× হোম জাতীয় রাজধানী সারা দেশ অনুসন্ধান বিশেষ রাজনীতি আইন-অপরাধ ফলোআপ কৃষি বিজ্ঞান চাকরি-ক্যারিয়ার প্রযুক্তি উদ্যোগ আয়োজন ফোরাম অন্যান্য ঐতিহ্য বিনোদন সাহিত্য ইভেন্ট শিল্প উৎসব ধর্ম ট্রেন্ড রূপচর্চা টিপস ফুড অ্যান্ড ট্রাভেল সোশ্যাল মিডিয়া বিচিত্র সিটিজেন জার্নালিজম ব্যাংক পুঁজিবাজার বিমা বাজার অন্যান্য ট্রান্সজেন্ডার নারী পুরুষ নির্বাচন রেস অন্যান্য স্বপ্ন বাজেট আরব বিশ্ব পরিবেশ কী-কেন ১৫ আগস্ট আফগানিস্তান বিশ্লেষণ ইন্টারভিউ মুজিব শতবর্ষ ভিডিও ক্রিকেট প্রবাসী দক্ষিণ এশিয়া আমেরিকা ইউরোপ সিনেমা নাটক মিউজিক শোবিজ অন্যান্য ক্যাম্পাস পরীক্ষা শিক্ষক গবেষণা অন্যান্য কোভিড ১৯ শারীরিক স্বাস্থ্য মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা-প্রজনন অন্যান্য উদ্ভাবন আফ্রিকা ফুটবল ভাষান্তর অন্যান্য ব্লকচেইন অন্যান্য পডকাস্ট বাংলা কনভার্টার নামাজের সময়সূচি আমাদের সম্পর্কে যোগাযোগ প্রাইভেসি পলিসি

আন্তর্জাতিক
Messi is part of the Saudi billion dollar project
google_news print-icon

সৌদি বিলিয়ন ডলার প্রজেক্টের অংশ মেসি

সৌদি-বিলিয়ন-ডলার-প্রজেক্টের-অংশ-মেসি
২০১২ সালে প্রথম সৌদি সফরে যান মেসি। ছবি: এএফপি
সৌদি আরবের ভাবমূর্তি উন্নয়নের মিশনে আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি যোগ দেন চলতি বছর। আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির লক্ষ্য সৌদি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন।

কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিস্ময়কর জয় পেয়েছে সৌদি আরব। এটি ছিল গ্রুপ সি-এর প্রথম ম্যাচ। একই সঙ্গে এটি ছিল মাঠের বাইরে একটি যুদ্ধের পটভূমি, যা আগামী বেশ কয়েক বছর ধরে চলবে।

সৌদি আরবের ভাবমূর্তি উন্নয়নের মিশনে আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি যোগ দেন চলতি বছর। আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির লক্ষ্য সৌদি পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন।

তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস কোম্পানির মালিকানাধীন স্পোর্টস ওয়েবসাইট দ্য অ্যাথলেটিকের নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, রিয়াদের সঙ্গে মেসির গাঁটছড়া ২০৩০ সালে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হতে সৌদি আরবের প্রচেষ্টাকে শক্তি জোগাবে। আর সে ক্ষেত্রে বঞ্চিত হতে পারে তার নিজের দেশ আর্জেন্টিনা।

২০২৬ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। এরপর ২০৩০ সালের আয়োজক দেশ ঠিক করতে চলতি বছরের জুনেই বিডিং উন্মুক্ত হয়েছে। আয়োজক দেশের নাম চূড়ান্ত হবে ২০২৪ সালে ফিফার ৭৪তম কংগ্রেসে।

এখন পর্যন্ত স্পেন, পর্তুগাল ও ইউক্রেনের যৌথ উদ্যোগের বিডিং নিশ্চিত হয়েছে। এ বছরের শুরুতেই দেশ তিনটি এ-সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়। তবে আরও দুটি প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়ার কথা।

এর একটি হলো দক্ষিণ আমেরিকান দেশ আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে ও চিলির যৌথ উদ্যোগ। অন্যটি সৌদি আরব, মিশর ও গ্রিসের। একাধিক দেশের যৌথ আয়োজক হিসেবে বিডে অংশগ্রহণের ফলে ২০২৬ সাল থেকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্ব ৪৮ দলের প্রতিযোগিতায় পরিণত হচ্ছে।

২০৩০ সালের জন্য দক্ষিণ আমেরিকান বিড খুব শক্ত প্রতিপক্ষ হবে বলে মনে করছেন এর কো-অর্ডিনেটর ফার্নান্দো মারিন। দ্য অ্যাথলেটিককে তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলটি অজস্র প্রতিভার জন্ম দিয়েছে, যারা সারা বিশ্বে সুপরিচিত। এ ছাড়া ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়। এর ১০০তম বার্ষিকীতে ২০৩০ সালে দক্ষিণ আমেরিকাই হবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।’

১৯৩০ সালে স্বাগতিক উরুগুয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ৪-২ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট জিতেছিল।

দক্ষিণ আমেরিকার যৌথ বিডের বিষয়টি ২০১৭ সালে প্রথম জনসমক্ষে আসে, যখন বার্সেলোনার সতীর্থ উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ এবং আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি তাদের দেশের পক্ষে প্রচারে যুক্ত হন। দুই দেশের মধ্যে একটি ম্যাচের আগে সুয়ারেজ যে জার্সি পরেন তার সামনে ২০ এবং মেসির জার্সিতে ৩০ সংখ্যাটি লেখা ছিল।

পরের বছর ফার্নান্দো মারিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘আমাদের প্রচেষ্টার সঙ্গে মেসি যোগ দেবেন এবং সুয়ারেজ তো অবশ্যই। আমরা তাকে (মেসি) আমাদের লক্ষ্য সম্পর্কে জানিয়েছি এবং তিনি মনে করেন এটা সম্ভব। তিনি আমাদের সাহায্য করতে ব্যাপক আগ্রহ দেখিয়েছেন। তিনি অবশ্যই আমাদের জন্য বিশ্বকাপের পতাকাবাহী হবেন।’

তবে গত মে মাসে ঘটনার নতুন বাঁক তৈরি হয়। বর্তমানে এই গ্রহের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং সবচেয়ে বিখ্যাত ফুটবলার সৌদি আরবের প্রচারের দায়িত্ব নিতে একটি আকর্ষণীয় চুক্তিতে সই করেন।

প্রথম কথাটি হলো, চুক্তিটি হয়েছে সৌদির পর্যটন-সংক্রান্ত প্রচারের জন্য, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের বিডের প্রসঙ্গ সেখানে নেই।

তবে সৌদি আরবের জাতীয় লক্ষ্যগুলো দেশটির ‘ভিশন ২০৩০’-এর সঙ্গে যুক্ত। সরকারি ভাষ্যগুলোতে একে ‘সৌদি আরবকে বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত করার একটি অনন্য রূপান্তরমূলক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারের নীলনকশা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

তাই ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের বিড সৌদি আরবের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে প্রবলভাবে যুক্ত বলে মনে হয় এবং পর্যটনের প্রচার সেই লক্ষ্যটি অর্জনে অনেকভাবে সাহায্য করবে।

অন্য উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌম সম্পদ তহবিল- পিআইএফের মাধ্যমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ক্লাব নিউকাসল ইউনাইটেডকে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত, সেই সঙ্গে এলআইভি গলফ ব্রেকওয়ে ট্যুরকে সহায়তাদান। এ ছাড়া ১০ বছরের জন্য ফর্মুলা ওয়ান রেসের পৃষ্ঠপোষকতা এবং ২০১৯ সালে অ্যান্টনি জশুয়া এবং অ্যান্ডি রুইজের হেভিওয়েট বক্সিং আয়োজনের জন্য ৬৫ কোটি ডলারের চুক্তি।

সৌদিতে ২০১৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কানাডার রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন ডেনিস হোরাক। তিনি বলেন, ‘বিনোদন ও ক্রীড়ায় এই বিপুল অংশগ্রহণ সৌদির ভিশন ২০৩০-এর একটি বড় অংশ। এলআইভি গলফ (সৌদি আরবের অর্থায়নে) এবং এখন এগুলোর সঙ্গে মেসির মতো তারকাদের উচ্চমূল্যে যুক্ত করার মাধ্যমে তারা বিষয়টিকে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়ার এবং আরও বৈশ্বিক করার চেষ্টা করছে। বিশ্বব্যাপী সৌদির সুনাম বাড়াতে হবে এবং এসবের মাধ্যমে দেশটি নিজেদের নতুন ব্র্যান্ড তৈরির চেষ্টা করছে।’

মেসির চুক্তির মেয়াদ এবং শর্ত কোনো পক্ষই প্রকাশ করেনি।

যুক্তরাজ্যের ডেইলি টেলিগ্রাফ আগে এক প্রতিবেদনে জানায়, ক্রিস্টিয়ানো রোনালডো সৌদি পর্যটনের প্রচারে কাজ করার জন্য প্রতিবছর ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। এই আলোচনায় যুক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঘনিষ্ঠ সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে রাষ্ট্রদূতদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র দ্য অ্যাথলেটিককে বলেছে, মেসির সঙ্গে সৌদির চুক্তিটির আর্থিক মূল্য রোনালদোকে দেয়া প্রস্তাবের চেয়ে ৫ গুণ বেশি হতে পারে।

সৌদি এজেন্সিগুলোর তৎপরতার বিভিন্ন উদাহরণ পর্যালোচনা করলে বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। যেমন এলআইভি গলফ ট্যুরে টাইগার উডসকে ভেড়াতে ৭০-৮০ কোটি ডলারের প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল, তবে তিনি সেটি প্রত্যাখ্যান করেন৷

মেসির প্রতিনিধিরা বলেছেন, গোপনীয়তার শর্তের কারণে তারা চুক্তির পরিসংখ্যানগত দিকগুলো প্রকাশ করতে পারবেন না। অন্যদিকে এ-সংক্রান্ত ই-মেইলের কোনো জবাব দেয়নি সৌদি সরকার।

মেসি গত মে মাসে লোহিত সাগরের তীরের রিসোর্ট শহর জেদ্দায় ভ্রমণের সময় প্রথমবার তাকে সৌদির পর্যটনদূত হিসেবে প্রচার করে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মেসিকে স্বাগত জানিয়ে সৌদি পর্যটনমন্ত্রী আহমেদ আল-খতিব এক টুইটে লেখেন, ‘সৌদি আরবে এটি তার প্রথম সফর নয় এবং এটি শেষও হবে না।’

পরে ইয়টে সূর্যাস্ত দেখার সময়কার নিজের একটি ছবি প্রকাশ করেন মেসি।

ইনস্টাগ্রামে ছবির শিরোনামে তিনি লেখেন, ‘লোহিত সাগরের বুকে #ভিজিটসৌদি’। ইনস্টাগ্রামে মেসির ফলোয়ারের সংখ্যা ৩৭ কোটি। পোস্টটিতে সৌদি পর্যটন কর্তৃপক্ষের সহায়ক সংস্থা ভিজিট সৌদির ‘পেইড পার্টনারশিপ’ লেবেল যুক্ত ছিল।

মেসি পরে সৌদির সহকারী পর্যটনমন্ত্রীর প্রিন্সেস হাইফা আল-সৌদের সঙ্গে পুরোনো জেদ্দা সফরে যোগ দেন।

প্রিন্সেস হাইফা পরে টুইটারে লেখেন, ‘এই শহরের অন্তর্নিহিত রূপ, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যের প্রতি তার (মেসি) মুগ্ধতা দেখে আমি আনন্দিত।’

ভিজিট সৌদির ওয়েবসাইটে এখন মেসির একটি ল্যান্ডিং পেজ রয়েছে। এর শুরুতেই বলা হয়েছে, ‘লিওনেল মেসি চান আপনি নিজের ভেতরের রোমাঞ্চ-সন্ধানী সত্তাকে উন্মোচন করুন এবং অকল্পনীয় দিকগুলো উদ্ঘাটন করুন।

‘আপনি নতুন বা পুরোনো কিছু আবিষ্কার করতে অথবা শুধু নিজের ভেতরে নতুন কিছু জাগানো- যে উদ্দেশ্যেই ভ্রমণ করুন না কেন, সৌদি প্রতিটি ক্ষেত্রে আপনাকে সন্তুষ্টি জোগাবে। তাহলে আর কিসের জন্য অপেক্ষা করছেন? এখনই আপনার অ্যাডভেঞ্চারের পরিকল্পনা সাজিয়ে ফেলুন।’

সৌদি আরবের প্রচারে মেসির এই অবস্থান ২০৩০ সালে বিশ্বকাপ আয়োজনে তার নিজের দেশের প্রচেষ্টার সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে মেসির সাপোর্ট টিম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। একইভাবে পর্যটন প্রচারের চুক্তির অংশ হিসেবে তিনি কতবার সৌদি সফরে যাবেন, সে বিষয়ে তথ্য দিতেও অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, তারা এমন একটি দেশের কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের চেক নেয়ার বিষয়ে মেসির প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে রাজি হননি, যে দেশটির বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের মধ্যে আছে ভিন্নমতাবলম্বী ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগজি হত্যা, নারী অধিকারকর্মী ও এলজিবিটি গোষ্ঠী এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের (এমবিএস) শাসনের বিরুদ্ধাচরণকারীদের ওপর ক্র্যাকডাউন।

মানবাধিকার সংস্থা ইউনিসেফ গত বছর জানায়, প্রতিবেশী ইয়েমেনে সংঘাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জড়িয়ে পড়ার পর থেকে ১০ হাজারেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে। মেসি ২০১০ সাল থেকে ইউনিসেফের একজন ‘শুভেচ্ছাদূত’।

মেসির প্রতিনিধিরা ইয়েমেন বিরোধের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি, একই সঙ্গে ইউনিসেফও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

মেসির অগণিত অংশীদারত্বের মধ্যে একটি হলো ফরাসি চ্যাম্পিয়ন প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের হয়ে খেলা, যেখানে তিনি ৩ কোটি ইউরোর বেশি আয় করেন। এটি কাতারের সঙ্গে যুক্ত একটি তহবিলের মালিকানাধীন ক্লাব, যে দেশটির বিরুদ্ধেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

মেসি সম্প্রতি ক্রিপ্টো ফ্যান টোকেন ফার্ম সোসিওস-এর প্রচারের জন্য ২ লাখ ডলারের চুক্তি করেছেন, পাশাপাশি তিনি এনএফটিভিত্তিক গেম সোরারেও একজন বিজ্ঞাপনী মুখ। এ ছাড়া তিনি আডিডাস, পেপসি, বাডওয়াইজার, ওরেডু, প্রো অ্যাভ্যুলিউশন সকার, লুই ভ্যুইতন, ইসরায়েলি কোম্পানি ওরক্যাম, দ্য দুবাই এক্সপো-২০২০, তার নিজস্ব শো সার্ক দ্যু সোলেইল এবং চীনা দুগ্ধ কোম্পানি মেংনিউ-এর সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তি করেছেন।

ফোর্বস ম্যাগাজিন গত মে মাসে যে অনুমান প্রকাশ করে সে অনুযায়ী, গত বছর মেসি ১২ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন।

সৌদি নাগরিক খালিদ আল-জাবরির বোন সারা এবং ভাই ওমর বর্তমানে দেশটির একটি কারাগারে বন্দি। খালিদ আল-জাবরির বাবা সৌদি আরবের একজন সাবেক শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

দ্য অ্যাথলেটিক-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে খালিদ অভিযোগ করেন, তার বাবা ড. সাদ আলজাবরির ওপর চাপ দেয়ার জন্য কারাবন্দি দুই ভাইবোনকে ‘দর-কষাকষির হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে সৌদি সরকার।

খালিদ বলছেন, ‘সৌদি ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমান দেশকে স্বাভাবিক দেখানোর চেষ্টা করছেন এবং মেসির দূতের ভূমিকা এতে অবদান রাখছে।

‘মেডিক্যাল স্কুলে পড়ার সময় তাকে (মেসি) দেখতে আমরা একসঙ্গে জড়ো হতাম। তিনি বিশ্বে সুপরিচিত এটাই একমাত্র কারণ নয়, দেশের ভেতরেও সবাই তাকে ভালোবাসে। ফুটবলের ক্ষেত্রে তার অবস্থান ঈশ্বরের ঠিক পরেই। এই চুক্তির মাধ্যমে তারা (সৌদি সরকার) সেই কেন্দ্রবিন্দুটিতে আঘাত করেছে।’

মেসি ২০১২ সালে প্রথম সৌদি আরব সফর করেন।

তার ফ্লাইট অবতরণের পর ভক্তদের হুড়োহুড়ি লেগে যায়। নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কঠোর। ভিড়ের চাপ সামলাতে ব্যতিব্যস্ত সশস্ত্র রক্ষীদের একজনের বন্দুকের নল ঘটনাক্রমে মেসির মুখের দিকে ঘুরে গিয়েছিল।

তারপর থেকে সম্পর্কটি ক্রমশ উষ্ণ হয়েছে। এর পেছনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছেন তুর্কি আল-শেখ নামের এক ব্যক্তি। তিনি সৌদি জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান। এই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটানো।

বিশিষ্ট সৌদি রাজনীতিক ও স্প্যানিশ লা লিগা ফুটবল ক্লাব আলমেরিয়ার মালিক আল-শেখকে ২০২০ সালের মে মাসে অনলাইনে একটি শুভেচ্ছাবার্তা পাঠান মেসি।

উপলক্ষটি ছিল সৌদি ফুটবল ক্লাব আল-নাসর এফসির সাবেক সভাপতি সৌদ আল-সুওয়াইলেমের বিপক্ষে একটি চ্যারিটি প্লেস্টেশন ফুটবল ম্যাচে আল-শেখের প্রতিদ্বন্দ্বিতা।

সৌদি আরবের অভাবী মানুষের জন্য তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে ম্যাচটি আয়োজন করা হয়। সেখানে মেসি ছাড়াও ডিয়েগো ম্যারাডোনা, সাবেক ব্রাজিল তারকা কাফু, রবার্তো কার্লোস এবং রোনালদিনহো, ইতালীয় ডিফেন্ডার লিওনার্দো বোনুচ্চিও শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছিলেন। চার্লি শিনের মতো বিখ্যাত অভিনেতা এবং র‌্যাপার স্নুপ ডগও বার্তা দিয়েছিলেন।

সৌদি ভিন্নমতাবলম্বী খাশোগজিকে ২০১৮ সালে ইস্তাম্বুলে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আমেরিকান গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুসারে ওই হত্যায় ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের অনুমোদন ছিল।

খাশোগজির মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা একটি সাক্ষাৎকার পরে নিউজউইকে প্রকাশ হয়। সেখানে খাশোগজি বলেন, ‘তুর্কি আল-শেখ এবং সৌদ আল-কাহতানি ছাড়া মোহাম্মদ বিন সালমানের আর কোনো রাজনৈতিক উপদেষ্টা নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এরা গুণ্ডা প্রকৃতির। মানুষ তাদের ভয় পায়। তুর্কি আল-শেখ খেলাধুলার দায়িত্বে আছেন। গুজব রয়েছে খেলাধুলার পেছনে ব্যয় এবং তরুণদের এতে ব্যস্ত রাখতে তার হাতে কয়েক বিলিয়ন ডলার রয়েছে।’

মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্য মিডিয়া অপারেশন এবং প্রচারের দায়িত্ব সামলাতেন সৌদ আল-কাহতানি। আমেরিকান গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তাকে খাশোগজি হত্যার চক্রান্তে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়। তবে সৌদি আদালত ২০১৯ সালে তাকে এই অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়।

আল-শেখ ছিলেন মোহাম্মদ বিন সালমানের সাবেক নিরাপত্তাকর্মী। ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে ধীরে ধীরে তার প্রচণ্ড বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার হাতে তুলে দেয়া হয় সৌদি স্পোর্টস কমিশন চালানোর দায়িত্ব।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদ বিন সালমান তার ক্ষমতা সংহত করতে সৌদি আরবের শত শত ধনী ব্যবসায়ীকে রিটজ-কার্লটন হোটেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিলেন। ওই সময়ে আল-শেখ অত্যন্ত তৎপর ভূমিকা পালন করেন। পরে ঘটনাটিকে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখানো হয়।

সৌদি স্পোর্টস কমিশন পরিচালনার সময় আল-শেখ ক্রীড়ায় অর্থ বিনিয়োগে আগ্রহীদের জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হন। তিনি ২০১৯ সালে সৌদিতে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচ আয়োজন করেন।

মেসিও প্রকাশ্যে ৪০তম জন্মদিনে আল-শেখকে শুভেচ্ছা জানান। এর আগে তিনি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের নিয়ে রিয়াদে তার বাড়িতে ঘুরতে যান।

জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আল-শেখ ২০২২ সালের রিয়াদ সিজনের (একটি বিনোদন উৎসব) বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডে মেসির ছবি ব্যবহার করেন। এসব বিলবোর্ড লন্ডন, দুবাই ও নিউকাসলে স্থাপন করা হয়।

পিএসজির জার্সিতেও রিয়াদ সিজনের প্রচার চালানোর একটি ভিডিওতেও দেখা যায় মেসিকে।

এটি বিশেষ এক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। পিএসজির সঙ্গে যুক্ত দেশ কাতারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। আল-শেখ কাতারের উপর সৌদি অবরোধের কেন্দ্রীয় শক্তির অংশ ছিলেন। এমনকি টুইটারে তিনি বলেছিলেন, কাতার নৈতিকতা লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজন ইংল্যান্ড বা যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেয়া উচিত।

অবশ্য পিএসজির সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী মেসির অন্য কোনো বাণিজ্যিক চুক্তি করায় বাধা নেই। পাশাপাশি গত বছর থেকে সৌদি ও কাতারের সম্পর্কের শীতলতা কাটতে শুরু করেছে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের দিন রোববার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দুই পাশে বিন সালমান ও কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিকে বসতে দেখা গেছে।

মানবাধিকার কর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে অটোয়ার বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় ২০১৮ সালে কানাডার রাষ্ট্রদূত হোরাক সৌদি আরব থেকে বহিষ্কৃত হন। তিনি তার মূল্যায়নে সৌদির নেতৃত্ব সম্পর্কে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দেন।

হোরাক বলেন, বিন সালমান সৌদির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে পশ্চিমা রাজনীতিকদের মনে আশার সঞ্চার ঘটিয়েছিলেন। তবে খাশোগজির হত্যা, নারী অধিকার কর্মীদের ওপর চড়াও হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গীকে তার শাসনের বিরুদ্ধে নিয়ে যায়।

আল-শেখ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি তার প্রভাবের কথা শুনেছি। তাকে নিশ্চিতভাবে রাজকীয় ব্যবস্থায় মোহাম্মদ বিন সালমানের অতি ঘনিষ্ঠদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

‘তিনি (আল-শেখ) অবশ্যই ক্ষমতাকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত এবং মেসিকে যুক্ত করার বিষয়টি বিন সালমান অবশ্যই পছন্দ করবেন। তার (মোহাম্মদ বিন সালমান) চোখে বিশ্বে সৌদি আরবের অবস্থান উপলব্ধির আরেকটি সুযোগ ঘটাবে এই বিষয়টি। তিনি বুঝবেন সৌদি বিচ্ছিন্ন কোনো মরুরাজ্য নয়।

‘আন্তর্জাতিকভাবে মেসির যে প্রোফাইল রয়েছে, সেটি সৌদিকে স্বাভাবিকতার একটি বৃহত্তর অনুভূতি দেবে। তাই আমি মনে করি এ বিষয়টি ২০৩০ সালে তাদের বিশ্বকাপ বিডের ক্ষেত্রেও সহায়তা করবে।’

হোরাক বলেন, ‘খাশোগজি হত্যার কারণে মোহাম্মদ বিন সালমান ব্র্যান্ডটির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। একইসঙ্গে সৌদি আরবের ব্র্যান্ডও কলঙ্কিত হয়েছে। এমন অবস্থায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিশ্বের সেলিব্রিটিদের কাছে যত বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ তৈরি করা যাবে এবং সে অনুযায়ী সৌদি আরবের ব্র্যান্ডটিকে আবারও ঝকঝকে করে তোলা সম্ভব হবে।’

সৌদি কারাগারে বন্দি দুই স্বজনের ভাই খালিদ আল-জাবরি বলেন, ‘মেসির মতো খেলোয়াড়দের একটি দলের অংশ হিসেবে সৌদিতে খেলতে যাওয়া নিয়ে আমার আপত্তি নেই। কারণ দেশের শাসকদের নৃশংসতার কারণ দেখিয়ে সৌদি ভক্তদের তাদের প্রিয় দলের খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। আমার সমস্যা হলো মেসি নিজেকে সৌদি স্পোর্টস ওয়াশিংয়ের হাতিয়ারে পরিণত করেছেন।

‘তিনি নিজেকে শয়তানের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন।’

এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ সি ম্যাচের আগে সোমবার সন্ধ্যায় দোহায় সংবাদ সম্মেলনে আসেন মেসি। মাঠে যে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করেছেন তাদের হয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। আর প্রতিপক্ষ দেশটি ছিল তারা, যারা তাদের প্রচারে ব্যবহার করছে মেসির ছবি।

কাতারের টেলিভিশনে সম্প্রচার হচ্ছে সৌদি আরবে মেসির সফর নিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপন।

সেই সংবাদ সম্মেলনে মেসির আগমনকে ওহ, আহা ধ্বনি এবং ফোনের ক্যামেরায় ছবি তুলে স্বাগত জানানো হয়। তিনি বেরিয়ে যাওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে কয়েকজন করতালি দিচ্ছিলেন।

ব্যস্ত ওই মিডিয়া সেশনে দ্য অ্যাথলেটিক কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ পায়নি। মেসি এক ডজনেরও বেশি প্রশ্ন নিয়েছিলেন, তবে তার একটিও সৌদি আরবকে নিয়ে প্রচার চালানো বিষয়ক চুক্তি সংক্রান্ত ছিল না। দক্ষিণ আমেরিকান বা আরব মিডিয়া থেকে এসব প্রশ্ন করা হয়েছিল।

চলমান বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে রোববার সন্ধ্যায় ইনফান্তিনোর পাশে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বসার দৃশ্য সৌদির সামনে আরও একবার আশা জাগিয়ে তুলেছে। এই জুটিকে গত সপ্তাহে জি টোয়েন্টি সম্মেলনে বালিতেও একসঙ্গে দেখা গেছে। এর আগেও তারা একসঙ্গে বক্সিং ম্যাচ দেখেছেন।

সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য মিশর ও গ্রিসের সঙ্গে যৌথভাবে সৌদি আরবের বিডকে ফিফা গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করবে বলে রিয়াদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে। সৌদিরা ২০৩০ সালের ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আয়োজক দেশ হতেও একটি বিড জমা দিয়েছে, এটিও ভিশন ২০৩০ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ।

বিশিষ্ট আর্জেন্টাইন ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে কথোপকথনে মেসিকে ঘিরে সমালোচনায় অস্বস্তি মৃদু আকারে হলেও বোঝা যায়।

বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হতে আর্জেন্টিনার আগ্রহের বিপরীতে প্রতিপক্ষের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলে মেসি সাহায্য করছেন, এটি অদ্ভুত লাগছে কিনা- এমন প্রশ্নে তার সাবেক আন্তর্জাতিক সতীর্থ ম্যাক্সি রদ্রিগেজ বলেন, ‘সত্যি বলতে কি এটা ঠিক, তবে… আপনি জানেন না শেষ পর্যন্ত কী ঘটতে যাচ্ছে।

‘আপনি নিজ দেশে বিশ্বকাপ দেখতে চান, তবে এ জন্য অনেক কিছু করতে হবে। কারণ, বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়া সহজ নয়। টুর্নামেন্টের আয়োজক নির্বাচনের সময় কী ঘটছে আমরা দেখতে পাব। আর্জেন্টাইন হিসেবে আমরা আবারও আমাদের দেশে এই আয়োজন দেখতে চাই।’

দক্ষিণ আমেরিকার যৌথ বিডের কো-অর্ডিনেটর ফার্নান্দো মারিন বলেন, ‘মাঠে এবং মাঠের বাইরে মেসির এক অনন্য ক্ষমতা রয়েছে। তিনি একটি সুউচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছেন। মেসি নিজেই একটি ব্র্যান্ড এবং এটি খুব শক্তিশালী।

‘তিনি সমস্ত ফুটবলের জন্য একটি ব্র্যান্ড, কোনো দেশের নয়। তিনি ২০৩০ সালের জন্য দক্ষিণ আমেরিকান বিডের একটি মৌলিক অংশ হিসেবে থাকবেন।’

আরও পড়ুন:
এখনও ক্রীতদাস
পদ্মা সেতু নিয়েছে জমি, দিয়েছে অহংকার
কী ঘটেছিল জিয়ার মৃত্যুর পর
যে গ্রামে অপরাধ কম, কালেভদ্রে পুলিশ  
অ্যামাজন, গুগল ও অ্যাপলে নিউজবাংলা পডকাস্ট

মন্তব্য

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক
Former General Gantz threatens to leave Netanyahus cabinet

নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভা ছাড়ার হুমকি সাবেক জেনারেল গানৎজের

নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভা ছাড়ার হুমকি সাবেক জেনারেল গানৎজের ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য বেনি গানৎজ। ছবি: রয়টার্স
সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী গানৎজ জানান, দাবি পূরণ না হলে গাজায় যুদ্ধের বিষয়টি তদারকির জন্য গত বছর হওয়া জরুরি ঐক্যের সরকার থেকে বেরিয়ে আসবে তার দল।

ফিলিস্তিনের গাজার জন্য যুদ্ধ পরবর্তী পরিকল্পনা পেশ করতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আগামী ৮ জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছেন দেশটির যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভার সদস্য বেনি গানৎজ।

ওই সময়ের মধ্যে নেতানিয়াহু পরিকল্পনা উপস্থাপনে ব্যর্থ হলে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক এ জেনারেল।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে গানৎজ এ হুমকি দেন।

তিনি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভাকে ছয় দফা পরিকল্পনায় সম্মত হওয়ার আহ্বান জানান। ওই ছয় দফায় গাজায় যুদ্ধ শেষে উপত্যকার শাসনের সম্ভাব্য পরিকল্পনা রয়েছে।

সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী গানৎজ জানান, দাবি পূরণ না হলে গাজায় যুদ্ধের বিষয়টি তদারকির জন্য গত বছর হওয়া জরুরি ঐক্যের সরকার থেকে বেরিয়ে আসবে তার দল।

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর প্রধান রাজনৈতিক বিরোধী হিসেবে মনে করা হয় গানৎজকে। যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দেয়ার আগে বিরোধী দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন তিনি।

গানৎজের এ আলটিমেটাম ইসরায়েল সরকারে ফাটল আরও বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে এটি গাজায় নেতানিয়াহুর নীতির বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অব্যাহত চাপে রসদ জুগিয়েছে।

আরও পড়ুন:
নিজেদের হামলায় ৫ ইসরায়েলি সেনা নিহত
অবস্থান পাল্টাল বাইডেন প্রশাসন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রেই গাজায় হামলা চালাবে ইসরায়েল
রাফায় হামলা চালিয়ে হামাসকে নির্মূল করা যাবে না: ব্লিংকেন
গাজায় বোলতার কামড়ে হাসপাতালে ইসরায়েলের ১২ সেনা
বাইডেন ইসরায়েলে সব সহায়তা বন্ধ করতে চান: ট্রাম্প

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
US seeks Hamas chief Sinwar in Gaza

গাজায় হামাসপ্রধান সিনওয়ারের খোঁজে যুক্তরাষ্ট্র

গাজায় হামাসপ্রধান সিনওয়ারের খোঁজে যুক্তরাষ্ট্র গাজা সিটিতে ২০২২ সালের ১৪ ডিসেম্বর মুখোশ পরা এক যোদ্ধার সঙ্গে করমর্দন করেন হামাসের গাজা উপত্যকার প্রধান ইয়াহইয়া সিনওয়ার। ছবি: মোহাম্মেদ আবেদ/এএফপি
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, হামাসের গাজা উপত্যকার প্রধান সিনওয়ার পালিয়ে প্রথমে মিসরের সিনাই উপদ্বীপ এবং পরবর্তী সময়ে লেবানন কিংবা সিরিয়ায় গেছেন কি না, সে সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।  

ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের ‘সম্পূর্ণ বিজয়’ অর্জনে সহায়তার অংশ হিসেবে উপত্যকায় হামাসের প্রধান ইয়াহইয়া সিনওয়ারের অবস্থান শনাক্তের ওপর যুক্তরাষ্ট্র মূল দৃষ্টি রেখেছে বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক এসব কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে জানান, ৬১ বছর বয়সী সিনওয়ার গাজার গভীরে টানেলগুলোতে লুকিয়ে আছেন বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ভিত্তিতে দেশটি এ অঞ্চলে তল্লাশি জোরদার করেছে।

দেশটির এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, হামাসের গাজা উপত্যকার প্রধান সিনওয়ার পালিয়ে প্রথমে মিসরের সিনাই উপদ্বীপ এবং পরবর্তী সময়ে লেবানন কিংবা সিরিয়ায় গেছেন কি না, সে সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানের বক্তব্য জানতে চায় মিডল ইস্ট আই, তবে সিনওয়ার সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না বলে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা সুনির্দিষ্ট কোনো গোপন তথ্যের কথা জানাননি। তাদের ভাষ্য, একটি বিষয়কে ঘিরে বির্তক এগোচ্ছে। আর তা হলো সিনওয়ারের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে তথ্যের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওই কর্মকর্তাদের মতে, সিনওয়ারের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্তে মোটাদাগে এক মাসের মতো পিছিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, গাজায় ছিলেন হামাসের শীর্ষস্থানীয় এ নেতা।

আরও পড়ুন:
ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধে প্রস্তুত হামাস: মুখপাত্র
হামাসের সুড়ঙ্গ থেকে ৩ জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের
গাজা নিয়ে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার বিরোধ প্রকাশ্যে
‘যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত ঘাট দিয়ে গাজায় ত্রাণ ঢুকছে’
নিজেদের হামলায় ৫ ইসরায়েলি সেনা নিহত

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Hamas ready for long war with Israel spokesman

ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধে প্রস্তুত হামাস: মুখপাত্র

ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধে প্রস্তুত হামাস: মুখপাত্র ফিলিস্তিনের গাজার রাফাহতে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন হামাসের সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডসের মুখপাত্র আবু ওবেইদা। ছবি: আলি জাদাল্লাহ/আনাদোলু এজেন্সি
‘আমাদের জনগণের ওপর আগ্রাসন বন্ধে আমাদের (হামাস) পূর্ণ অঙ্গীকার সত্ত্বেও আমরা শত্রুর সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’, বলেন আবু ওবেইদা।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতির কথা শুক্রবার জানিয়েছে হামাস।

ফিলিস্তিনের গাজার শাসক দলটির সামরিক শাখা আল-কাসাম ব্রিগেডসের মুখপাত্র আবু ওবেইদা এক ভিডিওবার্তায় এ কথা জানান বলে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

‘আমাদের জনগণের ওপর আগ্রাসন বন্ধে আমাদের (হামাস) পূর্ণ অঙ্গীকার সত্ত্বেও আমরা শত্রুর সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’, বলেন আবু ওবেইদা।

তিনি জানান, আল-কাসাম ব্রিগেডসের যোদ্ধারা গত ১০ দিনে গাজা উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ১০০ সামরিক যানকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

তার অভিযোগ, ইসরায়েলের সেনাবাহিনী তাদের সব ক্ষতির কথা ঘোষণা করে না।

‘আল-কাসাম ব্রিগেডস যোদ্ধারা রাফাহ শহরের পূর্বাঞ্চলে শত্রুদের ওপর মারাত্মক আঘাত হেনেছে’, বলেন আবু ওবেইদা।

গত সপ্তাহে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী মিসর সীমান্তবর্তী গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহতে হামলা করে, যেখানে আশ্রয় নেন বাস্তুচ্যুত ১৫ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি।

রাফাহতে হামলার পাশাপাশি সীমান্তের ফিলিস্তিন অংশের নিয়ন্ত্রণও নেয় ইসরায়েল।

গত বছরের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের প্রাণঘাতী হামলার জবাবে গাজায় পাশবিক আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল।

হামাসের হামলায় নিহত হয় প্রায় এক হাজার ১৩৯ ইসরায়েলি। অন্যদিকে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয় ৩৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি।

আরও পড়ুন:
রাফায় হামলা চালিয়ে হামাসকে নির্মূল করা যাবে না: ব্লিংকেন
গাজায় বোলতার কামড়ে হাসপাতালে ইসরায়েলের ১২ সেনা
বাইডেন ইসরায়েলে সব সহায়তা বন্ধ করতে চান: ট্রাম্প
ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্য করতে জাতিসংঘে বিপুল ভোটে প্রস্তাব পাস
আমেরিকান অস্ত্র দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে থাকতে পারে ইসরায়েল

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Israel claims to have recovered the bodies of 3 hostages from the Hamas tunnel

হামাসের সুড়ঙ্গ থেকে ৩ জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের

হামাসের সুড়ঙ্গ থেকে ৩ জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের দাবি ইসরায়েলের গাজায় তিন জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। ছবি: বিবিসি
আইডিএফ জানায়, গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় দক্ষিণ ইসরায়েলে গাজার সীমানার কাছে নোভা মিউজিক ফেস্টিভাল চলছিল। হামাসের হামলায় ওই উৎসবে উদ্ধার করা তিনজনসহ ৩৫০ জন প্রাণ হারান।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় হামাসের একটি সুড়ঙ্গে থেকে তিন জিম্মির মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

আইডিএফের বরাত দিয়ে শনিবার বিবিসি জানায়, গত বছর ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলায় তাদের হত্যা করা হয়েছে। এরপর তাদের দেহাবশেষ গাজায় ফিরিয়ে নেয়া হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, হামাসের একটি সুড়ঙ্গে মরদেহগুলো পাওয়া গেছে।

প্রাণ হারানো তিনজন হলেন শানি লোউক (২২), অমিত বুসকিলা (২৮) এবং ইজহাক গেলেরেন্তার (৫৬)।

এ ঘটনায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘আমরা আমাদের সকল জিম্মি, জীবিত ও মৃত সবাইকে ফিরিয়ে আনব।’

রাতভর অভিযান চালিয়ে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে আইডিএফ।

বাহিনী জানায়, গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় দক্ষিণ ইসরায়েলে গাজার সীমানার কাছে নোভা মিউজিক ফেস্টিভাল চলছিল। হামাসের হামলায় ওই উৎসবে উদ্ধার করা তিনজনসহ ৩৫০ জন প্রাণ হারান।

হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। তারা আরও ২৫২ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যান।

হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ইসরায়েলের চলমান হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক।

আরও পড়ুন:
গাজায় বোলতার কামড়ে হাসপাতালে ইসরায়েলের ১২ সেনা
বাইডেন ইসরায়েলে সব সহায়তা বন্ধ করতে চান: ট্রাম্প
ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্য করতে জাতিসংঘে বিপুল ভোটে প্রস্তাব পাস
আমেরিকান অস্ত্র দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে থাকতে পারে ইসরায়েল
গাজায় একা লড়তে প্রস্তুত ইসরায়েল: নেতানিয়াহু

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Israels cabinet rifts over Gaza are out in the open

গাজা নিয়ে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার বিরোধ প্রকাশ্যে

গাজা নিয়ে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার বিরোধ প্রকাশ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউআভ গালান্ট, যাদের বিরোধ এরই মধ্যে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ছবি: রয়টার্স
কয়েক মাস আগে ইসরায়েলের সেনারা যেসব জায়গায় হামাসের সঙ্গে লড়ছিল, সেসব এলাকায় তাদের ফিরে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে স্পষ্ট কৌশল জানতে চান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউআভ গালান্ট। এর মধ্য দিয়ে মন্ত্রিসভায় বিরোধের বিষয়টি উন্মুক্ত হয়ে যায়।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভার বিরোধ চলতি সপ্তাহে প্রকাশ্যে চলে এসেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

বার্তা সংস্থাটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, কয়েক মাস আগে ইসরায়েলের সেনারা যেসব জায়গায় হামাসের সঙ্গে লড়ছিল, সেসব এলাকায় তাদের ফিরে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে স্পষ্ট কৌশল জানতে চান প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউআভ গালান্ট। এর মধ্য দিয়ে মন্ত্রিসভায় বিরোধের বিষয়টি উন্মুক্ত হয়ে যায়।

গালান্টের ভাষ্য, গাজা উপত্যকায় সামরিক সরকার বসানোর বিষয়ে তার সমর্থন নেই।

তার এ বক্তব্যে যুদ্ধ শেষে গাজার শাসনভার অর্পণ নিয়ে নেতানিয়াহুর নির্দেশনার ঘাটতি নিয়ে শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ক্রমবর্ধমান অস্বস্তির বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

গালান্টের এ বক্তব্যের পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজেদের বিভক্তি স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার চার সদস্য।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন মধ্যমপন্থি হিসেবে পরিচিত সেনাবাহিনীর সাবেক দুই জেনারেল বেনি গানৎজ ও গাদি এইজেনকট। অন্যদিকে কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গালান্টের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার বিরোধ নিয়ে ‘এটি যুদ্ধ চালানোর কোনো পন্থা নয়’ শিরোনামে খবর ছাপে ডানপন্থি ইসরায়েলি ট্যাবলয়েড ইসরায়েল টুডে। সংবাদে বিভিন্ন দিকে তাকানো নেতানিয়াহু ও গালান্টের ছবি ছাপা হয়েছে।

গাজার শাসক দল হামাসকে নির্মূল ও তাদের হাতে থাকা ১৩০ জনের মতো বন্দিকে ফেরতের পাশাপাশি উপত্যকায় যুদ্ধ অভিযান শেষ করার কৌশলগত কোনো লক্ষ্য ঠিক করেননি নেতানিয়াহু। এরই মধ্যে ইসরায়েলের হামলায় গাজায় ৩৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এটি ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা প্রতিনিয়ত বাড়াচ্ছে।

আরও পড়ুন:
বাইডেন ইসরায়েলে সব সহায়তা বন্ধ করতে চান: ট্রাম্প
ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্য করতে জাতিসংঘে বিপুল ভোটে প্রস্তাব পাস
আমেরিকান অস্ত্র দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে থাকতে পারে ইসরায়েল
গাজায় একা লড়তে প্রস্তুত ইসরায়েল: নেতানিয়াহু
বাইডেনের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে রাফায় ইসরায়েলের হামলা

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
Unraveling the secret of making pyramids

পিরামিড তৈরির রহস্য উন্মোচন!

পিরামিড তৈরির রহস্য উন্মোচন! ছবি: সংগৃহীত
গবেষক দলের একজন ড. সুজান অনস্টাইন বলেন, ‘নীল নদের হারিয়ে যাওয়া শাখাটি ৩১টি পিরামিডের সীমানায় রয়েছে। এই জলপথ ভারী ব্লক, সরঞ্জাম ও মানুষ পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। আর এসব কিছুই আমাদের পিরামিড নির্মাণ ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করেছে।’

চার হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে মিসরে বিশ্বখ্যাত গিজা কমপ্লেক্সসহ ৩১টি পিরামিড কীভাবে তৈরি হয়েছিল সেই রহস্যের সমাধান করেছেন- এমনটা বিশ্বাস করেন বিজ্ঞানীরা।

ইউনিভার্সিটি অফ নর্থ ক্যারোলিনা উইলমিংটনের একটি গবেষক দল বলছে, পিরামিডগুলো সম্ভবত দীর্ঘ-হারিয়ে যাওয়া নীল নদের একটি প্রাচীন শাখার পাশে নির্মিত হয়েছিল যা এখন মরুভূমি এবং কৃষি জমির নিচে ঢাকা পড়ে গেছে।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা বহু বছর ধরেই ধারণা পোষণ করে আসছেন যে প্রাচীন মিসরীয়রা নদীর ওপর পিরামিড নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পাথরের খণ্ডের মতো উপকরণ পরিবহনের জন্য নিকটবর্তী জলপথ ব্যবহার করেছিল।

অধ্যাপক ইমান ঘোনিমের মতে, এখনও পর্যন্ত এই মেগা জলপথের পাশে প্রকৃত পিরামিড সাইটের অবস্থান, আকৃতি, আকার বা নৈকট্য সম্পর্কে কিছুই নিশ্চিত ছিল না। গবেষকরা স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবি থেকে এই নদের শাখাটি শনাক্ত করে। পরে ফিল্ড সার্ভে ও সেখান থেকে পাওয়া পলি থেকে বিজ্ঞানীরা নদীর শাখা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন।

গবেষণায় বলা হয়, বিজ্ঞানীদের আবিষ্কার করা ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ নীল নদের শাখাটি শুকিয়ে মরুভূমির নিচে চাপা পড়ে গেছে। এই নদী থেকে এখন বিজ্ঞানীরা বের করার চেষ্টা করছেন যে কেন গিজা পিরামিড কমপ্লেক্সের ৩১টি পিরামিড এই মরুভূমিতে এক সারিতে তৈরি করা হয়েছিল।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পিরামিডগুলো চার হাজার ৭০০ থেকে তিন হাজার ৭০০ বছরের পুরনো।

নেচার জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, রাডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষক দলটি বালির পৃষ্ঠে লুকানো বৈশিষ্ট্যগুলোর চিত্র আঁকতে সক্ষম হয়েছিলেন।

গবেষণার একজন সহ-লেখক ড. সুজান অনস্টাইন বিবিসিকে বলেন, ‘ডেটা বিশ্লেষণে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এটা বলা যায় যে এখানে একটি জলপথ ছিল যা ভারী ব্লক, সরঞ্জাম ও মানুষ পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। আর এসব কিছুই আমাদের পিরামিড নির্মাণ ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করেছে।’

বিজ্ঞানীদের দাবি, নীল নদের হারিয়ে যাওয়া শাখাটি প্রায় ৬৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ছিল। আর নদীটির প্রস্থ ছিলে দু শ’ থেকে সাত শ’ মিটার। ওই শাখাটি ৩১টি পিরামিডের সীমানায় রয়েছে, যা চার হাজার ৭০০ থেকে তিন হাজার ৭০০ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল।

বিলুপ্ত নদী শাখার আবিষ্কারটি গিজা এবং লিস্ট (মধ্য রাজ্যের সমাধিস্থল)-এর মধ্যে উচ্চ পিরামিডের ঘনত্ব ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে, যা এখন সাহারান মরুভূমির অন্তর্ভুক্ত।

মন্তব্য

আন্তর্জাতিক
12 Israeli soldiers in hospital with bolt bites in Gaza

গাজায় বোলতার কামড়ে হাসপাতালে ইসরায়েলের ১২ সেনা

গাজায় বোলতার কামড়ে হাসপাতালে ইসরায়েলের ১২ সেনা বোলতার কামড়ে আহত সব সেনাকে চিকিৎসার জন্য ইসরায়েলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছবি: গেটি ইমেজেস
ইসরায়েলের নিরিম কিবুৎজের কাছে সেনাবাহিনীর গাজা ডিভিশনের সাদার্ন ব্রিগেডের একটি ট্যাংক বিপুলসংখ্যক বোলতার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হুল ফোটানোর ঘটনা ঘটে। বোলতার কামড়ে মোটামুটি আহত হন এক সেনা। বাকি ১১ জন সামান্য আহত হন।

ফিলিস্তিনের গাজার দক্ষিণে বোলতার কামড় খাওয়া ১২ সেনাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী।

মিডল ইস্ট আই জানায়, শুক্রবার উপত্যকায় আহত হন ইসরায়েলের সেনারা।

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের নিরিম কিবুৎজের কাছে সেনাবাহিনীর গাজা ডিভিশনের সাদার্ন ব্রিগেডের একটি ট্যাংক বিপুলসংখ্যক বোলতার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হুল ফোটানোর ঘটনা ঘটে। বোলতার কামড়ে মোটামুটি আহত হন এক সেনা। বাকি ১১ জন সামান্য আহত হন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আহত সব সেনাকে চিকিৎসার জন্য ইসরায়েলের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন:
বাইডেনের হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে রাফায় ইসরায়েলের হামলা
অস্ত্র পাঠানো নিয়ে বাইডেনের হুমকি হতাশাজনক: ইসরায়েল
এবার ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করার হুমকি বাইডেনের
ইসরায়েলে বোমা পাঠানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র
এমআইটি’র ক্যাম্প পুনরুদ্ধার করেছে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা

মন্তব্য

p
উপরে