× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য শিল্প ইভেন্ট উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য আফগানিস্তান ১৫ আগস্ট কী-কেন স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও যৌনতা-প্রজনন মানসিক স্বাস্থ্য অন্যান্য উদ্ভাবন প্রবাসী আফ্রিকা ক্রিকেট শারীরিক স্বাস্থ্য আমেরিকা দক্ষিণ এশিয়া সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ ইউরোপ ব্লকচেইন ভাষান্তর অন্যান্য ফুটবল অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Iran is executed by 5 people this year the United Nations
google_news print-icon

ইরানে এ বছর ৮৪১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর : জাতিসংঘ

ইরানে-এ-বছর-৮৪১-জনের-মৃত্যুদণ্ড-কার্যকর--জাতিসংঘ

জাতিসংঘ আজ শুক্রবার জানিয়েছে, চলতি বছর ইরানে এ পর্যন্ত ৮০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে জনগণকে ভয় দেখাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জেনেভা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় জানিয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘ইরান এ বছরের শুরু থেকে গতকাল ২৮ আগস্ট পর্যন্ত কমপক্ষে ৮৪১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।’ প্রকৃত পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘শুধু জুলাই মাসেই ইরান কমপক্ষে ১১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে, যা ২০২৪ সালের জুলাই মাসের দ্বিগুণ।’

জাতিসংঘের মুখপাত্র বলেন, ‘বিপুল সংখ্যক মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রীয়ভাবে ভীতি প্রদর্শনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পদ্ধতিগত ধরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’ জাতিগত সংখ্যালঘু ও অভিবাসীরা এর শিকার হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

শামদাসানি বলেন, ‘ইরানে এই মুহূর্তে ১১ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয়ে আছেন। তাদের মধ্যে ৬ জন নির্বাসিত বিরোধী দল পিপলস মুজাহিদীন অর্গানাইজেশন অব ইরানের (এমইকে) সদস্যপদ গ্রহণ করায় ‘সশস্ত্র বিদ্রোহের’ অভিযোগে অভিযুক্ত।’

তিনি আরো বলেন, ‘মানুষের জীবনের জন্য যে অধিকার রয়েছে, মৃত্যুদণ্ড তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং মানবিক মর্যাদার সঙ্গেও অসঙ্গতিপূর্ণ।’

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Kamala Harriss Secret Service Protection withdrawal White House

কমালা হ্যারিসের সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষা প্রত্যাহার : হোয়াইট হাউস

কমালা হ্যারিসের সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষা প্রত্যাহার : হোয়াইট হাউস

ট্রাম্প প্রশাসন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষা প্রত্যাহার করেছে। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা শুক্রবার এ কথা জানিয়েছেন।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, সিএনএন রিপোর্ট করেছে যে হ্যারিসের জন্য তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কর্তৃক অনুমোদিত বর্ধিত সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষার মেয়াদ বাতিল করেছে প্রশাসন।

ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তার ছয় মাসের সুরক্ষার মেয়াদ ২১ জুলাই শেষ হয়েছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Modi is a terrifying person Trump

মোদি ‘অত্যন্ত ভয়ংকর ব্যক্তি’: ট্রাম্প

আমার ফোনেই থেমেছে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত, বলেন তিনি
মোদি ‘অত্যন্ত ভয়ংকর ব্যক্তি’: ট্রাম্প

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘অত্যন্ত ভয়ংকর ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, গত মে মাসে জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে হামলাকে ঘিরে ভারত-পাকিস্তানের যে সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা শুধু তার ফোনকলের মাধ্যমেই থেমেছিল।
স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তানের সংঘাত শুরু হলে আমি মোদিকে ফোন করি। তাকে জিজ্ঞেস করি, পাকিস্তানের সঙ্গে কী চলছে? আমি তাকে একজন অত্যন্ত ভয়ংকর মানুষ মনে করি। ফোনকলে তার রাগ ও ঘৃণা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। দুদেশের মধ্যে এই বৈরিতা অবশ্য বহু পুরোনো—শত শত বছরের শত্রুতার মতো।’
ট্রাম্প আরও জানান, সেই ফোনকলে তিনি মোদিকে সতর্ক করেছিলেন—আমি বলেছিলাম, আমি আপনাদের সঙ্গে কোনো বাণিজ্যচুক্তি করতে চাই না। যদি সংঘাত পরমাণু যুদ্ধ পর্যন্ত গড়ায়, তাহলে সেটাই আপনাদের পরিণতি হবে। আমি আরও বলেছিলাম, আগামীকাল যদি ফোন না করেন এবং সংঘাত না থামান তাহলে শুধু বাণিজ্যচুক্তিই বাতিল করব না, এমন শুল্ক আরোপ করব যাতে আপনাদের মাথা ঘুরে যাবে।’
উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়। এরপর ৪ মে ভারত শুরু করে ‘অপারেশন সিঁদুর’, যেখানে লস্কর-ই-তইয়বা (লেট) এবং জইশ-ই মোহাম্মদ (জেম)-এর ৭০ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করে নয়াদিল্লি।
জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ৭ মে শুরু করে ‘অপারেশন বুনিয়ান উল মারসুস’। পাকিস্তানের দাবি, এই অভিযানে ভারতে ৩১ জন নিহত ও ২৭ জন আহত হয়েছে।
টানা পাঁচ দিন সংঘাত চলার পর ৯ মে দুদেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। ইসলামাবাদ এজন্য ট্রাম্পকে কৃতিত্ব দিলেও নয়াদিল্লি সেই দাবি মানেনি।
সংঘাত-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দিল্লির সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক আরোপ করেছে। এই শুল্ক গত বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

মন্তব্য

পাকিস্তানে বন্যায় ২৫ জনের মৃত্যু

পাকিস্তানে বন্যায় ২৫ জনের মৃত্যু

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ভয়াবহ বন্যা ও নদীভাঙনে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ভারত চেনাব, রাভি ও শতদ্রু নদীতে পানি ছাড়ার কারণে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় প্রশাসন জানায়, বন্যায় সিয়ালকোট জেলার সাম্বারিয়ালে একই পরিবারের পাঁচজন মারা গেছেন। গুজরানওয়ালা বিভাগে ১৫ জন, গুজরাটে ৪ জন, নারোয়ালে ৩ জন এবং হাফিজাবাদ জেলায় আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

বন্যার পানিতে ডুবে গেছে কাসুর, নারোয়াল ও পিন্ডি ভাটিয়ান এলাকার শত শত গ্রাম। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে শত শত গবাদি পশু এবং কয়েক হাজার একর ফসল। বাহাওয়ালনগরে ডুবে গেছে বহু বাড়িঘর।

চেনাব নদীর পানি প্রবেশ করেছে চেনিওট ও ওজিরাবাদের বহু গ্রামে। লাহোরের শাহদারায় রাভি নদীতে পানির প্রবাহ ১ লাখ ৪৫ হাজার কিউসেক ছাড়িয়েছে, আর জাসারে তা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার কিউসেক। তবে লাহোর কমিশনার জানিয়েছেন, শীর্ষ প্রবাহ পেরিয়ে গেছে এবং পানির স্তর কমতে শুরু করেছে।

শতদ্রু নদীতেও একাধিক স্থানে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। গণ্ডা সিং ওয়ালায় প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার কিউসেক, আর হেড সুলেমানকিতে ১ লাখ ৯ হাজার কিউসেক। চিশতিয়ানে প্রবল স্রোতে ভেঙে গেছে ছয়টি রক্ষাবাঁধ। এতে তিন শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে এবং প্রায় সাত হাজার একর ফসল নষ্ট হয়েছে।

বাহাওয়ালনগরে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ পর্যন্ত একশর বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে ৯০ হাজারের মতো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে অস্থায়ী বাঁধ, ধ্বংস হয়েছে ঘরবাড়ি ও মাঠের ফসল।

স্থানীয় কৃষকরা ঘরবাড়ি রক্ষায় প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করেছেন। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এই বাঁধ ভেঙে গেলে প্রায় ২০ হাজার বাড়িঘর ঝুঁকির মুখে পড়বে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Israeli tank in the new area of ​​Gaza City

গাজা সিটির নতুন এলাকায় ইসরায়েলি ট্যাংক

ফিলিস্তিনিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ
গাজা সিটির নতুন এলাকায় ইসরায়েলি ট্যাংক

ফিলিস্তিনের গাজা সিটির আরও ভেতরে নতুন এলাকায় ট্যাংক নিয়ে ঢুকে পড়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। হামলা চালিয়ে ধ্বংস করছে সেখানকার বাড়িঘর। পালাতে বাধ্য হচ্ছে বাসিন্দারা।

এর মধ্যেই গাজা সিটি খালি করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনিদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী বলেছে, তারা গাজা সিটি জয় করার প্রস্তুতি নিয়েছে। এ শহর খালি করতেই হবে।

গাজা সিটির বাসিন্দারা জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ইসরায়েলের ট্যাংক গাজা সিটির উত্তর প্রান্তে ইবাদ-আলরহমান এলাকায় ঢুকে গোলা ছুড়ে। এতে অনেকে আহত হয়। বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয় অনেক বাসিন্দা।

৬০ বছর বয়সী বাসিন্দা সাদ আবেদ বলেন, ‘হঠাৎ খবর এল এবাদ-আলরহমানে ট্যাংক ঢুকেছে। বিস্ফোরণের শব্দ বাড়তে লাগল। আমরা দেখলাম মানুষ আমাদের এলাকায় পালিয়ে আসছে। যুদ্ধবিরতি না হলে ট্যাংক আমাদের বাড়ির সামনেই এসে পড়বে।’

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা গাজা সিটিতে নতুন অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী গোষ্ঠী হামাসের শেষ ঘাঁটি সেখানে অবস্থিত বলেই দাবি তাদের।

অপরদিকে, গাজার প্রায় ২২ লাখ মানুষের অর্ধেকই এখন এই শহরে বাস করছে। ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের সবাইকেই সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে শহরের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতারা গত বুধবার বলেছেন, তারা সরে যাবেন না। কারণ, দক্ষিণে পালানো মানে মৃত্যুদণ্ডের সামিল।

ওদিকে, গত বুধবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদ্রেয়ি বলেছেন, ‘গাজা সিটি খালি করাটা অনিবার্য। আমি নিশ্চিত করে জানাতে চাই, দক্ষিণাঞ্চলে বিশাল ফাঁকা এলাকা রয়েছে। মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন আশ্রয়শিবির এবং আল-মাওয়াসিতেও ফাঁকা জায়গা আছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন, হোয়াইট হাউজে গত বুধবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সভাপতিত্বে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হবে। তিনি বলেছেন, এ বছর শেষেই যুদ্ধের অবসান হবে বলে ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা।

অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওয়াশিংটনে বৈঠক করছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সারের সঙ্গে।

গত বুধবার ইসরায়েলের ট্যাংক আবার গাজা সিটির প্রান্ত থেকে জাবালিয়া এলাকায় ফিরে যায়। যদিও গাজার পূর্বদিকের শেজাইয়া, জেইতুন ও সাবরা এলাকায় বোমাবর্ষণ অব্যাহত ছিল। গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৪ বছর বয়সী এক শিশুও আছে।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো ধ্বংস করাসহ হামাস যোদ্ধাদের নির্মূল’ করছে। গত ২২ আগাস্ট পশ্চিম গাজার সাধারণ নিরাপত্তা গোয়েন্দা প্রধান মাহমুদ আল-আসওয়াদকে হত্যা করার কথাও জানিয়েছে সেনারা। তবে হামাস তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি।

ইসরায়েলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ জোরাল হচ্ছে। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলজুড়ে হাজারো মানুষ গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে রাস্তায় বিক্ষোভ করে।

যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সর্বশেষ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ইসরায়েল এখনও সাড়া দেয়নি। তবে হামাস গত সপ্তাহে এ প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছিল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলে ঢুকে ১২০০ জনকে হত্যা করে এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়। এর জবাবে ইসরায়েল সেদিন থেকেই গাজায় যুদ্ধ শুরু করে।

ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ৬২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে হিসাব দিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। যুদ্ধে গাজার প্রায় সব মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং গোটা অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

গাজায় ২৩৩ ইমামকে হত্যা করেছে ইসরায়েল

গাজায় ইসরায়েলের লাগাতার হামলা, বোমাবর্ষণ ও হত্যাযজ্ঞে বেড়েই চলেছে প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ধ্বংস। টার্গেট করা হচ্ছে মসজিদ, গির্জা, মসজিদের ইমাম, ইসলাম ধর্মের প্রচারকদের। অবকাঠামোর ধ্বংসের কারণে মসজিদ ও উপাসনালয়হীন হয়ে পড়েছে অনেক পাড়া-মহল্লা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় চলমান আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ২৩৩ জন ইমাম ও ইসলাম ধর্মের প্রচারককে হত্যা করেছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী। ধ্বংস করেছে ৮২৮ মসজিদ এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ১৬৭টি মসজিদ। এছাড়াও এই সময়ের মধ্যে বোমা হামলায় ধ্বংস করা হয়েছে তিনটি চার্চ, হত্যা করা হয়েছে ২১ জন ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানকে।

গাজার মিডিয়া অফিসের প্রধান ইসমাইল আল থাওয়াবতেহ আনাদোলু এজেন্সিকে বলেন, মসজিদ, গির্জা, মসজিদের ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ ও প্রতিরোধের মূল ভিত্তিগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইমাম ও আলেমরা জাতীয় পরিচয় শক্তিশালী করতে, ঈমান জাগ্রত রাখতে এবং সামাজিক সংহতি রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের হত্যা ও নির্মূল করার মাধ্যমে মনোবল দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং ইসরায়েলের অপরাধগুলো চিহ্নিতকারী আওয়াজ নিস্তব্ধ করা হচ্ছে।

শতাব্দী প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংসের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের অতীতের সঙ্গে সম্পর্কও ছিন্ন হচ্ছে। ইতিহাস, সংস্কৃতি, সামাজিক পরিচয় এবং সমষ্টিগত স্মৃতি মুছে ফেলার এই প্রচেষ্টা ফিলিস্তিনের অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি।

গাজায় অনাহারে আরও ১০ জনের মৃত্যু

ইসরায়েলের অবরোধ ও অব্যাহত হামলায় গাজাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে দুর্ভিক্ষ। এই উপত্যকাটিতে অপুষ্টি ও অনাহারে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে আরও ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি শিশু।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো সতর্ক করেছে, গাজায় দুর্ভিক্ষ এখন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরাইলের অবরোধ ও অব্যাহত হামলার কারণে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা প্রবেশ করতে না পারায় শিশুদের ক্রমবর্ধমানভাবে না খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Kim Jong Un will join the military march in China

চীনে সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন কিম জং উন

চীনে সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন কিম জং উন

ছয় বছর পর প্রথমবারের মতো চীন সফরে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে তিনি অংশ নেবেন।

স্থানীয় সময় বুধবার (২৭ আগস্ট) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কুচকাওয়াজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ মোট ২৬ জন বিদেশি নেতা উপস্থিত থাকবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা প্রধান দেশগুলোর কোনো শীর্ষ নেতা এতে যোগ দিচ্ছেন না।

২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটিই হবে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক কোনো অনুষ্ঠানে কিমের প্রথম অংশগ্রহণ। তাছাড়া কিমের এ সফর ২০১৯ সালের পর চীনে তার প্রথম সফর হতে যাচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে কিম এ সফর যাচ্ছেন। তবে তিনি কতদিন চীনে অবস্থান করবেন কিংবা শি জিনপিং, পুতিন বা অন্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

চীন-জাপান যুদ্ধের ৮০তম বার্ষিকী ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি উপলক্ষে আগামী বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এই কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন ইরান, বেলারুশ, সার্বিয়া, কিউবা, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার নেতারাও। কুচকাওয়াজে চীনের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন করা হবে এবং প্রেসিডেন্ট শি ভাষণ দেবেন।

তবে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রুশ নেতা পুতিনের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে বেশিরভাগ পশ্চিমা নেতার এ কুচকাওয়াজে উপস্থিত থাকবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

চীন দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার ও প্রধান সহায়তাকারী। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উত্তর কোরিয়া বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে সৈন্য ও গোলাবারুদ সরবরাহের বিনিময়ে তারা অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ালেও উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে চীনের সহায়তা অপরিহার্য। তাই বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতেই কিমের এ সফর।

কিমের চীন সফরের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কূটনীতি শুরুর প্রচেষ্টারও ইঙ্গিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকবার কিমের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন এবং আলোচনায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যদিও উত্তর কোরিয়া ট্রাম্পের প্রস্তাব এখনো প্রত্যাখ্যান করে চলেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ছাড় দিলে পিয়ংইয়ং আলোচনায় ফিরতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্রাম্প সম্প্রতি ওয়াশিংটনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লিয়ের সঙ্গে বৈঠককালে অতীতের কিমের সঙ্গে নিজের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সেটা ভীষণ উপভোগ করেছিলাম। মনে আছে, আমি যখন সীমান্ত রেখা পার হয়েছিলাম, সবাই তখন উত্তেজনায় ফেটে পড়েছিল।’

প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মতানৈক্যের কারণে তাদের ঐতিহাসিক বৈঠক ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে কিম তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণে একাধিক অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছেন।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Indians commit the highest sexual offenses in the UK

যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ যৌন অপরাধ করে ভারতীয়রা

যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ যৌন অপরাধ করে ভারতীয়রা

২০২১ সালের পর থেকে যুক্তরাজ্যে ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে যৌন অপরাধের দণ্ড সর্বোচ্চ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের নতুন তথ্যের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দণ্ডের সংখ্যা ২৫৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৮ থেকে ১০০ মামলায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে নাইজেরিয়ার নাগরিকদের ক্ষেত্রে ১৬৬ শতাংশ ও ইরাকের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ১৬০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সংখ্যাগুলো পৃথক অপরাধীর নয়, বরং দণ্ড প্রদানের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এছাড়া ভারতীয় নাগরিকদের জন্য গুরুতর অপরাধের দণ্ডে বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ বৃদ্ধি হয়েছে, ২০২১ সালের ২৭৩ থেকে ১১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪ সালে ৫৮৮ ঘটনায় পৌঁছেছে। আলজেরীয় ও মিসরীয় নাগরিকদের ক্ষেত্রে গুরুতর অপরাধে আরো বেশি বৃদ্ধি দেখা গেছে।

স্বরাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ২৯৩ জন ভারতীয় নাগরিক ছোট নৌকায় অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছে এবং ২০২৫ সালের প্রথমার্ধেই ২০৬ জন প্রবেশ করেছে।

এর পরও ভারতীয়রা অনিয়মিত অভিবাসনের মধ্যে একটি ছোট অংশ। সবচেয়ে বেশি আফগানিস্তান, ইরান ও সিরিয়ার নাগরিকদের দেখা গেছে।

২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বন্দরগুলোতে অবৈধ আগমনের ১৫ শতাংশই ভারতীয় নাগরিকদের। পাঁচ হাজার ৪৭৪ জন ভারতীয় আশ্রয় আবেদনকারীর মধ্যে প্রায় চার হাজার জন বৈধ ভিসাধারী (প্রধানত শিক্ষার্থী ভিসা), ৪০০ জন ছোট নৌকা ব্যবহার করে প্রবেশকারী এবং বাকিরা অন্যান্য মাধ্যমে গিয়ে আবেদন করেছে।

প্রাথমিক আশ্রয় সিদ্ধান্তে দুই হাজার ৬৯১টি প্রত্যাখ্যান, ২০টি মঞ্জুর ও বাকিগুলো বিচারাধীন।

গণমাধ্যমটি বলছে, ভারতীয় নাগরিকরা বৈধ অভিবাসনেও শীর্ষে রয়েছেন। তারা যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব পাওয়ায় সর্বাধিকসংখ্যজ কাজ ও পর্যটন ভিসা পেয়েছে এবং শিক্ষার্থী ভিসা প্রাপ্তদের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রুপ। গত জুন পর্যন্ত ৯৮ হাজার ১৪ জন প্রধান আবেদনকারীকে শিক্ষার্থী ভিসা প্রদান করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যে আরো দেখা যায়, যুক্তরাজ্যে সব বিদেশি নাগরিকের যৌন অপরাধে দণ্ড চার বছরে ৬২ শতাংশ বেড়েছে।

গত বছরে যৌন অপরাধের দণ্ডের সাত ভাগের এক ভাগ (১৪.১ শতাংশ) বিদেশি নাগরিকরা পেয়েছে, যার মধ্যে ধর্ষণও রয়েছে। তুলনামূলকভাবে একই সময়ে ব্রিটিশ নাগরিকদের ক্ষেত্রে দণ্ড ৩৯.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, এই তথ্যগুলো পুলিশ ন্যাশনাল কম্পিউটার (পিএনসি) থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেন্টার ফর মাইগ্রেশন কন্ট্রোল থিংকট্যাংকের মাধ্যমে পাওয়া। ২০২৫ সালে শুধু ছোট নৌকায় প্রায় ২৭ হাজার ৯৯৭ জন অভিবাসী যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছে, যা ২০১৮ সালের প্রথম আগমনের পর থেকে একই সময়ে সর্বোচ্চ।

মন্তব্য

p
উপরে