ভারতের রাজধানী দিল্লির মালব্য নগরের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৭ জনই বিদেশি নাগরিক, যাদের মধ্যে বাংলাদেশিও রয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) সকালে লাগা এই আগুনে আরও ৩৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৩ জুন) সকাল আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে ‘ফ্লুরিশ স্টে’ নামক একটি পাঁচতলা হোটেলের বেসমেন্টে অবস্থিত রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের ‘মিকাসো ইন’ হোটেলেও ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাটি আবাসিক ও ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় এবং শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের আধিক্যের কারণে উদ্ধারকাজে বেগ পেতে হয়।
দমকল বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ওয়াটার ইঞ্জিন, দুটি ওয়াটার বাউজার এবং কুইক রেসপন্স টিমসহ একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে জ্বলন্ত ভবন থেকে মানুষ নিচে লাফিয়ে পড়ছে। নিচে থাকা লোকজন তাদের আঘাত কমাতে রাস্তায় তোশক ও ম্যাট্রেস বিছিয়ে দেন। একজন প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি চার থেকে ছয়জনকে কাঁচ ভেঙে ভবন থেকে লাফ দিতে দেখেছি। নিচে পড়ার পর একজনের পা ভেঙে গেছে বলে মনে হলো।’
লভকেশ বাজাজ নামক এক ব্যক্তির মালিকানাধীন এই হোটেলটি হউজ রানীর সরু গলিতে অবস্থিত। ২৫টি কক্ষের এই হোটেলে আগুন লাগার সময় প্রায় ৪০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় অধিকাংশ পর্যটকই ঘুমিয়ে ছিলেন।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ফ্লুরিশ স্টে হোটেলটি দিল্লি সরকারের ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ (বিঅ্যান্ডবি) নীতিমালার আওতায় মাত্র ৬টি রুমের লাইসেন্স পেয়েছিল। কিন্তু আইন অমান্য করে বেসমেন্টসহ হোটেলটিতে ২৫টি রুম চালানো হচ্ছিল।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের প্রধান এ কে মালিক বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে হোটেলটির কোনো বৈধ ফায়ার এনওসি (অনাপত্তি সনদ) ছিল না। পাঁচতলা ভবনটির বেসমেন্টে শটার লাগানো ছিল, যা কেটে ফায়ার কর্মীদের ভেতরে ঢুকতে হয়েছে। ভবনটিতে জানালা ছিল না এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ ছিল মাত্র একটি। ফলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ধোঁয়ায় আটকা পড়ে প্রাণহানি বাড়ে।’
পাশের মিকাসো ইন হোটেলের শেফ কেসর সিং সেই ভয়াবহ মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন,‘আমি ইলেকট্রিক স্টোভে চা বানাচ্ছিলাম। হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। বাইরে বেরিয়ে দেখি পুরো হোটেল দাউদাউ করে জ্বলছে। আমি কোনোমতে পালিয়ে প্রাণ বাঁচাই।’
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ রুপি এবং আহতদের ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) বলা হয়, ‘এই প্রাণহানি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।’
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি গভীরভাবে শোকাহত। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে অনেক প্রাণ বাঁচিয়েছে। দিল্লি সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আছে এবং আহতদের সব ধরনের চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে একাধিক বন্দুক হামলায় ৬ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এসব হামলার পেছনে পারিবারিক বিরোধ বা গৃহস্থালি বিরোধের সূত্র থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য, সন্দেহভাজন হামলাকারীকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তার শরীরে নিজের গুলিতে সৃষ্ট ক্ষতচিহ্ন ছিল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় মুসকাটিন পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, নিহতরা সবাই সন্দেহভাজন হামলাকারীর পরিবারের সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামলাকারীর পরিচয় ৫২ বছর বয়সি রায়ান উইলিস ম্যাকফারল্যান্ড হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি আইওয়ার মুসকাটিন শহরের বাসিন্দা ছিলেন।
মুসকাটিন পুলিশের প্রধান অ্যান্থনি কাইস, এই হামলাকে ‘অশুভ কাজ’ ও ‘নিষ্ঠুর অমানবিক কর্মকাণ্ড’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। সোমবার (০১ জুন) মুসকাটিন শহরের বিভিন্ন স্থানে এসব গুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় সোমবার (০১ জুন) দুপুর ১২টার কিছু পর পুলিশ প্রথম গুলির ঘটনার খবর পায়। ঘটনাস্থলে একটি বাড়িতে পৌঁছে কর্মকর্তারা চারজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান।
পুলিশ জানায়, চারজনকেই ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই ম্যাকফারল্যান্ড ওই বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই কর্মকর্তারা তাকে একটি নদীতীরবর্তী হাঁটাপথে একটি পথচারী সেতুর কাছে খুঁজে পান। পুলিশ আরও জানায়, তাঁর শরীরে নিজের করা গুলির আঘাত ছিল। তাঁকে চিকিৎসাসহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা কাজে আসেনি এবং ঘটনাস্থলেই মৃত ঘোষণা করা হয়।
পরে তদন্তকারীরা অন্য একটি বাসভবনে আরও এক ব্যক্তির মরদেহ খুঁজে পান। তার মৃত্যু গুলির আঘাতে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর আরও তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছায়, যেখানে তারা আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার করে। তার মৃত্যুও গুলির আঘাতে হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুলিশ যে ঠিকানার তথ্য প্রকাশ করেছে, অনলাইন মানচিত্রে সেখানে একটি মেটাল ওয়ার্কশপের অবস্থান দেখা যায়। এক বিবৃতিতে পুলিশ বলেছে, ‘প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এসব গুলির ঘটনা পারিবারিক বা গৃহস্থালি বিরোধ থেকে ঘটেছে। নিহত সবাই মৃত সন্দেহভাজনের পরিবারের সদস্য বলে বিশ্বাস করা হচ্ছে।’
পুলিশপ্রধান কাইস নিহতদের নাম বা বয়স প্রকাশ করেননি। তিনি বলেন, তদন্ত এখনো চলমান। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল। তবে এ বিষয়ে তিনি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
আইওয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত মুসকাটিন শহরটি মিসিসিপি নদীর তীরে অবস্থিত। গত বছর প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তথ্য অনুযায়ী, শহরটির জনসংখ্যা প্রায় ২৩ হাজার ৫০০। মুসকাটিনের মেয়র ব্র্যাড বার্ক ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই মর্মান্তিক বন্দুক হামলার ঘটনায় আজ রাতে আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত।’
ভারতে দীর্ঘদিন অবস্থান করতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসার নিয়মে হঠাৎ বড় পরিবর্তন এনেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক যদি ভারতে ১৮০ দিনের বেশি অবস্থান করতে চান, তবে তাকে ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স রুলস, ২০২৫’ সংশোধন করে এই নতুন নিয়ম চালু করেছে। আগে ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পর নিবন্ধন করার সুযোগ থাকলেও, এখন সেই সুযোগ আর থাকছে না।
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিক ১৮০ দিন বা তার কম মেয়াদের ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন, কিন্তু পরে সেখানে অবস্থানকাল বাড়াতে চান, তাদের অবশ্যই ১৮০ দিন শেষ হওয়ার আগে যে কোনো সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন করতে হবে।
আগের নিয়ম অনুযায়ী, ভারতে পৌঁছানোর পর ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। নতুন নিয়মে এই সময়সীমা বাতিল করে ১৮০ দিন পার হওয়ার আগেই নিবন্ধন করার নিয়ম সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হলো।
এছাড়া যেসব বিদেশির ভিসার মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি, কিন্তু শর্ত থাকে যে প্রতিবার সফরের সময় একটানা ১৮০ দিনের বেশি থাকা যাবে না—তাদের ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, একটানা থাকার মেয়াদ ১৮০ দিন পার হওয়ার আগেই তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হওয়ার পর নিবন্ধন করার বিষয়টি এখন থেকে অত্যন্ত জরুরি বা আপৎকালীন পরিস্থিতি ছাড়া কোনোভাবেই বিবেচনা করা হবে না।
দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে চলমান তীব্র বিক্ষোভের মুখে সংঘটিত ভয়াবহ ‘জেনোফোবিক’ বা অভিবাসীবিদ্বেষী হামলায় অন্তত পাঁচজন মোজাম্বিকানের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। মোজাম্বিক সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকায় চলমান এই সহিংসতায় নিজ দেশের নাগরিকদের অফিশিয়ালি নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর মোসেল বে-তে ছড়িয়ে পড়া এই ভয়াবহ সহিংসতায় প্রায় ৮০০ মোজাম্বিকান নাগরিক চরম বিপদের মুখে পড়েন।
মোজাম্বিক সরকারের প্রেস অফিস থেকে মঙ্গলবার (০২ জুন) প্রকাশিত এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় উদ্ভূত উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে মোট সাতজন মোজাম্বিকান নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এদের মধ্যে পাঁচজন সরাসরি বর্ণবাদী ও অভিবাসীবিদ্বেষী হামলার শিকার হয়ে মারা গেছেন এবং বাকি দুজন ওই সহিংসতা থেকে বাঁচতে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে মোজাম্বিকে ফিরে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। এই ভয়াবহ সহিংসতার জেরে গত শনিবার (৩০ মে) ৩০০ জন মোজাম্বিকান নাগরিক সম্পূর্ণ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে স্বদেশে ফিরে এসেছেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে বাকি ৫০০ জনেরও বেশি মোজাম্বিকান নাগরিককে দক্ষিণ আফ্রিকার ওয়েস্টার্ন কেপ প্রদেশের একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং গতকাল ১ জুন থেকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে মোজাম্বিকে ফিরিয়ে আনার রাষ্ট্রীয় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা পুলিশ রোববার (৩১ মে) জানিয়েছে, কেপটাউন থেকে প্রায় ৩৮০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত মোসেল বে বন্দরের একটি অস্থায়ী বসতিতে দুই ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তারা গভীর তদন্ত শুরু করেছে, তবে এই মৃত্যুগুলো সরাসরি অভিবাসীবিদ্বেষী বিক্ষোভের সাথে যুক্ত কি না বা নিহতরা কোন দেশের নাগরিক তা পুলিশ এখনো স্পষ্ট করেনি।
ভয়াবহ এই হামলার ঘটনায় মোসেল বে শহরের স্থানীয় মেয়র ডার্ক কোটজে তীব্র উদ্বেগ, ক্ষোভ ও গভীর হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, যেখানে প্রকাশ্য দিবালোকে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং অসংখ্য পরিবারকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করা হচ্ছে, এমন বর্বরোচিত অভিবাসীবিদ্বেষী হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্যিক রাজধানী জোহানেসবার্গ, ডার্বিন এবং ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের বিভিন্ন অংশে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অবৈধ অভিবাসীদের তাড়িয়ে দেওয়ার দাবিতে যে সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, এই অঞ্চলের বর্তমান হামলাগুলো তারই একটি ধারাবাহিক রূপ।
দক্ষিণ আফ্রিকায় এই ধরনের বর্ণবাদী ও জেনোফোবিক সহিংসতার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। এর আগে ২০০৮ সালে দেশজুড়ে ভয়াবহ অভিবাসীবিদ্বেষী সহিংসতায় কয়েক ডজন প্রবাসী নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৫ এবং ২০২১ সালেও দেশটিতে অনুরূপ মারাত্মক দাঙ্গা ও সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সাধারণ ভোটারদের সস্তা সমর্থন ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই এই ক্ষতিকর অভিবাসী বিরোধী সেন্টিমেন্ট ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা নতুন করে উসকে দিচ্ছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরান যে মূল্য দিয়েছে তা ‘খুবই চড়া’ এবং এর ‘পতন’ অবশ্যম্ভাবী। সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ইরান এরই মধ্যে যে মূল্য দিয়েছে তা খুবই চড়া। তিনি বলেন, ‘ইরানে সন্ত্রাসের রাজত্বের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে গেছে। এটি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না এবং আমি আপনাদের বলছি–এর পতন অবশ্যম্ভাবী।’
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সম্পর্কে তিক্ততা শুরু হয়েছে। গত সোমবারের এক ফোনকলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি নেতানিয়াহুকে ‘পুরোপুরি পাগল’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন সবাই ‘ইসরায়েলকে ঘৃণা করে’। একই সঙ্গে তিনি হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে ইসরায়েলের সম্মতি দাবি করেন। খবর টাইমস অব ইসরায়েলের।
নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প বলেন, ‘তুমি পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছ। আমি না থাকলে তুমি জেলে থাকতে। আমি তোমার জীবন বাঁচাচ্ছি। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এ কারণে সবাই ইসরায়েলকে ঘৃণা করে।’ এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস এসব তথ্য জানিয়েছে।
লেবাননে সংঘাত বৃদ্ধির বিষয়ে হওয়া ওই ফোনকলে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে অকৃতজ্ঞ বলে অভিযুক্ত করেন। অ্যাক্সিওসের বর্ণনা অনুযায়ী এই ফোনকলটি ছিল ‘অশ্লীল গালাগালিতে ভরপুর’।
তবে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করেই লেবাননে আবারও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। দক্ষিণ লেবাননে চালানো ইসরায়েলি বাহিনীর এই সর্বশেষ হামলায় অন্তত আটজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে লেবাননের রাজধানী বৈরুত থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে বলেছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প হিজবুল্লাহ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কথা বলেছেন এবং তারা ‘হামলা বন্ধ করতে সম্মত’ হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের সেই বিবৃতির পরপরই লেবাননজুড়ে নতুন করে হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।
লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসন অব্যাহত থাকলে ইরান শুধু আলোচনা বন্ধই করবে না, বরং সরাসরি প্রতিরোধ ও যুদ্ধে নামবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘের গালিবাফ বলেন, ইসরায়েল যদি লেবাননে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইরান শুধু আলোচনা বন্ধই করবে না, বরং সরাসরি প্রতিরোধ ও যুদ্ধে নামবে।
লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার ও হিজবুল্লাহ-ঘনিষ্ঠ নেতা নাবিহ বেরির সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি জোর দিয়ে বলেছি, যদি লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে আমরা শুধু আলোচনার প্রক্রিয়া থামাব না, তাদের বিরুদ্ধে অবস্থানও নেব।
‘ইরানের ধৈর্যেরও সীমা আছে’
লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক আগ্রাসন এবং ইরানের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবৈধ অবরোধের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তেল আবিব ও ওয়াশিংটনকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘ইরানের ধৈর্যেরও একটা নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে।’
অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনা পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়া নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের বিন্দুমাত্র কোনো উদ্বেগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাগজে-কলমে বৈশ্বিক কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকার কথা বলা হলেও, শীর্ষ দুই দেশের এমন অনমনীয় অবস্থানে মাঠপর্যায়ে সংঘাতের ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী ও সামুদ্রিক বাণিজ্য অবরুদ্ধ করার প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি বিশেষ পোস্ট দিয়েছেন ইরানের নীতি নির্ধারক মোহসেন রেজায়ি। তিনি স্পষ্ট জানান, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মার্কিন সামুদ্রিক অবরোধের ধারাবাহিকতা কিংবা লেবানন সীমান্তে নতুন করে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি কোনোভাবেই মেনে নেবে না ইরান।
এর আগে তেহরানের পক্ষ থেকে এক সামুদ্রিক বিজ্ঞপ্তিতে কঠোরভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী যেকোনো বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন সামরিক যুদ্ধজাহাজকে অবশ্যই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নতুন নৌ নির্দেশনা মেনে চলতে হবে, অন্যথায় সেগুলোকে সরাসরি সামরিক লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ আলোচনা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যে বার্তা আদান-প্রদান চলছিল, তা আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে নতুন করে জটিল করে তুলতে পারে।
তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরাইলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকায় ইরানি আলোচকরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। ইরানের অবস্থান হলো, আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির যেকোনো সমঝোতা শুধু একটি ফ্রন্টে নয়, বরং গাজা, লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে কার্যকর হতে হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও সম্প্রতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অসঙ্গতি এবং লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ড কূটনৈতিক অগ্রগতির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরান দাবি করছে, গাজা ও লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ এবং লেবাননের বিতর্কিত অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার ছাড়া আলোচনায় অগ্রগতি সম্ভব নয়।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের এই সিদ্ধান্ত যুদ্ধবিরতি ও বৃহত্তর সমঝোতার সম্ভাবনাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। এমন এক সময় এই ঘোষণা এলো, যখন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের অভিযোগ তুলছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় তারা ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দাবি, আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনার জবাবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কিছু অংশ, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি আক্রমণাত্মক ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) একটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হেনেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ঘাঁটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে সব দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
লেবানন সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধির পাশাপাশি কূটনৈতিক অচলাবস্থার খবর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলেছে। ইরান আলোচনা স্থগিত করছে—এমন খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের
পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করে। ফলে অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা বা নৌ চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা স্থগিত হওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে লেবানন, গাজা এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর থাকবে তেহরান ও ওয়াশিংটন ভবিষ্যতে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরতে পারে কি না এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না।
ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির নিখুঁত ও ব্যাপক হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২০টি সামরিক স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির ফ্যাক্ট-চেকিং ও অনুসন্ধান ইউনিট ‘বিবিসি ভেরিফাই’-এর স্যাটেলাইট চিত্র এবং ভিডিও বিশ্লেষণে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এই বিশ্লেষণ থেকে স্পষ্ট যে, মার্কিন প্রশাসন এ পর্যন্ত প্রকাশ্যে ইরানের হামলার যে ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করেছে, প্রকৃত চিত্র তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে একযোগে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল, যার কোডনেম ছিল ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। মার্কিন পেন্টাগনের দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের প্রায় ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তবে হোয়াইট হাউস যখন দাবি করছে তারা ইরানি সামরিক বাহিনীকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছে, ঠিক তখনই ইরানের পাল্টা আক্রমণের নিখুঁত কৌশল মার্কিন প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। জর্ডান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, কুয়েত, ইরাক, বাহরাইন ও ওমানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার ও জ্বালানি সরবরাহকারী যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটির সংখ্যা ২৮টিও হতে পারে।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল রুওয়াইস ও আল সাদার এবং জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে থাকা তিনটি অত্যন্ত দামি ও আধুনিক অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যাটারি সিস্টেম (থাড) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে আমেরিকার কাছে মাত্র ৮টি এমন বিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘থাড’ ব্যাটারি রয়েছে, যা তৈরি এবং পরিচালনা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল। এ ব্যাপারে আয়ারল্যান্ডের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাবেক প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক মেলেট বলেন, ‘এই ব্যাটারিগুলো একটি অত্যন্ত জটিল আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের মূল কেন্দ্রবিন্দু, যা দ্রুত প্রতিস্থাপন করা সম্ভব নয়।’
এছাড়া, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে সেখানে বড় বড় গর্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত বিমান স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। এর মধ্যে ৭০ কোটি ডলার মূল্যের একটি ‘ই-৩ সেন্ট্রি’ নজরদারি বিমানও রয়েছে। পাশাপাশি কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং ক্যাম্প আরিফজানেও ইরানের হামলায় জ্বালানি বাংকার, বিমানের হ্যাঙ্গার ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ যন্ত্রপাতির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সম্পর্কে বর্তমানে চরম টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। গত সোমবার এক ফোনালাপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নেতানিয়াহুর প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প এই আলাপকালে নেতানিয়াহুকে ‘পুরোপুরি পাগল’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং দাবি করেন যে বর্তমানে সবাই ‘ইসরায়েলকে ঘৃণা করে’। একই সাথে তিনি হিজবুল্লাহর সাথে দ্রুত যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার জন্য ইসরায়েলের প্রতি জোরালো দাবি জানান।
এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে যে, ফোনালাপের এক পর্যায়ে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্প বলেছেন, “তুমি পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছো। আমি না থাকলে তুমি জেলে থাকতে। আমি তোমার জীবন বাঁচাচ্ছি। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এই কারণে সবাই ইসরায়েলকে ঘৃণা করে।” এই আলাপের বিষয়ে অবগত অপর একটি সূত্রের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট অত্যন্ত রাগান্বিত ছিলেন এবং এক পর্যায়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ওপর চিৎকার করে বলেন, “তুমি এসব কী করছো?”
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে যে, লেবাননে চলমান সংঘাত বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে অকৃতজ্ঞ হিসেবে অভিযুক্ত করেন। অ্যাক্সিওসের বর্ণনা মতে, দুই নেতার এই ফোনালাপটি ছিল ‘অশ্লীল গালাগালিতে ভরপুর’। যদিও হিজবুল্লাহর ক্রমাগত হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাল্টা আক্রমণ চালানোর অধিকারের বিষয়ে ট্রাম্প অবগত ছিলেন, তবুও মার্কিন প্রেসিডেন্টের ধারণা যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে। ট্রাম্প মনে করেন, এর ফলে ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর মার্কিন প্রচেষ্টা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে, কারণ ইরান লেবাননে যুদ্ধবিরতির শর্তে চুক্তিতে ফিরতে আগ্রহী।
একজন মার্কিন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ওই ফোনালাপে ট্রাম্প যখন নেতানিয়াহুকে ‘একহাত নিয়েছিলেন’, তখন জবাবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঠিক আছে, ঠিক আছে, শুধু নিশ্চিত করো যেন সবকিছুর ব্যবস্থা হয়ে যায়।” তবে এই স্পর্শকাতর প্রতিবেদনটি নিয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য