ভারতের রাজস্থান রাজ্যে দিল্লি অভিমুখী রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার ভোরে চলন্ত অবস্থায় ট্রেনটির একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বগিতে হঠাৎ আগুন ধরে যায় বলে বিদেশী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই সব আরোহীকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
রেলওয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, দুর্ঘটনার কবলে পড়া বি-১ নামের ওই কামরাটিতে মোট ৬৮ জন আরোহী ছিলেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, ভোর ৫টা ১৫ মিনিটে কোটার বিক্রমগড় আলোত স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছালে ট্রেনটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বগিটিকে ট্রেনের বাকি অংশ থেকে আলাদা করে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে এর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, আক্রান্ত বগিটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হচ্ছে এবং একপর্যায়ে আগুনের তাপে পাশের কয়েকটি গাছেও আগুন ধরে যায়। বগিটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেখানকার যাত্রীদের সাময়িকভাবে ট্রেনের অন্যান্য কামরায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে এবং তাদের কোটা স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে বিকল্প বগি যুক্ত করে ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।
কেরালার থিরুভানানথাপুরাম থেকে গত শুক্রবার যাত্রা শুরু করা ১২৪৩১ রাজধানী এক্সপ্রেস ট্রেনটির আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় দিল্লির নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল। প্রায় ২ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পর গন্তব্য থেকে মাত্র ৪৫০ কিলোমিটার দূরে থাকাকালীন এই বিপত্তি ঘটে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা । ছবি: সংগৃহীত
উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত (জিসিসি) দেশগুলোর কড়া বার্তার একদিন পরে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত তিনটি দেশে ফের হামলা চালিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ নিতে ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে ফের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু জর্ডানেই ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা কুয়েত ও বাহরাইনের বিমানঘাঁটিগুলোতে অবস্থিত ১৮টি মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া বাহরাইনে থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরেরও ফের হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে আইআরজিসি।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিহত করা ইরানি ড্রোন থেকে খসে পড়া ধ্বংসাবশেষের কারণে হামাদ শহর এবং রাজধানী মানামায় ১১ বছর বয়সী এক কিশোরী সামান্য আহত হয়েছে এবং এতে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়া কুয়েত জানায়, ইরানি হামলার কারণে তারা আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ করে রেখেছে। এর আগে জিসিসির মন্ত্রিপরিষদ এক বিবৃতিতে বলে, ইরানের এসব হামলা এবং এর ফলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, নৌচলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ভার তেহরানের।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা অবিচ্ছেদ্য। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর যেকোনো একটির বিরুদ্ধে হামলা মানে তাদের সবার বিরুদ্ধে হামলা।
একইসঙ্গে জিসিসি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, তারা যেন এই হামলার নিন্দা জানায় এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
ছবি: সংগৃহীত
টানা এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো গত বছর বিশ্বে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কমেছে। এর কারণ হিসেবে অনেক মানুষ অনিরাপদ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০২৫ সালের শেষে বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছিল ১১ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার। এক বছর আগের তুলনায় এটি ৫৪ লাখ কম। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে- যুদ্ধ, সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এখনো অগ্রহণযোগ্যভাবে বেশি।
দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি কমাতে আগামী দশকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইউএনএইচসিআর তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই হ্রাসের প্রধান কারণ হলো শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের (আইডিপি) বড় একটি অংশের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া। ২০২৫ সালে মোট ১ কোটি ৪৭ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ তাদের নিজ এলাকায় ফিরে গেছে। এর মধ্যে ৪৪ লাখ শরণার্থী তাদের নিজ দেশে ফিরে গেছে, যা গত ৬০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের ঘটনা।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক প্রধান বারহাম সালেহ জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর শরণার্থী প্রত্যাবর্তনের ৯০ শতাংশেরও বেশি ঘটেছে আফগানিস্তান, সুদান ও সিরিয়ায়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব প্রত্যাবর্তনের অনেকগুলোই নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিস্থিতিতে হয়নি, বরং চাপের মধ্যে হয়েছে। তিনি বলেন, তারা এমন দেশে ফিরে গেছে যেখানে নিরাপত্তাহীনতা এখনো বিদ্যমান, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত এবং মৌলিক সেবা ও অর্থনৈতিক সুযোগ সীমিত। যেসব প্রত্যাবর্তন নিরাপদ নয়, সেগুলো কোনো সমাধান নয়, বরং এটি নতুন বাস্তুচ্যুতির চক্র শুরু করতে পারে।
২০২৫ সালের শেষে বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে ৪ কোটি ১৬ লাখকে শরণার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ ওই বছরের মধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে শরণার্থী হয়েছে। নতুন শরণার্থীদের ৬০ শতাংশ এসেছে মাত্র আটটি দেশ থেকে। এর মধ্যে সুদান থেকে প্রায় ১০ লাখ এবং ইউক্রেন থেকে প্রায় ৮ লাখ মানুষ পালিয়ে গেছে। প্রতিবেদনটি আরও বলেছে, চলতি বছরের শুরু থেকে কয়েকটি বড় সংকট নতুন বাস্তুচ্যুতির কারণ হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ফেব্রুয়ারিতে শুরু করা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে ইরানে ৩২ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া লেবাননে মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে। ইরান ও লেবাননের সংঘাতের কারণে সেখানে আশ্রিত অনেক শরণার্থীও বছরের শুরু থেকে নিজ দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছে, যার মধ্যে সিরিয়া ও আফগানিস্তানও রয়েছে।
ইউএনএইচসিআর শরণার্থী পুনর্বাসনের সুযোগ কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় শরণার্থীর সংখ্যা ২৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালে পুনর্বাসনের জন্য স্থান ছিল ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০টি, যা গত চার দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিন্তু গত বছর তা অর্ধেকেরও বেশি কমে ৮১ হাজার ৮০০-এ নেমে আসে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী গ্রহণ কমে যাওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, চাহিদা ও সুযোগের মধ্যে ব্যবধান অত্যন্ত বড় এবং তা আরও বাড়ছে।
বারহাম সালেহ নিজেও একসময় শরণার্থী ছিলেন। তিনি বলেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এখন দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর এমনকি দশকজুড়ে চলতে থাকে। তিনি বলেন, বর্তমানে ৭০ শতাংশ শরণার্থী দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছে, যা টেকসই নয়। তিনি দেশগুলোকে একটি নতুন উদ্যোগে সমর্থন দেয়ার আহ্বান জানান, যার লক্ষ্য আগামী দশকে দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুত শরণার্থীর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবর্তন, পুনর্বাসন এবং মানবিক ভিসার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশগুলো বুঝবে যে একটি আরও টেকসই পরিস্থিতি গড়ে তোলার পথ রয়েছে।
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরের মুজাফফরাবাদের কাছে দেশটির সামরিক বাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকালের দিকে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারে থাকা সব আরোহী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর।
দুর্ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করে দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা জানায়, উড্ডয়নের সময় হেলিকপ্টারটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আরও জানায়, হেলিকপ্টারে থাকা সব কর্মকর্তা ও সেনাসদস্য শাহাদাতবরণ করেছেন, কেউই বেঁচে নেই।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর হেলিকপ্টারে থাকা সামরিক সদস্যদের সংখ্যা সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি। তবে উদ্ধার ও অনুসন্ধানকারী দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করেছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর।
দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ অসীম মুনির এবং সেনাবাহিনীর সব স্তরের কর্মকর্তা-সদস্যরা হেলিকপ্টার বিধ্বস্তে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন।
এর আগে, গত বছরের সেপ্টেম্বরে গিলগিট-বালতিস্তানের দিয়াম জেলায় কারিগরি সমস্যার কারণে সেনাবাহিনীর একটি উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচ সৈন্য নিহত হন। একই বছরের আগস্টে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকারের একটি উদ্ধারকারী উড়োজাহাজ বৈরী আবহাওয়ার কারণে মোহমান্দ জেলায় বিধ্বস্ত হলে দুই পাইলট ও তিন ক্রু সদস্যের প্রাণহানি ঘটে।
ছবি: সংগৃহীত
আফগানিস্তানে সীমান্তবর্তী সন্ত্রাসী আস্তানাগুলোতে বিমান হামলা চালিয়ে ভারত-সমর্থিত ২৬ জঙ্গিকে হত্যার দাবি করেছে পাকিস্তান। বুধবার (১০ জুন) পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে এই তথ্য জানিয়েছেন।
আতাউল্লাহ তারার লেখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার জবাবে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত এলাকায় ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’-এর পরিকল্পনাকারীদের আস্তানা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ভারত-সমর্থিত ২৬ জন নিহত হয়েছে।’
পাকিস্তানজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতায় ভারতের কথিত ভূমিকার জন্য নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি)-কে ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ শব্দটি ব্যবহার করে পাকিস্তান সরকার।
পাক তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিশ্বাসযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত নিখুঁত ও নির্ভুলভাবে শিবির ও গোপন আস্তানাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ কমান্ডার আলিম খান খুশালি এবং কমান্ডার আখতার মুহাম্মদ জানি খেলের একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, একটি গোপন আস্তানা, এবং একটি গোলাবারুদের ভাণ্ডার ও মারাকিজ (কেন্দ্র) সহ চারটি লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়েছে’।
তিনি নিশ্চিত করেছেন, পাকিস্তানে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে, যার মধ্যে মঙ্গলবার পেশোয়ারের মুসা দারায় ফেডারেল কনস্ট্যাবুলারি (এফসি) পোস্টে হামলাও অন্তর্ভুক্ত।
তিনি আরও বলেন, ‘দেশ থেকে বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ (জাতীয় কর্মপরিকল্পনাবিষয়ক ফেডারেল অ্যাপেক্স কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত) রূপকল্পের অধীনে আমাদের নিরলস সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ গতিতে অব্যাহত থাকবে।’
এদিকে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার দাবি করেছে, ‘মঙ্গলবার গভীর রাতে পাকিস্তানের বিমান হামলায় তিনটি প্রদেশে— কুনার, খোস্ত ও পাকতিকায় শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হন আরও ১৪ জন।’
তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে জানান, নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু, একজন নারী এবং একজন বৃদ্ধ রয়েছেন। এ ছাড়া আরও ১৪ জন নারী ও শিশু আহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই মানবিক অপরাধ ও আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানাই।’
উল্লেখ্য, তালেবানপন্থি সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি) নিয়ে গত বেশ কয়েক বছর ধরে ভারতের পরোক্ষ মদদে তিক্ততা চলছে প্রতিবেশী দুই দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে।
ইসলামাবাদের অভিযোগ- আফগানিস্তানের তালেবান সরকার টিটিপিকে আশ্রয়-প্রশ্রয়, গোলাবারুদ, অস্ত্র ও রসদ দিয়ে সহযোগিতা করছে। তালেবান সরকার অবশ্য বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এর আগে গত ২১ ফেব্রুয়ারি আফগানিস্তানের নানগারহার এবং পাকতিয়া প্রদেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী। এতে নিহত হন ৮০ জনেরও বেশি মানুষ।
ছবি: সংগৃহীত
উন্নত জীবন ও পরিবারের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে ইউরোপে পাড়ি দিতে গিয়ে গত ৫ মাসে স্পেন উপকূলে ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) এ তথ্য জানিয়েছে আটলান্টিক মহাসাগর ও পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক পথে আফ্রিকা থেকে পারাপারের বিষয়টি নজরদারি করা মানবাধিকার সংস্থা কামিনান্দো ফ্রোন্তেরাস। খবর রয়টার্সের।
গত এক দশকে অনিয়মিত অভিবাসন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া স্পেনের দ্বীপপুঞ্জ ক্যানারি দ্বীপে পোপ লিওর সফরের আগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টায় ১ হাজার ৩১৭ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪২ জন নারী এবং ১২৯ জন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া ২৭টি নৌকা সাগর পাড়ি দিয়ে গিয়ে আরোহীসহ নিখোঁজ হয়ে গেছে।’
চলতি সপ্তাহে স্পেন সফরকালে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রতি ইউরোপের দেশগুলোর আচরণের বিষয়ে কথা বলেছেন পোপ। অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দুর্দশাকে এমন এক সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি; যা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বলছে, ইউরোপের কাছাকাছি থাকা মৌরিতানিয়ার মতো জায়গাগুলোতে পারাপার বন্ধের প্রচেষ্টা জোরদার করায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা কোস্ট গার্ড বা নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি এড়ানো চেষ্টা করছেন। এই চেষ্টার অংশ হিসেবে তারা আটলান্টিক মহাসাগরজুড়ে আরও দীর্ঘ এবং ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছেন।
সংস্থাটি বলেছে, ২০২৫ সালে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টায় ৩ হাজার ৯০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন।
ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ এবং পশ্চিম আফ্রিকা উপকূলের মধ্যকার সর্বনিম্ন দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার (৬২ মাইল)। এ ছাড়া অভিবাসনপ্রত্যাশীরা প্রায়ই মরক্কো থেকে স্পেনের মধ্যকার প্রায় ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি ভিন্ন পথ দিয়ে সাঁতরে পার হওয়ারও চেষ্টা করে থাকেন।
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যকে বদলে দিতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প-নেতানিয়াহু
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিশ্বাস করেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে জয়লাভ করলেই পুরো মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র নিজেদের মতো করে বদলে ফেলা যাবে। সেই মানচিত্র আসলেই বদলাচ্ছে, তবে তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী নয়। ইরানকে পরাজিত করা যায়নি। বরং বর্তমান পরিস্থিতি এক দীর্ঘমেয়াদি ও ক্ষয়িষ্ণু সংকটের ঝুঁকি তৈরি করেছে। পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে পুরোদস্তুর যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।
তেহরানের শাসনব্যবস্থা যে ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহুর ধারণার চেয়েও অনেক বেশি শক্তশালী তা এখন প্রমাণিত। তাদের হিসেব-নিকেশ ভুল ছিল এবং এর ফলাফলের ওপর থেকে তারা নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। এর সর্বশেষ প্রমাণ হলো হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন অ্যাপাচে হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা। এটি ওয়াশিংটনের জন্য আরও একটি কড়া বার্তা যে, তেহরানের শাসকরা এখনো আমেরিকাকে আঘাত করার ক্ষমতা রাখেন।
একই সঙ্গে এই যুদ্ধে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে তারা যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত। ইরানের কাছে বিজয়ের অর্থ হলো নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা এবং পারস্য উপসাগরের সবচেয়ে কৌশলগত নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে শত্রুকে চাপে রাখা। গত ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথের বাণিজ্য পুরোপুরি স্থবির হয়ে আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবং তার জেনারেলরা এখন যুদ্ধের সর্বশেষ সংযোজন হরমুজ প্রণালীতে এই হেলিকপ্টার হারানোর ধকল সামলে এমন একটি জবাব খোঁজার চেষ্টা করছেন, যা একই সঙ্গে আমেরিকার শক্তিও প্রদর্শন করবে আবার ধীরগতির নিষ্ফলা কূটনৈতিক পথকেও বাঁচিয়ে রাখবে। এই ঘটনায় কপ্টারের ক্রু সদস্যরা কোনোক্রমে বেঁচে গেছেন। তারা নিহত হলে মার্কিন প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি কঠোর হতো।
ট্রাম্প মূলত ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করার জন্য মুখিয়ে আছেন। যাতে হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেয়া যায় এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও পারমাণবিক পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পথ তৈরি হয়। এই যুদ্ধ খোদ আমেরিকার মাটিতেই জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। এখন ট্রাম্প এমন একটি উপায় খুঁজছেন যা তিনি নিজ দেশে ‘বিজয়’ হিসেবে প্রদর্শন করতে পারেন। তবে কাজটি মোটেও সহজ হচ্ছে না। ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু এখন যুদ্ধের সেই পুরোনো ঐতিহাসিক সত্যেরই মুখোমুখি হয়েছেন, যেকোনো যুদ্ধ শুরু করা যতটা সহজ, একটি সুনির্দিষ্ট বিজয়ের মাধ্যমে তা শেষ করা ঠিক ততটাই কঠিন। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিনে যখন তারা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন, তখন উভয়ের ভিডিও বার্তাতেই এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের আত্মবিশ্বাস দেখা যাচ্ছিল। ১৯৭৯ সাল থেকে চলে আসা ইরানের শাসনব্যবস্থা এবার ক্ষমতাচ্যুত হতে যাচ্ছে এমনটাই ধরে নিয়েছিলেন তারা। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে বসে ট্রাম্প ইরানি জনগণকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, তাদের মুক্তির সময় সমাগত।
পরদিন সকালে তেল আবিবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ছাদ থেকে নেতানিয়াহুও ঘোষণা করেন, যে স্বপ্ন তিনি ৪০ বছর ধরে দেখছেন, এবার তা পূরণ হতে যাচ্ছে। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই নেতানিয়াহু যুক্তি দিয়ে এসেছেন যে, ইসরায়েলের আসল শত্রু ফিলিস্তিন বা আরবরা নয়, বরং ইরান। তিনি পূর্ববর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্টদের রাজি করাতে না পারলেও ট্রাম্পের ক্ষেত্রে সফল হন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর থেকে নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের বলেন যে, আমেরিকার সমর্থনে তাদের সামরিক শক্তি শত্রুদের নিশ্চিহ্ন করবে এবং একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ এনে দেবে। কূটনীতি নয়, সামরিক শক্তিই ছিল তার একমাত্র সমাধান। কিন্তু বাস্তবতা আজ ভিন্ন। গত সোমবার ট্রাম্প যখন তাকে বৈরুতে আক্রমণের পরিকল্পনা বাতিলের নির্দেশ দেন, তখন ইসরায়েলি কলামিস্ট বেন কাস্পিতের ভাষায়, নেতানিয়াহুকে দেখতে একটি ‘হাওয়া বের হওয়া ফুসকো বেলুনের’ মতো লাগছিল। সামরিক শক্তি দিয়ে পুরো অঞ্চলকে নিজের ইচ্ছাধীন করার যে কৌশল নেতানিয়াহু নিয়েছিলেন, তা স্পষ্টতই ব্যর্থ হয়েছে।
ট্রাম্প একটি দ্রুত বিজয় আশা করেছিলেন। ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যেভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনী বন্দি করে নিউইয়র্কের জেলে ভরেছে এবং কারাকাসে নিজেদের পছন্দের উত্তরসূরি বসিয়েছে, ট্রাম্প ভেবেছিলেন ইরানের ক্ষেত্রেও সেই একই ফর্মুলা খাটবে। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও আমেরিকা ও ইসরায়েল আজ ভাবছে কোথায় ভুল হলো? তারা ভেবেছিলেন নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত ইরান হয়তো ভেতর থেকে ভেঙে পড়বে। বিশেষ করে যখন তাদের মিত্র হামাস, হিজবুল্লাহ এবং সিরিয়ার বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন হয়েছে, তখন ইরানকে একা ভেবেছিলেন তারা। কিন্তু তারা এই ইসলামিক শাসনের সহনশীলতা ও নিষ্ঠুরতাকে অবমূল্যায়ন করেছিলেন।
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ওপর মার্কিন বিমান বাহিনীর নতুন করে চালানো বোমাবর্ষণের পর মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র আকার ধারণ করা সামরিক উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ।
বুধবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ার সরকারপ্রধানের এই আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
গণমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে অ্যালবানিজ চলমান এই যুদ্ধের মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় নিয়ে নিজের তীব্র শঙ্কার কথা জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আরও বৃদ্ধি পেলে তার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি সমগ্র বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর আছড়ে পড়বে।’
অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের অনুলিপি অনুযায়ী তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকটের পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতির ওপর যে বিশাল ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে, তা পরিস্থিতিকে দিন দিন আরও বেশি অবনতির দিকে নিয়ে যাবে।
অ্যালবানিজ এই অঞ্চলের চলমান বৈরিতা হ্রাস করার লক্ষ্যে তার সরকারের পক্ষ থেকে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ক্যানবেরা সর্বদা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের একটি স্থায়ী প্রশমন দেখতে চায়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া মধ্যপ্রাচ্য থেকে অনেক দূরে অবস্থান করলেও এই যুদ্ধের ক্ষতিকর প্রভাব, অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে অনুভূত হতে শুরু করেছে।
সর্বশেষ মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত ইরানি হামলায় তাদের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ধ্বংস হওয়ার ঘটনার জবাবেই এই আক্রমণটি পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন।’ তবে এই পরিস্থিতিতেও একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠাই বিশ্ববাসীর প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত বলে তিনি জোর দিয়ে জানান। তিনি বলেন, ‘তারা এই অঞ্চলে স্থায়ীভাবে শান্তি ফিরে আসুক সেটাই চান, কারণ এই যুদ্ধ কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের দুর্ভোগই বাড়াচ্ছে না, বরং বিশ্বজুড়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।’
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যটি মূলত দক্ষিণ ইরানে মার্কিন বিমান বাহিনীর সর্বাত্মক হামলার পরপরই সামনে এল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা ‘সেন্টকম’ জানিয়েছে, তাদের যুদ্ধবিমানগুলো হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত ইরানের মূল আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও রাডার স্টেশনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই হামলা চালায়। এর বিপরীতে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ‘আইআরজিসি’ বুধবার ভোরে দাবি করেছে, তারা পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে পুরো অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত মার্কিন বিমান ও নৌঘাঁটির মোট ২১টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একযোগে শক্তিশালী প্রতিরোধ হামলা সম্পন্ন করেছে।
মন্তব্য