প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের চীন সফরের প্রাক্কালে রাশিয়ার সেনাবাহিনী দেশজুড়ে তিন দিনের পারমাণবিক অস্ত্র মহড়া শুরু করেছে। ইউক্রেনে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা সামরিক অভিযানের সময়জুড়ে মস্কো তার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডরের সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে এবং বারবার সেগুলো ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে।
রাশিয়া ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র চুক্তি ভেঙে যাওয়ার কয়েক মাস পর এই মহড়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে পুতিন সম্প্রতি মস্কোর পারমাণবিক বাহিনীর শক্তিমত্তা নিয়ে ধারাবাহিক মন্তব্য করে আসছেন।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৯ থেকে ২১ মে, ২০২৬ পর্যন্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের সশস্ত্র বাহিনী সম্ভাব্য আগ্রাসনের হুমকির পরিস্থিতিতে পারমাণবিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও ব্যবহারের মহড়া পরিচালনা করছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মহড়ায় ৬৫ হাজারের বেশি সেনাসদস্য এবং ৭ হাজার ৮০০ ধরনের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ২০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা রয়েছে। বিমান, যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন এবং পারমাণবিক সাবমেরিনও এতে অংশ নেবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণও করা হবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিউ স্টার্ট চুক্তির সমাপ্তির মাধ্যমে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন বিধি-নিষেধ থেকে মুক্ত হয়ে যায়।
রাশিয়া কৌশলগত পারমাণবিক সক্ষমতার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল অবস্থান নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে পুতিন একই সঙ্গে বলেছেন, ‘রাশিয়ার পারমাণবিক বাহিনীর উন্নয়ন একটি অগ্রাধিকার। এ মাসেই মস্কো পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম নতুন দূরপাল্লার একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।’
মস্কো আরও জানিয়েছে, মহড়ায় বেলারুশ প্রজাতন্ত্রের ভূখণ্ডে মোতায়েন করা পারমাণবিক অস্ত্রের যৌথ প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাশিয়া তার প্রতিবেশী মিত্র বেলারুশে, যা ন্যাটোর সীমান্তঘেঁষা, পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অভিযোগ করেন, মস্কো বেলারুশ থেকে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর পর তিনি ইউক্রেনের উত্তর সীমান্তে সেনা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। পুতিনের দুদিনের চীন সফর শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে মস্কো এই মহড়ার ঘোষণা দেয়।
আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে চীন-রাশিয়া
মস্কো-বেইজিং সম্পর্ককে বিশ্বে একটি ‘স্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী শক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দুদিনের চীন সফরের আগে দেওয়া এক ভাষণে পুতিন বলেন, ‘রাশিয়া ও চীন অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে জোট গড়তে চায় না। এ দুদেশ ‘শান্তি ও সর্বজনীন সমৃদ্ধির’ জন্য একসঙ্গে কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘এই চেতনা থেকেই মস্কো ও বেইজিং আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলো সম্পূর্ণভাবে রক্ষার জন্য সমন্বিতভাবে কাজ করছে। রাশিয়া ও চীন জাতিসংঘ, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), ব্রিকস এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মের আওতায় সহযোগিতা জোরদার করছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মস্কো-বেইজিং সম্পর্ক এখন অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে। দুদেশ সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্য রক্ষার মতো মৌলিক বিষয়ে একে অপরকে সমর্থন দিচ্ছে।’
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত ভাষণে পুতিন বলেন, ‘রাশিয়া ও চীন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা রাজনীতি, অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে, সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণ করছে এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করছে। মূলত দুদেশই দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা গভীরতর করা এবং উভয় জাতির কল্যাণে বৈশ্বিক উন্নয়ন এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করছে।’
ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এসডিকে প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং নামে একটি কারখানায় দূধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাতরা কারখানার শ্রমিকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকাসহ বিপুল পরিমান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার তারাবো পৌরসভার বরাবো এলাকায় এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। কারখানার একাউন্ট ম্যানেজার নাঈমুর রহমান হৃদয় জানান, গতকাল সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ২০/২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল একটি ট্রাক যোগে রূপগঞ্জের বরাবো এলাকা অবস্থিত এসডিকে প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং কারখানা ইউনিট-২ এর গেইটে এসে সিকিউরিটি গার্ডকে নিজেদের আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে কারখানার ভিতরের প্রবেশ করে।
পরে তারা কারখানার ভিতরে কর্মরত বেশ কয়েকজন শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি কক্ষে আটকে রাখে। এসময় কারখানার অফিস কক্ষের আলমারী ভেঙ্গে শ্রমিকদের বেতনের জন্য রাখা নগদ ২২ লাখ টাকা, বিভিন্ন মালামালসহ কমপক্ষে ১ কোটি টাকার বিভিন্ন মালামাল লুট করে রাত ১২ টার দিকে কারখানা থেকে বের হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নাই। তাছাড়া এব্যাপারে কেউ কোন অভিযোগ করেনি। থানায় রিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আগামী ১৩ ও ১৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে বিশেষ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এরপর ১৫ জুলাই তেহরানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ জুলাই ধর্মীয় শহর হিসেবে খ্যাত কোমে দ্বিতীয় দফায় শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
চূড়ান্ত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৮ জুলাই মাশহাদ শহরের পবিত্র ইমাম রেজা মাজারে আরেকটি শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের পর তাকে সেখানেই সমাহিত করা হবে। বিশ্বস্তরে পরিচিত এই প্রভাবশালী নেতার বিদায়ে শোক পালনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে ইরান সরকার। আল জাজিরায় প্রকাশিত এই তথ্যটি খামেনির দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জীবনের সমাপ্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ। ছবি: সংগৃহীত
বর্তমান ভাইস চিফ অব আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠকে ভারতের পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে দেশটির সরকার। আগামী ৩০ জুন বিকেল থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একই দিন বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করবেন বলে ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) নিশ্চিত করেছে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে সাঁজোয়া বাহিনীতে কমিশন লাভ করেন এবং তিনি মর্যাদাপূর্ণ ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির একজন সাবেক শিক্ষার্থী। প্রায় চার দশকের দীর্ঘ ও গৌরবময় সামরিক জীবনে তিনি অপারেশনাল কার্যক্রম, কৌশলগত পরিকল্পনা, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশেষ করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার জন্য সামরিক মহলে তাঁর বিশেষ স্বীকৃতি রয়েছে।
দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারে বিভিন্ন অঞ্চলের কমান্ড ও নেতৃত্বের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্যময় অভিজ্ঞতা রয়েছে ধীরাজ শেঠের। তিনি মরু অঞ্চলে একটি সাঁজোয়া রেজিমেন্ট, পশ্চিমাঞ্চলে একটি সাঁজোয়া ব্রিগেড এবং জম্মু ও কাশ্মিরে একটি সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি পাওয়ার পর তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান স্ট্রাইক ফরমেশন ‘সুদর্শন চক্র কোর’-এর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে দিল্লি এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা সামরিক কার্যক্রম এবং রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিক দায়িত্বগুলো দক্ষতার সাথে তদারকি করেন তিনি।
আর্মি কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর ধীরাজ শেঠ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় কমান্ডের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এর মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়ার বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি। আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে কৌশলগত সামরিক অঞ্চলগুলোতে তাঁর এই সফল তদারকি ও অভিজ্ঞতা এবার তাঁকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে আসীন করতে যাচ্ছে।
ছবি: সংগৃহীত
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্যে শুক্রবার সশস্ত্র বন্দুকধারীদের অতর্কিত হামলায় ১৭ জন কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। কৃষি মৌসুমের শুরুতেই কৃষকদের লক্ষ্য করে এই ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনাটি ঘটেছে বলে স্থানীয় কর্মকর্তা ও বাসিন্দারা বার্তা সংস্থা এএফপি-কে নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই নাইজেরিয়ার উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ‘জিহাদি গোষ্ঠী’ এবং ‘ব্যান্ডিট’ হিসেবে পরিচিত সশস্ত্র অপরাধী চক্রগুলো সক্রিয় রয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলো মূলত মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, গবাদিপশু লুট এবং সাধারণ মানুষের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে থাকে। এমনকি কৃষকদের নিজেদের জমিতে চাষাবাদের অনুমতি পেতে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নির্দিষ্ট হারে কর প্রদান করতে হয়।
জামফারা রাজ্যের মারাদুন জেলার গোরন নামায়ে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষকরা যখন জমিতে কাজ করছিলেন, তখন মোটরসাইকেলে আসা একদল বন্দুকধারী নিজেদের দর্শনার্থী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাদের ওপর গুলি বর্ষণ করে। মারাদুন জেলার রাজনৈতিক প্রশাসক সানুসি দোসারা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘২০২৬ সালের কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত নোংরা হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত ১৭ জনকে ইতিমধ্যে দাফন করা হয়েছে এবং আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক সপ্তাহ আগে স্থানীয়দের প্রতিরোধে ১৩ জন বন্দুকধারী নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত রবিবারও এই এলাকার ৩৯ জন প্রবীণ ব্যক্তিকে অপহরণ করা হয়েছিল।
নাইজেরিয়ায় বর্ষা মৌসুমের শুরুতে কৃষকদের ওপর এই ধারাবাহিক হামলার ফলে দেশজুড়ে বড় ধরনের খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ইতিমধ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কারণে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতা দেশের রাজস্ব ও রপ্তানি আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি দারিদ্র্য ও ক্ষুধার সমস্যাকে আরও ঘনীভূত করতে পারে। কৃষকরা তাদের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষায় সরকারের কাছে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের জোর দাবি জানিয়েছেন।
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আসাম রাজ্যে অবতরণের আগমুহূর্তে বিমানবাহিনীর একটি পরিবহন বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। শনিবার জোরহাট বিমান ঘাঁটির অভ্যন্তরেই এএন-৩২ মডেলের ওই বিমানটি বিধ্বস্ত হয় বলে এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছে। আছড়ে পড়ার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে গেলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভারতীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে যে, পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে। তবে এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে ইতোমধ্যেই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
আন্তোনভ এএন-৩২ মূলত ভারতীয় বিমানবাহিনীর প্রধান শক্তি বা ‘ওয়ার্কহর্স’ হিসেবে সুপরিচিত। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে নির্মিত এই বিমানগুলো দুর্গম পাহাড় ও বৈরী আবহাওয়ায় রসদ সরবরাহে অত্যন্ত কার্যকর। বর্তমানে ভারতের বিমানবহরে এই ধরনের প্রায় ১০০টি বিমান যুক্ত রয়েছে যা একসাথে ৫০ জন যাত্রী বা ৪২ জন প্যারাট্রুপার পরিবহনে সক্ষম।
এর আগে গত মার্চ মাসেও আসামের কার্বি আংলং জেলায় একটি সুখোই এসইউ-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দুইজন পাইলট নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া ৫ মার্চ জোরহাট থেকে উড্ডয়নের পর একটি বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর সেটি প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি এলাকায় বিধ্বস্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। বর্তমান দুর্ঘটনাটি সেই স্মৃতিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এল।
ছবি: সংগৃহীত
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানকে কয়েক শ কোটি ডলারের আর্থিক সুবিধা দিতে সম্মত হয়েছে আবুধাবি। বিশেষ করে ইরানে ইতিমধ্যে ৩০০ কোটি ডলার পাঠানো হয়েছে বলে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছে, তাকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছে দেশটি।
এর আগে রয়টার্সসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম চারটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছিল যে, ইরান আর হামলা করবে না—এমন শর্তে আমিরাত তাদের জন্য প্রায় ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) থেকে ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার সমপরিমাণ অর্থ ছাড়তে রাজি হয়েছে। এমনকি বিপ্লবী গার্ড কোরের কর্মকর্তাদের সাথে আবুধাবিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই প্রক্রিয়া গতি পায় বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে ইরানের কোনো জব্দকৃত তহবিল মুক্ত, স্থানান্তর বা এ ধরনের কোনো লেনদেন করা হয়নি।’
আমিরাতের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমগুলোকে সঠিক তথ্য যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও যোগ করেছে যে, ভিত্তিহীন বা যাচাইবিহীন খবর প্রচার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। এর আগে কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা ইরানের তেল বিক্রির বিপুল পরিমাণ অর্থ এই আলোচনার মাধ্যমে অবমুক্ত করা হতে পারে।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ইরানের সাথে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যেখানে দেশটি তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেই কেবল অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। তবে আবুধাবি এই পুরো প্রক্রিয়া এবং তাদের জড়িয়ে করা অর্থ স্থানান্তরের দাবিকে অস্বীকার করেছে। তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য এবং এ ধরনের কোনো আর্থিক লেনদেনের সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই।
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে একটি ঐতিহাসিক চুক্তির সম্ভাবনা এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে প্রবল হয়ে উঠেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের সম্ভাবনা এর আগে কখনও এতটা কাছাকাছি পৌঁছায়নি। সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত হলে নিজ নিজ দেশ থেকে ডিজিটাল স্বাক্ষর করবে উভয় পক্ষ। পরে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।’
আলজাজিরার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি এই দাবি করেন। তবে এই বক্তব্যের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের কড়া সমালোচনা করে অভিযোগ করেন যে, চুক্তির গোপন শর্তগুলো ইরানি গণমাধ্যমে ফাঁস করা হয়েছে। ট্রাম্পের এমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার জবাবে আরাগচি তার এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘সমঝোতা স্মারকটি (স্বাক্ষরের) যেকোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি রয়েছে।’ তবে স্পর্শকাতর এই বিষয় নিয়ে আগাম জল্পনা রুখতে তিনি আরও বলেন, ‘এটি চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার আগ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের উচিত এর বিষয়বস্তু নিয়ে যেকোনো ধরনের অনুমাননির্ভর প্রতিবেদন বা জল্পনা করা থেকে বিরত থাকা।’
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। চুক্তির অন্যতম প্রধান দিক হলো বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক যাতায়াতের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া। এর বিনিময়ে ইরানের ওপর থাকা মার্কিন অর্থনৈতিক ও নৌ অবরোধ পর্যায়ক্রমে তুলে নেওয়া হবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে অবরোধ প্রত্যাহার ও উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দেওয়া হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপে শুরু হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের ওপর একটি পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন। ট্রাম্পের মতে, উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা একটি চমৎকার সমঝোতার খুব কাছে রয়েছেন। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিশ্চিত করেছেন যে, তার দেশ এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে এবং দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওইউর বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। বর্তমানে শুধু চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষা।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সমঝোতা কোনো মৌখিক বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং ইরানের বাস্তব পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর শুরু হবে ৬০ দিনের একটি নতুন আলোচনা পর্ব, যেখানে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস বা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এছাড়া চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীর আর্থিক সহায়তা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। রয়টার্সসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বর্তমানে কাতার ও পাকিস্তানের সহায়তায় উভয় পক্ষ অনেক বেশি খোলামেলা আলোচনা করছে। যদিও ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে শর্তগুলো নিয়ে এখনো কিছু মতপার্থক্য বিদ্যমান, তবে আরাগচির আশা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে পারে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে এই চুক্তিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের স্বস্তি ফেরাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তবে ইসরায়েল এই আলোচনায় সরাসরি যুক্ত না থাকলেও পুরো পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে। সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরান এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যা সফল হলে দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসান ঘটার পথ প্রশস্ত হবে।
মন্তব্য