ভারতের আসাম রাজ্যে অবতরণের আগমুহূর্তে বিমানবাহিনীর একটি পরিবহন বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। শনিবার জোরহাট বিমান ঘাঁটির অভ্যন্তরেই এএন-৩২ মডেলের ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হয় বলে এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। আছড়ে পড়ার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে গেলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভারতীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে যে, পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। তবে এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যেই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
আন্তোনভ এএন-৩২ মূলত ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান শক্তি বা ‘ওয়ার্কহর্স’ হিসেবে সুপরিচিত। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে নির্মিত এই বিমানগুলো দুর্গম পাহাড় ও বৈরী আবহাওয়ায় রসদ সরবরাহে অত্যন্ত কার্যকর। বর্তমানে ভারতের বিমানবহরে এই ধরনের প্রায় ১০০টি বিমান যুক্ত রয়েছে যা একসাথে ৫০ জন যাত্রী বা ৪২ জন প্যারাট্রুপার পরিবহনে সক্ষম।
এর আগে গত মার্চ মাসেও আসামের কার্বি আংলং জেলায় একটি সুখোই এসইউ-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দুইজন পাইলট নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া ৫ মার্চ জোরহাট থেকে উড্ডয়নের পর একটি বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সেটি প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বর্তমান দুর্ঘটনাটি সেই স্মৃতিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এল।
ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে ট্রলি ব্যাগে করে বিপুল পরিমাণ উচ্চ মানের মাদক পাচারের সময় ভারতের মুম্বাই বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এক মডেল। হর্ষা সানি নামের ওই মডেলের কাছ থেকে প্রায় ১১ কেজি হাইড্রোপনিক গাঁজা উদ্ধার করেছে মুম্বাই কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি ৮২ লাখ রুপি বা বাংলাদেশী মুদ্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা।
এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে চড়ে মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজী মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর নিয়মিত নজরদারির সময় আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে আটক করে এয়ার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (এআইইউ) এবং কাস্টমস বিভাগের কর্মকর্তারা।
পরবর্তীতে হর্ষা সানির ট্রলি ব্যাগ তল্লাশি করে ভেতরে ভ্যাকুয়াম-সিলড ১২টি প্লাস্টিকের প্যাকেট পাওয়া যায়, যা সবুজ রঙের উপাদানে ঠাসা ছিল। মাদক নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত এনডিপিস কিট ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, উপাদানগুলো আসলে উচ্চ মূল্যের হাইড্রোপনিক গাঁজা।
নিষিদ্ধ মাদক পাচারের এই অপরাধে কাস্টমস বিভাগ তাকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের (এনডিপিস) আওতায় গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া হর্ষা সানি ২০২৫ সালের ‘মিসেস কেরালা’ প্রতিযোগিতার একজন সাবেক প্রতিযোগী ছিলেন।
আটকের পর তাকে মুম্বাইয়ের ফোর্ট আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মাদকের এই বিশাল চালানটি মুম্বাই বা ভারতের অন্য কোনো অঞ্চলে কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল এবং এর পেছনে আর কে কে জড়িত রয়েছে, তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে জোর তদন্ত চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: এনডিটিভি
ছবি: সংগৃহীত
উভয় সীমান্তে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত। পাশাপাশি উন্নত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত টহল জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুই দেশ।
শুক্রবার (১২ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। তথাকথিত অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত এল। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
খবরে বলা হয়েছে, ঢাকার অভিযোগ, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অভিবাসীদের সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা এবং ভারতে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের শনাক্ত ও বহিষ্কারের বৃহত্তর উদ্যোগের মধ্যে বিষয়টি সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) এবং ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের চার দিনব্যাপী বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) আলোচনাকে ‘আন্তরিক, ইতিবাচক এবং ভবিষ্যৎমুখী’ উল্লেখ করা হয়।
নিয়মিত আয়োজিত এই বৈঠকে সীমান্ত এলাকায় ‘অবৈধ, অনিচ্ছাকৃত এবং জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রমের’ বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটি ক্রমেই একটি বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যা বিশ্বের দীর্ঘতম সীমান্তগুলোর একটি। ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) যারা ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের মতো গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলো শাসন করে, তথাকথিত অনথিভুক্ত অভিবাসন মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে। গত বছর থেকে দলটি ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত তথাকথিত ‘বাংলাভাষী মুসলমানদের’ বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছে।
বাংলাদেশ জানিয়েছে, এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তারা নয়াদিল্লির কাছে এক ডজনের বেশি চিঠি পাঠিয়েছে। বিজিবি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তারা এ ধরনের একাধিক কথিত ‘পুশইন’ প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং ড্রোন নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে সীমান্ত পেরিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া ‘একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
বাংলাদেশ জানিয়েছে, কথিত জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম ঠেকাতে সীমান্তের বিভিন্ন অংশে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে ভারত মে মাসে জানিয়েছিল, তারা আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র ছাড়া ভারতে বসবাসরত ২ হাজার ৮৬০ জনের বেশি সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিকের জাতীয়তা যাচাই করতে ঢাকার সহায়তা চেয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ মানব পাচার, সীমান্তে প্রাণহানি, চোরাচালান, সীমান্ত অবকাঠামো এবং সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা (কো-অর্ডিনেটেড বর্ডার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান) বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তি, প্রশান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার দুই পক্ষ পুনর্ব্যক্ত করেছে।’ পাশাপাশি সমন্বিত টহল জোরদার, নজরদারি বৃদ্ধি, তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করা এবং আন্তসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপ বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয়েছে তারা।
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, দুই দেশের শীর্ষ সীমান্ত কর্মকর্তাদের পরবর্তী বৈঠক আগামী নভেম্বরে ঢাকায় হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই। ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে দাবি করেছেন, তাকে ভিত্তিহীন এবং ‘নিছক কল্পনা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়েই জানিয়েছেন, আলোচনার বিষয়ে ওয়াশিংটন বারবার অবস্থান পরিবর্তন করায় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাঘায়েই বলেন, “চুক্তির খসড়ার একটি বড় অংশ চূড়ান্ত হলেও শুরু থেকেই মার্কিনীরা তাদের অবস্থানে অনড় থাকতে পারছে না। তারা প্রতিনিয়ত অবস্থান পরিবর্তন করছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, ইরান তার ঘোষিত ‘রেডলাইন’ বা মূল স্বার্থের বিষয়ে কোনো আপস করবে না। বাঘায়েই বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তির ব্যাপারে ইরান এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। যদিও কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্থিতিশীল পদক্ষেপের কারণে কূটনৈতিক অগ্রগতির পরিবর্তে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। তাই এই মুহূর্তে চুক্তির কথা বলাটা স্রেফ কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়।”
এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক নাটকীয় ঘোষণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে হামলার নির্দেশ তিনি প্রত্যাহার করেছেন। তিনি বলেছিলেন, “আমরা ইরানের সঙ্গে একটি বড় ধরনের সমঝোতায় পৌঁছেছি। খুব সম্ভবত এই সপ্তাহের শেষেই একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হয়ে যাবে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আশাবাদী বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এমন কড়া প্রতিক্রিয়া এল। তেহরানের এই অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে এখনো বড় ধরনের দূরত্ব রয়ে গেছে।
সূত্র: সিএনএন ও ইরনা।
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান দীর্ঘ উত্তেজনার অবসান ঘটেছে। একই সঙ্গে তেহরান আর কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাতে সিনেট প্রার্থী ব্যারি মুরের সমর্থনে আয়োজিত এক টেলি-র্যালিতে অংশ নিয়ে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
টেলিফোনে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, "আপনারা সম্ভবত এখনো শোনেননি, তবে আজ আমি ঘোষণা দিচ্ছি যে ইরানের সঙ্গে আমাদের লড়াইয়ের ইতি ঘটেছে। তারা সম্মত হয়েছে যে তারা আর কখনোই পরমাণু অস্ত্র রাখবে না। এই বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপরই আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম।"
আলোচনার এক পর্যায়ে ট্রাম্প দাবি করেন, দুই দেশের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ সমঝোতা হয়েছে। তিনি বলেন, "আজ আমরা ইরানের সঙ্গে বিষয়টি চূড়ান্তভাবে মীমাংসা করেছি। আমরা একটি দারুণ চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছি যেখানে পারমাণবিক অস্ত্রের কোনো স্থান নেই। আমরা যা চেয়েছিলাম, তার সবই অর্জন করেছি।"
সংঘাতের অবসান ঘটায় সৈন্যরা দ্রুত ফিরে আসবে উল্লেখ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, "সবকিছু প্রায় গুছিয়ে আনা হয়েছে। খুব দ্রুতই মানুষজন তাদের ঘরে ফিরতে শুরু করবে।"
তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমগুলো এই চুক্তির বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা । ছবি: সংগৃহীত
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর কড়া বার্তার একদিন পরে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত তিনটি দেশে ফের হামলা চালিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে ফের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু জর্ডানেই ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনের বিমানঘাঁটিগুলোতে অবস্থিত ১৮টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া বাহরাইনে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরেরও ফের হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে আইআরজিসি।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিহত করা ইরানি ড্রোন থেকে খসে পড়া ধ্বংসাবশেষের কারণে হামাদ শহর এবং রাজধানী মানামায় ১১ বছর বয়সী এক কিশোরী সামান্য আহত হয়েছে এবং এতে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া কুয়েত জানায়, ইরানি হামলার কারণে তারা আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ করে রেখেছে। এর আগে জিসিসির মন্ত্রিপরিষদ এক বিবৃতিতে বলে, ইরানের এসব হামলা এবং এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নৌচলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার তেহরানের।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা অবিচ্ছেদ্য। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যেকোনো একটির বিরুদ্ধে হামলা মানে তাদের সবার বিরুদ্ধে হামলা।
একইসঙ্গে জিসিসি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, তারা যেন এই হামলার নিন্দা জানায় এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
ছবি: সংগৃহীত
টানা এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো গত বছর বিশ্বে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কমেছে। এর কারণ হিসেবে অনেক মানুষ অনিরাপদ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০২৫ সালের শেষে বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার। এক বছর আগের তুলনায় এটি ৫৪ লাখ কম। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে- যুদ্ধ, সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এখনো অগ্রহণযোগ্যভাবে বেশি।
দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি কমাতে আগামী দশকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইউএনএইচসিআর তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই হ্রাসের প্রধান কারণ হলো শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের (আইডিপি) বড় একটি অংশের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া। ২০২৫ সালে মোট ১ কোটি ৪৭ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ তাদের নিজ এলাকায় ফিরে গেছে। এর মধ্যে ৪৪ লাখ শরণার্থী তাদের নিজ দেশে ফিরে গেছে, যা গত ৬০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের ঘটনা।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক প্রধান বারহাম সালেহ জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের ৯০ শতাংশেরও বেশি ঘটেছে আফগানিস্তান, সুদান ও সিরিয়ায়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব প্রত্যাবর্তনের অনেকগুলোই নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে হয়নি, বরং চাপের মধ্যে হয়েছে। তিনি বলেন, তারা এমন দেশে ফিরে গেছে যেখানে নিরাপত্তাহীনতা এখনো বিদ্যমান, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত এবং মৌলিক সেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সীমিত। যেসব প্রত্যাবর্তন নিরাপদ নয়, সেগুলো কোনো সমাধান নয়, বরং এটি নতুন বাস্তুচ্যুতির চক্র শুরু করতে পারে।
২০২৫ সালের শেষে বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে ৪ কোটি ১৬ লাখকে শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ ওই বছরের মধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে শরণার্থী হয়েছে। নতুন শরণার্থীদের ৬০ শতাংশ এসেছে মাত্র আটটি দেশ থেকে। এর মধ্যে সুদান থেকে প্রায় ১০ লাখ এবং ইউক্রেন থেকে প্রায় ৮ লাখ মানুষ পালিয়ে গেছে। প্রতিবেদনটি আরও বলেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে কয়েকটি বড় সংকট নতুন বাস্তুচ্যুতির কারণ হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ফেব্রুয়ারিতে শুরু করা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে ইরানে ৩২ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া লেবাননে মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে। ইরান ও লেবাননের সংঘাতের কারণে সেখানে আশ্রিত অনেক শরণার্থীও বছরের শুরু থেকে নিজ দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছে, যার মধ্যে সিরিয়া ও আফগানিস্তানও রয়েছে।
ইউএনএইচসিআর শরণার্থী পুনর্বাসনের সুযোগ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় শরণার্থীর সংখ্যা ২৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে পুনর্বাসনের জন্য স্থান ছিল ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০টি, যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিন্তু গত বছর তা অর্ধেকেরও বেশি কমে ৮১ হাজার ৮০০-এ নেমে আসে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী গ্রহণ কমে যাওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, চাহিদা ও সুযোগের মধ্যে ব্যবধান অত্যন্ত বড় এবং তা আরও বাড়ছে।
বারহাম সালেহ নিজেও একসময় শরণার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এখন দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর এমনকি দশকজুড়ে চলতে থাকে। তিনি বলেন, বর্তমানে ৭০ শতাংশ শরণার্থী দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে, যা টেকসই নয়। তিনি দেশগুলোকে একটি নতুন উদ্যোগে সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানান, যার লক্ষ্য আগামী দশকে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুত শরণার্থীর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন, পুনর্বাসন এবং মানবিক ভিসার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশগুলো বুঝবে যে একটি আরও টেকসই পরিস্থিতি গড়ে তোলার পথ রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরের মুজাফফরাবাদের কাছে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকালের দিকে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা সব আরোহী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর।
দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করে দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা জানায়, উড্ডয়নের সময় হেলিকপ্টারটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আরও জানায়, হেলিকপ্টারে থাকা সব কর্মকর্তা ও সেনাসদস্য শাহাদাতবরণ করেছেন, কেউই বেঁচে নেই।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর হেলিকপ্টারে থাকা সামরিক সদস্যদের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি। তবে উদ্ধার ও অনুসন্ধানকারী দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর।
দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসীম মুনির এবং সেনাবাহিনীর সব স্তরের কর্মকর্তা-সদস্যরা হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।
এর আগে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে গিলগিট-বালতিস্তানের দিয়াম জেলায় কারিগরি সমস্যার কারণে সেনাবাহিনীর একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ সৈন্য নিহত হন। একই বছরের আগস্টে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের একটি উদ্ধারকারী উড়োজাহাজ বৈরী আবহাওয়ার কারণে মোহমান্দ জেলায় বিধ্বস্ত হলে দুই পাইলট ও তিন ক্রু সদস্যের প্রাণহানি ঘটে।
মন্তব্য