরও পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দেশটিতে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে লেবানন ইস্যুতে (লেবাননে ইসরায়েলি হামলা) যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ভবিষ্যৎ ঘিরে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—আঞ্চলিক সংঘাত কি সত্যিই প্রশমনের পথে, নাকি এই যুদ্ধবিরতি কেবল আরও বড় সংকটের আগে একটি সাময়িক বিরতি? রয়টার্স বলছে, এমন এক সময় এই হামলা হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সুইজারল্যান্ডে নতুন দফা আলোচনার জন্য রওনা হয়েছেন।

ওয়াশিংটন ও তেহরান আশা করছে, সাম্প্রতিক ১৪ দফা সমঝোতার ভিত্তিতে একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু লেবাননে চলমান উত্তেজনা এবং ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ সেই প্রচেষ্টাকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন একাধিক হামলা চালায়। এতে আবাসিক ভবন ও বাড়িঘর ধ্বংস হয়। একইসঙ্গে ভোরের আগে ইসরায়েলি গোলন্দাজ বাহিনী নাবাতিয়েহ ও আশপাশের এলাকায় গোলাবর্ষণ করে। এসব হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন।

যদিও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষই শুক্রবার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বিকেল ৪টা থেকে তা কার্যকর হয়, তবু যুদ্ধবিরতির শর্ত বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘হিজবুল্লাহ যদি আমাদের আক্রমণ না করে, তাহলে আমাদের জন্য এটি যুদ্ধের সময় নয়।’ তবে একইসঙ্গে তিনি জানান, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের অবস্থান বজায় রাখবে।

এই অবস্থানই মূলত যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। কারণ, হিজবুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতিকে ‘দখল’ হিসেবে বর্ণনা করে আসছে।

লেবানন: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির সবচেয়ে দুর্বল কড়ি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—ইরান, যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করবে। এর মধ্যে লেবাননও রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, ইসরায়েল এই চুক্তির পক্ষভুক্ত নয়। তেলআবিব শুরু থেকেই দাবি করে আসছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অংশ নয় এবং নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার স্বাধীনতা তাদের রয়েছে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যতই রাজনৈতিক সমঝোতার দিকে এগোতে ইচ্ছুক, লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষ যেকোনো মুহূর্তে পুরো প্রক্রিয়াকে বিপর্যস্ত করতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি ইতিমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে তার দায় যুক্তরাষ্ট্রকেই বহন করতে হবে।

সামনে কঠিন পথ

যুদ্ধ বন্ধে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতাকে স্থায়ী রূপ দিতে সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টক রিসোর্টে প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু লেবাননে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় তিনি সফর বাতিল করেন। পরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার খবর প্রকাশ পায়।

এতে বোঝা যায়, ওয়াশিংটন এখনো আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মূল জটিলতা এখন আর শুধু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নয়; বরং ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের ভূমিকা, বিশেষ করে হিজবুল্লাহকে ঘিরে।

কেন সম্পর্কের টানাপড়েন?

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান উত্তেজনার মূল কারণ লক্ষ্যগত পার্থক্য। ইসরায়েলের কাছে এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য হলো ইরান ও তার মিত্রদের দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল করা। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য যুদ্ধ বন্ধ করা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা।

যুদ্ধের কারণে তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যদিও লেবানন যুদ্ধবিরতির পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমতে শুরু করেছে এবং হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহনও আংশিক স্বাভাবিক হয়েছে, তবু সংঘাত পুনরায় শুরু হলে বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

এছাড়া, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প এমন একটি যুদ্ধের বোঝা টানতে চান না, যা অধিকাংশ মার্কিন ভোটারের কাছে জনপ্রিয় নয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি কি ভেস্তে যেতে পারে?

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—লেবাননের পরিস্থিতি কি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতাকে ব্যর্থ করে দেবে? এর উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। তবে কয়েকটি বিষয় উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। প্রথমত, ইসরায়েল চুক্তির অংশ নয় এবং নিজেদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার স্বাধীনতা ধরে রাখতে চাইছে। দ্বিতীয়ত, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও লেবাননের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

তৃতীয়ত, ইরান মনে করে লেবাননে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার দায় যুক্তরাষ্ট্রের। ফলে সেখানে সংঘাত অব্যাহত থাকলে তেহরান ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়াতে পারে। তবে একইসঙ্গে উভয় পক্ষেরই আলোচনায় ফিরে যাওয়ার প্রবল প্রণোদনা রয়েছে। ইরান অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও সম্পদ মুক্ত করার সুবিধা চায়, আর যুক্তরাষ্ট্র চায় যুদ্ধের অবসান ও জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা।

মন্তব্য

p
উপরে