ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সাম্প্রতিক এক ফোনকলে ‘পাগল’ বলেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি—রাগবশত নয়, বরং বিরক্তির কারণে এ কথা বলেছিলেন তিনি।
গত বুধবার (৩ জুন) ‘পোড ফোর্স ওয়ান’ নামের একটি পডকাস্ট শো-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তাকে পাগল বলেছিলাম; তবে রাগতভাবে বলিনি। তিনি ইসরায়েলি বাহিনীকে লেবাননে টানা অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এতে আমি তার প্রতি খানিকটা বিরক্ত ছিলাম। আসলে আমি বলতে চেয়েছিলাম, বিবি (নেতানিয়াহুর ডাক নাম) আমাদের এটা থামানো উচিত।’
উল্লেখ্য, গত মে মাসে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করে লেবানন ও ইসরায়েল; কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের পরও সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে দমনের নামে লেবাননে অভিযান অব্যাহত রাখে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু।
এতে ব্যাপকভাবে ক্ষুব্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার (১ জুন) এক ফোনালাপে নেতানিয়াহুর প্রতি ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘আপনি একটা জঘন্য পাগল। যদি আমি না থাকতাম, তাহলে এতদিনে আপনি জেলে পচতেন। আমি আপনাকে বাঁচিয়েছি। সবাই এখন আপনাকে ঘৃণা করে এবং শুধু আপনার কারণে ইসরায়েলকেও ঘৃণা করে।’
তবে এ ঘটনার পর গত মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু দাবি করেন, এ ফোনকলের কারণে ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্কের কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা নেই।
এক্সিওসকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এক। মাঝেমধ্যে কিছু বিষয়ে আমাদের মতবিরোধ হয়, এমন মতবিরোধ অনেক দৃঢ় বন্ধনের পরিবারের মধ্যেও হয়ে থাকে। হোয়াইট হাউসে এ পর্যন্ত যারা ক্ষমতাসীন হয়েছেন, তাদের মধ্যে তিনি (ট্রাম্প) ইসরায়েলের সবচেয়ে মহান বন্ধু। তিনি আমাকে সম্মান করেন, আমিও তাকে সম্মান করি এবং আমাদের নিজ নিজ মতপার্থক্যগুলো পাশ কাটিয়ে আমরা কাজ করতে পারি।’
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েল প্রথম দিকে এ অভিযানে সঙ্গে থাকলেও পরে সরে গিয়ে লেবাননে মনোনিবেশ করে।
ইরানে হামলার ব্যাপারে নেতানিয়াহু ‘কলকাঠি নেড়েছিলেন কি না’— সে সম্পর্কে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল পডকাস্ট শো-তে। এ প্রশ্নে খানিকটা ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘মানে? আমিই তো এটা শুরু করেছি। আমি সংঘাত শুরু করেছি কারণ আমরা তাদের পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দিতে পারি না। এখন অবশ্য এর সঙ্গে ইসরায়েলও জড়িয়ে পড়েছে, কারণ ইরান পরমাণু অস্ত্র বানালে তারাই প্রথম আক্রান্ত হতো। এবং ইসরায়েল বলে কিছু থাকত? সত্যি বলছি, যদি আমি না থাকতাম— তাহলে এ পৃথিবী থেকে ইসরায়েলের নাম মুছে যেত।’
বৈঠকে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা। ছবি: সংগৃহীত
ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর বুধবার (৩ জুন) ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই সমঝোতা বাস্তবায়নে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে অবশ্যই হামলা ‘সম্পূর্ণভাবে বন্ধ’ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এমনটি জানানো হয়েছে।
দেশ দুটির মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও তারা নির্দিষ্ট কিছু পাইলট জোন বা পরীক্ষামূলক অঞ্চল তৈরির বিষয়ে একমত হয়েছে। এসব এলাকায় লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে এবং হিজবুল্লাহর মতো কোনো গোষ্ঠীর উপস্থিতি সেখানে থাকবে না।
উভয় পক্ষের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত হামলা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত এসেছে। বুধবার দিনের শুরুতে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে, অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হন।
যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার বিষয়টি হিজবুল্লাহর হামলা ‘সম্পূর্ণভাবে বন্ধ’ এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার ওপর নির্ভর করছে।
গত ২ মার্চ ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর নতুন করে হামলা শুরুর পর এটি ছিল দুদেশের কূটনীতিকদের মধ্যে চতুর্থ দফার সরাসরি বৈঠক। বিবৃতি অনুযায়ী, ২২ জুন বা তার পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির লক্ষ্যে উভয় পক্ষ পরবর্তী দফার আলোচনায় বসবে।
সংঘাত অব্যাহত
দিনের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি লেবানন সংঘাত এবং ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের আলোচনাকে আলাদা রাখতে চান। কিন্তু তেহরান মনে করে, এই দুটি সংঘাতই পরস্পর যুক্ত। এমনকি বৈরুতে হামলা হলে ‘পুরোদমে যুদ্ধ’ শুরুর হুমকি দিয়ে রেখেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বুধবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, লেবানন থেকে ইসরায়েলি আকাশসীমায় ঢুকে পড়া ‘শত্রুপক্ষের’ ড্রোন ও দুটি রকেট তারা ভূপাতিত করেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর দাবি, ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করার জবাবে তারা উত্তর ইসরায়েলে অবস্থানরত সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
লেবাননে সংঘাত থামাতে গত ১৭ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে তা কখনোই কার্যকর হয়নি। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নিজেদের হামলাকে ন্যায্য বলে দাবি করে আসছে।
হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতা মাহমুদ কোমতি মঙ্গলবার এএফপিকে বলেন, তারা কোনো ‘আংশিক যুদ্ধবিরতি’ মেনে নেবেন না।
স্বাস্থ্যকর্মী ও সেনাসদস্যদের ওপর হামলা
বুধবার লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত ছিল। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর প্রধান মহাসড়কে একটি গাড়ির ওপর হামলা ছাড়াও দক্ষিণ লেবাননের ২০টিরও বেশি জায়গায় বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি গ্রামে হামলার আগে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েলি বাহিনী।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, টায়ার শহরের নিকটবর্তী আল-হাওশ এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় চার সিরীয় এবং দুই ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, ‘এই এলাকায় এ ধরনের কোনো হামলার খবর আমাদের জানা নেই।’
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, দক্ষিণ লেবাননের অন্য একটি এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স লক্ষ্য করে চালানো হামলায় রিসালা স্কাউটস অ্যাসোসিয়েশনের দুই প্যারামেডিক নিহত হয়েছেন। সংস্থাটি হিজবুল্লাহর মিত্র আমাল মুভমেন্টের সঙ্গে যুক্ত।
হামলায় বিধ্বস্ত একটি অ্যাম্বুলেন্সের ছবি প্রকাশ করেছে মন্ত্রণালয়, যেখানে দেখা যায় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মাস্ক রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩০ জন জরুরি সেবা ও স্বাস্থ্যকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় তাদের এক সেনাসদস্যের প্রাণ গেছে এবং একটি সামরিক যানে পৃথক হামলায় একজন কর্মকর্তাসহ আরও এক সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। সেনাবাহিনী একে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
মিয়ানমারের বাংলাদেশ সংলগ্ন রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আরাকান আর্মির (এএ) অভিযান আরও তীব্র হয়েছে। সশস্ত্র এই জাতিগত গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা পুরো রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এরই মধ্যে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শহর রাজধানী সিতওয়ে ও কিয়াউকফিউকে ঘিরে ব্যাপক সংঘর্ষ চলছে। গোলন্দাজ হামলা, নৌযুদ্ধ, বিমান হামলা এবং স্থলযুদ্ধের ফলে হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে থাইল্যান্ড থেকে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিতওয়ের দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গোপসাগর ও কালাদান নদীতে অবস্থান নেওয়া জান্তা সরকারের নৌবাহিনীর জাহাজগুলোর সঙ্গে এএ যোদ্ধাদের তীব্র গোলাগুলি ও গোলন্দাজ লড়াই চলছে। একই সময়ে এএ বাহিনী শ্বে মিন গান নৌ-সহায়তা ঘাঁটি এবং সিতওয়ের উত্তরে কিয়ার মা থাউক গ্রামের কাছে অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলা জোরদার করেছে। এর জবাবে যুদ্ধজাহাজ থেকে ব্যাপক গোলাবর্ষণ করা হচ্ছে।
সিতওয়ের এক বাসিন্দা সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতীকে বলেন, এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, ‘রাতে আমরা অবিরাম গোলন্দাজ হামলার শব্দ শুনি। এএ বিভিন্ন দিক থেকে গোলাবর্ষণ করছে।’
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে অন্তত একটি নৌযান এএ-এর হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে যুদ্ধজাহাজগুলোকে উপকূল থেকে আরও দূরে অবস্থান নিতে হচ্ছে এবং কালাদান নদীতে তাদের কার্যক্রমও সীমিত হয়ে পড়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে শ্বে মিন গান ঘাঁটির আশপাশের কয়েকটি সামরিক চৌকি দখল করেছে এএ। এরপর থেকে সংগঠনটি ধারাবাহিকভাবে ওই এলাকায় আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘যখন বিমান হামলা হয় না, তখন যুদ্ধ খুবই তীব্র থাকে। কিন্তু যুদ্ধবিমান এলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে যায়।’
শ্বে মিন গান কালাদান নদীর তীরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি। এটি রাজধানী সিতওয়ে ও পন্নাগ্যুন টাউনশিপের সীমান্তের কাছে অবস্থিত। অন্যদিকে কিয়ার মা থাউক গ্রামটি জান্তা বাহিনীর সিতওয়ে আঞ্চলিক অপারেশন কমান্ডের নিকটবর্তী। সিতওয়ের পিই তাও থার ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শহরে প্রবেশের নদীপথগুলোকে সুরক্ষিত করতে বাঙ্কার নির্মাণ ও স্থলমাইন পেতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে সামরিক বাহিনী। এক নারী বাসিন্দা বলেন, ‘তারা নদীতীরবর্তী সড়কের পুরো অংশজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে। দেখে মনে হচ্ছে তারা অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
এদিকে, চীনের সমর্থনে বাস্তবায়নাধীন একাধিক বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের কেন্দ্র কিয়াউকফিউ টাউনশিপেও তীব্র সংঘর্ষ চলছে। সেখানে তাউং মাও উ নৌঘাঁটি থেকে সানে শহরের দিকে অগ্রসর হওয়া জান্তা সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের গতিরোধ করেছে এএ। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, নৌঘাঁটি থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে সংঘটিত সাম্প্রতিক লড়াইয়ে জান্তা বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্য নিহত হয়েছে। এএ-র ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের ভাষ্য, ২৯ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত চলা তীব্র সংঘর্ষে একজন ক্যাপ্টেনসহ ৪০ জনের বেশি সেনা নিহত হয়েছে।
একই সূত্র জানায়, এএ-এর ধারাবাহিক অভিযানের মুখে জান্তা বাহিনী পিছু হটে তাউং মাও উ নৌঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থানে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে ওই ঘাঁটিতে ১১তম লাইট ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন এবং দানিয়াওয়াড্ডি নৌ সদরদপ্তরের সেনারা মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানিয়েছেন, কিছু সামরিক কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নৌপথে কিয়াউকফিউ শহরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়ন-৩৪ থেকে নতুন সেনা সদস্যদের নৌকায় করে ওই এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।
ত্রাণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তাউং মাও উ ঘাঁটির আশপাশের গ্রামগুলোতে ড্রোন ও জাইরোকপ্টার ব্যবহার করে হামলা চালাচ্ছে জান্তা বাহিনী। সাম্প্রতিক সংঘর্ষের কারণে কিয়াউকফিউ এলাকায় আট হাজারের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। বাস্তুচ্যুত এসব মানুষের জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও আশ্রয় সহায়তা প্রয়োজন।
বাস্তুচ্যুতদের সহায়তায় কাজ করা এক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, ‘প্রতিদিন বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। রাখাইনের দেশ-বিদেশে থাকা সম্প্রদায়গুলোর দেওয়া অনুদানের অর্থ দিয়ে আমরা তাদের সহায়তা করছি।’
বর্তমানে আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপের মধ্যে ১৪ টির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি চিন রাজ্যের পার্শ্ববর্তী পালেতোয়া এলাকাও তাদের দখলে। এএ প্রধান তুন মিয়াত নাইং ঘোষণা দিয়েছেন, ২০২৭ সালের মধ্যে অবশিষ্ট তিনটি টাউনশিপ সিতওয়ে, কিয়াউকফিউ ও মানাউং দখল করা হবে। তিনি বলেছেন, ‘চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে।
বাংলাদেশের একটি আলোচিত খুনের ঘটনা প্রসঙ্গে প্রকাশ্য জনসভায় করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি বিতর্কে জড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন আইনজীবী রিঙ্কি সিং চট্টোপাধ্যায়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) তৃণমূল কংগ্রেরসের সভানেত্রীর বিরুদ্ধ শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় এই অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
রিঙ্কি সিংয়ের অভিযোগ, বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তসংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক গোপনীয়তা সংক্রান্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন।
অভিযোগকারীর দাবি, গত মঙ্গলবার (২ জুন) কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায় এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা থেকে বাংলাদেশের ওই হত্যাকাণ্ড এবং তার তদন্ত নিয়ে ভারতীয় সংস্থাগুলোর ভূমিকার ইঙ্গিত মেলে। এ ধরনের মন্তব্য জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং তা উসকানিমূলক বলেও দাবি করেছেন এই আইনজীবী।
ভারতের একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশের ঢাকায় খুন হন ওসমান হাদি। তদন্তে উঠে আসে, ঘটনায় জড়িত কয়েকজন অভিযুক্ত মেঘালয় সীমান্ত পেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছিলেন। পরে রাজ্যের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) দুজনকে গ্রেপ্তার করে বলে অভিযোগকারীর দাবি।
ধর্মতলার মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল।’ যদিও তিনি কোনো ব্যক্তির নাম নেননি, তবু তার বক্তব্য ঘিরেই বিতর্ক দানা বেঁধেছে।
অভিযোগপত্রে একাধিক ধারার উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, বক্তব্যের মাধ্যমে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং ভীতি সৃষ্টির মতো বিষয় সামনে এসেছে। দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ বলে জানা গেছে।
তবে এ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ভারতের রাজধানী দিল্লির মালব্য নগরের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৭ জনই বিদেশি নাগরিক, যাদের মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) সকালে লাগা এই আগুনে আরও ৩৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৩ জুন) সকাল আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে ‘ফ্লুরিশ স্টে’ নামক একটি পাঁচতলা হোটেলের বেসমেন্টে অবস্থিত রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের ‘মিকাসো ইন’ হোটেলেও ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাটি আবাসিক ও ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় এবং শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের আধিক্যের কারণে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয়।
দমকল বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ওয়াটার ইঞ্জিন, দুটি ওয়াটার বাউজার এবং কুইক রেসপন্স টিমসহ একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে জ্বলন্ত ভবন থেকে মানুষ নিচে লাফিয়ে পড়ছে। নিচে থাকা লোকজন তাদের আঘাত কমাতে রাস্তায় তোশক ও ম্যাট্রেস বিছিয়ে দেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি চার থেকে ছয়জনকে কাঁচ ভেঙে ভবন থেকে লাফ দিতে দেখেছি। নিচে পড়ার পর একজনের পা ভেঙে গেছে বলে মনে হলো।’
লভকেশ বাজাজ নামক এক ব্যক্তির মালিকানাধীন এই হোটেলটি হউজ রানীর সরু গলিতে অবস্থিত। ২৫টি কক্ষের এই হোটেলে আগুন লাগার সময় প্রায় ৪০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় অধিকাংশ পর্যটকই ঘুমিয়ে ছিলেন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ফ্লুরিশ স্টে হোটেলটি দিল্লি সরকারের ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ (বিঅ্যান্ডবি) নীতিমালার আওতায় মাত্র ৬টি রুমের লাইসেন্স পেয়েছিল। কিন্তু আইন অমান্য করে বেসমেন্টসহ হোটেলটিতে ২৫টি রুম চালানো হচ্ছিল।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের প্রধান এ কে মালিক বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে হোটেলটির কোনো বৈধ ফায়ার এনওসি (অনাপত্তি সনদ) ছিল না। পাঁচতলা ভবনটির বেসমেন্টে শটার লাগানো ছিল, যা কেটে ফায়ার কর্মীদের ভেতরে ঢুকতে হয়েছে। ভবনটিতে জানালা ছিল না এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ছিল মাত্র একটি। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ায় আটকা পড়ে প্রাণহানি বাড়ে।’
পাশের মিকাসো ইন হোটেলের শেফ কেসর সিং সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন,‘আমি ইলেকট্রিক স্টোভে চা বানাচ্ছিলাম। হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। বাইরে বেরিয়ে দেখি পুরো হোটেল দাউদাউ করে জ্বলছে। আমি কোনোমতে পালিয়ে প্রাণ বাঁচাই।’
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) বলা হয়, ‘এই প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি গভীরভাবে শোকাহত। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে অনেক প্রাণ বাঁচিয়েছে। দিল্লি সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আছে এবং আহতদের সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করছে।’
জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সরকারি নথি অনুসারে, ৬০টি দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য মার্কিন বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ কারণেই এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং জাপানসহ বাণিজ্য অংশীদারদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটন তদন্ত শুরু করার কয়েক মাস পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
গত মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) জানায়, এই দেশগুলোর মধ্যে ৫৪টি ‘জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং কার্যকরভাবে তা প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে’।
এমন সময়ে এ প্রস্তাব দেওয়া হলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন তার জরুরি শুল্ক কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ে ওই শুল্কব্যবস্থা বাতিল হয়েছিল।
ইউএসটিআর জানিয়েছে, জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান এবং যুক্তরাজ্য থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, তদন্তাধীন বাকি ৪৫টি দেশের ওপর অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
কোন দেশের ওপর কত শুল্ক?
ইউএসটিআরের প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, মেক্সিকো, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর ও গুয়াতেমালাসহ কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
ট্রাম্পের ১০ শতাংশ শুল্ক বাতিল হচ্ছে কাদের জন্য?
অন্যদিকে ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডসহ আরও অন্তত ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রস্তাব কার্যকর হলে ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর বাংলাদেশের তুলনায় বেশি শুল্ক আরোপ হবে।
কেন এই শুল্ক প্রস্তাব?
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর জানিয়েছে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ৩০১-এর আওতায় কয়েক মাস আগে বিভিন্ন বাণিজ্য অংশীদার দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়।
এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে কি না এবং তাদের নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয় তদন্তে। এর ভিত্তিতেই নতুন শুল্ক প্রস্তাব আনা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কৌশল?
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট জরুরি ক্ষমতার আওতায় আরোপিত ট্রাম্প প্রশাসনের বেশ কয়েকটি শুল্ক বাতিল করে। এরপর প্রশাসন নতুন আইনি ভিত্তিতে শুল্ক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টা শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই শুল্ক কাঠামো কার্যকর হলে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের আরোপিত কিছু সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
বাণিজ্যে কী প্রভাব পড়তে পারে?
প্রস্তাবিত শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি পণ্যের খরচ বেড়ে যেতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর বাজারে যেসব দেশ বড় পরিসরে পণ্য রপ্তানি করে, তাদের জন্য অতিরিক্ত শুল্ক নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
তবে এখনই এর প্রভাব নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার পর এতে পরিবর্তন আসতে পারে।
তথাকথিত জনস্বার্থে ভূমি অধিগ্রহণের অজুহাতে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেমের নিকটবর্তী ৩০ হেক্টর (৭৪ একর) ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের সামরিক আদেশ জারি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু।
ফিলিস্তিনি প্রাচীর ও বসতি প্রতিরোধ কমিশনের প্রধান মোয়াদ শাবান বলেছেন, ইসরায়েল বেথলেহেমের কাছে জাবাল আল-ফুরিদিস এলাকার কিছু জমি অধিগ্রহণের আদেশ দিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, সেখানে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের উন্নয়ন করা হবে।
শাবানের মতে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এটি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের জারি করা তৃতীয় জমি অধিগ্রহণের আদেশ। তিনি অভিযোগ করেন, এটি শুধু একটি প্রকল্প নয়; বরং ফিলিস্তিনি জমির ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের জন্য জমি ব্যবহারের বৃহত্তর নীতির অংশ।
তিনি বলেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের মধ্যে ওই স্থানের আশেপাশের ১৭.১ হেক্টর (৪২ একর) জমিকে রাষ্ট্রীয় জমি হিসেবে ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছে। ফিলিস্তিনি প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে কেবল ভূমি নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বসতি স্থাপনের উদ্যোগের সমর্থনে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ভূদৃশ্যকে নতুন রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টারই একটি অংশ।
শাবান বলেন, এই ধরনের জমি অধিগ্রহণ নীতি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ধীরে ধীরে স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি বিপজ্জনক উপায়। তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে একতরফাভাবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পশ্চিম তীরের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য হলো ‘এরিয়া সি’-তে জমির ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং সেখানে বসতি স্থাপন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দাবি, প্রত্নতাত্ত্বিক উন্নয়নের কথা বলা হলেও এর পেছনে রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
১৯৯৫ সালের অসলো ২ চুক্তি অনুসারে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের প্রায় ৬১ শতাংশ নিয়ে গঠিত ‘এরিয়া সি’ এলাকাটি সম্পূর্ণ ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি সরকার এমন একটি পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে, যা কর্তৃপক্ষকে ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো পশ্চিম তীরের বিশাল এলাকাকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধন করার অনুমতি দেবে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি সহিংসতা তীব্রতর হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৬ মে পর্যন্ত এই ঘটনায় ১ হাজার ১৬৮ জন নিহত, ১২ হাজার ৬৬৬ জন আহত, প্রায় ২৩ হাজার গ্রেপ্তার এবং প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
মন্তব্য